রহমান হেনরীর কবিতা

আরিফ আহমেদ

01

এক

তীরের দিকে প্রাণ ছুঁড়েছে পাখি;
বৃক্ষ এবার হাওয়ার দিকে ঝুঁকে
ডালপালাকে বলছে এখন নাকি
পর্ণরাজি বাতাস দেবে রুখে!
এমনতর ঋতুর আভাস পেয়ে
আবার আমার মৌন-আমন্ত্রণ
তোমাকে এই পত্র পাঠায় মেয়ে,
মরুমাঠে ক্লোরোফিলের বন
আমরা হবো। অন্ধ আজও যারা_
তাদের কথা অনুচ্চারে থেকে
সাপের মতো পালাক এঁকেবেঁকে,
এটাই একবিংশকালের ধারা।

বেতস-লতায় মনকে তোমার আঁকো।
পাথর-কঠিন, জলের মতো বাঁকো!

দুই

জীবনের সত্য সমীকরণ হলো এই যে, যখন তুমি
স্নাতক হচ্ছো দিনের আলোয় কিংবা স্বপ্নরেণুতে__
তুমি আর তুমি থাকো না, তখন তুমি ঠিক সে নও
তোমাকে দেখতে যা মনে হয়; আলো ও উত্তাপের
গ্যালভানাইজিং পদ্ধতিতে ভেতরে ভেতরে
বদলে যায় তোমার জীবন; কিন্তু এর সবকিছুই
নির্ভর করছে রাত্রিকে তুমি কী চোখে দ্যাখো
অথবা কীভাবে উপভোগ করো দীর্ঘ এক অন্ধকারকে,
যাকে তোমার মনে হয়েছিলো অফুরন্ত রাত, নিঃসীম;
রাত্রিকে যারা ভয় পায়, সতর্ক থেকো ওইসব
দুর্বলচিত্ত মানুষের থেকে! তারা তো টেনে আনে
ভূত ও অশরীরীর কল্পনা, আর বিলীন হয়ে যায়
অামাদের সমুদয় বাস্তবতা__ সবুজ এই সমতল,
অনুচ্চ পাহাড়, দরিদ্র এক উপসমুদ্র, নগরগুলো
অার আমাদের স্মৃতির ভেতরে থাকা স্বজনেরা;
অসহনীয় অন্ধকারে কাকে জড়িয়ে ধরেছিলে তুমি?
মাতৃগর্ভ, চাঁদ, স্বপ্ন, পৌরাণিক বিশ্বাস, স্মৃতিজ চুল?
কাকে চুম্বন করতে করতে পৌঁছে গিয়েছিলে ভোর-অব্দি
গোধূলি, বৃষ্টি, ঘনীভূত কুয়াশা? এসবই সেই নিয়ামক
যা তোমাকে বদলে দেবে সূর্যের ওয়েল্ডিং কারখানায়;

তিন

অবারিত গমক্ষেত। গতিশীল ও আঁকাবাঁকা
একটা রেখা তৈরি করে নড়ছিলো গমগাছগুলো;
সেদিকেই বন্ধুক তাক করে আছে একজন সৈনিক।
অফিসার বললো: হতে পারে কোনও খরগোশ, তবু
জীবন থেকে অন্য জীবনে লুটিয়ে পড়ার আগে
তাকেই নিশানা করে এক দুই তিনবার গুলি ছুঁড়লো
সেই সৈনিক। আসলে, খরগোশ নয়; সেটা ছিলো
সন্ত্রস্ত এক বালকের পলায়ন; যুদ্ধ যার অধিগম্য
নয়। সেই ঘটনার চুয়াল্লিশ বছর পর, আবারও__
আবারও খুললাম যুদ্ধপুস্তক, পড়লাম এবং
বন্ধ করলাম। কেননা, এখন আর যুদ্ধ নেই, এখন
কেবলই ক্ষমতার লড়াই। তবু, গতিশীল ও আঁকাবাঁকা
একটা রেখা তৈরি হচ্ছে গমক্ষেতের ভেতরে। তখন
হয়তো শেষ রাত্রির জ্যোৎস্না ফিকে হয়ে যাচ্ছে,
একটু পরেই সকাল আসবে বলে; কিন্তু গুলি চলছে
এক দুই তিনবার; খরগোশ নয় জীবন থেকে
মৃত্যুর দিকে লাফিয়ে পড়ছে কোনও না কোনও
যুবক; যে কিনা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতো:
চেতনাপক্ষের গুলি, পাকিস্তানীদের মতো এতোটা
নির্মম ও নির্বিচার হতে পারে না, কিছুতেই… না

 

Print Friendly

About the author

ডিসেম্বর ৭১! কৃত্তনখোলার জলে সাঁতার কেটে বেড়ে ওঠা জীবন। ইছামতির তীরঘেষা ভালবাসা ছুঁয়ে যায় গঙ্গার আহ্বানে। সেই টানে কলকাতার বিরাটিতে তিনটি বছর। এদিকে পিতা প্রয়াত আলাউদ্দিন আহমেদ-এর উৎকণ্ঠা আর মা জিন্নাত আরা বেগম-এর চোখের জল, গঙ্গার সম্মোহনী কাটিয়ে তাই ফিরে আসা ঘরে। কিন্তু কৈশরী প্রেম আবার তাড়া করে, তের বছর বয়সে তের বার হারিয়ে যাওয়ার রেকর্ডে যেন বিদ্রোহী কবি নজরুলের অনুসরণ। জীবনানন্দ আর সুকান্তে প্রভাবিত যৌবন আটকে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পদার্পন মাত্রই। এখানে আধুনিক হবার চেষ্টায় বড় তারাতারি বদলে যায় জীবন। প্রতিবাদে দেবী আর নিগার নামের দুটি কাব্য সংকলন প্রশ্ন তোলে বিবেকবানের মনে। তার কবিতায়, উচ্চারণ শুদ্ধতা আর কবিত্বের আধুনিকায়নের দাবী তুলে তুলে নেন দীক্ষার ভার প্রয়াত নরেণ বিশ্বাস স্যার। স্যারের পরামর্শে প্রথম আলাপ কবি আসাদ চৌধুরী, মুহাম্মদ নুরুল হুদা এবং তৎকালিন ভাষাতত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজীব হুমায়ুন ডেকে পাঠান তাকে। অভিনেতা রাজনীতিবিদ আসাদুজ্জামান নূর, সাংকৃতজন আলী যাকের আর সারা যাকের-এর উৎসাহ উদ্দিপনায় শুরু হয় নতুন পথ চলা। ঢাকা সুবচন, থিয়েটার ইউনিট হয়ে মাযহারুল হক পিন্টুর সাথে নাট্যাভিনয় ইউনিভার্সেল থিয়েটারে। শংকর শাওজাল হাত ধরে শিখান মঞ্চনাটবের রিপোটিংটা। তারই সূত্র ধরে তৈরি হয় দৈনিক ভোরের কাগজের প্রথম মঞ্চপাতা। একইসমেয় দর্শন চাষা সরদার ফজলুল করিম- হাত ধরে নিযে চলেন জীবনদত্তের পাঠশালায়। বলেন- মানুষ হও দাদু ভাই, প্রকৃত মানুষ। সরদার ফজলুল করিমের এ উক্তি ছুঁয়ে যায় হৃদয়। সত্যিকারের মানুষ হবার চেষ্টায় তাই জাতীয় দৈনিক রুপালী, বাংলার বাণী, জনকণ্ঠ, ইত্তেফাক, মুক্তকণ্ঠের প্রদায়ক হয়ে এবং অবশেষে ভোরেরকাগজের প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়ান ৬৫টি জেলায়। ছুটে বেড়ান গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। ২০০২ সালে প্রথম চ্যানেল আই-্র সংবাদ বিভাগে স্থির হন বটে, তবে অস্থির চিত্ত এরপর ঘনবদল বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, আমাদের সময়, মানবজমিন ও দৈনিক যায়যায়দিন হয়ে এখন আবার বেকার। প্রথম আলো ও চ্যানেল আই আর অভিনেত্রী, নির্দেশক সারা যাকের এর প্রশ্রয়ে ও স্নেহ ছায়ায় আজও বিচরণ তার। একইসাথে চলছে সাহিত্য বাজার নামের পত্রিকা সম্পাদনার কাজ।