মিনতী

আরিফ আহমেদ

77

ছবিটি প্রথমআলো ব্লগ থেকে গৃহিত

পাশের ফ্লাটে এসেছে নতুন ভাড়াটিয়া। স্বামী-স্ত্রী ও একটি এক-দেড়বছরের ফুটফুটে বাচ্চা মেয়ে। পুরুষটিকে বাঙ্গালী মনে হলেও স্ত্রীলোকটি সম্ভবত ইউরোপীয় কিংবা মিশরীয় হবে। ছোট বাচ্চাটির চমৎকার বাংলা উচ্চারণ শুনে বোঝা যায, ওরা এদেশে দীর্ঘদিন। বাচ্চাটির কারণেই আমার সাথে এষা নামের মেয়েটির পরিচয়।
আমার স্বামী সাধন তালুকদার একজন সাংবাদিক। ও অফিসে চলে যাওয়ায় দরজাটা খোলা পেয়ে হুট করে গুটি গুটি পায়ে দৌঁড়ে ঢুকে গেল বাচ্চা মেয়েটি। এসেই আমাকে বলছে- এই মেয়ে, তুমি দরজাটা বন্ধ করো না কেন? সে সাথে ওর কচি দুটো হাতে আমাকে কিল ও চড় মারছে।
কিছুটা অবাক হয়ে অদ্ভুত সুন্দর বাচ্চা মেয়েটিকে দেখছি- ওর বাদামী নীল চোখে, আমার চোখ পড়তেই ও যেন কুঁকড়ে গেল- কিছুটা হয়ত ভয়ে-ই ওর হাত থেমে গেল। আমিও ওকে অনেকটা জোর করেই কোলে তুলে নিয়ে বললাম, তুমি বিনা অনুমতিতে আমার ঘরে, ঢুকলে কেন?
কোলে তুলে নেয়ার ফলে ও বুঝি একটু জড়তায় ভুগছে। কোন উত্তর করছে না।
এবার আমি বললাম- তোমার নাম কি মা মনি।
ও ভুল উচ্চারণে বলল, মী-ম-তী। আসলে ওর নাম মিনতী। বাবা-মায়ের করুণ মিনোতিতেই হয়ত ঈশ্বর ওকে দান করেছে। তাই বুঝি ওর নাম হয়েছে মিনতী।
আমাদের বিয়ের সাত বছর পার হয়েছে। একটি সন্তানের জন্য যখন আমি ছটফট করছি, ঠিক তখন মিনতীর ছোঁয়া আমার জন্য পরম তৃপ্তির মত। মেয়েটিকে আরো বেশি করে বুকে জড়িয়ে ধরলাম। ফ্রিজ খুলে একটা চকলেট দিলাম, ও চকলেট নিল না- চাইল আইসক্রিম। তাই দিলাম।

এমন সময় বেল বেঁজে উঠল। খোলা দরজায় উঁকি দিল মিনতীর মা, ভাঙা বাংলায় বলছে – ও বুজি আপনাকে জ্বালাচ্ছে? ওহ্ সরি? আই এ্যম এষা।
আমি মুগ্ধ হয়ে ওকে দেখছি – অপূর্ব সুন্দর এই এষা। মসৃণ উজ্জ্বল গায়ের রং, বাদামী-নীল মিশ্রিত চোখ। অনেকটা আমার প্রিয় হিন্দি ছবির নায়িকা মনীষার মত। শুধু ওর চুলটা একটু বেশি সোনালী। ছেলে হলে আমি যে নির্ঘাত ওর প্রেমে পরতাম তাতে কোন সন্দেহই নেই। বললাম- তুমি কি খুব ব্যস্ত?
এষা – ওহ- নো- না।
তাহলে বস, কিছুটা সময় আমরা গল্প করি। এই সময় আমি লক্ষ্য করলাম ওর চোখে ক্ষণিকের জন্য অদ্ভুত এক বিষণœতা ছুঁয়ে গেল। আমি ওর চোখের নিচে নির্ঘুম কষ্টের চিহ্ন পড়তে পারলাম। হাস্যজ্জ্বল মুখে একটা লুকানো ব্যাথা ঢাকার ব্যর্থ চেষ্টায় ও বারবার শাড়ির আঁচল ঠিক করছে। বাঙ্গালী ঢঙে এত সুন্দর করে শাড়িটা পরেছে যে, এটার সাথে যেন ওর নাড়ীর টান।
বলতে লজ্জা নেই- বাঙ্গালী মেয়ে হয়ে আমি নিজেও এখনো শাড়িটা ঠিক মত পড়তে পারি না, তাই প্রায়ই শাড়ি পড়তে গেলে সাধনের বকা খেতে হয়। একে তো সাংবাদিক। তার উপর স্বদেশী বোধে গোড়া। সুতরাং শাড়ি পড়তে না পারাটা ওর চোখে মারাত্মক অপরাধ।
এষা বসল – বলল ওর কথা- মিশরের মেয়ে। ওখানের কোন আশ্রমে বড় হয়েছে। পড়াশুনা করেছে। ওর স্বামী মৃণাল বড়ুয়ার বাড়ি চিটাগাঙে। কলেজে একসাথে পড়েছে। তারপর বিয়ে। যেহেতু এষা জানে না ওর পিতামাতা কে তাই ওর ধর্ম যে কি, তাও ও জানে না। ফলে বৌদ্ধ ধর্ম রীতিতেই বিয়ে করেছে। বিয়েটা হয়েছে মিশরে বসেই। বিয়ের দ্বিতীয় মাসেই ওরা চলে এসেছে চিটাগাং। সেখানে মিনতীর জন্ম। মিনতীর বয়স এখন মাত্র একবছর আট মাস।
এষাকে আমিও বললাম আমার গল্প। আমার স্বামীর কথা, ও জানতে চাইলো লাভ ম্যারেজ কিনা। আমি বললাম না। তবে পূর্ব পরিচয় ছিল। জানা শোনা।
ওর সুবিধার্থে আমি ওর সাথে ইংরেজিতেই কথা বলছিলাম, আসলে অনেকটা বাংলিশ। বাংলা, ইংরেজি মেশানো। আমার বাসায় কোন কাজের লোক নেই। যা কিছু আমাকেই সামলাতে হয়। এষার বাসায় একটি ছোট ছেলে আছে, যে শুধু মিনতীকে সামলায়।
এ বেলা মিনতীকে আমার কাছে রেখেই এষা চলে গেল ওর ঘরে।

দুই.
রোববার সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছিল। সাধনের আজ অফিস নেই। ডে অফ, পরে পরে ঘুমাচ্ছে। ঘুমাক বেচারা। রাত জেগে কি সব লেখালেখি করেছে। প্রায়ই এটা করে ও, আর লেখা শেষে আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে পড়ে শুনাবে। জানতে চাইবে মতামত, কেমন হল। বেশির ভাগ লেখারই কোন মানে বুঝিনা, কি সব রাজনৈতিক কথা বার্তা। দেশের সমস্যা নিয়ে ওর যত মাথা ব্যাথা। অথচ কোন রাজনৈতিক দলের প্রতি ওর সমর্থন নেই। বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক ধারাটার পরিবর্তন চায় ওরা কয়েকজন সমমনা সাংবাদিক। এ জন্য কয়েকজন নব্য বুদ্ধিজীবীকে দলে ভিড়ানোর পায়তারা করছে ওরা। ওদের এ চাওয়াটা একেবারেই সাধারণ মানুষের চাওয়া হলেও এটা যে আদৌ সম্ভব নয় তা যে কেন ওরা বোঝে না?
না আমি ওর চিন্তা চেতনাকে অবমূল্যায়ন করছি না। কিন্তু বিকল্প একটা নেতৃত্ব না থাকলে ওদের এ চাওয়াটার মূল্য কোথায়? বুঝলাম, বিএনপি-জামাত, আওয়ামী লীগ এদের সবার চরিত্র এক। এদের থেকে মুক্তি পেতে হলে বিকল্প আর একটা নেতৃত্ব আগে তৈরি হতে হবে। সে অনুযায়ী ওরা যে উদ্যোগ নিয়েছিল তা  মাঠে মারা যাচ্ছে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের ফলে। ওদের ভাবনায় এখন সেনাবাহিনীই ক্ষমতা নিয়ে নেবে। তারাই দেশটাকে আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জামাত শূণ্য বানাবে। তবে পাকিস্তানের মতই সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে বাংলাদেশীদের। এ সময় ওদের উচিৎ সেনাপ্রধান ও প্রধান উপদেষ্টার সাথে বৈঠক করে নিজস্ব বাভনাগুলো উপস্থাপন করা। তাহলে তারা হয়তো ওদের চিন্তাটাকে গস্খহণ করে দেশে একটা নতুন শাসন ব্যবস্থা তৈরি করতে পারতো। যেখানে প্রতিটি বিরোধী দল ছায়া সরকার গঠনের সুযোগ পেত। তা না করে ওরা অযথা সময় নষ্ট করছে। অন্তত আমি তাই মনে করছি। কেননা সপ্তাহে এই একটি দিনই বন্ধ পায় ও, এই একটা দিন স্ত্রী হিসেবে ওকে কাছে পাওয়াটা আমার অধিকার। এই একটা দিন আমি ওকে আমার করে চাই, খুব কাছে। যদিও এ পাওয়াটায় এখন আর তেমন আনন্দ নেই। প্রথম প্রথম যেমন ছিল। কেন জানি মনে হয় আমার প্রতি ওর আগের টানটা আর নেই। আমার সম্পর্কেও হয়ত ওর একই ধারণা, আর এ কারণেই লেখালেখির অজুহাতে নিজেকে আমার থেকে লুকিয়ে রাখছে।
আসলে বাস্তবটা এমনই। যতক্ষণ তুমি কিছু চেয়েও পাচ্ছ না ততক্ষণ সেটির কদর থাকে, একবার হাতে পেয়ে গেলে সেটির মূল্যায়ন আর আগের মত থাকে না। আমাদের বিয়ের চতুর্থ বছর। যেন একযুগ পার হয়ে গেছে। কেন এমনটা মনে হয়। এখনো তো ও সেই আগের নিয়মেই আমাকে ফেলে কিছুই খায় না। সামান্য দুধটাও আমাকে আগে খাওয়াবে তারপর নিজে খাবে। যদিও আমার কেমন যেন এসব এখন কপট কপট মনে হয়। হতে পারে এটা আমার মানসিক সমস্যা। কিম্বা সত্যিই হয়ত ও বদলে গেছে।
এরমধ্যে আবার নতুন ভয় যোগ হয়েছে। সেদিন এষার সাথে ওর পরিচয় করিয়ে দিয়ে বুঝি কোন ভুলই করে ফেললাম। ওর চোখের দৃষ্টি আমাকে বলে দিয়েছে-এষাকে ওর খুবই ভাল লেগেছে। অবশ্য অকপটে স্বীকারও করেছে যে মেয়েটি অদ্ভুত সুন্দর। তবে কোথাও একটা কাঁটা আছে।
ওর এই এক দোষ, ভাল-মন্দ সবকিছুতেই ও একটা খুঁত খুঁজে বেড়াবে। হয়ত এটা সাংবাদিকতা পেশার কারণেই। তারপরও এষার প্রতি ওর আগ্রহটা আমার ভাল ঠেকেনি।
ওতো রাত জেগে কাজ করে। আমি ঘুমিয়ে পরি। ও বলে রাতে নাকি এষা বাসায় থাকে না। ওর স্বামী এষাকে কোথাও রেখে আসে। ভোররাতের দিকে কখনো কোন প্রাইভেট গাড়িতে কিম্বা অটোরিকশায় ফিরে আসে এষা। একা।
ওর বলার ভঙ্গিতে একটা কৌতূহল। একটা আগ্রহ আমাকে কষ্ট দেয়। ও হয়ত বোঝেও না। সরলভাবে ওর মনে যা আসে বলে যায়। অন্যের বউ সম্পর্কে এত কিউরিসিটি কেনরে বাবা? কই ওর স্বামীর সম্পর্কে তো কিছুই বল না?
আমার এ কথায় ও হেসে গড়িয়ে পড়ে। তোমরা মেয়েরা যে মেয়েদের বড় শত্র“ তার প্রমাণ এখানেই। সব কিছুতেই তোমাদের জেলাসি।
শুরু হয়ে যায় তর্ক। কারণ মেয়েরা মেয়েদের শত্র“ শব্দটা আমার ভাল লাগে না। বিশেষ করে যেখানে আমি নিজেও একটি প্রগতীশীল নারী আন্দোলনের সাথে যুক্ত। যদিও এটাও ওরই উৎসাহে সম্ভব হয়েছে। বলেছে আরে বাবা বসেইতো আছো, যাওনা দেখ সাধারণ খেটে খাওয়া মেয়েদের জন্য কিছু করতে পারো কিনা। এই একটা জায়গায় আমি ওকে বুঝিনা, আমাকে উৎসাহ দেয় যেতে। অথচ ও বলে, এ দেশের মেয়েদের স্বাধীকার অর্জন ততদিনে সম্ভব নয়, যতদিনে একটা মেয়ের বিপদে আর একটা মেয়েই আগে ঝাঁপিয়ে না পড়বে। যতদিন না ছেলেদের মত মেয়েদেরও অনেক মেয়ে বন্ধু’র একসাথে আড্ডার পরিবেশ তৈরি না হবে।
আমি ভ্যাটো দিয়ে জানতে চাই, তোমার কি ধারণা মেয়েদের মেয়ে বন্ধু নেই?
ওর স্পষ্ট উল্টর – প্রমাণ দেখবে, দেশে নারী আন্দোলনের জন্য কতগুলো সংগঠন বলোতো। সবাই যদি নারীদের অর্থাৎ মেয়েদের নিরাপত্তা, স্বাধীকার অর্জনের জন্য কাজ করে তাহলে এত ভাগ কেন? বড় বড় নারী নেত্রীদের দেখ, সমান পর্যায়ের পুরুষের সাথে বসে বক্তৃতা-বিবৃতি দিচ্ছে, কিন্তু পাশের অন্য নারীটির সাথে যেন তার পরিচয় নেই। স্কুল জীবন পর্যন্ত দু’একজন মেয়ে বন্ধু তৈরি হলেও কর্মজীবনে বা পথে ঘাটে ছেলেদের সাথে যত সহজে একটা মেয়ের কথাবার্তা শুরু হয়, ততটা সহজে অন্য একটা মেয়ের সাথে হয় না। রাস্তায় বিপদ এলে পুরুষরা এগিয়ে আসে, অথচ অন্য মেয়েটি নিজেকে গুটিয়ে রাখে। এরকম অনেক দেখেছি। এ সব নারীবাদী আন্দোলন হচ্ছে বড়লোকের বউ-ঝিদের সময় কাটানোর কৌশল।
যাকগে ওর সাথে তর্ক করলে তর্ক বাড়ে, যুক্তিতে না পারলে ওর কন্ঠ চড়ে যায়, শরীর কাঁপে। এষার স্বামীর প্রসঙ্গে ওর উক্তি আরো সোজা, ও ব্যাটাকে আমার একদম পছন্দ হয়নি। এত সুন্দর মেয়েটা যে কি করে এই বদমাসটার ঘরে এল তাই ভাবছি।
আমিও ফোরণ কাটি, ঠিক আছে ভাব- আমিও এখন থেকে মৃণাল বাবুকে নিয়ে ভাববো।
তা ভাবতে পার। ঘরে বসে আর কি করবে দেখ যদি খাতির জমিয়ে…..।
ও কথা শেষ করলো না, আমার কেন জানি এটা খুব নোংরা ইঙ্গিত মনে হল। চুপ হয়ে গেলাম। এমন সময় কলিং বেলটা-কয়েকবার বেজে উঠল।
ঐ যে তোমার মিনতী মনি এসে গেছে। বলেই ও ওর ঘরে ঢুকে কাগজ কলম নিয়ে বসে গেল।
মিনতী এসে সব সময় এভাবে বেল বাজায়। দরজা খুলে ওকে কোলে তুলে নিলাম – আম্মু কোথায়?
মাম্মি তো- রাতে গিয়েছে- আসেনি তো।
– গিয়েছে আসেনি- কোথায় গেছে?
– জানি না তো-
– আর আব্বু-
– আব্বু ঘরে টিভি দেখছে।
– সকালে খেয়েছো- মামনি,
– হ্যাঁ তো- কলা আর ডিম। তুমি খেয়েছো?
এমন সময় ওদের ঘরের কাজের ছেলেটা এলো। ওকে বসিয়ে এষার কথা জানতে চাইলাম-
যা শুনলাম তাতে আরো অবাক হলাম। সাধন তো মিথ্যে বলেনি। কোথায় যায়, কেন যায়?
-মৃণাল বাবু কি কাজ করে রে? জানতে চাইলেই ছেলেটি বলে উঠল-
– কাউকে যেন বল না খালামনি- উনি না সারাদিন ঘরেই থাকে। আর রাতে আন্টিকে যেন কোথায় রেখে আসে। আসার পথে মদ খেয়ে মাতাল হয়ে থাকে। -তাই নাকি? বলিছ কি।
– হ্যাঁ। তখন তো আমি ওকে নিয়ে চুপটি করে পড়ে থাকি।
ও ঘর থেকে সাধনের ডাক শোনা যায় – মিনতী, মিনতী।
মিনতী ইতিমধ্যে সাধনেরও খুব ভক্ত হয়ে উঠেছে। ডাক শুনেই আমার কোল থেকে নেমে ছোট ছোট পায়ে সোজা দৌড় ও ঘরে।
ভেজানো দরজা, কচি হাতের চাপে একটু ফাঁক হতেই ও খিল খিলিয়ে হেসে ওঠে, যেন ওর আগে থেকেই জানা কি দেখবে। ছুটে যেয়ে ঝাপটে ধরল সাধনকে।
দুষ্টমি করে সাধন ওকে দিয়ে বাব্বা বলাচ্ছে। মিনতীও সুন্দর সাধনকে বাব্বা বলে আঁকড়ে ধরেছে।
এ ডাক শুনে এষা একদিন জিজ্ঞেস করেছিল, বাব্বা মানে কি?
আমার তো প্রথম খুবই লজ্জা লাগলো। তারপরও বিদেশী এ সরল সুন্দর মেয়েটিকে মিথ্যে বলতে পারলাম না। বাব্বা মানে ওকে বুঝিয়ে বলতেই- ও যে একটু লজ্জা পেল। আর ঐ লজ্জাই বুঝি আমার মধ্যে একটা জেলাসি এনে দিল। আর এষার মধ্যে একটা পরিবর্তন তা অস্বিকার করবো না। লক্ষ্য করলাম অন্যদিন গুলোতে এষাকে দেখা না গেলেও রোববারটায় ও একবার আমার ঘরে ঘুরে যাবেই। তারমানে এষাও বুঝে গেছে রবিবার সাধনের ছুটি।
এটা হয়ত কিছুই নয়, মায়ের মন। তার বাচ্চাকে যে ভালবাসে, সেও তার প্রতি একটা মমত্ব অনুভব করছে। একটু দুর্বলতা হতেই পারে। সাধনের গায়ের রং, দৈহিক গড়নও যে কাউকে আকৃষ্ট করার মত তা তো অস্বিকার করা যায় না।
আমি হয়ত মিছেই ভয় করছি। কেননা- এখন পর্যন্ত সাধনের সাথে ওর তেমন কোন কথাই হয়নি। দেখা হয়েছে, হায়, হ্যালো, হাউ ইউ আর? ওহ ফাইন। এইটুকুই ওদের কথাবার্তা।
তারপরও যখনই ওদের দু’জোড়া চোখ একত্র হয়েছে, আমি দেখেছি, এষার চোখে একটা অন্য ঝিলিক। আর আমার স্বামীটার চোখে মুগ্ধতা কিম্বা জিজ্ঞাসা অনেক? দু’চোখের এ মিলনটা আমার জন্য কষ্টকর। তা অস্বিকার করার শক্তি আমার নেই।
ওদিকে যখন ঘরে একা থাকি তখন কিন্তু আমার অবচেতন একটি মন বলে ওঠে- ইশ, এষা যদি অবিবাহিত হত। ও যদি আমার বোন হত। সত্যি বলতে, এষাকে আমারও এত ভাল লাগে যে একটু কষ্ট হলেও ওকে আমি সতীন হিসেবে মেনে নিতে পারতাম যদি ও অবিবাহিত হত।
দূর কী সব আবোল তাবোল ভাবছি? আসলেই কি তাই পারতাম? নাকি মিনতীকে পাবার বাসনায় এ সব সমঝোতা নিজের সাথে?

তিন
আজ রোববার।
দুশ্চিন্তায় রাতে ভালো ঘুম হয়নি। দেশের পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছেই। চারিদিকে বোমা আতংক। ডাক্তার, আদালত, প্রেসক্লাব, সাংবাদিক সবাই এখন অপ-রাজণীতির টার্গেট। এদিকে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছে দেশের শাসনভার। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ঝগড়ার খেসারত এটা। আওয়ামী লীগের ঘাড়তেরামী আর বিএনপির আপোষহীনতায় এবার দুইনেত্রীরই জানে পরাণ থাকলে হয়। যাকে পাচ্ছে আর্মিরা এখন তাকেই ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এবার হয়েো তাদরেও রেহাই নেই। অথচ সামনে নির্বাচন।

দুইনেত্রীর ঘগড়ার সুযোগে সেনাবাহিনী ক্যু করলো আবারো। তবে এবার সেনাপ্রধানই প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়েছে। বলছে সুষ্ঠ নির্বাচন দিয়েই চলে যাবে তারা। যদিও সাধারণ মানুষের কাছে এটা খুবই ভালো মনে হয়েছে এবার। সবাই ভাবছে, এই প্রথম দেশে একটা সত্যিকার দূর্নীতিমুক্ত শাসন ব্যবস্থা চালু হতে যাচ্ছে। একটা নতুন ইতিহাসের সূচনা হতে যাচ্ছে।

তাহলে কেন সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীদের আবার ধরপাকড় শুরু হল। এটাতো মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকেরা করেছিল। সাধন ঘর থেকে বের হলেই তাই শুরু হয় দুশ্চিন্তা। যতক্ষণ না ঘরে ফেরে ততক্ষণ একটা ভয়, একটা শংকা। এদিকে আবার নতুন করে বোমাবাজী শুরু করেছে কোন একটি ইসলামী গ্রুপ। কেন এই বোমা হামলা? কারা করছে? বাজারে চাল ডালের দাম আবার বাড়ছে, হু হু করে বাড়ছে। এ কিসের আলামত? কে জানে? এ সব করে কারা লাভবান হচ্ছে? আমাদের সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে এ কোন রাজনীতির খেলা চালাচ্ছে ওরা?
সাধন বলে, এটা রাজনীতির নোংরা খেলা। সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে পারলে সরকারও বেঁচে যায়। তাই এ সব বোমাবাজদের ভাড়া করে সরকার পক্ষ। বিগত সময়ে বিএনপি এভাবেই সেনাবাহিনীকে যুক্ত করেছে, তাদের ঐ বাংলা ভাই দিয়ে। এবার আওয়ামী লীগও এটাই ঘটাতে যাচ্ছে এখন বাংলাদেশে।

সাধন ফিরেছে অনেক রাতে, ঘুমোচ্ছে ও। এষা আজো নিশ্চয়ই একবার আসবে, সকাল হতেই এ ভাবনাটাই আগে খেলে গেল মাথায়। আমার ভাবনা শেষ হয়নি কলিংবেলটা বেঁজে উঠল। চোখ-রগড়ে সাধনও বিছানায় বসে আড়মোড়া ভাঙ্গল।
আমার ভিতরটা জ্বলে উঠলো সাথে সাথে- ঐ যে এষার গন্ধ পেয়ে মশায়ের ঘুম শেষ। মনের ভিতর এ জ্বলনি নিয়েই ওঠে গিযে দরজা খুললাম- চোখে মুখে ফুটে ওঠা বিরক্তি লুকানোর কোন চেষ্টাই করলাম না।
কিন্তু দরজা খুলতেই মিনতীর কান্না শুনে আমার বিরক্তি কোথায় পালিয়ে গেল- দ্রুত ওকে কোলে নিয়ে জানতে চাইলাম- কি হয়েছে মা মনি, কাঁদছো কেন?
আমার গলা ঝাঁপটে ধরে বাচ্চা মেয়েটির ফোঁফানো আরো বেড়ে গেল। ওদের কাজের ছেলেটিও কাঁদছে। কান্নারত কণ্ঠেই ছেলেটি যা বলল, শুনে আমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত রাগে কেঁপে উঠল।
ইতোমধ্যে সাধনও এসে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। ওকে দেখেই মিনতী আমার কোল থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ল ওর বুকে। ওর কান্না যেন আরো একটু বেড়ে গেল।
মিনতীকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে সাধন বলল- দেরি করো না, আগে ওর খাবারের ব্যবস্থা কর।
সাধনের ব্যস্ত তাগাদা, মিনতীর প্রতি এত দরদ আমার মধ্যে একটা চাপা কষ্ট তৈরি করে। তারপরও দ্রুত হাতে দরজা লাগিয়ে ওদের নাস্তার আয়োজনে গেলাম। মিনতী তখন সাধনকে বলছে, বাব্বা, বাব্বা আমার আম্মুকে এনে দাও না।
আমি তখন মনে মনে এষার চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করছি। কেমন মা? এতটুকু মেয়েকে রেখে- দুদিন যাবৎ লাপাত্তা। আর যাবি যখন মেয়েটিকে আমার কাছে রেখে গেলেই হত। ইস- সারারাত কিছু খায়নি বেচারী। বিরক্তি থেকে রাগ, রাগ থেকে ঘৃণা ঝরতে লাগলো আমার মনের ভিতর। একই সাথে ব্যস্ত হাতে নাস্তার আয়োজন করছি।
সাধনের কণ্ঠ-জলদি কর। ওর খুব খিদে পেয়েছে। তারপরই নরম গলায় মিনতীকে সামলাচ্ছে- লক্ষ্মি মামনি কাঁদে না। আমি তোমার আম্মু – আব্বুকে খুব বকে দেব।
মিনতী বলছে- তুমি ওদের মারবে তো।
সাধন- হ্যাঁ মারবো- খুব মারবো। কথা বলতে বলতেই কোল থেকে নেমে আমার কাছে চলে এল মিনতী- কই, খাব তো। আমি মিনতীকে বুকে নিয়ে দেখছি সাধনকে। ও যেন কোথায় হারিয়ে গেছে। আনমনা। আমার নাস্তা তৈরি শেষ হল, ওর সামনেই মিনতীকে খেতে দিলাম। মিনতী খাবার ফেলে ওর কাপড় নষ্ট করল।
কাজের ছেলেটিকে ও ঘরে নিয়ে খেতে দিলাম।
খেতে খেতে ছেলেটির কাছ থেকে খুটিয়ে খুটিয়ে পুনরায় জানতে চাইলাম সব।
গত পরশু রাতে এষাকে নিয়ে বের হয়েছে মিনতীর বাবা মৃণাল। কোথায়, জানে না ও। ভোররাতে অনেকগুলো টাকা আর মদ নিয়ে ফিরে এসেছে মিনতীর বাবা, একা। পরদিন দুপুরে একবার বের হয়েছে, রাতে এসে সেই যে তার ঘরে ঢুকেছে আর বের হয়নি। এদিকে ফ্রিজে যে খাবার ছিল তাও শেষ হয়ে গেছে।
মিনতী বাবাকে বলতে গেলে সে ধমকে তাড়িয়ে দিয়েছে। তারপর গত রাতে যে, গিয়েছে তারও আর কোন খবর নেই। কাজের ছেলেটিকে বলেছে- তোর চাচী আসলে বলবি- আমি দেশে গেছি।
কি করে সম্ভব দুটো বাচ্চাকে ফেলে এভাবে যাওয়া? শুধু বিদেশী বলেই বুঝি এটা সম্ভব হয়েছে। বিদেশীরা সব পারে।
আমার এ ভাবনার মাঝেই দেখলাম- সাধন এখনো ধ্যানে মগ্ন- মিনতী খাওয়া শেষ করে কেরাম নিয়ে খেলছে। ওর নাস্তা সামনে পরে আছে, ধরছে না। বাধ্য হয়েই ডাকলাম- এই শুনছো।
প্রথমবার সাড়া নেই, দ্বিতীয়বার গায়ে হাত দিতেই ও চমকে উঠল- কি? কি বলছো? কণ্ঠস্বরটা যেন একটু রুক্ষ। পরক্ষণে বলল স্যরি। আসলে আমি ওর মাকে নিয়ে ভাবছিলাম। আমার একটা ভয় হচ্ছে খুব। ওর বাবা হয়ত ওর মাকে…..। না থাক পড়ে বলবো। বলে ও নাস্তায় মন দিলো, আমি জোর করে শুনতে চাচ্ছিলাম।
ও ইশারায় মিনতীকে দেখালো- তার মানে এমন কিছু বলতে চাচ্ছে- যা মিনতীর সামনে বলা যাবে না।
বললাম- ওতো বাচ্চা মানুষ ওকি বুঝবে তুমি বল?
ও উচ্চহাস্যে ঘর মাতিয়ে তুললো। কিছু না বুঝে মিনতীও হেসে উঠেছে ওর সাথে পাল¬া দিয়ে। ঘরের গুমোট পরিবেশ অনেকটা কাটলো এতে।
হাসতে হাসতেই ও বলল, তোমার ছেলে বেলার এমন অনেক কথাই তুমি বলেছো- যা বোঝার বয়স তখন তোমার ছিল না। কখনো এ ভুল করো না। বাচ্চাদের সামনে এমন কোন শব্দ ব্যবহার কর না যা ওর উপযোগী নয় বা যার সাথে ও পরিচিত নয়।
ওর ব্যাখ্যা শুনে আমি নত হলাম- আচ্ছা বাবা ঘাট হয়েছে। তুমি থাক ওকে নিয়ে, আমি রান্নার কাজে গেলাম।
কাজের ছেলেটিকে বললাম- শোন্ তোদের ঘরে তালা দিয়ে এখানে চলে আয় ওর সাথে খেলা কর।
ছেলেটিও দ্রুত চলে গেল।

চার
দুদিন হল সাধন বাড়িতে নেই। মিনতীটা সাধনের এত ন্যাওটা হয়েছে যে ওকে শান্ত রাখাটাই দায়। এ ঘরে খুঁজে ও ঘরে খুঁজে। বাব্বা-বাব্বা। তারপর শুরু হয় কান্না। ফুঁফিয়ে ফুঁফিয়ে কাঁদবে আর বায়না ধরবে একটার পর একটা।
আমার থুতনিটা ধরে বলে ওঠে- এই আইসক্রীম দাওতো?
আইসক্রীম হাতে নিয়েই আবার শুরু হবে -এই বল না বাব্বা কোথায়?
এমন সময় সাধন ফোন করে। ওর সাথে কথা বলে, তবেও শান্ত হয়ে খেলতে বসে ও। কিছুক্ষণ পর শুরু হয় নতুন আবদার চল না। কই চল না।
অফিসের কাজে ইদানিং প্রায়ই ঢাকার বাহিরে যেতে হয় সাধনকে। এতে আমার মনের উপর থেকে কিছুটা চাঁপ কমেছে। কিন্তু বোমা হামলা ও গ্রেফতার আতঙ্ক সবসময়ই একটা দুর্ভাবনায় ছেয়ে রাখে মনকে। যদিও বোমা হামলাটা এখন আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে সরাসরি সেনাবাহিনী। নির্বাচনের আর অল্পদিন বাকী। বরাবরের মত সুষ্ঠ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব এবারও সেনাবাহিনীই নিয়েছে।
যাইহোক সাধন না থাকায় কিছুটা স্বস্তি, কারণ আমি চাই না এষার সাথে সাধনের কোনরকম দেখা সাক্ষাৎ হোক। কথা তো দূরের কথা। যদিও ঐ ঘটনার পর ওদের দেখা সাক্ষাৎ এমনিতেই অনেক কমে গেছে তারপরও সতর্কতার মার নেই ভেবেই এ স্বস্তিবোধ।
সেবার এসে এষা খুব স্যরি ট্যরি বলে- মিনতীকে নিয়ে গেল। ওর স্বামী এক মাসেও ফেরেনি। এ একমাস এষাও রাত করে ঘরে আসেনি। দিনে বের হয়েছে আবার রাত ৯টার মধ্যেই ফিরে এসেছে। তবে বেচারীর শরীরটা দিন দিন ভেঙ্গে যাচ্ছে, ক্রমে শুকিয়ে যাচ্ছে এষা, তা আমার নজর এড়ালো না। সাধনের ধারণা যদি সত্যি হয় তাহলে ভেঙে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। আগের মত আন্তরিকতা নিয়ে ওর সাথে কথা বলতেও পারি না। কেমন একটা সংকোচ, ঘৃণাবোধ।
ও আসে, মিনতীকে নিয়ে যায়, একটা অপরাধের হাসি ঝুলে থাকে ওর ঠোটে। গত তিনদিন হল এষা আসে না। কাজের ছেলেটি এসে মিনতীকে সকালে দিয়ে যায়, নিয়ে যায় রাতে।
সাধন মনে করে ওর স্বামী ওকে দিয়ে, ছিঃ বলাটা খুব কষ্ট। কিন্তু সাধন এ নিয়ে আমার সাথে বাজি ধরেছে। এষা মেয়েটি-এখানে দেহ ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছে। ওর স্বামীটা ওকে দিয়ে তাই করাচ্ছে, ওর আয়ের টাকায় সে মদ-জুয়া খেলে উড়াচ্ছে। সাধনের এ ধারণা আরো বেশি বদ্যমূল হল যেদিন ওর স্বামী এসে সাধনের থেকে এক হাজার টাকা ধার নিয়ে গেল।
মুখে বলল- আমার স্ত্রী আপনাকে খুব পছন্দ করে। ও বলল আপনার কাছ থেকে টাকাটা নিতে। ও এসেই দিয়ে দেবে।
সাধনের এই একটা গুণ খুবই ভাল- ও সব কিছু আমাকে বলে দেয়। যা মুখে বলতে না পারে তা ওর ডায়রিটায লিখে টেবিলে রেখে যায়। এ বিষয়টিও ওর ডায়রিতে লিখে রেখে গেছে।
পরে ঘনিষ্টতার সুযোগে এষাকে আমি বিষয়টা বলেছি। এষা লাজুক হেসে প্রসঙ্গ কাটাতে চেয়েছে। পরদিন এসেই- টাকাটা বাড়িয়ে ধরেছে। স্যরি।
আমি টাকাটা নিয়ে রেখেছি। তবে বুঝতে পেরেছি। সাধনের অনুমান একেবারে মিথ্যে নয়। সত্যিই- এষা টাকাটার কথা জানতো না। ওর স্বামী কোনভাবে বুঝতে পেরেছে- যে এষার কথা বললেই টাকাটা অনায়াসে পাওয়া যাবে। তাই কৌশল করেছে। মানুষ যে কত রকম হয়।
মিনতী ক’দিন থেকে বায়না ধরেছে রেল গাড়িতে চড়বে। ওকে নিয়ে তাই শিশু পার্কে যাব বলে তৈরি হচ্ছি। বের হব, ঠিক এমন সময় ওদের কাজের ছেলেটি ছুটে এল। খাল¬ামা একটু তাড়াতাড়ি আসেন। বিদেশী চাচী যেন কেমন করতাছে।
দ্রুত ওদের ঘরে গেলাম। দেখি, বিছানায় পড়ে যন্ত্রণায় ছটফট করছে এষা। রক্তে বিষানা মাখামাখি। গত চার-পাঁচদিন ওর সাথে দেখা হয়নি। কিছুটা ঘৃণা বোধ হয়ত, তাই খোঁজ নেয়ার চেষ্টাও করিনি।
ছেলেটির কাছে জানলাম- চারদিন ধরে এভাবে বিছানায় পরে আছে ও। মিনতী বেশির ভাগ আমার কাছে থাকায়। এ দিকটায় আসাই পরেনি বলে দুঃখ হল।
দ্রুত সাধনের সেল ফোনে বিষয়টি জানালাম। দশ মিনিট পরে সাধন আবার ফোন করে। কি করতে হবে বলে দিল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই সাধনের বন্ধু ডাক্তার ফারহানা চলে এল। সব দেখে বলল, ওকে এখুনি আমাদের ক্লিনিকে নিতে হবে।
ওর স্বামী কোথায়?
ফারহানা আমাকে তেমন কিছুই বলল না। শুধু বলল মেয়েটিকে তুমি দেখ আমি একে নিয়ে গেলাম।
এ্যাম্বুলেন্স এল। অনেকটা ঘোরের মধ্যেই এষা আমার হাতটি ধরে শুধু বলল- ধন্যবাদ।
একটানা পনের দিনের মত হাসপাতালে পরে ছিল এষা। এ পনেরদিন একবারও ওর স্বামীকে দেখা গেল না। খুব অবাক হলাম, এষার সাথে এখন মোটামুটি কিছুটা সহজ সম্পর্ক আমার। তবে একটা দূরত্ব, অদৃশ্য একটা দেওয়াল ঠিকই টের পেলাম। একটা বিষয় খুব আশ্চর্য লাগছে। এত যে অসুখ-বিসুখ- তবু ওর মুখ মন্ডলের সৌন্দর্য চোখের উজ্জ্বল নষ্ট হয়নি। ওর চোখ-মুখে তাকিয়ে এখনো আমি আৎকে উঠি। কোনরকম পূর্ব সংবাদ না দিযে সেদিনই সাধনের ছুটে আসা এবং সাধনের হাত ছুয়ে এষার করুণ হাসি, আমার ভালো লাগেনি। আমি মিনতী কে জড়িয়ে ধরে অদ্ভুত কিছু ভাবছিলাম। যে ভাবনার মধ্যে ছিল মিনতীকে সম্পূর্ণ প্রাপ্তির সম্ভাবনা এবং সাধনকে নিয়ে সব ভয় দুর হয়ে যাওয়ার অনুভুতি।
পরক্ষণেই সাধনের সেই কথাটি মনে করে নিজেকে ধিক্কার দিলাম। এ সব কি ভাবছি আমি। সত্যিতো এরকম ভাবনা আছে বলেই, মেয়েরাই মেয়েদের সবচেয়ে বড় শত্র“ প্রমানিত হচ্ছে। ছি:। তারপরও কাটা বেধা আহত বুকেই এষার সেবা করি। কি আশ্চর্য, ওর চোখে চেয়ে এখনো ঈর্ষা হয় আমার। কিন্তু ওর আন্তরিকতা, ওর হাসি, আমাকে দেখলেই ওর প্রাণচাঞ্চল্য বেড়ে যাওয়ায় কোন কপটতা নেই। নিজেকে নিয়ে ওর কোন কষ্টও নেই। কি নিষ্পাপ ওর অভিব্যক্তি দেখে নিজেই লজ্জা পেলাম এতদিন ওর থেকে নিজেকে লুকিয়ে রাখার অপরাধে। এত মিষ্টি মেয়ে এষার ভাগ্যটা এত তিতা কেন?
হাসপাতালের ঘনিষ্ঠতায় ওর কাছেই শুনলাম-সত্যটা।
মিনতী’র জন্মের ৬ মাসের মাথায় বাচ্চাসহ ওকে ঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল ওর স্বামীর বাবা-মা। স্বামীটাও তা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে প্রথম, পরে এষা যখন রাস্তায় বাচ্চা নিয়ে ঘুরছে- কোথায় যাবে? কি করবে? তখন ওর স্বামী এসে হেসে দেয়। ওকে নিয়ে তোলে এক বন্ধুর বাড়ি। সেই বন্ধুর সহযোগিতায় আরো দু’জন ব্যবসায়ী বন্ধুর সাথে রাত কাটাতে হয় এষাকে। বিনিময়ে থাকা-খাওয়া- আর হাতখরচ পায় এষা। বুঝতে পারে ওর স্বামী এ থেকে টাকা আয় করছে।
এভাবেই শুরু। এরপর ঢাকায় এসে বড় পার্টি খোঁজা। নীরবে সব মেনে নেয়। এষা চিন্তা করেছে- এভাবে কিছু টাকা জমিযে ও হয়ত ওর দেশে ফিরতে পারবে। ওখানে ওর একটা ব্যবস্থা নিশ্চয়ই হবে। কিন্তু জমানো টাকাটা নিয়ে একমাস হল ওর স্বামী পালিয়েছে। সম্প্রতি এষার শরীর আর কুলাচ্ছে না- ক্রমশ অসুস্থ হয়ে পরছে, এটা টের পেয়েই ও পালিয়েছে।
-আমি বললাম- তুমি তো শিক্ষিত মেয়ে, তুমি তো এখানে কোন ভাল চাকরি করতে পারতে।
এষা- হ্যাঁ, পারতাম, হয়ত এখনো পারি। ও যদি আর কোনদিন না ফেরে তবে পারবো। কিন্তু ও ফিরে এলে পারবো না, ও করতে দেবে না। আমাকে মারবে। মেরে দেহ বেঁচতে নিয়ে যাবে। একসাথে টাকা চায় ও। বলবে থানা পুলিশের কথা, আমার পাসপোর্ট ভিসা ওর কাছে আটকা আছে। কুব সম্ভব সেটা বেচে দিয়েছে। থানায় গেলে উল্টো বেআইনী অবস্থানের জন্য আমার বিপদ হতে পারে। তখন মিনতীর কি হবে ভেবে চুপ থেকেছি। এখন তুমি, মি: সাধন, তোমরা আছ, মিনতীর জন্যে আর ভয় পাইনা। এবার নিজেই থানায় যাব। যদিও আমার মন বলছে, ও আর আসবে না। কারণ ওর পরিচিত গন্ডিতে আমার দাম অনেক কমে গেছে। তুমি বুঝবে না সে কি কষ্ট, সর্বশেষ ওর বন্ধুদের ৭ জন একসাথে……… মাত্র কটা টাকা….. তুমি
কান্না ভেঙে পড়ে এষা।
ওর কান্নায় আমার চোখেও জল এসে যায়। দ্রুত হাসপাতাল থেকে বের হয়ে আসি।

পাঁচ
সাধনের ডায়রিতে বেশ কিছু আবেগীয় কথাবার্তা আমাকে পুনরায় ভাবিয়ে তুলেছে। সম্প্রতি এষাকে নিয়ে জেন ওর ভাবনাটা একটু বেশি। ইতোমধ্যে পরিচিত একটি পতিষ্ঠানে এষার একটা চাকুরির ব্যবস্থা করে দিয়েছে সাধন। ওর অফিসের কাছাকাছি হওয়ায় মাঝে মধ্যে দু’জন একসাথেই ফিরছে।
এষার অমায়িক ব্যবহার। ওর সরলতায় সন্দেহের কোন উদ্রেক না থাকলেও সাধন ওর ডায়রিতে লিখেছে-
‘এষাকে ক্রমশ খুব আপন মনে হচ্ছে। ওর সাথে চলতে, ওর কথা শুনতে খুব ভাল লাগছে। আমার প্রতিও যে এষার একটা দুর্বলতা তা আর লুকানো নেই। মোনা তুমি কি এষাকে সাথী হিসেবে মেনে নিতে পার না। যদি পারতে তাহলে ওকে আর ওর দেশে ফিরে যাওযার জন্য যুদ্ধ করতে হতো না। বড় দুঃখী মেয়ে এষার স্থান হত বাংলাদেশে।’
ডায়রিটা পরেই আমার পিলে চমকে উঠেছে। সাধন ঘরে নেই, খুব সম্ভব ছাদে বসে মিনতীকে নিয়ে খেলছে। এষা সুস্থ হয়ে ফিরে আসার পর দুমাস পার হয়ে গেল। ওর স্বামী আর ফিরেনি। ওর সাথে এখন আমাদের সম্পর্কটাও অনেক সহজ হয়ে এসেছে। যেন আমার পরিবারেরই অংশ ও। তারপরও মেয়েটির নীতিবোধের প্রশংসা করতে হয়। চাকুরির প্রথম মাসের বেতন পুরোটাই এনে তুলে দিয়েছে আমার হাতে। দুমাসের ঘর ভাড়া বাকি পরেছিল।
ওর আত্মমর্যাদাবোধ এ দুমাসেই ওর প্রতি আমার যে একটু ঘৃণা অবশিষ্ট ছিল তা কাটিয়ে দিয়েছে। সাধনের মত আমিও কি ওকে ভালবাসতে শুরু করেছি, নাকি মিনতীকে কাছে রাখার জন্য এটা একটা কৌশল বুঝতে পারছি না। নিজে মা হতে পারছি না বলেই হয়ত এ বোধ কাজ করছে। সাধনকে বঞ্চিত করা কি ঠিক হবে?
হঠাৎ উপর থেকে চিৎকার- চেঁচামেচিতে দ্রুত ছুটে গেলাম। প্রথমে কিছুই বুঝতে বা দেখতে পেলাম না। মিনতীর কান্না জনিত আঙুলি নির্দেশে নিচে তাকিয়ে পাথর হয়ে গেলাম কিছুটা সময়। দেখি নিচে আমাদের সৌখিন পুকুরটায় সাধন আর এষা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আছে। উপরে দাঁড়িয়ে এ দৃশ্য উপভোগ করছে এষার স্বামী মৃণাল। মিনতীকে কাজের ছেলেটার কোলে দিয়ে, দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলাম।
ঘটনাটার কিছু না বুঝেই আমি চড়াও হয়েছিলাম এষার সাবেক স্বামীর ওপর- মৃণালের কলার চেপে ধরে ওর গালে উপর্যপরি চর কষাতে কষাতে আমি চিৎকার করছিলাম – বের হও এ বাড়ি থেকে আর কোনদিন এষার কাছে দেখলে তোমাকে পুলিশে দেব। নিজেই এষাকে জড়িয়ে ধরে ঘরে নিয়ে আসলাম। দুজনেই কাঁদছি। পরে শুনেছি, আমি নাকি বলেছি- আমার স্বামীটা তোমাকে খুব ভালবাসে। তুমিও বাস কিনা বল ?
এষা নাকি চুপ করে ছিল প্রথম, তারপর ওর অদ্ভুত শান্তচোখ তুলে চেয়েছিল আমার চোখে। সে চোখে কি ছিল জানিনা, তবে আমি ওকে পুনরায় ঝাপটে ধরি আমার বুকে। মুখে বলছি আজ থেকে সাধন’ আমাদের দু’জনার, কি পারবে না আমার সাথে সব কিছু সমান ভাগ করে নিতে।
এষা- কাঁদে কোন কথা বলে না।
সেদিন লজ্জাজনিত সাধন ঘরে এসে ভেজা কাপড় পাল্টে, শুকনো কাপড় পড়ে ব্যস্ত হয় ডায়রি নিয়ে। ও লেখে সেদিনের ঘটনার বিস্তারিত।
সকালে কোথা থেকে হঠাৎ হাজির হয়েছিল মৃণাল। এসেই এষাকে জবরদস্তি নিয়ে যেতে চায় সাথে। কোথায় নাকি অনেক টাকার অফার আছে। এটাই এষার শেষ কাজ।
এষা যতই যেতে অস্বীকার করে মৃণাল ততই ক্ষেপে ওঠে। মিনতীকে মারার হুমকি দেয়। বাধ্য হয়ে সাজগোজ করে এষা তৈরি হয়। যাবার পথে আমাকে খোঁজে। মিনতীকে বলে আসার ছলে ছাদে আসে ও। আমার সাথে ওর তেমন কথাবার্তা কখনোই হয়নি। ওর সাজগোজ দেখেই আমি অনেকটা বুঝে যাই, আমার চোখে মুখে ফুটে ওঠা নিষেধাজ্ঞা, প্রতিবাদ ও কি পড়তে পারে। জানি না, দেখি মৃনালের সাথে যাচ্ছে এষা। বুকের ভিতর একটা চাপা কষ্ট ঝনঝনিয়ে ওঠে- আজ যদি এষা সত্যি যায়- আর কোনদিন আমার ছায়া পাবে না। কোনদিন না।
এষা যাচ্ছে- ওর দৃষ্টি উপরে আমার মুখে। মিনতীকে টাটা দেয়ার ছলে ও আমায় কিছু বলতে চাচ্ছে- আমি চোখ ঘুরিয়ে নেই- আঢ়চোখে দেখি হঠাৎ টলে উঠল এষা- তারপরই ঝপ শব্দে পড়ে গেল আমাদের সৌখিন পুকুরের মধ্যে। ছোট হলেও পুকুরটা অনেক গভীর, সাঁতার জানা না থাকলে ডুবে যাবে অনায়াসে। বিদেশী মেয়ে কি সাঁতার জানে?
একটা চিৎকার গলা দিয়ে বের হয়ে এল- পরক্ষণে দোতলার ছাদ থেকেই আমি ঝাঁপিয়ে পড়লাম পুকুরে। পানির তলা থেকে ভেসে উঠে, এষা আমার মুখোমুখি হাঁসছে – হোয়াই ইট ডু দিস- আই নো সুইমিং- পরক্ষণে আমাকে জড়িয়ে ধরেছে। সো দ্যাট আই লাভ ইউ।
আই লাভ ইউ টু।
বেচারা মৃণাল এ দৃশ্য দেখে- বলে উঠল- হাউ ক্যান ইট পসিবল- ডু ইউ নো, সি ইজ এ প্রস ওম্যান।
আমি হেসে উঠলাম- নট সী, ইউ আর অলসো এ প্রসম্যান। সো আউট নাউ। নেদার আই হিট ইউ, ইউ নো, আই অ্যাম এ জার্নালিস্ট! আমার শব্দ শেষ হয়নি তার আগেই অনেকটা উম্মাদের ন্যায় ওর উপর ঝাপিয়ে পড়ল আমার স্ত্রী। স্ত্রীর এ ভয়ঙ্কর রূপ ইতোপূর্বে আমি দেখিনি। মৃণাল কিছু বলতে চাচ্ছিল, কিন্তু আমার স্ত্রীর আচমকা চপেটাঘাত ওকে স্তব্ধ করে দিল।
স্তব্ধ আমিও ওর পরবর্তী বাক্য শুনে। সি ইজ নট প্রস, সি ইজ মাই সিস্টার- সি ইজ এনোদার লাইফ অফ মাই হাজব্যান্ড।
সাধন নেই। আমাদের ফাকি দিয়ে চলে গেছে আজ বহুদিন হলো। মিনতী আর আলাওলকে নিয়ে এষা আর আমার অটুট বাধন। বাইশ বছরের মিনতী বেছে নিয়েছে বাবার পেশা। পুরো সাধন ভর করেছে ওর কাধে। আলাওলকে মানুষ করার ভার যেন ওর একার। সাধনের কার্বণ কপি হচ্ছে বেড়ে ওঠা আলাওল। একটা সত্যি আজ আর লুকাবো না, আমি কিন্তু আর মা হতে পারিনি। আগে ভাবতাম দোষটা বুঝি সাধনের। আমার দেয়া অভিযোগ ঘোচাতেই বুঝি এষার প্রতি ওর আগ্রহটা বেড়ে গিয়েছিল। আলাওল জম্মের পরে বুঝেছি, কতটা ভুল ছিলাম আমি। আজ এষার সন্তানরাই আমাকে মা ডাকে। এষাকে বলে মাম্মি।

সমাপ্ত

Print Friendly

About the author

ডিসেম্বর ৭১! কৃত্তনখোলার জলে সাঁতার কেটে বেড়ে ওঠা জীবন। ইছামতির তীরঘেষা ভালবাসা ছুঁয়ে যায় গঙ্গার আহ্বানে। সেই টানে কলকাতার বিরাটিতে তিনটি বছর। এদিকে পিতা প্রয়াত আলাউদ্দিন আহমেদ-এর উৎকণ্ঠা আর মা জিন্নাত আরা বেগম-এর চোখের জল, গঙ্গার সম্মোহনী কাটিয়ে তাই ফিরে আসা ঘরে। কিন্তু কৈশরী প্রেম আবার তাড়া করে, তের বছর বয়সে তের বার হারিয়ে যাওয়ার রেকর্ডে যেন বিদ্রোহী কবি নজরুলের অনুসরণ। জীবনানন্দ আর সুকান্তে প্রভাবিত যৌবন আটকে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পদার্পন মাত্রই। এখানে আধুনিক হবার চেষ্টায় বড় তারাতারি বদলে যায় জীবন। প্রতিবাদে দেবী আর নিগার নামের দুটি কাব্য সংকলন প্রশ্ন তোলে বিবেকবানের মনে। তার কবিতায়, উচ্চারণ শুদ্ধতা আর কবিত্বের আধুনিকায়নের দাবী তুলে তুলে নেন দীক্ষার ভার প্রয়াত নরেণ বিশ্বাস স্যার। স্যারের পরামর্শে প্রথম আলাপ কবি আসাদ চৌধুরী, মুহাম্মদ নুরুল হুদা এবং তৎকালিন ভাষাতত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজীব হুমায়ুন ডেকে পাঠান তাকে। অভিনেতা রাজনীতিবিদ আসাদুজ্জামান নূর, সাংকৃতজন আলী যাকের আর সারা যাকের-এর উৎসাহ উদ্দিপনায় শুরু হয় নতুন পথ চলা। ঢাকা সুবচন, থিয়েটার ইউনিট হয়ে মাযহারুল হক পিন্টুর সাথে নাট্যাভিনয় ইউনিভার্সেল থিয়েটারে। শংকর শাওজাল হাত ধরে শিখান মঞ্চনাটবের রিপোটিংটা। তারই সূত্র ধরে তৈরি হয় দৈনিক ভোরের কাগজের প্রথম মঞ্চপাতা। একইসমেয় দর্শন চাষা সরদার ফজলুল করিম- হাত ধরে নিযে চলেন জীবনদত্তের পাঠশালায়। বলেন- মানুষ হও দাদু ভাই, প্রকৃত মানুষ। সরদার ফজলুল করিমের এ উক্তি ছুঁয়ে যায় হৃদয়। সত্যিকারের মানুষ হবার চেষ্টায় তাই জাতীয় দৈনিক রুপালী, বাংলার বাণী, জনকণ্ঠ, ইত্তেফাক, মুক্তকণ্ঠের প্রদায়ক হয়ে এবং অবশেষে ভোরেরকাগজের প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়ান ৬৫টি জেলায়। ছুটে বেড়ান গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। ২০০২ সালে প্রথম চ্যানেল আই-্র সংবাদ বিভাগে স্থির হন বটে, তবে অস্থির চিত্ত এরপর ঘনবদল বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, আমাদের সময়, মানবজমিন ও দৈনিক যায়যায়দিন হয়ে এখন আবার বেকার। প্রথম আলো ও চ্যানেল আই আর অভিনেত্রী, নির্দেশক সারা যাকের এর প্রশ্রয়ে ও স্নেহ ছায়ায় আজও বিচরণ তার। একইসাথে চলছে সাহিত্য বাজার নামের পত্রিকা সম্পাদনার কাজ।