ঘাসফুলের শিশিরে কবিতার স্পন্দন

আরিফ আহমেদ

05এই শীতেও যখন
দাউ দাউ আগুন
জ্বলছে বাস-ট্রেন
আর চলন্ত যান

পেট্রোলবোমায়
পুড়ে হলো ছাই
অবলা নারী, নিরিহ পুরুষ আর
নিষ্পাপ শিশুটিও পেলনা রেহাই।

তখন আর কবিতা আসেনা
কণ্ঠ চিরে উচ্চারিত হয়
একটি মাত্র বাক্য – তুই বেজন্মার বাচ্চা
বলেই হয়তো এভাবে
বোমা আগুন ছুড়তে পারলি
ঘুমন্ত মানুষের দেহে।

ধিক তোর জন্মের প্রতি
শুধু তুই না তোর পূর্ব পুরুষেরাও সব বেজন্মা।

01 02সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রের উঠোনে বসে-ই কবিতাটি লিখলাম । নাম দিলাম – তুই বেজন্মা। ইচ্ছে ছিল ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ শনিবার বিকালে গণ মাধ্যম সংস্থা ঘাসফুল আয়োজিত শিশিরে কবিতার স্পন্দন শিরোনামের কবিতা পাঠের অনুষ্ঠানে এটি-ই পড়বো। কিন্তু দেশ বরেণ্য কবিদের পদচারণায় মুখরিত ঘাসফুলের এই আয়োজনে যখন কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী, নাসির আহমেদ, আলমগীর রেজা চৌধুরী, আনোয়ারা সৈয়দ হক, রেজাউদ্দিন স্টালিন, চঞ্চল আশরাফ প্রমূখরা কবিতা পড়লেন, তখন আমার আর এতোটা সাহস আর হলোনা তাদের সামনে কবিতা পড়ার।
তবে ভালো লাগলো এটা দেখে যে, প্রায় সব কবির কবিতাতেই শিশিরে ভেজা কবিতাগুলো কখন যেন আগুনের উপর পানি ঢালতে শুরু করেছে। কবির অজ্ঞাতেই তার কবিতা এই মূহুর্তের রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠেছে। সভাপতি মাহবুব তালুকদার যেন সেটাই ছড়িয়ে দিলেন উপস্তিত কবিকুলে।
কবি আসলাম সানি, মারুফ রায়হান, মাশুক চৌধুরী, জুনান নিশাত, পারভিন আক্তার প্রমূখ কবির কবিতায় তাই আগুন ঝড়লো চলমান সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। স্বাগত বক্তব্যে ঘাসফুলের পরিচালক কথাসাহিত্যিক আতা সরকার লুকানো সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আহ্বান জানালেন বলেই হয়তো কবিরা প্রতিবাদী শিশির ঝরালেন আগুনের নির্লজ্জতায়। শীতের পিঠা আর লুচি ভাজি খেতে খেতে সোনালী সন্ধ্যার এই কবিতা পাঠ চলেছে রাত আটটা পর্যন্ত। ঘাসফুল প্রতি মাসেই এ রকম ব্যতিক্রমী আয়োজনের মাধ্যমে দৃষ্টি কাঁড়ছে রাজধানীর সাহিত্যমোদিদের। আতা সরকার জানালেন, না শুধু রাজধানীতেই নয়, সাহিত্য সংস্কৃতি নিয়ে সারা দেশে কাজ করতে আগ্রহী ঘাসফুল। রাজধানী জুড়ে গত ৪ বছরে যে আয়োজন চলেছে তা সূচনা মাত্র।

Print Friendly

About the author

ডিসেম্বর ৭১! কৃত্তনখোলার জলে সাঁতার কেটে বেড়ে ওঠা জীবন। ইছামতির তীরঘেষা ভালবাসা ছুঁয়ে যায় গঙ্গার আহ্বানে। সেই টানে কলকাতার বিরাটিতে তিনটি বছর। এদিকে পিতা প্রয়াত আলাউদ্দিন আহমেদ-এর উৎকণ্ঠা আর মা জিন্নাত আরা বেগম-এর চোখের জল, গঙ্গার সম্মোহনী কাটিয়ে তাই ফিরে আসা ঘরে। কিন্তু কৈশরী প্রেম আবার তাড়া করে, তের বছর বয়সে তের বার হারিয়ে যাওয়ার রেকর্ডে যেন বিদ্রোহী কবি নজরুলের অনুসরণ। জীবনানন্দ আর সুকান্তে প্রভাবিত যৌবন আটকে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পদার্পন মাত্রই। এখানে আধুনিক হবার চেষ্টায় বড় তারাতারি বদলে যায় জীবন। প্রতিবাদে দেবী আর নিগার নামের দুটি কাব্য সংকলন প্রশ্ন তোলে বিবেকবানের মনে। তার কবিতায়, উচ্চারণ শুদ্ধতা আর কবিত্বের আধুনিকায়নের দাবী তুলে তুলে নেন দীক্ষার ভার প্রয়াত নরেণ বিশ্বাস স্যার। স্যারের পরামর্শে প্রথম আলাপ কবি আসাদ চৌধুরী, মুহাম্মদ নুরুল হুদা এবং তৎকালিন ভাষাতত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজীব হুমায়ুন ডেকে পাঠান তাকে। অভিনেতা রাজনীতিবিদ আসাদুজ্জামান নূর, সাংকৃতজন আলী যাকের আর সারা যাকের-এর উৎসাহ উদ্দিপনায় শুরু হয় নতুন পথ চলা। ঢাকা সুবচন, থিয়েটার ইউনিট হয়ে মাযহারুল হক পিন্টুর সাথে নাট্যাভিনয় ইউনিভার্সেল থিয়েটারে। শংকর শাওজাল হাত ধরে শিখান মঞ্চনাটবের রিপোটিংটা। তারই সূত্র ধরে তৈরি হয় দৈনিক ভোরের কাগজের প্রথম মঞ্চপাতা। একইসমেয় দর্শন চাষা সরদার ফজলুল করিম- হাত ধরে নিযে চলেন জীবনদত্তের পাঠশালায়। বলেন- মানুষ হও দাদু ভাই, প্রকৃত মানুষ। সরদার ফজলুল করিমের এ উক্তি ছুঁয়ে যায় হৃদয়। সত্যিকারের মানুষ হবার চেষ্টায় তাই জাতীয় দৈনিক রুপালী, বাংলার বাণী, জনকণ্ঠ, ইত্তেফাক, মুক্তকণ্ঠের প্রদায়ক হয়ে এবং অবশেষে ভোরেরকাগজের প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়ান ৬৫টি জেলায়। ছুটে বেড়ান গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। ২০০২ সালে প্রথম চ্যানেল আই-্র সংবাদ বিভাগে স্থির হন বটে, তবে অস্থির চিত্ত এরপর ঘনবদল বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, আমাদের সময়, মানবজমিন ও দৈনিক যায়যায়দিন হয়ে এখন আবার বেকার। প্রথম আলো ও চ্যানেল আই আর অভিনেত্রী, নির্দেশক সারা যাকের এর প্রশ্রয়ে ও স্নেহ ছায়ায় আজও বিচরণ তার। একইসাথে চলছে সাহিত্য বাজার নামের পত্রিকা সম্পাদনার কাজ।