এমন নান্দনিক পাঠচক্র পৃথিবীতে বিরল : নাসরীন জাহান

আরিফ আহমেদ

A p 10627আমি নন্দরাজ…
কাব্য কম্বিা গল্পরাজ
রামায়ন মহাভারত খ্যাত রাজাধরিাজ
রামমোহন কম্বিা চন্দ্রবতী
আমি সুন্দরম;
ময়মনসিংহ আমার নাম।
আমার যা কছিু সুন্দর
সবই তার; তোমার অপেক্ষায়
ওলো মেয়ে তুমিে এলে
র্পূণ হবেে আমার পূণরুত্থান।।

অভিনেত্রী নির্দেশিকা সারা যাকেরকে ময়মনসিংহে আমন্ত্রণ জানাতে এ পঙতিগুলোর জন্ম হয়েছিল গত ২০ এপ্রিল ২০১৪তে।  সাহিত্য সংস্কৃতির লীলাভূমি খ্যাত ময়মনসিংহকে নিয়ে লেখা আমার পঙতিটির খুব প্রশংসা করেছিলেন কবি নির্মলেন্দু গুন ও কথাসাহিত্যিক নাসরীন জাহান। কিন্তু এ পঙতিমালার দুর্ভাগ্য এই যে, এটি ফেসবুকে আমার টাইমলাইন ছাড়া কোথাও আর ছাপা হলোনা। সংবাদ, ইত্তেফাক, প্রথমআলোসহ বেশ ক’টি দৈনিকের সাহিত্য সম্পাদকের কাছে অন্য কবিতার সাথে এটিও পাঠালাম। তাদের কেউ কেউ আমার গল্প ছাপলেন, কিন্তু কবিতা একটিও ছাপলেন না।

A p 10619দীর্ঘসময় পর আবার সুযোগ এলো ময়মনসিংহ দেখার। কথা সাহিত্যিক নাসরীন জাহান ও  বন্ধু কবি স্বাধীন চৌধুরীর ঐকান্তিক ডাকে ছুটে যেতেই হলো। তবে এবারের আয়োজন ব্যতিক্রমী এক পাঠচক্রের। ঐতিহ্যবাহী ময়মনসিংহের গর্বিত সাহিত্য সংগঠন ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের একটি পাঠচক্র সংগঠনের নাম বীক্ষণ। ১৯৮৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী থেকে যাত্রা শুরু করে ২০১৪ এর নভেম্বরের ৭ তারিখ এ সংগঠনটি পার করল ১৬০০ তম পাঠচক্র বা আসর । আর এ উপলক্ষে শুক্রবার(৭ নভেম্বর)সকাল থেকে দিনব্যাপি উৎসব আয়োজন করেছিলেন সংগঠকরা। কথা সাহিত্যিক নাসরীন জাহান সেই ১৯৮৩ সালে এই বীক্ষণে অংশ নিতেন। এখানে পাঠ করেছেন কবি নির্মলেন্দু গুন সহ অনেক খ্যাতনামা লেখক। বলা যায় অনেকটা স্বাধীনের উৎসাহেই এবার আমার এই কবিতাটির গতি হলো। পাঠ আসরে পঠিত হলো আমি নন্দরাজ….। আর স্মৃতিচারণে এসে নাসরীন জাহান বললেন- এমন নান্দনিক পাঠচক্র পৃথিবীতে বিরল। আমি বিশ্বের অনেক দেশের সাহিত্য আসরে গিয়েছি। কিন্তু ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের পারে সবুজ বেষ্টনীর নীচে এমন নান্দনিকতা আর কোথাও দেখিনি। ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ প্রাঙ্গনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন,কবি নাট্যকার ফরিদ আহমদ দুলাল। উৎসবের উদ্ভোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী। কবিতার প্রকরন শীর্ষ ক বিষয়ভিত্তিক আলোচক হিসেবে অসুস্থ শরীর নিয়ে ঢাকা থেকে ছুটে আছেন নীল দরিয়া খ্যাত কক্সবাজারের সন্তান কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের পৌর মেয়র ইকরামুল হক টিটু।

012আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে আরো ছিলেন কবি জাহাঙ্গীর ফিরোজ, কবি কামরুল ইসলাম, ছড়াকার এম আর ম›জু, কবি গোলাম মোর্শেদ চন্দন, কবি আশরাফ জুয়েল প্রমুখ।ময়মনসিংহের কবি মোশাররাফ করিম সহ জেলার বিভিন্ন এলাকার কবি-সহিত্যিকগন উপস্থিত থেকে উৎসব আমেজকে প্রানবন্ত করে তোলেন।A p 10643দ্বীতিয় পর্বে কবিতাপাঠের আড্ডায় সভাপতিত্ব করেন কবি দ্রুব জ্যোতি ঘোষ মুকুল। উপস্থাপনায় ছিলেন সজল কোরায়শি ও স্বাধীন চৌধুরী। কবিতা পাঠ করেন, কবি মুহাম্মদ নুরুল হুদা, নাসরিন জাহান, রওশন ঝুনু, তপন বর্মন, শামীম সিদ্দিকী, গনি আদম, শারমীন সুলতানা, শাবিহ মাহমুদ, শাহাব উদ্দিন, রোকন শাহরিয়ার সোহাগ, সফিউল্লাহ আনসারী দুর দুরান্ত থেকে আগত কবিরা। অনুষ্ঠান শেষে র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষণ উৎসবের আর একটি মজার আয়োজন ছিল ঢুলি রাজ কুমারের চমকপ্রদ ঢোলের বাজনা, যা সারাক্ষণ মাতিয়ে রাখে পুরো আয়োজন।

 

Print Friendly

About the author

ডিসেম্বর ৭১! কৃত্তনখোলার জলে সাঁতার কেটে বেড়ে ওঠা জীবন। ইছামতির তীরঘেষা ভালবাসা ছুঁয়ে যায় গঙ্গার আহ্বানে। সেই টানে কলকাতার বিরাটিতে তিনটি বছর। এদিকে পিতা প্রয়াত আলাউদ্দিন আহমেদ-এর উৎকণ্ঠা আর মা জিন্নাত আরা বেগম-এর চোখের জল, গঙ্গার সম্মোহনী কাটিয়ে তাই ফিরে আসা ঘরে। কিন্তু কৈশরী প্রেম আবার তাড়া করে, তের বছর বয়সে তের বার হারিয়ে যাওয়ার রেকর্ডে যেন বিদ্রোহী কবি নজরুলের অনুসরণ। জীবনানন্দ আর সুকান্তে প্রভাবিত যৌবন আটকে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পদার্পন মাত্রই। এখানে আধুনিক হবার চেষ্টায় বড় তারাতারি বদলে যায় জীবন। প্রতিবাদে দেবী আর নিগার নামের দুটি কাব্য সংকলন প্রশ্ন তোলে বিবেকবানের মনে। তার কবিতায়, উচ্চারণ শুদ্ধতা আর কবিত্বের আধুনিকায়নের দাবী তুলে তুলে নেন দীক্ষার ভার প্রয়াত নরেণ বিশ্বাস স্যার। স্যারের পরামর্শে প্রথম আলাপ কবি আসাদ চৌধুরী, মুহাম্মদ নুরুল হুদা এবং তৎকালিন ভাষাতত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজীব হুমায়ুন ডেকে পাঠান তাকে। অভিনেতা রাজনীতিবিদ আসাদুজ্জামান নূর, সাংকৃতজন আলী যাকের আর সারা যাকের-এর উৎসাহ উদ্দিপনায় শুরু হয় নতুন পথ চলা। ঢাকা সুবচন, থিয়েটার ইউনিট হয়ে মাযহারুল হক পিন্টুর সাথে নাট্যাভিনয় ইউনিভার্সেল থিয়েটারে। শংকর শাওজাল হাত ধরে শিখান মঞ্চনাটবের রিপোটিংটা। তারই সূত্র ধরে তৈরি হয় দৈনিক ভোরের কাগজের প্রথম মঞ্চপাতা। একইসমেয় দর্শন চাষা সরদার ফজলুল করিম- হাত ধরে নিযে চলেন জীবনদত্তের পাঠশালায়। বলেন- মানুষ হও দাদু ভাই, প্রকৃত মানুষ। সরদার ফজলুল করিমের এ উক্তি ছুঁয়ে যায় হৃদয়। সত্যিকারের মানুষ হবার চেষ্টায় তাই জাতীয় দৈনিক রুপালী, বাংলার বাণী, জনকণ্ঠ, ইত্তেফাক, মুক্তকণ্ঠের প্রদায়ক হয়ে এবং অবশেষে ভোরেরকাগজের প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়ান ৬৫টি জেলায়। ছুটে বেড়ান গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। ২০০২ সালে প্রথম চ্যানেল আই-্র সংবাদ বিভাগে স্থির হন বটে, তবে অস্থির চিত্ত এরপর ঘনবদল বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, আমাদের সময়, মানবজমিন ও দৈনিক যায়যায়দিন হয়ে এখন আবার বেকার। প্রথম আলো ও চ্যানেল আই আর অভিনেত্রী, নির্দেশক সারা যাকের এর প্রশ্রয়ে ও স্নেহ ছায়ায় আজও বিচরণ তার। একইসাথে চলছে সাহিত্য বাজার নামের পত্রিকা সম্পাদনার কাজ।