কবে হবে সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যমের একতা

আরিফ আহমেদ

images 2

সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে সাংবাদিকদের এই একতা অক্ষুন্ন থাকুক ।

আমাদের মিডিয়া! হোক সে প্রিন্ট বা ইলেক্ট্রনিকস মিডিয়া। এরা  কি সবসময় সঠিক দায়িত্ব পালন করছে? বুকে হাত দিয়ে মিডিয়ার দায়িত্বশীল নেতা বা ব্যক্তিবর্গ কি এ কথা বলতে পারবেন যে, আমরা সবসময় সঠিক সংবাদই পরিবেশন করছি? তাহলে আপনাদের মধ্যে এতো বিভক্তি কেন? সংবাদকর্মী সাগর-রুনি হত্যার সুরাহা নিয়ে যে একতা তৈরি হয়েছিল, সেটাও আজ বিভাজনের কারণে বদলে গেল, আজপর্যন্ত সাগর-রুনি হত্যার কোনো সুরাহা হল না। কেন ? প্রেসক্লাব/ঢাকা প্রেসক্লাব ছাড়াও কোনো কোনো জেলায় ৩/৪টি প্রেসক্লাবও দেখা যায়। আর সাংবাদিক সংগঠনের তো ইয়াত্তা নেই। সঠিক সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে মানুষের সেবা করাই যাদের ব্রত, তাদের মধ্যে কেন এতো বিভাজন? কেন সংবাদ মাধ্যম ও সংবাদকর্মীরা নিরপেক্ষ হতে পারেন না ?

চোখ বন্ধ করে বলা যায়, এই যুগে নিরপেক্ষ সংবাদ- এই কথাটা বুক ফুলিয়ে কেউ-ই বলতে পারবেন না। আর পারবেন না বলেই আমাদের দেশের মিডিয়া বা সংবাদমাধ্যম তিন শিবিরে বিভক্ত। আওয়ামী ঘরাণা, বিএনপি ঘরানা ও জামাত শিবির ঘরানা। কিছুকাল আগেও আরো একটি ঘরানা ছিল সেটা হচ্ছে বাম ঘরানা। এই ঘরানাটি এখন প্রায় বিলুপ্ত হয়ে আওয়ামী ঘরাণার অংশীদার হয়েছে।

অন্যদিকে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব বা পারসোনালিটি বলতে আমরা যে সব বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক নেতা-কর্মীদের চিহ্নিত করছি তারাও বেশিরভাগ অংশ আওয়ামী বা বিএনপি ঘরানায় প্রবেশ করে সত্য বলা বা সৎ কাজ করার রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছেন, হারিয়েছেন বিশ্বাসযোগ্যতা। তাদের বেশিরভাগই এখন ধর্মনিরপেক্ষতার আড়ালে অনুসরণ করছেন কালি প্রসন্ন সিং-এর সেই উক্তিটি- ‘শহুরে শিক্ষিত লোকের কাছে কালচার হচ্ছে ধর্ম, আর গ্রামে কম শিক্ষিত, মূর্খ খেটে খাওয়া মানুষের কাছে ধর্ম-ই হচ্ছে কালচার’। যে কারণে ধর্মের সাথে কালচার-এর এবং সাধারণ মানুষের সাথে বুদ্ধিজীবীদের চিন্তার দ্বন্দ্ব লেগেই আছে ।

কালচারালপন্থীদের মতে, কালচার বা কালচারাল হতে হলে মুক্তমনা হতে হবে, মুক্তমনা হতে হলে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশায় বাঁধা বা দেয়াল থাকবে না, মেয়েরা পর্দাশীল (মাথায় কাপড় দিলেও কালচারাল) হতে পারবে না। নামাজ-রোজা, পূজা-অর্চনা ইত্যাদির প্রতি আগ্রহ না থাকা উত্তম, যদি থাকে তাবে সে পুরোপুরি কালচারাল নয়। মানবতাবোধের দোহাই দিয়ে অমানবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে হবে (বিশ্বজুড়ে আমেরিকার আগ্রাসী ভূমিকা যার বড় উদাহরণ) অবশ্য অতটা দূরে যেয়ে কাজ কি? চোখের সামনেইতো মানবতার বিপর্যয় স্পষ্ট হয়ে আছে। সাভার ট্রাজেডি ও হাজারো লাশের ভিড়ে মানবাধিকার সংস্থা বা এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর আচরণ কিংবা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা নেত্রীদের আচরণ। অন্যদিকে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা বেশিরভাগ অংশ জয়বাংলা শ্লোগান নিয়ে গণজাগরণ মঞ্চে জড়ো হতে পারলেন কিন্তু হায় আল্লাহ বা ঈশ্বর, আমাদের রক্ষা কর- বলে সাভারের শোকার্ত মানুষের পাশে কেউ ঘেঁসলেনও না। ড. আনিসুজ্জামান, নাসিরউদ্দিন ইউসুফ, রামেন্দু মজুমদার, ম. হামিদ, কিংবা বাবুল আহমেদ, মনির খান, আসিফ আকবর প্রমূখদের কাউকেই সাভারে অসহায় মানুষগুলোর ধারে কাছে দেখা গেল না। সাভার ট্রাজেডিতে আহতরা সু-চিকিৎসা পাচ্ছে কি পাচ্ছে না, মিডিয়ায় এই নিয়ে কোনো প্রতিবেদনও দেখা গেল না। একজন উদ্ধারকর্মী ওমর ফারুক বাবু ঢাকা মেডিকেলে কিভাবে রহস্য মৃত্যুর শিকার হলেন? তা আর জানার উপায় নেই। গত ৮ মে ২০১৩ পত্রিকায় একটি ছোট সংবাদ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছেন সংবাদকর্মীরা। একজন রেশমা ১৭ দিন পর অমীমাংশিত অনেক প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে জীবিত ফিরে এসে মিডিয়ায় ঝড় তুলে দিল, অথচ হাজারো লাশের ভিড়ে বাড়তি ১৯৫টি লাশের যে কোনো ঠিকানা খুঁজে পাওয়া গেল না তা কোনো বিষয়ই হলো না। একজন গার্মেন্টসকর্মী রেশমা, মুন্নি সাহার মতো জাঁদরেল সাংবাদিকের সামনে এতোটা গুছিয়ে কথা বলছে, যা অবাক করার মতো। কিন্তু কেউ অবাক হচ্ছে না।

এদিকে ধর্মীয় ভাবধারায় বেড়ে উঠা আমাদের গ্রাম্য খেটে খাওয়া মানুষের কাছে মসজিদের ঈমাম, মন্দিরের পুরোহীত এবং গির্জার ফাদার-এর বক্তব্যই হচ্ছে সর্বাগ্রে। ঈমাম, পুরোহীত ও ফাদারের কথায় তারা যে কোনো মূহুর্তে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে পারেন। ধর্মীয় রীতি রেওয়াজ পালনই তাদের কাছে কালচার। যে কারণে তাদের আরেক নাম দেয়া হয়েছে মৌলবাদী।

হেফাজতে ইসলাম বা এই জাতীয় ধর্মীয় সংগঠনগুলো সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করছে ধর্মীয় প্রচারণা দিয়ে। তারা পবিত্র গ্রন্থের ব্যাখ্যা দিচ্ছে নিজেদের মতো করে। মুসলমানদের পবিত্র গ্রন্থ আল কোরআন-এর ব্যাখা নিয়ে অসংখ্য হাদিস গ্রন্থ তৈরি হয়েছে। একসময় ৬টি হাদিস গ্রন্থ গুরুত্বপূর্ণ বলা হলেও, এখন ভুরি ভুরি গ্রন্থ তৈরি হয়েছে, যার কোনো নিয়ন্ত্রণ সীমা নেই। যে কারণে এখানেও তৈরি হয়েছে অসংখ্য বিভক্তি। জামায়াতে ইসলাম, চরমোনাই, আটরশি, সায়দাবাদী, শর্শীনা ইত্যাদি বিভাজনের মধ্যে সঠিক ইসলাম প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। অথচ পবিত্র কোরআনের সূরা মায়িদা, সূরা বাকারা ও ইয়াছিনসহ অসংখ্য সূরায় আল্লাহ সব সমস্যার সমাধান বলে দিয়েছেন। আল্লাহ বারবার বলেছেন- ‘তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি কর না। কেউ যদি তোমাদের কাছে আশ্রয় চায়, তাহলে তাকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দাও, যদি কোনো মানুষ বিনা অপরাধে কোনো মানুষকে হত্যা করলো, তাহলে সে যেন সমগ্র মানব জাতিকে হত্যা করলো।’(পবিত্র কোরআন অনুসারে মুসলমান ও সন্ত্রাস বিষয়ে ডাঃ জাকির নায়েক-এর বক্তব্য দেখুন, দয়া করে তিনি অন্য ধর্ম নিয়ে কি বলছেন তা না দেখে বিজ্ঞান ও যুক্তির আলোকে কোরআনের যে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন সেটা জানুন।)

এই ঈমাম, পুরোহীত ও ফাদারের বক্তব্য যদি ধর্মগ্রন্থের সঠিক ব্যাখ্যায় সু-শিক্ষিত হয়, তাহলে কিন্তু তাদের আচরণ মহামানব পর্যায়ের হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু সেটা না করে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বলা কিছু অসমাপ্ত বক্তব্যকে ব্যবহার করেন আমাদের ধর্ম ব্যবসায়ীরা। সুযোগ পেলেই তারা মহিলাদের হিজাব ও দাড়ি রাখা না রাখা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অথচ পবিত্র কোরআনে প্রথমেই বলা হয়েছে পুরুষের হিজাব পালনের কথা। পরপর তিনবার পুরুষকে তার দৃষ্টি সংযত করতে বলার পর আল্লাহ নারীকে হিজাব পালনের কথা বলেছেন। (পবিত্র কোরআন অনুসারে মুসলিম নারী বিষয়ে ডাঃ জাকির নায়েক-এর বক্তব্য দেখুন) এবং মাত্র এক স্থানে হযরত মূসা (আঃ) ও তার ভাই হারুন (আঃ)-এর কথপকথনে দাড়ি বিষয় এসেছে। যা থেকে বোঝা যায় মূসা (আঃ)-এর দাড়ি ছিল। কিন্তু দাড়ি রাখা নিয়ে পবিত্র কোরআনের কোথাও কোনো পরিস্কার বক্তব্য নেই বলে জানিয়েছেন ডাঃ জাকির নায়েক। তবে তিনি আরো বলেছেন যে, যেহেতু প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ সাঃ-এর দাড়ি ছিল তাই মুসলমানদের উচিত সবকিছু বাদ দিয়ে নবীজীকে অনুসরণ করা। আর নবীজীকে অনুসরণ করতে হলে প্রথমেই মিথ্যা বলা ও অসৎ কাজ করা থেকে দূরে থাকতে হবে। নবীজীকে তায়েববাসী কত কষ্টই না দিয়েছে। তবুও নবীজী তায়েববাসীকে ক্ষমা করা ও হেদায়েত দান করার জন্য প্রার্থনা করেছেন। তার চলার পথে কাটা বিছিয়ে রাখা কাফের বুড়ি অসুস্থ হলে নবীজী সেই বুড়ির সেবা করেছেন। নবীজীর সুন্নত বলে যারা দাড়ি রাখা না রাখা নিয়ে বাড়াবাড়ি করছেন, তারা কি এই বিষয়গুলো একবারও ভেবে দেখেছেন।

পৃথিবীর সব ধর্মগ্রন্থই তৈরি হয়েছে মানব জাতির কল্যানের জন্য। সব ধর্মেই কিছু কিছু বক্তব্য আছে যা এক ও অভিন্ন। এই এক ও অভিন্ন বক্তব্যগুলোর অনুসরণ করলেই আমাদের ধর্ম নিয়ে দ্বন্দ্বটার মীমাংসা হয়ে যায়। কিন্তু স্বার্থনির্ভর রাজনীতি তা হতে দেবে না। তারা সুকৌশলে ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আসছে, ভবিষ্যতেও করবে। যদি রাজনীতি ধর্মকে ব্যবহার বন্ধ করে দেয় তবে পুঁজিবাদের অনুসারী মিডিয়া বা গণমাধ্যম রাজনীতিবিদদেরকেই বর্জন করবে। কারণ, বর্তমান বিশ্বে মিডিয়ার প্রথম ও প্রধান বাণিজ্য হচ্ছে বিজ্ঞাপন, বিজ্ঞাপন ও বিজ্ঞাপন। এই বিজ্ঞাপন পাবার স্বার্থে মিডিয়া ব্যস্ত পণ্যবাজারের হর্তাকর্তাদের খুশি করতে। আর পণ্যবাজারের হর্তাকর্তারা যতটা না পণ্য নির্ভর তার চেয়ে অনেক বেশি নারী নির্ভর। তাদের পণ্যের ক্রেতাও বিশ্বজুড়ে ৯০ ভাগই নারী। তাই তারা উঠে পরে লেগেছেন নারীকে স্বাধীন করতে। নারী স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে তারা অত্যন্ত সুকৌশলে নারীদের ঘর থেকে টেনে হিঁচঁরে বের করে আনছেন বিভিন্ন প্রয়োজনের অজুহাতে। নারীরা যত বহিঃর্মূখী হচ্ছে ততোই তাদের পণ্যের প্রচার ও ব্যবহার জমজমাট হচ্ছে। এতে করে ধর্ম বিশেষ করে ইসলামের সাথে নারীর দুরত্ব বাড়ছে দিনকে দিন। অথচ সুশিক্ষিত নারী যদি একটু চিন্তা করে দেখেন, তবেই বুঝতে পারবেন যে, এই যে স্বাধীনতা গত ১৫০ বছর ধরে মিডিয়া তাদের দেখাচ্ছে এটা আসলে তাদের উপর্যপরি ব্যবহারের ও দেহ থেকে পোশাকটাকে বিচ্ছিন্ন করার অস্ত্র ছাড়া আর কিছু না। অথচ তাদের প্রকৃত সম্মান ও স্বাধীনতা ইসলাম ধর্ম দেখিয়েছে আজ থেকে ১৪৪০ বছর আগে।

একটি মুসলিম রাষ্ট্রে আজ ধর্ম ও ধর্ম নিরপেক্ষতা নিয়ে কত বাক-বিতণ্ডা চলছে। অথচ ৪৭ সালে যখন দেশ ভাগ হলো তখনইতো এই ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভারত ও পাকিস্তান হলো। হলনা শুধু আমাদের খ্রিস্টান ভাইদের জন্য কোনো পৃথক রাষ্ট্র। ইংরেজরা তাদের রাজত্বকালে কিছু মানুষকে খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী করলেন বটে, তবে এ দেশ ত্যাগ করার সময় তাদের কথা বেমালুম ভুলে গেলেন। তারা হলেন ভাসমান। কেন? হিন্দু রাষ্ট ও মুসলিম রাষ্ট্রের এই বিভাজন কি আমাদের সৃষ্টি? যে রাষ্ট্রের ৮০ ভাগ জনগোষ্ঠি হিন্দু, সেখানে আপনি আমি যতই ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা-ই বলি, সেটা হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবেই বিশ্বজুড়ে পরিচিত। একই ভাবে পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন পৃথক রাষ্ট্র গঠিত হলেও বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমান। এই সত্য অস্বীকার করে আমরা ধর্ম নিরপেক্ষতার দোহাই দিয়ে যে দ্বন্দ্ব তৈরি করছি, সেটা কতটা যুক্তিসংঘত?

আমাদের দেশের প্রায় সব মিডিয়ার নিয়ন্ত্রকরা-ই মুসলমান। শুধু তা-ই নয় তারা বেশিরভাগই ধার্মিক ও ধর্মীয় অনুসাশন মেনে চলছেন (নিজ চোখে দেখা)। তবে কেন আপনারা ধর্ম নিরপেক্ষতা নামের এই হেফাজত, জামাত ও আওয়ামী লীগ দ্বন্দ্বকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন? আজ দেশে যে সংকট তৈরি হয়েছে, আমরা বিশ্বাস করি যে, এটা আপনারা চাইলেই বন্ধ করে দিতে পারেন। আপনাদের অনেকের কাছেই ৫ মে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। আপনারা জানেন সে-ই সন্ধ্যায় কারা কারা দোকান-পাট লুট ও অগ্নিসংযোগ করেছে। আপনাদের একতাবদ্ধ একটি পদক্ষেপই পারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ দেশের চলমান সব সমস্যার সমাধান করে দিতে।

এতে ক্ষতি আর কি হবে? না হয় পণ্যবাজারের হর্তাকর্তরা ক্ষুব্দ হবেন। কিন্তু এই দেশে ব্যবসা করতে হলে ঐ সব হর্তাকর্তাদের আবারও আপনাদের কাছেই ছুটে আসতে হবে। দয়া করুন এই বাংলাদেশের মানুষের প্রতি। আপনারা সব সংবাদপত্র ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাথে সংম্লিষ্ট মানুষেরা এই সংকট মুহুর্তে একবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেখান। রাজনৈতিক দলগুলোর নোংরা চেহারাটা জনগণের সামনে খুলে দিন। আজ এই মুহুর্ত থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে আলটিমেটাম দিয়ে দিন- যদি তারা জনগণের সেবক হয়ে কাজ না করে মিডিয়া তাদের বর্জন করবে এবং জনগণের মধ্যে থেকে খুঁজে নেবে আগামীর দেশ চালক। আমরা আর দ্বন্দ্ব চাই না। ‘জয়বাংলা, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ – এই শ্লোগানগুলি একসাথে সব দলের মধ্যে উচ্চারিত হতে দেখতে চাই।

আরিফ আহমেদ

Print Friendly

About the author

ডিসেম্বর ৭১! কৃত্তনখোলার জলে সাঁতার কেটে বেড়ে ওঠা জীবন। ইছামতির তীরঘেষা ভালবাসা ছুঁয়ে যায় গঙ্গার আহ্বানে। সেই টানে কলকাতার বিরাটিতে তিনটি বছর। এদিকে পিতা প্রয়াত আলাউদ্দিন আহমেদ-এর উৎকণ্ঠা আর মা জিন্নাত আরা বেগম-এর চোখের জল, গঙ্গার সম্মোহনী কাটিয়ে তাই ফিরে আসা ঘরে। কিন্তু কৈশরী প্রেম আবার তাড়া করে, তের বছর বয়সে তের বার হারিয়ে যাওয়ার রেকর্ডে যেন বিদ্রোহী কবি নজরুলের অনুসরণ। জীবনানন্দ আর সুকান্তে প্রভাবিত যৌবন আটকে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পদার্পন মাত্রই। এখানে আধুনিক হবার চেষ্টায় বড় তারাতারি বদলে যায় জীবন। প্রতিবাদে দেবী আর নিগার নামের দুটি কাব্য সংকলন প্রশ্ন তোলে বিবেকবানের মনে। তার কবিতায়, উচ্চারণ শুদ্ধতা আর কবিত্বের আধুনিকায়নের দাবী তুলে তুলে নেন দীক্ষার ভার প্রয়াত নরেণ বিশ্বাস স্যার। স্যারের পরামর্শে প্রথম আলাপ কবি আসাদ চৌধুরী, মুহাম্মদ নুরুল হুদা এবং তৎকালিন ভাষাতত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজীব হুমায়ুন ডেকে পাঠান তাকে। অভিনেতা রাজনীতিবিদ আসাদুজ্জামান নূর, সাংকৃতজন আলী যাকের আর সারা যাকের-এর উৎসাহ উদ্দিপনায় শুরু হয় নতুন পথ চলা। ঢাকা সুবচন, থিয়েটার ইউনিট হয়ে মাযহারুল হক পিন্টুর সাথে নাট্যাভিনয় ইউনিভার্সেল থিয়েটারে। শংকর শাওজাল হাত ধরে শিখান মঞ্চনাটবের রিপোটিংটা। তারই সূত্র ধরে তৈরি হয় দৈনিক ভোরের কাগজের প্রথম মঞ্চপাতা। একইসমেয় দর্শন চাষা সরদার ফজলুল করিম- হাত ধরে নিযে চলেন জীবনদত্তের পাঠশালায়। বলেন- মানুষ হও দাদু ভাই, প্রকৃত মানুষ। সরদার ফজলুল করিমের এ উক্তি ছুঁয়ে যায় হৃদয়। সত্যিকারের মানুষ হবার চেষ্টায় তাই জাতীয় দৈনিক রুপালী, বাংলার বাণী, জনকণ্ঠ, ইত্তেফাক, মুক্তকণ্ঠের প্রদায়ক হয়ে এবং অবশেষে ভোরেরকাগজের প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়ান ৬৫টি জেলায়। ছুটে বেড়ান গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। ২০০২ সালে প্রথম চ্যানেল আই-্র সংবাদ বিভাগে স্থির হন বটে, তবে অস্থির চিত্ত এরপর ঘনবদল বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, আমাদের সময়, মানবজমিন ও দৈনিক যায়যায়দিন হয়ে এখন আবার বেকার। প্রথম আলো ও চ্যানেল আই আর অভিনেত্রী, নির্দেশক সারা যাকের এর প্রশ্রয়ে ও স্নেহ ছায়ায় আজও বিচরণ তার। একইসাথে চলছে সাহিত্য বাজার নামের পত্রিকা সম্পাদনার কাজ।