<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>সাহিত্য বাজার</title>
	<atom:link href="https://shahittabazar.com/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://shahittabazar.com</link>
	<description>সাহিত্যের আয়নায় মানুষের মুখ</description>
	<lastBuildDate>Tue, 08 Sep 2026 11:24:40 +0000</lastBuildDate>
	<language>bn-BD</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.0.4</generator>
	<item>
		<title>ত্রিশ পারা ভালোবাসা</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b6-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b6-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[dipankar shuva]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 08 Sep 2026 11:24:40 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[বাংলার চিঠি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=6166</guid>

					<description><![CDATA[<p>&#160;</p> <p>অনন্ত অবহেলার পরে নিভৃতে, স্বেচ্ছায়-</p> <p>যে মানুষটি হলুদ রোদ খেয়ে মরে গেলো;</p> <p>তার জন্য আঠারো অধ্যায় শোক</p> <p>তার জন্য ত্রিশ পারা ভালোবাসা।</p> <p>অবশ্য মৃত্যু না এলে মানুষ বুঝতো কী</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b6-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>&nbsp;</p>
<p>অনন্ত অবহেলার পরে নিভৃতে, স্বেচ্ছায়-</p>
<p>যে মানুষটি হলুদ রোদ খেয়ে মরে গেলো;</p>
<p>তার জন্য আঠারো অধ্যায় শোক</p>
<p>তার জন্য ত্রিশ পারা ভালোবাসা।</p>
<p>অবশ্য মৃত্যু না এলে মানুষ বুঝতো কী শূন্যতার সংজ্ঞা?</p>
<p>কিংবা কোথায় দাড়ি দিতে হয়, থেমে যেতে হয় একাকী</p>
<p>চুপচাপ; ডুবে যেতে হয়-গলার তিলে, পুরনো ব্যাথায়?</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আত্মার অভয়ারণ্যে ঘুরে ফিরে যে মানুষটি মৃত্যু বলতে স্নিগ্ধ তুলির রং বুঝেছিল;</p>
<p>সেও কী কোনদিন কাউকে ভালোবাসে নি?</p>
<p>ডুকরে কেঁদে উঠেনি কারর আলিঙ্গন স্মৃতিতে?</p>
<p>কিংবা বউকথা কও পাখির ডাক</p>
<p>কিংবা স্নান শেষে উঠা শালিকের চোখ দেখে ব&#8217;লে ওঠেনি-নিজেরই কাছে; &#8220;আমি পৃথিবীর সমস্ত নির্জনতার ভেতর, আমারেই খুঁজেছি বহুদিন, সৈকতে লুকানো কাছিমের ডিমের মতো।&#8221;</p>
<p>দীপঙ্কর শুভ</p>
<p>&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b6-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কণ্ঠশীলনের সভাপতি সোহেল রানা, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান নান্নু</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%95%e0%a6%a3%e0%a7%8d%e0%a6%a0%e0%a6%b6%e0%a7%80%e0%a6%b2%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%b2/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%95%e0%a6%a3%e0%a7%8d%e0%a6%a0%e0%a6%b6%e0%a7%80%e0%a6%b2%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%b2/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[নিজস্ব প্রতিবেদক, সাহিত্য বাজার]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 01 Sep 2026 10:22:26 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[বিনোদন]]></category>
		<category><![CDATA[মঞ্চকথা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=6159</guid>

					<description><![CDATA[<p>২০২৬–২৮ মেয়াদে কণ্ঠশীলনের সভাপতি সোহেল রানা, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান নান্নু</p> <p>নিজস্ব প্রতিবেদক</p> <p>বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বাচিক চর্চা, প্রমিত উচ্চারণ ও আবৃত্তির প্রসারে চার দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করে</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%95%e0%a6%a3%e0%a7%8d%e0%a6%a0%e0%a6%b6%e0%a7%80%e0%a6%b2%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%b2/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>২০২৬–২৮ মেয়াদে কণ্ঠশীলনের সভাপতি সোহেল রানা, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান নান্নু</strong></p>
<p><strong>নিজস্ব প্রতিবেদক</strong></p>
<p><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/09/IMG-20260901-WA0137.jpg"><img decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-6161" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/09/IMG-20260901-WA0137-300x216.jpg" alt="" width="300" height="216" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/09/IMG-20260901-WA0137-300x216.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/09/IMG-20260901-WA0137-1024x737.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/09/IMG-20260901-WA0137-768x553.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/09/IMG-20260901-WA0137.jpg 1478w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বাচিক চর্চা, প্রমিত উচ্চারণ ও আবৃত্তির প্রসারে চার দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করে আসা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান কণ্ঠশীলনের ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের নতুন কার্যকরী পর্ষদ নির্বাচিত হয়েছে। নতুন পর্ষদের সভাপতি হয়েছেন সোহেল রানা এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আবৃত্তিশিল্পী নুরুজ্জামান নান্নু।<br />
গত ২৮ আগস্ট ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডে ওয়াহিদুল হক মিলনায়তনে কণ্ঠশীলনের সাধারণ সভায় এই নতুন পর্ষদ নির্বাচিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদায়ী সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আহমাদুল হাসান। এতে সংগঠনের প্রশিক্ষক, পর্ষদ সদস্য, সাধারণ সদস্য ও প্রাথমিক সদস্যরা অংশ নেন।<br />
সাধারণ সভায় গত দুই বছরের কার্যক্রমের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক লিটন বারুরী। আর্থিক প্রতিবেদন দেন কোষাধ্যক্ষ মো. আব্দুল কাইয়ুম। প্রতিবেদন দুটির ওপর সদস্যরা আলোচনা করেন। পরে সর্বসম্মতিক্রমে কার্যক্রম ও আর্থিক প্রতিবেদন গ্রহণ করা হয়।<br />
এরপর নির্বাচন আধিকারিক বিলকিস আহমদ কণ্ঠশীলনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা করেন। এতে উপদেষ্টা হিসেবে মীর বরকত, গোলাম সারোয়ার, আহমাদুল হাসান হাসনু, রইস উল ইসলাম ও মো. আব্দুর রাজ্জাক এবং ১৫ সদস্যের নতুন কার্যকরী পর্ষদ নির্বাচিত হয়।<br />
নতুন পর্ষদে সভাপতি সোহেল রানা, সহসভাপতি সালাম খোকন, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান নান্নু, সংগঠন সম্পাদক নিবিড় রহমান, সহসংগঠন সম্পাদক আফরিন খান, শিক্ষা ও অনুষ্ঠান সম্পাদক অনন্যা গোস্বামী, সহশিক্ষা ও অনুষ্ঠান সম্পাদক মিনহাজুল বশির শোভন, কোষাধ্যক্ষ মো. আব্দুল কাইয়ুম এবং দপ্তর সম্পাদক তানজিনা খান দায়িত্ব পেয়েছেন। সদস্য হিসেবে রয়েছেন লিটন বারুরী, ইলা রহমান, শফিক সিদ্দিকী, ড. জাহিদ হোসেন শোয়েব, পারভীন আফরোজা আইভি ও কাজী সিরাজুম মুনীরা যুঁথী।<br />
নতুন নেতৃত্বের যাত্রা শুরু হচ্ছে কণ্ঠশীলনের ৪২ বছরের ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে। ১৩৯১ বঙ্গাব্দের ২ বৈশাখ, ১৯৮৪ সালের ১৫ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ওয়াহিদুল হক, বাক্‌শিল্পাচার্য নরেন বিশ্বাসসহ আরও কয়েকজন সংস্কৃতিকর্মী। তাঁদের লক্ষ্য ছিল বাংলা ভাষার শুদ্ধ ও প্রমিত উচ্চারণের চর্চা ছড়িয়ে দেওয়া এবং সাহিত্যকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি শক্তিশালী বাচিক আন্দোলন গড়ে তোলা।<br />
কণ্ঠশীলনের কার্যক্রম তাই শুধু আবৃত্তি শেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রমিত উচ্চারণ, শুদ্ধ বানান, আবৃত্তি, শ্রুতিনাট্য, নাট্যচর্চা ও সাহিত্যপাঠের মধ্য দিয়ে ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চাকে মানুষের জীবন ও সমাজের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চার মধ্য দিয়ে মানুষের মানবিক গুণাবলির বিকাশ এবং অসাম্প্রদায়িক, মুক্ত ও সংস্কৃতিমনস্ক সমাজ গঠনের প্রত্যয়ও কণ্ঠশীলনের কার্যক্রমে গুরুত্ব পেয়েছে।<br />
দীর্ঘ এই পথচলায় নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে কণ্ঠশীলন। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় আট হাজার তরুণ-তরুণী বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাথমিক পাঠ নিয়েছেন। তাঁদের অনেকেই পরবর্তী সময়ে কণ্ঠশীলনের সঙ্গে যুক্ত থেকে আবৃত্তি, শ্রুতিনাট্য ও মঞ্চনাটকের চর্চা করছেন। দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তাঁদের অনেকে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।<br />
প্রশিক্ষণের সেই ধারাবাহিকতা এখনো চলছে। চলতি বছরের আগস্টে কণ্ঠশীলন বিদ্যায়তনে শুরু হয়েছে ১১৬তম আবর্তন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমই প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম বড় অর্জন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। প্রজন্মের পর প্রজন্মকে বাংলা ভাষার সৌন্দর্য, উচ্চারণের শুদ্ধতা ও সাহিত্য পাঠের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা রয়েছে।<br />
কণ্ঠশীলনের ইতিহাসে ওয়াহিদুল হক ও নরেন বিশ্বাসের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। ওয়াহিদুল হক ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও পথপ্রদর্শক। তাঁর চিন্তায় বাচিক চর্চা ছিল মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ এবং মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি মাধ্যম। তাঁর বহুল উচ্চারিত একটি বাক্য হচ্ছে &#8211; &#8220;কথা মানুষকে কাছে টানে, কথা মানুষকে দূরে ঠেলে দেয়। কথা মানুষকে বন্ধু করে, কথা মানুষকে শত্রু করে।’ এই দর্শন কণ্ঠশীলনের ভাষা ও বাচিক চর্চার সঙ্গে আজও গভীরভাবে যুক্ত।<br />
সময়ের সঙ্গে ভাষার ব্যবহারেও পরিবর্তন এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল কনটেন্ট ও দ্রুত বদলে যাওয়া যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে নতুন প্রজন্মের ভাষা ব্যবহারে নানা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় প্রমিত উচ্চারণ, শুদ্ধ বানান ও সাহিত্যভিত্তিক বাচিক চর্চাকে তরুণদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা কণ্ঠশীলনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ।<br />
একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক পরিসরকে রাজধানীর বাইরে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কণ্ঠশীলনের ভবিষ্যৎ ভাবনায় দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে কার্যক্রম বিস্তৃত করা, আবৃত্তিকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক পরিসর গড়ে তোলা, স্থায়ী বিদ্যায়তনের ব্যবস্থা, নিয়মিত মঞ্চনাটক এবং প্রশিক্ষণ- উত্তীর্ণদের নিয়ে সম্মেলনের মতো উদ্যোগের কথা রয়েছে।<br />
সোহেল রানা ও নুরুজ্জামান নান্নুর নেতৃত্বে নতুন পর্ষদের সামনে তাই একদিকে রয়েছে কণ্ঠশীলনের দীর্ঘ ঐতিহ্য ধরে রাখার দায়িত্ব, অন্যদিকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সংগঠনটির কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সঙ্গে যুক্ত করা, আবৃত্তির চর্চাকে আরও ছড়িয়ে দেওয়া এবং সাংস্কৃতিক সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করা হবে তাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ।<br />
চার দশকের বেশি সময়ের পথ পেরিয়ে কণ্ঠশীলন আজ শুধু একটি আবৃত্তি সংগঠনের নাম নয়; এটি বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও বাচিক সংস্কৃতির একটি দীর্ঘস্থায়ী চর্চাকেন্দ্র। নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে সেই পথচলা আরও বিস্তৃত ও সময়োপযোগী হবে- এমন প্রত্যাশা সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত সংস্কৃতিকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%95%e0%a6%a3%e0%a7%8d%e0%a6%a0%e0%a6%b6%e0%a7%80%e0%a6%b2%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%b2/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আমার সংস্কৃতি’ বনাম ‘তোমার সংস্কৃতি নয়: চাই দেশীয় সাংস্কৃতিক জাগরণ </title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%ae/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%ae/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 13 Aug 2026 18:13:22 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<category><![CDATA[দেশীয়]]></category>
		<category><![CDATA[শিল্প সাহিত্য]]></category>
		<category><![CDATA[সাংস্কৃতিক]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=6150</guid>

					<description><![CDATA[আমার সংস্কৃতি’ বনাম ‘তোমার সংস্কৃতির’ নয়: চাই দেশীয় সাংস্কৃতিক জাগরণ  (সাংস্কৃতিক মন্ত্রীর সাথে বিসিসি প্রশাসকের সাক্ষাৎএ বেড়েছে নতুন সম্ভাবনা )  , বিশেষ প্রতিবেদক <p></p> জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর বদলে গেছে বাংলাদেশের<span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%ae/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div id="m#msg-a:r6169648328697763076" class="mail-message expanded">
<div id="m#msg-a:r6169648328697763076-header" class="mail-message-header spacer"><strong>আমার সংস্কৃতি’ বনাম ‘তোমার সংস্কৃতির’ নয়: চাই দেশীয় সাংস্কৃতিক জাগরণ </strong></div>
<div id="m#msg-a:r6169648328697763076-content" class="mail-message-content collapsible zoom-normal mail-show-images ">
<div class="clear">
<div dir="auto">
<div dir="auto"><strong>(সাংস্কৃতিক মন্ত্রীর সাথে বিসিসি প্রশাসকের সাক্ষাৎএ বেড়েছে নতুন সম্ভাবনা ) </strong></div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"><strong>, বিশেষ প্রতিবেদক</strong></div>
<p><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/FB_IMG_1786596427461.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-6151" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/FB_IMG_1786596427461-300x137.jpg" alt="" width="300" height="137" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/FB_IMG_1786596427461-300x137.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/FB_IMG_1786596427461-1024x468.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/FB_IMG_1786596427461-768x351.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/FB_IMG_1786596427461-1536x703.jpg 1536w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/FB_IMG_1786596427461.jpg 1600w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a></p>
<div dir="auto">জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর বদলে গেছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা। সেই পরিবর্তনের ঢেউ লেগেছে সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও। কোথাও দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চর্চার দাবি জোরালো হয়েছে, কোথাও ধর্মীয় মূল্যবোধনির্ভর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটছে। আবার দীর্ঘদিনের প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ধারার সংগঠনগুলোও নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। বিভাগীয় শহর বরিশালও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের নতুন তৎপরতার পাশাপাশি ভিন্ন মত ও আদর্শকে ঘিরে পৃথক সাংস্কৃতিক বলয়ও তৈরি হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে- জুলাই-পরবর্তী বরিশালে কি সত্যিই নতুন বাংলাদেশীয় সাংস্কৃতিক জাগরণ শুরু হয়েছে, নাকি সংস্কৃতির অঙ্গনেও পুরনো বন্দোবস্তের নতুন মেরুকরণ ঘটছে?</div>
<div dir="auto">ইতিপূর্বে বরিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে জাতীয় কবিতা পরিষদ, প্রগতি লেখক সংঘ ও বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের একচেটিয়া প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ছড়াকার তপংকর চক্রবর্তী, প্রয়াত নাজমুল হোসেন আকাশ, কাজল ঘোষ, শুভঙ্কর চক্রবর্তী, স্নেহাসু বিশ্বাস, অপূর্ব গৌতম, পার্থ সারথীসহ আরো অনেকে। তাদের নেতৃত্বে বরিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বাম ঘরানার চিন্তা-চেতনার প্রভাব ছিল বলে বিভিন্ন মহলের অভিযোগ। ভিন্ন মতের কাউকে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে দেখা গেলেই তাকে ‘মৌলবাদী’ ট্যাগ দিয়ে আটকে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।</div>
<div dir="auto">এর উদাহরণ হিসেবে ২০১১ সালে দক্ষিণ বাংলা সাহিত্য সম্মেলন এবং কবি শফিক আমিন ও দখিনের কবিয়াল জাহাঙ্গীর হোসাইন মানিকের আয়োজন পণ্ড করে দেওয়ার ঘটনা উল্লেখ করা হয়। পরে ‘সাহিত্য বাজার’-এর এক প্রতিবেদনে লেখকদের মধ্যে গ্রুপিংয়ের বিষয়টি উঠে আসে। সেখানে কবি শফিক আমিন মফস্বল সাহিত্য অঙ্গনে গ্রুপিং ও সিন্ডিকেটের কারণে সৃজনশীলতা নষ্ট হওয়ার কথা বলেন। অন্যদিকে অধ্যাপক তপংকর চক্রবর্তীও সাহিত্যচর্চায় গ্রুপিং ও সহনশীলতার অভাবের সমালোচনা করে সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান। এই বৈষম্যের কারণেই ২০২২  সালের জুন মাসে বরিশাল সাহিত্য সংসদ এবং ২০২৩ সালের মাঝামাঝি দক্ষিণ বঙ্গ সাহিত্য পরিষদ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।</div>
<div dir="auto">২৪ এর জুলাই বিপ্লবের পর বরিশালে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতৃত্ব ও তৎপরতায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। নতুন করে জাসাস, বরিশাল সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও দেশীয় সাংস্কৃতিক জোটকে ঘিরে একটি ঐক্যবদ্ধ সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম কিছুদিন সক্রিয় ছিল। বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের অবস্থান জানান দেয়। পরে রাজনৈতিক বাস্তবতার পরিবর্তনের সঙ্গে সেই ঐক্যেও বিভাজন দেখা দেয়। বিএনপি নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর জাসাস ও দেশীয় সাংস্কৃতিক জোট নিজেদের মতো করে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালাতে থাকে। জেলা শিল্পকলাকে কেন্দ্র করে তাদের তৎপরতা থাকলেও প্রত্যাশিত মাত্রায় প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি বলে সংশ্লিষ্টদের অনেকে মনে করেন।</div>
<div dir="auto">অন্যদিকে বরিশাল সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নিজেদের পৃথক সাংস্কৃতিক বলয় গড়ে তুলেছে। সীমিত পরিসরে হলেও নিয়মিত আয়োজন করছে তারা। হেরারশ্মিসহ কয়েকটি সংগঠনও বিভিন্নভাবে এ ধারার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। ফলে বরিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এখন রাজনৈতিক পরিচয়ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও দেশীয় সংস্কৃতিনির্ভর আয়োজনের প্রবণতাও দৃশ্যমান।</div>
<div dir="auto">বরিশাল সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক সাংবাদিক ও লেখক আজাদ আলাউদ্দিনের অভিযোগ, পতিত ফ্যাসিবাদের সহযোগীরা বিভিন্ন কৌশলে নিজস্ব সাংস্কৃতিক বলয় তৈরি করে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর আশঙ্কা, অতীতের মতো তারাই একদিন বর্তমান সরকারের গলা চেপে ধরবে।</div>
<div dir="auto">বরিশাল সাহিত্য সংসদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন মানিক বীরপ্রতীক মনে করেন, সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা সমাজের সুন্দর মনের মানুষদের কাজ হওয়া উচিত এবং সেখানে দল-মত নির্বিশেষে দৃষ্টিভঙ্গির জায়গা থাকা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, বিগত সময়ে সবকিছু দলীয়করণ করা হয়েছে। ভিন্নধারা বা ভিন্ন মতের মানুষকে কখনো জঙ্গি, কখনো রাজাকার ট্যাগ দিয়ে দমিয়ে রাখা হয়েছে। জুলাইয়ের পর তিনি পরিবর্তন আশা করলেও তা হয়নি বলে তাঁর দাবি। তাঁর মতে, ৮৫ ভাগ মুসলমানের দেশে সাংস্কৃতিক চর্চায় ধর্মীয় ভাবধারার প্রভাব থাকা স্বাভাবিক এবং ইসলামি সংস্কৃতির জাগরণ সমাজে নৈতিকতা বাড়িয়ে অশ্লীলতামুক্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে।</div>
<div dir="auto">জাসাস বরিশাল জেলা দক্ষিণ শাখার আহ্বায়ক এস এম সাব্বির নেওয়াজ সাগরের কাছে সাংস্কৃতিক জাগরণের প্রধান বিষয় বাংলাদেশের নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতিকে তুলে ধরা। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে নিজস্বতা রয়েছে, তাই লোক ঐতিহ্যকে সামনে আনা জরুরি। তিনি দাবি করেন, তারা কখনো বিভাজন চাননি। তবে গত ১৭ বছর উদীচী, ছায়ানট, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, জাতীয় সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সংগঠনের নামে বিভাজনের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ভারতের হিন্দি সাংস্কৃতিক বলয়ের উপকরণ বাংলাদেশের ঐতিহ্য হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে।</div>
<div dir="auto">এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কও সামনে এসেছে- কোনটি নিজস্ব সংস্কৃতি, কোনটি বহিরাগত প্রভাব এবং উপমহাদেশীয় সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানকে কীভাবে দেখা হবে? এর মধ্যেই বরিশালে নতুন করে সংগঠিত হয়েছে ‘গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য’। ফকিরবাড়ি রোডে অনুষ্ঠিত এক সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে নয় সদস্যের বরিশাল আঞ্চলিক কমিটি গঠন করা হয়। শাহ আজিজ খোকনকে আহ্বায়ক এবং অপূর্ব গৌতমকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য কামাল হোসেন বাদল, অধ্যাপক বীরেন রায়, অধ্যাপক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজিব রায়, লামিয়া সাইমুন, শামীম মাতুব্বর, ডা. মনীষা চক্রবর্তীসহ অনেকে বক্তব্য দেন। সভায় জোটের ঘোষণা, লক্ষ্য ও কর্মসূচির খসড়াও পাঠ করা হয়।</div>
<div dir="auto">জাতীয় পর্যায়ে ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকায় বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ৩১টি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন মিলে ‘গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য’ গঠন করে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা এ জোটের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সংগ্রামী ধারা অব্যাহত রাখা, অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, গ্রামীণ ও লোকসংস্কৃতির চর্চায় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মুক্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরি করা। তবে এই জোটও বিতর্কের বাইরে নয়। এখানের ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্মে পুরাতন বন্দোবস্তের নতুন যাত্রা স্পষ্ট।</div>
<div dir="auto">বরিশালের এই নতুন সাংস্কৃতিক তৎপরতার মধ্যেই অতীতের সাংস্কৃতিক চর্চা নিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার অভিযোগ তুলেছেন দক্ষিণবঙ্গ সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি শাহিন ভূইয়া। তাঁর অভিযোগ, প্রগতি লেখক সংঘ ও জাতীয় কবিতা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত থাকার সময় আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুর পর তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার কারণে কোনো নোটিশ বা আলোচনা ছাড়াই তাঁকে সংগঠনের কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি নিজেই দক্ষিণবঙ্গ সাহিত্য পরিষদ গড়ে তোলেন বলে জানান।</div>
<div dir="auto">তবে এ অভিযোগ নাকচ করেছেন সাবেক সভাপতি কবি গৌতম দাস। বর্তমান গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের বরিশালের সদস্যসচিব অপূর্ব গৌতম বলেন, তৎকালীন প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংগঠনের নীতিমালা অনুসরণ করেই সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে; কোনো ব্যক্তির একক মতামত এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাঁর দাবি, গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ে তোলার অন্যতম উদ্দেশ্য সাংস্কৃতিক চর্চার বৈষম্য দূর করা। সরকারের সাংস্কৃতিক খাতে বাজেট নেই বললেই চলে, এর বিরুদ্ধেও তাদের অবস্থান রয়েছে।</div>
<div dir="auto">অর্থাৎ একই ঘটনার দুটি ভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। শাহিন ভূইয়ার ভাষ্যে বিষয়টি ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক বঞ্চনার; অপূর্ব গৌতমের ব্যাখ্যায় সেটি ছিল সাংগঠনিক নীতিমালা অনুসরণের বিষয়। এখানেই বড় প্রশ্ন- একজন শিল্পীর ধর্মীয় বিশ্বাস বা রাজনৈতিক পরিচয় কি তাঁর শিল্পচর্চার সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচ্য হবে? একই সঙ্গে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের নিজস্ব ধারা, মানদণ্ড ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত  কি রাষ্ট্রীয় চেতনার  বাইরে হওয়া উচিত?</div>
<div dir="auto">জুলাই-পরবর্তী বাস্তবতায় প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে মুক্ত ও গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক পরিবেশের দাবি, অন্যদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধকে সাংস্কৃতিক চর্চায় প্রতিফলিত করার আকাঙ্ক্ষা, দুটি প্রবণতাই এখন শক্তিশালী।</div>
<div dir="auto">তবে এর মধ্যেই বরিশালের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির জন্য নতুন একটি প্রাতিষ্ঠানিক সম্ভাবনার কথাও সামনে এসেছে। ১২ আগস্ট বুধবার বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।বরিশাল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যেই তাঁর এ সাক্ষাৎ। ফলে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের দীর্ঘদিনের বিতর্কের পাশাপাশি নগরীর শিল্প-সাহিত্য- সংস্কৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষণ ও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।</div>
<div dir="auto">বরিশালে অন্তত তিন ধরনের সাংস্কৃতিক প্রবণতা এখন স্পষ্ট, ইসলামি মূল্যবোধকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক চর্চার বিস্তার, দেশীয় ইতিহাস ও লোকঐতিহ্যকে সামনে আনার উদ্যোগ এবং গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নামে নতুন সাংগঠনিক ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা। এর সঙ্গে যদি নগর প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও গবেষণার প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ যুক্ত হয়, তাহলে এই বহুমাত্রিকতাই বরিশালের বড় শক্তিতে পরিণত হতে পারে।</div>
<div dir="auto">কারণ সংস্কৃতি কোনো একক রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের সম্পত্তি নয়। বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে যেমন ইসলামি ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ রয়েছে, তেমনি রয়েছে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, লোকসংগীত, জারি-সারি, পালাগান, কবিতা, নাটক, আধুনিক সংগীত, আঞ্চলিক ঐতিহ্য এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নিজস্ব সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার। এগুলো পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে বৃহত্তর বাংলাদেশীয় সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বিভিন্ন স্তর হতে পারে।</div>
<div dir="auto"><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/FB_IMG_1786533848691.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignright wp-image-6153 size-medium" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/FB_IMG_1786533848691-300x155.jpg" alt="" width="300" height="155" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/FB_IMG_1786533848691-300x155.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/FB_IMG_1786533848691.jpg 720w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>এই জায়গাটিই জুলাই-পরবর্তী বরিশালের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জেলা শিল্পকলা একাডেমির মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা মতাদর্শিক বলয়ের নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ধারার সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। কে কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থক কিংবা কোন ধর্মীয় বিশ্বাসে বিশ্বাসী, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত শিল্পের মান, সৃজনশীলতা, আইন মেনে চলা এবং অন্যের সাংস্কৃতিক অধিকারকে সম্মান করা।</div>
<div dir="auto">জুলাইয়ের পর বরিশালে সাংস্কৃতিক তৎপরতা বাড়ছে, এতে নতুন সম্ভাবনাও রয়েছে। স্থানীয় ইতিহাস, লোকঐতিহ্য, তরুণদের সৃজনশীলতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং আধুনিক সাংস্কৃতিক চর্চাকে পাশাপাশি জায়গা দেওয়া গেলে বরিশাল হয়ে উঠতে পারে বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের উদাহরণ। কিন্তু সেই সম্ভাবনা নষ্ট হবে যদি ‘আমার সংস্কৃতি’ বনাম ‘তোমার সংস্কৃতি’ দ্বন্দ্বই প্রধান হয়ে ওঠে। তাই প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত কে বেশি প্রভাব বিস্তার করল- তা নয়; বরং কে বেশি নতুন শিল্পী তৈরি করতে পারল, কে হারিয়ে যাওয়া লোকঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পারল, কে তরুণদের সাংস্কৃতিক চর্চায় যুক্ত করতে পারল এবং কে ভিন্নমতের শিল্পীকেও নিজের পাশে দাঁড়ানোর জায়গা দিতে পারল।</div>
<div dir="auto">জুলাই-পরবর্তী বরিশালের সামনে এখন তাই দ্বিমুখী সম্ভাবনা, সাংস্কৃতিক মেরুকরণ, অথবা সাংস্কৃতিক সহাবস্থান ও পুনর্জাগরণ। আর বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে সাম্প্রতিক সাক্ষাৎ যদি নগরীর শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির সংরক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়নে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে রূপ নেয়, তবে সেটিই হয়তো পুরনো বিভাজন পেরিয়ে বরিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।</div>
<div dir="auto">
<img decoding="async" src="https://mail.google.com/mail/?ui=2&amp;ik=eac39f262f&amp;attid=0.0.1&amp;th=19ffa6af5aba7d4d&amp;view=fimg&amp;fur=ip&amp;rm=19ffa6af5aba7d4d&amp;sz=w1600-h1000&amp;attbid=ANGjdJ8G1lTfrKvfEuoDSF2TOuvEpv4K_J3BnLSMh1PH3RZm1vuf-rNbVMnRnfVNN_wdeYq24OKSDusAAAnM6fMPxxmFvq-aREDaZPl7JmQMPEqvymc8LUFCye5nkQU&amp;disp=emb&amp;realattid=ii_19ffa69de1df137a9f85&amp;zw/downloaded" data-image-whitelisted="" /></p>
</div>
</div>
</div>
</div>
<div id="m#msg-a:r6169648328697763076-footer" class="mail-message-footer spacer collapsible"></div>
</div>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%ae/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কোমরে আজও ব্যথা, তবু স্বপ্নে বাংলাদেশ: কুরপাড়ের ‘জুলাই কন্যা’ মিতু</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%9c%e0%a6%93-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a6%ac%e0%a7%81-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%aa%e0%a7%8d/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%9c%e0%a6%93-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a6%ac%e0%a7%81-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%aa%e0%a7%8d/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 12 Aug 2026 09:42:47 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কথামালা]]></category>
		<category><![CDATA[জীবন কথা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=6139</guid>

					<description><![CDATA[<p>কোমরে আজও ব্যথা, তবু স্বপ্নে বাংলাদেশ: কুরপাড়ের ‘জুলাই কন্যা’ মিতু</p> <p>বিশেষ প্রতিবেদক</p> <p>কোমরের ব্যথাটা এখন আর শুধু ব্যথা নয়। সেটি যেন সোমাইয়া আক্তার মিতুর জীবনের সঙ্গে মিশে যাওয়া এক দীর্ঘ</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%9c%e0%a6%93-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a6%ac%e0%a7%81-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%aa%e0%a7%8d/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>কোমরে আজও ব্যথা, তবু স্বপ্নে বাংলাদেশ: কুরপাড়ের ‘জুলাই কন্যা’ মিতু</strong></p>
<p><strong>বিশেষ প্রতিবেদক</strong></p>
<p><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG-20260812-WA0011.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-6140" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG-20260812-WA0011-265x300.jpg" alt="" width="265" height="300" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG-20260812-WA0011-265x300.jpg 265w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG-20260812-WA0011.jpg 720w" sizes="auto, (max-width: 265px) 100vw, 265px" /></a>কোমরের ব্যথাটা এখন আর শুধু ব্যথা নয়। সেটি যেন সোমাইয়া আক্তার মিতুর জীবনের সঙ্গে মিশে যাওয়া এক দীর্ঘ স্মৃতি। যে তরুণী একদিন নিজের পায়ে হেঁটে রাজপথে দাঁড়িয়েছিলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন, মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্ন দেখেছিলেন- আজ তাঁকে হাঁটতে হয় কখনো হুইলচেয়ারে, কখনো পরিবারের কারও হাত ধরে। অথচ তাঁর চোখে এখনো স্বপ্ন আছে। কণ্ঠে এখনো প্রশ্ন আছে। আর আছে সেই অসমাপ্ত আকাঙ্ক্ষা- একটি বৈষম্যহীন, মানবিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন।<br />
নেত্রকোনার কুরপাড়ের এই তরুণীর গল্প তাই শুধু আহত এক জুলাই জুলাই যোদ্ধার গল্প নয়। এটি এমন এক প্রজন্মের গল্প, যারা মনে করেছিল দেশ মানে কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়; মানুষের জীবনেও পরিবর্তন আসতে হবে।<br />
মিতুর স্বাভাবিক জীবনটা বদলে যায় ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট। কুরপাড় এলাকায় আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে আহত হন তিনি। আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য একটি দোকানে ছুটে যাওয়ার সময় শাটারের লোহার আঘাত লাগে তাঁর কোমর ও মুখের চোয়ালে- মিতুর ভাষ্য এমনই। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর অপেক্ষার জীবন।<br />
একসময় যে তরুণী মানুষের সেবার স্বপ্নে নার্সিং পেশায় প্রবেশ করেছিলেন, তাঁর চলার পথই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষার জায়গা। শৈশবে মিতুর স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়ার। কিন্তু পিতৃহীন বড় পরিবারের বাস্তবতায় সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ হয়নি। পরে ২০২১ সালে সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটে সুযোগ পেয়ে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি সম্পন্ন করেন। চিকিৎসক হতে না পারলেও মানুষের সেবা করার স্বপ্নটি তখনও অটুট ছিল। নার্সিং পেশায় যুক্ত হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু জুলাই তাঁর জীবনের গল্পে অন্য এক অধ্যায় লিখে দেয়।<br />
আন্দোলনের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদী লেখালেখি করতেন মিতু। আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, নিহত ও আহত তরুণদের খবর এবং রক্তাক্ত ছবিগুলো তাঁকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে আবু সাঈদ ও ওয়াসিম আকরামের মৃত্যুর পর নিজেকে আর ঘরে আটকে রাখতে পারেননি। তাঁর ভাষায়, ‘রক্তাক্ত শহীদ ও আহত ভাইবোনদের চেহারা দেখে নিজেকে সামলাতে পারিনি।’<br />
তারপর ফেসবুকের প্রতিবাদী লেখা থেকে রাজপথে। একজন নার্সিং শিক্ষার্থী ধীরে ধীরে হয়ে উঠলেন একজন প্রতিবাদী তরুণী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তাঁর কাছে হয়ে উঠল আরেকটি রাজপথ। রাজপথে যেমন বাধা এসেছে, তেমনি এসেছে হুমকিও।<br />
<a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG-20260812-WA00142.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignright size-medium wp-image-6141" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG-20260812-WA00142-197x300.jpg" alt="" width="197" height="300" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG-20260812-WA00142-197x300.jpg 197w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG-20260812-WA00142-671x1024.jpg 671w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG-20260812-WA00142-768x1172.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG-20260812-WA00142.jpg 797w" sizes="auto, (max-width: 197px) 100vw, 197px" /></a>মিতুর ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলনের সময় তাঁকে হেনস্তার মুখে পড়তে হয়েছিল। পরিবারের পক্ষ থেকেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তাঁকে ও তাঁর বড় বোনকে বিভিন্ন জায়গা থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং আন্দোলন সংক্রান্ত পোস্ট না দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ‘তুমি সবার মতো ন্যায্য প্রতিবাদ চালিয়ে যাও।’ সেই কথাই হয়ে উঠেছিল তাঁর সাহসের বড় উৎস।<br />
মিতুর পাশে সবচেয়ে শক্তভাবে ছিলেন তাঁর বড় বোন কবি, লেখক ও উন্নয়নকর্মী তহুরা আক্তার। মিতুর ভাষায়, আপু শুধু বড় বোন নন, তাঁর সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। সিদ্ধান্তের দ্বিধায় সাহস দেওয়া থেকে শুরু করে বিপদের সময়ে পাশে থাকা- জুলাইয়ের কঠিন দিনগুলোতে তহুরা তাঁকে একা হতে দেননি।<br />
তহুরার স্বামী কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক স্বাধীন চৌধুরীর কাছ থেকেও মুক্তচিন্তা, বিবেক, নৈতিকতা ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা পেয়েছেন বলে জানান মিতু। তাঁর নিজের ভাষায়, কোনো বিষয়ে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে প্রশ্ন করতে এবং নিজের বিবেক দিয়ে ভাবতে তিনি উৎসাহ পেয়েছেন।<br />
৪ আগস্টের আঘাতের পর শরীর যেন ধীরে ধীরে তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। প্রথমে ব্যথা, তারপর হাঁটতে সমস্যা। একসময় স্বাভাবিক চলাফেরার সক্ষমতা কমে আসে। যে তরুণী রাজপথে হেঁটেছেন, মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন, আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন- তাঁর চলার গতি আটকে যায় হুইলচেয়ারে।<br />
পরিবারের হিসাবে, এ পর্যন্ত চিকিৎসায় প্রায় ছয় লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। চিকিৎসা এখনো চলছে। মিতুর থ্যালাসেমিয়া মাইনর রয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে। পাশাপাশি কোমরের পিএলআইডি এবং মুখের চোয়ালের জয়েন্টের সমস্যার কারণেও দীর্ঘ চিকিৎসার প্রয়োজন হচ্ছে।<br />
তবু আশ্চর্য, মিতুর সবচেয়ে বড় অভিযোগ নিজের শরীর নিয়ে নয়।<br />
তাঁর প্রশ্ন- ৫ আগস্টের পর যে বাংলাদেশ তৈরি হওয়ার কথা ছিল, এটি কি সত্যিই সেই বাংলাদেশ? এই বাংলাদেশের জন্য কি তারা রাজপথে নেমেছিলেন?<br />
মিতুর অভিযোগ, আন্দোলনের পর ভুয়া পরিচয়ে নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, কৃতিত্ব নেওয়ার প্রবণতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন ধরনের হেনস্তা শুরু হয়েছে। ভুয়া আইডি থেকে গালিগালাজ, অপমানজনক মন্তব্য ও হুমকির কথাও বলেছেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, ‘৫ আগস্টের পরের বাংলাদেশ তো আমরা এমন চাইনি, যেখানে নারীদের নিরাপত্তা কমতে শুরু করবে?’<br />
এই প্রশ্নে মিতুর ব্যক্তিগত কষ্টের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে একটি দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ।<br />
তিনি নিজের জুলাইয়ের পরিচয়কে কখনো ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার পুঁজি করতে চাননি বলেও জানিয়েছেন। আহত হওয়ার পরও সামাজিক কাজে যুক্ত ছিলেন, কিন্তু নিজের আঘাতের কথা প্রচার করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেননি। দীর্ঘদিন চিকিৎসা চললেও অনেকটা নীরবই ছিলেন।<br />
সম্প্রতি চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর জীবনে নতুন আশার একটি দরজা খুলেছে বলে জানান মিতু। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে দেশের বাইরে পাঠানোর কথাও বলা হয় বলে জানান তিনি।<br />
কিন্তু সেখানে মিতু শুধু নিজের চিকিৎসার কথা বলেননি। বলেছেন নারী নিরাপত্তার কথা। বলেছেন খেটে খাওয়া মানুষের খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের নিশ্চয়তার কথা।<br />
তাঁর ভাষায়, ‘আমি একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে, একজন নারী হিসেবে আমাদের নিরাপত্তা আগে চাই। আর চাই একজন খেটে খাওয়া দিনমজুরের খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের নিশ্চয়তাটুকু।’<br />
এই জায়গাটিই হয়তো মিতুকে আলাদা করে।<br />
তিনি কোনো দলের জন্য বাংলাদেশ চান না। কোনো ব্যক্তির জন্যও নয়। তাঁর কাছে জুলাইয়ের অর্থ- মানুষের পক্ষে দাঁড়ানো। তাঁর ভাষ্য স্পষ্ট- ক্ষমতার কাছে নয়, নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকাটাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।<br />
তাই শরীরের ভেতর যুদ্ধ চললেও তাঁর স্বপ্নের ভেতর কোনো পরাজয় নেই।<br />
তিনি আবার হাঁটতে চান। নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান। চাকরি করতে চান। উচ্চশিক্ষা নিতে চান। মানুষের জন্য কাজ করতে চান। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য কিছু করার ইচ্ছা তার প্রবল।<br />
মিতুর কাছে উন্নয়ন মানে শুধু বড় সেতু, প্রশস্ত সড়ক কিংবা উঁচু ভবন নয়। একজন শ্রমিক নিরাপদে কাজে ফিরতে পারছেন কি না, একজন নারী রাতে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারছেন কি না, একজন দরিদ্র মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছেন কি না—এসবও তাঁর কাছে উন্নয়নের মাপকাঠি।<br />
তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশে মানুষ হবে আগে, ক্ষমতা পরে।<br />
হয়তো এ কারণেই তাকে শুধু ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে বোঝা যায় না। তিনি একজন তরুণী, একজন নার্সিং পেশায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখা মানুষ, একজন প্রতিবাদী নাগরিক, একজন আহত আন্দোলন- অংশগ্রহণকারী এবং একজন স্বপ্নবান বাংলাদেশি।<br />
তাঁকে নতুন প্রজন্মের ‘প্রীতিলতা-কন্যা’ বলা যায় কি না- সে তুলনা নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। প্রীতিলতার সময়, সংগ্রাম ও বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। মিতুর হাতে অস্ত্র নয়, ছিল স্মার্টফোন; তাঁর প্রতিবাদের ভাষা ছিল লেখা, প্রশ্ন ও রাজপথে দাঁড়ানো। কিন্তু অন্যায়ের সামনে নীরব না থাকার জায়গায় একটি প্রতীকী মিল খুঁজে পাওয়া যায়।<br />
আজ কুরপাড়ের সেই তরুণীর কোমরে ব্যথা। হাঁটতে গেলে হুইলচেয়ার লাগে। চিকিৎসার খরচ পরিবারকে চাপে ফেলছে। সামনে অনিশ্চয়তা আছে।<br />
তবু তাঁর স্বপ্ন থেমে নেই। তিনি অপেক্ষা করছেন- আবার হাঁটার জন্য, স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য, চাকরি ও উচ্চশিক্ষার জন্য। কিন্তু সবচেয়ে বেশি অপেক্ষা করছেন সেই বাংলাদেশের জন্য, যে বাংলাদেশের স্বপ্নে তিনি একদিন রাজপথে নেমেছিলেন।<br />
যে বাংলাদেশে একজন নারী ভয় ছাড়াই কথা বলতে পারবেন।<br />
যে বাংলাদেশে প্রতিবাদ মানেই হুমকি নয়।<br />
যে বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের অধিকার কোনো অনুগ্রহ নয়, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে।<br />
যে বাংলাদেশে বৈষম্যের বদলে থাকবে ন্যায়, ক্ষমতার বদলে থাকবে মানুষের মর্যাদা।<br />
মিতু বলেছেন, ‘যে বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম, তা হয়ে ওঠেনি। অপেক্ষায় আছি সেই বাংলাদেশের।’ এই অপেক্ষাই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়।<br />
কুরপাড়ের সেই তরুণী জানেন, শরীর মানুষকে থামিয়ে দিতে পারে। একটি আঘাত কেড়ে নিতে পারে স্বাভাবিক হাঁটার ক্ষমতা। দীর্ঘ চিকিৎসা কেড়ে নিতে পারে জীবনের অনেকটা সময়।<br />
কিন্তু একটি স্বপ্নকে থামিয়ে দেওয়া এত সহজ নয়।<br />
তাই আগুনের সেই দিন পেরিয়ে গেলেও মিতুর চোখে আগুন এখনো জ্বলছে- কোনো প্রতিশোধের আগুন নয়, একটি বৈষম্যহীন, মানবিক বাংলাদেশ গড়া স্বপ্নের আগুন।<br />
আর সেই কারণেই তাঁর গল্পের শেষ এখনো লেখা হয়নি।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%9c%e0%a6%93-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a6%ac%e0%a7%81-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%aa%e0%a7%8d/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বিকল্প চিকিৎসায় বাড়ছে আস্থা: বিভাগীয় শহরে ১০০ শয্যার হাসপাতালের দাবি</title>
		<link>https://shahittabazar.com/6129-2/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/6129-2/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 07 Aug 2026 05:05:23 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জাতীয়]]></category>
		<category><![CDATA[ঢাকা বিভাগ]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলার চিঠি]]></category>
		<category><![CDATA[চিকিৎসা]]></category>
		<category><![CDATA[ডাক্তার]]></category>
		<category><![CDATA[স্বাস্থ্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=6129</guid>

					<description><![CDATA[<p>আয়ুর্বেদিক হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড়: বিকল্প চিকিৎসায় বাড়ছে আস্থা, বিভাগীয় শহরে ১০০ শয্যার হাসপাতালের দাবি</p> <p> বিশেষ প্রতিবেদক</p> <p>রাজধানীর মিরপুরের সরকারি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঢুকতেই মনে হয়, যেন</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/6129-2/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>আয়ুর্বেদিক হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড়: বিকল্প চিকিৎসায় বাড়ছে আস্থা, বিভাগীয় শহরে ১০০ শয্যার হাসপাতালের দাবি</strong></p>
<p><strong> বিশেষ প্রতিবেদক</strong></p>
<div id="attachment_6130" style="width: 310px" class="wp-caption alignleft"><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG20260806110024-scaled.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-6130" class="size-medium wp-image-6130" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG20260806110024-300x225.jpg" alt="" width="300" height="225" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG20260806110024-300x225.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG20260806110024-1024x768.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG20260806110024-768x576.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG20260806110024-1536x1152.jpg 1536w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG20260806110024-2048x1536.jpg 2048w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-6130" class="wp-caption-text">oplus_2</p></div>
<p>রাজধানীর মিরপুরের সরকারি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঢুকতেই মনে হয়, যেন কোনো বিশেষ চিকিৎসা ক্যাম্প চলছে। হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের লাইন ভবনের সীমানা পেরিয়ে মূল সড়ক পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে। ভিড়ে হাঁটার জায়গা নেই। দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন মাত্র ১০ টাকার একটি টিকিটের জন্য। কিন্তু রোগীর এই উপচে পড়া ভিড়ের বিপরীতে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় দেখা যায় স্পষ্ট অপ্রস্তুতি। টিকিট কাউন্টারে দীর্ঘ সারি নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেকে টয়লেটের অবস্থানই খুঁজে পাচ্ছেন না। ব্যবহার অনুপযোগী টয়লেট নিয়েও অভিযোগ করেন রোগী ও স্বজনরা। হাসপাতালের প্রতিটি শয্যা রোগীতে পূর্ণ। ভর্তি হতে না পেরে অনেককেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে।<br />
হাসপাতালটিতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আরেকটি বিষয়ও চোখে পড়ে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা ছবি তুলতে বাধা দেন। তাঁরা জানান, কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া ছবি তোলা বা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা যাবে না। কয়েকজন কর্মীও একই ধরনের নির্দেশনার কথা বলেন। ফলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এদিকে হাসপাতালের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র রোগীর চাপ, জনবল সংকট ও ওষুধের ঘাটতির তথ্য নিশ্চিত করেছে।<br />
তাদের ভাষ্য, মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও যেখানে প্রতিদিন এক থেকে দেড়শ রোগী চিকিৎসা নিতে আসতেন, এখন সেই সংখ্যা প্রায় দেড় হাজারে পৌঁছেছে। ১০০ শয্যার প্রতিটিই এখন রোগীতে পূর্ণ। আগে একজন চিকিৎসক দিনে ১০ থেকে ২০ জন রোগী দেখলেও এখন ১২০ জনেরও বেশি রোগী দেখতে হচ্ছে। অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে টিকিট কাউন্টারে কলেজের শিক্ষার্থীরা বাড়তি জনবল হিসেবে কাজ করছেন বলে জানা গেল। আগে তিন মাসে যে পরিমাণ বিনামূল্যের ওষুধ বিতরণ হতো, এখন তা একদিনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।<br />
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভোলার বিল্লাল হোসেন , গাজীপুরের মাহবুর রহমান, পল্লবীর আনিসুর রহমান ও মীরপুরের আলমগীর হোসেনের মতো অনেক রোগী জানান, দীর্ঘদিন বিভিন্ন চিকিৎসা নিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় তাঁরা এখানে এসেছেন। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসপাতালের কথা জেনে এসেছেন, কেউ আত্মীয়ের পরামর্শে এসেছেন। তাঁদের অনেকেরই অভিযোগ, দীর্ঘ অপেক্ষার পর চিকিৎসক দেখাতে পারলেও শয্যা না থাকায় ভর্তি হতে পারেননি।<br />
বর্তমানে হাসপাতালটিতে আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি চিকিৎসার পাশাপাশি আকুপাংচার, পঞ্চকর্ম, যোগব্যায়াম ও হিজামা থেরাপি দেওয়া হচ্ছে। এসব সেবার চাহিদাও কয়েক গুণ বেড়েছে। কিন্তু প্রশিক্ষিত জনবল ও অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতায় সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।</p>
<p>আরও উদ্বেগের বিষয়, ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার থেকে বেলা ১টার পর আর টিকিট বিক্রি হবেনা মর্মে তড়িঘড়ি করে নোটিশ ঝোলানো হয়েছে। চাপ সামলাতে না পেরেই এই নোটিশ দিয়েছেন বলে জানান কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর ২৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন গত ২৮ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। তারপরও তাঁরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের নিজস্ব ওষুধ উৎপাদন ও গবেষণা কার্যক্রমও আগের মতো সচল নেই।<br />
দেশে ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার জন্য পূর্ণাঙ্গ সরকারি বিশেষায়িত হাসপাতাল কার্যত এই একটিই, যা মিরপুরের ১৩ নং সেকশনে অবস্থিত। তবে জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিকল্প চিকিৎসা কর্মসূচির আওতায় সীমিত সেবা থাকলেও জটিল রোগের জন্য পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল নেই। ফলে চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর কিংবা সিলেটসহ সব অঞ্চল থেকেই রোগীদের ঢাকায় ছুটে আসতে হচ্ছে।<br />
এই বাস্তবতায় দক্ষিণাঞ্চলের চিত্র আরও বৈপরীত্যপূর্ণ। হাসপাতালের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, বরিশালে একটি ইউনানি- আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাকেন্দ্র থাকলেও সেখানে দীর্ঘদিন ধরে মাত্র একজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। সেটির অবস্থানও সরকারি সদর হাসপাতালের ভিতরে। প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোর অভাবে সেটি পূর্ণাঙ্গ সেবা দিতে পারছে না।<br />
বরিশাল বিভাগের প্রায় এক কোটি মানুষের জন্য বর্তমানে কোনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক হাসপাতাল নেই। অথচ বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরগুনা থেকে নিয়মিত রোগীদের ঢাকায় যেতে হচ্ছে। এতে একদিকে চিকিৎসা ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে রাজধানীর একমাত্র হাসপাতালটির ওপরও অসহনীয় চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।<br />
স্বাস্থ্যনীতি বিশ্লেষকদের মতে, যেভাবে বিকল্প চিকিৎসার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে, তাতে জেলা পর্যায়ের সীমিত কর্নার বা একজন চিকিৎসক দিয়ে আর চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। প্রয়োজন প্রতিটি বিভাগীয় শহরে অন্তত ১০০ শয্যার একটি আধুনিক ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক হাসপাতাল। যেখানে বহির্বিভাগ, ভর্তি সেবা, আকুপাংচার, পঞ্চকর্ম, হিজামা, গবেষণাগার, ওষুধ উৎপাদন ইউনিট এবং প্রশিক্ষিত চিকিৎসক একসঙ্গে থাকবে।<br />
একসময় অবহেলিত এই হাসপাতালটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর মাধ্যমে মানুষের নজরে এসেছে। সেই প্রচারণার ফলেই রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে বলে হাসপাতালের কর্মকর্তারাও স্বীকার করছেন। কিন্তু যে গণমাধ্যম মানুষের কাছে হাসপাতালটির সেবা পৌঁছে দিয়েছে, সেই গণমাধ্যমের জন্যই যদি তথ্যপ্রাপ্তি ও ছবি সংগ্রহের পথ সংকুচিত করা হয়, তাহলে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্যের অবাধ প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।<br />
রাজধানীর একমাত্র সরকারি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক হাসপাতালের সামনে প্রতিদিনের দীর্ঘ লাইন শুধু রোগীর ভিড়ের চিত্র নয়, এটি বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের বাড়তে থাকা আস্থারও প্রতিফলন। স্বাস্থ্যসেবার এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় ঢাকা কেন্দ্রিক সেবা থেকে বেরিয়ে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে অন্তত ১০০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ সরকারি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবি এখন আর কেবল একটি প্রস্তাব নয়, সময়ের প্রয়োজন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/6129-2/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>দুই বছরেও সরেনি ভাগাড়: বদলায়নি শিশুদের আকুতি</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%87-%e0%a6%ac%e0%a6%9b%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc-%e0%a6%ac%e0%a6%a6/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%87-%e0%a6%ac%e0%a6%9b%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc-%e0%a6%ac%e0%a6%a6/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 04 Aug 2026 12:23:14 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<category><![CDATA[ঢাকা সিটি করপোরেশন]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[বিদ্যালয়]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=6125</guid>

					<description><![CDATA[<p>‘কিছুই বদলায়নি’- মির্জা ফখরুলের আক্ষেপের প্রতিচ্ছবি যেন মিরপুরের শিশুদের পাঠশালায়<br /> দুই বছরেও সরেনি ভাগাড়, শিশুদের আকুতি &#8211; &#8216;আঙ্কেল, ‘আঙ্কেল, আমাদের স্কুলের সামনে থেকে এই ভাগাড়টা সরিয়ে দিন না..&#8217;</p> <p>বিশেষ</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%87-%e0%a6%ac%e0%a6%9b%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc-%e0%a6%ac%e0%a6%a6/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>‘<strong>কিছুই বদলায়নি’- মির্জা ফখরুলের আক্ষেপের প্রতিচ্ছবি যেন মিরপুরের শিশুদের পাঠশালায়</strong><br />
<strong>দুই বছরেও সরেনি ভাগাড়, শিশুদের আকুতি &#8211; &#8216;আঙ্কেল, ‘আঙ্কেল, আমাদের স্কুলের সামনে থেকে এই ভাগাড়টা সরিয়ে দিন না..&#8217;</strong></p>
<p><strong>বিশেষ প্রতিবেদক</strong></p>
<div id="attachment_6126" style="width: 310px" class="wp-caption alignleft"><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG20260804124343.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-6126" class="size-medium wp-image-6126" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG20260804124343-300x169.jpg" alt="" width="300" height="169" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG20260804124343-300x170.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG20260804124343-1024x576.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG20260804124343-768x432.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG20260804124343-1536x864.jpg 1536w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG20260804124343-70x40.jpg 70w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG20260804124343.jpg 1920w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-6126" class="wp-caption-text"><strong>দুই বছরেও সরেনি ভাগাড়, শিশুদের আকুতি &#8211; &#8216;আঙ্কেল, ‘আঙ্কেল, আমাদের স্কুলের সামনে থেকে এই ভাগাড়টা সরিয়ে দিন না..&#8217;</strong></p></div>
<p>&#8220;আমি দেখছি যে কিছুই বদলায়নি। আমি পরিবর্তন দেখছি একজন মানুষের মধ্যে, তিনি তারেক রহমান।&#8221; জুলাই বিপ্লবের দুবছর উদযাপন সময়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন আলোচনা তৈরি করেছে, তেমনি ৪ আগস্ট সকালে রাজধানীর মিরপুর-১০-এর সেনপাড়া পর্বতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দাঁড়ালে সেই আক্ষেপের বাস্তব প্রতিফলনই যেন চোখে পড়ে।<br />
ক্যামেরা হাতে সংবাদ সংগ্রহ করতে যেতেই বিদ্যালয়ের কয়েকজন কোমলমতি শিক্ষার্থী দৌড়ে এসে ঘিরে ধরে এক নিঃশ্বাসে বলে ওঠে, &#8220;আঙ্কেল&#8230; আঙ্কেল&#8230; আমাদের স্কুলের সামনে থেকে এই ভাগাড়টা সরিয়ে দিন না।&#8221;<br />
কোনো রাজনৈতিক ভাষণ নয়, কোনো শিখিয়ে দেওয়া কথা নয়, শিশুদের এই সরল আবেদনই যেন বলে দেয়, পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা তাদের কাছে একটি পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ স্কুলপথ।<br />
দুই বছর আগে যে চিত্র দেখে মন ভারাক্রান্ত হয়েছিল, জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির প্রাক্কালেও সেই দৃশ্যের তেমন কোনো পরিবর্তন চোখে পড়েনি। বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনেই এখনো স্তূপ করে ফেলা হচ্ছে আশপাশের এলাকা ও বাজারের বর্জ্য। দুর্গন্ধ, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আবর্জনা আর দখল হয়ে যাওয়া সড়কের মাঝ দিয়েই প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে শত শত শিক্ষার্থী।<br />
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের দেয়ালঘেঁষে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। নির্ধারিত কোনো ডাস্টবিন নেই। বরং বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ ঘেঁষেই উন্মুক্তভাবে ময়লা ফেলে দখল করা হয়েছে সড়কের একটি বড় অংশ। একই জায়গায় ভাসমান হকারদের অবস্থান, রিকশার সারি এবং পথচারীদের চলাচলের বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হকার ও রিকশাচালকদের কেউ কেউ শিশুদের সামনেই প্রকাশ্যে প্রস্রাব করেন। দুর্গন্ধে কয়েক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে থাকাও কষ্টকর হলেও এই পথ দিয়েই প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। ভাসমান খাবার বিক্রেতার কাছ থেকে খাবার কিনে এই ময়লার স্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে তা খাচ্ছে ওরা।<br />
এমন পরিবেশ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ নতুন নয়। দুই বছর আগেও একই সমস্যা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো কার্যকর পরিবর্তন হয়নি। বরং বাজারের বর্জ্য, ফুটপাত দখল এবং অব্যবস্থাপনার কারণে এলাকাটি আরও অস্বাস্থ্যকর ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে।<br />
বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। বিষয়টি জানতে তার কার্যালয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কল সেন্টারের পরামর্শে ৩ নম্বর ওয়ার্ড প্রশাসক বেনজির আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই সমস্যা সমাধানে প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন নিজেই এলাকায় এসে স্থানীয়দের সহযোগিতা চেয়েছিলেন। কিন্তু ভাসমান হকারদের উচ্ছেদে সহযোগিতা না পাওয়ায় স্থায়ী সমাধান সম্ভব হয়নি।<br />
বেনজির আহমেদ বলেন, &#8220;এখানে হকারদের রাজত্ব। হকারদের উচ্ছেদ করা না গেলে এটি সরানোও অসম্ভব। এজন্য এলাকাবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন। মানুষ অভিযোগ করেন, কিন্তু উচ্ছেদ অভিযানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যায় না।&#8221;<br />
ওয়ার্ড প্রশাসকের এই বক্তব্য কার্যত স্বীকার করে যে, বিদ্যালয়ের সামনে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতির অন্যতম কারণ অবৈধ হকারদের দখল। স্থানীয়দের দাবি, মিরপুর-১০ গোলচত্বর, হোপের গলি থেকে মাজার রোডের বিস্তীর্ণ অংশ দীর্ঘদিন ধরেই ভাসমান হকারদের নিয়ন্ত্রণে। বিএনপি ও এনসিপি নেতারা ভাগাভাগি করে নিয়ন্ত্রণ করে এই হকারদের। ফলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং স্থায়ীভাবে বর্জ্য অপসারণ &#8211; দুই কাজই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।<br />
এদিকে এই এলাকাটি ঢাকা-১৬ আসনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, রাজধানীর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বছরের পর বছর ধরে কীভাবে একটি উন্মুক্ত ভাগাড় বহাল থাকে? শিশুদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা কি সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের অগ্রাধিকার নয়?<br />
মীরপুরের একজন যুবদল নেতা সিটেনসহ স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বিদ্যালয়ের সামনে থেকে দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, বিকল্প স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং অবৈধ হকার উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের সামনে ভাগাড় রেখে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ার দাবি বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না।<br />
জুলাইয়ের পরিবর্তনের দুই বছর পূর্ণ হলো। বদলেছে সরকার, বদলেছে জনপ্রতিনিধি, বদলেছে প্রশাসন। কিন্তু সেনপাড়া পর্বতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের আবেদন বদলায়নি। তারা এখনো ক্যামেরা দেখলেই ছুটে এসে বলে &#8211; &#8220;আঙ্কেল, আমাদের স্কুলের সামনে থেকে এই ভাগাড়টা সরিয়ে দিন না।&#8221; রাজধানীর বুকে এই ছোট্ট আবেদনটি শুধু কয়েকজন শিশুর নয়; এটি একটি নগরের বিবেকের কাছেও উচ্চারিত এক নীরব প্রশ্ন।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%87-%e0%a6%ac%e0%a6%9b%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc-%e0%a6%ac%e0%a6%a6/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বরিশালে বছরে দুই শতাধিক প্রাণহানি: প্রতিরোধে নেই সমন্বিত গবেষণা ও কার্যকর উদ্যোগ</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%9b%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%87-%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%aa/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%9b%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%87-%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%aa/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 25 Jul 2026 15:05:43 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জাতীয়]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলার চিঠি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=6119</guid>

					<description><![CDATA[<p>বরিশালে বছরে দুই শতাধিক প্রাণহানি, প্রতিরোধে নেই সমন্বিত গবেষণা ও কার্যকর উদ্যোগ</p> <p>(করোনার পর ববিতে সাত শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞান শিক্ষক নিয়োগের দাবী)</p> <p> বিশেষ প্রতিবেদক</p> <p>একটির পর একটি তরুণ প্রাণ</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%9b%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%87-%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%aa/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>বরিশালে বছরে দুই শতাধিক প্রাণহানি, প্রতিরোধে নেই সমন্বিত গবেষণা ও কার্যকর উদ্যোগ</strong></p>
<p><strong>(করোনার পর ববিতে সাত শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞান শিক্ষক নিয়োগের দাবী)</strong></p>
<p><strong> বিশেষ প্রতিবেদক</strong></p>
<div id="attachment_6120" style="width: 310px" class="wp-caption alignleft"><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/07/FB_IMG_1784870302452.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-6120" class="size-medium wp-image-6120" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/07/FB_IMG_1784870302452-300x169.jpg" alt="" width="300" height="169" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/07/FB_IMG_1784870302452-300x170.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/07/FB_IMG_1784870302452-1024x576.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/07/FB_IMG_1784870302452-768x432.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/07/FB_IMG_1784870302452-1536x864.jpg 1536w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/07/FB_IMG_1784870302452-70x40.jpg 70w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/07/FB_IMG_1784870302452.jpg 1920w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-6120" class="wp-caption-text">ববির সাতজন ছবি জুয়েল সরকার থেকে সংগৃহীত</p></div>
<p>একটির পর একটি তরুণ প্রাণ ঝরে যাচ্ছে। পরিবার, বন্ধু, শিক্ষক কিংবা সহপাঠী &#8211; কারও চোখেই যেন ধরা পড়ছে না তাদের ভেতরের নিঃশব্দ যন্ত্রণা। করোনা মহামারির সময় ২০২০ সাল থেকে এ পর্যন্ত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সাতজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। একই সময়ে বরিশাল জেলায় প্রতিবছর গড়ে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। অথচ আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এবং প্রতিরোধের কার্যকর কৌশল নিয়ে বরিশালকে কেন্দ্র করে কোনো সমন্বিত গবেষণা বা দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেই। ফলে আত্মহত্যার এই নীরব মহামারি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।<br />
সর্বশেষ গত ২১ জুলাই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন খালপাড় এলাকার একটি মেস থেকে ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী উচ্ছ্বাস কর্মকারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে বন্দর থানা-পুলিশ। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ২০২০ সালের পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আত্মহত্যার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতজনে। প্রতিটি ঘটনাই নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে &#8211; শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্র কতটা প্রস্তুত?<br />
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশি তথ্য এবং সামাজিক সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, বরিশাল অঞ্চলে আত্মহত্যার প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগজনক। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে মানসিক চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, সামাজিক অপমান, একাকীত্ব এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে।<br />
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২ আগস্ট গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী সুপ্রিয়া দাস নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন। এরপর ২০২৩ সালের ১৯ জুলাই উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিন নিভানার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়। ২০২৪ সালে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। ওই বছর চারজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন। সর্বশেষ চলতি বছর উচ্ছ্বাস কর্মকারের মৃত্যুর ঘটনায় মোট সংখ্যা দাঁড়ায় সাতজনে।<br />
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু মৃত্যুই নয়, ২০২৪ সালে আরও অন্তত ১১ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। সহপাঠী ও স্বজনদের দ্রুত হস্তক্ষেপে তাঁরা প্রাণে বেঁচে যান। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের গভীরতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।<br />
আঁচল ফাউন্ডেশনের সর্বশেষ বার্ষিক সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সারা দেশে ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগেই আত্মহত্যা করেছেন ৫৭ জন শিক্ষার্থী, যা জাতীয় মোট সংখ্যার প্রায় ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ। সংখ্যার দিক থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পরই বরিশাল বিভাগের অবস্থান। আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৮ শতাংশ নারী এবং ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বয়স ১৩ থেকে ১৯ বছর। মোট আত্মহত্যাকারীদের প্রায় অর্ধেকই স্কুলশিক্ষার্থী, এরপর কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রয়েছেন।<br />
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত এক বছরে বরিশালে আত্মহত্যার পেছনে কয়েকটি কারণ বারবার সামনে এসেছে। এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর হিজলা, বাকেরগঞ্জ ও বাবুগঞ্জে কয়েকজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন, যাদের মধ্যে দুই শিক্ষার্থী মারা যায়। সম্প্রতি নগরীর সাগরদী এলাকায় প্রেমিকার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সময় এক কলেজছাত্র আত্মহত্যা করেন। আগৈলঝাড়ায় স্বামীর নির্যাতনের অভিযোগে এক নারী ইউপি সদস্য আত্মহত্যা করেন। দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতায় নগরীর এক বৃদ্ধার আত্মহত্যা এবং বিসিক শিল্প এলাকায় এক শ্রমিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও আলোচনায় আসে। এসব ঘটনায় পরীক্ষার চাপ, সম্পর্কের সংকট, পারিবারিক সহিংসতা, কর্মক্ষেত্রের হতাশা এবং দীর্ঘমেয়াদি মানসিক অবসাদের বিষয় সামনে এসেছে।<br />
তবে প্রশ্ন উঠেছে, বারবার এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলেও কেন এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা পূর্ণাঙ্গ মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, প্রয়োজনের সময় অনেকেই কাউকে খুঁজে পান না, নিজের সংকট প্রকাশ করার মতো নিরাপদ পরিবেশও সবসময় থাকে না।<br />
বরিশাল জেলা পুলিশের সুত্রে জানা গেছে গত একবছরে জেলায় দেড় শতাধিক অপমৃত্যু রেকর্ড হয়েছে। জেলা পুলিশের ক্রাইম জোন জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ১২ মাসে জেলায় মোট ২০৮টি অপমৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে ফাঁসিতে মৃত্যু ৯৬টি (প্রায় ৪৬.২%), বিষপানে ১৭টি (প্রায় ৮.২%) এবং অন্যান্য কারণে ৮৭টি (প্রায় ৪১.৮%)। এছাড়া নিহতদের মধ্যে পুরুষ ১৩৭ জন (প্রায় ৬৫.৯%) এবং নারী ৭১ জন (প্রায় ৩৪.১%)।<br />
আত্মহত্যা প্রতিরোধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সবার আগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মনোবিজ্ঞান বিভাগ চালু করা এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যের সম্পর্ক উন্নয়নসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।<br />
তিনি বলেন, বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। পাস-ফেল নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা, পারিবারিক ও সামাজিক চাপ, ক্যারিয়ারের অনিশ্চয়তা এবং একাকিত্ব তরুণদের চরম মানসিক অবসাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এছাড়া বিনোদনের সুযোগ না থাকায় একধরনের মারাত্মক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শূন্যতা তৈরি হচ্ছে।এই সংকট থেকে উত্তরণে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থায়ী কাউন্সেলিং ব্যবস্থা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি অভিভাবকদের সন্তানের আচরণের পরিবর্তন বা ডিপ্রেশনের দিকে গভীর নজর রাখতে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, মানসিক রোগ নিয়ে আমাদের সামাজিক লোকলজ্জা ও সংস্কারের ভয় দূর করতে হবে। যেকোনো মানসিক অস্থিরতায় দ্বিধাহীনভাবে পেশাদার সাইকোলজিস্টদের পরামর্শ নেওয়া এবং সরকারি- বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।&#8221;<br />
এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড মামুনুর রশীদ বলেন, আমি ইতিমধ্যেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্পর্কের উন্নয়নে কাজ শুরু করেছি। ফাস্টইয়ার থেকেই শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলিং যাতে হয় সেটায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া মনোবিজ্ঞান বিভাগ বা শিক্ষক নিয়োগ প্রকিয়া যাচাই-বাছাই করে সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।<br />
ববি উপাচার্য আরো বলেন, মোবাইল আসক্তি আমাদের এখন বড় সমস্যা। সারাদেশে ছোট বড় সকলের মধ্যে এখন এই আসক্তি এতোটাই ভয়াবহ হয়েছে যে এটিই এখন একাকীত্বের জন্য প্রধান দায়ী বলা যায়। এ নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে জানান অধ্যাপক ড মামুনুর রশীদ।<br />
বিশেষজ্ঞদের মতে, আত্মহত্যাকে কেবল আইনশৃঙ্খলা বা ব্যক্তিগত ব্যর্থতার বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি এখন জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু। বরিশালের মতো ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, পুলিশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে আত্মহত্যা প্রতিরোধে পৃথক কর্মপরিকল্পনা, গবেষণা ও কাউন্সেলিং নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সময়ের দাবি। তা না হলে প্রতিবছরই আরও অনেক সম্ভাবনাময় জীবন নীরবে হারিয়ে যাবে, আর প্রতিটি মৃত্যুর পর একই প্রশ্ন ফিরে আসবে- আর কত?</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%9b%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%87-%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%aa/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>স্বাস্থ্য প্রশাসনে একের পর এক বিতর্কিত পদায়ন: অনিশ্চয়তায় বরিশালের চিকিৎসাসেবা</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 24 Jul 2026 15:00:39 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=6116</guid>

					<description><![CDATA[<p>স্বাস্থ্য প্রশাসনে একের পর এক বিতর্কিত পদায়ন: অনিশ্চয়তায় বরিশালের চিকিৎসাসেবা</p> <p>, বিশেষ প্রতিবেদক</p> <p>দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম কেন্দ্র বরিশাল। কিন্তু বিভাগীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে একের পর</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>স্বাস্থ্য প্রশাসনে একের পর এক বিতর্কিত পদায়ন: অনিশ্চয়তায় বরিশালের চিকিৎসাসেবা</strong></p>
<p><strong>, বিশেষ প্রতিবেদক</strong></p>
<p><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/07/IMG-20260723-WA0059.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-6117" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/07/IMG-20260723-WA0059-300x113.jpg" alt="" width="300" height="113" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/07/IMG-20260723-WA0059-300x113.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/07/IMG-20260723-WA0059-1024x384.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/07/IMG-20260723-WA0059-768x288.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/07/IMG-20260723-WA0059-1536x576.jpg 1536w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/07/IMG-20260723-WA0059.jpg 1600w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম কেন্দ্র বরিশাল। কিন্তু বিভাগীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে একের পর এক বদলি, নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, দায়িত্ব গ্রহণে বিলম্ব এবং শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের পরিচালকের দীর্ঘ অনুপস্থিতিকে ঘিরে স্বাস্থ্য খাতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।<br />
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মশিউল মুনীর। হাসপাতালের জনবল সংকট, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি ও অতিরিক্ত রোগীর চাপ নিয়ে একাধিকবার প্রকাশ্যে কথা বলার পর তিনি দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত। এদিকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সভাতেও পরিচালক উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টি স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।<br />
শেবাচিম হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আবদুল মুনায়েম সাদ বলেন, পরিচালকের ওপর কিছুটা চাপ রয়েছে। তবে তার চলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি। ছেলের এইচএসসি পরীক্ষা চলায় তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। পরিচালকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।<br />
সম্প্রতি বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক নিয়োগ নিয়ে আন্দোলনের পর সরকারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ঘটনা আলোচনায় আসে। এরই মধ্যে ২১ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. এস এম মনজুর এলাহীকে স্ট্যান্ড রিলিজ দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সংযুক্ত করে এবং তার স্থলে ওএসডি কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুজ্জামানকে পদায়ন করে। তবে কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও নতুন সিভিল সার্জন আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেননি।<br />
বিদায়ী সিভিল সার্জন ডা. মনজুর এলাহী বলেন, ব্যক্তিগত কারণে তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। বরিশালে ফিরে এসে সরকারি বিধি অনুযায়ী দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবেন। তিনি দাবি করেন, বরিশাল প্রেসক্লাবের কয়েকজন নেতা তার কাছে নতুন সিভিল সার্জনকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার সুপারিশ নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় চলে আসেন। ডা. মনজুর এলাহীর এ বক্তব্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।<br />
নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। স্বাস্থ্য বিভাগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তিনিও বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।<br />
ডা. মনিরুজ্জামান এর আগে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা থাকাকালে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, টেস্ট বাণিজ্য, প্রশাসনিক অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে স্থানীয়দের আন্দোলনের মুখে পড়েন। ২০২২ সালে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) একটি অনুষ্ঠানে চিকিৎসকদের অংশগ্রহণের নির্দেশনা দিয়েও তিনি সমালোচনার জন্ম দেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।<br />
এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা ও চিকিৎসক ডা. মনীষা চক্রবর্তী। তিনি বলেন, গত প্রায় ২৫ বছর ধরে বরিশালের চিকিৎসাসেবা সংকটে রয়েছে। মানুষের আন্দোলনের পর সেনাবাহিনী থেকে পরিচালক নিয়োগ হলেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। বরং হাসপাতালের পঞ্চম তলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডের (এইচইউডি) HDU (High Dependency Unit) &#8211; উচ্চ নির্ভরশীলতা কেন্দ্র কার্যক্রম বন্ধ রেখে সেটি পরীক্ষার হল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিচালক ও সিভিল সার্জন নিয়োগ নিয়ে যা হচ্ছে, তা মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার জন্য ইতিবাচক নয়। বিভাগীয় শহরের গুরুত্বপূর্ণ পদে অভিজ্ঞ, দক্ষ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কর্মকর্তার পদায়ন প্রয়োজন। এছাড়াও জরুরী চিকিৎসা সেবার প্রয়োজনীয় উপকরণের চাহিদাও এখন পর্যন্ত পূরণ হয়নি বরিশালের হাসপাতালে।<br />
প্রায় একই কথা বলেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. লোকমান হাকিম। তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের চিকিৎসাসেবার কেন্দ্র বরিশাল। তাই এখানে অভিজ্ঞ, দক্ষ ও বিতর্কমুক্ত কর্মকর্তাদের নিয়োগ হওয়াই সবার প্রত্যাশা। সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে জনমত যাচাই এজন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।<br />
স্বাস্থ্য প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঘন ঘন বদলি, বিতর্কিত পদায়ন এবং প্রশাসনিক অনিশ্চয়তায় মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার সমন্বয় ব্যাহত হচ্ছে।<br />
প্রতিবেদনের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের বক্তব্য জানতে তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে অবহিত করবেন।<br />
এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পুরো বিষয়টি উল্লেখ করে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হয়েছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।<br />
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, জেলার সিভিল সার্জন ও শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক &#8211; দুটি পদই জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পদে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা, বিতর্ক এবং প্রশাসনিক অস্থিরতা শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে ফেলতে পারে সাধারণ রোগীদেরই। তাই নিয়োগ ও পদায়নে স্বচ্ছতা, অভিজ্ঞতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>দেশের রাজনীতিতে অশনি সংকেত&#8230;</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%85%e0%a6%b6%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%95/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%85%e0%a6%b6%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%95/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[অতিথি লেখক]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 15 Jul 2026 13:27:29 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জাতীয়]]></category>
		<category><![CDATA[বরিশাল বিভাগ]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলার চিঠি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=6101</guid>

					<description><![CDATA[<p>দেশের রাজনীতিতে অশনি সংকেত! প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ, কূটনৈতিক পাড়ায়ও আলোচনা</p> <p>বিশেষ প্রতিবেদক ,  (অতিথি লেখক) </p> <p>রাজধানী ঢাকার গুলশান এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি দলের পরিচয়</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%85%e0%a6%b6%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%95/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>দেশের রাজনীতিতে অশনি সংকেত! প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ, কূটনৈতিক পাড়ায়ও আলোচনা</strong></p>
<p><strong>বিশেষ প্রতিবেদক , </strong> (<strong>অতিথি লেখক) </strong></p>
<p><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/07/IMG-20260715-WA0011.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-6102" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/07/IMG-20260715-WA0011-300x164.jpg" alt="" width="300" height="164" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/07/IMG-20260715-WA0011-300x164.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/07/IMG-20260715-WA0011-1024x560.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/07/IMG-20260715-WA0011-768x420.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/07/IMG-20260715-WA0011-1536x840.jpg 1536w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/07/IMG-20260715-WA0011.jpg 1600w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>রাজধানী ঢাকার গুলশান এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি দলের পরিচয় ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত নানা ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।</p>
<p>রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলের ছায়াতলে যদি অসাধু ব্যক্তিরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের সুযোগ পায়, তাহলে তার নেতিবাচক প্রভাব শেষ পর্যন্ত দলের ভাবমূর্তির ওপরই পড়ে। বিভিন্ন আলোচিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে একাধিক সূত্রের দাবি।<br />
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক, মব সহিংসতা, দখলদারিত্ব এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়মিতই সামনে আসছে। এসব অভিযোগের অনেকগুলোই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তাধীন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এসব ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া না হলে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।</p>
<p>সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, সংখ্যালঘু নির্যাতন, ভূমি দখল এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে মামলা, গ্রেপ্তার ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনাও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলও বিভিন্ন অভিযোগে কয়েকজন নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করেছে।<br />
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমানের সঙ্গে তোলা ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে নিজেদের প্রভাবশালী বা ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। &#8216;Annama Fahim&#8217; নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এ ধরনের ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও কূটনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করছে।<br />
বিশ্লেষকদের মতে, কোনো রাজনৈতিক নেতা বা সরকারপ্রধানের সঙ্গে তোলা ছবি ব্যক্তিগত পরিচয়ের প্রমাণ হতে পারে, কিন্তু সেটিকে ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার বা ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করা হলে তা সরকার ও দলের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে বিভ্রান্তি কমবে এবং জনআস্থাও বাড়বে।<br />
সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আলোচিত কয়েকটি সহিংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদারের দাবি উঠেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকারপ্রধান যদি দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে &#8216;শূন্য সহনশীলতা&#8217; নীতি অব্যাহত রাখেন, তাহলে জনমনে ইতিবাচক বার্তা যাবে এবং রাজনৈতিক পরিবেশও আরও স্থিতিশীল হবে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%85%e0%a6%b6%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%95/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আদালতের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে আদালতের কর্মচারীর ঘর নির্মাণ: নিরব পুলিশ</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[নিজস্ব প্রতিবেদক, সাহিত্য বাজার]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 23 Jun 2026 09:51:30 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কথামালা]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলার চিঠি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=6079</guid>

					<description><![CDATA[<p>আদালতের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে আদালতের কর্মচারীর ঘর নির্মাণ: নিরব পুলিশ</p> <p>নিজস্ব প্রতিবেদক</p> <p>বরিশাল নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের রুইয়ার পুল এলাকায় বিচারাধীন বাটোয়ারা মামলায় স্থিতিবস্থার মধ্যে রুহুল আমিন রিপন নামের এক</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%be/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>আদালতের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে আদালতের কর্মচারীর ঘর নির্মাণ: নিরব পুলিশ</strong></p>
<p><strong><i>নিজস্ব প্রতিবেদক<a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/06/IMG-20260620-WA0015.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-6080" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/06/IMG-20260620-WA0015-169x300.jpg" alt="" width="169" height="300" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/06/IMG-20260620-WA0015-169x300.jpg 169w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/06/IMG-20260620-WA0015-576x1024.jpg 576w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/06/IMG-20260620-WA0015-768x1365.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/06/IMG-20260620-WA0015-864x1536.jpg 864w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/06/IMG-20260620-WA0015.jpg 900w" sizes="auto, (max-width: 169px) 100vw, 169px" /></a></i></strong></p>
<p><i>বরিশাল নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের রুইয়ার পুল এলাকায় বিচারাধীন বাটোয়ারা মামলায় স্থিতিবস্থার মধ্যে রুহুল আমিন রিপন নামের এক ব্যক্তি আদালতের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে রাতের আধারে ঘর উত্তোলন করছেন। রিপন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আদালতের কর্মচারী হওয়ায় নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পরিচয় দিয়ে এ কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আর এ কাজে তাকে সহায়তা করছেন হ্যানিট্রাপের সদস্য রাখি। এছাড়া্ রিপনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে আদালতের নাম ভাঙ্গিয়ে যে সকল জায়গায় বিরোধপূর্ণ জমি রয়েছে সেখানে গিয়ে জোরপূর্বক জমি দখল করার। এ কারনে এলাকাবাসীও তার সাথে কোন সম্পর্ক রাখেন না। আর সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করার অভিযোগ সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের প্রতি। </i></p>
<p><i>ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পৈত্রিক সূত্রে ৬৭ শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমির ভাগিদার হচ্ছে বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমান খানের ৭ ছেলে। তার কোন মেয়ে নেই। জমি ভাগবাটোয়ারা হওয়ার পূর্বেই মৃত ভাই আলামিনকে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করা রাখি ওই রিপনকে সাথে নিয়ে এ সন্ত্র্রাসী কর্মকান্ড চালাচ্ছে। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে চলমান মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া এবং অংশীদারদের চূড়ান্ত হিস্যা নির্ধারণের আগেই রাখি আদালতের পিয়ন রিপনের মাধ্যমে জমি দখলে নিতে মরিয়া। তাকে যে স্থান থেকে জমি দেয়া হয়েছে সেখান থেকে না নিয়ে অন্য ভাইদের জমি দখলে করে বাউন্ডারী ওয়াল দেয়ার পর এখন ঘর উত্তোলন করছেন।</i></p>
<p><i>পরিবারের সদস্য আলী আজম খান বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখলে থাকলেও বর্তমানে নানামুখী চাপের মধ্যে রয়েছেন। তার ভাষ্য, “আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও লোকবল কম। সেই সুযোগে আদালতের পিয়ন রিপন আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও নির্মাণ কাজ চলতে দেখে আমরা উদ্বিগ্ন। পুলিশের সহযোগিতা চেয়েও পাইনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। </i></p>
<p><i>তিনি আরো বলেন, সম্পত্তি তার বাবা প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমান খানের পরিবারভুক্ত। উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে আদালতে বাটোয়ারা মামলা চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় মৃত অংশীদার আলামিনের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবিদ্বার রাখির কাছ থেকে জমি ক্রয় করেছেন বলে দাবি করেন আদালতের কর্মচারী রুহুল আমিন রিপন। তবে অন্য অংশীদারদের অভিযোগ, জমির চূড়ান্ত বণ্টনের আগেই এ ধরনের ক্রয়-বিক্রয় এবং পরবর্তী নির্মাণ কার্যক্রম আইনি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।</i></p>
<p><i>আজম বলেন, বাড়িতে কেউ না থাকাবস্থায় আকস্মিক সন্ত্র্রাসী বাহিনী নিয়ে সম্প্রতি রিপন ও রাখি তাদের ইচ্ছামত প্রায় ৬ শতাংশ  জমি দেয়াল দিয়ে আটকে রেখেছে। ওেই সময় বাধা দেয়া হলেও রিপনের সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে অসহায় ছিল আমার ছোট ভাই। এরপর আদালতের শরনাপন্ন হলে উভয় পক্ষকে আদালত থেকে  স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা  করে ১৬ ও ১৭ জুন রাতের আধারে ঘর তোলার চেষ্টা করে। ওই সময় তাকে বার নিষেধ করা সত্ত্বেও নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে একাধিক মামলায় জড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। ইতিমধ্যে রিপন তাদের  বিরুদ্ধে ৩টি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। মিথ্যা মামলার এবং সন্ত্রাসীদের হামলার ভয়ে তারা এক প্রকার কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন। আর এ সুযোগ  নিচ্ছে আদালতের কর্মচারী রিপন। তাকে মদদ দিচ্ছে বরিশাল  নগরীর হ্যানিট্রাফের সদস্য রাখি।</i></p>
<p><i>এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা উভয়পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার বসেছি এবং সমঝোতার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। তবে আদালত কোনো প্রতিবেদন চাইলে আমরা তা দিতে প্রস্তুত রয়েছি।” ওসি আরো বলেন, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ঘর উত্তোলন করার বিষয়টি তিনি অবহিত। আদালত প্রতিবেদন চাইলে রিপনের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্য করার বিষয়টি তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।</i></p>
<p><i>রুহুল আমিন রিপন দাবি করেন, তিনি বৈধভাবে জমি কিনেছেন এবং কাউকে হয়রানি করার প্রশ্নই ওঠে না। জমি ভাগবাটোয়ারা হয়নি তাহলে কিভাবে জমি কিনলেন।  এ  প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের ওয়ারিশ এক বিধবাকে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।  এ কারনে বিধবা রাখির কাছ থেকে জমি ক্রয় করে দেয়াল দিয়েছেন। মামলার নিষ্পত্তির পর তিনি যে অংশ পাবেন, সেটিই তার জমি হবে। আইন মেনেই আমি এগোচ্ছি। কার জমিতে দেয়াল দিয়েছেন। এ  প্রশ্নের উত্তর দেননি তিনি।</i>এ</p>
<p><i>নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক এলাকাবাসী বলেন, রহুল আমিন রিপন  আদালতের একজন কর্মচারী। এছাড়াও এলাকায় তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। ৬০ লাখ টাকা দিয়ে তিনি এই জমি কিনেছেন দাবী করেন। তার এতো টাকার উৎস নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন অনেকে। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ তদন্ত দাবী করেন এলাকাবাসী।</i></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a7%83%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
