বর্ণচোরা সংস্কৃতিকর্মীঃ মুখোশ পরা ভদ্রলোক
স্বাধীন চৌধুরী
১. ভূমিকাঃ সংস্কৃতির মঞ্চে ছায়া ও আলোর লড়াই
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন একসময় ছিল মুক্তচিন্তার উর্বর ক্ষেত্র, প্রতিরোধের মঞ্চ, সমাজবদলের মুখ্য স্থান । কিন্তু আজকাল দেখা যায়, সেই মঞ্চের বহু আলো নিভে গেছে, আর মুখোশ পরে এসেছে অচেনা মানুষ।
এরা নিজেদের বলেন ‘সংস্কৃতিকর্মী’- কিন্তু এরা সংস্কৃতির নয়, সুবিধার কর্মী।
যে হাতে একদিন ছিল প্রতিবাদের প্ল্যাকার্ড, সেই হাতেই আজ চামচা; যে কণ্ঠে ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সুর, সেই কণ্ঠ এখন ক্ষমতার বন্দনা গায়।
এই বর্ণচোরা সংস্কৃতিকর্মীরাই আজ বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিসরে এক ভয়ংকর সংকটের নাম।
২. বর্ণচোরার সংজ্ঞা ও প্রকৃতিঃ
‘বর্ণচোরা’ শব্দটি শুধু রঙ পাল্টানো নয়, নীতি ও আদর্শ বদলের এক আত্মবিকৃতি।
একজন শিল্পীর মুখ্য ধর্ম হলো সত্যের প্রতি অনুরাগ- যে সত্য কখনও সুবিধাজনক নয় বরং ঝুঁকিপূর্ণ।
কিন্তু বর্ণচোরা সংস্কৃতিকর্মী সেই ঝুঁকিকে এড়িয়ে চলে; সে আদর্শের পোশাক পরে প্রবেশ করে মঞ্চে, তারপর অচিরেই বিক্রির বাজারে ঢোকে।
এরা সমাজে সংস্কৃতির প্রতিনিধি নয়, সংস্কৃতির বিকৃত প্রতিচ্ছবি।
এদের মুখে সক্রেটিস, রবীন্দ্রনাথ, জিবরান, নজরুল, লালনের নাম থাকে; কিন্তু হৃদয়ে থাকে সুবিধা, লেনদেন, তোষণ ও পৃষ্ঠপোষকতার নরম বিছানা।
৩. ইতিহাসে মুখোশধারীরা: ব্রিটিশ আমল থেকে পাকিস্তানকালঃ
সংস্কৃতির ইতিহাসে এই মুখোশধারীদের অভাব ছিল না।
ব্রিটিশ আমলে কিছু ‘বাবু’ শ্রেণির লোক শিল্পচর্চার নাম করে ব্রিটিশ রাজের গৌরবগাথা গেয়েছেন, যাতে পদক ও অনুগ্রহ মেলে।
যেখানে রবীন্দ্রনাথ ‘দাসত্বের জয়গান’ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, সেখানে অন্যরা কোলকাতার সভাগৃহে দাঁড়িয়ে বিদেশি প্রভুর প্রশস্তি গাইছিলেন- তারা ছিলেন সংস্কৃতির প্রথম প্রজন্মের বর্ণচোরা।
পাকিস্তান আমলে এই মুখোশধারীরা নতুন রূপ নিল।
তখন অনেক সংস্কৃতিকর্মী সাহস করে মাতৃভাষার পক্ষে রাস্তায় নেমেছিলেন, কিন্তু কিছু তথাকথিত ‘শিল্পসেবী’ রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত প্রচারক হয়ে গেলেন-যারা বেতার, মঞ্চ ও নাটকের মাধ্যমে শাসকের ভাষানীতি ও ধর্মভিত্তিক বিভাজনকে বৈধতা দিতেন।
তারা ‘সংস্কৃতি’ নামের পতাকা বয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন রাষ্ট্রের দালানে, কিন্তু তাতে ছিল না কোনো জনগণের চিহ্ন।
৪. স্বাধীনতার পর: সংস্কৃতির রাজনীতি ও রাজনীতির সংস্কৃতিঃ
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সংস্কৃতি হয়ে ওঠে রাষ্ট্রগঠনের এক অন্যতম স্তম্ভ।
কিন্তু সেই মুক্তচেতনার মঞ্চ ধীরে ধীরে দখল করে নেয় সুবিধাবাদী গোষ্ঠী।
যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় নীরব ছিলেন, তারাই পরবর্তীকালে সংস্কৃতি-রাজনীতির পুরোভাগে চলে আসেন।
শিল্পচর্চা হয়ে ওঠে এক ধরনের ‘প্রতিষ্ঠার রাজনীতি’- যেখানে প্রতিভার চাইতে বেশি দামি হয়ে ওঠে যোগাযোগ, তোষামোদ আর ক্ষমতাসীন দলের নৈকট্য।
আধুনিক কালে সংস্কৃতি উৎসব, সাহিত্য পুরস্কার, মঞ্চ, গ্যালারি- সব জায়গায় দেখা যায় এই প্রবণতার প্রতিফলন।
যে শিল্পী প্রতিবাদের প্রতীক হওয়ার কথা, সে এখন সরকারের উন্নয়ন প্রচারণার মুখপাত্র;
যে কবি স্বাধীনতার বেদনা নিয়ে লিখতেন, সে এখন আমলাতন্ত্রের করতালির অপেক্ষায়।
৫. মুখোশের অন্তরালে আদর্শহীনতাঃ
বর্ণচোরা সংস্কৃতিকর্মীর সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো- তার আত্মবিস্মৃতি।
সে জানেই না কেন শিল্পচর্চা করে।
একদিন মানবতার পক্ষে গেয়ে এখন সে গায় রাজনৈতিক জিঙ্গেল;
একদিন যে নাটকে ছিল প্রতিরোধ, এখন সেখানে আছে ‘স্পন্সরড’ হাস্যরস ও ফাঁপা দেশপ্রেম।
এরা মুক্তচিন্তার স্থানে স্থাপন করেছে ‘সাংস্কৃতিক ভদ্রতা’- যেখানে প্রতিবাদ অশোভন এবং ক্ষমতার প্রতি প্রশ্ন অশালীন।
এই ভদ্রতার আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়ের সংস্কৃতি।
সংস্কৃতির মঞ্চ আজ অনেক সময় ক্ষমতার বর্ধিত শাখা হয়ে গেছে- যেখানে স্বাধীন শিল্পীর জায়গা সংকুচিত, কিন্তু মুখোশধারী সংস্কৃতিকর্মীর উত্থান নিরবচ্ছিন্ন।
৬. আজকের বাংলাদেশ: মিডিয়া, পৃষ্ঠপোষকতা ও সাংস্কৃতিক বিকৃতিঃ
বর্তমান বাংলাদেশে সংস্কৃতি ও মিডিয়া পরস্পরের সঙ্গে জড়িত।
যেখানে শিল্পী মানে ব্র্যান্ড, গান মানে ইউটিউব ভিউ, আর নাটক মানে স্পন্সরের কন্টেন্ট।
এই বাস্তবতায় বর্ণচোরারা আরও প্রবল হয়ে উঠেছে।
তারা জানে কাকে খুশি করতে হবে, কাকে প্রশংসা করতে হবে এবং কখন মুখ বন্ধ রাখতে হবে।
তারা ‘নিরপেক্ষতা’র মুখোশ পরে থাকে, কিন্তু সেই নিরপেক্ষতা ক্ষমতার পাশে দাঁড়ানোর কৌশল মাত্র।
তারা কোনো রাজনৈতিক শিবিরের বিরুদ্ধে কথা বলে না, আবার কোনো মানবিক অন্যায়ের বিরুদ্ধেও নয়- কারণ তাদের মুখে হাসি, হাতে সেলফি, বুকপকেটে পাস।
এভাবে সংস্কৃতি হয়ে উঠেছে এক বাণিজ্যিক পণ্য, আর সংস্কৃতিকর্মী এক চতুর ব্যবসায়ী।
৭. ঐতিহাসিক ও নৈতিক উদাহরণ: সত্যিকারের সংস্কৃতিকর্মীদের বিপরীতেঃ
যখন বর্ণচোরারা সুবিধার জন্য মুখোশ পরে ঘুরছে, তখন ইতিহাসে আমরা দেখি তাদের বিপরীতে দাঁড়ানো সত্যিকারের সংস্কৃতিকর্মীদের দল-
নজরুল ইসলাম, যিনি ক্ষমতার প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, ‘আমি বিদ্রোহী রণক্লান্ত, আমি সেই দিন হব শান্ত, যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দনরোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না।’
লালন ফকির, যিনি সমাজের ভণ্ড ধর্মবাজদের মুখোশ খুলে দেখিয়েছিলেন মানুষ নামের মহাসত্য।
চিন্তাশীল নাট্যকার সেলিম আল দীন, কবি আল মাহমুদ, চলচ্চিত্রকার তানভীর মোকাম্মেল- তাঁরা প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গায় সত্য বলার দায় নিয়েছিলেন।
তাদের শিল্প বাণিজ্যিক ছিল না, ছিল মানবিক; তারা জনতার কণ্ঠস্বর ছিলেন, পৃষ্ঠপোষকের নয়।
বর্ণচোরা সংস্কৃতিকর্মীরা এই সত্যিকারের শিল্পীর বিপরীতধর্মী সত্তা- তাদের মধ্যে নেই কোনো আত্মত্যাগ, কেবল আত্মপ্রচার।
৮. সংস্কৃতির নৈতিক সঙ্কট: মঞ্চে মুখোশ, অন্তরে শূন্যতাঃ
আজকের সাংস্কৃতিক পরিসরে আমরা দেখি এক বিভ্রান্ত চিত্র-
যেখানে উৎসব আছে, কিন্তু আত্মা নেই; গান আছে, কিন্তু কথা নেই; নাটক আছে, কিন্তু প্রতিবাদ নেই।
সংস্কৃতি আজ অনেক সময় হয়ে উঠেছে ‘ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট’-
যেখানে শিল্পী নয়, জনপ্রিয়তা মুখ্য;
যেখানে কবিতা নয়, স্লোগান বিক্রি হয়;
যেখানে দর্শকের চোখে জল নয়, সেলফির হাসি।
এই হলো মুখোশধারী ভদ্রলোকের যুগ- যারা নিজেদের সভ্য, শিক্ষিত ও প্রগতিশীল বলেন, কিন্তু তাঁদের সংস্কৃতি মাটি ও মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন।
৯. পুনর্জাগরণের আহ্বানঃ
তবু সব শেষ হয়ে যায়নি। বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে এখনো তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আছে কিছু আলোকিত মানুষ, যারা বর্ণচোরা পথকে প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজকে প্রশ্ন করছে।
তাদের কণ্ঠে এখনো আছে প্রতিবাদ, ভালোবাসা ও নৈতিকতার উচ্চারণ।
প্রয়োজন এক নতুন সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ-যেখানে শিল্পী আবার সত্য বলবে, ঝুঁকি নেবে, মানুষের পাশে দাঁড়াবে।
সংস্কৃতি তখনই বেঁচে থাকবে, যখন তা হবে আত্মা ও সমাজের মেলবন্ধন, হবে না কোনো বিজ্ঞাপন বা মুখোশের প্রদর্শনী।
১০. মুখোশ খুলে দেখার সময়ঃ
বর্ণচোরা সংস্কৃতিকর্মীরা সাময়িকভাবে সফল হতে পারে, কিন্তু ইতিহাসে টিকে থাকে না।
ইতিহাস মনে রাখে সত্যিকারের শিল্পীদের, যারা নির্ভীকভাবে উচ্চারণ করেন মানুষের বেদনা ও মুক্তির স্বর।
আজকের বাংলাদেশে সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো- মুখোশ নয়, মুখ দেখা।
আমাদের সময়ে দরকার এমন শিল্পী, যিনি ভদ্রলোকের মুখোশ খুলে বলতে পারেন,
‘আমি মানুষের প্রতিনিধি, ক্ষমতার নই।’
সংস্কৃতির পুনর্জন্ম শুরু হয় সেখানেই- যেখানে সত্য আবার কবিতার মতো উচ্চারিত হয়।
বর্ণচোরা সংস্কৃতিকর্মীরা নেতিবাচক সামাজিক রূপান্তরের ‘ব্ল্যাক আইকন’। এরা নীতি হারানো স্বার্থের অন্ধকারে নিমজ্জিত ব্যক্তি,ব্যবসায়ী।
ইতিহাস, সাহিত্য ও দর্শনের মাধ্যমে আমরা দেখেছি- ‘সংস্কৃতি টিকে থাকে সত্যে; মুখোশে নয়।’ তাই আশাবাদিতার উত্তরণও এখান থেকেই; প্রয়োজন মুখোশের উন্মোচন, জবাবদিহিতা ও প্রার্থিত সংস্কার।
তথ্যসূত্রঃ
১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সভ্যতার সংকট, (১৯৪১)-
আধুনিক সভ্যতার ভণ্ডামি, নৈতিক অবক্ষয় ও আত্মবিস্মৃত সমাজ নিয়ে রবীন্দ্রনাথের দার্শনিক বিশ্লেষণ, যা আজকের ‘বর্ণচোরা’ সংস্কৃতির সঙ্গে আশ্চর্যভাবে মিলে যায়।
২. কাজী নজরুল ইসলাম, সাম্যবাদী, বিদ্রোহী, ও দারিদ্র্য কবিতা-
সংস্কৃতি ও সাহিত্যে নৈতিক সাহসের প্রতীক। নজরুলের দৃষ্টান্ত দেখায় কিভাবে সত্যিকারের সংস্কৃতিকর্মী কোনো ক্ষমতার দাস নন।
৩. আহমদ ছফা, বাংলাদেশে এলিট শ্রেণি ও সংস্কৃতি (প্রথম প্রকাশ: ১৯৮১)-
এখানে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে স্বাধীনতার পর সংস্কৃতি একটি শ্রেণিগত অস্ত্র হয়ে ওঠে, এবং কীভাবে বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতিকর্মীরা ধীরে ধীরে ‘সুবিধাভোগী’ শ্রেণির অংশ হয়ে যায়।
৪. সেলিম আল দীন, বাংলা নাট্য ও সমাজচেতনা (প্রবন্ধ সংকলন)-
তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘সংস্কৃতি হলো ক্ষমতার সমালোচনামূলক চেতনা’- যা আজ অনেকের কাছে পরিণত হয়েছে কেবল পৃষ্ঠপোষকতার কৌশলে।
৫. আল মাহমুদ, কাব্য সংগ্রহ ও অদ্ভুত আঁধার এক-
তার কবিতায় আমরা দেখি শিল্পের অন্তর্নিহিত সত্যনিষ্ঠা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্ন, যা বর্ণচোরা সংস্কৃতিকর্মীর বিপরীতে দাঁড় করায় এক স্বচ্ছ মানবিক দৃষ্টি।
৬. তানভীর মোকাম্মেল, সাক্ষাৎকারসমূহ (প্রথম আলো, সংবাদ, সমকাল)-
বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি তুলে ধরেছেন চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির বাজারীকরণ নিয়ে তার উদ্বেগ;
তিনি বলেছেন, ‘সংস্কৃতি যখন প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির দাস হয়ে পড়ে, তখন তা মানুষের নয়, পৃষ্ঠপোষকের মুখপাত্র হয়ে ওঠে।’
৭. হুমায়ুন আজাদ, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও প্রতিরোধের কৌশল (প্রবন্ধ)-
যেখানে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন কীভাবে সংস্কৃতি রাজনৈতিক দখলদারিত্বের মাধ্যমে নিজস্ব ভাষা হারায় এবং মুখোশধারী ভদ্রলোকেরা হয়ে ওঠে সংস্কৃতির বিক্রেতা।
8. মাও সেতুং On Contradiction (1937)-
সমাজ ও সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত বৈপরীত্য বিশ্লেষণে এই গ্রন্থটি দেখায়, কিভাবে ‘আদর্শ ও স্বার্থের সংঘর্ষ’ থেকেই বর্ণচোরার জন্ম।
৯. লালন ফকিরের দোহা ও ভাবসংগীত-
‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি- এই দার্শনিক বাণী দেখায়, সত্যিকারের সংস্কৃতি মানে আত্মপরিশুদ্ধি, ভণ্ড মুখোশ নয়।
১০. বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক সংবাদ ও গবেষণা প্রতিবেদনসমূহঃ
‘সংস্কৃতির বাজারীকরণ: শিল্পের আত্মা না বাণিজ্য?’, দৈনিক প্রথম আলো, ১৫ মার্চ ২০২৩।
‘সংস্কৃতির রাজনীতি ও রাজনীতির সংস্কৃতি’, দৈনিক সমকাল, ২০ আগস্ট ২০২৪।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রকাশনা (২০২২): ‘সংস্কৃতি ও সমাজ: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত।’
লেখকঃ কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক।








