প্রেসক্লাব হতে হবে একটা, তা না হলে আমাকে ডাকবেন না : তথ্যমন্ত্রী

সাহিত্য বাজার

Sharing is caring!

প্রেসক্লাব হতে হবে একটা, তা না হলে আমাকে ডাকবেন না : তথ্যমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিবেদক

বক্তব্য রাখছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন 

কিছু লোকের অপকর্মের কারণে সাংবাদিকতার মতো মহান পেশা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আপনাদের প্রেসক্লাব হতে হবে একটা, তা না হলে আমাকে ডাকবেন না বলে স্পষ্ট সাংবাদিকদের বিভক্তি দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, এ কারণে অনেকে বিরক্ত হয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিতে লজ্জা পান বলেও আমাকে জানিয়েছেন।

গত রোববার (২২ মার্চ) বরিশালের আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জহির উদ্দিন স্বপন গৌরনদী আগৈলঝারা এলাকার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন। এসময় তিনি বলেন, আগৈলঝাড়ায় যারা সাংবাদিক পরিচয় দেন, সেই পরিচয় সম্পর্কে যদি কোনো তর্ক থাকে, কথা থাকে বা বিতর্ক থাকে সেটি নির্ধারণ করবেন আপনারা সাংবাদিকরাই। আমাদের নির্ধারণ করার কোনো দরকার নেই। কে ছোট সাংবাদিক, কে বড় সাংবাদিক, কে লেখাপড়া জানে, কে জানে না—এগুলো আমাদের দেখার দরকার নেই, কারণ আমরা পাঠক। যারা প্রেসক্লাবের নেতৃত্ব দেবেন তারা একটা টিম করে বলবেন। আপনারা যাকে ভালো বলবেন সে ভালো, আর যাকে বলবেন সাংবাদিকতার নামে ব্ল্যাকমেইল করে, তার বিষয়টি আমরা ওইভাবে দেখবো।
তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, আগৈলঝাড়াতে যতগুলো সাংবাদিক সংগঠন রয়েছে, সেগুলোতে যে কেউ তার খুশিমতো যুক্ত হতে পারেন, কিন্তু প্রেসক্লাব হতে হবে একটা। আজকের পরে যদি প্রেসক্লাব একটা থাকে তাহলে আসবো, আর না থাকলে আমাকে ডাকবেন না, আমি চা খেতেও আসব না।
মন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞ পেশায় থেকে গণমাধ্যমের কর্মী বা সাংবাদিক হিসেবে প্রতিদিন আপনার পাঠকদের যেভাবে সংবাদ পরিবেশন করেন, তাতে আপনারা ঐক্যবদ্ধভাবে একটা ক্লাব করতে পারবেন না কেন?
‘সাংবাদিকতার মতো পেশাগুলোতে থেকে কেউ বিত্তবান হয় না। এ ধরনের পেশাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে রাখতে হয়। সেটা সারা দুনিয়াতেই তাই। বড় বড় শিল্পী, বড় বড় গায়ক কিংবা বড় বড় লেখকরা লিখে ততটা বিত্তবান হয় না, সারাজীবনই দেখা যায়, রাষ্ট্র, রাজ্য, রাজা, সমাজ তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয়। কারণ এটা একটা প্রতিভা, এটা কায়িক পরিশ্রমের কাজ না যে শরীরে বল আছে করলাম। এতে এক ধরনের মেধা ও যোগ্যতা লাগে। কিন্তু এখানে তারা যদি তাদের পরিচয়ের সংকট থেকে উদ্ধার পেতে না পারে, তাহলে রাষ্ট্র ও সমাজ তো বিব্রত হয়ে যায়।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতার মতো মহান পেশা কতিপয় লোকের কারণে খুব বিতর্কিত হয়ে পড়েছে। অনেকে বিরক্ত হয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিতে লজ্জা পান বলেও আমাকে জানিয়েছেন। তখন তাদের আমি সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বলি, আমি যে রাজনীতিবিদ এই পরিচয় দিতেও লজ্জা পাই। কারণ রাজনীতির নামে যা হচ্ছে তাও পরিচয় দেওয়ার মতো না। ফলে সাংবাদিকরা সাবধান, রাজনীতিবিদরা কিন্তু সাবধান হয়েছে। বিশেষ করে গত ৫ আগস্টের পরে রাজনীতিবিদরা টের পেয়ে গেছে। এখন অপসাংবাদিকতা যারা করে তাদেরও টের পাওয়ার একটা প্রক্রিয়া তৈরি করতে হবে, যাতে সৎ সাংবাদিকরা বাঁচে। যাতে সৎ সাংবাদিকদের যেন কেউ ব্ল্যাকমেইলার না বলে। ভাগ্য ভালো সবার সাথে আমার একটা সম্পর্ক থাকায় তাদের পরামর্শ নিয়ে আমি সাংবাদিকতাকে সম্মানজনক অবস্থানে নিতে চাই। আশা করি খুব দ্রুত মহান সাংবাদিকতা পেশাকে দ্রুত সম্মানজনক কাঠামোতে দাঁড় করাতে পারব এবং এর জন্য সংবাদপত্র মালিক, সাংবাদিকসহ সরকার তিন পক্ষ মিলে বৈঠকের মধ্য দিয়ে প্রক্রিয়া বের করবো।
এসময় তিনি পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পরিণতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রীকে যদি জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতে হয়, তাহলে গণমাধ্যমে যারা কাজ করেন তাদেরও জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতে হবে। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী হলে যখন যা খুশি তাই করা যায় না, তার প্রমাণ তো শেখ হাসিনা। তেমনি কোনো গণমাধ্যম, কোনো সাংবাদিক বা কোনো সংবাদপত্রের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড থাকলেই কিন্তু যা তা করা যাবে না।
বরিশালের আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের উদ্যোগে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এফএম নাজমুল রিপনের সঞ্চালনায় এবং সভাপতি শামীমুল ইসলাম শামীমের সভাপতিত্বে ঈদ পুনর্মিলনী সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বণিক, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শিকদার হাফিজুল ইসলাম, সদস্যসচিব মোল্লা বশির আহাম্মেদ পান্না, আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সর্দার হারুন রানা, মো. সাইফুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. মাসুম হাওলাদার প্রমুখ।
পরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন উপজেলা পরিষদ হলরুমে সব শ্রেণি-পেশার লোকজনের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

Print Friendly, PDF & Email

Sharing is caring!