হায় আফশোস না করে, পরাজয় থেকে জয়ের শিক্ষা নিন: শান্তা মারিয়া

অতিথি লেখক

Sharing is caring!

হায় আফশোস না করে, পরাজয় থেকে জয়ের শিক্ষা নিন
শান্তা মারিয়া

Oplus_131072

ডাকসু নির্বাচনে কেন এমন ভরাডুবি হলো বিএনপি এবং বামদলের? হারার কারণ বিশ্লেষণ করুন। যদি সত্যিই কারচুপি হয়ে থাকে তাহলে সেটা টু দি পয়েন্ট চিহ্নিত করুন। হাওয়ার উপরে ‘কারচুপি হয়েছে’ বললে মানুষ হাসবে। লুডু খেলায় ছক্কা না উঠলেই চোট্টামি বলাও যা, ইলেকশনে হারলেই কারচুপির জিকির তোলাও তা।

আগে দেখুন, (কারচুপি না হয়ে থাকলে ) কেন হারলেন। ডাকসু নির্বাচনের ভরাডুবি থেকে শিক্ষা নিন, যেন জাতীয় নির্বাচনে একই ঘটনা না ঘটে। আওয়ামী লীগ এখন জামায়াতের কাঁধে বন্দুক রেখে শিকার করছে এটা কি বুঝতে পারছেন? যদি বুঝতে পারেন তো এখনও উদ্ধারের উপায় আছে।

আগে বুঝতে হবে বাংলাদেশের জনগণ কি চায়। জনগণ কোন অবস্থাতেই ভারতের দিকে ঝুঁকে পড়া দলগুলোকে চায় না। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের মানুষ কেন ভালোবাসে? কারণ তিনি ভারতমুখীতা থেকে বের হয়ে বাংলাদেশের কথা বলেছিলেন। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ হলো বাংলাদেশের স্বার্থকে সবার উপরে রাখার চিন্তা ও আদর্শ। এখন বিএনপি যদি ভারতের প্রেমের ডাকে সাড়া দেয় তাহলে তাদের দিক থেকেও জনগণ মুখ ফিরিয়ে নিবে।

বামপন্থী রাজনীতির জনপ্রিয়তার মূল কারণ ছিল তারা একসময় জনগণের কথা বলতো। সাম্যের ডাক দিত। শ্রমিক, কৃষকের, ছাত্রের, জনতার কথা বলতো। বামরাজনীতির কবর খোঁড়া শুরু হয়েছিল বাকশালে যোগ দেয়ার মাধ্যমে।

সেই ‘পাপ’ লোকে ভুলে গেলেও পরবর্তিকালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রেম-প্রেম মধুর ভাব তাদের নিজেদের সর্বনাশ ডেকে এনেছে। আমি দেশের বহু সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের মনোভাব জানার জন্য। বেশিরভাগ সাধারণ মানুষ মনে করে আওয়ামী লীগ ও বামরাজনীতি একই গাছের দুই ডাল। এই পালে আরও হাওয়া দিয়েছিল ইনু-মেনন চক্রের আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বাঁধার ঘটনা।

বাম রাজনীতি একসময় ( মাওলানা ভাসানী, সিরাজ সিকদার, আবদুল হকদের সময়) ভারতীয় অধিপত্যবাদ বিরোধী ছিল। কিন্তু এখন বেশিরভাগ বড় বামদলগুলো ভারতের সুরে গান গায়। বাংলাদেশের মানুষ কিছুতেই এই গানে তাল মিলাবে না।
বাম রাজনীতিকে যদি নিজেদের পৃথক চেহারা, স্বতন্ত্র চেহারা, প্রগতিশীল চেহারা, সাধারণ ছাত্র-জনতার কাছে তুলে ধরতে হয় তাহলে আওয়ামী লীগকে গোপনে গোপনে তালাক দিলে হবে না, একেবারে গলা উঁচু করে হাটে মাঠে ঘাটে দাঁড়িয়ে বাইন তালাক ঘোষণা করতে হবে। সেইসঙ্গে ভারতীয় আধিপত্যবাদী মোদী সরকারকে তীব্র ভাবে প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশের নিজের স্বার্থ সবার উপরে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরুন। আমি জানি আপনারা তা করেন। কিন্তু ভাই বিজ্ঞাপন না দিয়ে ব্যবসা করা আর অন্ধকারে কারও দিকে মিষ্টি হাসা একই বিষয়। আপনি কি করছেন তা আপনি জানেন, অন্য কেউ জানে না।

আপনারা কী চান, কিভাবে দেশকে পরিচালিত করতে চান সেই রূপরেখা স্পষ্ট করে, স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরুন। রাজনীতির মাঠে মেঠো-ভাষাতেই কথা বলতে হয়, ভদ্রলোকের ভাষা ড্রইংরুমে চলে , হাটে মাঠে চলে না।
জামায়াত ছাড়া সব দলগুলোকেবলতে চাই, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগনের ধর্মীয় মূল্যবোধকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মন জয় করা যাবে না। একথা বুঝতে হবে। কারণ গত পঞ্চাশ বছরে ড্রইংরুমে বসে ‘আমরাও প্রতিবাদ করতে জানি’ বলে গান গেয়েছেন, অন্যদিকে গ্রামে গ্রামে ওয়াজ করে দেশের মানুষের মগজ ধোলাই সম্পন্ন হয়েছে। কওমী জননী সেই মগজ ধোলাইকে পৃষ্ঠপোশকতা করেছেন নিজের একচ্ছত্র রাজত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং বিএনপিকে সাইজ করতে। ‘হাসিনা গেলেই, দেশ আফগানিস্তান হবে’ এই জুজুর ভয় দেখিয়ে দেশটাকে হাতের মুঠোয় রেখেছেন।

এখন এই জুজুকে তাড়ানোর সময় এসেছে। বাংলাদেশ যেন ধর্মীয় রক্ষণশীল মৌলবাদী দেশে পরিণত না হয় সেজন্য এখন জানপ্রাণ এক করুন।

এখন বাংলাদেশকে বাঁচানোর জন্য খোলা আছে একটাই পথ।
বিএনপি এবং বামদলগুলোর উচিত বাংলাদেশের জাতীয়তা (তারমানে ভারতীয় আধিপত্যবাদী স্বার্থ না দেখে, দেশের স্বার্থ দেখা) এবং সেকথা জোরে প্রচার করা), সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের আবেগ (ইসলামী মূল্যবোধ) এবং ধর্মীয় সহনশীলতাকে কেন্দ্র করে জনগণকে মডারেট একটা আদর্শে অনুপ্রাণিত করা।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মাওলানা ভাসানী এবং মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানীকে উচ্চ মূল্যায়ন করেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি দেশের জনগণের ভালোবাসা অর্জনে অনেক এগিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি দেশ থেকে অরাজকতা ও দুর্নীতি, লুটপাট বন্ধ করতে পেরেছিলেন। ভারত-প্রেম থেকে দেশের মুখ ঘুরিয়ে দিয়ে ছিলেন। সার্ক গঠনের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর সঙ্গে মৈত্রীজোট গঠন করেছিলেন। এখন এই পথেই হাঁটতে হবে।

চরম রক্ষণশীল ডানপন্থী শক্তিসমূহকে পরাজিত করতে হলে গণতন্ত্র ও উদারতা হোক জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ও বামশক্তির জয়ের পাথেয়।
#শান্তামারিয়ারলেখা

Print Friendly, PDF & Email

Sharing is caring!