ডাকসু নির্বাচন: আজ ভোট দেবেন প্রায় চল্লিশ হাজার শিক্ষার্থী 

আরিফ আহমেদ

Sharing is caring!

শেষ হলো ডাকসু প্রচারণা কাল নির্বাচন: ভোট দেবেন প্রায় চল্লিশ হাজার শিক্ষার্থী  / অনলাইন
জরিপে এগিয়ে ছাত্র শিবির 
আরিফ আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক 

oplus_0

দীর্ঘ ছয় বছর পর ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নবম ডাকসু নির্বাচন। এই নির্বাচন ২৮ পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ৪৭১ জন এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন প্রায় চল্লিশ হাজার শিক্ষার্থী।

গুরুত্বপূর্ণ ৯টি প্যানেল থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তিন শতাধিক প্রার্থী। বাকিরা অংশ নিচ্ছেন স্বতন্ত্র হিসেবে। প্রার্থীদের সবাইকেই চমৎকার ও সুশৃঙ্খল প্রচার প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা গেছে। ৬ সেপ্টেম্বর  টিএসসিতে ডেবেটিং এ নিজেদের ইশতেহার নিয়ে আলোচনা করতে দেখা গেছে ভিপি প্রার্থীদের। এছাড়াও  গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের ইশতেহার বাস্তবায়নের কৌশল নিয়েও আলোচনা করতেও দেখা গেছে কোনো কোনো প্রার্থীকে। ৭ সেপ্টেম্বর রাত দশটায় শেষ হচ্ছে তাদের এই প্রচার প্রচারণা। যে কারণে রবিবার সকাল থেকেই শেষ মূহুর্তের প্রচারণায় ব্যাস্ত দেখা গেছে বেশিরভাগ প্রার্থীকেই। বলা যায়,  ৪৭১ জন প্রার্থীর সবাই যার যার মতো ব্যস্ত প্রচারণা চালিয়েছন শেষ মূহুর্তে।
এই নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ভিপি, জিএস, এজিএসসহ কয়েকটি পদ। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর কোন পদে কে যোগ্য, তা নিয়েও ক্যাম্পাস জুড়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এবারের  ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে বৈধ প্রার্থী  ৪৩ জন। আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের ভোটে ৪৩ জনের নামই থাকবে ব্যালট পেপারে। যদিও এই ৪৩ জন প্রার্থীর সবাইকে চেনেন না খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই। ক্যাম্পাসের উৎসবমুখর প্রচারণা ও আলোচনায় রয়েছেন হাতে গোনা কয়েকজন। ঘুরে ফিরে তাদের নামই উঠে আসছে গণমাধ্যমে। টকশো থেকে শুরু করে সব অনুষ্ঠানেও ডাক পড়ছে আলোচিত কয়েকজনের।
ক্যাম্পাসে সশরীরে কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রচারণায় ভিপি পদে ১০ প্রার্থীর মুখ পরিচিত হয়ে উঠেছে সবার কাছে। কলাভবনের অশ্বত্থ গাছের নীচে মুখোমুখি অনুষ্ঠানে কিম্বা গণমাধ্যমের বিভিন্ন আয়োজনেও তাদের সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে বেশি আলোচনায় ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের আবিদুল ইসলাম খান, ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট প্যানেলের সাদিক কায়েম, বাগছাস সমর্থিত বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের আব্দুল কাদের, স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যের উমামা ফাতেমা, বামজোটের প্যানেল প্রতিরোধ পর্ষদের শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি। আলোচনায় রয়েছেন ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত ডাকসু ফর চেঞ্জ প্যানেলের বিন ইয়ামীন মোল্লা, স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম হোসেন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন সমর্থিত সচেতন শিক্ষার্থী সংসদের ইয়াছিন আরাফাত ও সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদের জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে গত ২১ আগস্ট রাতে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে ডাকসুর নির্বাচন কমিশন। তাতে ৪৪ জন প্রার্থীর নাম রয়েছে। নির্বাচনে বৈধপ্রার্থীদের নামের প্রথম বাংলা অক্ষর বিবেচনায় নিয়ে তালিকা ও ব্যালট নম্বর সাজানো হয়েছে। তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে আবদুল ওয়াহেদের নাম। তিনি স্বতন্ত্র ভিপিপ্রার্থী। ওয়াহেদ আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী। থাকেন সূর্যসেন হলে। তার ব্যালট নম্বর ১। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। এর মধ্যে ২০ হাজার ৮৭৩ জন ছাত্র এবং ১৮ হাজার ৯০২ জন ছাত্রী ভোটার রয়েছেন।
এদিকে অনলাইনের গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্টসহ বেশকিছু জরিপে দেখা গেছে এবারের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্র শিবির ও ছাত্রদলের প্যানেল এগিয়ে রয়েছে। তবে ভিপি পদে সাদিক কায়েম সবখানে এগিয়ে। দৈনিক যুগান্তর ও ওপেন দ্য আইস এর সাংবাদিক মাসুম মাহবুব এর জরিপে সাদিক কায়েম অন্যদের তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছেন। ১৯ হাজার ভোটারের মধ্যে ৮৯% ভোট সাদি কায়েমের। তবে অনলাইন এই জরিপের ফলাফল এখানে গুরুত্ব বহন করেনা বলে জানালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে আড্ডারত অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী। তাদের দাবী, অনলাইনে শিক্ষার্থীদের তুলনায় সমর্থকদের অংশগ্রহণ বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় চল্লিশ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে কতজন এতে অংশ নিয়েছেন তা কি উল্লেখ আছে, না কি তা বোঝার উপায় আছে। তাই অনলাইন নয়, ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে ফলাফল বুঝতে।
এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বরিশালের সন্তান মহিউদ্দিন রনি ও শাহরিয়ার তুষার প্রার্থী হয়েছেন এই নির্বাচনে। রনি লড়ছেন এজিএস পদে। সাহিত্য সম্পাদক পদে লড়ছেন তুষার।  শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বিষয় তুলে ধরে তারা বলেন, ঢাবি প্রশাসন শিক্ষার্থীদের মেধার মূল্যায়ন হিসেবে কীটপতঙ্গের মতো জীবনযাপন উপহার দিয়েছে। তারা এখন পর্যন্ত শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করতে পারেনি। স্বাধীনতার পর এতো বছরের মধ্যে সবাই তাদের দলীয় স্বার্থ হাসিলের জন্য কাজ করেছে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো কাজ করেনি বলে দাবী রনির। তুষার চাইছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস থেকে তরুণ সাহিত্যিকদের গ্রন্থ প্রকাশ করতে।
ভোটের মাঠে দেখা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কেউ কেউ আগে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে আলোচনায় আছেন। আবার কেউ কেউ ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন।
সব আলোচনা ও জল্পনা কল্পনার অবসান হবে ৯ সেপ্টেম্বর রাতের মধ্যেই।
ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের চাপ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। ৬ সেপ্টেম্বর  বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, ব্যালট পেপার প্রস্তুত করা, ভোটকেন্দ্রের বুথ তৈরি করার কাজগুলো এখন চলমান রয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কাজও চলছে। নির্বাচনে যত স্বচ্ছতা আনা যায়, সেই বিষয়গুলো নিশ্চিত করছেন তাঁরা।
প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা আরো বলেছেন, নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিবেশ পরিস্থিতি সবকিছু ভালো। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য বুথের সংখ্যা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এসময় সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, যে অভিযোগগুলো আসছে, সেগুলোর প্রতিকারে দিন-রাত কাজ করছেন তাঁরা।
Print Friendly, PDF & Email

Sharing is caring!

About the author

ডিসেম্বর ৭১! কৃত্তনখোলার জলে সাঁতার কেটে বেড়ে ওঠা জীবন। ইছামতির তীরঘেষা ভালবাসা ছুঁয়ে যায় গঙ্গার আহ্বানে। সেই টানে কলকাতার বিরাটিতে তিনটি বছর। এদিকে পিতা প্রয়াত আলাউদ্দিন আহমেদ-এর উৎকণ্ঠা আর মা জিন্নাত আরা বেগম-এর চোখের জল, গঙ্গার সম্মোহনী কাটিয়ে তাই ফিরে আসা ঘরে। কিন্তু কৈশরী প্রেম আবার তাড়া করে, তের বছর বয়সে তের বার হারিয়ে যাওয়ার রেকর্ডে যেন বিদ্রোহী কবি নজরুলের অনুসরণ। জীবনানন্দ আর সুকান্তে প্রভাবিত যৌবন আটকে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পদার্পন মাত্রই। এখানে আধুনিক হবার চেষ্টায় বড় তারাতারি বদলে যায় জীবন। প্রতিবাদে দেবী আর নিগার নামের দুটি কাব্য সংকলন প্রশ্ন তোলে বিবেকবানের মনে। তার কবিতায়, উচ্চারণ শুদ্ধতা আর কবিত্বের আধুনিকায়নের দাবী তুলে তুলে নেন দীক্ষার ভার প্রয়াত নরেণ বিশ্বাস স্যার। স্যারের পরামর্শে প্রথম আলাপ কবি আসাদ চৌধুরী, মুহাম্মদ নুরুল হুদা এবং তৎকালিন ভাষাতত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজীব হুমায়ুন ডেকে পাঠান তাকে। অভিনেতা রাজনীতিবিদ আসাদুজ্জামান নূর, সাংকৃতজন আলী যাকের আর সারা যাকের-এর উৎসাহ উদ্দিপনায় শুরু হয় নতুন পথ চলা। ঢাকা সুবচন, থিয়েটার ইউনিট হয়ে মাযহারুল হক পিন্টুর সাথে নাট্যাভিনয় ইউনিভার্সেল থিয়েটারে। শংকর শাওজাল হাত ধরে শিখান মঞ্চনাটবের রিপোটিংটা। তারই সূত্র ধরে তৈরি হয় দৈনিক ভোরের কাগজের প্রথম মঞ্চপাতা। একইসমেয় দর্শন চাষা সরদার ফজলুল করিম- হাত ধরে নিযে চলেন জীবনদত্তের পাঠশালায়। বলেন- মানুষ হও দাদু ভাই, প্রকৃত মানুষ। সরদার ফজলুল করিমের এ উক্তি ছুঁয়ে যায় হৃদয়। সত্যিকারের মানুষ হবার চেষ্টায় তাই জাতীয় দৈনিক রুপালী, বাংলার বাণী, জনকণ্ঠ, ইত্তেফাক, মুক্তকণ্ঠের প্রদায়ক হয়ে এবং অবশেষে ভোরেরকাগজের প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়ান ৬৫টি জেলায়। ছুটে বেড়ান গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। ২০০২ সালে প্রথম চ্যানেল আই-্র সংবাদ বিভাগে স্থির হন বটে, তবে অস্থির চিত্ত এরপর ঘনবদল বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, আমাদের সময়, মানবজমিন ও দৈনিক যায়যায়দিন হয়ে এখন আবার বেকার। প্রথম আলো ও চ্যানেল আই আর অভিনেত্রী, নির্দেশক সারা যাকের এর প্রশ্রয়ে ও স্নেহ ছায়ায় আজও বিচরণ তার। একইসাথে চলছে সাহিত্য বাজার নামের পত্রিকা সম্পাদনার কাজ।