৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচন: ৪৭১ প্রার্থীর প্রচার প্রচারণায় মুখরিত ঢাবি
বিশেষ প্রতিবেদক
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচনের দিন তারিখ নির্ধারণ হয়েছে। আর এ লক্ষ্যে ৪১৭ জন প্রার্থীর প্রচার প্রচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৪৫ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৯ জন এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ২৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে ১৭ জন, কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে ১১ জন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে ১৪ জন, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ১৯ জন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে রয়েছেন ১২ জন।
গত ২৫ আগস্ট বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭১ জনে। প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন জমা দেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ২৮ জন স্বেচ্ছায় প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন।
অপরদিকে, বাছাই প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া ১০ জন প্রার্থী আপিল না করায় তাদের মনোনয়নপত্রও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
এই মুহূর্তে আরো যারা প্রচার প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন তাদের মধ্যে গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ৯ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১৩ জন, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে ১২ জন, সমাজসেবা সম্পাদক পদে ১৭ জন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে ১৫ জন, মানবাধিকার ও আইন বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন এবং ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৫ জন প্রার্থী।
সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে সদস্য পদে। এবার মোট ২১৭ জন প্রার্থী সদস্য পদে লড়ছেন। সবমিলিয়ে ২৮টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন ৪৭১ জন প্রার্থী। তবে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে কোনো ছাত্র সংগঠনই এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কটি হলে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিতে পারেনি। ছাত্রীদের জন্য পাঁচটিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট হল আছে ১৮টি। এর মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সর্বোচ্চ ১৪টি হলে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিতে পেরেছে। ইসলামী ছাত্রশিবির ও গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ কোনো হলেই প্যানেল দেয়নি। অন্য ছাত্রসংগঠনগুলোরও একই অবস্থা।
ভিপি (সহসভাপতি) ও জিএসসহ (সাধারণ সম্পাদক) প্রতিটি হল সংসদে পদ আছে ১৩টি। সে হিসাবে সব হল মিলিয়ে মোট ২৩৪টি পদ আছে। এর বিপরীতে এবার প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে ১ হাজার ১০৮ জন শিক্ষার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ এবং গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ–সমর্থিত ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’–এর নেতারা বলছেন, নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে তাঁরা হলগুলোতে কোনো প্যানেল দিচ্ছেন না। তবে হল সংসদের নির্বাচনে যাঁরা প্রার্থী হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অনেককে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁরা।
২৫ আগস্ট সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৮টি হল সংসদে ২৩৪টি পদের জন্য ১ হাজার ৪২৭টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছিল। এর মধ্যে ১ হাজার ১০৯টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। বাকি ৩১৮টি জমা পড়েনি।
ইতিমধ্যে প্যানেল ঘোষণা করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ (গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ) এবং অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪ (বামপন্থী তিন সংগঠনের যৌথ প্যানেল)। এর আগে প্যানেল ঘোষণা করেছিল প্রতিরোধ পর্ষদ (বামপন্থী সাত ছাত্রসংগঠনের যৌথ প্যানেল), ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট (ইসলামী ছাত্রশিবির), ডিইউ ফার্স্ট (মাহিন সরকার নেতৃত্বাধীন স্বতন্ত্র প্যানেল), ডাকসু ফর চেঞ্জ, ভোট ফর চেঞ্জ (ছাত্র অধিকার পরিষদ), ছাত্র ফেডারেশন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন এবং সম্মিলিত ছাত্র ঐক্য (স্বতন্ত্র প্যানেল)। প্যানেল ছাড়াও অনেকে ডাকসুর বিভিন্ন পদে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করতে মনোনয়নপত্র কিনেছেন। তাঁদের মধ্যে সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রার্থী হওয়া জুলিয়াস সিজার তালুকদারকে নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা আছে। কারণ, তিনি একসময় ছাত্রলীগের (এখন নিষিদ্ধ) নেতা ছিলেন। বিভিন্ন পক্ষ তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দাবি তুললেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁর প্রার্থিতা বহাল রেখেছে।
এ সম্পর্কে চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেছেন, আজ থেকে ক্যাম্পাস জুড়ে প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচারণা চলছে। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এই পরিবেশ অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেভাবে চাইবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেভাবেই নিরাপত্তা দেবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিন স্তরের নিরাপত্তা থাকবে। প্রথম স্তরে থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি, দ্বিতীয় স্তরে পুলিশ, তৃতীয় স্তরে সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনী সীমিত পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবে, বিশেষকরে ভোট গণনার সময়। ৮টি কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ সম্ভব। তবে আলোচনার ভিত্তিতে তা বাড়তে পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আপাতত বাড়ানোর প্রয়োজন দেখছে না বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য: গত ২৯ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে ডাকসু নির্বাচনের দিন তারিখ নির্ধারণের ঘোষণা দেয়া হয়। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ভোট গ্রহণ হবে বলে জানান ডাকসু নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ৩০ জুলাই বুধবার। ভোটার তালিকার বিষয়ে আপত্তি জানানোর শেষ তারিখ ৮ আগস্ট।
ঘোষণানুযী এরপর ১১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বিতরণ করা শুরু হয় ১২ আগস্ট। ১৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হয়। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিলো ১৯ আগস্ট বেলা ৩টা।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হয় ২০ আগস্ট। এরপর প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে ২১ আগস্ট দুপুর ১২টায়। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ছিলো গত ২৪ আগস্ট দুপুর ১২টা পর্যন্ত। ২৫ আগস্ট বিকালে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয় এবং এতে সর্বমোট ৪৭১ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ পেয়েছে। এ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে সকাল ৮টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত। নির্বাচনের ফলাফলও ৯ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হবে।কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি হল সংসদের নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে।
সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালে। ২৮ বছর পর ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।








