হিরনের পর আস্থা এবার শিরিন: কাটেনা তবু সংশয়

আরিফ আহমেদ

Sharing is caring!

হিরনের পর আস্থা এবার শিরিন: কাটেনা তবু সংশয়
বিশেষ প্রতিবেদক 
একসাথে অনেকগুলো সুখবর বরিশালবাসীর জন্য। খুব শীঘ্রই তাদের কাঙ্ক্ষিত ফুটওভার ব্রিজ, আধুনিক শিশু হাসপাতাল, শ্রমজীবী মহিলা হোস্টেল, ৫টি খেলার মাঠ এবং নিরাপদ মহাসড়কের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে বরিশাল সিটি করপোরেশন। আর এ সুখবর জানাচ্ছেন সয়ং বরিশাল সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র বা প্রশাসক আইনজীবী বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ যন্ত্রণার অবসান হতে যাচ্ছে মহাসড়কের চৌমাথার কাজীপাড়া এলাকার অবৈধ শিশুপার্কটির ভগ্নাবশেষ থেকেও। এটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য রোডস এন্ড হাইওয়েকে সরাসরি মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই সংবাদে খুশি বরিশালের সুশীল সমাজ থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকরাও। ইতিপূর্বে নগরীর পরিচ্ছন্নতা অভিযানে শিরিন অনেকটাই প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরনকে মনে করিয়ে দিয়েছেন নগরবাসীর কাছে। এবার তার দাবী পুরনের পদক্ষেপ হিসেবে আধুনিক শিশু হাসপাতাল, কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল ও ৫টি খেলার মাঠের মধ্যে পরশ পুকুর ও মাঠটি ওয়াকওয়েসহ সৌন্দর্যবর্ধন তালিকায় অগ্রাধিকার পেয়েছে। যা নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে মৃদু গুঞ্জন শুরু হয়েছে, অনেকেই বলছেন, মেয়র হিরনের পর পুনরায় আমরা বরিশালের আপন কাউকে খুঁজে পেয়েছি।
এমনকি দীর্ঘদিন শিরিন এর বিপক্ষে থাকা অনেকেই এখন শিরিনের আন্তরিকতা ও বরিশালবাসীর জন্য ভালবাসার প্রমাণ পেয়ে তার ভক্ত হয়ে উঠেছেন। তবে এরমধ্যে আগে থেকেই অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত প্রমাণিত এমন কাউকে কাউকে শিরিনের পাশে ঘনিষ্ঠ হওয়া নিয়েও চলছে বিতর্ক। পুনরায় এদের কারণে উন্নয়ন সুবিধা বঞ্চিত হবার ভয় নগরবাসীর। তারউপর তার চারপাশে অসংখ্য তোষামোদকারী। যাদের কারণে সাধারণ মানুষ তার কাছে ঘেঁষার সুযোগও বঞ্চিত হবার শংকা। আবার তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগও রয়েছে যে মুখচেনা সাংবাদিকদের প্রাধান্য দেন তিনি, যারা সবসময় সুবিধাভোগী সব সরকারের সময়ে।
বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আইনজীবী বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন ৫ জুলাই পরবর্তী সময়ে ভুল তথ্য ও নিউজের কারণে দল থেকে বহিষ্কার হন এবং দীর্ঘ সময়  অনেকটা কোনঠাসা  অবস্থায় ছিলেন। অথচ ছাত্র রাজনীতি থেকে বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী তিনি। বরিশালের ব্রাউন কম্পাউন্ডে তার শৈশব কৈশোর ও যৌবনের যাত্রা। বরিশালের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেই গড়ে উঠেছে তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবন। ছাত্রজীবনে তাঁর রাজনীতির হাতেখড়ি ঘটে ছাত্রদলের মাধ্যমে। ১৯৮৭ সালে বিএম কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। তিন বছর পর এজিএস পদেও নির্বাচিত হন।
এরপর ধীরে ধীরে ছাত্র রাজনীতি থেকে জেলা পর্যায়ের রাজনীতিতে উঠে আসেন শিরিন । ১৯৯১ সালে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি এবং ১৯৯৬ সালে জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ২০০১ সালে তিনি সংরক্ষিত নারী আসনে বরিশালের সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৮ থেকে ২০২৪ বাংলাদেশের জন্য পুরো সময়টা যেন থমকে ছিলো। বড় বড় প্রকল্পের কাজ হচ্ছিল।  উন্নয়নও খুব একটা কম হয়নি তারপরও স্বৈরাচার পদ্ধতি ও মানহীন উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশের আপামর সাধারণ মানুষ। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী তখন রীতিমতো আন্ডারগ্রাউন্ডে নয়তো জেল হাজতে। এমন ভয়ংকর মূহুর্তেও শিরিনসহ বেশকিছু উল্লেখযোগ্য নেতৃত্ব বিএনপিকে সচল রেখেছিল। ৫ জুলাই ২০২৪ এর ছাত্র জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ও তাদের গঠিত সরকার পালিয়ে যায়। প্রাণ ফিরে আসে বাংলায়। আর এরকম একটি আনন্দ মূহুর্তে নিজ বাড়ির সামনের একটি পুকুর ভরাটের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ শিরোনাম হন বিলকিস জাহান শিরিন। ঐসময় খোদ পরিবেশ দপ্তরের কর্মকর্তা এসে সাক্ষ্য দেন, এর সাথে কোথাও তার সম্পৃক্ততা ছিলনা। তবুও দল থেকে বহিষ্কার হতে হয় তাকে এবং দলীয় নেতা তারেক রহমান দেশে ফেরার পর তার বহিষ্কার আদেশ বাতিল করা হয়। ১২ জানুয়ারি নির্বাচনে বিএনপির জয়লাভ। এর আগে দুটি বছর প্রশাসক নির্ভর বরিশাল সিটি করপোরেশনের বেহাল অবস্থা তৈরি হয়। তারও আগে ২০০৮ থেকে ২০১৩ সময়টা ছিলো বরিশাল সিটি করপোরেশনের স্বর্ণযুগ। ঐ সময় নগরীর উন্নয়ন অগ্রযাত্রার স্বপ্ন তৈরি হয়। বরিশাল বাসীর দাবী, ঐ সময় শওকত হোসেন হিরন মেয়র ছিলেন। আওয়ামী লীগের নেতারাই তাকে অসহযোগিতা করে আটকে দিত, তানা হলে তিনি  বরিশালের জন্য যেসব পদক্ষেপ নিয়েছিলেন আজ তার সবটাই আমরা খুঁজে পাচ্ছি শিরিনের কাজে। নগরীর একজন প্রবীণ বাসিন্দা হেমায়েত উদ্দিন শরীফ বলেন, ২০১৮ সাল থেকে বরিশাল সিটি করপোরেশন বন্ধাত্ব রোগে আক্রান্ত ছিলো মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়র নিয়ে। নগরীর পরিচ্ছন্ন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে গৃহ নির্মাণ, প্ল্যান পাস, উন্নয়ন ব্যবস্থা সবকিছু আটকে যায় বরিশালের। এমনকি স্থানীয় সরকারের সহযোগিতা পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আসেন আরেকজন ঘাটের মরা। সবই নিজেরা নিজেরা, বাপ, চাচা, ভাইপোদের রাজত্বে বরিশাল অর্ধমৃত হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের পর বিভাগীয় কমিশনারগণ প্রশাসক হয়ে দুটি বছর শুধু খাল পুনরুদ্ধারের নামে হরিলুটের সঙ্গী হয়েছেন বলে জানান এই প্রবীণ নাগরিক।
এরপর এই সমস্যার শহরেই নতুন প্রশাসকের দায়িত্ব পেলেন আইনজীবী বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। তিনি বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনে তাকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
১৪ মার্চ দায়িত্ব গ্রহনের পর তার এই যাত্রা শুরু হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহন করেই তিনি বলেছেন, শাসক হিসেবে না জনগনের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবো।
এই সময় তিনি কার্যত মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ করে নগরের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। কিন্তু এই দায়িত্ব কেবল একটি পদ নয়, বরিশালের জন্য এটি যেন নতুন প্রত্যাশার দরজা খুলে দিয়েছে । কারণ শিরিন বরিশালের নিজের মেয়ে।
বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান বরিশাল অডিটরিয়ামে তার দায়িত্বভার সদ্য ঘোষিত প্রশাসক শিরিনের কাছে হস্তান্তর করেন। তার আগে অডিটরিয়াম লাগোয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।
এসময় বরিশালের সমস্যা শোনেন শিরিন। নগরবাসীর মুখে সবচেয়ে বেশি যে অভিযোগ শোনা যায়, তার প্রথমেই আসে সুপেয় পানির সংকট। শহরের বহু এলাকায় এখনো নিয়মিত পানির সরবরাহ নেই। অনেক পরিবারকে নির্ভর করতে হয় গভীর নলকূপ কিংবা বিকল্প ব্যবস্থার ওপর।
বর্ধিত এলাকায় পানির সংযোগ নেই। তবুও বাড়ির প্লানের জন্য মালিকদেরকে প্রতিমাসে পানির বিল দিতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় এখনো সাঁকো রয়েছে।
দ্বিতীয় বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। বর্ষাকালে কিংবা ভারী বৃষ্টির পর শহরের বহু এলাকা দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকে। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ভরাট হওয়া খালগুলোকেই এর জন্য দায়ী করেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। বর্ষার সময় বর্ধিত এলাকার অধিকাংশ রাস্তা পানির নীচে চলে যায়। তাই রাস্তা পারাপারের জন্য তখন এলাকাবাসী নিজ খরচে বাঁশের সাঁকো তৈরী করে যাতায়াত করেন।
এই দুয়ের সঙ্গে শহরের প্রাণকেন্দ্রে যুক্ত হয়েছে যানজটের সমস্যা। নগরের প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বাড়লেও সেই অনুযায়ী ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসেনি। অনেক এলাকায় সড়কের অবস্থা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অনেক এলাকার ফুটপথ রয়েছে অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রনে।
পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও নগরীর  আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। দ্রুত বর্ধনশীল এই শহরে প্রতিদিন উৎপন্ন হওয়া বিপুল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সিটি করপোরেশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কোন ব্যবস্থা নেই। শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে বর্জ্য ফেলার কারনে অন্তত ৫০০ পরিবার স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন। তাদের স্বজনরা খোঁজ রাখেন না তাদের। এমনকি সামাজিক ভাবেও তারা অনেকটা সমাজচ্যুত।
এই বাস্তবতার মাঝেই দায়িত্ব নিয়ে প্রথমেই শিরিন ছুটে যান ৫ নম্বর ওয়ার্ডে বর্জ্য ফেলার স্থানে। নিজ চোখে দেখেন সেখানকার অবস্থা,  কথা বলেন বাসিন্দাদের সাথে। এবার শুরু হয় তার পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি।
শিরিন বলেন, বরিশালকে একটি পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরে রূপ দিতে ধাপে ধাপে কাজ শুরু করা হবে। তাঁর মতে, নাগরিক সমস্যাগুলোর সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগই সবচেয়ে জরুরি।
তিনি বলেন, সুপেয় পানির সংকট দূর করতে নতুন পানির উৎস খোঁজা ও বিদ্যমান সরবরাহ ব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। জলাবদ্ধতা কমাতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং খাল পুনরুদ্ধারের বিষয়েও কাজ করার পরিকল্পনার কথা বলেন তিনি।
যানজট কমাতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়, গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর সংস্কার এবং নগরের ভেতরে চলাচলের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন বিলকিস জাহান শিরিন ।
পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছেন নতুন প্রশাসক। যে কারণে ইতিমধ্যেই তিনি ফরিদপুরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং ঢাকায় এ বিষয়ে আয়োজিত কর্মশালায় অংশ নিয়েছেন।  তার ভাষায়, বরিশালকে শুধু সুন্দর শহর নয়, বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। নাগরিক সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
এই মুহূর্তে ঢাকায়  বরিশালের উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন বিলকিস জাহান শিরিন। তিনি স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সিটি করপোরেশনের প্রয়োজনীয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে সচেষ্ট বলে জানা গেছে।
Print Friendly, PDF & Email

Sharing is caring!

About the author

ডিসেম্বর ৭১! কৃত্তনখোলার জলে সাঁতার কেটে বেড়ে ওঠা জীবন। ইছামতির তীরঘেষা ভালবাসা ছুঁয়ে যায় গঙ্গার আহ্বানে। সেই টানে কলকাতার বিরাটিতে তিনটি বছর। এদিকে পিতা প্রয়াত আলাউদ্দিন আহমেদ-এর উৎকণ্ঠা আর মা জিন্নাত আরা বেগম-এর চোখের জল, গঙ্গার সম্মোহনী কাটিয়ে তাই ফিরে আসা ঘরে। কিন্তু কৈশরী প্রেম আবার তাড়া করে, তের বছর বয়সে তের বার হারিয়ে যাওয়ার রেকর্ডে যেন বিদ্রোহী কবি নজরুলের অনুসরণ। জীবনানন্দ আর সুকান্তে প্রভাবিত যৌবন আটকে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পদার্পন মাত্রই। এখানে আধুনিক হবার চেষ্টায় বড় তারাতারি বদলে যায় জীবন। প্রতিবাদে দেবী আর নিগার নামের দুটি কাব্য সংকলন প্রশ্ন তোলে বিবেকবানের মনে। তার কবিতায়, উচ্চারণ শুদ্ধতা আর কবিত্বের আধুনিকায়নের দাবী তুলে তুলে নেন দীক্ষার ভার প্রয়াত নরেণ বিশ্বাস স্যার। স্যারের পরামর্শে প্রথম আলাপ কবি আসাদ চৌধুরী, মুহাম্মদ নুরুল হুদা এবং তৎকালিন ভাষাতত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজীব হুমায়ুন ডেকে পাঠান তাকে। অভিনেতা রাজনীতিবিদ আসাদুজ্জামান নূর, সাংকৃতজন আলী যাকের আর সারা যাকের-এর উৎসাহ উদ্দিপনায় শুরু হয় নতুন পথ চলা। ঢাকা সুবচন, থিয়েটার ইউনিট হয়ে মাযহারুল হক পিন্টুর সাথে নাট্যাভিনয় ইউনিভার্সেল থিয়েটারে। শংকর শাওজাল হাত ধরে শিখান মঞ্চনাটবের রিপোটিংটা। তারই সূত্র ধরে তৈরি হয় দৈনিক ভোরের কাগজের প্রথম মঞ্চপাতা। একইসমেয় দর্শন চাষা সরদার ফজলুল করিম- হাত ধরে নিযে চলেন জীবনদত্তের পাঠশালায়। বলেন- মানুষ হও দাদু ভাই, প্রকৃত মানুষ। সরদার ফজলুল করিমের এ উক্তি ছুঁয়ে যায় হৃদয়। সত্যিকারের মানুষ হবার চেষ্টায় তাই জাতীয় দৈনিক রুপালী, বাংলার বাণী, জনকণ্ঠ, ইত্তেফাক, মুক্তকণ্ঠের প্রদায়ক হয়ে এবং অবশেষে ভোরেরকাগজের প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়ান ৬৫টি জেলায়। ছুটে বেড়ান গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। ২০০২ সালে প্রথম চ্যানেল আই-্র সংবাদ বিভাগে স্থির হন বটে, তবে অস্থির চিত্ত এরপর ঘনবদল বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, আমাদের সময়, মানবজমিন ও দৈনিক যায়যায়দিন হয়ে এখন আবার বেকার। প্রথম আলো ও চ্যানেল আই আর অভিনেত্রী, নির্দেশক সারা যাকের এর প্রশ্রয়ে ও স্নেহ ছায়ায় আজও বিচরণ তার। একইসাথে চলছে সাহিত্য বাজার নামের পত্রিকা সম্পাদনার কাজ।