<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>সাহিত্য &#8211; সাহিত্য বাজার</title>
	<atom:link href="https://shahittabazar.com/category/%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://shahittabazar.com</link>
	<description>সাহিত্যের আয়নায় মানুষের মুখ</description>
	<lastBuildDate>Fri, 14 Aug 2026 13:04:30 +0000</lastBuildDate>
	<language>bn-BD</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.0.4</generator>
	<item>
		<title>আমার সংস্কৃতি’ বনাম ‘তোমার সংস্কৃতি নয়: চাই দেশীয় সাংস্কৃতিক জাগরণ </title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%ae/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%ae/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 13 Aug 2026 18:13:22 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<category><![CDATA[দেশীয়]]></category>
		<category><![CDATA[শিল্প সাহিত্য]]></category>
		<category><![CDATA[সাংস্কৃতিক]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=6150</guid>

					<description><![CDATA[আমার সংস্কৃতি’ বনাম ‘তোমার সংস্কৃতির’ নয়: চাই দেশীয় সাংস্কৃতিক জাগরণ  (সাংস্কৃতিক মন্ত্রীর সাথে বিসিসি প্রশাসকের সাক্ষাৎএ বেড়েছে নতুন সম্ভাবনা )  , বিশেষ প্রতিবেদক <p></p> জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর বদলে গেছে বাংলাদেশের<span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%ae/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div id="m#msg-a:r6169648328697763076" class="mail-message expanded">
<div id="m#msg-a:r6169648328697763076-header" class="mail-message-header spacer"><strong>আমার সংস্কৃতি’ বনাম ‘তোমার সংস্কৃতির’ নয়: চাই দেশীয় সাংস্কৃতিক জাগরণ </strong></div>
<div id="m#msg-a:r6169648328697763076-content" class="mail-message-content collapsible zoom-normal mail-show-images ">
<div class="clear">
<div dir="auto">
<div dir="auto"><strong>(সাংস্কৃতিক মন্ত্রীর সাথে বিসিসি প্রশাসকের সাক্ষাৎএ বেড়েছে নতুন সম্ভাবনা ) </strong></div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"><strong>, বিশেষ প্রতিবেদক</strong></div>
<p><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/FB_IMG_1786596427461.jpg"><img decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-6151" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/FB_IMG_1786596427461-300x137.jpg" alt="" width="300" height="137" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/FB_IMG_1786596427461-300x137.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/FB_IMG_1786596427461-1024x468.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/FB_IMG_1786596427461-768x351.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/FB_IMG_1786596427461-1536x703.jpg 1536w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/FB_IMG_1786596427461.jpg 1600w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a></p>
<div dir="auto">জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর বদলে গেছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা। সেই পরিবর্তনের ঢেউ লেগেছে সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও। কোথাও দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চর্চার দাবি জোরালো হয়েছে, কোথাও ধর্মীয় মূল্যবোধনির্ভর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটছে। আবার দীর্ঘদিনের প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ধারার সংগঠনগুলোও নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। বিভাগীয় শহর বরিশালও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের নতুন তৎপরতার পাশাপাশি ভিন্ন মত ও আদর্শকে ঘিরে পৃথক সাংস্কৃতিক বলয়ও তৈরি হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে- জুলাই-পরবর্তী বরিশালে কি সত্যিই নতুন বাংলাদেশীয় সাংস্কৃতিক জাগরণ শুরু হয়েছে, নাকি সংস্কৃতির অঙ্গনেও পুরনো বন্দোবস্তের নতুন মেরুকরণ ঘটছে?</div>
<div dir="auto">ইতিপূর্বে বরিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে জাতীয় কবিতা পরিষদ, প্রগতি লেখক সংঘ ও বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের একচেটিয়া প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ছড়াকার তপংকর চক্রবর্তী, প্রয়াত নাজমুল হোসেন আকাশ, কাজল ঘোষ, শুভঙ্কর চক্রবর্তী, স্নেহাসু বিশ্বাস, অপূর্ব গৌতম, পার্থ সারথীসহ আরো অনেকে। তাদের নেতৃত্বে বরিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বাম ঘরানার চিন্তা-চেতনার প্রভাব ছিল বলে বিভিন্ন মহলের অভিযোগ। ভিন্ন মতের কাউকে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে দেখা গেলেই তাকে ‘মৌলবাদী’ ট্যাগ দিয়ে আটকে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।</div>
<div dir="auto">এর উদাহরণ হিসেবে ২০১১ সালে দক্ষিণ বাংলা সাহিত্য সম্মেলন এবং কবি শফিক আমিন ও দখিনের কবিয়াল জাহাঙ্গীর হোসাইন মানিকের আয়োজন পণ্ড করে দেওয়ার ঘটনা উল্লেখ করা হয়। পরে ‘সাহিত্য বাজার’-এর এক প্রতিবেদনে লেখকদের মধ্যে গ্রুপিংয়ের বিষয়টি উঠে আসে। সেখানে কবি শফিক আমিন মফস্বল সাহিত্য অঙ্গনে গ্রুপিং ও সিন্ডিকেটের কারণে সৃজনশীলতা নষ্ট হওয়ার কথা বলেন। অন্যদিকে অধ্যাপক তপংকর চক্রবর্তীও সাহিত্যচর্চায় গ্রুপিং ও সহনশীলতার অভাবের সমালোচনা করে সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান। এই বৈষম্যের কারণেই ২০২২  সালের জুন মাসে বরিশাল সাহিত্য সংসদ এবং ২০২৩ সালের মাঝামাঝি দক্ষিণ বঙ্গ সাহিত্য পরিষদ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।</div>
<div dir="auto">২৪ এর জুলাই বিপ্লবের পর বরিশালে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতৃত্ব ও তৎপরতায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। নতুন করে জাসাস, বরিশাল সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও দেশীয় সাংস্কৃতিক জোটকে ঘিরে একটি ঐক্যবদ্ধ সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম কিছুদিন সক্রিয় ছিল। বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের অবস্থান জানান দেয়। পরে রাজনৈতিক বাস্তবতার পরিবর্তনের সঙ্গে সেই ঐক্যেও বিভাজন দেখা দেয়। বিএনপি নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর জাসাস ও দেশীয় সাংস্কৃতিক জোট নিজেদের মতো করে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালাতে থাকে। জেলা শিল্পকলাকে কেন্দ্র করে তাদের তৎপরতা থাকলেও প্রত্যাশিত মাত্রায় প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি বলে সংশ্লিষ্টদের অনেকে মনে করেন।</div>
<div dir="auto">অন্যদিকে বরিশাল সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নিজেদের পৃথক সাংস্কৃতিক বলয় গড়ে তুলেছে। সীমিত পরিসরে হলেও নিয়মিত আয়োজন করছে তারা। হেরারশ্মিসহ কয়েকটি সংগঠনও বিভিন্নভাবে এ ধারার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। ফলে বরিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এখন রাজনৈতিক পরিচয়ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও দেশীয় সংস্কৃতিনির্ভর আয়োজনের প্রবণতাও দৃশ্যমান।</div>
<div dir="auto">বরিশাল সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক সাংবাদিক ও লেখক আজাদ আলাউদ্দিনের অভিযোগ, পতিত ফ্যাসিবাদের সহযোগীরা বিভিন্ন কৌশলে নিজস্ব সাংস্কৃতিক বলয় তৈরি করে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর আশঙ্কা, অতীতের মতো তারাই একদিন বর্তমান সরকারের গলা চেপে ধরবে।</div>
<div dir="auto">বরিশাল সাহিত্য সংসদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন মানিক বীরপ্রতীক মনে করেন, সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা সমাজের সুন্দর মনের মানুষদের কাজ হওয়া উচিত এবং সেখানে দল-মত নির্বিশেষে দৃষ্টিভঙ্গির জায়গা থাকা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, বিগত সময়ে সবকিছু দলীয়করণ করা হয়েছে। ভিন্নধারা বা ভিন্ন মতের মানুষকে কখনো জঙ্গি, কখনো রাজাকার ট্যাগ দিয়ে দমিয়ে রাখা হয়েছে। জুলাইয়ের পর তিনি পরিবর্তন আশা করলেও তা হয়নি বলে তাঁর দাবি। তাঁর মতে, ৮৫ ভাগ মুসলমানের দেশে সাংস্কৃতিক চর্চায় ধর্মীয় ভাবধারার প্রভাব থাকা স্বাভাবিক এবং ইসলামি সংস্কৃতির জাগরণ সমাজে নৈতিকতা বাড়িয়ে অশ্লীলতামুক্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে।</div>
<div dir="auto">জাসাস বরিশাল জেলা দক্ষিণ শাখার আহ্বায়ক এস এম সাব্বির নেওয়াজ সাগরের কাছে সাংস্কৃতিক জাগরণের প্রধান বিষয় বাংলাদেশের নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতিকে তুলে ধরা। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে নিজস্বতা রয়েছে, তাই লোক ঐতিহ্যকে সামনে আনা জরুরি। তিনি দাবি করেন, তারা কখনো বিভাজন চাননি। তবে গত ১৭ বছর উদীচী, ছায়ানট, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, জাতীয় সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সংগঠনের নামে বিভাজনের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ভারতের হিন্দি সাংস্কৃতিক বলয়ের উপকরণ বাংলাদেশের ঐতিহ্য হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে।</div>
<div dir="auto">এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কও সামনে এসেছে- কোনটি নিজস্ব সংস্কৃতি, কোনটি বহিরাগত প্রভাব এবং উপমহাদেশীয় সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানকে কীভাবে দেখা হবে? এর মধ্যেই বরিশালে নতুন করে সংগঠিত হয়েছে ‘গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য’। ফকিরবাড়ি রোডে অনুষ্ঠিত এক সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে নয় সদস্যের বরিশাল আঞ্চলিক কমিটি গঠন করা হয়। শাহ আজিজ খোকনকে আহ্বায়ক এবং অপূর্ব গৌতমকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য কামাল হোসেন বাদল, অধ্যাপক বীরেন রায়, অধ্যাপক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজিব রায়, লামিয়া সাইমুন, শামীম মাতুব্বর, ডা. মনীষা চক্রবর্তীসহ অনেকে বক্তব্য দেন। সভায় জোটের ঘোষণা, লক্ষ্য ও কর্মসূচির খসড়াও পাঠ করা হয়।</div>
<div dir="auto">জাতীয় পর্যায়ে ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকায় বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ৩১টি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন মিলে ‘গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য’ গঠন করে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা এ জোটের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সংগ্রামী ধারা অব্যাহত রাখা, অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, গ্রামীণ ও লোকসংস্কৃতির চর্চায় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মুক্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরি করা। তবে এই জোটও বিতর্কের বাইরে নয়। এখানের ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্মে পুরাতন বন্দোবস্তের নতুন যাত্রা স্পষ্ট।</div>
<div dir="auto">বরিশালের এই নতুন সাংস্কৃতিক তৎপরতার মধ্যেই অতীতের সাংস্কৃতিক চর্চা নিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার অভিযোগ তুলেছেন দক্ষিণবঙ্গ সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি শাহিন ভূইয়া। তাঁর অভিযোগ, প্রগতি লেখক সংঘ ও জাতীয় কবিতা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত থাকার সময় আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুর পর তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার কারণে কোনো নোটিশ বা আলোচনা ছাড়াই তাঁকে সংগঠনের কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি নিজেই দক্ষিণবঙ্গ সাহিত্য পরিষদ গড়ে তোলেন বলে জানান।</div>
<div dir="auto">তবে এ অভিযোগ নাকচ করেছেন সাবেক সভাপতি কবি গৌতম দাস। বর্তমান গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের বরিশালের সদস্যসচিব অপূর্ব গৌতম বলেন, তৎকালীন প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংগঠনের নীতিমালা অনুসরণ করেই সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে; কোনো ব্যক্তির একক মতামত এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাঁর দাবি, গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ে তোলার অন্যতম উদ্দেশ্য সাংস্কৃতিক চর্চার বৈষম্য দূর করা। সরকারের সাংস্কৃতিক খাতে বাজেট নেই বললেই চলে, এর বিরুদ্ধেও তাদের অবস্থান রয়েছে।</div>
<div dir="auto">অর্থাৎ একই ঘটনার দুটি ভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। শাহিন ভূইয়ার ভাষ্যে বিষয়টি ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক বঞ্চনার; অপূর্ব গৌতমের ব্যাখ্যায় সেটি ছিল সাংগঠনিক নীতিমালা অনুসরণের বিষয়। এখানেই বড় প্রশ্ন- একজন শিল্পীর ধর্মীয় বিশ্বাস বা রাজনৈতিক পরিচয় কি তাঁর শিল্পচর্চার সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচ্য হবে? একই সঙ্গে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের নিজস্ব ধারা, মানদণ্ড ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত  কি রাষ্ট্রীয় চেতনার  বাইরে হওয়া উচিত?</div>
<div dir="auto">জুলাই-পরবর্তী বাস্তবতায় প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে মুক্ত ও গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক পরিবেশের দাবি, অন্যদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধকে সাংস্কৃতিক চর্চায় প্রতিফলিত করার আকাঙ্ক্ষা, দুটি প্রবণতাই এখন শক্তিশালী।</div>
<div dir="auto">তবে এর মধ্যেই বরিশালের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির জন্য নতুন একটি প্রাতিষ্ঠানিক সম্ভাবনার কথাও সামনে এসেছে। ১২ আগস্ট বুধবার বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।বরিশাল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যেই তাঁর এ সাক্ষাৎ। ফলে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের দীর্ঘদিনের বিতর্কের পাশাপাশি নগরীর শিল্প-সাহিত্য- সংস্কৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষণ ও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।</div>
<div dir="auto">বরিশালে অন্তত তিন ধরনের সাংস্কৃতিক প্রবণতা এখন স্পষ্ট, ইসলামি মূল্যবোধকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক চর্চার বিস্তার, দেশীয় ইতিহাস ও লোকঐতিহ্যকে সামনে আনার উদ্যোগ এবং গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নামে নতুন সাংগঠনিক ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা। এর সঙ্গে যদি নগর প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও গবেষণার প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ যুক্ত হয়, তাহলে এই বহুমাত্রিকতাই বরিশালের বড় শক্তিতে পরিণত হতে পারে।</div>
<div dir="auto">কারণ সংস্কৃতি কোনো একক রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের সম্পত্তি নয়। বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে যেমন ইসলামি ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ রয়েছে, তেমনি রয়েছে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, লোকসংগীত, জারি-সারি, পালাগান, কবিতা, নাটক, আধুনিক সংগীত, আঞ্চলিক ঐতিহ্য এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নিজস্ব সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার। এগুলো পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে বৃহত্তর বাংলাদেশীয় সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বিভিন্ন স্তর হতে পারে।</div>
<div dir="auto"><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/FB_IMG_1786533848691.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignright wp-image-6153 size-medium" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/FB_IMG_1786533848691-300x155.jpg" alt="" width="300" height="155" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/FB_IMG_1786533848691-300x155.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/FB_IMG_1786533848691.jpg 720w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>এই জায়গাটিই জুলাই-পরবর্তী বরিশালের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জেলা শিল্পকলা একাডেমির মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা মতাদর্শিক বলয়ের নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ধারার সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। কে কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থক কিংবা কোন ধর্মীয় বিশ্বাসে বিশ্বাসী, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত শিল্পের মান, সৃজনশীলতা, আইন মেনে চলা এবং অন্যের সাংস্কৃতিক অধিকারকে সম্মান করা।</div>
<div dir="auto">জুলাইয়ের পর বরিশালে সাংস্কৃতিক তৎপরতা বাড়ছে, এতে নতুন সম্ভাবনাও রয়েছে। স্থানীয় ইতিহাস, লোকঐতিহ্য, তরুণদের সৃজনশীলতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং আধুনিক সাংস্কৃতিক চর্চাকে পাশাপাশি জায়গা দেওয়া গেলে বরিশাল হয়ে উঠতে পারে বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের উদাহরণ। কিন্তু সেই সম্ভাবনা নষ্ট হবে যদি ‘আমার সংস্কৃতি’ বনাম ‘তোমার সংস্কৃতি’ দ্বন্দ্বই প্রধান হয়ে ওঠে। তাই প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত কে বেশি প্রভাব বিস্তার করল- তা নয়; বরং কে বেশি নতুন শিল্পী তৈরি করতে পারল, কে হারিয়ে যাওয়া লোকঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পারল, কে তরুণদের সাংস্কৃতিক চর্চায় যুক্ত করতে পারল এবং কে ভিন্নমতের শিল্পীকেও নিজের পাশে দাঁড়ানোর জায়গা দিতে পারল।</div>
<div dir="auto">জুলাই-পরবর্তী বরিশালের সামনে এখন তাই দ্বিমুখী সম্ভাবনা, সাংস্কৃতিক মেরুকরণ, অথবা সাংস্কৃতিক সহাবস্থান ও পুনর্জাগরণ। আর বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে সাম্প্রতিক সাক্ষাৎ যদি নগরীর শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির সংরক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়নে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে রূপ নেয়, তবে সেটিই হয়তো পুরনো বিভাজন পেরিয়ে বরিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।</div>
<div dir="auto">
<img decoding="async" src="https://mail.google.com/mail/?ui=2&amp;ik=eac39f262f&amp;attid=0.0.1&amp;th=19ffa6af5aba7d4d&amp;view=fimg&amp;fur=ip&amp;rm=19ffa6af5aba7d4d&amp;sz=w1600-h1000&amp;attbid=ANGjdJ8G1lTfrKvfEuoDSF2TOuvEpv4K_J3BnLSMh1PH3RZm1vuf-rNbVMnRnfVNN_wdeYq24OKSDusAAAnM6fMPxxmFvq-aREDaZPl7JmQMPEqvymc8LUFCye5nkQU&amp;disp=emb&amp;realattid=ii_19ffa69de1df137a9f85&amp;zw/downloaded" data-image-whitelisted="" /></p>
</div>
</div>
</div>
</div>
<div id="m#msg-a:r6169648328697763076-footer" class="mail-message-footer spacer collapsible"></div>
</div>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%ae/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>দুই বছরেও সরেনি ভাগাড়: বদলায়নি শিশুদের আকুতি</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%87-%e0%a6%ac%e0%a6%9b%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc-%e0%a6%ac%e0%a6%a6/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%87-%e0%a6%ac%e0%a6%9b%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc-%e0%a6%ac%e0%a6%a6/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 04 Aug 2026 12:23:14 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<category><![CDATA[ঢাকা সিটি করপোরেশন]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[বিদ্যালয়]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=6125</guid>

					<description><![CDATA[<p>‘কিছুই বদলায়নি’- মির্জা ফখরুলের আক্ষেপের প্রতিচ্ছবি যেন মিরপুরের শিশুদের পাঠশালায়<br /> দুই বছরেও সরেনি ভাগাড়, শিশুদের আকুতি &#8211; &#8216;আঙ্কেল, ‘আঙ্কেল, আমাদের স্কুলের সামনে থেকে এই ভাগাড়টা সরিয়ে দিন না..&#8217;</p> <p>বিশেষ</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%87-%e0%a6%ac%e0%a6%9b%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc-%e0%a6%ac%e0%a6%a6/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>‘<strong>কিছুই বদলায়নি’- মির্জা ফখরুলের আক্ষেপের প্রতিচ্ছবি যেন মিরপুরের শিশুদের পাঠশালায়</strong><br />
<strong>দুই বছরেও সরেনি ভাগাড়, শিশুদের আকুতি &#8211; &#8216;আঙ্কেল, ‘আঙ্কেল, আমাদের স্কুলের সামনে থেকে এই ভাগাড়টা সরিয়ে দিন না..&#8217;</strong></p>
<p><strong>বিশেষ প্রতিবেদক</strong></p>
<div id="attachment_6126" style="width: 310px" class="wp-caption alignleft"><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG20260804124343.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-6126" class="size-medium wp-image-6126" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG20260804124343-300x169.jpg" alt="" width="300" height="169" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG20260804124343-300x170.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG20260804124343-1024x576.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG20260804124343-768x432.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG20260804124343-1536x864.jpg 1536w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG20260804124343-70x40.jpg 70w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/08/IMG20260804124343.jpg 1920w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-6126" class="wp-caption-text"><strong>দুই বছরেও সরেনি ভাগাড়, শিশুদের আকুতি &#8211; &#8216;আঙ্কেল, ‘আঙ্কেল, আমাদের স্কুলের সামনে থেকে এই ভাগাড়টা সরিয়ে দিন না..&#8217;</strong></p></div>
<p>&#8220;আমি দেখছি যে কিছুই বদলায়নি। আমি পরিবর্তন দেখছি একজন মানুষের মধ্যে, তিনি তারেক রহমান।&#8221; জুলাই বিপ্লবের দুবছর উদযাপন সময়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন আলোচনা তৈরি করেছে, তেমনি ৪ আগস্ট সকালে রাজধানীর মিরপুর-১০-এর সেনপাড়া পর্বতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দাঁড়ালে সেই আক্ষেপের বাস্তব প্রতিফলনই যেন চোখে পড়ে।<br />
ক্যামেরা হাতে সংবাদ সংগ্রহ করতে যেতেই বিদ্যালয়ের কয়েকজন কোমলমতি শিক্ষার্থী দৌড়ে এসে ঘিরে ধরে এক নিঃশ্বাসে বলে ওঠে, &#8220;আঙ্কেল&#8230; আঙ্কেল&#8230; আমাদের স্কুলের সামনে থেকে এই ভাগাড়টা সরিয়ে দিন না।&#8221;<br />
কোনো রাজনৈতিক ভাষণ নয়, কোনো শিখিয়ে দেওয়া কথা নয়, শিশুদের এই সরল আবেদনই যেন বলে দেয়, পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা তাদের কাছে একটি পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ স্কুলপথ।<br />
দুই বছর আগে যে চিত্র দেখে মন ভারাক্রান্ত হয়েছিল, জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির প্রাক্কালেও সেই দৃশ্যের তেমন কোনো পরিবর্তন চোখে পড়েনি। বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনেই এখনো স্তূপ করে ফেলা হচ্ছে আশপাশের এলাকা ও বাজারের বর্জ্য। দুর্গন্ধ, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আবর্জনা আর দখল হয়ে যাওয়া সড়কের মাঝ দিয়েই প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে শত শত শিক্ষার্থী।<br />
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের দেয়ালঘেঁষে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। নির্ধারিত কোনো ডাস্টবিন নেই। বরং বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ ঘেঁষেই উন্মুক্তভাবে ময়লা ফেলে দখল করা হয়েছে সড়কের একটি বড় অংশ। একই জায়গায় ভাসমান হকারদের অবস্থান, রিকশার সারি এবং পথচারীদের চলাচলের বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হকার ও রিকশাচালকদের কেউ কেউ শিশুদের সামনেই প্রকাশ্যে প্রস্রাব করেন। দুর্গন্ধে কয়েক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে থাকাও কষ্টকর হলেও এই পথ দিয়েই প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। ভাসমান খাবার বিক্রেতার কাছ থেকে খাবার কিনে এই ময়লার স্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে তা খাচ্ছে ওরা।<br />
এমন পরিবেশ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ নতুন নয়। দুই বছর আগেও একই সমস্যা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো কার্যকর পরিবর্তন হয়নি। বরং বাজারের বর্জ্য, ফুটপাত দখল এবং অব্যবস্থাপনার কারণে এলাকাটি আরও অস্বাস্থ্যকর ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে।<br />
বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। বিষয়টি জানতে তার কার্যালয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কল সেন্টারের পরামর্শে ৩ নম্বর ওয়ার্ড প্রশাসক বেনজির আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই সমস্যা সমাধানে প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন নিজেই এলাকায় এসে স্থানীয়দের সহযোগিতা চেয়েছিলেন। কিন্তু ভাসমান হকারদের উচ্ছেদে সহযোগিতা না পাওয়ায় স্থায়ী সমাধান সম্ভব হয়নি।<br />
বেনজির আহমেদ বলেন, &#8220;এখানে হকারদের রাজত্ব। হকারদের উচ্ছেদ করা না গেলে এটি সরানোও অসম্ভব। এজন্য এলাকাবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন। মানুষ অভিযোগ করেন, কিন্তু উচ্ছেদ অভিযানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যায় না।&#8221;<br />
ওয়ার্ড প্রশাসকের এই বক্তব্য কার্যত স্বীকার করে যে, বিদ্যালয়ের সামনে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতির অন্যতম কারণ অবৈধ হকারদের দখল। স্থানীয়দের দাবি, মিরপুর-১০ গোলচত্বর, হোপের গলি থেকে মাজার রোডের বিস্তীর্ণ অংশ দীর্ঘদিন ধরেই ভাসমান হকারদের নিয়ন্ত্রণে। বিএনপি ও এনসিপি নেতারা ভাগাভাগি করে নিয়ন্ত্রণ করে এই হকারদের। ফলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং স্থায়ীভাবে বর্জ্য অপসারণ &#8211; দুই কাজই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।<br />
এদিকে এই এলাকাটি ঢাকা-১৬ আসনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, রাজধানীর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বছরের পর বছর ধরে কীভাবে একটি উন্মুক্ত ভাগাড় বহাল থাকে? শিশুদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা কি সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের অগ্রাধিকার নয়?<br />
মীরপুরের একজন যুবদল নেতা সিটেনসহ স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বিদ্যালয়ের সামনে থেকে দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, বিকল্প স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং অবৈধ হকার উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের সামনে ভাগাড় রেখে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ার দাবি বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না।<br />
জুলাইয়ের পরিবর্তনের দুই বছর পূর্ণ হলো। বদলেছে সরকার, বদলেছে জনপ্রতিনিধি, বদলেছে প্রশাসন। কিন্তু সেনপাড়া পর্বতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের আবেদন বদলায়নি। তারা এখনো ক্যামেরা দেখলেই ছুটে এসে বলে &#8211; &#8220;আঙ্কেল, আমাদের স্কুলের সামনে থেকে এই ভাগাড়টা সরিয়ে দিন না।&#8221; রাজধানীর বুকে এই ছোট্ট আবেদনটি শুধু কয়েকজন শিশুর নয়; এটি একটি নগরের বিবেকের কাছেও উচ্চারিত এক নীরব প্রশ্ন।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%87-%e0%a6%ac%e0%a6%9b%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc-%e0%a6%ac%e0%a6%a6/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>স্বাস্থ্য প্রশাসনে একের পর এক বিতর্কিত পদায়ন: অনিশ্চয়তায় বরিশালের চিকিৎসাসেবা</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 24 Jul 2026 15:00:39 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=6116</guid>

					<description><![CDATA[<p>স্বাস্থ্য প্রশাসনে একের পর এক বিতর্কিত পদায়ন: অনিশ্চয়তায় বরিশালের চিকিৎসাসেবা</p> <p>, বিশেষ প্রতিবেদক</p> <p>দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম কেন্দ্র বরিশাল। কিন্তু বিভাগীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে একের পর</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>স্বাস্থ্য প্রশাসনে একের পর এক বিতর্কিত পদায়ন: অনিশ্চয়তায় বরিশালের চিকিৎসাসেবা</strong></p>
<p><strong>, বিশেষ প্রতিবেদক</strong></p>
<p><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/07/IMG-20260723-WA0059.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-6117" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/07/IMG-20260723-WA0059-300x113.jpg" alt="" width="300" height="113" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/07/IMG-20260723-WA0059-300x113.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/07/IMG-20260723-WA0059-1024x384.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/07/IMG-20260723-WA0059-768x288.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/07/IMG-20260723-WA0059-1536x576.jpg 1536w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/07/IMG-20260723-WA0059.jpg 1600w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম কেন্দ্র বরিশাল। কিন্তু বিভাগীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে একের পর এক বদলি, নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, দায়িত্ব গ্রহণে বিলম্ব এবং শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের পরিচালকের দীর্ঘ অনুপস্থিতিকে ঘিরে স্বাস্থ্য খাতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।<br />
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মশিউল মুনীর। হাসপাতালের জনবল সংকট, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি ও অতিরিক্ত রোগীর চাপ নিয়ে একাধিকবার প্রকাশ্যে কথা বলার পর তিনি দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত। এদিকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সভাতেও পরিচালক উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টি স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।<br />
শেবাচিম হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আবদুল মুনায়েম সাদ বলেন, পরিচালকের ওপর কিছুটা চাপ রয়েছে। তবে তার চলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি। ছেলের এইচএসসি পরীক্ষা চলায় তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। পরিচালকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।<br />
সম্প্রতি বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক নিয়োগ নিয়ে আন্দোলনের পর সরকারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ঘটনা আলোচনায় আসে। এরই মধ্যে ২১ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. এস এম মনজুর এলাহীকে স্ট্যান্ড রিলিজ দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সংযুক্ত করে এবং তার স্থলে ওএসডি কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুজ্জামানকে পদায়ন করে। তবে কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও নতুন সিভিল সার্জন আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেননি।<br />
বিদায়ী সিভিল সার্জন ডা. মনজুর এলাহী বলেন, ব্যক্তিগত কারণে তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। বরিশালে ফিরে এসে সরকারি বিধি অনুযায়ী দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবেন। তিনি দাবি করেন, বরিশাল প্রেসক্লাবের কয়েকজন নেতা তার কাছে নতুন সিভিল সার্জনকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার সুপারিশ নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় চলে আসেন। ডা. মনজুর এলাহীর এ বক্তব্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।<br />
নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। স্বাস্থ্য বিভাগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তিনিও বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।<br />
ডা. মনিরুজ্জামান এর আগে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা থাকাকালে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, টেস্ট বাণিজ্য, প্রশাসনিক অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে স্থানীয়দের আন্দোলনের মুখে পড়েন। ২০২২ সালে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) একটি অনুষ্ঠানে চিকিৎসকদের অংশগ্রহণের নির্দেশনা দিয়েও তিনি সমালোচনার জন্ম দেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।<br />
এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা ও চিকিৎসক ডা. মনীষা চক্রবর্তী। তিনি বলেন, গত প্রায় ২৫ বছর ধরে বরিশালের চিকিৎসাসেবা সংকটে রয়েছে। মানুষের আন্দোলনের পর সেনাবাহিনী থেকে পরিচালক নিয়োগ হলেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। বরং হাসপাতালের পঞ্চম তলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডের (এইচইউডি) HDU (High Dependency Unit) &#8211; উচ্চ নির্ভরশীলতা কেন্দ্র কার্যক্রম বন্ধ রেখে সেটি পরীক্ষার হল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিচালক ও সিভিল সার্জন নিয়োগ নিয়ে যা হচ্ছে, তা মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার জন্য ইতিবাচক নয়। বিভাগীয় শহরের গুরুত্বপূর্ণ পদে অভিজ্ঞ, দক্ষ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কর্মকর্তার পদায়ন প্রয়োজন। এছাড়াও জরুরী চিকিৎসা সেবার প্রয়োজনীয় উপকরণের চাহিদাও এখন পর্যন্ত পূরণ হয়নি বরিশালের হাসপাতালে।<br />
প্রায় একই কথা বলেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. লোকমান হাকিম। তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের চিকিৎসাসেবার কেন্দ্র বরিশাল। তাই এখানে অভিজ্ঞ, দক্ষ ও বিতর্কমুক্ত কর্মকর্তাদের নিয়োগ হওয়াই সবার প্রত্যাশা। সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে জনমত যাচাই এজন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।<br />
স্বাস্থ্য প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঘন ঘন বদলি, বিতর্কিত পদায়ন এবং প্রশাসনিক অনিশ্চয়তায় মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার সমন্বয় ব্যাহত হচ্ছে।<br />
প্রতিবেদনের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের বক্তব্য জানতে তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে অবহিত করবেন।<br />
এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পুরো বিষয়টি উল্লেখ করে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হয়েছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।<br />
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, জেলার সিভিল সার্জন ও শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক &#8211; দুটি পদই জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পদে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা, বিতর্ক এবং প্রশাসনিক অস্থিরতা শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে ফেলতে পারে সাধারণ রোগীদেরই। তাই নিয়োগ ও পদায়নে স্বচ্ছতা, অভিজ্ঞতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আহ্বায়ক কমিটি নির্ভর বরিশাল বিএনপি : প্রভাব বিস্তারের দ্বন্দ্বে চলছে বহুমুখী বিভক্তি</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%b9%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%95-%e0%a6%95%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%b0/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%b9%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%95-%e0%a6%95%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%b0/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 30 May 2026 07:13:23 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জাতীয়]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[বরিশাল বিভাগ]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলার চিঠি]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<category><![CDATA[বরিশাল]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[বিএনপি]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=6017</guid>

					<description><![CDATA[<p>আহ্বায়ক কমিটি নির্ভর বরিশাল বিএনপি : প্রভাব বিস্তারের দ্বন্দ্বে চলছে বহুমুখী বিভক্তি</p> <p>(এটাই হতে পারে উন্নয়নের পথে বাধা) </p> <p>বিশেষ প্রতিবেদক</p> <p>বহুমুখী বিভক্তি ও দ্বন্দ্বে জর্জরিত বরিশাল বিএনপি : উন্নয়নের পথে</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%b9%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%95-%e0%a6%95%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%b0/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>আহ্বায়ক কমিটি নির্ভর বরিশাল বিএনপি : প্রভাব বিস্তারের দ্বন্দ্বে চলছে বহুমুখী বিভক্তি</strong></p>
<p>(<strong>এটাই হতে পারে উন্নয়নের পথে বাধা) </strong></p>
<p><strong>বিশেষ প্রতিবেদক</strong></p>
<div id="attachment_6019" style="width: 310px" class="wp-caption alignleft"><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/05/IMG20260530114127.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-6019" class="size-medium wp-image-6019" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/05/IMG20260530114127-300x169.jpg" alt="" width="300" height="169" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/05/IMG20260530114127-300x170.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/05/IMG20260530114127-1024x576.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/05/IMG20260530114127-768x432.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/05/IMG20260530114127-1536x864.jpg 1536w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/05/IMG20260530114127-70x40.jpg 70w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/05/IMG20260530114127.jpg 1920w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-6019" class="wp-caption-text">oplus_0</p></div>
<p><strong>বহুমুখী বিভক্তি ও দ্বন্দ্বে জর্জরিত বরিশাল বিএনপি : উন্নয়নের পথে এটাই প্রধান বাধা </strong></p>
<p><strong>বিশেষ প্রতিবেদক</strong></p>
<p>বরিশালের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে &#8211; উন্নয়ন নয়, প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ। ক্ষমতার কেন্দ্র কার হাতে থাকবে? তা নিয়ে চলছে নীরব কিন্তু তীব্র বহুমুখী লড়াই। মহানগর ও জেলা উভয় স্থানেই প্রবল নেতৃত্ব সংকটে রয়েছে বিএনপি। তাদের গঠিত সরকারের ১০০ দিন পার হলেও বরিশালে এখনো কোনো একক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়নি। একক নেতৃত্বই শুধু নয়, এখানে আদৌ কোনো নেতৃত্ব আছে কিনা তা নিয়েও জনমনে রয়েছে সংশয়। আর এ সংশয় গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলমান। বিশেষ করে বরিশালের রাজনীতি থেকে মজিবর রহমান সরোয়ারকে সরিয়ে নেওয়ার পরপরই শুরু হয়েছে নেতৃত্বের কোন্দল। বহুবার পরিবর্তন ও রদবদল হয়েছে আহ্বায়ক কমিটিও।<br />
গত ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে বিএনপির জয় লাভের পর থেকে বরিশালে এই নেতৃত্বহীনতা আরো স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রশাসক নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে এ দ্বন্দ্ব যেন অনেকটা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।<br />
বরিশাল ৫ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার, বরিশাল ১ গৌরনদী আগৈলঝারা আসনের সংসদ সদস্য ও বর্তমান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) প্রশাসক ও বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এর বরিশালের কার্যক্রম, তাদের সভা সমাবেশে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি৷, বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, বাণিজ্য মেলা বন্ধ ও চালু হওয়া সর্বোপরি স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বরিশালের অন্যতম ২০০ শয্যা বিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি নিয়ে চলছে বহুমুখী বিভক্তির ঘ্রাণ। আবার বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি ও বিএনপি নেতা এবায়দুল হক চান ও শিরিনের ইগো দ্বন্দ্বের লড়াই ছিলো বাণিজ্য মেলা নিয়ে।<br />
অন্যদিকে বরিশাল জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিয়েও আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানের দায়িত্ব এড়িয়ে চলা, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব এর আচরণ ইত্যাদি বিষয় পর্যালোচনা করে এটা নিশ্চিত যে এখানে বিএনপির দলীয় রাজনীতি ও প্রশাসনিক বলয়ের ভিতর বহু বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।<br />
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত মার্চ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বরিশালের বিভিন্ন মন্ত্রীদের আগমন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির নেপথ্যে এই বহুমুখী দ্বন্দ্বের প্রভাব টের পেয়েছেন বরিশালের সাধারণ মানুষও। যে কারণে এ নিয়ে চায়ের দোকানসহ সামাজিক জটলাতেও চলছে মুখরোচক আলোচনা। কেউ কেউ শিরিনের কার্যক্রমকে বাহবা দিলেও চুপিসারে বলছেন, বরিশালের রাজনৈতিক মুরব্বি মজিবর রহমান সরোয়ার। তার সাথে পরামর্শ করেই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত শিরিনের। আবার কেউ বলছেন, মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বরিশালে আসলে সরোয়ার বা শিরিন কেউই বরিশালে থাকেন না। আবার জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ কাউকেই দেখা যায়নি মন্তী- প্রতিমন্ত্রীর আশেপাশে। এটাও জটিলতা তৈরি করছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন স্বপন বরিশাল ১ আসনের এমপি হলেও তিনিতো এখন বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার মন্ত্রী। তার আগমনে বা উপস্থিতিতে সদর আসনের সংসদ সদস্য ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, জেলা পরিষদের প্রশাসকের অনুপস্থিতি দৃষ্টিকটু। বরং সবাই যখন বিএনপির নেতা, তাদের সবাইকে একই মঞ্চে পাশাপাশি দেখতে চায় সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি, বিগত ১৭ বছরের অভিজ্ঞতায় তারা দেখেছেন মেয়র ও সংসদ সদস্যের দ্বন্দ্বে বরিশালের উন্নয়ন বরাদ্দ ফেরত চলে যেতে। তাই কোনোরকম রাজনৈতিক বা ব্যাক্তিগত দ্বন্দ্ব দেখতে রাজী না বরিশালের সাধারণ মানুষ। তাদের অনেকেই আশা করেছিলেন অন্তত ৩০ মে এরকম কিছু হবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী আয়োজনে। কিন্তু সেখানেও নিরাশা। জেলা ও মহানগর পৃথক পৃথক শোকসভা করে তাদের বিভক্তি আরো বেশি প্রমাণ করলেন। যদিও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুকের দাবী &#8211; যার যার কর্মসূচি সে সে পালন করবে এটাই স্বাভাবিক। মহানগর আর জেলাতো এক নয়, যে একসাথে কার্যক্রম হতে হবে।<br />
তিনি আরও বলেন, বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে একাধিক প্রতিযোগিতা থাকবে এটা জটিল কিছু নয়। এই প্রতিযোগিতায় অনেক আগাছা পরগাছাও প্রবেশ করবে কিন্তু দিনশেষে তারাই টিকে থাকবে এবং মূল্যায়িত হবেন, যারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণা করেন।<br />
যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেকেরই ধারণা ছিল দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী নেতা মজিবর রহমান সরোয়ার সহজেই একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবেন। কারণ তিনি বরিশাল-৫ আসন থেকে মেয়র ও চার চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও তার অবস্থান অনেক শক্তিশালী। কিন্তু সবাইকে হতাশ করে তার জনসমর্থন দিনকে দিন কমেছে। ১২ ফেব্রুয়ারী তিনি পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও তা অত্যন্ত দূর্বল কাঠামোর উপর দাঁড়িয়েছে। কেননা সবসময় ২০ হাজারের কাছাকাছি ভোট পাওয়া ইসলামি আন্দোলন প্রার্থী মুফতি মাওলানা ফয়জুল করিম ৯০ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়ে বরিশাল ১ আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপনের প্রভাব দ্রুত বাড়তে থাকে। একইসঙ্গে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হন বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। এতে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিকভাবে আলাদা শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হন তিনি। দীর্ঘদিন রাজনীতির মাঠে সক্রিয় জেলা ও মহানগর বিএনপির অনেক নেতা এতে ক্ষুব্ধ হন এবং কেউ কেউ প্রকাশ্যে শিরিনের বিরোধিতা শুরু করেন। জেলার সাবেক সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবায়দুল হক চান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার, সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদ প্রমুখের মধ্যে স্পষ্ট ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। তারা সরাসরি শিরিনের বিরোধিতা না করলেও তাদের অনুসারীদের সরিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগও রয়েছে তাদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। যার প্রমাণ পাওয়া যায়, নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল স্থানান্তর ও শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন পক্রিয়ায়।<br />
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক কাজী মিজানুর রহমান এর মতে, বরিশালে এখন প্রকাশ্য বিরোধের চেয়ে “নিয়ন্ত্রণের নীরব যুদ্ধ” বেশি চলছে। কে প্রশাসনে প্রভাব রাখবে, কে উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ করবে, কে দলীয় কমিটি ও মাঠের কর্মীদের ধরে রাখবে—এসব হিসাবেই রাজনীতি এগোচ্ছে।<br />
আবার রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহবুব খান বলেন, আসলে বরিশালে বিএনপির বিভক্তি গত ৫ বছর ধরেই চলছে। এটা এজন্য যে আহ্বায়ক কমিটি নির্ভর হয়ে এতো দীর্ঘ সময় কাটানো রাজনীতিতে সবাই নিজ নিজ অনুসারী তৈরি করছে। সবাই এখানে এখন বড় নেতা। গত ২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দল থেকে বহিস্কৃত নেত্রী বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন হঠাৎ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হয়েছেন এটা মেনে নিতে অনেকের কষ্ট হয়েছে। তবে শিরিন তার কাজ ও আচরণ দিয়ে সবাইকে জয় করে নিতে শুরু করেছেন। ২৫ মে বিকালে নগর ভবনের মিলনায়তনে তার কিছুটা প্রমাণও পাওয়া গেছে। এখানে জেলা ও মহানগর বিএনপির প্রায় অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। যারা ইতিপূর্বে শিরিনকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছেন তাদের অনেকেও ছিলেন বলে জানান রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহবুব খান।<br />
এসবের মধ্যে সম্প্রতি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিলে সংকট আরো প্রকট আকার ধারণ করে। বাস ও ট্রাক মালিক সমিতির নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার এর আপন ভাই ও শ্যালকের হাতে থাকায়। শিরিনের সিদ্ধান্ত বিরোধী অবস্থান তৈরি হয় এই টার্মিনালকে ঘীরে।<br />
যদিও গত ২০০৬ সাল থেকেই বরিশালের সবচেয়ে আলোচিত ইস্যুগুলোর একটি নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল স্থানান্তর পরিকল্পনা। নগর পরিকল্পনাবিদ ও ট্রাফিক বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘদিনের দাবি &#8211; শহরের কেন্দ্র থেকে বাস টার্মিনাল সরিয়ে বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় নেওয়া না হলে যানজট, শব্দদূষণ ও জনদুর্ভোগ কমবে না।<br />
২০১৪ সালে প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরন এজন্য উদ্যোগী হন এবং গড়িয়ার পাড়ে নগরীর প্রবেশদ্বার সংলগ্ন সড়কের পাশে সাড়ে বারো একর জমিতে বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়ে জমি ক্রয় চূড়ান্ত করেন। পরবর্তীতে এটি ধামাচাপা পরে যায় ও সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এসে কাশিপুর স্কুল এন্ড কলেজ সংলগ্ন সড়কের পাশে ট্রাক টার্মিনাল তৈরি করে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি করেন। এ নিয়ে মামলা এখনো চলমান থাকলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ বলেছেন, গড়িয়ার পাড়ে বাস টার্মিনাল স্থানান্তর না হওয়া পর্যন্ত কাশিপুর ট্রাক টার্মিনালকে বাস টার্মিনাল করা যেতে পারে। এতে তাদের কোনো আপত্তি না থাকলেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাস ও ট্রাক মালিক সমিতির নেতারা। এই টার্মিনাল স্থানান্তরের দাবি নতুন নয়। অন্তত কয়েক বছর ধরেই নগর পরিকল্পনাবিদ, ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ এ দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে বিএনপি সরকার গঠনের পর সিটি করপোরেশন প্রশাসক বিষয়টি নতুন করে সক্রিয় করলে তা রাজনৈতিক মাত্রা পেতে শুরু করে।<br />
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের অভিযোগ, সরোয়ার পরিবারের ঘনিষ্ঠ পরিবহন সংশ্লিষ্ট একটি অংশ এই পরিকল্পনার বিরোধিতা শুরু করেছে। অভিযোগ রয়েছে, টার্মিনালকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের আর্থিক ও প্রভাবভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা থেকেই এই বিরোধিতা। জানা গেছে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরপরই বরিশালের বাস ও ট্রাক টার্মিনালের দখল নিয়েছেন বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ারের ঘনিষ্ঠরা। তার ছোট ভাই মোশারফ হোসেন বাস মালিক সমিতির সভাপতি। ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি সাইদুর রহমান মামুন সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ারের শ্যালক।<br />
পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, নথুল্লাবাদ শুধু একটি টার্মিনাল নয়; এটি বরিশালের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র। প্রতিদিন শত শত বাস চলাচলের কারণে এখানকার নিয়ন্ত্রণ মানেই শ্রমিক সংগঠন, পরিবহন রুট ও আর্থিক প্রবাহের ওপর প্রভাব। ফলে প্রশাসনিক পর্যায়ে ফাইল অগ্রগতি ধীর হয়ে যায় এবং সিটি করপোরেশনের একাধিক উদ্যোগ কার্যত থমকে পড়ে।<br />
সিটি করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “টার্মিনাল স্থানান্তর শুধু উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি বরিশালের প্রভাবের রাজনীতির অংশ হয়ে গেছে। কে নিয়ন্ত্রণ করবে, সেটিই এখন মূল বিষয়।”<br />
সাবেক একজন গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন সংশ্লিষ্ট নেতা বলেন, “টার্মিনাল সরানো মানে পুরোনো নিয়ন্ত্রণ কাঠামো বদলে যাওয়া। এজন্য ভেতরে ভেতরে অনেক চাপ কাজ করছে।”<br />
এদিকে আইনজীবী বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন দায়িত্ব নেওয়ার পর নগর পরিচ্ছন্নতা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্বিন্যাস, বাড়ির প্লান হস্তান্তর এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে একাধিক উদ্যোগ নেন। কিন্তু তার প্রশাসনিক কার্যক্রমে দলীয় পর্যায় থেকেই বাধা তৈরি হচ্ছে—এমন অভিযোগ এখন বিএনপির অভ্যন্তরেও আলোচিত বিষয় ।<br />
বরিশাল যুবদল কর্মী ও সাবেক ছাত্রদল নেতা নাজমুল হাসান ছবির বলেন, এখানে এখন প্রতিযোগিতা নয়, প্রতিহিংসার রাজনীতি চলছে। ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না হলে এটি আরো বাড়বে। আর এ জন্য দায়ী দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকা।<br />
তিনি বলেন, যুবদলের পূর্নাঙ্গ কমিটি থাকলেও তা গত সাতবছর ধরে চলমান রয়েছে। জেলা ও মহানগরসহ অংগসংগঠনগুলো বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি নির্ভর। অতিসত্বর এই কমিটি বিলুপ্ত করে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি না হলে এইব বিভক্তি ও দূরত্ব আরো বৃদ্ধি পাবে বলে জানান তিনি।<br />
প্রায় একই দাবী নিয়ে বরিশাল মহানগর যুবদলের সিনিয়র সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম জাহান বলেন, এজন্য দায়ী পূর্নাঙ্গ কমিটি না থাকা। মহানগর ও জেলা বিএনপিসহ সব অংগসংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়ে গেলে এসব উন্নয়ন পদক্ষেপ তরান্বিত হবে। তবে সে কমিটিও হতে হবে গত ১৭ বছর মাঠে থাকা ত্যাগী নেতাদের নিয়ে।<br />
তিনি আরো বলেন, আমি মনে করি, বরিশালের যে কয়েকজন নেতা রয়েছেন স্পীকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ সব সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি বৈঠক হওয়া উচিত। বরিশাল অন্যসব জেলা থেকে উন্নয়নে অনেক পিছিয়ে, তাই সবার আগে বরিশালের উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে তাদের ঐক্যবদ্ধ একটি অবস্থান হওয়া জরুরী প্রয়োজন বলে জানান এই যুবদল নেতা।<br />
আবার বরিশাল সিটি করপোরেশনের কয়েকজন সাবেক কাউন্সিলর অভিযোগ করেছেন, আমরা দেখেছি বিসিসি প্রশাসকের আহ্বানে এসে গুরুত্বপূর্ণ সভা বয়কট, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি তৈরি, ঠিকাদার নিয়ন্ত্রণ এবং মাঠপর্যায়ের কর্মসূচিতে লোক সমাগম কমিয়ে দেওয়ার মতো নীরব অসহযোগিতা চলছে। যদিও প্রকাশ্যে কেউ এ দায় স্বীকার করছেন না।<br />
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, নিয়োগ, ঠিকাদারি ও উন্নয়ন কার্যক্রমে “কার প্রভাব থাকবে”—তা নিয়েও মহানগর বিএনপির মধ্যে দ্বন্দ্ব লক্ষ্য করা গেছে। সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার এর অবস্থানও বিতর্কিত হয়েছে বারবার। প্রশাসনিকভাবে দায়িত্বে থাকলেও রাজনৈতিকভাবে শিরিনকে চাপে রাখার চেষ্টা চলছে বলে তার ঘনিষ্ঠদের অভিযোগ।<br />
অন্যদিকে বিভিন্ন আয়োজনে বেশ কয়েকবার বরিশালে এসেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তার ঐ মঞ্চে সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার এবং প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন কিম্বা জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান এর অনুপস্থিতি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। বরিশালে স্বপনের উপস্থিতি কেউ স্বাভাবিক ভাবে নিচ্ছে না বলেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে।<br />
একজন সাবেক ছাত্রদল নেতা বলেন, বরিশালে এখন প্রশাসন আর রাজনীতি আলাদা নেই। কে কাকে ছাড়িয়ে যাবে, সেটিই মূল প্রতিযোগিতা। যার প্রমাণ পাওয়া গেছে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) ও নির্মানাধীন শিশু হাসপাতাল ইস্যুতে। শেবাচিম নিয়েও সম্প্রতি যে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে তা হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদ গঠন নিয়ে। স্বাস্থ্য মন্ত্রীর ঘোষণা এবং সভাপতি হিসেবে কারো নাম চূড়ান্ত হয়েছে বলার পরপরই অনুসন্ধানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের নাম আলোচনায় আসে। দুদিনের মধ্যে গেজেট হওয়ার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে আজ পর্যন্ত তার নাম ঘোষণা বা গেজেট প্রকাশ হয়নি। পাশাপাশি এরপর থেকেই প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের নতুন হিসাব শুরু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।<br />
গত মার্চে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা, ডাক্তার ও নার্সের দায়িত্ব অবহেলায় দুজন শিশুর মৃত্যু ঘটনার পর স্বাস্থ্যখাতের অব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক দুর্বলতা নতুন করে আলোচনায় আসে। এর মধ্যেই নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতালকে শেবাচিম হাসপাতালের প্রশাসনিক কাঠামো থেকে পৃথক করার আলোচনা শুরু হলে বিষয়টি রাজনৈতিক রূপ নিতে থাকে। বিশেষ করে নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতালকে শেবাচিম হাসপাতালের প্রশাসনিক কাঠামো থেকে পৃথক করার প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ও চিকিৎসক মনে করছেন, এটি কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অংশ।<br />
একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “শিশু হাসপাতাল আলাদা হলে নিয়ন্ত্রণও আলাদা হবে। এ কারণে বিভিন্ন পক্ষ সক্রিয় হয়ে উঠেছে।”<br />
অভিযোগ রয়েছে, শেবাচিমের অভ্যন্তরেও শিরিন, স্বপন ও সরোয়ারপন্থী হিসেবে পরিচিত বলয় তৈরি হয়েছে। এছাড়াও প্রভাব রয়েছে মহানগর বিএনপির একাধিক নেতার। এখানে পদায়ন, ঠিকাদারি, ক্রয় প্রক্রিয়া এবং পরিচালনা কমিটিতে প্রভাব বিস্তার নিয়ে নীরব প্রতিযোগিতা চলছে। এমনকি পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মশিউল মুনীর সেনাবাহিনীর লোক হয়েও এদের হাতের পুতুল বলেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। কেননা, ৫ আগস্টের পর পালিয়ে যাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও তাদের লোককে খুঁজে এনে আবারও কাজে লাগানো হয়েছে শেবাচিমে।<br />
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, “স্বাস্থ্যখাত এখন শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক প্রভাবের অংশ হয়ে উঠেছে। এরসাথে জড়িত রয়েছে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য। কারো কারো জন্যে এখানেও ভোটব্যাংক ফিলোসোফি কাজ করছে বলে জানান সচেতন চিকিৎসকরা।<br />
বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিন অতিবাহিত হয়েছে। এই সময়ে বরিশালে বড় ধরনের প্রকাশ্য সংঘাত না হলেও অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। নগর উন্নয়ন, হাসপাতাল প্রশাসন, দলীয় পূর্নাঙ্গ কমিটি না হওয়া, পরিবহন খাত এবং ঠিকাদারি—সবখানেই এখন “কোন বলয়ের প্রভাব বেশি”—সেই হিসাবে চলছে নেতাকর্মীদের সমাগম ও সমর্থন।<br />
বিশেষ করে—<br />
* সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে বড়ো প্রকল্পে ধীরগতি,<br />
* পরিবহন খাতে নিয়ন্ত্রণ প্রশ্ন,<br />
* হাসপাতাল প্রশাসনে বলয়ভিত্তিক অবস্থান,<br />
* দলীয় কর্মসূচিতে আলাদা উপস্থিতি এবং স্থানীয় কমিটি পুনর্গঠনে মতবিরোধ<br />
এসব বিষয় এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে।<br />
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সরোয়ারের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভিত্তি, স্বপনের মন্ত্রিত্বজনিত প্রশাসনিক প্রভাব এবং শিরিনের সাংগঠনিক ও সিটি করপোরেশন নিয়ন্ত্রণ &#8211; এই তিন শক্তির সংঘাত আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হতে পারে। তদুপরি এখন পর্যন্ত আহ্বায়ক কমিটি নির্ভর বরিশালের বিএনপি। বারবার পূর্নাঙ্গ কমিটির প্রতিশ্রুতি পিছিয়ে যাওয়া নেতৃত্বের সংকট তৈরি করছে বলে মনে করেন অনেকেই।<br />
এদিকে সরোয়ার পন্থী কয়েকজন নেতার দাবী, বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাদের ঘরে ঘরে ঘুরেছেন, অথচ বরিশালের রাজনৈতিক মুরব্বি ও সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র এর ঘরে যেতে পারেন নাই। তাহলে সমস্যা কার মধ্যে তাতো স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।<br />
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষক বলেন, “বরিশালে এখন মূল লড়াই আদর্শের নয়, নিয়ন্ত্রণের। কে প্রশাসন, উন্নয়ন ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে শেষ কথা বলবে &#8211; তা নিয়েই চলছে প্রতিযোগিতা।”</p>
<p>যদিও এ প্রতিযোগিতায় নিজেকে রাখতে রাজী নয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, সদর উপজেলার তালুকদার হাটে আমার নানাবাড়ি। আমি জন্মেছি ওখানে তালুকদার বাড়িতে। আমার ছেলেবেলা কেটেছে বরিশাল জিলা স্কুলে। তাই বরিশাল আমার ভালোবাসার স্থান। আমি মনে করিনা, ওখানে আমার সাথে বা আমার কাজে কারো কোনো দ্বন্দ্ব থাকা উচিত। উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে আমি বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিসিসি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এবং রাজনৈতিক মুরুব্বি মজিবর রহমান সরোয়ার উভয়ের ডাকেই সাড়া দিতে প্রস্তুত। দলমত নির্বিশেষে সদর উপজেলার সকলের প্রতি আমার গভীর ভালবাসা ও শ্রদ্ধা রয়েছে দাবী করে স্বপন আরো বলেন, স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয় আমি এড়িয়ে চলতে পছন্দ করি। বিভক্তি নয়, ঐক্যবদ্ধ বিএনপির নেতৃবৃন্দের জন্য আমার দরজা সবসময় খোলা।<span style="font-weight: 300;">এদিকে সিটি করপোরেশন প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বাস টার্মিনালটি স্থানান্তরের বিষয়ে অটল। তিনি জানিয়েছেন, খুব শিগগির প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ট্রাক টার্মিনালে অস্থায়ী বাস টার্মিনাল করা হবে। তবে বরিশাল সিটি করপোরেশন ও বিএনপি একই সুতোয় গাঁথা। এখানে কোনো বিভক্তি নেই বলে দাবী করেন তিনি।</span></p>
<p>যদিও তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন জেলা বাস মালিক সমিতি ও জেলা ট্রাক মালিক সমিতি।<br />
বাস মালিক সমিতির ভাষ্য, অন্যত্র স্থায়ী বাস টার্মিনাল না হওয়া পর্যন্ত তারা নথুল্লাবাদ টার্মিনাল ছাড়বেন না। আর ট্রাক মালিক সমিতি বলছে, তাদের জন্য নির্মিত টার্মিনালে বাস রাখতে দেওয়া হবে না। এ দুটি সংগঠন জোটবদ্ধ হয়ে টার্মিনাল স্থানান্তর ঠেকাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে । এরফলে প্রবীণ নেতা মজিবর রহমান সরোয়ারের সাথে দ্বন্দ্বটা প্রকাশ্যে আসতে যাচ্ছে বলে মনে করেন অনেকে।<br />
এ বিষয়ে কথা বলতে বরিশাল ৫ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক মেয়র ও হুইপ মজিবর রহমান সরোয়ার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি আমি। অথচ আমাকে না জানিয়ে অনেককিছু ঘটছে বা ঘটানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে থেকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে সবধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত তিনি। কিন্তু কেউ যদি সহযোগিতা না চেয়ে দূর থেকে অভিযোগ তুলে তার দায় শেষ করে, সেখানে আমার কি করার আছে?</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%b9%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%95-%e0%a6%95%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>স্বাধীন গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র চলতে পারে না- জহির উদ্দিন স্বপন</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a6%a3%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%ae-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%97/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a6%a3%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%ae-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%97/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 21 Feb 2026 13:45:10 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[রাজখবর]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=5930</guid>

					<description><![CDATA[<p>স্বাধীন গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র চলতে পারে না- জহির উদ্দিন স্বপন</p> <p>আগামী এক থেকে দেড়বছরের মধ্যে আমাদের নেতার পরিকল্পনা আপনারা (সাংবাদিকরা) জাতির সামনে তুলে ধরতে পারবেন।</p> <p>বিশেষ প্রতিবেদক</p> <p>তথ্য ও সম্প্রচার</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a6%a3%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%ae-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%97/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>স্বাধীন গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র চলতে পারে না- জহির উদ্দিন স্বপন</strong></p>
<p><strong>আগামী এক থেকে দেড়বছরের মধ্যে আমাদের নেতার পরিকল্পনা আপনারা (সাংবাদিকরা) জাতির সামনে তুলে ধরতে পারবেন।</strong></p>
<p><strong>বিশেষ প্রতিবেদক</strong></p>
<p><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/02/IMG_20260221_120701_231@-671774507-scaled-1.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-5931" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/02/IMG_20260221_120701_231@-671774507-scaled-1-300x135.jpg" alt="" width="300" height="135" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/02/IMG_20260221_120701_231@-671774507-scaled-1-300x135.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/02/IMG_20260221_120701_231@-671774507-scaled-1-1024x461.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/02/IMG_20260221_120701_231@-671774507-scaled-1-768x346.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/02/IMG_20260221_120701_231@-671774507-scaled-1-1536x691.jpg 1536w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/02/IMG_20260221_120701_231@-671774507-scaled-1-2048x922.jpg 2048w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, স্বাধীন গণমাধ্যম না থাকলে একটা দেশে গণতন্ত্র চলতে পারে না। আবার গণমাধ্যমগুলোও তাদের স্বাধীনতা চর্চা করতে পারে না, যদি তার জবাবদিহিতা না থাকে। আমরা সে কারণে স্বাধীনতার জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবো এবং এ পথেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে আমরা নিশ্চিত করবো বলে জানিয়েছেন বরিশাল ১ গৌরনদী আগৈলঝারা আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ২১ ফেব্রুয়ারী শনিবার সকালে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বরিশাল জেলা প্রশাসনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, আমরা ভয়ভীতিমুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করতে চাই। সাংবাদিকতা একটি স্বতন্ত্র পেশা। এই পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো সমস্যা, সংকট বা বিরোধ সাংবাদিকতার নিজস্ব কাঠামো ও নীতিমালার মধ্যেই সমাধান হওয়া প্রয়োজন। এর বাইরে অন্য কোনো প্রশাসনিক বা মন্ত্রণালয়ভিত্তিক হস্তক্ষেপ হলে পেশাগত স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।<br />
গণমাধ্যমের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কিছু বাস্তব সমস্যা রয়েছে। সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।<br />
সাংবাদিকদের আর্থিক ও পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ওয়েজ বোর্ডকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। দ্রুত সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।<br />
বাংলাদেশকে প্রস্তুত করাই সরকারের একমাত্র লক্ষ্য, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য নয় দাবী করে মন্ত্রী বলেন, এবারের জাতীয় নির্বাচন থেকে সরকার ও প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।<br />
এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘ভবিষ্যতে যেন সব সময় একটি নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা আরো দৃঢ় করাই সরকারের অগ্রাধিকার।’<br />
অনুষ্ঠানের শেষে তিনি ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে অবদান রাখা নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।<br />
সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেন, আমাদের নেতা দেশনায়ক তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন এবং সেটা অবাধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নিয়েছেন। কোন ধরনের কোন বাঁকা পথ, কারচুপি বা কোন ধরনের কোন বিতর্কের স্কোপ নেই। এমনকি এ নির্বাচন সম্পর্কে কোন মহল, কোন ব্যক্তি, আজ পর্যন্ত প্রশ্ন তুলতে পারেনি। তারেক রহমান আজ জনগণের ভোটে নির্বাচিত জননেতা। আমরা সেই নেতার নেতৃত্বে একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি, যে পরিকল্পনা অনেক বিস্তৃত কিন্তু আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজে হাত দিচ্ছি। আশাকরি আগামী এক থেকে দেড়বছরের মধ্যে আমাদের নেতার পরিকল্পনা কি ছিল বা কি করতে যাচ্ছে যা আপনারা (সাংবাদিকরা) জাতির সামনে তুলে ধরতে পারবেন বলে জানান জহির উদ্দিন স্বপন।<br />
জানা গেছে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে গৌরনদীর উদ্দেশ্যে সড়ক পথে যাত্রা শুরু করেন। রাত দশটায় গৌরনদী উপজেলার প্রবেশদ্বার ভুরঘাটা বাসষ্ট্যান্ডে বিএনপির নেতৃবৃন্দরা মন্ত্রীকে অভ্যর্থনা প্রদান করেন। রাত ১২ টা ১ মিনিটে তথ্যমন্ত্রী গৌরনদীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন করে রাত সাড়ে বারোটায় বরিশাল সার্কিট হাউজে এসে রাত্রীযাপন করেন। এসময় তিনি তার জন্মস্থান সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের তালুকদার হাটে নানাবাড়িতে যোগাযোগ করেছেন এবং নানা,নানুসহ মৃত ও অসুস্থদের জন্য দোয়ার আয়োজন করেছেন। মন্ত্রী হবার পর এটিই তার প্রথম বরিশাল সফর।।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a6%a3%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%ae-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%97/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>‘চতুষ্কোণ গ্যাং’ আসছে এবারের বইমেলায়</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%9a%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%a3-%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%82-%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%ac/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%9a%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%a3-%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%82-%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%ac/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[নিজস্ব প্রতিবেদক, সাহিত্য বাজার]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 27 Jan 2026 14:59:31 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[রম্যকথন]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=5913</guid>

					<description><![CDATA[<p>বন্ধুত্বের অন্বেষণ:‘চতুষ্কোণ গ্যাং’</p> <p>আসছে এবারের বইমেলায়</p> <p>নিজস্ব প্রতিবেদক</p> <p></p> <p>অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ এ শিল্পৈষী প্রকাশনী থেকে আসছে বেশকিছু তারুণ্যদীপ্ত কিছু নতুন গল্প, অনুগল্প ও প্রবন্ধের বই। গল্পের বইগুলো নিয়ে</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%9a%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%a3-%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%82-%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%ac/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>বন্ধুত্বের অন্বেষণ:‘চতুষ্কোণ গ্যাং’</strong></p>
<p><strong>আসছে এবারের বইমেলায়</strong></p>
<p><strong>নিজস্ব প্রতিবেদক</strong></p>
<p><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/01/FB_IMG_1769524106448.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-5914" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/01/FB_IMG_1769524106448-210x300.jpg" alt="" width="210" height="300" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/01/FB_IMG_1769524106448-210x300.jpg 210w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/01/FB_IMG_1769524106448-717x1024.jpg 717w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/01/FB_IMG_1769524106448.jpg 720w" sizes="auto, (max-width: 210px) 100vw, 210px" /></a></p>
<div id="attachment_5915" style="width: 262px" class="wp-caption alignleft"><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/01/IMG_20260127_205509.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-5915" class="size-medium wp-image-5915" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/01/IMG_20260127_205509-252x300.jpg" alt="" width="252" height="300" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/01/IMG_20260127_205509-252x300.jpg 252w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/01/IMG_20260127_205509.jpg 653w" sizes="auto, (max-width: 252px) 100vw, 252px" /></a><p id="caption-attachment-5915" class="wp-caption-text">Oplus_131072</p></div>
<p>অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ এ শিল্পৈষী প্রকাশনী থেকে আসছে বেশকিছু তারুণ্যদীপ্ত কিছু নতুন গল্প, অনুগল্প ও প্রবন্ধের বই। গল্পের বইগুলো নিয়ে ভীষণ আশাবাদী প্রকাশক ও লেখক সালাম খোকন। তিনি বলেন, এখানে কিছু গল্প আছে যা জুলাই বিপ্লবের চেতনায় তৈরি, আবার কিছু গল্প তৈরি হয়েছে সংবাদ শিরোনাম থেকে। রয়েছে ছায়া মুক্তিযুদ্ধের গল্প। আবার ভৌতিক গল্পও রয়েছে এবারের বইমেলার জন্য শিল্পৈষীর বিশেষ আকর্ষণ।<br />
লেখক সালাম খোকন তার ‘চতুষ্কোণ গ্যাং সম্পর্কে বলেন’- এটি যখন লিখতে শুরু করেছিলাম, তখন আমার মনে কেবল একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল: বন্ধুত্ব কি কেবল তারুণ্যের কয়েকটি মুহূর্ত, নাকি আজীবনের আশ্রয়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই জন্ম নিল রিদওয়ান, সানিদ, তানভীর আর সুনিয়াকে নিয়ে গল্প—‘চতুষ্কোণ গ্যাং’।<br />
সালাম খোকন বলেন, তারা কেউই নিখুঁত ছিল না। বরং তাদের ভুল, দ্বিধা, আর টানাপোড়েনই তাদের বাস্তব করে তুলেছে। তারা ঝগড়া করেছে, একে অপরের থেকে দূরে সরে গেছে, আবার ফিরেও এসেছে। জীবনের প্রতিটি বাঁকে তাদের বন্ধুত্ব নতুন নতুন রূপে উন্মোচিত হয়েছে।</p>
<p>এই উপন্যাসটি লেখার সময় বারবার মনে হয়েছে, বন্ধুত্ব নিছকই একটি সম্পর্ক নয়- এটি একটি আশ্রয়। পৃথিবী যখন কঠিন মনে হয়, যখন ঘরবাড়ি অচেনা লাগে, তখন আপনার বন্ধুরাই হয়ে ওঠে আপনার সত্যিকারের ঠিকানা। হয়তো তারা সব সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে না কিন্তু তারা পাশে থাকে। মাথায় হাত রেখে ভরসা দেয়— ‘তুই পারবি। আমরা আছি।’</p>
<p>আমার গল্পে কেউ নায়ক নয়, কেউ খলনায়কও নয়। সবাই কেবলই মানুষ। আর মানুষ মানেই ভুল, আবেগ, সংশয় এবং শুদ্ধতার এক অনন্ত অনুসন্ধান।</p>
<p>এই উপন্যাসের শেষে আমি চাই, পাঠক যেন তাদের নিজেদের বন্ধুদের কথা ভাবেন। সেই ক্যাম্পাস, সেই মেস রুম, রাতের আকাশের নিচে বসে গল্প করার মুহূর্তগুলো যেন তাদের স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে।</p>
<p>যারা বন্ধু হারিয়েছেন- তাদের জন্য এই বইটি একটি মৃদু আহ্বান। আর যারা বন্ধুত্বের বাঁধন ধরে রেখেছেন- তাদের প্রতি আমার অজস্র ধন্যবাদ।</p>
<p>যখন আমি লিখতে বসি, তখন আমি কেবল একজন গল্পকার নই; আমি নিজেও একজন বন্ধু— ঠিক আপনাদেরই মতো। যে হারিয়ে যেতে যেতে আবার ফিরে পায় তার চেনা মুখগুলোকে। এই বই যদি আপনার মনে বিন্দুমাত্র দোলা দেয়, যদি আপনার নিজের বন্ধুদের নাম মনে করিয়ে দেয়, তাহলে জেনে রাখবেন- এই লেখা, এই কণ্ঠস্বর, এই গল্প আপনারই জন্য।</p>
<p>সবশেষে, রিদওয়ানের কথা দিয়েই শেষ করি- ‘আমরা একসঙ্গে থেকে একে অপরকে আরও সমৃদ্ধ করব।’ এটাই হোক আমাদের বন্ধুত্বের প্রতিজ্ঞা।</p>
<p>বন্ধুত্ব বেঁচে থাক। ভালোবাসা ছড়িয়ে যাক।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%9a%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%a3-%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%82-%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%ac/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>দেশজুড়ে বাড়ছে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন: জাতীয় সরকার চায় সাধারণ মানুষ  </title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%a4/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%a4/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 11 Jan 2026 19:25:53 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[রাজখবর]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=5904</guid>

					<description><![CDATA[সারাদেশে বাড়ছে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন : জাতীয় সরকার চায় সাধারণ মানুষ  (গণভোটে হাঃ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার)    বিশেষ প্রতিবেদক  বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের একজন<span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%a4/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div id="m#msg-a:r-1843409369147333405" class="mail-message expanded">
<div id="m#msg-a:r-1843409369147333405-header" class="mail-message-header spacer"><strong>সারাদেশে বাড়ছে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন : জাতীয় সরকার চায় সাধারণ মানুষ </strong></div>
<div id="m#msg-a:r-1843409369147333405-content" class="mail-message-content collapsible zoom-normal mail-show-images ">
<div class="clear">
<div dir="auto">
<div dir="auto"><strong>(গণভোটে হাঃ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার)  </strong></div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"><strong> বিশেষ প্রতিবেদক </strong></div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/FB_IMG_1766304146574.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-5878" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/FB_IMG_1766304146574-300x122.jpg" alt="" width="300" height="122" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/FB_IMG_1766304146574-300x122.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/FB_IMG_1766304146574-768x311.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/FB_IMG_1766304146574.jpg 960w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের একজন বিএনপি কর্মী জানালেন, তাদের এলাকা শুধু নয় আশেপাশের গ্রামেও সাধারণ মানুষের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামি দলের প্রতি সমর্থন বা সহানুভূতি বেশি লক্ষ্য করা গেছে। তবে প্রকাশ্যে এখানে বিএনপির সমর্থক সবাই। ভোটের দিন বোঝা যাবে প্রকৃত অবস্থা।</div>
<div dir="auto">প্রায় কাছাকাছি বক্তব্য পাওয়া গেছে  পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার দাস পাড়া থেকেও। এখানে সাংবাদিক দেবদাস মজুমদার, সুমন বেপারীসহ কয়েকজন জানালেন, পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন নেই। আগের তুলনায় সবকিছুতে নৈরাজ্য বেড়েছে। ইন্টেরিম প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ এটা পরিষ্কার। এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ সিলিন্ডার গ্যাস নিয়ে।  তারউপর চালের দামও বেড়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর এসব নিয়ে কোনো বক্তব্য বা সহানুভূতি নেই।সাধারণ মানুষের মধ্যে এগুলোর প্রভাব পরছে। এমনকি হিন্দু জনগোষ্ঠীর মধ্যেও আওয়ামী লীগ, বিএনপির বাইরে নতুন কিছু দেখার প্রত্যাশা রয়েছে। যদিও ভয়ে কেউ সরাসরি কিছু বলছে না।</div>
<div dir="auto">এদিকে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি, চরাদি, দাড়িয়াল, দুধল বা গোমা ইউনিয়ন ঘুরে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে, এবারের নির্বাচনে ইসলামি জোটের প্রতি আস্থা খুঁজছেন তারা। দুধল মাদ্রাসা সংলগ্ন ব্যবসায়ী মাহবুব, মহিবুল বেগ, সাইফুল ইসলাম বেগসহ একাধিক গ্রামবাসী বললেন, তারা এবার ইসলামের শাসনব্যবস্থা দেখতে চান।</div>
<div dir="auto">তবে ব্যতিক্রম বরিশাল সদর উপজেলা। এখানে এখন পর্যন্ত সরাসরি ইসলামের পক্ষে কোনো কথা নেই। কেউ কেউ ইসলামি দলের ভিতর স্ববিরোধী আচরণের উদাহরণ দিয়ে চরমোনাই বা ইসলামি আন্দোলন প্রার্থীর দোষ খুঁজে বেড়াচ্ছেন। বিশেষ করে রায়পাশা-কড়াপুর ও সদরের কাশীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা বলছেন, ইসলামের নাম নিয়ে এরা নিজেরাই সঠিক ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত নেই। কোরাআন হাদিসের অনুসরণে রাষ্ট্র গঠনের সরাসরি ঘোষণা যে দেবে আমরা তাদের চাই। তা-না হলে বিএনপির দূর্গ এই বরিশাল, বিএনপির হাতেই থাকবে পুনরায়।</div>
<div dir="auto">বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে চাইলে, এভাবেই কিছু কিছু সাহসী মানুষ তাদের মতামত তুলে ধরেন। তবে বেশিরভাগ মানুষ যেন এ নিয়ে কথা বলতে এখনো ভীত ও আতঙ্কিত। তারা বলেন, আমরা রাজনীতি বুঝিনা, পেটের ক্ষুধার জন্য কাজ করি, ভোট দিতে পারলে দিমু, গ্যাঞ্জাম দেখলে ধারেকাছেও যামুনা।</div>
<div dir="auto">শুধু বরিশাল নয়, বাংলাদেশের প্রায় সব জেলায় তথা সারাদেশেই একইচিত্র। পরিবর্তনের অপেক্ষায় বেশিরভাগ মানুষ এখন পর্যন্ত নিরবে দেখছেন ও শুনছেন সবকিছু। তবে মুখে কুলুপ এঁটেছেন যেন সবাই।</div>
<div dir="auto">রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, পরিবর্তন একটা যে হবে, তা সাধারণ মানুষের আচার-আচরণে স্পষ্ট। এই জনমানুষের ভাষা যে দল বুঝতে পারবেন তারাই হবেন আগামীর বাংলাদেশ। তিনি সবাইকে গণভোটের পক্ষে হাঃ ভোট প্রদানের আহ্বান জানান। বলেন, এই হাঃ ভোটেই দাঁড়িয়ে আছে পরিবর্তনের রূপরেখা।</div>
<div dir="auto">সম্প্রতী বিএনপির অভ্যন্তরীণ জরিপ এবং কয়েকটি পত্রিকা ঢালাওভাবে জনমত জরিপ চালিয়ে যে তথ্য নিশ্চিত করেছে তার সাথে সরেজমিন অনুসন্ধানী তথ্যের বিস্তর ফারাক। জনপ্রিয় সাংবাদিক ও এক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য, কনক সরোয়ার এবং ইলিয়াস হোসাইন বলেছেন, যারা ৭০% জনমত বিএনপির পক্ষে বলছেন, তারা মূলত বিএনপিকে খুশি করতে মরিয়া। প্রকৃত সত্য গোপন করে বিএনপিকেও আওয়ামী লীগের মতই স্বৈরাচার হতে উৎসাহ দিচ্ছে। প্রকৃত সত্যতো স্বীকার করেন সয়ং বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান নিজেও। যে কারণে তিনি বারবার বলে আসছেন, এই নির্বাচন সহজ হবেনা। আমাদের জনগণের ভাষা বুঝতে হবে।</div>
<div dir="auto">কিন্তু বিএনপির ভিতরে লুকানো ভারতীয় চরেরা এতোটাই শক্তিশালী যে তাদের কাছে বারবার হেরে যাচ্ছেন তারেক রহমান নিজেও। এমন পরিস্থিতিতে কনক সরোয়ারতো এখনো জাতীয় সরকার গঠনের জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যানকে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমানের বক্তব্য এবং তারেক রহমান এর বক্তব্যে যথেষ্ট মিল ও পরষ্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছেন পিনাকী ভট্টাচার্য ও ইলিয়াস হোসাইন। তারা বলছেন, নির্বাচনে জয় লাভের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে। তবে দিনশেষে সব রাজনৈতিক দলকে সংগে নিয়ে ঐক্যমত্যের বা জাতীয় সরকার গড়বেন বিজয়ী দল। আর এটাই চায় বাংলাদেশের ৭০ ভাগের বেশি মানুষ। ময়মনসিংহ থেকে সাংবাদিক ও সংগঠক কবি স্বাধীন চৌধুরী, রাজশাহী থেকে নাট্যকার সংগঠক কামারউল্লাহ কামার, বগুড়া থেকে নাট্যসংগঠক ও অভিনেতা রুবল লোদী জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত তাদের আশেপাশের মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে একধরনের শংকা কাজ করছে। মন খুলে রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে নারাজ বেশিরভাগ মানুষ। তবে জাতীয় সরকার গঠনের কোনো আলোচনায় গভীর মনোযোগ প্রায় সকলেরই। সুমন বেপারী জানান, অবস্থা যা তাতে মঠবাড়িয়ায় জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাবনা বাড়ছে।</div>
<div dir="auto">সরেজমিনে বরিশালের ছয় জেলার ২১টি আসনের বেশিরভাগ সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা গেছে একই চাওয়া। তাদের সকলের প্রত্যাশা  ডাঃ শফিকুর রহমান ও তারেক রহমান যৌথভাবে ভারতীয় সব ষড়যন্ত্র থেকে এই দেশটাকে বাঁচাবেন এবং একটি সুন্দর শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশ উপহার দেবেন।</div>
</div>
</div>
</div>
<div id="m#msg-a:r-1843409369147333405-footer" class="mail-message-footer spacer collapsible"></div>
</div>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%a4/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আপোষহীন নেত্রীর চিরবিদায়</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b7%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%af/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b7%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%af/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 30 Dec 2025 11:26:20 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলার চিঠি]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=5893</guid>

					<description><![CDATA[<p>আপোষহীন নেত্রীর জীবনের অবসান: নেতৃত্ব শূন্য হলো বাংলাদেশ</p> <p>অগণিত ঝড়-ঝঞ্ঝা, সন্তান হারানোর শোক সহ্য করেও দেশ ছাড়েননি। আপোষহীন উপাধী নিয়ে বটবৃক্ষের ন্যায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। গৃহবধূ থেকে বিএনপির হাল ধরে তিন</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b7%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%af/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>আপোষহীন নেত্রীর জীবনের অবসান: নেতৃত্ব শূন্য হলো বাংলাদেশ</strong></p>
<p><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/IMG_20251230_171832.png"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-5894" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/IMG_20251230_171832-300x178.png" alt="" width="300" height="178" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/IMG_20251230_171832-300x178.png 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/IMG_20251230_171832.png 744w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>অগণিত ঝড়-ঝঞ্ঝা, সন্তান হারানোর শোক সহ্য করেও দেশ ছাড়েননি। আপোষহীন উপাধী নিয়ে বটবৃক্ষের ন্যায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। গৃহবধূ থেকে বিএনপির হাল ধরে তিন তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তারপর পুরোটাই ইতিহাস। ফ্যাসিবাদের জননী শেখ হাসিনার প্রতিশোধ পরায়নোতার শিকার হয়েও তিনি দেশনেত্রী। অবশেষে সব যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রীয় ঘোষণানুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকাল ছয়টায় পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন এই মহান নেত্রী (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।<br />
১৯৮১ সালের ৩০ মে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপি&#8217;র মধ্যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়। ঐসময় সেনাপ্রধান এরশাদের ক্ষমতা দখলের ফলে দলটি বিভক্ত হয়ে পড়ে। দলের শীর্ষ নেতা ও কর্মীদের অনুরোধে এবং বিএনপিকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি দলের প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়া।<br />
বিএনপি&#8217;র ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য অনুযায়ী ১৯৮২ সালের ৩রা জানুয়ারি একজন গৃহবধূ থেকে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে খালেদা জিয়ার আত্মপ্রকাশ ঘটে। সেদিন তিনি বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ লাভ করেন। একই বছর ৭ই নভেম্বর জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে খালেদা জিয়া প্রথম বক্তব্য রাখেন, যা ছিলো অবিস্মরণীয়।<br />
এ প্রসঙ্গে লেখক মহিউদ্দিন আহমদ তাঁর সময়-অসময়&#8217; বইয়ে লিখেছেন বিএনপিতে যোগ দেবার পর থেকে খালেদা জিয়া বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে হাজির হওয়া শুরু করেন।<br />
মহিউদ্দিন আহমদ আরো লিখেছেন, ১৯৮২ সালের ২৮ জানুয়ারি শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদের নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার এবং প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমানের সাথে খালেদা জিয়াও উপস্থিত ছিলেন। উনিশশো বিরাশি সালের ২১শে জানুয়ারি বিএনপি&#8217;র চেয়ারম্যান নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। দলের মধ্যে তখন এনিয়ে বিভক্তি চলমান ছিলো। দলের তরুণ অংশ চেয়েছিল খালেদা জিয়া দলীয় প্রধান হোক। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে বিএনপি&#8217;র প্রধান হিসেবে দেখেতে আগ্রহী ছিল তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদ।<br />
বিএনপির চেয়ারম্যান হবার জন্য একইসাথে প্রার্থী হয়েছিলেন খালেদা জিয়া এবং রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার।<br />
বিএনপির ওয়েবসাইটে তখনকার ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরে বলা হয়েছে, &#8220;এর ফলে এক বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। বিচারপতি সাত্তার দুবার বেগম খালেদা জিয়ার বাসায় যান। বেগম খালেদা জিয়া তাঁকে তরুণ নেতৃত্বের মনোভাবের কথা জানান। এসময় বিচারপতি সাত্তার বেগম খালেদা জিয়াকে দলের সহ-সভাপতির পদ এবং দেশের ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের অনুরোধ জানান। কিন্তু বেগম জিয়া ব্যক্তিগত কারণে তা গ্রহণ করেননি। অবশেষে বিচারপতি সাত্তারের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর বেগম খালেদা জিয়া চেয়ারম্যান পদ থেকে তাঁর প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেন।&#8221;</p>
<p>উনিশশো বিরাশি সালের ২৪শে মার্চ তৎকালীন সেনাপ্রধান এইচএম এরশাদ এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। রাজনীতিতে তখন অপ্রয়োজনীয় হয়ে পরেন আঃ সাত্তার। তাঁর বার্ধক্য, অসুস্থতা এবং নিষ্ক্রিয়তার কারণে দল থেকে তিনি আড়ালে চলে যান।<br />
যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে তিনিই বিএনপির চেয়ারম্যান থাকলেও, দল পরিচালনায় খালেদা জিয়ার প্রভাব বাড়তে থাকে। উনিশশো তিরাশি সালের মার্চ মাসে খালেদা জিয়া দলের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান হন এবং এপ্রিল মাসের প্রথমে বিএনপির এক বর্ধিত সভায় তিনি ভাষণ দেন। কিন্তু তৎকালীন বিএনপির কিছু নেতা সেটি পছন্দ করেননি। বিএনপির সেই অংশটি ভিন্ন আরেকটি জায়গায় বৈঠকের আয়োজন করে। সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের কয়েকমাস পরেই খালেদা জিয়া দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন। এ সময় এরশাদ বিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় হয়ে উঠেন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৮৪ সালের ১০ই মে বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ প্রসঙ্গে প্রয়াত রাজনীতিবিদ মওদুদ আহমদ লিখেছেন, খালেদা জিয়া দলের চেয়ারম্যান হোন এটি সামরিক নেতারা, দুই গোয়েন্দা বিভাগ এবং মন্ত্রীসভার দুই গ্রুপ &#8211; কেউ চায়নি। প্রভুদের এবং নিজেদের স্বার্থরক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজ অনেকটা জোর করেই বিচারপতি সাত্তারকে দিয়ে মনোনয়নপত্রে সই করান। খালেদা জিয়া যদি তখন বিএনপির হাল না ধরতেন তাহলে বিএনপি নিঃসন্দেহে গভীর সংকটে পতিত হতো বলে লিখেছেন আরেকজন প্রবীণ সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ।<br />
এরশাদ বিরোধী আন্দোলন যখন ধীরে ধীরে জোরালো হচ্ছিল তখন বিএনপির বাইরে অন্য রাজনৈতিক দল থেকে খালেদা জিয়াকে দলের নেতৃত্ব গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এক্ষেত্রে হায়দার আকবর খান রনো এবং রাশেদ খান মেনন ছিলেন অন্যতম। খালেদা জিয়ার সাথে আলোচনার জন্য তারা দুইজন তাঁর তৎকালীন ক্যান্টনমেন্টের বাসায় গিয়েছিলেন।<br />
মি. রনো তাঁর আত্মজীবনী &#8216;শতাব্দী পেরিয়ে&#8217; বইতে একথা তুলে ধরেছেন।<br />
খালেদা জিয়ার সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে মি. রনো তাঁর বইতে লিখেছেন, &#8220;আমরা খালেদা জিয়ার কাছে প্রস্তাব করলাম, আপনি রাজনীতিতে আসুন, বিএনপির হাল ধরুন, এক্ষেত্রে এরশাদের বিরুদ্ধে লড়ব। এরশাদ সম্পর্কে তার ঘৃণা ও ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছিল। কিন্তু সরাসরি রাজনীতি করবেন কী-না সে সম্পর্কে কিছু বললেন না। দেখলাম, তিনি স্বল্পভাষী, তবে আমাদের কথা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন। কোন কথা ঠিক মতো বুঝতে না পারলে, প্রশ্ন করে ভালো করে বুঝে নিচ্ছিলেন। সবশেষে তিনি বললেন, ভেবে দেখব।&#8221;</p>
<p>উনিশশো আশির দশকে জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাধ্যমে দেশজুড়ে খালেদা জিয়ার ব্যাপক পরিচিতি গড়ে উঠে।জেনারেল এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তাতে বিএনপি জয়লাভ করে এবং প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন বেগম খালেদা জিয়া।রাজনীতিতে আসার ১০ বছরের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী হন তিনি।<br />
এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় তাঁকে কয়েকবার আটক করা হলেও আন্দোলন থেকে সরে যাননি বিএনপি চেয়ারপারসন।<br />
খালেদা জিয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনে যতগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তার সবগুলোতেই জয়লাভ করেছেন।<br />
খালেদা জিয়ার শাসন আমল, ১৯৯১-৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ &#8212; এই দুইভাগে ভাগ করেন অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক।<br />
দুই হাজার এক সালে ক্ষমতাসীন হবার পর থেকে খালেদা জিয়ার সরকার একের পর এক বিতর্কের মুখে পড়ে। সেই বিতর্ক থেকে তাঁর দল ও সরকার আর বেরিয়ে আসতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনরায় সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ ঘটে। এখানে সেনাবাহিনীর কাছে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ আত্মসমর্পণ করলেও আপোষহীন নেত্রীর ভূমিকায় অটল ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। খেসারতও দিয়েছেন তিনি। এক সন্তান হারিয়ে দিশেহারা একজন মা বড় সন্তানকে বাঁচাতে বেছে নিয়েছেন কারাগারের জীবন।<br />
বিগত ১৬ বছরে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছিলো বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে জিয়া পরিবারের ভূমিকা মুছে ফেলার। কিন্তু বেগম জিয়ার দৃঢ়তা ও আপোষহীনতার কারণ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্ব অটুট ছিলো এবং এখন পর্যন্ত হাল ধরে আছেন জিয়া পরিবার।<br />
এর আগে এরশাদের শাসন আমলে একযোগে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে নামে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। সে সময়ে আওয়ামী লীগ ছিলো সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। ৮৬ সালে এরশাদ এক নির্বাচন আয়োজন করলেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত সিদ্ধান্ত নিলো যে তারা নির্বাচন বর্জন করবে। কিন্তু শেষপর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও জামায়াত এরশাদের আয়োজিত ৮৬’র নির্বাচনে অংশ নেয়। আর সে সময় অনেকেই আওয়ামী লীগকে জাতীয় বেইমান বলেও আক্ষ্যায়িত করেন। অনেক সূত্র থেকে জানা যায়, সেই নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য শেখ হাসিনা তৎকালীন সরকার প্রধান থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়েছিলেন। জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ বা জামায়াত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করলো না। করলে হয়ত শেখ হাসিনার মতো বেগম জিয়াও মোটা অংকের টাকা পেতেন। সে সময় থেকেই তাঁকে নাম দেয়া হলো ‘আপোষহীন নেত্রী’। ৮৬’র নির্বাচনে অংশ না নিলেও খালেদা জিয়া তথা বিএনপির জনপ্রিয়তা তখন আকাশচুম্বী। ৯১ সালে এরশাদের পতন হলো। তত্ত্বাবধয়ক সরকারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো নির্বাচন। ‘আওয়ামী লীগ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল’, এমন বিশ্বাস থেকে শেখ হাসিনা নির্বাচনের আগে থেকেই মন্ত্রিসভা ঠিক করে রেখেছিলেন। কিন্তু জিতে গেলেন বেগম খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপি। অনেক বিশ্লেষকের মতে ৮৬’র নির্বাচনে এরশাদের সাথে আপোষ না করার কারণেই এত জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো বিএনপি।<br />
আজ এই মুহূর্তে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সামনে ঠিক একই সংকট। একই ইতিহাস ঘুরছে তার চারপাশে। আপোষহীন নেত্রীর পদাঙ্ক অনুসরণ এর বিকল্প নেই তারেক রহমান এর হাতে।<br />
সাধারণ মানুষের কাছে এই মুহূর্তে তারেক রহমান আশার আলো। সকলের প্রত্যাশা &#8211; যা হয়েছে, যথেষ্ট। এবার দেশ পুনরুদ্ধার হবে তারেক রহমান এর বিচক্ষণতার প্রমাণ।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b7%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%af/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>শহীদ ওসমন হাদি: নাম নয় ইতিহাস</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b6%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%a6-%e0%a6%93%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a8-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%a8%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b6%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%a6-%e0%a6%93%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a8-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%a8%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 22 Dec 2025 05:56:29 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলার চিঠি]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=5877</guid>

					<description><![CDATA[<p>একজন ওসমান হাদির মৃত্যু: বদলে দিয়েছে বাংলাদেশ তথা বিশ্বের রাজনৈতিক ভাবনা<br /> (মাদ্রাসা থেকে জঙ্গি নয়, শহীদ হাদিদের জন্ম হয়)</p> <p>বিশেষ প্রতিবেদক</p> <p>বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু নাম থাকে, যাদের প্রভাব</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%b6%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%a6-%e0%a6%93%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a8-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%a8%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>একজন ওসমান হাদির মৃত্যু: বদলে দিয়েছে বাংলাদেশ তথা বিশ্বের রাজনৈতিক ভাবনা</strong><br />
<strong>(মাদ্রাসা থেকে জঙ্গি নয়, শহীদ হাদিদের জন্ম হয়)</strong></p>
<p><strong>বিশেষ প্রতিবেদক</strong></p>
<p><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/FB_IMG_1766304146574.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-5878" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/FB_IMG_1766304146574-300x122.jpg" alt="" width="300" height="122" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/FB_IMG_1766304146574-300x122.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/FB_IMG_1766304146574-768x311.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/FB_IMG_1766304146574.jpg 960w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু নাম থাকে, যাদের প্রভাব কেবল ভৌগোলিক সীমার মধ্যে আবদ্ধ নয়—তারা সময়, চিন্তা ও বিবেককে স্পর্শ করে। ঝালকাঠির সন্তান শহীদ ওসমান হাদি তেমনই একজন মানুষ। তাঁর জীবন প্রমাণ করে দেয়—মাদ্রাসা মানেই জঙ্গিবাদ নয়, বরং সেখান থেকেও জন্ম নিতে পারে মানবমুক্তির সংগ্রামী, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক সাহসী যোদ্ধা এবং শহীদ।<br />
১২ ডিসেম্বর শুক্রবার নির্বাচনী প্রচারণার সময় ঢাকার পুরানা পল্টন এলাকায় ভারতীয় আওয়ামী সন্ত্রাসীর হাতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি। সর্বশেষ সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওসমান হাদি ১৯ ডিসেম্বর শুক্রবার মৃত্যুবরণ করেন। এ মৃত্যু শহীদী মৃত্যু। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদেরকে মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত; কিন্তু তোমরা অনুভব করতে পার না। (সূরা বাকারা আয়াত ১৫৪)<br />
গত ২০ ডিসেম্বর শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক দিবস পালনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি ইতিহাস সৃষ্টি করেছে এবং আগামী রাজনীতিতে বিশাল পরিবর্তনের ঈঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে। তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পাশে সমাহিত করা হয়েছে। বিদ্রোহী কবির পাশেই তাঁর চিরনিদ্রা যেন ইতিহাসের কাছে এক নীরব ঘোষণা—কবিতার বিদ্রোহ আর জীবনের বিদ্রোহ আলাদা কিছু নয়। এখানেই রচিত হয়েছে বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস।<br />
বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি জেলার এক সাধারণ পরিবারে ১৯৯৩ সালে জন্মগ্রহন করেন ওসমান হাদি। তাঁর শৈশব কেটেছে কীর্তনখোলা ও বিষখালী নদীর উদারতা গায়ে মেখে। ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার পৌর শহরের খাসমহল এলাকায় তাঁর বাড়ি। বাবা মাওলানা আব্দুল হাদি ছিলেন একজন মাদ্রাসা শিক্ষক। ছয় ভাইবোনের মধ্যে হাদি ছিলেন সবার ছোট। তাঁর বড় ভাই মাওলানা আবু বক্কর ছিদ্দিক বরিশালের গুঠিয়া জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মেঝো ভাই মাওলানা ওমর ফারুক ঢাকায় ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।<br />
ওসমান হাদির শিক্ষাজীবনের শুরু হয়েছিল ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসায়। সেখান থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন তিনি। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকায় এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ২০১০–১১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন। সেখান থেকে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন শেষ করার পর শরিফ ওসমান হাদি শিক্ষকতাকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। সৎ জীবনযাপন ছিলো হাদির চারিত্রিক মাধুর্য। ওসমান হাদির তিন বোনের স্বামীরাও শিক্ষকতা ও দ্বীনি শিক্ষার সঙ্গে জড়িত। বড় বোনের স্বামী মাওলানা আমির হোসেন নলছিটি ফুলহরি আব্দুল আজিজ দাখিল মাদ্রাসার সুপার এবং একটি মসজিদের ইমাম। মেঝো বোনের স্বামী মাওলানা আমিরুল ইসলাম ঢাকায় ব্যবসা করেন। ছোট বোনের স্বামী মাওলানা মনির হোসেন নলছিটি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন।<br />
তাঁর শিক্ষাজীবনের বড় একটি অংশ ছিল মাদ্রাসাকেন্দ্রিক। কিন্তু সেই শিক্ষা তাঁকে সংকীর্ণ করে তোলেনি; বরং ন্যায়, মানবিকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি জুগিয়েছে। যে মাদ্রাসা শিক্ষাকে একশ্রেণির মানুষ জঙ্গিবাদের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলতে চায়, ওসমান হাদি তার জীবন্ত প্রতিবাদ। তিনি দেখিয়ে গেছেন—সঠিক চেতনায় গড়ে ওঠা মাদ্রাসা শিক্ষা মানুষকে নৈতিক, সাহসী ও প্রতিবাদী করে তোলে।<br />
কৈশোর ও যৌবনে সমাজের বৈষম্য, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও আন্তর্জাতিক অন্যায়ের চিত্র তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। ফিলিস্তিন, ইরাক, আফগানিস্তানসহ বিশ্ব রাজনীতিতে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ। একই সঙ্গে দেশের ভেতরে গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের প্রশ্নে আপোসহীন অবস্থান নেন ওসমান হাদি। গড়ে তোলেন ইনকিলাব মঞ্চ। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি, পাশে সহযোদ্ধা জাবেদ। জনপ্রিয় অ্যাক্টিভিস্ট ও কলাম লেখক পিনাকী ভট্টাচার্য, ড কনক সরোয়ার, মাসুম মাহবুব এবং ইলিয়াস হোসাইন এর অনুসরণ ও আলোচনায় প্রায় সবসময় থাকতেন ওসমান হাদি। যে কারণে ভারতীয় প্রশাসনের ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশের এই ৩২ বছরের তরুণ। এই অবস্থান তাঁকে কেবল স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং তাঁর চিন্তা ও বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে আন্তর্জাতিক পরিসরেও। অনেকের মতে, তাঁর রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও প্রতিবাদী ভাষা বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ব রাজনীতির নৈতিক প্রশ্নগুলোকে সামনে এনেছে। যে কারণে হুমকীর পর হুমকী, গোয়েন্দা নজরদারি, হয়রানি ও চাপের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে বারবার । কিন্তু তিনি কখনো পিছু হটেননি।<br />
সহযোদ্ধারা বলেন, “ওসমান হাদি জানতেন—চুপ থাকাই অন্যায়ের সবচেয়ে বড় সহযোগিতা।” এই বিশ্বাস থেকেই তিনি বারবার ঝুঁকি নিয়েছেন, জীবন বাজি রেখে কথা বলেছেন। বলেছেন, আমি শহীদী মৃত্যু চাই। শেষ পর্যন্ত আপোসহীন পথেই তিনি শহীদ হয়েছেন বলে জানান সহযোদ্ধা জাবেদ।<br />
তাঁর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই বরিশাল, ঝালকাঠি, রংপুর, টেকনাফ থেকে শুরু করে রাজধানী ঢাকার অলিগলি, রাজপথ প্রকম্পিত হয়েছে। সর্বত্র শোকের ছায়ায় ছিলো জুলাই বিপ্লবের ব্যর্থতা দূরকরণের আহ্বান ও প্রতিবাদ। তাঁর জানাজায় শরীক হয়েছেন দলমত নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ সহকর্মী, আলেম, সাংস্কৃতিক কর্মী, লেখক, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের ঢল। মানুষের চোখের জল বলে দেয়—ওসমান হাদি কেবল একজন রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানুষের আস্থার জায়গা। যে কারণে তাঁর জানাজার মঞ্চে উচ্চারিত হয় কঠিন শপথ। সয়ং প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড মুহাম্মদ ইউনুস বলে উঠেন &#8211; আমরা আজকে তোমাকে প্রিয় হাদি, বিদায় দিতে আসিনি। আমরা তোমার কাছে ওয়াদা করতে এসেছি, তুমি যা বলে গেছ, সেটি যেন আমরা পূরণ করতে পারি।’<br />
জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্রোহী কবির কবরের পাশেই তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পাশে তাঁর দাফন নিছক কাকতালীয় ঘটনা নয়। নজরুল যেমন সাম্য, মানবমুক্তি ও বিদ্রোহের প্রতীক, তেমনি ওসমান হাদি ছিলেন সেই দর্শনের বাস্তব রূপ। একদিকে কবিতার ভাষায় বিদ্রোহ, অন্যদিকে জীবনের লড়াই—দু’টি এক বিন্দুতে মিলিয়েছেন প্রিয় হাদী।<br />
তাঁকে ঘীরে পিনাকী ভট্টাচার্য, ড কনক সরোয়ার, ইলিয়াস হোসাইন ও মাসুম মাহবুব লিখেছেন &#8211;<br />
পিনাকী ভট্টাচার্য Pinaki Bhattacharya &#8211; পিনাকী ভট্টাচার্য<br />
হাসতে হাসতে এই ছোট ছেলেটা জীবনটা দেশের জন্য কোরবানি দিয়ে জুলাইয়ের নিভু নিভু মশালটা আবারো জ্বালিয়ে দিয়ে গেলো দাউদাউ করে। বাংলাদেশের তরুণদের নতুন আইকন হাদি। যুগযুগ ধরে বাংলাদেশের তারুণ্যকে উদ্দীপ্ত করে যাবে হাদির জীবন ও কর্ম।<br />
ড কনক সরোয়ার dr.kanak sarwar -ড.কনক সরওয়ার<br />
সব মৃত্যু বেদনার। যার যায় সে বোঝে। হাদি সার্থক। তিনি শহীদী মৃত্যু চেয়েছিলেন। আল্লাহ তাকে কবুল করেছেন। তাঁর জানাজা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন কনক সরোয়ার বলেন, অবিশ্বাস্য! অভাবনীয়! বর্ণনাতীত! হে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এমন আকূল ভালোবাসাময় জানাজা পাওয়ার সৌভাগ্য তুমি আমার জন‍্য কবুল করো! আমিন।<br />
মাসুম মাহবুব Masum Mahbub<br />
এই যে এতো প্রটোকল, এত দোয়া, এত ভালবাসা, এত গান, এত দ্রোহ, এত প্রতিবাদ কারণটা কী?<br />
১. হাদী ইসলামের পক্ষে কথা বলতো।<br />
২. হাদী ইন্ডিয়ান আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতো।<br />
৩. হাদী মুখোশ পরা সুশীলদের বিপরীতে দাঁড়িয়েছিল।<br />
৪. হাদী ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে দাঁড়িয়েছে।<br />
৫. হাদী জুলাইকে বিক্রি করে লুটপাট করেনি, ক্ষমতা গ্রহণ করেনি, জুলাইকে রক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন।<br />
৬. ৭১ এর চেতনা ব্যবসা করতো না।<br />
এরপর মাসুম মাহবুব অনেক ক্ষোভ নিয়ে লেখেন, আর কোন শোক নয়, মায়াকান্না নয়, এবার প্রতি*শোধ। খু*নিদের গুষ্টি শুদ্ধ জয় বাংলা করতে হবে। জুলাই বিপ্লবীরা পালাবে না, পালিয়ে বাঁচা যায় না। এবার স*ন্ত্রা*সী*দের বিরুদ্ধে ল*ড়া*ই শুরু।</p>
<p>এদিকে জনপ্রিয় সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন 15Minutes তার এক পোস্টে লিখেছেন,<br />
প্রিয় ওসমান হাদি। দেখো, তুমি কোথায় পৌঁছে গেছো। কয়েক শ বছর আগে তোমারই মতো আরেকজন বিপ্লবী এসেছিলেন পৃথিবীতে। যিনি কন্সটান্টিপোল বিজয়ের মাধ্যমে রাসূল (স.) এর ভবিষ্যত বানী পূর্ণ করেছিলেন।<br />
যিনি জলপথে নয়, বরং স্থলপথ দিয়ে বিশাল পর্বতমালা পাড়ি দিয়ে কামানভরা নৌযান নিয়ে জালিমের দুর্গ গুড়িয়ে দিয়েছিলেন। সেই সুলতান মেহমেদের স্মৃতি বিজড়িত মসজিদ, ইস্তানবুলের ফাতিহ মসজিদে তোমার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতো কিছু দেখার পরেও কি তুমি চুপ করে থাকবে। ফিরে আসার সুযোগ নেই আর জানি। তাই বলে, এতো তাড়াতাড়ি।<br />
মাদ্রাসা কেন্দ্রীক রাজনীতির যে ভ্রান্ত ধারণা সুশীল নামধারী কিছু নাস্তিক নিয়মিত বিতরণ করছে, তার বিরুদ্ধে এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করে গেছেন শহীদ ওসমান হাদি। তাঁর জীবন সবচেয়ে বড় যে বার্তাটি দেয়, তা হলো— মাদ্রাসা মানেই জঙ্গি নয়। বরং সেখান থেকেই জন্ম নিতে পারে ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও আন্তর্জাতিক সংহতির রাজনীতি। তিনি সেই ধারণাকে নিজের জীবন দিয়ে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।<br />
পরিশেষে, শহীদ ওসমান হাদি নেই, কিন্তু তাঁর চিন্তা, সাহস ও আদর্শ রয়ে গেছে। তিনি বদলে দিয়েছেন অনেক তরুণের দৃষ্টিভঙ্গি— বাংলাদেশের রাজনীতি কীভাবে বিশ্ব রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, আর একজন মানুষ কীভাবে একা দাঁড়িয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে তা দেখিয়ে গেছেন ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার ক্ষণজন্মা এই আদর্শিক তরুণ শহীদ ওসমান হাদি। ঝালকাঠির এই সন্তান ইতিহাসে থেকে যাবেন একজন শহীদ হিসেবে। যিনি দেখিয়ে গেছেন, শিক্ষা যাই হোক, যদি চেতনা মানবিক হয়, তবে সেখান থেকেই জন্ম নেয় মুক্তির রাজনীতি। গণমানুষের আকাঙ্খা পূরণের পথ এখানেই স্পষ্ট হয়েছে আজ। আগামীর বাংলাদেশ হবে শহীদ হাদির বাংলাদেশ।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b6%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%a6-%e0%a6%93%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a8-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%a8%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ব্যাণার পোস্টারে দৃষ্টি ভোটারের: খুঁজছেন সৎ নেতা</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a3%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a3%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 09 Dec 2025 05:28:24 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জাতীয়]]></category>
		<category><![CDATA[ঢাকা বিভাগ]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলার চিঠি]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<category><![CDATA[আন্দোলন]]></category>
		<category><![CDATA[নির্বাচন]]></category>
		<category><![CDATA[পোস্টার]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=5850</guid>

					<description><![CDATA[ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যাণার পোস্টারে দৃষ্টি ভোটারের: খুঁজছেন সৎ নেতা বিশেষ প্রতিবেদক  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীর প্রচারণা সম্বলিত ব্যাণার পোস্টারে গভীর দৃষ্টি রাখছেন সাধারণ মানুষ ও ভোটাররা। তাদের<span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a3%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div id="m#msg-a:r3293074199624381585" class="mail-message expanded">
<div id="m#msg-a:r3293074199624381585-header" class="mail-message-header spacer"><strong>ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যাণার পোস্টারে দৃষ্টি ভোটারের: খুঁজছেন সৎ নেতা</strong></div>
<div id="m#msg-a:r3293074199624381585-content" class="mail-message-content collapsible zoom-normal mail-show-images ">
<div class="clear">
<div dir="auto">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"><strong>বিশেষ প্রতিবেদক </strong></div>
<div dir="auto">
<div id="attachment_5851" style="width: 310px" class="wp-caption alignleft"><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/1000213582.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-5851" class="size-medium wp-image-5851" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/1000213582-300x287.jpg" alt="" width="300" height="287" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/1000213582-300x287.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/1000213582.jpg 594w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-5851" class="wp-caption-text">Oplus_0</p></div>
</div>
<div dir="auto">ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীর প্রচারণা সম্বলিত ব্যাণার পোস্টারে গভীর দৃষ্টি রাখছেন সাধারণ মানুষ ও ভোটাররা। তাদের অনেকেই বলছেন, ব্যাণার পোস্টারেই সৎ নেতার পরিচয় ফুটে উঠবে এবার। দলীয় চেয়ারপারসন ও প্রার্থীর ছবির সাথে একাধিক ছবি যুক্ত করে প্রচারণা মানেই ঐ প্রার্থীর পোস্টারও সুবিধাবাদীদের দখলে। প্রার্থী নিজে নয়, তার হয়ে অন্যরা চালাচ্ছে প্রচারণা এবং যে চালাচ্ছে তার ছবি প্রার্থীর চেয়ে বড়। তারমানে দলের ভিতরই তার প্রতি ভালোবাসা ও বিশ্বাস কম তা পরিষ্কার হচ্ছে এমন ব্যানার পোস্টারে। তাছাড়া দখল বাণিজ্য ও চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের ছবি বা নামের ব্যবহার রয়েছে প্রার্থীর প্রচারণার ব্যানার বা পোস্টারের নীচে, যা তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলে জানান একাধিক গ্রামবাসী।</div>
<div dir="auto">অন্যদিকে যে প্রার্থীর ব্যাণার পোস্টারে শুধু তারই একক ছবি ঝুলছে, তারমানে দলীয়ভাবেও তিনি প্রভাবশালী এবং নেতাকর্মীদের ভালোবাসা তার প্রতি রয়েছে বলে জানালেন তারা। যদিও রাজনৈতিক দলের নেতারা বলছেন, তফসিল ঘোষণার পরতো শুধু লিফলেট থাকবে।ব্যানার পোস্টার থাকবে না। তখন সব ঠিক হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দ।</div>
<div dir="auto">আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘীরে সবগুলো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ঘোষণা চূড়ান্ত হয়েছে। এই ডিসেম্বরের যেকোনো মূহুর্তে তফসিল ঘোষণার আভাসও পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনী প্রচারণায় মুখরিত বরিশালসহ বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা উপজেলা ও গ্রাম। বলা যায়, নির্বাচনী হাওয়া বইছে বাংলার আকাশে বাতাসে এখন। বিএনপির চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত জটিলতা ছাড়া বাকী সবকিছু এখন নির্বাচনমুখী। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও নিয়েও বিএনপির ভিতর চলছে সংশয়।  তার দেশে আসাটা নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বেশিরভাগ সাধারণ মানুষও। এসব আলোচনা সমালোচনাকে পাশে রেখে বরিশাল কিম্বা ঢাকা, খুলনা কিম্বা রংপুর যেখানেই দৃষ্টি যায়, সড়ক-মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই মুহূর্তে ঝুলছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা নিয়ে হরেকরকম ব্যানার পোস্টার। বিশেষ করে বরিশাল থেকে ঢাকার পথে ইতিমধ্যেই শতাধিক তোরণ তৈরি হয়েছে। যা বেশিরভাগ বিএনপির প্রার্থীদের প্রচারণা কৌশল। মহাসড়ক জুড়ে ঝুলন্ত এসব তোরণ, ব্যানার পোস্টারে প্রার্থীর পাশাপাশি প্রচারকারী নেতা ও তার অনুসারীদের ছবি ও নাম ঝুলছে বিএনপির প্রায় প্রতিজন প্রার্থীর ব্যাণার পোস্টারে। রয়েছে অন্যান্য রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি সহ আরো অনেকের প্রচার প্রচারণা।</div>
<div dir="auto">আর এই ব্যাণার- পোস্টারে যদি চোখ বুলানো হয়, তাহলেই ঐ দলটির চরিত্র, দলীয় শৃঙ্খলাসহ অনেককিছু স্পষ্ট হয়ে ওঠে বলে জানান রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণও। বরিশালের রাজনৈতিক বিশ্লেষক কাজী মিজানুর রহমান, মাহবুব খান,  ঢাকার সাংবাদিক হাসান শান্তনু, ইয়াসীর আরাফাত, আদিত্য আরাফাতসহ একাধিক বিশ্লেষক বলেছেন, এবারের নির্বাচন হবে পরিবর্তনের নির্বাচন। সাধারণ মানুষ ব্যাণার পোস্টার দেখে প্রার্থীর চরিত্র বুঝে নেবেন। তারউপর চাঁদাবাজি ও দখল বাণিজ্যের ছাপও এই ব্যাণার পোস্টারেই স্পষ্ট হয়ে আছে। সাধারণ মানুষ এ থেকে তাদের প্রার্থী চিনে নিতে পারেন। এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না বলে মতামত বিশ্লেষকদের। সরেজমিনে এমনই কিছু ব্যাণার পোস্টারের চিত্র দেখা গেছে বরিশালের উজিরপুর, বাকেরগঞ্জ ও সদর উপজেলায়। আবার রাজধানী ঢাকার মীরপুর ১৪ ও ১৬ আসন ঘুরেও দেখা গেছে একইচিত্র । বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের তালুকদার হাট স্কুল এন্ড কলেজের প্রবেশপথে ঝুলানো বিএনপির প্রার্থী আইনজীবী মজিবর রহমান সরোয়ার এর  পোস্টারের সাথে আরো অনেকের ছবি সাঁটানো । আগে থেকে জানাশুনা না থাকলে মজিবর রহমান সরোয়ার যে কোন ব্যাক্তি তা চিহ্নিত করা মুশকিল। কারণ ৭/৮জনের ছবির ভিতর থেকে তাকে খুঁজে বের করতে হিমশিম খেতে হবে নতুন ভোটারকে।  একইসাথে যদি জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এর পোস্টারে চোখ বুলানো যায়, তাহলে সেখানে প্রার্থী ছাড়া আর কারো ছবি নেই। এমনকি দলীয় প্রধানের ছবিও ব্যবহার হয়নি প্রার্থীর প্রচারণা পোস্টারে। বরিশাল সদর আসনে বিএনপির প্রার্থী অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং ইতিপূর্বে চার চার বার এই আসনের হর্তাকর্তা ছিলেন। আর তার সাথে এবারই প্রথম  প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াযযম হোসাইন হেলাল ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এর নায়েবে আমীর সৈয়দ ফয়জুল করিম। একইচিত্র দেখা গেছে বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন এর প্রচারণা পোস্টারে।</div>
<div dir="auto"><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/IMG-20251205-WA0025.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignright size-medium wp-image-5852" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/IMG-20251205-WA0025-191x300.jpg" alt="" width="191" height="300" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/IMG-20251205-WA0025-191x300.jpg 191w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/IMG-20251205-WA0025-653x1024.jpg 653w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/IMG-20251205-WA0025-768x1204.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/IMG-20251205-WA0025-980x1536.jpg 980w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/IMG-20251205-WA0025.jpg 1021w" sizes="auto, (max-width: 191px) 100vw, 191px" /></a>অপরদিকে অনেক জল্পনা কল্পনা, দড়ি টানাটানি শেষে বরিশাল ৩ মুলাদি বাবুগঞ্জ আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও ভারবাহী নেতা জয়নাল আবেদীন এর মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়েছে। সাথে সাথে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে ফেসবুকে ও গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর। অথচ পরদিনই তাদের প্রার্থীর প্রচারণা পোস্টার নষ্ট করে বিএনপির প্রার্থীর পোস্টার ঝুলানোর অভিযোগ প্রায় প্রতিটি আসনে। সাধারণ গ্রামবাসীর অনেকেই বলছেন, আগামী নির্বাচনে শুধুমাত্র বরিশাল ১ গৌরনদী আগৈলঝারা আসনটি ছাড়া বরিশাল জেলার অন্য পাঁচটি আসনই হাতছাড়া হতে পারে বিএনপির। কেননা প্রতিটি আসনেই নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চরমে তাদের। কোথাও কোথাও ত্রিমুখী সংকটেও রয়েছে বিএনপির প্রার্থী। সে তুলনায় ইসলামি দলগুলোর ঐক্য সাদরে গ্রহণ করছেন সাধারণ মানুষ।</div>
<div dir="auto">এখানে বরিশাল ১ আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপনের কার্যক্রম ও প্রচারণা কৌশলের প্রশংসা করেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হাফেজ মাওলানা কামরুল ইসলাম খান। তিনি নিজেও যথেষ্ট ভালো প্রচারণার সুযোগ পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। আবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (ইসা) প্রার্থী মুহাম্মদ রাসেল সরদার মেহেদী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)র প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম নিপুর প্রচার প্রচারণার প্রশংসা করেন বিএনপির প্রার্থী জহিরউদ্দিন স্বপন। যদিও অন্য পাঁচটি আসনে এই সহনশীলতা ও সৌন্দর্য অনুপস্থিত। বিএনপির প্রতিটি প্রচারণা পোস্টারে অসংখ্য নেতাকর্মীর ওয়ার্ড, ইউনিয়ন সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের ছবির এক কোনায় প্রার্থীর ছবি ঠাই পাচ্ছে। আবার বাস টার্মিনাল এলাকার চাঁদাবাজ হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিবর্গের ছবি নিয়ে প্রার্থীর পোস্টার হওয়ায় অনেক ভোটারের বিরূপ মন্তব্য &#8211; চাঁদাবাজ নিয়ে যাদের প্রচার প্রচারণা তাদের থেকে কি আশা করা যায়।। ব্যাণারেই রয়েছে আঁকা নেতার পরিচয়।।</div>
<div dir="auto">এ চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর ১৫ ও ১৬ আসন ঘুরে। এখানে ১৬ আসনের প্রার্থীর প্রচারণা পোস্টারে তিনি যে কে? তা খুঁজে পেতে রীতিমতো বিএনপি স্থানীয় নেতাদের ডেকে জানতে হয়েছে। কেননা, আমিনুল ইসলাম এর পোস্টারে তার চেয়ে বড় করে ছাপা হয়েছে প্রচারকারী নেতাদের ছবি। পাশাপাশি উদাহরণ হতে পারে ১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আমীর ডাঃ শফিকুল ইসলাম। এ আসনটি আগে আওয়ামী লীগের কামাল মজুমদারের দখলে ছিলো। এবার এটি নিশ্চিত জামায়াতে ইসলামীর আসন হতে যাচ্ছে বলে জানালেন মীরপুরের কাজীপাড়া এলাকার একজন বিএনপি নেতা।</div>
<div dir="auto">ব্যানার পোস্টারে দলীয় প্রার্থী ছাড়া প্রচারকারীদের ছবি অযৌক্তিক দাবী করেন বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক। তিনি বলেন,  এ রকম বেশকিছু পোস্টার আমি নামিয়ে দিয়েছি। আসলে তফসিল ঘোষণার আগমুহূর্ত পর্যন্ত এসব আটকানো কষ্টকর হবে। তফসিল ঘোষণার পরতো আর কোনো ব্যানার পোস্টার থাকবে না। শুধু লিফলেট বিতরণ করা হবে।</div>
<div dir="auto">তিনি এসময় আরো বলেন, স্কুল কলেজের প্রবেশপথ ও দেয়াল ব্যানার পোস্টার মুক্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।</div>
<div dir="auto">এ জাতীয় ব্যানার পোস্টার সম্পর্কে কিছুই জানেন না বিএনপির বরিশাল সদর আসনের প্রার্থী আইনজীবী মজিবর রহমান সরোয়ার এবং ঢাকা ১৬ আসনের প্রার্থী আমিনুল ইসলাম।</div>
<div dir="auto">বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ জানালেন, মনোনয়নের আগে বিভিন্ন প্রার্থী সমর্থকদের পোস্টার ছাপা হয়েছিল এভাবেই। মনোনয়ন চূড়ান্ত হবার পর শুধুমাত্র প্রার্থীর ছবি পরিবর্তন করে সমর্থন বদলে দিয়েছে সচেতন কর্মীরা। তফসিল ঘোষণার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত এজাতীয় প্রচারণা দোষের নয়। তবে কারা, কোথায় কীভাবে তার প্রচারণা চালাচ্ছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রার্থী নিজেও জানেন না এসব কর্মকাণ্ড সম্পর্কে। এ বিষয়ে দলীয় প্রার্থীকেই সচেতন হতে হবে বলে জানান তিনি। এদিকে সাধারণ মানুষের কাছে ইসলামি আন্দোলন ও জামায়াতে ইসলামীর প্রচারণা কৌশল ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বরিশালের অনেকেই।</div>
</div>
</div>
</div>
<div id="m#msg-a:r3293074199624381585-footer" class="mail-message-footer spacer collapsible"></div>
</div>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a3%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
