<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>প্রবন্ধ &#8211; সাহিত্য বাজার</title>
	<atom:link href="https://shahittabazar.com/category/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://shahittabazar.com</link>
	<description>সাহিত্যের আয়নায় মানুষের মুখ</description>
	<lastBuildDate>Sat, 21 Feb 2026 13:45:10 +0000</lastBuildDate>
	<language>bn-BD</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.4</generator>
	<item>
		<title>স্বাধীন গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র চলতে পারে না- জহির উদ্দিন স্বপন</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a6%a3%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%ae-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%97/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a6%a3%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%ae-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%97/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 21 Feb 2026 13:45:10 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[রাজখবর]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=5930</guid>

					<description><![CDATA[<p>স্বাধীন গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র চলতে পারে না- জহির উদ্দিন স্বপন</p> <p>আগামী এক থেকে দেড়বছরের মধ্যে আমাদের নেতার পরিকল্পনা আপনারা (সাংবাদিকরা) জাতির সামনে তুলে ধরতে পারবেন।</p> <p>বিশেষ প্রতিবেদক</p> <p>তথ্য ও সম্প্রচার</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a6%a3%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%ae-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%97/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>স্বাধীন গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র চলতে পারে না- জহির উদ্দিন স্বপন</strong></p>
<p><strong>আগামী এক থেকে দেড়বছরের মধ্যে আমাদের নেতার পরিকল্পনা আপনারা (সাংবাদিকরা) জাতির সামনে তুলে ধরতে পারবেন।</strong></p>
<p><strong>বিশেষ প্রতিবেদক</strong></p>
<p><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/02/IMG_20260221_120701_231@-671774507-scaled-1.jpg"><img decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-5931" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/02/IMG_20260221_120701_231@-671774507-scaled-1-300x135.jpg" alt="" width="300" height="135" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/02/IMG_20260221_120701_231@-671774507-scaled-1-300x135.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/02/IMG_20260221_120701_231@-671774507-scaled-1-1024x461.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/02/IMG_20260221_120701_231@-671774507-scaled-1-768x346.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/02/IMG_20260221_120701_231@-671774507-scaled-1-1536x691.jpg 1536w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2026/02/IMG_20260221_120701_231@-671774507-scaled-1-2048x922.jpg 2048w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, স্বাধীন গণমাধ্যম না থাকলে একটা দেশে গণতন্ত্র চলতে পারে না। আবার গণমাধ্যমগুলোও তাদের স্বাধীনতা চর্চা করতে পারে না, যদি তার জবাবদিহিতা না থাকে। আমরা সে কারণে স্বাধীনতার জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবো এবং এ পথেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে আমরা নিশ্চিত করবো বলে জানিয়েছেন বরিশাল ১ গৌরনদী আগৈলঝারা আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ২১ ফেব্রুয়ারী শনিবার সকালে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বরিশাল জেলা প্রশাসনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, আমরা ভয়ভীতিমুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করতে চাই। সাংবাদিকতা একটি স্বতন্ত্র পেশা। এই পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো সমস্যা, সংকট বা বিরোধ সাংবাদিকতার নিজস্ব কাঠামো ও নীতিমালার মধ্যেই সমাধান হওয়া প্রয়োজন। এর বাইরে অন্য কোনো প্রশাসনিক বা মন্ত্রণালয়ভিত্তিক হস্তক্ষেপ হলে পেশাগত স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।<br />
গণমাধ্যমের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কিছু বাস্তব সমস্যা রয়েছে। সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।<br />
সাংবাদিকদের আর্থিক ও পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ওয়েজ বোর্ডকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। দ্রুত সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।<br />
বাংলাদেশকে প্রস্তুত করাই সরকারের একমাত্র লক্ষ্য, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য নয় দাবী করে মন্ত্রী বলেন, এবারের জাতীয় নির্বাচন থেকে সরকার ও প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।<br />
এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘ভবিষ্যতে যেন সব সময় একটি নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা আরো দৃঢ় করাই সরকারের অগ্রাধিকার।’<br />
অনুষ্ঠানের শেষে তিনি ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে অবদান রাখা নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।<br />
সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেন, আমাদের নেতা দেশনায়ক তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন এবং সেটা অবাধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নিয়েছেন। কোন ধরনের কোন বাঁকা পথ, কারচুপি বা কোন ধরনের কোন বিতর্কের স্কোপ নেই। এমনকি এ নির্বাচন সম্পর্কে কোন মহল, কোন ব্যক্তি, আজ পর্যন্ত প্রশ্ন তুলতে পারেনি। তারেক রহমান আজ জনগণের ভোটে নির্বাচিত জননেতা। আমরা সেই নেতার নেতৃত্বে একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি, যে পরিকল্পনা অনেক বিস্তৃত কিন্তু আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজে হাত দিচ্ছি। আশাকরি আগামী এক থেকে দেড়বছরের মধ্যে আমাদের নেতার পরিকল্পনা কি ছিল বা কি করতে যাচ্ছে যা আপনারা (সাংবাদিকরা) জাতির সামনে তুলে ধরতে পারবেন বলে জানান জহির উদ্দিন স্বপন।<br />
জানা গেছে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে গৌরনদীর উদ্দেশ্যে সড়ক পথে যাত্রা শুরু করেন। রাত দশটায় গৌরনদী উপজেলার প্রবেশদ্বার ভুরঘাটা বাসষ্ট্যান্ডে বিএনপির নেতৃবৃন্দরা মন্ত্রীকে অভ্যর্থনা প্রদান করেন। রাত ১২ টা ১ মিনিটে তথ্যমন্ত্রী গৌরনদীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন করে রাত সাড়ে বারোটায় বরিশাল সার্কিট হাউজে এসে রাত্রীযাপন করেন। এসময় তিনি তার জন্মস্থান সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের তালুকদার হাটে নানাবাড়িতে যোগাযোগ করেছেন এবং নানা,নানুসহ মৃত ও অসুস্থদের জন্য দোয়ার আয়োজন করেছেন। মন্ত্রী হবার পর এটিই তার প্রথম বরিশাল সফর।।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a6%a3%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%ae-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%97/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>দেশজুড়ে বাড়ছে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন: জাতীয় সরকার চায় সাধারণ মানুষ  </title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%a4/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%a4/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 11 Jan 2026 19:25:53 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[রাজখবর]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=5904</guid>

					<description><![CDATA[সারাদেশে বাড়ছে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন : জাতীয় সরকার চায় সাধারণ মানুষ  (গণভোটে হাঃ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার)    বিশেষ প্রতিবেদক  বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের একজন<span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%a4/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div id="m#msg-a:r-1843409369147333405" class="mail-message expanded">
<div id="m#msg-a:r-1843409369147333405-header" class="mail-message-header spacer"><strong>সারাদেশে বাড়ছে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন : জাতীয় সরকার চায় সাধারণ মানুষ </strong></div>
<div id="m#msg-a:r-1843409369147333405-content" class="mail-message-content collapsible zoom-normal mail-show-images ">
<div class="clear">
<div dir="auto">
<div dir="auto"><strong>(গণভোটে হাঃ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার)  </strong></div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"><strong> বিশেষ প্রতিবেদক </strong></div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/FB_IMG_1766304146574.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-5878" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/FB_IMG_1766304146574-300x122.jpg" alt="" width="300" height="122" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/FB_IMG_1766304146574-300x122.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/FB_IMG_1766304146574-768x311.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/FB_IMG_1766304146574.jpg 960w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের একজন বিএনপি কর্মী জানালেন, তাদের এলাকা শুধু নয় আশেপাশের গ্রামেও সাধারণ মানুষের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামি দলের প্রতি সমর্থন বা সহানুভূতি বেশি লক্ষ্য করা গেছে। তবে প্রকাশ্যে এখানে বিএনপির সমর্থক সবাই। ভোটের দিন বোঝা যাবে প্রকৃত অবস্থা।</div>
<div dir="auto">প্রায় কাছাকাছি বক্তব্য পাওয়া গেছে  পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার দাস পাড়া থেকেও। এখানে সাংবাদিক দেবদাস মজুমদার, সুমন বেপারীসহ কয়েকজন জানালেন, পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন নেই। আগের তুলনায় সবকিছুতে নৈরাজ্য বেড়েছে। ইন্টেরিম প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ এটা পরিষ্কার। এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ সিলিন্ডার গ্যাস নিয়ে।  তারউপর চালের দামও বেড়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর এসব নিয়ে কোনো বক্তব্য বা সহানুভূতি নেই।সাধারণ মানুষের মধ্যে এগুলোর প্রভাব পরছে। এমনকি হিন্দু জনগোষ্ঠীর মধ্যেও আওয়ামী লীগ, বিএনপির বাইরে নতুন কিছু দেখার প্রত্যাশা রয়েছে। যদিও ভয়ে কেউ সরাসরি কিছু বলছে না।</div>
<div dir="auto">এদিকে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি, চরাদি, দাড়িয়াল, দুধল বা গোমা ইউনিয়ন ঘুরে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে, এবারের নির্বাচনে ইসলামি জোটের প্রতি আস্থা খুঁজছেন তারা। দুধল মাদ্রাসা সংলগ্ন ব্যবসায়ী মাহবুব, মহিবুল বেগ, সাইফুল ইসলাম বেগসহ একাধিক গ্রামবাসী বললেন, তারা এবার ইসলামের শাসনব্যবস্থা দেখতে চান।</div>
<div dir="auto">তবে ব্যতিক্রম বরিশাল সদর উপজেলা। এখানে এখন পর্যন্ত সরাসরি ইসলামের পক্ষে কোনো কথা নেই। কেউ কেউ ইসলামি দলের ভিতর স্ববিরোধী আচরণের উদাহরণ দিয়ে চরমোনাই বা ইসলামি আন্দোলন প্রার্থীর দোষ খুঁজে বেড়াচ্ছেন। বিশেষ করে রায়পাশা-কড়াপুর ও সদরের কাশীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা বলছেন, ইসলামের নাম নিয়ে এরা নিজেরাই সঠিক ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত নেই। কোরাআন হাদিসের অনুসরণে রাষ্ট্র গঠনের সরাসরি ঘোষণা যে দেবে আমরা তাদের চাই। তা-না হলে বিএনপির দূর্গ এই বরিশাল, বিএনপির হাতেই থাকবে পুনরায়।</div>
<div dir="auto">বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে চাইলে, এভাবেই কিছু কিছু সাহসী মানুষ তাদের মতামত তুলে ধরেন। তবে বেশিরভাগ মানুষ যেন এ নিয়ে কথা বলতে এখনো ভীত ও আতঙ্কিত। তারা বলেন, আমরা রাজনীতি বুঝিনা, পেটের ক্ষুধার জন্য কাজ করি, ভোট দিতে পারলে দিমু, গ্যাঞ্জাম দেখলে ধারেকাছেও যামুনা।</div>
<div dir="auto">শুধু বরিশাল নয়, বাংলাদেশের প্রায় সব জেলায় তথা সারাদেশেই একইচিত্র। পরিবর্তনের অপেক্ষায় বেশিরভাগ মানুষ এখন পর্যন্ত নিরবে দেখছেন ও শুনছেন সবকিছু। তবে মুখে কুলুপ এঁটেছেন যেন সবাই।</div>
<div dir="auto">রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, পরিবর্তন একটা যে হবে, তা সাধারণ মানুষের আচার-আচরণে স্পষ্ট। এই জনমানুষের ভাষা যে দল বুঝতে পারবেন তারাই হবেন আগামীর বাংলাদেশ। তিনি সবাইকে গণভোটের পক্ষে হাঃ ভোট প্রদানের আহ্বান জানান। বলেন, এই হাঃ ভোটেই দাঁড়িয়ে আছে পরিবর্তনের রূপরেখা।</div>
<div dir="auto">সম্প্রতী বিএনপির অভ্যন্তরীণ জরিপ এবং কয়েকটি পত্রিকা ঢালাওভাবে জনমত জরিপ চালিয়ে যে তথ্য নিশ্চিত করেছে তার সাথে সরেজমিন অনুসন্ধানী তথ্যের বিস্তর ফারাক। জনপ্রিয় সাংবাদিক ও এক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য, কনক সরোয়ার এবং ইলিয়াস হোসাইন বলেছেন, যারা ৭০% জনমত বিএনপির পক্ষে বলছেন, তারা মূলত বিএনপিকে খুশি করতে মরিয়া। প্রকৃত সত্য গোপন করে বিএনপিকেও আওয়ামী লীগের মতই স্বৈরাচার হতে উৎসাহ দিচ্ছে। প্রকৃত সত্যতো স্বীকার করেন সয়ং বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান নিজেও। যে কারণে তিনি বারবার বলে আসছেন, এই নির্বাচন সহজ হবেনা। আমাদের জনগণের ভাষা বুঝতে হবে।</div>
<div dir="auto">কিন্তু বিএনপির ভিতরে লুকানো ভারতীয় চরেরা এতোটাই শক্তিশালী যে তাদের কাছে বারবার হেরে যাচ্ছেন তারেক রহমান নিজেও। এমন পরিস্থিতিতে কনক সরোয়ারতো এখনো জাতীয় সরকার গঠনের জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যানকে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমানের বক্তব্য এবং তারেক রহমান এর বক্তব্যে যথেষ্ট মিল ও পরষ্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছেন পিনাকী ভট্টাচার্য ও ইলিয়াস হোসাইন। তারা বলছেন, নির্বাচনে জয় লাভের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে। তবে দিনশেষে সব রাজনৈতিক দলকে সংগে নিয়ে ঐক্যমত্যের বা জাতীয় সরকার গড়বেন বিজয়ী দল। আর এটাই চায় বাংলাদেশের ৭০ ভাগের বেশি মানুষ। ময়মনসিংহ থেকে সাংবাদিক ও সংগঠক কবি স্বাধীন চৌধুরী, রাজশাহী থেকে নাট্যকার সংগঠক কামারউল্লাহ কামার, বগুড়া থেকে নাট্যসংগঠক ও অভিনেতা রুবল লোদী জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত তাদের আশেপাশের মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে একধরনের শংকা কাজ করছে। মন খুলে রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে নারাজ বেশিরভাগ মানুষ। তবে জাতীয় সরকার গঠনের কোনো আলোচনায় গভীর মনোযোগ প্রায় সকলেরই। সুমন বেপারী জানান, অবস্থা যা তাতে মঠবাড়িয়ায় জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাবনা বাড়ছে।</div>
<div dir="auto">সরেজমিনে বরিশালের ছয় জেলার ২১টি আসনের বেশিরভাগ সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা গেছে একই চাওয়া। তাদের সকলের প্রত্যাশা  ডাঃ শফিকুর রহমান ও তারেক রহমান যৌথভাবে ভারতীয় সব ষড়যন্ত্র থেকে এই দেশটাকে বাঁচাবেন এবং একটি সুন্দর শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশ উপহার দেবেন।</div>
</div>
</div>
</div>
<div id="m#msg-a:r-1843409369147333405-footer" class="mail-message-footer spacer collapsible"></div>
</div>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%a4/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আপোষহীন নেত্রীর চিরবিদায়</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b7%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%af/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b7%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%af/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 30 Dec 2025 11:26:20 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলার চিঠি]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=5893</guid>

					<description><![CDATA[<p>আপোষহীন নেত্রীর জীবনের অবসান: নেতৃত্ব শূন্য হলো বাংলাদেশ</p> <p>অগণিত ঝড়-ঝঞ্ঝা, সন্তান হারানোর শোক সহ্য করেও দেশ ছাড়েননি। আপোষহীন উপাধী নিয়ে বটবৃক্ষের ন্যায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। গৃহবধূ থেকে বিএনপির হাল ধরে তিন</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b7%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%af/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>আপোষহীন নেত্রীর জীবনের অবসান: নেতৃত্ব শূন্য হলো বাংলাদেশ</strong></p>
<p><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/IMG_20251230_171832.png"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-5894" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/IMG_20251230_171832-300x178.png" alt="" width="300" height="178" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/IMG_20251230_171832-300x178.png 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/IMG_20251230_171832.png 744w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>অগণিত ঝড়-ঝঞ্ঝা, সন্তান হারানোর শোক সহ্য করেও দেশ ছাড়েননি। আপোষহীন উপাধী নিয়ে বটবৃক্ষের ন্যায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। গৃহবধূ থেকে বিএনপির হাল ধরে তিন তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তারপর পুরোটাই ইতিহাস। ফ্যাসিবাদের জননী শেখ হাসিনার প্রতিশোধ পরায়নোতার শিকার হয়েও তিনি দেশনেত্রী। অবশেষে সব যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রীয় ঘোষণানুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকাল ছয়টায় পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন এই মহান নেত্রী (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।<br />
১৯৮১ সালের ৩০ মে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপি&#8217;র মধ্যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়। ঐসময় সেনাপ্রধান এরশাদের ক্ষমতা দখলের ফলে দলটি বিভক্ত হয়ে পড়ে। দলের শীর্ষ নেতা ও কর্মীদের অনুরোধে এবং বিএনপিকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি দলের প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়া।<br />
বিএনপি&#8217;র ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য অনুযায়ী ১৯৮২ সালের ৩রা জানুয়ারি একজন গৃহবধূ থেকে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে খালেদা জিয়ার আত্মপ্রকাশ ঘটে। সেদিন তিনি বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ লাভ করেন। একই বছর ৭ই নভেম্বর জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে খালেদা জিয়া প্রথম বক্তব্য রাখেন, যা ছিলো অবিস্মরণীয়।<br />
এ প্রসঙ্গে লেখক মহিউদ্দিন আহমদ তাঁর সময়-অসময়&#8217; বইয়ে লিখেছেন বিএনপিতে যোগ দেবার পর থেকে খালেদা জিয়া বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে হাজির হওয়া শুরু করেন।<br />
মহিউদ্দিন আহমদ আরো লিখেছেন, ১৯৮২ সালের ২৮ জানুয়ারি শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদের নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার এবং প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমানের সাথে খালেদা জিয়াও উপস্থিত ছিলেন। উনিশশো বিরাশি সালের ২১শে জানুয়ারি বিএনপি&#8217;র চেয়ারম্যান নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। দলের মধ্যে তখন এনিয়ে বিভক্তি চলমান ছিলো। দলের তরুণ অংশ চেয়েছিল খালেদা জিয়া দলীয় প্রধান হোক। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে বিএনপি&#8217;র প্রধান হিসেবে দেখেতে আগ্রহী ছিল তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদ।<br />
বিএনপির চেয়ারম্যান হবার জন্য একইসাথে প্রার্থী হয়েছিলেন খালেদা জিয়া এবং রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার।<br />
বিএনপির ওয়েবসাইটে তখনকার ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরে বলা হয়েছে, &#8220;এর ফলে এক বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। বিচারপতি সাত্তার দুবার বেগম খালেদা জিয়ার বাসায় যান। বেগম খালেদা জিয়া তাঁকে তরুণ নেতৃত্বের মনোভাবের কথা জানান। এসময় বিচারপতি সাত্তার বেগম খালেদা জিয়াকে দলের সহ-সভাপতির পদ এবং দেশের ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের অনুরোধ জানান। কিন্তু বেগম জিয়া ব্যক্তিগত কারণে তা গ্রহণ করেননি। অবশেষে বিচারপতি সাত্তারের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর বেগম খালেদা জিয়া চেয়ারম্যান পদ থেকে তাঁর প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেন।&#8221;</p>
<p>উনিশশো বিরাশি সালের ২৪শে মার্চ তৎকালীন সেনাপ্রধান এইচএম এরশাদ এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। রাজনীতিতে তখন অপ্রয়োজনীয় হয়ে পরেন আঃ সাত্তার। তাঁর বার্ধক্য, অসুস্থতা এবং নিষ্ক্রিয়তার কারণে দল থেকে তিনি আড়ালে চলে যান।<br />
যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে তিনিই বিএনপির চেয়ারম্যান থাকলেও, দল পরিচালনায় খালেদা জিয়ার প্রভাব বাড়তে থাকে। উনিশশো তিরাশি সালের মার্চ মাসে খালেদা জিয়া দলের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান হন এবং এপ্রিল মাসের প্রথমে বিএনপির এক বর্ধিত সভায় তিনি ভাষণ দেন। কিন্তু তৎকালীন বিএনপির কিছু নেতা সেটি পছন্দ করেননি। বিএনপির সেই অংশটি ভিন্ন আরেকটি জায়গায় বৈঠকের আয়োজন করে। সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের কয়েকমাস পরেই খালেদা জিয়া দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন। এ সময় এরশাদ বিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় হয়ে উঠেন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৮৪ সালের ১০ই মে বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ প্রসঙ্গে প্রয়াত রাজনীতিবিদ মওদুদ আহমদ লিখেছেন, খালেদা জিয়া দলের চেয়ারম্যান হোন এটি সামরিক নেতারা, দুই গোয়েন্দা বিভাগ এবং মন্ত্রীসভার দুই গ্রুপ &#8211; কেউ চায়নি। প্রভুদের এবং নিজেদের স্বার্থরক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজ অনেকটা জোর করেই বিচারপতি সাত্তারকে দিয়ে মনোনয়নপত্রে সই করান। খালেদা জিয়া যদি তখন বিএনপির হাল না ধরতেন তাহলে বিএনপি নিঃসন্দেহে গভীর সংকটে পতিত হতো বলে লিখেছেন আরেকজন প্রবীণ সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ।<br />
এরশাদ বিরোধী আন্দোলন যখন ধীরে ধীরে জোরালো হচ্ছিল তখন বিএনপির বাইরে অন্য রাজনৈতিক দল থেকে খালেদা জিয়াকে দলের নেতৃত্ব গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এক্ষেত্রে হায়দার আকবর খান রনো এবং রাশেদ খান মেনন ছিলেন অন্যতম। খালেদা জিয়ার সাথে আলোচনার জন্য তারা দুইজন তাঁর তৎকালীন ক্যান্টনমেন্টের বাসায় গিয়েছিলেন।<br />
মি. রনো তাঁর আত্মজীবনী &#8216;শতাব্দী পেরিয়ে&#8217; বইতে একথা তুলে ধরেছেন।<br />
খালেদা জিয়ার সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে মি. রনো তাঁর বইতে লিখেছেন, &#8220;আমরা খালেদা জিয়ার কাছে প্রস্তাব করলাম, আপনি রাজনীতিতে আসুন, বিএনপির হাল ধরুন, এক্ষেত্রে এরশাদের বিরুদ্ধে লড়ব। এরশাদ সম্পর্কে তার ঘৃণা ও ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছিল। কিন্তু সরাসরি রাজনীতি করবেন কী-না সে সম্পর্কে কিছু বললেন না। দেখলাম, তিনি স্বল্পভাষী, তবে আমাদের কথা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন। কোন কথা ঠিক মতো বুঝতে না পারলে, প্রশ্ন করে ভালো করে বুঝে নিচ্ছিলেন। সবশেষে তিনি বললেন, ভেবে দেখব।&#8221;</p>
<p>উনিশশো আশির দশকে জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাধ্যমে দেশজুড়ে খালেদা জিয়ার ব্যাপক পরিচিতি গড়ে উঠে।জেনারেল এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তাতে বিএনপি জয়লাভ করে এবং প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন বেগম খালেদা জিয়া।রাজনীতিতে আসার ১০ বছরের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী হন তিনি।<br />
এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় তাঁকে কয়েকবার আটক করা হলেও আন্দোলন থেকে সরে যাননি বিএনপি চেয়ারপারসন।<br />
খালেদা জিয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনে যতগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তার সবগুলোতেই জয়লাভ করেছেন।<br />
খালেদা জিয়ার শাসন আমল, ১৯৯১-৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ &#8212; এই দুইভাগে ভাগ করেন অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক।<br />
দুই হাজার এক সালে ক্ষমতাসীন হবার পর থেকে খালেদা জিয়ার সরকার একের পর এক বিতর্কের মুখে পড়ে। সেই বিতর্ক থেকে তাঁর দল ও সরকার আর বেরিয়ে আসতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনরায় সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ ঘটে। এখানে সেনাবাহিনীর কাছে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ আত্মসমর্পণ করলেও আপোষহীন নেত্রীর ভূমিকায় অটল ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। খেসারতও দিয়েছেন তিনি। এক সন্তান হারিয়ে দিশেহারা একজন মা বড় সন্তানকে বাঁচাতে বেছে নিয়েছেন কারাগারের জীবন।<br />
বিগত ১৬ বছরে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছিলো বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে জিয়া পরিবারের ভূমিকা মুছে ফেলার। কিন্তু বেগম জিয়ার দৃঢ়তা ও আপোষহীনতার কারণ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্ব অটুট ছিলো এবং এখন পর্যন্ত হাল ধরে আছেন জিয়া পরিবার।<br />
এর আগে এরশাদের শাসন আমলে একযোগে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে নামে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। সে সময়ে আওয়ামী লীগ ছিলো সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। ৮৬ সালে এরশাদ এক নির্বাচন আয়োজন করলেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত সিদ্ধান্ত নিলো যে তারা নির্বাচন বর্জন করবে। কিন্তু শেষপর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও জামায়াত এরশাদের আয়োজিত ৮৬’র নির্বাচনে অংশ নেয়। আর সে সময় অনেকেই আওয়ামী লীগকে জাতীয় বেইমান বলেও আক্ষ্যায়িত করেন। অনেক সূত্র থেকে জানা যায়, সেই নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য শেখ হাসিনা তৎকালীন সরকার প্রধান থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়েছিলেন। জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ বা জামায়াত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করলো না। করলে হয়ত শেখ হাসিনার মতো বেগম জিয়াও মোটা অংকের টাকা পেতেন। সে সময় থেকেই তাঁকে নাম দেয়া হলো ‘আপোষহীন নেত্রী’। ৮৬’র নির্বাচনে অংশ না নিলেও খালেদা জিয়া তথা বিএনপির জনপ্রিয়তা তখন আকাশচুম্বী। ৯১ সালে এরশাদের পতন হলো। তত্ত্বাবধয়ক সরকারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো নির্বাচন। ‘আওয়ামী লীগ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল’, এমন বিশ্বাস থেকে শেখ হাসিনা নির্বাচনের আগে থেকেই মন্ত্রিসভা ঠিক করে রেখেছিলেন। কিন্তু জিতে গেলেন বেগম খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপি। অনেক বিশ্লেষকের মতে ৮৬’র নির্বাচনে এরশাদের সাথে আপোষ না করার কারণেই এত জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো বিএনপি।<br />
আজ এই মুহূর্তে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সামনে ঠিক একই সংকট। একই ইতিহাস ঘুরছে তার চারপাশে। আপোষহীন নেত্রীর পদাঙ্ক অনুসরণ এর বিকল্প নেই তারেক রহমান এর হাতে।<br />
সাধারণ মানুষের কাছে এই মুহূর্তে তারেক রহমান আশার আলো। সকলের প্রত্যাশা &#8211; যা হয়েছে, যথেষ্ট। এবার দেশ পুনরুদ্ধার হবে তারেক রহমান এর বিচক্ষণতার প্রমাণ।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b7%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%af/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>শহীদ ওসমন হাদি: নাম নয় ইতিহাস</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b6%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%a6-%e0%a6%93%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a8-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%a8%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b6%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%a6-%e0%a6%93%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a8-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%a8%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 22 Dec 2025 05:56:29 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলার চিঠি]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=5877</guid>

					<description><![CDATA[<p>একজন ওসমান হাদির মৃত্যু: বদলে দিয়েছে বাংলাদেশ তথা বিশ্বের রাজনৈতিক ভাবনা<br /> (মাদ্রাসা থেকে জঙ্গি নয়, শহীদ হাদিদের জন্ম হয়)</p> <p>বিশেষ প্রতিবেদক</p> <p>বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু নাম থাকে, যাদের প্রভাব</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%b6%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%a6-%e0%a6%93%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a8-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%a8%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>একজন ওসমান হাদির মৃত্যু: বদলে দিয়েছে বাংলাদেশ তথা বিশ্বের রাজনৈতিক ভাবনা</strong><br />
<strong>(মাদ্রাসা থেকে জঙ্গি নয়, শহীদ হাদিদের জন্ম হয়)</strong></p>
<p><strong>বিশেষ প্রতিবেদক</strong></p>
<p><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/FB_IMG_1766304146574.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-5878" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/FB_IMG_1766304146574-300x122.jpg" alt="" width="300" height="122" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/FB_IMG_1766304146574-300x122.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/FB_IMG_1766304146574-768x311.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/FB_IMG_1766304146574.jpg 960w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু নাম থাকে, যাদের প্রভাব কেবল ভৌগোলিক সীমার মধ্যে আবদ্ধ নয়—তারা সময়, চিন্তা ও বিবেককে স্পর্শ করে। ঝালকাঠির সন্তান শহীদ ওসমান হাদি তেমনই একজন মানুষ। তাঁর জীবন প্রমাণ করে দেয়—মাদ্রাসা মানেই জঙ্গিবাদ নয়, বরং সেখান থেকেও জন্ম নিতে পারে মানবমুক্তির সংগ্রামী, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক সাহসী যোদ্ধা এবং শহীদ।<br />
১২ ডিসেম্বর শুক্রবার নির্বাচনী প্রচারণার সময় ঢাকার পুরানা পল্টন এলাকায় ভারতীয় আওয়ামী সন্ত্রাসীর হাতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি। সর্বশেষ সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওসমান হাদি ১৯ ডিসেম্বর শুক্রবার মৃত্যুবরণ করেন। এ মৃত্যু শহীদী মৃত্যু। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদেরকে মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত; কিন্তু তোমরা অনুভব করতে পার না। (সূরা বাকারা আয়াত ১৫৪)<br />
গত ২০ ডিসেম্বর শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক দিবস পালনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি ইতিহাস সৃষ্টি করেছে এবং আগামী রাজনীতিতে বিশাল পরিবর্তনের ঈঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে। তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পাশে সমাহিত করা হয়েছে। বিদ্রোহী কবির পাশেই তাঁর চিরনিদ্রা যেন ইতিহাসের কাছে এক নীরব ঘোষণা—কবিতার বিদ্রোহ আর জীবনের বিদ্রোহ আলাদা কিছু নয়। এখানেই রচিত হয়েছে বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস।<br />
বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি জেলার এক সাধারণ পরিবারে ১৯৯৩ সালে জন্মগ্রহন করেন ওসমান হাদি। তাঁর শৈশব কেটেছে কীর্তনখোলা ও বিষখালী নদীর উদারতা গায়ে মেখে। ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার পৌর শহরের খাসমহল এলাকায় তাঁর বাড়ি। বাবা মাওলানা আব্দুল হাদি ছিলেন একজন মাদ্রাসা শিক্ষক। ছয় ভাইবোনের মধ্যে হাদি ছিলেন সবার ছোট। তাঁর বড় ভাই মাওলানা আবু বক্কর ছিদ্দিক বরিশালের গুঠিয়া জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মেঝো ভাই মাওলানা ওমর ফারুক ঢাকায় ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।<br />
ওসমান হাদির শিক্ষাজীবনের শুরু হয়েছিল ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসায়। সেখান থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন তিনি। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকায় এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ২০১০–১১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন। সেখান থেকে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন শেষ করার পর শরিফ ওসমান হাদি শিক্ষকতাকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। সৎ জীবনযাপন ছিলো হাদির চারিত্রিক মাধুর্য। ওসমান হাদির তিন বোনের স্বামীরাও শিক্ষকতা ও দ্বীনি শিক্ষার সঙ্গে জড়িত। বড় বোনের স্বামী মাওলানা আমির হোসেন নলছিটি ফুলহরি আব্দুল আজিজ দাখিল মাদ্রাসার সুপার এবং একটি মসজিদের ইমাম। মেঝো বোনের স্বামী মাওলানা আমিরুল ইসলাম ঢাকায় ব্যবসা করেন। ছোট বোনের স্বামী মাওলানা মনির হোসেন নলছিটি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন।<br />
তাঁর শিক্ষাজীবনের বড় একটি অংশ ছিল মাদ্রাসাকেন্দ্রিক। কিন্তু সেই শিক্ষা তাঁকে সংকীর্ণ করে তোলেনি; বরং ন্যায়, মানবিকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি জুগিয়েছে। যে মাদ্রাসা শিক্ষাকে একশ্রেণির মানুষ জঙ্গিবাদের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলতে চায়, ওসমান হাদি তার জীবন্ত প্রতিবাদ। তিনি দেখিয়ে গেছেন—সঠিক চেতনায় গড়ে ওঠা মাদ্রাসা শিক্ষা মানুষকে নৈতিক, সাহসী ও প্রতিবাদী করে তোলে।<br />
কৈশোর ও যৌবনে সমাজের বৈষম্য, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও আন্তর্জাতিক অন্যায়ের চিত্র তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। ফিলিস্তিন, ইরাক, আফগানিস্তানসহ বিশ্ব রাজনীতিতে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ। একই সঙ্গে দেশের ভেতরে গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের প্রশ্নে আপোসহীন অবস্থান নেন ওসমান হাদি। গড়ে তোলেন ইনকিলাব মঞ্চ। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি, পাশে সহযোদ্ধা জাবেদ। জনপ্রিয় অ্যাক্টিভিস্ট ও কলাম লেখক পিনাকী ভট্টাচার্য, ড কনক সরোয়ার, মাসুম মাহবুব এবং ইলিয়াস হোসাইন এর অনুসরণ ও আলোচনায় প্রায় সবসময় থাকতেন ওসমান হাদি। যে কারণে ভারতীয় প্রশাসনের ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশের এই ৩২ বছরের তরুণ। এই অবস্থান তাঁকে কেবল স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং তাঁর চিন্তা ও বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে আন্তর্জাতিক পরিসরেও। অনেকের মতে, তাঁর রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও প্রতিবাদী ভাষা বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ব রাজনীতির নৈতিক প্রশ্নগুলোকে সামনে এনেছে। যে কারণে হুমকীর পর হুমকী, গোয়েন্দা নজরদারি, হয়রানি ও চাপের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে বারবার । কিন্তু তিনি কখনো পিছু হটেননি।<br />
সহযোদ্ধারা বলেন, “ওসমান হাদি জানতেন—চুপ থাকাই অন্যায়ের সবচেয়ে বড় সহযোগিতা।” এই বিশ্বাস থেকেই তিনি বারবার ঝুঁকি নিয়েছেন, জীবন বাজি রেখে কথা বলেছেন। বলেছেন, আমি শহীদী মৃত্যু চাই। শেষ পর্যন্ত আপোসহীন পথেই তিনি শহীদ হয়েছেন বলে জানান সহযোদ্ধা জাবেদ।<br />
তাঁর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই বরিশাল, ঝালকাঠি, রংপুর, টেকনাফ থেকে শুরু করে রাজধানী ঢাকার অলিগলি, রাজপথ প্রকম্পিত হয়েছে। সর্বত্র শোকের ছায়ায় ছিলো জুলাই বিপ্লবের ব্যর্থতা দূরকরণের আহ্বান ও প্রতিবাদ। তাঁর জানাজায় শরীক হয়েছেন দলমত নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ সহকর্মী, আলেম, সাংস্কৃতিক কর্মী, লেখক, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের ঢল। মানুষের চোখের জল বলে দেয়—ওসমান হাদি কেবল একজন রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানুষের আস্থার জায়গা। যে কারণে তাঁর জানাজার মঞ্চে উচ্চারিত হয় কঠিন শপথ। সয়ং প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড মুহাম্মদ ইউনুস বলে উঠেন &#8211; আমরা আজকে তোমাকে প্রিয় হাদি, বিদায় দিতে আসিনি। আমরা তোমার কাছে ওয়াদা করতে এসেছি, তুমি যা বলে গেছ, সেটি যেন আমরা পূরণ করতে পারি।’<br />
জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্রোহী কবির কবরের পাশেই তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পাশে তাঁর দাফন নিছক কাকতালীয় ঘটনা নয়। নজরুল যেমন সাম্য, মানবমুক্তি ও বিদ্রোহের প্রতীক, তেমনি ওসমান হাদি ছিলেন সেই দর্শনের বাস্তব রূপ। একদিকে কবিতার ভাষায় বিদ্রোহ, অন্যদিকে জীবনের লড়াই—দু’টি এক বিন্দুতে মিলিয়েছেন প্রিয় হাদী।<br />
তাঁকে ঘীরে পিনাকী ভট্টাচার্য, ড কনক সরোয়ার, ইলিয়াস হোসাইন ও মাসুম মাহবুব লিখেছেন &#8211;<br />
পিনাকী ভট্টাচার্য Pinaki Bhattacharya &#8211; পিনাকী ভট্টাচার্য<br />
হাসতে হাসতে এই ছোট ছেলেটা জীবনটা দেশের জন্য কোরবানি দিয়ে জুলাইয়ের নিভু নিভু মশালটা আবারো জ্বালিয়ে দিয়ে গেলো দাউদাউ করে। বাংলাদেশের তরুণদের নতুন আইকন হাদি। যুগযুগ ধরে বাংলাদেশের তারুণ্যকে উদ্দীপ্ত করে যাবে হাদির জীবন ও কর্ম।<br />
ড কনক সরোয়ার dr.kanak sarwar -ড.কনক সরওয়ার<br />
সব মৃত্যু বেদনার। যার যায় সে বোঝে। হাদি সার্থক। তিনি শহীদী মৃত্যু চেয়েছিলেন। আল্লাহ তাকে কবুল করেছেন। তাঁর জানাজা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন কনক সরোয়ার বলেন, অবিশ্বাস্য! অভাবনীয়! বর্ণনাতীত! হে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এমন আকূল ভালোবাসাময় জানাজা পাওয়ার সৌভাগ্য তুমি আমার জন‍্য কবুল করো! আমিন।<br />
মাসুম মাহবুব Masum Mahbub<br />
এই যে এতো প্রটোকল, এত দোয়া, এত ভালবাসা, এত গান, এত দ্রোহ, এত প্রতিবাদ কারণটা কী?<br />
১. হাদী ইসলামের পক্ষে কথা বলতো।<br />
২. হাদী ইন্ডিয়ান আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতো।<br />
৩. হাদী মুখোশ পরা সুশীলদের বিপরীতে দাঁড়িয়েছিল।<br />
৪. হাদী ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে দাঁড়িয়েছে।<br />
৫. হাদী জুলাইকে বিক্রি করে লুটপাট করেনি, ক্ষমতা গ্রহণ করেনি, জুলাইকে রক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন।<br />
৬. ৭১ এর চেতনা ব্যবসা করতো না।<br />
এরপর মাসুম মাহবুব অনেক ক্ষোভ নিয়ে লেখেন, আর কোন শোক নয়, মায়াকান্না নয়, এবার প্রতি*শোধ। খু*নিদের গুষ্টি শুদ্ধ জয় বাংলা করতে হবে। জুলাই বিপ্লবীরা পালাবে না, পালিয়ে বাঁচা যায় না। এবার স*ন্ত্রা*সী*দের বিরুদ্ধে ল*ড়া*ই শুরু।</p>
<p>এদিকে জনপ্রিয় সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন 15Minutes তার এক পোস্টে লিখেছেন,<br />
প্রিয় ওসমান হাদি। দেখো, তুমি কোথায় পৌঁছে গেছো। কয়েক শ বছর আগে তোমারই মতো আরেকজন বিপ্লবী এসেছিলেন পৃথিবীতে। যিনি কন্সটান্টিপোল বিজয়ের মাধ্যমে রাসূল (স.) এর ভবিষ্যত বানী পূর্ণ করেছিলেন।<br />
যিনি জলপথে নয়, বরং স্থলপথ দিয়ে বিশাল পর্বতমালা পাড়ি দিয়ে কামানভরা নৌযান নিয়ে জালিমের দুর্গ গুড়িয়ে দিয়েছিলেন। সেই সুলতান মেহমেদের স্মৃতি বিজড়িত মসজিদ, ইস্তানবুলের ফাতিহ মসজিদে তোমার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতো কিছু দেখার পরেও কি তুমি চুপ করে থাকবে। ফিরে আসার সুযোগ নেই আর জানি। তাই বলে, এতো তাড়াতাড়ি।<br />
মাদ্রাসা কেন্দ্রীক রাজনীতির যে ভ্রান্ত ধারণা সুশীল নামধারী কিছু নাস্তিক নিয়মিত বিতরণ করছে, তার বিরুদ্ধে এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করে গেছেন শহীদ ওসমান হাদি। তাঁর জীবন সবচেয়ে বড় যে বার্তাটি দেয়, তা হলো— মাদ্রাসা মানেই জঙ্গি নয়। বরং সেখান থেকেই জন্ম নিতে পারে ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও আন্তর্জাতিক সংহতির রাজনীতি। তিনি সেই ধারণাকে নিজের জীবন দিয়ে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।<br />
পরিশেষে, শহীদ ওসমান হাদি নেই, কিন্তু তাঁর চিন্তা, সাহস ও আদর্শ রয়ে গেছে। তিনি বদলে দিয়েছেন অনেক তরুণের দৃষ্টিভঙ্গি— বাংলাদেশের রাজনীতি কীভাবে বিশ্ব রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, আর একজন মানুষ কীভাবে একা দাঁড়িয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে তা দেখিয়ে গেছেন ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার ক্ষণজন্মা এই আদর্শিক তরুণ শহীদ ওসমান হাদি। ঝালকাঠির এই সন্তান ইতিহাসে থেকে যাবেন একজন শহীদ হিসেবে। যিনি দেখিয়ে গেছেন, শিক্ষা যাই হোক, যদি চেতনা মানবিক হয়, তবে সেখান থেকেই জন্ম নেয় মুক্তির রাজনীতি। গণমানুষের আকাঙ্খা পূরণের পথ এখানেই স্পষ্ট হয়েছে আজ। আগামীর বাংলাদেশ হবে শহীদ হাদির বাংলাদেশ।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b6%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%a6-%e0%a6%93%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%a8-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%a8%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ব্যাণার পোস্টারে দৃষ্টি ভোটারের: খুঁজছেন সৎ নেতা</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a3%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a3%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 09 Dec 2025 05:28:24 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জাতীয়]]></category>
		<category><![CDATA[ঢাকা বিভাগ]]></category>
		<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলার চিঠি]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<category><![CDATA[আন্দোলন]]></category>
		<category><![CDATA[নির্বাচন]]></category>
		<category><![CDATA[পোস্টার]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=5850</guid>

					<description><![CDATA[ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যাণার পোস্টারে দৃষ্টি ভোটারের: খুঁজছেন সৎ নেতা বিশেষ প্রতিবেদক  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীর প্রচারণা সম্বলিত ব্যাণার পোস্টারে গভীর দৃষ্টি রাখছেন সাধারণ মানুষ ও ভোটাররা। তাদের<span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a3%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div id="m#msg-a:r3293074199624381585" class="mail-message expanded">
<div id="m#msg-a:r3293074199624381585-header" class="mail-message-header spacer"><strong>ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যাণার পোস্টারে দৃষ্টি ভোটারের: খুঁজছেন সৎ নেতা</strong></div>
<div id="m#msg-a:r3293074199624381585-content" class="mail-message-content collapsible zoom-normal mail-show-images ">
<div class="clear">
<div dir="auto">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"><strong>বিশেষ প্রতিবেদক </strong></div>
<div dir="auto">
<div id="attachment_5851" style="width: 310px" class="wp-caption alignleft"><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/1000213582.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-5851" class="size-medium wp-image-5851" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/1000213582-300x287.jpg" alt="" width="300" height="287" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/1000213582-300x287.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/1000213582.jpg 594w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-5851" class="wp-caption-text">Oplus_0</p></div>
</div>
<div dir="auto">ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীর প্রচারণা সম্বলিত ব্যাণার পোস্টারে গভীর দৃষ্টি রাখছেন সাধারণ মানুষ ও ভোটাররা। তাদের অনেকেই বলছেন, ব্যাণার পোস্টারেই সৎ নেতার পরিচয় ফুটে উঠবে এবার। দলীয় চেয়ারপারসন ও প্রার্থীর ছবির সাথে একাধিক ছবি যুক্ত করে প্রচারণা মানেই ঐ প্রার্থীর পোস্টারও সুবিধাবাদীদের দখলে। প্রার্থী নিজে নয়, তার হয়ে অন্যরা চালাচ্ছে প্রচারণা এবং যে চালাচ্ছে তার ছবি প্রার্থীর চেয়ে বড়। তারমানে দলের ভিতরই তার প্রতি ভালোবাসা ও বিশ্বাস কম তা পরিষ্কার হচ্ছে এমন ব্যানার পোস্টারে। তাছাড়া দখল বাণিজ্য ও চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের ছবি বা নামের ব্যবহার রয়েছে প্রার্থীর প্রচারণার ব্যানার বা পোস্টারের নীচে, যা তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলে জানান একাধিক গ্রামবাসী।</div>
<div dir="auto">অন্যদিকে যে প্রার্থীর ব্যাণার পোস্টারে শুধু তারই একক ছবি ঝুলছে, তারমানে দলীয়ভাবেও তিনি প্রভাবশালী এবং নেতাকর্মীদের ভালোবাসা তার প্রতি রয়েছে বলে জানালেন তারা। যদিও রাজনৈতিক দলের নেতারা বলছেন, তফসিল ঘোষণার পরতো শুধু লিফলেট থাকবে।ব্যানার পোস্টার থাকবে না। তখন সব ঠিক হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দ।</div>
<div dir="auto">আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘীরে সবগুলো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ঘোষণা চূড়ান্ত হয়েছে। এই ডিসেম্বরের যেকোনো মূহুর্তে তফসিল ঘোষণার আভাসও পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনী প্রচারণায় মুখরিত বরিশালসহ বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা উপজেলা ও গ্রাম। বলা যায়, নির্বাচনী হাওয়া বইছে বাংলার আকাশে বাতাসে এখন। বিএনপির চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত জটিলতা ছাড়া বাকী সবকিছু এখন নির্বাচনমুখী। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও নিয়েও বিএনপির ভিতর চলছে সংশয়।  তার দেশে আসাটা নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বেশিরভাগ সাধারণ মানুষও। এসব আলোচনা সমালোচনাকে পাশে রেখে বরিশাল কিম্বা ঢাকা, খুলনা কিম্বা রংপুর যেখানেই দৃষ্টি যায়, সড়ক-মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই মুহূর্তে ঝুলছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা নিয়ে হরেকরকম ব্যানার পোস্টার। বিশেষ করে বরিশাল থেকে ঢাকার পথে ইতিমধ্যেই শতাধিক তোরণ তৈরি হয়েছে। যা বেশিরভাগ বিএনপির প্রার্থীদের প্রচারণা কৌশল। মহাসড়ক জুড়ে ঝুলন্ত এসব তোরণ, ব্যানার পোস্টারে প্রার্থীর পাশাপাশি প্রচারকারী নেতা ও তার অনুসারীদের ছবি ও নাম ঝুলছে বিএনপির প্রায় প্রতিজন প্রার্থীর ব্যাণার পোস্টারে। রয়েছে অন্যান্য রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি সহ আরো অনেকের প্রচার প্রচারণা।</div>
<div dir="auto">আর এই ব্যাণার- পোস্টারে যদি চোখ বুলানো হয়, তাহলেই ঐ দলটির চরিত্র, দলীয় শৃঙ্খলাসহ অনেককিছু স্পষ্ট হয়ে ওঠে বলে জানান রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণও। বরিশালের রাজনৈতিক বিশ্লেষক কাজী মিজানুর রহমান, মাহবুব খান,  ঢাকার সাংবাদিক হাসান শান্তনু, ইয়াসীর আরাফাত, আদিত্য আরাফাতসহ একাধিক বিশ্লেষক বলেছেন, এবারের নির্বাচন হবে পরিবর্তনের নির্বাচন। সাধারণ মানুষ ব্যাণার পোস্টার দেখে প্রার্থীর চরিত্র বুঝে নেবেন। তারউপর চাঁদাবাজি ও দখল বাণিজ্যের ছাপও এই ব্যাণার পোস্টারেই স্পষ্ট হয়ে আছে। সাধারণ মানুষ এ থেকে তাদের প্রার্থী চিনে নিতে পারেন। এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না বলে মতামত বিশ্লেষকদের। সরেজমিনে এমনই কিছু ব্যাণার পোস্টারের চিত্র দেখা গেছে বরিশালের উজিরপুর, বাকেরগঞ্জ ও সদর উপজেলায়। আবার রাজধানী ঢাকার মীরপুর ১৪ ও ১৬ আসন ঘুরেও দেখা গেছে একইচিত্র । বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের তালুকদার হাট স্কুল এন্ড কলেজের প্রবেশপথে ঝুলানো বিএনপির প্রার্থী আইনজীবী মজিবর রহমান সরোয়ার এর  পোস্টারের সাথে আরো অনেকের ছবি সাঁটানো । আগে থেকে জানাশুনা না থাকলে মজিবর রহমান সরোয়ার যে কোন ব্যাক্তি তা চিহ্নিত করা মুশকিল। কারণ ৭/৮জনের ছবির ভিতর থেকে তাকে খুঁজে বের করতে হিমশিম খেতে হবে নতুন ভোটারকে।  একইসাথে যদি জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এর পোস্টারে চোখ বুলানো যায়, তাহলে সেখানে প্রার্থী ছাড়া আর কারো ছবি নেই। এমনকি দলীয় প্রধানের ছবিও ব্যবহার হয়নি প্রার্থীর প্রচারণা পোস্টারে। বরিশাল সদর আসনে বিএনপির প্রার্থী অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং ইতিপূর্বে চার চার বার এই আসনের হর্তাকর্তা ছিলেন। আর তার সাথে এবারই প্রথম  প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াযযম হোসাইন হেলাল ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এর নায়েবে আমীর সৈয়দ ফয়জুল করিম। একইচিত্র দেখা গেছে বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন এর প্রচারণা পোস্টারে।</div>
<div dir="auto"><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/IMG-20251205-WA0025.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignright size-medium wp-image-5852" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/IMG-20251205-WA0025-191x300.jpg" alt="" width="191" height="300" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/IMG-20251205-WA0025-191x300.jpg 191w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/IMG-20251205-WA0025-653x1024.jpg 653w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/IMG-20251205-WA0025-768x1204.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/IMG-20251205-WA0025-980x1536.jpg 980w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/IMG-20251205-WA0025.jpg 1021w" sizes="auto, (max-width: 191px) 100vw, 191px" /></a>অপরদিকে অনেক জল্পনা কল্পনা, দড়ি টানাটানি শেষে বরিশাল ৩ মুলাদি বাবুগঞ্জ আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও ভারবাহী নেতা জয়নাল আবেদীন এর মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়েছে। সাথে সাথে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে ফেসবুকে ও গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর। অথচ পরদিনই তাদের প্রার্থীর প্রচারণা পোস্টার নষ্ট করে বিএনপির প্রার্থীর পোস্টার ঝুলানোর অভিযোগ প্রায় প্রতিটি আসনে। সাধারণ গ্রামবাসীর অনেকেই বলছেন, আগামী নির্বাচনে শুধুমাত্র বরিশাল ১ গৌরনদী আগৈলঝারা আসনটি ছাড়া বরিশাল জেলার অন্য পাঁচটি আসনই হাতছাড়া হতে পারে বিএনপির। কেননা প্রতিটি আসনেই নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চরমে তাদের। কোথাও কোথাও ত্রিমুখী সংকটেও রয়েছে বিএনপির প্রার্থী। সে তুলনায় ইসলামি দলগুলোর ঐক্য সাদরে গ্রহণ করছেন সাধারণ মানুষ।</div>
<div dir="auto">এখানে বরিশাল ১ আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপনের কার্যক্রম ও প্রচারণা কৌশলের প্রশংসা করেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হাফেজ মাওলানা কামরুল ইসলাম খান। তিনি নিজেও যথেষ্ট ভালো প্রচারণার সুযোগ পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। আবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (ইসা) প্রার্থী মুহাম্মদ রাসেল সরদার মেহেদী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)র প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম নিপুর প্রচার প্রচারণার প্রশংসা করেন বিএনপির প্রার্থী জহিরউদ্দিন স্বপন। যদিও অন্য পাঁচটি আসনে এই সহনশীলতা ও সৌন্দর্য অনুপস্থিত। বিএনপির প্রতিটি প্রচারণা পোস্টারে অসংখ্য নেতাকর্মীর ওয়ার্ড, ইউনিয়ন সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের ছবির এক কোনায় প্রার্থীর ছবি ঠাই পাচ্ছে। আবার বাস টার্মিনাল এলাকার চাঁদাবাজ হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিবর্গের ছবি নিয়ে প্রার্থীর পোস্টার হওয়ায় অনেক ভোটারের বিরূপ মন্তব্য &#8211; চাঁদাবাজ নিয়ে যাদের প্রচার প্রচারণা তাদের থেকে কি আশা করা যায়।। ব্যাণারেই রয়েছে আঁকা নেতার পরিচয়।।</div>
<div dir="auto">এ চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর ১৫ ও ১৬ আসন ঘুরে। এখানে ১৬ আসনের প্রার্থীর প্রচারণা পোস্টারে তিনি যে কে? তা খুঁজে পেতে রীতিমতো বিএনপি স্থানীয় নেতাদের ডেকে জানতে হয়েছে। কেননা, আমিনুল ইসলাম এর পোস্টারে তার চেয়ে বড় করে ছাপা হয়েছে প্রচারকারী নেতাদের ছবি। পাশাপাশি উদাহরণ হতে পারে ১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আমীর ডাঃ শফিকুল ইসলাম। এ আসনটি আগে আওয়ামী লীগের কামাল মজুমদারের দখলে ছিলো। এবার এটি নিশ্চিত জামায়াতে ইসলামীর আসন হতে যাচ্ছে বলে জানালেন মীরপুরের কাজীপাড়া এলাকার একজন বিএনপি নেতা।</div>
<div dir="auto">ব্যানার পোস্টারে দলীয় প্রার্থী ছাড়া প্রচারকারীদের ছবি অযৌক্তিক দাবী করেন বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক। তিনি বলেন,  এ রকম বেশকিছু পোস্টার আমি নামিয়ে দিয়েছি। আসলে তফসিল ঘোষণার আগমুহূর্ত পর্যন্ত এসব আটকানো কষ্টকর হবে। তফসিল ঘোষণার পরতো আর কোনো ব্যানার পোস্টার থাকবে না। শুধু লিফলেট বিতরণ করা হবে।</div>
<div dir="auto">তিনি এসময় আরো বলেন, স্কুল কলেজের প্রবেশপথ ও দেয়াল ব্যানার পোস্টার মুক্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।</div>
<div dir="auto">এ জাতীয় ব্যানার পোস্টার সম্পর্কে কিছুই জানেন না বিএনপির বরিশাল সদর আসনের প্রার্থী আইনজীবী মজিবর রহমান সরোয়ার এবং ঢাকা ১৬ আসনের প্রার্থী আমিনুল ইসলাম।</div>
<div dir="auto">বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ জানালেন, মনোনয়নের আগে বিভিন্ন প্রার্থী সমর্থকদের পোস্টার ছাপা হয়েছিল এভাবেই। মনোনয়ন চূড়ান্ত হবার পর শুধুমাত্র প্রার্থীর ছবি পরিবর্তন করে সমর্থন বদলে দিয়েছে সচেতন কর্মীরা। তফসিল ঘোষণার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত এজাতীয় প্রচারণা দোষের নয়। তবে কারা, কোথায় কীভাবে তার প্রচারণা চালাচ্ছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রার্থী নিজেও জানেন না এসব কর্মকাণ্ড সম্পর্কে। এ বিষয়ে দলীয় প্রার্থীকেই সচেতন হতে হবে বলে জানান তিনি। এদিকে সাধারণ মানুষের কাছে ইসলামি আন্দোলন ও জামায়াতে ইসলামীর প্রচারণা কৌশল ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বরিশালের অনেকেই।</div>
</div>
</div>
</div>
<div id="m#msg-a:r3293074199624381585-footer" class="mail-message-footer spacer collapsible"></div>
</div>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a3%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ঢাকায় সকাল থেকেই গ্যাস থাকেনা চুলোয়: চলছে সিলিন্ডার ষড়যন্ত্র</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a2%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%b8%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%a5/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a2%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%b8%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%a5/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 26 Oct 2025 05:41:36 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=5841</guid>

					<description><![CDATA[(ঢাকায় চরম গ্যাস সংকট: সিলিন্ডার ষড়যন্ত্র নাকি অন্যকিছু)   বিশেষফ প্রতিবেদক  <p>এই মূহুর্তে গ্যাস নেই রাজধানীর পুরোন ঢাকাসহ মীরপুরের অনেক বাসাবাড়িতে। যা স্বীকার করেছেন তিতাসগ্যাস কর্তৃপক্ষ নিজেও। এজন্য জ্বালানি ও খনিজ</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%a2%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%b8%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%a5/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div id="m#msg-a:r3709228207772977891" class="mail-message expanded">
<div id="m#msg-a:r3709228207772977891-header" class="mail-message-header spacer">(<strong>ঢাকায় চরম গ্যাস সংকট: সিলিন্ডার ষড়যন্ত্র নাকি অন্যকিছু) </strong></div>
<div id="m#msg-a:r3709228207772977891-content" class="mail-message-content collapsible zoom-normal mail-show-images ">
<div class="clear">
<div dir="auto">
<div dir="auto">
<div dir="auto"><strong> বিশেষফ প্রতিবেদক </strong></div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">
<div id="attachment_5842" style="width: 310px" class="wp-caption alignleft"><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/IMG20251025121919-scaled.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-5842" class="size-medium wp-image-5842" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/IMG20251025121919-300x225.jpg" alt="" width="300" height="225" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/IMG20251025121919-300x225.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/IMG20251025121919-1024x768.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/IMG20251025121919-768x576.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/IMG20251025121919-1536x1152.jpg 1536w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/IMG20251025121919-2048x1536.jpg 2048w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-5842" class="wp-caption-text">oplus_2</p></div>
<p>এই মূহুর্তে গ্যাস নেই রাজধানীর পুরোন ঢাকাসহ মীরপুরের অনেক বাসাবাড়িতে। যা স্বীকার করেছেন তিতাসগ্যাস কর্তৃপক্ষ নিজেও। এজন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টার বক্তব্যের রেফারেন্স তুলে ধরে বাসাবাড়িতে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।</p></div>
<div dir="auto">জানা গেছে, গত প্রায় ছয়মাস ধরেই গভীর রাত পর্যন্ত গ্যাস থাকেনা পুরোন ঢাকায়। এছাড়াও মীরপুর ৬ নং সেকশন এ ও বি ব্লক, শিয়ালবাড়ি, রূপনগর আবাসিক এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত গ্যাস থাকেনা বা গ্যাসের চাপ এতোটাই নেমে যায়, যে কিছুই রান্না করা সম্ভব হয়না বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।</div>
<div dir="auto">২৫ অক্টোবর শনিবার সকালে মীরপুর বাসীর এই অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যায় ৬ নং সেকশন বি ব্লকের ৪ নং সড়কে এসে। এখানে সড়কের দুপাশের প্রতিটি বাড়ির বাসিন্দারা তাদের রান্নাঘর দেখিয়ে বলেন, সকাল ৯টা থেকে একফোঁটা গ্যাস নেই চুলোয়। বেলা দুটোর পর হয়তো আসবে। কারণ বিগত ছয়মাস ধরে এই সমস্যার মধ্যে  আসি আমরা।</div>
<div dir="auto">তারা আরো বলেন, এ নিয়ে তিতাসগ্যাস কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগও করা হয়েছে, কিন্তু কোনো সমাধান আজ পর্যন্ত পাইনি। বরং তিতাস কর্তৃপক্ষ আমাদের সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে পরামর্শ দিচ্ছেন।</div>
<div dir="auto">এ কথা স্বীকার করে তিতাসগ্যাস এর কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু মীরপুর বা পুরোন ঢাকাই নয়, রাজধানীর অনেক এলাকায়ই গ্যাস নেই। সামনে আরো থাকবেনা। এতে আমাদের কিছু করার নেই। সরকার সিলিন্ডার বা এলপিজি আমদানি করছেন বলে জানান তারা।</div>
<div dir="auto">এদিকে বাসাবাড়িতে গ্যাস না থাকার জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের মতে, উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানের বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করে তিতাসগ্যাস কর্তৃপক্ষ ইচ্ছেকৃত এই ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। জুলাই বিপ্লবের পরও এসব প্রতিষ্ঠানে ফ্যাসিবাদের দোসররা বসে আছে। তারা উপদেষ্টার বক্তব্যের পরপরই পাইপলাইন সংযোগ রয়েছে এমন সব বাসাবাড়িতে গ্যাস সংকট সৃষ্টি করে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারে বাধ্য করতে চাচ্ছে। কেননা, উপদেষ্টা স্পষ্ট বলেছেন, নতুন করে বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ দেয়া সম্ভব হবে না বা অসম্ভব।  তাই বলে পুরাতন সংযোগে কেন গ্যাস থাকবে না? এ প্রশ্ন তুলে একাধিক গ্রাহক বলেন, উপদেষ্টার বক্তব্যের পরপরই পাইপলাইন সংযোগ রয়েছে এমন সব বাসাবাড়িতে গ্যাস সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে। এজন্য এলপিজি ব্যবসায়ীদের থেকে তিতাসগ্যাস কর্মকর্তারা বড় অংকের উৎকোচ পাচ্ছে বলেও অভিযোগ গ্রাহকদের।</div>
<div dir="auto">&#8220;আমাদের সিলিন্ডারে গ্যাসে অভ্যস্ত হতে হবে।’ গত ৮ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল-বিশ্বরোড মোড়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেহাল অংশ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এরকম বক্তব্য রাখেন। তার এ বক্তব্যের প্রভাব পরেছে তিতাসগ্যাস কর্তৃপক্ষের উপর। এর আগে বিভিন্ন সময় উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বাসাবাড়িতে আর গ্যাস সংযোগ দেয়া হবেনা বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন ‘আমাদের নিজস্ব গ্যাস কমে গেছে। এখন আমরা ৬০-৬৫ টাকা করে গ্যাস আমদানি করি।&#8221; তার এ বক্তব্যের পর থেকেই রাজধানীতে গ্যাস সংকট চরম আকার ধারণ করেছে বলে দাবী গ্রাহকদের।</div>
<div dir="auto">এদিকে পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ২৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে, যেখানে চাহিদা ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ ২০২৫ সালে গ্যাসের অভাব বেড়ে ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে।</div>
<div dir="auto">অন্যদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধারাবাহিকভাবে গ্যাসের উৎপাদন কমছে। বন্ধ হচ্ছে একের পর এক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ঘুরছে না শিল্পকারখানার চাকা। ঠিকমতো জ্বলছে না বাসাবাড়ির চুলা। নতুন গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান না পেলে এবং নতুন খনি থেকে উত্তোলন শুরু না হলে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরতা বাড়বে। ভুক্তভোগী হবে শিল্প খাত। উচ্চদামে এলএনজি কেনায় বাড়বে জীবনযাত্রার ব্যয়।</div>
<div dir="auto">গ্যাস অনুসন্ধানে সরকার স্থলভাগে পুরোনো ৫০টি ও নতুন করে ১০০টি কূপ খনন ও সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যায়নি। সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের কোনো অগ্রগতি নেই। এ জন্য ২০৩০ সাল আসার আগেই প্রাকৃতিক গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ার ধাক্কা সামলাতে সরকারকে প্রস্তুতি নিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।</div>
<div dir="auto">বর্তমানে দেশি গ্যাস ক্ষেত্র থেকে দিনে ১৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়। ২০১৭ সালে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হতো। দেশি গ্যাসের প্রতি ইউনিটের (ঘনমিটার) দাম তিন টাকার মতো। বিদেশ থেকে আমদানি করা এলএনজির দাম ৫৫ টাকা। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) সর্বশেষ সমীক্ষা (২০১০) অনুযায়ী দেশে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত আছে ২৮ দশমিক ৭৯ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন বা লাখ কোটি ঘনফুট)। ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত ২০ দশমিক ৩৩ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। বাকি আছে প্রায় ৯ (৮ দশমিক ৪৬) টিসিএফ গ্যাস। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ২০৩০-এর পর প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ এতই কমে যাবে যে বাণিজ্যিকভাবে তা ব্যবহার করা যাবে না। কোনো কারণে এটি কয়েক বছর পেছাতে পারে। গ্যাস শেষ হলে এলএনজি ব্যবহারের হার বাড়বে। শিল্পে প্রভাব পড়বে। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। দেশের ২৯টি গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে উৎপাদনে আছে ২০টি। ভোলার ইলিশা ও ভোলা নর্থ; সিলেটের জকিগঞ্জ এবং কুতুবদিয়া থেকে এখন পর্যন্ত কোনো গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে না। কারণ পাইপলাইন ও অবকাঠামো তৈরি হয়নি। এ নিয়ে কোনো উদ্যোগও লক্ষ্য করা যায়নি।</div>
<div dir="auto">আবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, সিলেটের ছাতক, গাজীপুরের কামতা, ফেনী ও চট্টগ্রামের সাংগু- এই পাঁচ খনিতে ৬৬১ বিসিএফ গ্যাস থাকা অবস্থায় উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এগুলো বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য নয়। দেশের গ্যাস খাতে সরবরাহ ও মজুত বাড়াতে স্থলভাগের চার গ্যাস ক্ষেত্রে ড্রিলিং বা গভীর কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতি কূপে ১৫ থেকে ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস পাওয়া সম্ভব বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পেট্রোবাংলার তথ্যে, অন্তর্বর্তী সরকার ১০০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের প্রকল্প নিয়েছে। এর মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৩১টি পুরোনো কূপ সংস্কারে জোর দেওয়া হয়েছে। বাকি ৬৯টি অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কূপ। ২০২২ সালে তৎকালীন সরকার ৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেয়। তবে সেগুলোর বর্তমান অবস্থা জানা যায়নি।</div>
<div dir="auto">জ্বালানি বিভাগ আশা করছে, দুই-তিন বছরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে বছরে সরবরাহ করা হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ এমএমসিএফডি গ্যাস। বছরে ২ হাজার এমএমমিএফডি গ্যাসের সরবরাহ ধরে রাখতে হলে বছরে অন্তত ১০টি কূপ খনন করতে হবে।</div>
<div dir="auto">বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক সমিতির সভাপতি ড. বদরুল ইমাম বলেন, পৃথিবীতে যেসব বদ্বীপ এলাকা আছে সেখানে প্রাকৃতিক জ্বালানি থাকে। বাংলাদেশেও থাকার কথা। পাঁচ বছরের মধ্যে ১০০ কূপ খনন করে ভালো কিছু দেখাতে পারলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে জানান তিনি।</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a2%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%b8%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%a5/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সাংবাদিক কেন চাঁদাবাজ? শতাধিক নিউজ মিডিয়া ও পত্রিকা শুধু বরিশালেই</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9c-%e0%a6%b6%e0%a6%a4/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9c-%e0%a6%b6%e0%a6%a4/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 22 Oct 2025 09:03:47 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=5833</guid>

					<description><![CDATA[<p>সাংবাদিক কেন চাঁদাবাজ? শতাধিক নিউজ মিডিয়া ও পত্রিকা শুধু বরিশালেই</p> <p>বিশেষ প্রতিবেদক</p> <p>মোটরসাইকেল চালিয়ে ও ক্যামেরা বা স্মার্টফোন হাতে নিয়ে একসাথে চার-পাঁচ জনের একটি দল হানা দিচ্ছে গ্রামগঞ্জের বিভিন্ন মাদ্রাসা,</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9c-%e0%a6%b6%e0%a6%a4/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>সাংবাদিক কেন চাঁদাবাজ? শতাধিক নিউজ মিডিয়া ও পত্রিকা শুধু বরিশালেই</strong></p>
<p><strong>বিশেষ প্রতিবেদক</strong></p>
<p><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/FB_IMG_1761112482198.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-5835" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/FB_IMG_1761112482198-300x225.jpg" alt="" width="300" height="225" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/FB_IMG_1761112482198-300x225.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/FB_IMG_1761112482198-768x576.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/FB_IMG_1761112482198.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>মোটরসাইকেল চালিয়ে ও ক্যামেরা বা স্মার্টফোন হাতে নিয়ে একসাথে চার-পাঁচ জনের একটি দল হানা দিচ্ছে গ্রামগঞ্জের বিভিন্ন মাদ্রাসা, আবাসিক হোটেল, বাজারের বড় দোকান বা ইটভাটায়। বেশিরভাগ অনিয়মিত পত্রিকা বা অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিক পরিচয়ে তারা দেখতে চায় এতিমখানা বা মাদ্রাসার নথিপত্র, পরিবেশ দপ্তরের ছাড়পত্র বা ওজন পরিমাপক যন্ত্র নিয়ে টানাটানি। যার কোনটাই দেখতে চাওয়ার অধিকার তার নেই। আবার কখনো পিকনিক, কখনো বন্ধুর বিয়ে, অসুস্থতায় চিকিৎসা খরচ কিম্বা ঢাকায় যাওয়ার পথখরচ দাবী করে অবিনব পন্থায় চাঁদাবাজি করছে এসব সাংবাদিক পরিচয়ধারী যুবকরা। বরিশাল নগরীর অনেক বড় বা সিনিয়র সাংবাদিকদের নামেও রয়েছে এরকম একাধিক অভিযোগ। এদের কেউ কেউ ঢাকায় যাওয়ার প্রয়োজন হলেই বড় ঠিকাদার বা লঞ্চ মালিককে ফোন করে যাতায়াতের খরচ আদায় করেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী লঞ্চ মালিক ও ঠিকাদাররা। আর বড় বা সিনিয়রদের এই চাঁদাবাজির গল্প শুনে, উদ্ভুদ্ধ হয়ে তরুণ প্রজন্মের সংবাদ কর্মীদের অনেকেই ছুটছেন একই পন্থায় ছোটখাটো ব্যবসায়ী বা গ্রামগঞ্জের মাদ্রাসা ও ইটভাটায়।<br />
এমনই একটি ঘটনার প্রমাণ মিলেছে দুদিন আগে ইউরো কনভেনশন হলে। বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ এর নেতৃত্বে আটক হয়েছে দুজন চাঁদাবাজ সাংবাদিক। এদিকে সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের পোস্ট মাস্টার মোকলেছুর রহমানের কাছেও পিকনিকের নামে চাঁদা দাবি করেছে। তার ও রূপা ইটভাটার মালিকের কাছে চাঁদা দাবি করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের কয়েকজন সাংবাদিক। য়দিও পরে জানা যায়, তারা বাকেরগঞ্জ প্রেসক্লাবের কেউ ছিলোনা। নাম সর্বস্ব পত্রিকার পরিচয়পত্র হাতে পেয়েই চাঁদাবাজিতে নেমে পরেছে এরা। ঐ সময় বরিশালের একজন সিনিয়র সাংবাদিক মোকলেছুর রহমানকে পরামর্শ দেন, ওদের তালুকদার হাট পোস্ট অফিসের দূরাবস্থা নিয়ে একটি সংবাদ লিখতে বলুন। বিনিময়ে তাদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা দেওয়া হবে।<br />
সংবাদ লিখতে না জানা ঐ সাংবাদিকরা পোস্ট অফিসের ছবি নিয়ে চলে যায়, আর ফেরেনা। কারণ, সংবাদ লিখতেতো ওরা জানেইনা। কেউ একজন লিখে দিলে সেটি কপি পেস্ট করে অভ্যস্ত এইসব সাংবাদিকদের বেশিরভাগ অংশ।<br />
যতদূর জানা গেছে, বরিশাল থেকে প্রকাশিত ৪৫টি পত্রিকার বেশিরভাগ অংশেরই কোনো বেতনভুক্ত সাংবাদিক বা রিপোর্টার নেই। একজন মাত্র নামসর্বস্ব বার্তা সম্পাদক, তিনিই কম্পিউটার কম্পোজার এবং রিপোর্টার। সাথে একজন গ্রাফিকস ডিজাইন পারদর্শী দিয়ে চলছে এখানের লোকাল দৈনিকগুলো। দু একটি ব্যতিক্রম রয়েছে তবে তাদেরও পর্যাপ্ত রিপোর্টার নেই। ১০টি উপজেলাসহ বরিশাল জেলার মোট সাংবাদিক সংখ্যা প্রায় ৫ শত জন। এদের বেশিরভাগই শুধু পরিচয়পত্র বা কার্ডধারী সাংবাদিক। বাকীরা সংগঠন নির্ভর হয়ে দান ছদকায় জীবন কাটান। বরিশালের সাংবাদিক ও সংবাদপত্র বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে এমন চিত্রই তুলে ধরলেন জেলার সাংস্কৃতিকজন, সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক নেতারাও।<br />
সরজমিনে বরিশালের স্থানীয় সংবাদপত্র ও সাংবাদিক সংগঠন অফিসগুলো ঘুরে দেখা গেছে, রিপোর্টার্স ইউনিটির সামনের দেয়ালে প্রতিদিন ১০/১২টি পত্রিকা ঝুলছে। আর রিপোর্টার্স ইউনিটি অফিস সহকারী বাবু জানান, ১৮/২০টি পত্রিকা কমবেশি আমাদের কাছে আসে। তবে নিয়মিত ১০/১২টির বেশি নয়। আবার পাশেই পত্রিকা বিক্রেতা বোবার দোকানে পাঁচটির বেশি স্থানীয় পত্রিকা খুঁজে পাওয়া যায়নি। সংবাদপত্র বিক্রয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান আলম পেপার ঘরের মালিক আলমের কাছে সবমিলিয়ে আটটি পত্রিকা নিয়মিত আসে বলে জানালেন আলম নিজেই।<br />
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখানে বেশিরভাগ সংবাদপত্র মূলত ব্যবসায়িক ঢাল হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ী, ইলেকট্রনিকস পণ্যের ড্রিলার, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর মালিক ও গণপরিবহনের মালিকদের এই ঢালগুলোও আসলে বড়ো দূর্বল ঢাল। কেননা ডিক্লারেশন নীতিমালার সামান্যতম বিষয়গুলোর কোনোটাই অনুসরণ করছেন না এখানকার কোনো সংবাদপত্র মালিক। একই ব্যক্তির বিভিন্ন নামে চারপাঁচটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার চলছে। চলছে গণপরিবহন ও অন্যান্য বৈধ অবৈধ বিভিন্ন ব্যবসা। আর সাংবাদিকদের বেশিরভাগ এখানে ঠিকাদারি কাজ বাগাতেই সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র কিনছেন চড়া দামে। এদের মধ্যে লোকাল পত্রিকা ও অনলাইন মিডিয়ার মালিকও রয়েছে। যা আড়াল করতে তারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন সংবাদপত্রকে। প্রশাসনের চোখের সামনেই নিয়মহীনতার নিয়মে চলছে এসব পত্রিকা ও অনলাইন মিডিয়া। অনলাইনগুলোর বেশিরভাগ আবার অনুমোদন হীন। কেউ কেউ শুধু ফেসবুক ও ইউটিউব নির্ভর পেজ খুলেই বুম হাতে ঘুরছেন, মোটরসাইকেল এর সামনে লাগিয়েছেন ঐ নামের স্টিকারও। বরিশাল জেলা প্রশাসনের অনুমোদিত লোকাল দৈনিক রয়েছে প্রায় ৫০টি। যার মধ্যে নিয়মিত প্রকাশিত হয় সাত-আট টি এবং অনিয়মিত ১৮/২০টি পত্রিকা। বাকীগুলো সপ্তাহ বা মাসে একবার ডামি হিসেবে প্রশাসনের চোখে ধূলো দিচ্ছে প্রতিনিয়ত।<br />
সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় অঙ্গিকার বদ্ধ হলেও এসব বিষয়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলো এখানে অন্ধ হয়ে আছে। প্রতিটি সংগঠন এখানে দু তিনভাগে বিভক্ত। জেলায় প্রেসক্লাব আছে কয়েকটি, সাংবাদিক ইউনিয়নের রয়েছে দুটিভাগ। তবে নতুন নেতৃত্বে সাংবাদিক আজাদ আলাউদ্দিন অংশের সাংবাদিক ইউনিয়ন কিছুটা কর্মচঞ্চল ও সচেতনতা তৈরির পথে এগুচ্ছে। অন্য অংশ এই মুহূর্তে অস্তিত্বহীন প্রায়। আরো কিছু সাংবাদিক সংগঠন ও পরিষদ রয়েছে, যাদের কাজ শুধু ফুল দেয়া আর সরকারি কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎ পাওয়া। বরিশাল বিভাগীয় প্রেসক্লাব, সাংবাদিক কল্যাণ সমিতি ইত্যাদি নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ অহরহ। গ্রামে গ্রামে ইটভাটা ও বিয়ে-শাদি, অপমৃত্যু ইত্যাদি ক্রাইম খুঁজে ঘুরে বেড়ানো সাংবাদিক নামধারীদের বেশিরভাগ এই বরিশাল বিভাগীয় প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমিতির সদস্য বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ইটভাটা মালিক। শুধু মাত্র ঐতিহ্য ধরে রেখে গর্বিত পথচলার দাপট এখানে বরিশাল রিপোর্টাস ইউনিটির। তবে তারাও এখানে রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত হতে পারেননি এখনো। বিগত প্রায় সতের বছর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তাবেদারী এই রিপোর্টার্স ইউনিটির ভাবমূর্তি মলিন করে দিয়েছে। জুলাই বিপ্লবের পটপরিবর্তনে ক্ষমতার হাতবদল ঘটেছে এবং মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোর জন্য আনিসুর রহমান স্বপন ও খালিদ সাইফুল্লাহ পরিষদ রীতিমতো যুদ্ধ করছেন বলে জানালেন স্থানীয় উল্লেখযোগ্য পত্রিকার সম্পাদকরা।<br />
বরিশালের উল্লেখযোগ্য পত্রিকা আজকের বার্তার বর্তমান সম্পাদক কাজী রাসেল, আজকের পরিবর্তনের সম্পাদক কাজী মিরাজ মাহমুদ, দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল সম্পাদক প্রিন্স তালুকদার, দৈনিক মতবাদের সম্পাদক এসএম জাকির বর্তমানে বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ বাণী পত্রিকার সম্পাদক আজাদ আলাউদ্দিন একজন দক্ষ সাংবাদিক, সংগঠক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে চমৎকার ভূমিকা পালন করছেন বরিশালে। এই সম্পাদকরা ছাড়াও ডিবিসি নিউজ বরিশালের প্রতিনিধি সালেহ টিটু, যুগান্তর ও এনটিভির প্রতিনিধি আক্তার ফারুক শাহীন, মানবজমিন এর জিয়া শাহীনসহ জাতীয় দৈনিকের জেলা প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে এটা স্পষ্ট যে, এখানে এই জাতীয় দৈনিক প্রতিনিধি হতেও এখন টাকা দিতে হয় ঢাকা অফিসে। টাকা না দিলেও বিজ্ঞাপন দিয়ে তার ঘাটতি পূরণ করতে হবে। এমন প্রমাণও আছে বেশকিছু। যে কয়টি পত্রিকা নিয়মিত প্রিন্ট হচ্ছে, সেগুলোর নিউজ মান ও বানান ভুলের পরিমাণ হিসাব করলে সম্পাদকের যোগ্যতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।<br />
আবার ইদানীং ফেসবুকে নতুন পত্রিকার বিজ্ঞাপন এ চোখ রাখলেই অসংখ্য মন্তব্য দেখা যায় – কার্ডের জন্য কত দিতে হবে? কেউ কেউ পরিষ্কার টাকার অংক বলেই দিচ্ছেন।</p>
<p>জাতীয় দৈনিক তার ঢাকার প্রতিনিধিকে নির্দিষ্ট বিষয়ে কাজ করিয়ে বেতন দেন। আর জেলা প্রতিনিধি সবরকম বিষয় নিয়ে কাজ করার পরও উল্টো টাকা বা বিজ্ঞাপন খুঁজে দেন। তারপরও একজন জেলা প্রতিনিধিকে ঠিকমতো সম্মানী দিতে না চাওয়াটা কি অপরাধ নয়? এটা কি প্রেস আইনের অধীনে নয়? তাহলে জাতীয় প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সংগঠন এর কাজ কি শুধু পত্রিকা মালিকদের স্বার্থ রক্ষা করে চলা? এমন প্রশ্ন তুলে বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মিরাজ মাহমুদ আরো বলেন, সাংবাদিক সংগঠনগুলোর উচিত এ বিষয়গুলো সামনে নিয়ে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। তানা হলে সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি বন্ধ করা যাবেনা। পাশাপাশি অনলাইন মিডিয়া বা নিউজ পোর্টালগুলো অনুমোদিত কিনা তাও যাচাই-বাছাইয়ের পরামর্শ কাজী মিরাজের।<br />
<a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/FB_IMG_1761122338876.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignright size-medium wp-image-5834" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/FB_IMG_1761122338876-300x225.jpg" alt="" width="300" height="225" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/FB_IMG_1761122338876-300x225.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/FB_IMG_1761122338876-1024x768.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/FB_IMG_1761122338876-768x576.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/FB_IMG_1761122338876-1536x1152.jpg 1536w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/FB_IMG_1761122338876.jpg 2048w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>অন্যদিকে জেলা শহরের বেশিরভাগ পত্রিকা দুই পাতার কতগুলো চিরকুট । দু একটি চারকালার হলেও বেশিরভাগ পত্রিকা সাদাকালো মানহীন প্রিন্ট। কেন এই মান-দায়হীন পত্রিকার প্রকাশনা তবে? এই প্রশ্ন তুলে বরিশালের প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বহুল আলোচিত মাসিক আনন্দ লিখন ও দৈনিক আজকের পরিবর্তন পত্রিকার সাবেক প্রকাশক ও সম্পাদক সৈয়দ দুলাল বললেন, নীতিমালা অনুসরণ করে পত্রিকা চালানো খুবই কঠিন কাজ। একটি দৈনিকের জন্য সর্বনিম্ন বার্তা সম্পাদক ছাড়াও ৭ জন নিজস্ব প্রতিনিধি দরকার। যাদের কম হলেও দশ হাজার টাকা বেতন দিতে হবে। ওয়েজবোর্ড অনুসরণতো দূরের কথা। নূন্যতম জীবনযাপন সুবিধা কি এখানে কেউ পাচ্ছে?<br />
সৈয়দ দুলাল আরো বলেন, এখানে বিজ্ঞাপন বলতে শুধু সরকারি কিছু বিজ্ঞাপন, তাও ক্রমশ কমছে। এ ছাড়া সংবাদপত্রের প্রধান কাঁচামাল নিউজপ্রিন্টের ওপর আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট মিলে ল্যান্ডেড কস্ট হিসেবে প্রায় ২৬% পরিশোধ করতে হচ্ছে। সম্ভবত সংবাদপত্রই একমাত্র পণ্য, যার উৎপাদন খরচ পণ্যের বিক্রয় মূল্যের থেকে ৩ গুণ বেশি। বিজ্ঞাপন আয় কমে যাওয়ায় এই ঘাটতি পূরণ করে প্রতিষ্ঠান চালানো অসম্ভব পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। বাঁচতে হলে বেতনবিহীন সাংবাদিক দিয়েই চালাতে হবে। পরিচয়পত্র পেলেই খুশি এমন সাংবাদিক তখন মাঠে কাজ করবে আর মানহানী ঘটবে সাংবাদিক পেশার। যেটা আমি পারিনি বলেই ছেড়ে দিয়ে চলে এসেছি বলে জানান সৈয়দ দুলাল।<br />
বরিশাল জেলা মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক শাহনামা পত্রিকার সম্পাদক ‍আবুল কালাম ‍আজাদ বলেন, ‍এখানের সাংবাদিকতা ‍এখন শুধু কে প্রথম কে দ্বিতীয় ‍এই বিষযের প্রতিযোগীতায় সীমাবদ্ধ। ‍ইতিহাস জ্ঞান অধিকাংশেরই নেই। লিখতে জানেনা অথচ সাংবাদিক দাবিদারের অভাব নেই ‍এই শহরে। সাংবাদিকতা করতে হলে পড়তে হয ‍এটাই ‍এখন ‍এরা মানতে রাজী নয় বলে জানান তিনি।<br />
বরিশালের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অতি পরিচিত নাম অধ্যাপক তপংকর চক্রবর্তী। সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বলেন, বরিশালে সাংবাদিক পেশার প্রতি খুব একটা সমীহ কারো নেই। এখানে জেলায় প্রায় ৪-৫ শত সাংবাদিক আছেন বটে। তবে মুলধারার সাংবাদিক কতজন তা নিয়ে বিতর্ক আছে। ৪০ /৫০টি পত্রিকা এই জেলা থেকে ডিক্লেয়ারেশন রয়েছে। কয়টা নিয়মিত প্রকাশিত হয় প্রশাসনের তা নজরদারি প্রয়োজন। বেশিরভাগ সাংবাদিক এখানে হতদরিদ্র অবস্থায় আছেন। তারা কোনো বেতন ভাতা ছাড়াই কাজ করছেন। হাতেগোনা কয়েকজন ঢাকার গণমাধ্যম থেকে বেতন ভাতা পান। বাকীরা কীভাবে চলেন তা কি সাংবাদিক সংগঠনগুলো খোঁজ নেয় কখনো?<br />
তপংকর চক্রবর্তী ‍আরো বলেন, বরিশাল প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন, রিপোর্টাস ইউনিটি। এভাবে সংগঠন ভুক্ত যারা তারা কিছুটা ভালো থাকলেও অন্যদের অবস্থা এতোটাই শোচনীয় যে নিজেরাই নিজেদের কাউকে ঘরভাড়া বা টাকা ধার দেবেনা। অভাবে স্বভাব নষ্ট, ফলে না হয় ভালো সাংবাদিকতা না হয় ভাগ্যের উন্নয়ন। এই ক্ষেত্রে সরকারের ডিকলারেশন দেয়ার আগে ভাবা উচিত। জেলার সাংবাদিকদের মানসম্পন্ন বেতন নিয়ে রাষ্ট্রকে ভাবতে হবে। সংগঠনগুলো কি এ নিয়ে কিছু করছে? তাহলে সংগঠন এর প্রয়োজন কি?<br />
এ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান প্রায় সব সাংবাদিক নেতা। তবে প্রবীণ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সাংবাদিকদের মতে, বরিশালে বেশিরভাগ সাংবাদিক এখন শুধু কার্ডধারী। টাকা দিয়ে পত্রিকার কার্ড কিনে ছাত্রনেতা, কন্ট্রাক্টর, হোটেল বয়, কেবিন বয় এরাও এখন নিজেকে সাংবাদিক দাবী করে বলে নিজেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতি আনিসুর রহমান স্বপন। ঢাকা থেকে প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য দৈনিকে সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা নিয়ে অসংখ্য সুযোগ হাতছাড়া করে ভালোবাসার টানে বরিশালেই পরে থাকলেন যে মানুষটি, আজ তিনিও ক্ষুব্ধ বরিশালের সংবাদপত্রের প্রতি। তিনি বলেন, ঢাকায় একটি জাতীয় দৈনিকে বিভিন্ন বিট ভিত্তিক সাংবাদিক কাজ করেন। সেখানে জেলা শহরের একজন সাংবাদিক একাই সবধরনের বিট সামলাতে হয়। স্বাভাবিক কারণেই তাদের মর্যাদা আরো বেশি হওয়া উচিত ছিলো। অথচ হয়েছে উল্টোটা। অপসাংবাদিকতার আড়ালে হারিয়ে গেছে সাংবাদিকতা এখানে।<br />
বর্তমানে ঢাকা ট্রিবিউন এ কর্মরত সাংবাদিক আনিসুর রহমান স্বপন এর দৃষ্টিতে সব দোষ বরিশালের স্থানীয় সাংবাদিকদের। তিনি বলেন, নিজেদের দোষেই বরিশালের সাংবাদিকরা আজ মর্যাদাহীন। তারা বেতন বা সম্মানী ছাড়াই কাজ করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে এখানে। হাতেগোনা দুই তিনটি বাদে কোনো পত্রিকায়ই এখানে নিজস্ব কোনো সংবাদদাতা বা সাংবাদিক নেই। তারপরও দুইপাতা বা চারপাতার পত্রিকা তো বের হচ্ছে। অনিয়মিত ভাবে হলেও বেরতো হচ্ছে। কীভাবে বের হচ্ছে? কারা সংবাদ প্রেরণ করছে? স্থানীয় সাংবাদিকদের যদি আত্মসম্মানবোধ থাকতো তাহলে একটি পত্রিকাও তাদের সংবাদ নিয়ে ছাপা হতোনা। সবটাই ঐ কম্পিউটারের লোক দিয়ে নিউজ টেনে নিয়ে প্রকাশ করতে হতো। যা বের হয় তাওতো অত্যন্ত নিম্নমানের পত্রিকা।<br />
আনিসুর রহমান স্বপন আরো বলেন, বরিশালের সাংবাদিকদের তাদের আত্মমর্যাদা রক্ষা করতে হলে সবার আগে পেশাদার হতে হবে। যাই ঘটুক পেশাদারিত্বের জায়গায় কোনো ছাড় দেয়া যাবেনা। বিশেষ করে, সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে এ নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। শুধু ফুল দেয়া আর সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করাটাই সংগঠনের দায়িত্ব নয়। সাংবাদিকতার স্বার্থ রক্ষার জন্য উদ্যোগী হতে হবে। শুধু সংগঠনের সদস্যদের সরকারি অনুদান পাইয়ে দেয়ায় কোনো কৃতিত্ব নেই, সাংবাদিকতার মুল চরিত্রের সব চাহিদা আদায় করে দেয়াটাই সংগঠনের প্রধান কাজ হওয়া উচিত। পত্রিকাগুলো বেতন দিচ্ছে কিনা, ওয়েজবোর্ড নীতিমালার অনুসরণ হচ্ছে কিনা, ডিক্লারেশন নীতি পালিত হচ্ছে কিনা এগুলোর জন্যই প্রেসক্লাব বা অন্যান্য সংগঠনের ভূমিকা হওয়া উচিত। এই জায়গায় তাদের দায়িত্বশীল হতে হবে। প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটি ও সাংবাদিক ইউনিয়নের মর্যাদা বজায় রাখতে হলেও এ কাজগুলো করে দেখানো জরুরী বলে মনে করেন ‍আনিসুর রহমান স্বপন।</p>
<p>বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়ন এর বর্তমান সভাপতি আজাদ আলাউদ্দিন বলেন, বরিশাল সিটিতে সাংবাদিক ইউনিয়ন, প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংস্থায় প্রায় ২০০/২৫০ জন সাংবাদিক কাজ করছেন। এছাড়া অনলাইন ও স্থানীয় পত্রিকায় ৫০/৭০ জন হবে হয়তো। গড়ে এটা ৩৫০ বা ৪০০ এর বেশী নয়। আর দশটি উপজেলায় গড়ে দশজন করে ১০০ জন নিয়ে মোট ৫০০ সাংবাদিক বরিশাল জেলায় কাজ করছেন। বরিশাল জেলায় সর্বমোট ৪৫টা পত্রিকা আছে। অথচ রিপোর্টার আছে বড়োজোর ২৫/৩০ জন। এদের অধিকাংশই নিয়মিত বেতন বা সম্মানী পান না। আমরা আমাদের সংগঠনের সদস্যদের যেভাবে হোক যতটুকু হোক সহায়তা দেয়ার চেষ্টা করি। চলতি বছর ইউনিয়নের বাইরেও কিছু সাংবাদিককে সহায়তা প্রদানের জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলাম। যা এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।<br />
বরিশাল রিপোর্টারস ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ও নয়া দিগন্ত পত্রিকার সাংবাদিক খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, মফস্বলের বেশিরভাগ সাংবাদিক উপার্জনহীন। তাদের নূন্যতম মাসিক উপার্জন নেই বলতে গেলে। তাই আমাদের সাংবাদিকদের জন্য এখন রেশনিং ব্যবস্থা খুব জরুরী প্রয়োজন। ত্রাণ নয় রেশন দিন শ্লোগানে আমাদের আন্দোলনে নামতে হবে হয়তো রাগ ও ক্ষোভের সাথে কথাগুলো বললেন খালিদ সাইফুল্লাহ। তিনি বলেন, তারপরই প্রয়োজন অনলাইন সাংবাদিকতার জন্য নীতিমালা। এখন অবস্থা এমন হয়েছে যে স্মার্টফোন ও ফেসবুক পেজ আছে যার সেই নিজেকে সাংবাদিক দাবী করে হাতে বুম ও ফোন নিয়ে ঘুরছে। এটি অনেক বড়ো সমস্যা। তিনি আরও বলেন, একটি বিভাগীয় শহর এই বরিশাল। গত ৩০ বছরে এ বিভাগীয় শহরের অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন আপনি খুঁজে পাবেন না। নেই কোনো উন্নয়ন কমিটি। নাগরিকদের সংগটিত হওয়ার কোনো সংগঠনও এখানে নেই। নেই কোনো ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন। অথচ সুযোগ আছে। তেমনি সাংবাদিকতা পেশাকে পেশাদারিত্বের জায়গায় দাঁড় করানোর সুযোগও এখানে আছে। সেজন্য যে একতা দরকার তা আমাদের কোথাও নেই। আমরা মফস্বল সাংবাদিকরা আজীবন ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো একটা দল বা গোষ্ঠী। এখনো আমাদের এভাবেই দেখে সবাই। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বড় পত্রিকা ও মিডিয়ার প্রতিনিধি ছাড়া কেউই এখানে সঠিক সম্মান ও সম্মানী পাননা। নতুন নতুন অনলাইন হচ্ছে। সঠিকদের মূল্যায়ন না হওয়ার কারণে সেখানে অযোগ্য লোক এসে ভরে যাচ্ছে। মূলধারার সাংবাদিকতা এখন বিলুপ্ত বলা যায়। <span style="font-weight: 300;">খালিদ সাইফুল্লাহ আরো বলেন, বেতনহীন সাংবাদিকতার কারণে জেলায় হলুদ সাংবাদিকতা ও চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। প্রায়শই এ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অভিযোগ পাচ্ছি। প্রায় অর্ধশত পত্রিকা রয়েছে। এসব পত্রিকা মালিক ও সম্পাদকদের তাদের সাংবাদিকদের তালিকা দিতে হবে। তালিকা ধরে কে কোথায় কি করছে তা জবাবদিহির আওতায় আনা কঠিন হবেনা। তবে এজন্য জেলা প্রশাসনের সহায়তাও প্রয়োজন বলে জানান খালিদ।</span></p>
<p>বরিশালের সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের চাঁদাবাজি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বরিশালের জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা যাদের বস্তুনিষ্ঠ ও বিশ্লেষণধর্মী সংবাদ সমাজকে নানাভাবে সহায়তা করে। একবিংশ শতাব্দীতে এই পেশায় নিয়োজিত মানুষ যেকোনো সংবাদ প্রকাশ করার আগে তথ্যসূত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন এটাই স্বাভাবিক। <span style="font-weight: 300;">সাংবাদিকদেরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনাদের তথ্যবহুল ও পর্যবেক্ষণ নির্ভর সংবাদ সমাজের অসংগতি রোধ করতে ভুমিকা পালন করছে এবং করবে। তাই আপনাদের আরো দায়িত্বশীল ও অপ-সাংবাদিকতা হতে সচেতন থাকতে হবে। এসময় ডিক্লারেশন প্রাপ্ত সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে শর্ত লংঘনের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান বরিশালের জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন।</span></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9c-%e0%a6%b6%e0%a6%a4/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>৩৬৫ দিনে শতাধিক দিবস: হাজার কোটি টাকার অপচয় !</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a7%a9%e0%a7%ac%e0%a7%ab-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%b8-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a7%a9%e0%a7%ac%e0%a7%ab-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%b8-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 12 Oct 2025 05:23:25 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=5809</guid>

					<description><![CDATA[৩৬৫ দিনে শতাধিক দিবস: কোটি টাকার আনুষ্ঠানিকতা!য় নেই কোনো সুফল  বিশেষ প্রতিবেদক  <p>বিশ্ব ডিম দিবস উদযাপন উপলক্ষে পটুয়াখালী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ লাখ টাকার উপরে। ডিমের পুষ্টিগুন প্রচারণা ছিলো এই</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a7%a9%e0%a7%ac%e0%a7%ab-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%b8-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div id="m#msg-a:r-8656808633102049638" class="mail-message expanded">
<div id="m#msg-a:r-8656808633102049638-header" class="mail-message-header spacer"><strong>৩৬৫ দিনে শতাধিক দিবস: কোটি টাকার আনুষ্ঠানিকতা!য় নেই কোনো সুফল </strong></div>
<div id="m#msg-a:r-8656808633102049638-content" class="mail-message-content collapsible zoom-normal mail-show-images ">
<div class="clear">
<div dir="auto">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"><strong>বিশেষ প্রতিবেদক </strong></div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">
<div id="attachment_5810" style="width: 310px" class="wp-caption alignleft"><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/IMG_20251012_111827.png"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-5810" class="size-medium wp-image-5810" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/IMG_20251012_111827-300x197.png" alt="" width="300" height="197" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/IMG_20251012_111827-300x197.png 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/IMG_20251012_111827.png 682w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-5810" class="wp-caption-text">ছবি সংগৃহীত</p></div>
<p>বিশ্ব ডিম দিবস উদযাপন উপলক্ষে পটুয়াখালী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ লাখ টাকার উপরে। ডিমের পুষ্টিগুন প্রচারণা ছিলো এই দিবস উদযাপনের লক্ষ্য। আবার বরিশালের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রবীণ দিবস উদযাপনের ব্যায় আনুমানিক অর্ধ লক্ষ টাকা। যদিও প্রবীণ বলতে উপস্থিত ছিলেন হাতেগোনা কয়েকজন নারী-পুরুষ। যারা সবসময় যেকোনো দিবসেই উপস্থিত থাকেন। এভাবে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো দিবসের উদযাপন সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। যার বেশিরভাগই গুরুত্বহীন এবং অপ্রয়োজনীয় বলে দাবী সচেতন নাগরিক সমাজের। অথচ জেলা প্রশাসনের এসব দিবস উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতায় প্রতিদিন গড়ে সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা খরচ ধরা হলেও বছরে তা গড়ে প্রায় কোটি টাকা। সে হিসেবে শুধু ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসনের খরচ ৬৪ কোটি টাকার উপরে। এই টাকা খরচ করে সাধারণ মানুষের কতটুকু উপকার হচ্ছে বলে প্রশ্ন তোলেন সিনিয়র সিটিজেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেসব দিবস উদযাপন হয়, তার কিছু তাদের নিজস্ব আবার বেশিরভাগ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও বরাদ্দ থাকে। নিজস্ব দিবস উদযাপন কম খরচে হলেও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নের দিবসগুলোতে কমপক্ষে ৪০-৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। অথচ এসব দিবস উদযাপন যাদের জন্য, তাদের সম্পৃক্ততা এতে নেই বললেই চলে বলে জানান সিনিয়র সিটিজেন নেতৃবৃন্দ।</p></div>
<div dir="auto">অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বছরের প্রায় প্রতিদিনই এখন কোনো না কোনো দিবস উদযাপন হচ্ছে। আন্তর্জাতিক, জাতীয় বা স্থানীয়ভাবে প্রতিটি দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে হচ্ছে নানা আয়োজন। এসব দিবস উদযাপনে সরকারি দপ্তর, বিশেষ করে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে ব্যানার, মঞ্চ, র‌্যালি ও সেমিনারে ব্যয় হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। ফলে প্রশ্ন উঠছে— এসব দিবস উদযাপনের প্রকৃত সুফল কতটুকু?</div>
<div dir="auto">বছরজুড়ে মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস, হাত ধোয়া দিবস, দুধ বা দুগ্ধ দিবস, মুখ ধোয়া দিবস, কৃষক দিবস, শ্রমিক দিবস, আমীষ বা নিরামিষ দিবস, মা-বাবা, আত্মীয় ইত্যাদি শতাধিক দিবস পালিত হচ্ছে দেশের সব জেলায়। প্রতিটি দিবস মানেই আলাদা প্রস্তুতি, মঞ্চ সাজানো, ব্যানার-ফেস্টুন, আপ্যায়ন, সভা ও রেলি বা মিছিল।</div>
<div dir="auto">সরকারি হিসাব না থাকলেও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মতে, শুধু এসব আনুষ্ঠানিকতায় সারাদেশে বছরে ব্যয় হচ্ছে কয়েক হাজার কোটি টাকা। এর বেশিরভাগই ব্যয় হয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি, সরঞ্জাম ও আপ্যায়নে। একজন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অনেক সময় দিবসের আয়োজন বাধ্যতামূলক ভাবে করতে হয়। উদ্দেশ্য ভালো, কিন্তু বাস্তবে এটি অনেক সময় আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সাধারণ মানুষের কোনো সম্পৃক্ততা থাকেনা। ফলে এটি টেবিল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ বলে জানান তিনি।</div>
<div dir="auto">আবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিবস উদযাপন সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যকর মাধ্যম হতে পারে, যদি তা প্রকৃত অর্থে জনগণ কেন্দ্রিক হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এসব আয়োজন হয়ে দাঁড়ায় কেবল আনুষ্ঠানিক ছবি তোলা ও বক্তৃতা নির্ভর একটি প্রথা। সমাজবিজ্ঞানী ড. মাহবুব হোসেন মনে করেন, “দিবস উদযাপন মানে শুধুই অনুষ্ঠান নয়, এটি হতে পারে বাস্তব কর্মসূচির সূচনা। কিন্তু এখন এটি অনেক সময় প্রশাসনিক প্রদর্শনীতে পরিণত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।</div>
<div dir="auto">অন্যদিকে সাধারণ সচেতন নাগরিকদের অভিমত, এসব দিবস পালনে প্রশাসনের সময় ও অর্থ খরচ হয় অনেক, কিন্তু তার সুফল সাধারণ মানুষ তেমনভাবে পায় না।</div>
<div dir="auto">বরিশালের সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের কৃষক বেলাল মৃধা বলেন, কৃষক দিবস বা শ্রমিক দিবসের কথা শুনেছি। কিন্তু কি হয় এ দিবসে তা জানিনা। কেউ কোনোদিন আমাদের ডাকেওনি বা আমাদের কাছেও আসেনি।</div>
<div dir="auto">দেশে বছরে দুই শতাধিক দিবস উদযাপিত হয় জানিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা বীরপ্রতীক মহিউদ্দিন মানিক বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা দিবস নামে একটি দিবস রয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও এই দিবস উপলক্ষে লাখ টাকা খরচ করছে। এতে সাধারণ মানুষ বা মুক্তিযোদ্ধাদের কি আদৌ কোন উপকার হয়েছে? বরং ঐ টাকায় অসহায় হতদরিদ্র মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পাশে সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়ানো যেত বলে মনে করেন মহিউদ্দিন মানিক।</div>
<div dir="auto">বরিশালের ষাটোর্ধ সিনিয়র সিটিজেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এর সহসভাপতি কাজী মিজানুর রহমান বলেন, দিবস পালনের পাশাপাশি তার ফলাফল মূল্যায়নও জরুরি। অন্যথায় এটি কেবলই আনুষ্ঠানিক উৎসবে সীমাবদ্ধ থেকে যাবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেসব দিবস উদযাপন হয়েছে, তার কয়েকটিতে উপস্থিত থাকার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, যাদের জন্য এই দিবস তারা কেউই নেই। পুলিশের এসপি বা কমিশনার, দু-চারটি এনজিও প্রতিনিধি আর আমরা নগরীর দু-তিন জন। আবার এসব দিবস নিয়ে সাংবাদিকরা যে নিউজ করেন সেখানে আলোচ্য বিষয়ের কোনো গুরুত্ব নেই। জেলা প্রশাসনের আয়োজনই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আসছে। এটা অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয় বলে জানান কাজী মিজানুর রহমান। ##</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a7%a9%e0%a7%ac%e0%a7%ab-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%b8-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>শিল্পী নাকি ক্ষমতার কেরাণী?</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%80-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%ae%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%80-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%ae%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[সালাম খোকন]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 11 Oct 2025 08:51:40 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=5800</guid>

					<description><![CDATA[<p>শিল্পী নাকি ক্ষমতার কেরাণী? বাংলাদেশের সংস্কৃতির বিপর্যয়ের এক নীরব গল্প &#8211;<br /> সালাম খোকন</p> <p>বাংলাদেশে শিল্পীর পরিচয় এক সময় ছিল মানবতার মুখপাত্র হিসেবে। গান, কবিতা, নাটক ও আবৃত্তি—সবই ছিল মানুষের</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%80-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%ae%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%be/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>শিল্পী নাকি ক্ষমতার কেরাণী? বাংলাদেশের সংস্কৃতির বিপর্যয়ের এক নীরব গল্প &#8211;</strong><br />
<strong>সালাম খোকন</strong></p>
<p><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/FB_IMG_1760172129158.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-5801" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/FB_IMG_1760172129158-264x300.jpg" alt="" width="264" height="300" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/FB_IMG_1760172129158-264x300.jpg 264w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/FB_IMG_1760172129158-902x1024.jpg 902w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/FB_IMG_1760172129158-768x872.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/FB_IMG_1760172129158.jpg 1076w" sizes="auto, (max-width: 264px) 100vw, 264px" /></a>বাংলাদেশে শিল্পীর পরিচয় এক সময় ছিল মানবতার মুখপাত্র হিসেবে। গান, কবিতা, নাটক ও আবৃত্তি—সবই ছিল মানুষের মুক্তি ও সত্য প্রকাশের হাতিয়ার। শিল্পীরা ছিলেন সমাজের বিবেক, নৈতিকতার কণ্ঠস্বর। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই শিল্পী সমাজের একটি অংশ হয়ে উঠেছে ক্ষমতার চাকর-বাকর— তারা আর সত্যের মুখপাত্র নয়, বরং ক্ষমতাবানদের মুখরক্ষা করার যন্ত্র। এই অবস্থাই আজ বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে সবচেয়ে বড় সংকটে ফেলেছে।</p>
<p><strong>শিল্প ও রাজনীতির ঐতিহাসিক সম্পর্ক</strong></p>
<p>বাংলাদেশের জন্মলগ্নে শিল্প ও রাজনীতি ছিল একে অপরের সহযোগী। মুক্তিযুদ্ধের সময় শিল্পীরা গান, নাটক ও কবিতায় মানুষকে মুক্তির স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। তখন শিল্প ছিল আন্দোলনের অগ্রভাগে—এমনকি অনেকে অস্ত্র হাতে যুদ্ধও করেছেন। রাজনীতি তখন ছিল আদর্শনির্ভর, আর শিল্প ছিল সেই আদর্শের প্রচারক।<br />
কিন্তু স্বাধীনতার পর সেই সম্পর্ক আর সমান তালে এগোয়নি। রাজনীতি ধীরে ধীরে দলীয় স্বার্থের কেন্দ্রে গিয়ে দাঁড়ায়, আর শিল্পকলা হয়ে পড়ে সেই ক্ষমতার অলঙ্কার।</p>
<p><strong>ক্ষমতার কেরাণীগিরি: শিল্পের আত্মসমর্পণ</strong></p>
<p>আজকের বাস্তবতায় দেখা যায়, অনেক শিল্পী রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় বাঁচতে শিখেছেন। তারা ক্ষমতার সমালোচনা না করে বরং প্রশংসা করতে শিখেছেন। টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়—সব জায়গায় এক ধরনের “দলীয় সংস্কৃতি” প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে প্রতিভার মূল্যায়ন নয়, বরং আনুগত্যই মূল যোগ্যতা। কেউ মন্ত্রীর গুণকীর্তন করে পদ পান, কেউ টেন্ডার বা অনুদানের আশায় চুপ থাকেন। ফলাফল, শিল্প হয়ে উঠেছে তোষামোদের বাজার, যেখানে সত্য বলা মানে ‘অসুবিধাজনক’, আর চুপ থাকা মানে ‘বুদ্ধিমত্তা’। এভাবেই শিল্পীরা ধীরে ধীরে রূপান্তরিত হয়েছেন ক্ষমতার কেরাণীতে, যাদের কাজ শুধু ক্ষমতাসীনদের মুখ রক্ষা করা।</p>
<p><strong>সংস্কৃতির পচন</strong></p>
<p>যখন শিল্প সত্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তখন তার মৃত্যু শুরু হয়। আজকের বাংলাদেশে সেই মৃত্যু দৃশ্যমান। গান ও নাটকে সমাজের বাস্তবতা অনুপস্থিত, সিনেমায় নেই প্রতিবাদ বা প্রতিরোধের ভাষা, কবিতা হয়ে গেছে আড়ম্বরের সাজসজ্জা, আর আবৃত্তি—যা একদিন ছিল জাগরণের প্রতীক— এখন অনেক ক্ষেত্রেই সরকারি অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা। ফলে শিল্পের যে শক্তি মানুষের মধ্যে প্রশ্ন জাগাত, যে শক্তি অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিত, সেই শক্তি আজ হারিয়ে গেছে।<br />
জনগণের আস্থা ভেঙে পড়েছে, শিল্পীকে আর মানুষ বিশ্বাস করে না— কারণ তিনি আজ রাজনীতির ভাড়াটে মুখপাত্রে পরিণত।</p>
<p><strong>নীরব প্রতিরোধ ও নতুন প্রজন্ম</strong></p>
<p>তবুও এই অন্ধকারের মধ্যে কিছু আলো এখনো জ্বলছে। নতুন প্রজন্মের কিছু শিল্পী আছেন, যারা দলীয় রাজনীতির বাইরে থেকে সত্য, প্রতিবাদ ও মানবতার পক্ষে কথা বলছেন। তারা জানেন, শিল্প মানে কেবল বিনোদন নয়— এটি দায়বদ্ধতা, এটি নৈতিক অবস্থান।<br />
তাদের কাজ হয়তো বড় পরিসরে দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু এই সততার আগুনই একদিন পুরো সংস্কৃতিকে শুদ্ধ করবে। কারণ শিল্পকে বাঁচাতে হলে তাকে দলীয় করালগ্রাস থেকে মুক্ত করতে হবে।</p>
<p><strong>উপসংহার</strong><br />
রাজনীতি ও শিল্প কখনোই একে অপরের শত্রু নয়। কিন্তু যখন রাজনীতি শিল্পকে বন্দি করে ফেলে, তখন সমাজ হারায় তার সৌন্দর্য ও বিবেক।<br />
আজ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক সংকট হলো— শিল্পীরা নিজেদের বিবেক বিক্রি করেছেন ক্ষমতার কাছে। তারা হয়ে গেছেন ক্ষমতার কেরাণী, যারা সত্য বলেন না, বরং সত্যকে ঢেকে রাখেন।<br />
“যে শিল্পী ক্ষমতার প্রশংসায় গান গায়, সে নিজের কণ্ঠ হারায়; আর যে শিল্পী সত্যের পক্ষে দাঁড়ায়, সে জাতির আত্মাকে রক্ষা করে।”<br />
বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বাঁচাতে হলে এখনই দরকার— সৎ, সাহসী ও আদর্শবাদী শিল্পীর উত্থান, যিনি কোনো দলের নয়, মানুষের, সত্যের, ও দেশের শিল্পী।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%80-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%ae%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>১৯৭১-এর যুদ্ধ: হারলো পাকিস্তান, কেন?&#8217;- সৈয়দ জিয়াউল হক</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a7%a7%e0%a7%af%e0%a7%ad%e0%a7%a7-%e0%a6%8f%e0%a6%b0-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%b8/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a7%a7%e0%a7%af%e0%a7%ad%e0%a7%a7-%e0%a6%8f%e0%a6%b0-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%b8/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[অতিথি লেখক]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 06 Oct 2025 10:09:32 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=5792</guid>

					<description><![CDATA[<p>&#8216;১৯৭১-এর যুদ্ধ: হারলো পাকিস্তান, কেন?&#8217; </p> <p></p> <p>(সৈয়দ জিয়াউল হক এর বিশ্লেষণ  হুবহু তুলে ধরা হলো)</p> <p>১৯৭১-এর যুদ্ধ: হারলো পাকিস্তান, কেন?&#8217; &#8211; পিনাকীদার এই ভিডিওটি হয়তো অনেকেই ইতিমধ্যে দেখেছেন। পিনাকীদার</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a7%a7%e0%a7%af%e0%a7%ad%e0%a7%a7-%e0%a6%8f%e0%a6%b0-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%b8/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>&#8216;<strong>১৯৭১-এর যুদ্ধ: হারলো পাকিস্তান, কেন?&#8217; </strong></p>
<p><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/IMG_20251006_160518.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-5793" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/IMG_20251006_160518-300x260.jpg" alt="" width="300" height="260" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/IMG_20251006_160518-300x260.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/IMG_20251006_160518.jpg 489w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a></p>
<p><strong>(সৈয়দ জিয়াউল হক এর বিশ্লেষণ  হুবহু তুলে ধরা হলো)</strong></p>
<p><strong>১৯৭১-এর যুদ্ধ: হারলো পাকিস্তান, কেন?&#8217; &#8211; পিনাকীদার এই ভিডিওটি হয়তো অনেকেই ইতিমধ্যে দেখেছেন। পিনাকীদার প্রায় সব ভিডিওই অনেক আগে থেকে দেখা হয়। কিন্তু এই ভিডিওটি পিওরলি সামরিক ডোমেইনের ভিতরে পড়ে তাই এটি দেখার পর বেশ কিছু চিন্তা সামনে আসে। সেগুলো এখানে শেয়ার করছি:</strong></p>
<p>১। এ কথাতে আমি একমত যে, আমরা সশস্ত্র বাহিনীর অফিসাররা দেশের জন্য অনেকভাবে অবদান রাখার চেষ্টা করছি কিন্তু ভা/র|তী/য় সামরিক বাহিনীর মিথ ভাঙ্গার বিষয়টি ঠিক ঐভাবে সম্পন্ন হচ্ছে না যদিও এ ব্যাপারে কন্টিনিউআস সাইকোলজিকাল-ওয়ারফেয়ার চলমান। এই ভিডিওটির সবচেয়ে বড় সাফল্য এটিই যে, আমার মতো অনেকের সামনে এই মিথ ভাঙ্গার গুরুত্ব বেশ ক্লিয়ারলি পৌঁছে গেছে।</p>
<div id="attachment_5794" style="width: 310px" class="wp-caption alignright"><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/IMG_20251006_160539.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-5794" class="size-medium wp-image-5794" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/IMG_20251006_160539-300x184.jpg" alt="" width="300" height="184" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/IMG_20251006_160539-300x184.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/IMG_20251006_160539-768x470.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/10/IMG_20251006_160539.jpg 985w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-5794" class="wp-caption-text">Oplus_131072</p></div>
<p>এতদিন কেন বিষয়টি সেভাবে আমাদের অনেকের সামনে আসে নি? এর কারণ: আমাদের বিভিন্ন কোর্সে, ষ্টাডি পিরিয়ডে ৭১-এর Battle Study-গুলোর একটি প্রভাব আছে। ৭১ এ Battle Study-গুলোর ক্ষেত্রে আমরা ভা/র|ত/কে রীড করি আমাদের সহযোগী শক্তি। কিন্তু ৭১ এর পর থেকে হয়ে এটি গেছে সবচেয়ে সম্ভাব্য National Threat! এছাড়া Battle Study-গুলো নিউট্রালি করা হয়, এটিও সত্য। Military Strategy শেখার জন্য এই নিউট্রালিটি জরুরীও।</p>
<p>২। নিউট্রালি Battle Study করার মতো একই রকম আরেকটি জরুরী বিষয় হচ্ছে, আমাদের সবচেয়ে সম্ভাব্য National Threat এর ব্যাপারে আমাদের মনে কোন হীনমন্যতা না রাখা, এ ব্যাপারে কোন মিথ চালু না থাকা। ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ারের এ যুগে যেভাবে বিভিন্ন মুভির মাধ্যমে সামরিক বাহিনীগুলোকে শক্তিশালী দেখিয়ে, শত্রু বাহিনীকে মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে দূর্বল করা সম্ভব, একইভাবে ঐতিহাসিক পর্যালোচনার ক্ষেত্রেও ভা/র|তী/য় অপারেশনাল ক্যাপাবিলিটিকে বড় করে দেখিয়ে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীতে হীনমন্যতা তৈরী করা সম্ভব। মুক্তিযুদ্ধের পরই দাসত্বের সেই ৭ দফা চুক্তিতে তো এদেশের আলাদা কোন সামরিক বাহিনীর অস্ত্বিত্বই বাদ দেয়া হয়েছিল!</p>
<p>৩। শত্রু বাহিনীর ব্যাপারে নিজ বাহিনীর মধ্যে মিথ তৈরী হওয়া একটি সমস্যা। কিন্তু এর থেকে আরও অনেক বড় সমস্যা হচ্ছে, আপনার শত্রু রাষ্ট্র আপনার দেশেই একটি প্রক্সি শাসন চালাতে পারলে এবং আপনার মিলিটারি ডকট্রিনকেই তার সুবিধা অনুযায়ী প্রভাবিত করে ফেলতে পারে। এ কারণেই সম্ভবত বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্ভাব্য National Threat কে? কোন দেশ? সেটি বেশ ঘোলাটে, Well defined নেই!</p>
<p>একটি রাষ্ট্রকে যদি এ পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় যে, আপনার সবচেয়ে সম্ভাব্য National Threat-কেই আপনি বন্ধু রাষ্ট্র মনে করেন, তার কাছে ট্রেনিং নেন, তার কাছ থেকে লজিস্টিকস কিনেন, তাহলে যুদ্ধে জেতার জন্য সেই National Threat এর আর কিছু করারই দরকার নেই। সে যুদ্ধের আগেই আগেই যুদ্ধ জিতে গেছে। আমরা সম্ভবত exactly এই অবস্থায় ছিলাম বা এখনো আছি! এর চেয়ে ভয়ংকর বিষয় আর কী হতে পারে &#8211; আমি জানি না।</p>
<p>৪। Battle Study-র মতো শুকনো একটি বিষয়কে পিনাকীদা যেভাবে তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গীতে সাধারণ জনগণের উপযোগী করে রসালোভাবে কাভার করেছেন, তা এক কথায় অসাধারণ।</p>
<p>&#8211; ভিডিওটিতে ট্যাকটিক্যাল, অপারেশনাল ও ষ্ট্রাটেজিক লেভেল প্রতিটি টার্মই ঐতিহাসিক উদাহরণ দিয়ে বুঝানো হয়েছে।</p>
<p>&#8211; ORBAT বা অর্ডার অব ব্যাটেল ঐতিহাসিক উদাহরণ দিয়ে বুঝানো হয়েছে। পরে মুক্তিযুদ্ধে ভা/র|ত ও পাকিস্তানের আর্মি ও এয়ারফোর্সের ORBAT কাভার করা হয়েছে।</p>
<p>&#8211; ফিল্ড মার্শাল ভন মল্টেকে এর ব্যাপারে বিস্তারিত ধারনা দেয়া হয়েছে। তবে আমার মতে, এক ঘন্টার ভিডিও এর জন্য এটি এত জরুরী ছিল না। যদিও বাঙ্গু-সুশীলদের মুখ বন্ধ করার জন্য পিনাকিদা এটি এনেছেন, এটি মাথায় রেখেই এ কথা বলছি। এর চেয়ে ভা/র|ত সহজে জিতে যাবার কারণগুলো আরও বিস্তারিত কাভার করা যেত।</p>
<p>&#8211; এডভান্স টু কন্টাক্ট থেকে শুরু করে ডিফেন্স এর কনসেপ্টও এ ভিডিওতে টাচ করা হয়েছে। অনেকগুলো ছবি দিয়ে কনসেপ্টগুলোকে পরিষ্কার করা হয়েছে।</p>
<p>&#8211; এডভান্স টু কনটাক্টের ক্ষেত্রে এভিনিউ অব এপ্রোচ এবং রোড/রেইল নেটওয়ার্ক এর বিষয়টি বেশ সুন্দরভাবে কাভার হয়েছে। আমার মনে আছে, একবার আমি এক সিনিয়ার অফিসারকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, &#8216;এভিনিউ অব এপ্রোচ কি অনেকটাই রোড / রেল লাইন বেইজড কিনা&#8217;? এর উত্তর খুব পরিষ্কারভাবে পাই নি। বাংলাদেশের মতো দেশের ক্ষেত্রে আসলে এটি অনেকটাই সত্য। যদিও মুরুভূমি বা হার্ড টেরেইনে (শক্ত ভূমির গঠন) বিষয়টি এমন হবে না।</p>
<p>&#8211; ট্যাকটিকস বনাম লজিস্টিকস এর সম্পর্ক আলাপ করতেও তিনি ছাড়েন নি। বিষয়টি সামরিক বাহিনীতে কিছুটা সিনিয়ার অফিসারদের কোর্সে বিস্তারিত কাভার হয়।</p>
<p>&#8211; ব্যাটেল চার্জের ব্যাপারেও তিনি হালকা আলাপ করেছেন।</p>
<p>&#8211; মুক্তিযুদ্ধের সময় জেড ফোর্স, এস ফোর্স, কে ফোর্স এর গঠন নিয়ে বেশ বিস্তারিত কাভার করা হয়েছে। ভা/র|তী/য় বাহিনীর সাথে জয়েন্টনেস এর ক্ষেত্রে যে দূর্বলতা ছিল তাও কাভার করা হয়েছে!</p>
<p>&#8211; মুক্তিযুদ্ধে এয়ার ফোর্সের ব্যবহার এবং গ্রাভিটি বেইজড বোমার বিষয়টি খুব সুন্দরভাবে কাভার করা হয়েছে।</p>
<p>&#8211; এ রকম আরও অনেক কিছুই এক ঘন্টার এক ভিডিওতে কাভার করে ফেলা রীতিমতো অসম্ভবকে সম্ভব করার মতো বিষয়।</p>
<p>৫। পিনাকীদার এ ভিডিও এর ব্যাপারে বিস্তারিত পর্যালোচনায় যাচ্ছি না। ভিডিওটির কোন কোন দিক থেকে পর্যালোচনা করে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গী সামনে আনা সম্ভব। যেমন:</p>
<p>ক। ভিডিওটিতে জেড ফোর্স, এস ফোর্স, কে ফোর্স এর অপারেশনাল ইমপ্যাক্ট এর বিষয় একটু কম কাভার হয়েছে। যদিও ভিডিওটির আলোচনার বিষয় মূলত ছিল ২১ নভেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভা/র|তী/য় বাহিনীর অপারেশনাল এনালাইসিস। হয়তো এ কারণে বিষয়টির বিস্তারিত তিনি এভয়েড করেছেন। কিন্তু এই ৩ ব্রিগেডের অপারেশনগুলো পরবর্তীতে যৌথ বাহিনীর অফেন্সিভে বেশ সহায়তা করেছে।</p>
<p>খ। যুদ্ধের এক পর্যায়ে পাকিস্তানের ৯ম ডিভিশন যশোর ছেড়ে দিয়ে খুলনায় চলে যাওয়া &#8211; এটি হচ্ছে Withdraw বা Tactical Re-deployment. এটি বাধ্য হয়েই করা হয়। একইভাবে মৌলভীবাজারে অবস্থিত পাকিস্তানী ইউনিট ডিফেন্সিভ অবস্থান ছেড়ে দিয়ে সিলেটে Withdraw করার মানে মৌলভীবাজারের ডিফেন্সিভ লোকেশন থেকে উইথড্রো করতে বাধ্য হওয়া।</p>
<p>যুদ্ধে বর্তমান ডিফেন্সিভ পজিশন ধরে রাখা সম্ভব না হলে এটি হাতে নেয়া হয়। তাই পাকিস্তানী বাহিনীর এই পিছনে সরে যাবার মধ্যে যৌথ বাহিনীর একটি কৃতিত্ব আছে। ঘটনাগুলোর এ দিকটি ভিডিওতে আলোচিত হয় নি। হয়তো স্বল্প সময়ে এত কিছু কাভার করার সম্ভবও না।</p>
<p>৬। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনী বিজয় লাভ করার মূল কারণগুলোর আংশিক তালিকা করলে যা দাঁড়ায়: (যেটিকে ভা/র|তী/য় জেনারেল মানেক শ এভাবে উল্লেখ করেছেন যে, They had no chance আর কথাটি সঠিক)</p>
<p>ক। আমাদের জেড ফোর্স, এস ফোর্স, কে-ফোর্স তাদের অপারেশনগুলোর মাধ্যমে পাকিস্তানী বাহিনীকে বেশ নাস্তানাবোধ করে রেখেছিল। ছোট ছোট অপারেশন ফেস করার কারণে দীর্ঘ ৮ মাস ধরে পাকিস্তানী বাহিনী War Fatigue এর মধ্যে ছিল। বেশ কিছু ক্ষেত্রে ক্যাজুয়ালিটিও সাফার করছিল। বলা যায়, ভা/র|তী/য় বাহিনী নিজ জায়গায় নিরাপদে থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে একটি প্রক্সি ওয়ার চালিয়েছে। তাই অফেন্সিভ এর শুরুতে ভা/র|তী/য় বাহিনী ছিল পুরো ফ্রেশ অবস্থায়। এতে ভা/র|তী/য় বাহিনী বেশ সুবিধা পেয়েছে।</p>
<p>খ। এদেশের সাধারণ মানুষ তখন ব্যাপকভাবে পাকিস্তান আর্মির বিরুদ্ধে ছিল। যে কোন ডিফেন্সে পাবলিক সাপোর্ট ছাড়া টিকে থাকা কঠিন। এটি সামরিক বাহিনীর মধ্যে বিশাল এক সাইকোলজিক্যাল এফেক্ট ফেলে। যে অঞ্চলে যুদ্ধ করছি যেখানে শত্রু বাহিনীর অপারেশনকে হ্যান্ডেল করতে তো হবেই, পাশাপাশি এলাকার মানুষও বাপকভাবে শত্রুভাবাপন্ন। উল্টোদিকে, যৌথ বাহিনীর মাথায় উল্টো হিসাব। বাংলাদেশের প্রায় সকলেই তাদের পক্ষে। তাদের মানসিক সাহস (মোরাল) এমনিতেই আকাশসম (স্কাই হাই) থাকার কথা। আর যুদ্ধের ময়দানে মনোবল বা মোরাল এর গুরুত্ব আশা করি সকলেই বুঝেন।</p>
<p>গ। পাকিস্তান আর্মি যখন ৩ দিক থেকে অফেন্সিভ ফেইস করে, সেটি এক ধরনের &#8216;কান্ট্রি ওয়াইড এনসারর্কেলমেন্ট&#8217;ও বটে। যে কোন এক দিক থেকে অফেন্সিভ আসলে নিজের ফোর্স যেভাবে পুনর্বিন্যাস (Reshuffle, Redeployment) করার সুযোগ থাকে, এক্ষেত্রে এর কোন চান্সই ছিল না। এর উপর পাকিস্তানী বাহিনীর কমান্ডারের হাতে তেমন কোন রিজার্ভও ছিল না। এক সেক্টর থেকে অন্য সেক্টরে রিএনফোর্সমেন্ট পাঠানোর তেমন কোন সুযোগ নেই। এটি সিনিয়ার মিলিটারি কমান্ডারদের হাত-পা বেঁধে যুদ্ধে নামিয়ে দেয়ার সামিল। এ কঠিন অবস্থায় পাকিস্তানী মিলিটারির বিজয় লাভ করার আসলে কোন চান্সই ছিল না।</p>
<p>ঘ। জিওগ্রাফিক্যালী পশ্চিম পাকিস্তানের ১৬০০ কিমি দূরত্ব আরেকটি বড় ফ্যাক্টর ছিল। পাকিস্তান আর্মি যদি এই যুদ্ধকে প্রলম্বিত করতে চাইতো, সেটি তাদের জন্য অনেক costly হতো। এত দূর থেকে যুদ্ধের লজিষ্টিক সাপ্লাই তাও মাঝে ভারত, একটি বিশাল সমস্যা ছিল।</p>
<p>ঙ। আরেকটি কারণ সম্ভবত পশ্চিম পাকিস্তান সরকারের পলিটিকাল ডিসিশন। যদি পলিটিকালী ডিসাইসিভ ব্যাটেল ফাইট না করার পরিকল্পণা থাকে, তাহলে রিসোর্স এলটমেণ্টও সেইভাবে হবে। মাত্র ৩টি ডিভিশনকে দিয়ে ইজ্জত রক্ষার্থে ১৫-২০ দিন ভা/র|তী/য় অফেন্সিভ এর সামনে টিকে থেকে এরপর সারেন্ডার করা একটি কনশাস পলিটিকাল ডিসিশন হলে আমি আশ্চর্য হবো না। এটি আমার ধারনা, এক্ষেত্রে বিজ্ঞজনদের মতামত জানতে চাই।</p>
<p>কেন এ ধারনা করছি? সেই ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান বা তার আগে থেকেই বাংলাদেশের মানুষের আলাদা একটি পলিটিকাল এন্টিটি গড়ে উঠছে পাকিস্তানী জেনারেলদের চোখের সামনেই। এরপর ৭০ এর নির্বাচন, ২৫শে মার্চের পর তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের ‘We Revolt’, অন্যান্য অফিসার ও ইউনিটের বিদ্রোহ &#8211; এগুলো থেকে একটি ক্লিয়ার ও ডিসাইসিভ পলিটিকাল ডাইরেকশন বুঝা যাচ্ছিল। আর War is politics by other means। পাকিস্তানি জেনারেলরা এই যুদ্ধকে প্রলম্বিত করলেও সেটি হতো একটি Lost War। এতে শুধু নিজেদের শক্তি ক্ষয় করাই হতো। এ কারণেই হয়তো পশ্চিম পাকিস্তান থেকে নতুন ডিভিশনও তারা পাঠায় নি এবং কোন কোন ডিফেন্সিভ লোকেশন থেকে অল্প ফাইট ব্যাক করেই তারা Withdraw করেছে।</p>
<p>যদি কেউ প্রশ্ন করেন, তাহলে পাকিস্তানী বাহিনী কামালপুরের মতো কোন কোন ডিফেন্সে এত ডাই-হার্ড ফাইট করলো কেন? এর উত্তর হতে পারে: ষ্ট্রেটেজিক ডিসিশন প্রায়ই ফিল্ড লেভেলে জানানো হয় না। উদাহরণ: ডিকয় এট্যাক, যেগুলো করা হয় শুধু শত্রুদের মনযোগ ভিন্ন দিকে ফেরানোর জন্য। যদিও সিনিয়ার কমান্ডাররা আগে থেকেই জানেন যে, এই ফোর্সকে তেমন রিএনফোর্সমেন্ট পাঠানো হবে না, এট্যাক ফেইল্ড হওয়া এবং ক্ষয়-ক্ষতি হওয়া স্বাভাবিক কিন্তু এরপরও এমন ডিসিশন যুদ্ধে নেয়া হয়।</p>
<p>চ। আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে: No Defensive Depth। বাংলাদেশের ডিফেন্সিভ ডেপথ কম থাকায় কয়েক ফেইজে ডিফেন্সিভ ব্যাটেল করা বেশ কঠিন। একটি ডিফেন্সিভ লোকেশন বাইপাস করে যদি শত্রু বাহিনী সামনে এগিয়ে যায়, তাতে ডিফেন্ডারদের জন্য বেশ রিস্ক তৈরী করে। বিশেষত যদি রিজার্ভও না থাকে, পাবলিক সাপোর্টও বিপক্ষে থাকে এবং তিন দিক থেকে অফেন্সিভের মোকাবেলা করতে হয় &#8211; তাহলে তা যে কোন বাহিনীর জন্য হয়ে ওঠে একটি Deadly Combination.</p>
<p>পাকিস্তান মিলিটারি যৌথ বাহিনীর হাতে হেরে যাবার এ রকম আরও কিছু কারণ আছে। আপাতত এই কয়েকটাই লিস্টে থাকুক।</p>
<p>৭। এই ভা/র|তী/য় অফেন্সিভের বিরুদ্ধে ২০/২১ দিন টিকে থাকার জন্য পাকিস্তান আর্মি যে সুবিধাটি পেয়েছে তা হচ্ছে, বাংলাদেশ হল ডিফেন্ডার্স প্যারাডাইজ। এর রোড / রেল নেটওয়ার্ক এবং নদী-নালা ইত্যাদি এমনভাবে আছে যে, বড় বড় রোড / রেল লাইন বাদ দিয়ে যে কোন ফোর্সের জন্য এডভান্স টু কনটাক্ট প্রায় অসম্ভব।</p>
<p>এ কারণেই বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ স্থান ও রোড জাংশনে শক্ত ডিফেন্সিভ পজিশন নিয়ে পাকিস্তান আর্মি যৌথ বাহিনীকে বেশ কিছুদিন আটকে রাখতে পেরেছিল।</p>
<p>৮। সব মিলিয়ে, একজন ডাক্তার হবার পরও মাত্র এক ঘণ্টার ভিডিওতে পিনাকীদা যে লেভেল পর্যন্ত কাভার করেছেন তা বিস্ময়কর। তিনি শুধু এ কারণেই ধন্যবাদ পাবার যোগ্য।</p>
<p>কিন্তু পিনাকীদার এই ভিডিও (এবং এই সংক্রান্ত আরও ২/১টি ভিডিও) এর সবচেয়ে বড় যে অর্জন তা হলো, ৭১ এর বানোয়াট বিভিন্ন গল্প এবং ভা/র|তী/য় সামরিক বাহিনীর মিথ ভাঙ্গার আহবান তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন। এ সকল বানোয়াট গল্পের কারণে যেন মুক্তিযোদ্ধাদের সত্যিকার সংগ্রামের মাহাত্ম কমে না যায় &#8211; এ জন্য এই সত্য উদঘাটন জরুরী।</p>
<p>এ সংক্রান্ত আরেকটি ভিডিও দেখার পর দুই/একজন অফিসার আমাকে এটি বলেছেনও যে, পিনাকীদার ঐ ভিডিও দেখার পর তিনি ৭১ সংক্রান্ত একটি মিথ নিয়ে মিলিটারি পার্সপেক্টিভ থেকে বিস্তারিত লিখেছেন!</p>
<p>এ ভিডিও দেখার পর আমার নিজের টাস্ক লিস্টে একটি কাজ যোগ করেছি, তা হলো, ভা/র|তী/য় সামরিক বাহিনীর ব্যাপারে এদেশে যে মিথগুলো expose করা। আশা করবো, আমাদের অন্যান্য কলিগরাও এ বিষয়টির দিকে যথাযথ নজর দিবেন। বাহিনীগুলোর পাশাপাশি সাধারণ জনগণের মধ্যেও যেন ভা/র|তী/য় বাহিনীর ব্যাপারে কোন মিথ প্রচলিত না থাকে, এর দূর্বলতাগুলো যেন এদেশের আপামত জনগণ জানেন, সে চেষ্টা আমাদের করা উচিত। এদেশের স্বাধীনতা ধরে রাখা এবং যে কোন আগ্রাসনের মোকাবেলার জন্য এটি জরুরী।</p>
<p>১০। ফাইনালি বলবো, কিছু কিছু মানুষ একই চিন্তার মধ্যে নতুন কিছু খোরাক জোগাড় করেন, নতুন এনালাইসিস বা তথ্য এনে দেখান, তারা অবশ্যই ধন্যবাদ পাবার যোগ্য। কিছু কিছু মানুষ চিন্তার নতুন নতুন ডাইমেনশন বা দিক উন্মোচন করেন, তারা আরও বেশী ধন্যবাদ পাবার যোগ্য। পিনাকীদা দ্বিতীয় ক্যাটাগরির।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a7%a7%e0%a7%af%e0%a7%ad%e0%a7%a7-%e0%a6%8f%e0%a6%b0-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%b8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
