দেশের রাজনীতিতে অশনি সংকেত…

অতিথি লেখক

Sharing is caring!

দেশের রাজনীতিতে অশনি সংকেত! প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ, কূটনৈতিক পাড়ায়ও আলোচনা

নাসিম আনোয়ার,  (অতিথি লেখক) 

রাজধানী ঢাকার গুলশান এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি দলের পরিচয় ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত নানা ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলের ছায়াতলে যদি অসাধু ব্যক্তিরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের সুযোগ পায়, তাহলে তার নেতিবাচক প্রভাব শেষ পর্যন্ত দলের ভাবমূর্তির ওপরই পড়ে। বিভিন্ন আলোচিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে একাধিক সূত্রের দাবি।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক, মব সহিংসতা, দখলদারিত্ব এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়মিতই সামনে আসছে। এসব অভিযোগের অনেকগুলোই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তাধীন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এসব ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া না হলে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, সংখ্যালঘু নির্যাতন, ভূমি দখল এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে মামলা, গ্রেপ্তার ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনাও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলও বিভিন্ন অভিযোগে কয়েকজন নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করেছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমানের সঙ্গে তোলা ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে নিজেদের প্রভাবশালী বা ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। ‘Annama Fahim’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এ ধরনের ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও কূটনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কোনো রাজনৈতিক নেতা বা সরকারপ্রধানের সঙ্গে তোলা ছবি ব্যক্তিগত পরিচয়ের প্রমাণ হতে পারে, কিন্তু সেটিকে ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার বা ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করা হলে তা সরকার ও দলের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে বিভ্রান্তি কমবে এবং জনআস্থাও বাড়বে।
সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আলোচিত কয়েকটি সহিংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদারের দাবি উঠেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকারপ্রধান যদি দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অব্যাহত রাখেন, তাহলে জনমনে ইতিবাচক বার্তা যাবে এবং রাজনৈতিক পরিবেশও আরও স্থিতিশীল হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Sharing is caring!