আদালতের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে আদালতের কর্মচারীর ঘর নির্মাণ: নিরব পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাহিত্য বাজার

Sharing is caring!

আদালতের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে আদালতের কর্মচারীর ঘর নির্মাণ: নিরব পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বরিশাল নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের রুইয়ার পুল এলাকায় বিচারাধীন বাটোয়ারা মামলায় স্থিতিবস্থার মধ্যে রুহুল আমিন রিপন নামের এক ব্যক্তি আদালতের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে রাতের আধারে ঘর উত্তোলন করছেন। রিপন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আদালতের কর্মচারী হওয়ায় নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পরিচয় দিয়ে এ কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আর এ কাজে তাকে সহায়তা করছেন হ্যানিট্রাপের সদস্য রাখি। এছাড়া্ রিপনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে আদালতের নাম ভাঙ্গিয়ে যে সকল জায়গায় বিরোধপূর্ণ জমি রয়েছে সেখানে গিয়ে জোরপূর্বক জমি দখল করার। এ কারনে এলাকাবাসীও তার সাথে কোন সম্পর্ক রাখেন না। আর সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করার অভিযোগ সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের প্রতি। 

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পৈত্রিক সূত্রে ৬৭ শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমির ভাগিদার হচ্ছে বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমান খানের ৭ ছেলে। তার কোন মেয়ে নেই। জমি ভাগবাটোয়ারা হওয়ার পূর্বেই মৃত ভাই আলামিনকে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করা রাখি ওই রিপনকে সাথে নিয়ে এ সন্ত্র্রাসী কর্মকান্ড চালাচ্ছে। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে চলমান মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া এবং অংশীদারদের চূড়ান্ত হিস্যা নির্ধারণের আগেই রাখি আদালতের পিয়ন রিপনের মাধ্যমে জমি দখলে নিতে মরিয়া। তাকে যে স্থান থেকে জমি দেয়া হয়েছে সেখান থেকে না নিয়ে অন্য ভাইদের জমি দখলে করে বাউন্ডারী ওয়াল দেয়ার পর এখন ঘর উত্তোলন করছেন।

পরিবারের সদস্য আলী আজম খান বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখলে থাকলেও বর্তমানে নানামুখী চাপের মধ্যে রয়েছেন। তার ভাষ্য, “আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও লোকবল কম। সেই সুযোগে আদালতের পিয়ন রিপন আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও নির্মাণ কাজ চলতে দেখে আমরা উদ্বিগ্ন। পুলিশের সহযোগিতা চেয়েও পাইনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। 

তিনি আরো বলেন, সম্পত্তি তার বাবা প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমান খানের পরিবারভুক্ত। উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে আদালতে বাটোয়ারা মামলা চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় মৃত অংশীদার আলামিনের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবিদ্বার রাখির কাছ থেকে জমি ক্রয় করেছেন বলে দাবি করেন আদালতের কর্মচারী রুহুল আমিন রিপন। তবে অন্য অংশীদারদের অভিযোগ, জমির চূড়ান্ত বণ্টনের আগেই এ ধরনের ক্রয়-বিক্রয় এবং পরবর্তী নির্মাণ কার্যক্রম আইনি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

আজম বলেন, বাড়িতে কেউ না থাকাবস্থায় আকস্মিক সন্ত্র্রাসী বাহিনী নিয়ে সম্প্রতি রিপন ও রাখি তাদের ইচ্ছামত প্রায় ৬ শতাংশ  জমি দেয়াল দিয়ে আটকে রেখেছে। ওেই সময় বাধা দেয়া হলেও রিপনের সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে অসহায় ছিল আমার ছোট ভাই। এরপর আদালতের শরনাপন্ন হলে উভয় পক্ষকে আদালত থেকে  স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা  করে ১৬ ও ১৭ জুন রাতের আধারে ঘর তোলার চেষ্টা করে। ওই সময় তাকে বার নিষেধ করা সত্ত্বেও নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে একাধিক মামলায় জড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। ইতিমধ্যে রিপন তাদের  বিরুদ্ধে ৩টি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। মিথ্যা মামলার এবং সন্ত্রাসীদের হামলার ভয়ে তারা এক প্রকার কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন। আর এ সুযোগ  নিচ্ছে আদালতের কর্মচারী রিপন। তাকে মদদ দিচ্ছে বরিশাল  নগরীর হ্যানিট্রাফের সদস্য রাখি।

এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা উভয়পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার বসেছি এবং সমঝোতার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। তবে আদালত কোনো প্রতিবেদন চাইলে আমরা তা দিতে প্রস্তুত রয়েছি।” ওসি আরো বলেন, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ঘর উত্তোলন করার বিষয়টি তিনি অবহিত। আদালত প্রতিবেদন চাইলে রিপনের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্য করার বিষয়টি তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।

রুহুল আমিন রিপন দাবি করেন, তিনি বৈধভাবে জমি কিনেছেন এবং কাউকে হয়রানি করার প্রশ্নই ওঠে না। জমি ভাগবাটোয়ারা হয়নি তাহলে কিভাবে জমি কিনলেন।  এ  প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের ওয়ারিশ এক বিধবাকে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।  এ কারনে বিধবা রাখির কাছ থেকে জমি ক্রয় করে দেয়াল দিয়েছেন। মামলার নিষ্পত্তির পর তিনি যে অংশ পাবেন, সেটিই তার জমি হবে। আইন মেনেই আমি এগোচ্ছি। কার জমিতে দেয়াল দিয়েছেন। এ  প্রশ্নের উত্তর দেননি তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক এলাকাবাসী বলেন, রহুল আমিন রিপন  আদালতের একজন কর্মচারী। এছাড়াও এলাকায় তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। ৬০ লাখ টাকা দিয়ে তিনি এই জমি কিনেছেন দাবী করেন। তার এতো টাকার উৎস নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন অনেকে। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ তদন্ত দাবী করেন এলাকাবাসী।

Print Friendly, PDF & Email

Sharing is caring!