Sharing is caring!
সারাদেশে বাড়ছে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন : জাতীয় সরকার চায় সাধারণ মানুষ
(গণভোটে হাঃ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার)
বিশেষ প্রতিবেদক
বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের একজন বিএনপি কর্মী জানালেন, তাদের এলাকা শুধু নয় আশেপাশের গ্রামেও সাধারণ মানুষের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামি দলের প্রতি সমর্থন বা সহানুভূতি বেশি লক্ষ্য করা গেছে। তবে প্রকাশ্যে এখানে বিএনপির সমর্থক সবাই। ভোটের দিন বোঝা যাবে প্রকৃত অবস্থা।প্রায় কাছাকাছি বক্তব্য পাওয়া গেছে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার দাস পাড়া থেকেও। এখানে সাংবাদিক দেবদাস মজুমদার, সুমন বেপারীসহ কয়েকজন জানালেন, পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন নেই। আগের তুলনায় সবকিছুতে নৈরাজ্য বেড়েছে। ইন্টেরিম প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ এটা পরিষ্কার। এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ সিলিন্ডার গ্যাস নিয়ে। তারউপর চালের দামও বেড়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর এসব নিয়ে কোনো বক্তব্য বা সহানুভূতি নেই।সাধারণ মানুষের মধ্যে এগুলোর প্রভাব পরছে। এমনকি হিন্দু জনগোষ্ঠীর মধ্যেও আওয়ামী লীগ, বিএনপির বাইরে নতুন কিছু দেখার প্রত্যাশা রয়েছে। যদিও ভয়ে কেউ সরাসরি কিছু বলছে না।
এদিকে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি, চরাদি, দাড়িয়াল, দুধল বা গোমা ইউনিয়ন ঘুরে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে, এবারের নির্বাচনে ইসলামি জোটের প্রতি আস্থা খুঁজছেন তারা। দুধল মাদ্রাসা সংলগ্ন ব্যবসায়ী মাহবুব, মহিবুল বেগ, সাইফুল ইসলাম বেগসহ একাধিক গ্রামবাসী বললেন, তারা এবার ইসলামের শাসনব্যবস্থা দেখতে চান।
তবে ব্যতিক্রম বরিশাল সদর উপজেলা। এখানে এখন পর্যন্ত সরাসরি ইসলামের পক্ষে কোনো কথা নেই। কেউ কেউ ইসলামি দলের ভিতর স্ববিরোধী আচরণের উদাহরণ দিয়ে চরমোনাই বা ইসলামি আন্দোলন প্রার্থীর দোষ খুঁজে বেড়াচ্ছেন। বিশেষ করে রায়পাশা-কড়াপুর ও সদরের কাশীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা বলছেন, ইসলামের নাম নিয়ে এরা নিজেরাই সঠিক ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত নেই। কোরাআন হাদিসের অনুসরণে রাষ্ট্র গঠনের সরাসরি ঘোষণা যে দেবে আমরা তাদের চাই। তা-না হলে বিএনপির দূর্গ এই বরিশাল, বিএনপির হাতেই থাকবে পুনরায়।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে চাইলে, এভাবেই কিছু কিছু সাহসী মানুষ তাদের মতামত তুলে ধরেন। তবে বেশিরভাগ মানুষ যেন এ নিয়ে কথা বলতে এখনো ভীত ও আতঙ্কিত। তারা বলেন, আমরা রাজনীতি বুঝিনা, পেটের ক্ষুধার জন্য কাজ করি, ভোট দিতে পারলে দিমু, গ্যাঞ্জাম দেখলে ধারেকাছেও যামুনা।
শুধু বরিশাল নয়, বাংলাদেশের প্রায় সব জেলায় তথা সারাদেশেই একইচিত্র। পরিবর্তনের অপেক্ষায় বেশিরভাগ মানুষ এখন পর্যন্ত নিরবে দেখছেন ও শুনছেন সবকিছু। তবে মুখে কুলুপ এঁটেছেন যেন সবাই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, পরিবর্তন একটা যে হবে, তা সাধারণ মানুষের আচার-আচরণে স্পষ্ট। এই জনমানুষের ভাষা যে দল বুঝতে পারবেন তারাই হবেন আগামীর বাংলাদেশ। তিনি সবাইকে গণভোটের পক্ষে হাঃ ভোট প্রদানের আহ্বান জানান। বলেন, এই হাঃ ভোটেই দাঁড়িয়ে আছে পরিবর্তনের রূপরেখা।
সম্প্রতী বিএনপির অভ্যন্তরীণ জরিপ এবং কয়েকটি পত্রিকা ঢালাওভাবে জনমত জরিপ চালিয়ে যে তথ্য নিশ্চিত করেছে তার সাথে সরেজমিন অনুসন্ধানী তথ্যের বিস্তর ফারাক। জনপ্রিয় সাংবাদিক ও এক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য, কনক সরোয়ার এবং ইলিয়াস হোসাইন বলেছেন, যারা ৭০% জনমত বিএনপির পক্ষে বলছেন, তারা মূলত বিএনপিকে খুশি করতে মরিয়া। প্রকৃত সত্য গোপন করে বিএনপিকেও আওয়ামী লীগের মতই স্বৈরাচার হতে উৎসাহ দিচ্ছে। প্রকৃত সত্যতো স্বীকার করেন সয়ং বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান নিজেও। যে কারণে তিনি বারবার বলে আসছেন, এই নির্বাচন সহজ হবেনা। আমাদের জনগণের ভাষা বুঝতে হবে।
কিন্তু বিএনপির ভিতরে লুকানো ভারতীয় চরেরা এতোটাই শক্তিশালী যে তাদের কাছে বারবার হেরে যাচ্ছেন তারেক রহমান নিজেও। এমন পরিস্থিতিতে কনক সরোয়ারতো এখনো জাতীয় সরকার গঠনের জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যানকে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমানের বক্তব্য এবং তারেক রহমান এর বক্তব্যে যথেষ্ট মিল ও পরষ্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছেন পিনাকী ভট্টাচার্য ও ইলিয়াস হোসাইন। তারা বলছেন, নির্বাচনে জয় লাভের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে। তবে দিনশেষে সব রাজনৈতিক দলকে সংগে নিয়ে ঐক্যমত্যের বা জাতীয় সরকার গড়বেন বিজয়ী দল। আর এটাই চায় বাংলাদেশের ৭০ ভাগের বেশি মানুষ। ময়মনসিংহ থেকে সাংবাদিক ও সংগঠক কবি স্বাধীন চৌধুরী, রাজশাহী থেকে নাট্যকার সংগঠক কামারউল্লাহ কামার, বগুড়া থেকে নাট্যসংগঠক ও অভিনেতা রুবল লোদী জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত তাদের আশেপাশের মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে একধরনের শংকা কাজ করছে। মন খুলে রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে নারাজ বেশিরভাগ মানুষ। তবে জাতীয় সরকার গঠনের কোনো আলোচনায় গভীর মনোযোগ প্রায় সকলেরই। সুমন বেপারী জানান, অবস্থা যা তাতে মঠবাড়িয়ায় জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাবনা বাড়ছে।
সরেজমিনে বরিশালের ছয় জেলার ২১টি আসনের বেশিরভাগ সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা গেছে একই চাওয়া। তাদের সকলের প্রত্যাশা ডাঃ শফিকুর রহমান ও তারেক রহমান যৌথভাবে ভারতীয় সব ষড়যন্ত্র থেকে এই দেশটাকে বাঁচাবেন এবং একটি সুন্দর শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশ উপহার দেবেন।
Sharing is caring!







