সারাদেশে আগুন আতঙ্ক: নাশকতার গভীর ষড়যন্ত্র

আরিফ আহমেদ

Sharing is caring!

সারাদেশে আগুন আতঙ্ক: নাশকতার গভীর ষড়যন্ত্র

বিশেষ প্রতিবেদক

Oplus_131072

মীরপুরে গার্মেন্টস, চট্টগ্রাম ইপিজেড, শাহজালাল বিমানবন্দরের পরপরই কক্সবাজার বিশ্ববিদ্যালয় ভবনে আগুন। সর্বশেষ ১৯ অক্টোবর সকালে ইসলামপুরে এবং ঢাকার সদরঘাটে লঞ্চে আগুনের গুঞ্জন। এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং নাশকতার গভীর ষড়যন্ত্র বলে দাবী ছাত্র জনতা ও আলেম সমাজের। ইতিপূর্বেই এই নাশকতার আশংকা করে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন Elias Hossain dr.kanak sarwar -ড.কনক সরওয়ার Pinaki Bhattacharya – পিনাকী ভট্টাচার্য ওপেন দ্য আইস এর মাসুম মাহবুব ও ফেস দ্য পিপলস এর সাইফুর রহমান সাগরসহ দেশপ্রেমিক সাংবাদিক ও কলামিস্টরা সরকারকে বারবার সতর্ক করার চেষ্টা করেছেন। তারা বহুবার বলেছেন, অসংখ্য ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে প্রবেশ করছে। এ নিয়ে প্রমাণও উপস্থাপন করেছেন তারা। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেন কানে তুলো দিয়েছেন। যারফলে গত একসপ্তাহ ধরে আগুনে পুড়ছে বাংলাদেশ। ঢাকাসহ ও দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ ও প্রশ্নের ঝড় উঠেছে। এসব কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত নাশকতার অংশ?

সর্বশেষ ১৯ অক্টোবর রবিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার সদরঘাট টার্মিনালে নোঙর করা যাত্রীবাহী লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বলে সোস্যালমিডিয়ায় প্রচারণা চালানো হচ্ছে । যদিও এটি গুজব চিলো। গত ২০২৩ সালে এমভি ময়ূর লঞ্চে এই আগুন লেগেছিল এবং ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট অথবা গ্যাসের চুলার লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তারা নাশকতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না; বিষয়টি তদন্তে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই আগুনের তদন্ত প্রতিবেদন আজ পর্যন্ত জনসম্মুখে আসেনি।
এদিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে স্পষ্ট নাশকতা বলে দাবী করেছেন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ছাত্র জনতা ও আলেম সমাজ। তাদের দাবী গত সপ্তাহ থেকে একের পর এক অগ্নিকাণ্ড, কোনো স্বাভাবিক দূর্ঘটনা হতে পারেনা। এটা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে কারো গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। আবার বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দাবী নির্বাচন পিছিয়ে দিতেই এ জাতীয় নাশকতা হচ্ছে। আমাদের সচেতন হতে হবে এবং দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সয়ং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দেশে অগ্নিকাণ্ডের সাম্প্রতিক ঘটনা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত সপ্তাহে মিরপুরের একটি কেমিক্যাল গুদামে ভয়াবহ আগুনে অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছে। চট্টগ্রাম ইপিজেড এলাকায় একটি রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালে আগুনে কয়েক ঘণ্টা বিমান চলাচল বন্ধ থাকে, যা দেশের রপ্তানি খাতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। একইদিন রাতে কক্সবাজার বিশ্ববিদ্যালয় ভবনে আগুন একঘন্টার মধ্যে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। আবার ইসলামপুরে শাখা ইসলামি ব্যাংকে আগুন লাগার ঘটনা শোনা যাচ্ছে। এসব ঘটনার ঘনঘনতা ও বিস্তৃতি সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করলেও বিশেষজ্ঞদের মনে প্রশ্নের উদ্রেক ঘটিয়েছে। এগুলো কি কেবলই নিরাপত্তাহীনতা, নাকি কোনো গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ?
আমরা যদি সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনসহ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট দেশপ্রেমিক সাংবাদিকদের ভিডিও ও লেখাগুলো বিশ্লেষণ করি তাহলে এটা গভীর ষড়যন্ত্রের প্রাথমিক অংশ। কারণ পিনাকী ভট্টাচার্য ইতিমধ্যেই সরকারকে সচেতন হতে বলে লিখেছেন – “আরো ভয়াবহ নাশকতার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ” তার এই বক্তব্যের সুত্র ধরে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ বলেছেন,
“একই সময়ে দেশের অর্থনৈতিক ও পরিবহন অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অগ্নিকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি, নিশ্চিতভাবেই কাকতালীয় নয়।” তাদের ধারণা, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগীরা এখানে সরকারের ভিতরে থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে অর্থনীতি ও সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টের উদ্দেশ্যে এই নাশকতা চালাতে পারে।
অন্যদিকে, শিল্পখাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল, বৈদ্যুতিক তার ও কেমিক্যাল গুদামের অনিয়মই এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ হতে পারে। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সিআইডি যৌথভাবে ঘটনাগুলোর উৎস অনুসন্ধানে নেমেছে।
বিমানবন্দরসহ কয়েকটি ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ ও ফরেনসিক প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে বিগত সময়ের অভিজ্ঞতা বলছে, আমাদের দেশের কোনো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনারই তদন্ত প্রতিবেদন শেষ পর্যন্ত জনসম্মুখে আসেনা। জুলাই বিপ্লবের পরপরই সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সম্পর্কে আজ পর্যন্ত পরিষ্কার কিছুই জানা যায়নি। কেউ দোষী সাব্যস্ত হয়েছে বলেও শোনা যায়নি। এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম আশা করেন না সাধারণ মানুষ।
তবে এই ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ডে রপ্তানি খাত, পর্যটন, ও নগরবাসীর নিরাপত্তাবোধ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, “এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে, যদি দ্রুত কারণ উদ্ঘাটন না হয়।” সরকার ইতিমধ্যে অগ্নিকাণ্ড তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে এবং আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য পুনর্বাসন পরিকল্পনা প্রণয়নের আশ্বাস দিয়েছেন।
যদিও এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো: প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডের ফরেনসিক রিপোর্ট প্রকাশ করা, শিল্প ও পরিবহন খাতে অগ্নি-নিরাপত্তা নিরীক্ষা চালানো, গুজব ও আতঙ্ক ছড়ানো থেকে বিরত থাকা, দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
সবশেষে বলবো, অগ্নিকাণ্ডের এই অস্বাভাবিক ধারাবাহিকতা আমাদের সবাইকে সতর্ক করছে। কারণ যাইহোক, দুর্ঘটনা বা নাশকতার প্রতিটি ঘটনায় নির্ভরযোগ্য তদন্ত, জবাবদিহিতা ও জননিরাপত্তার নিশ্চয়তা এখন সময়ের দাবি।

Print Friendly, PDF & Email

Sharing is caring!

About the author

ডিসেম্বর ৭১! কৃত্তনখোলার জলে সাঁতার কেটে বেড়ে ওঠা জীবন। ইছামতির তীরঘেষা ভালবাসা ছুঁয়ে যায় গঙ্গার আহ্বানে। সেই টানে কলকাতার বিরাটিতে তিনটি বছর। এদিকে পিতা প্রয়াত আলাউদ্দিন আহমেদ-এর উৎকণ্ঠা আর মা জিন্নাত আরা বেগম-এর চোখের জল, গঙ্গার সম্মোহনী কাটিয়ে তাই ফিরে আসা ঘরে। কিন্তু কৈশরী প্রেম আবার তাড়া করে, তের বছর বয়সে তের বার হারিয়ে যাওয়ার রেকর্ডে যেন বিদ্রোহী কবি নজরুলের অনুসরণ। জীবনানন্দ আর সুকান্তে প্রভাবিত যৌবন আটকে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পদার্পন মাত্রই। এখানে আধুনিক হবার চেষ্টায় বড় তারাতারি বদলে যায় জীবন। প্রতিবাদে দেবী আর নিগার নামের দুটি কাব্য সংকলন প্রশ্ন তোলে বিবেকবানের মনে। তার কবিতায়, উচ্চারণ শুদ্ধতা আর কবিত্বের আধুনিকায়নের দাবী তুলে তুলে নেন দীক্ষার ভার প্রয়াত নরেণ বিশ্বাস স্যার। স্যারের পরামর্শে প্রথম আলাপ কবি আসাদ চৌধুরী, মুহাম্মদ নুরুল হুদা এবং তৎকালিন ভাষাতত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজীব হুমায়ুন ডেকে পাঠান তাকে। অভিনেতা রাজনীতিবিদ আসাদুজ্জামান নূর, সাংকৃতজন আলী যাকের আর সারা যাকের-এর উৎসাহ উদ্দিপনায় শুরু হয় নতুন পথ চলা। ঢাকা সুবচন, থিয়েটার ইউনিট হয়ে মাযহারুল হক পিন্টুর সাথে নাট্যাভিনয় ইউনিভার্সেল থিয়েটারে। শংকর শাওজাল হাত ধরে শিখান মঞ্চনাটবের রিপোটিংটা। তারই সূত্র ধরে তৈরি হয় দৈনিক ভোরের কাগজের প্রথম মঞ্চপাতা। একইসমেয় দর্শন চাষা সরদার ফজলুল করিম- হাত ধরে নিযে চলেন জীবনদত্তের পাঠশালায়। বলেন- মানুষ হও দাদু ভাই, প্রকৃত মানুষ। সরদার ফজলুল করিমের এ উক্তি ছুঁয়ে যায় হৃদয়। সত্যিকারের মানুষ হবার চেষ্টায় তাই জাতীয় দৈনিক রুপালী, বাংলার বাণী, জনকণ্ঠ, ইত্তেফাক, মুক্তকণ্ঠের প্রদায়ক হয়ে এবং অবশেষে ভোরেরকাগজের প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়ান ৬৫টি জেলায়। ছুটে বেড়ান গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। ২০০২ সালে প্রথম চ্যানেল আই-্র সংবাদ বিভাগে স্থির হন বটে, তবে অস্থির চিত্ত এরপর ঘনবদল বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, আমাদের সময়, মানবজমিন ও দৈনিক যায়যায়দিন হয়ে এখন আবার বেকার। প্রথম আলো ও চ্যানেল আই আর অভিনেত্রী, নির্দেশক সারা যাকের এর প্রশ্রয়ে ও স্নেহ ছায়ায় আজও বিচরণ তার। একইসাথে চলছে সাহিত্য বাজার নামের পত্রিকা সম্পাদনার কাজ।