৩৬৫ দিনে শতাধিক দিবস: হাজার কোটি টাকার অপচয় !

আরিফ আহমেদ

Sharing is caring!

৩৬৫ দিনে শতাধিক দিবস: কোটি টাকার আনুষ্ঠানিকতা!য় নেই কোনো সুফল 
বিশেষ প্রতিবেদক 

ছবি সংগৃহীত

বিশ্ব ডিম দিবস উদযাপন উপলক্ষে পটুয়াখালী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ লাখ টাকার উপরে। ডিমের পুষ্টিগুন প্রচারণা ছিলো এই দিবস উদযাপনের লক্ষ্য। আবার বরিশালের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রবীণ দিবস উদযাপনের ব্যায় আনুমানিক অর্ধ লক্ষ টাকা। যদিও প্রবীণ বলতে উপস্থিত ছিলেন হাতেগোনা কয়েকজন নারী-পুরুষ। যারা সবসময় যেকোনো দিবসেই উপস্থিত থাকেন। এভাবে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো দিবসের উদযাপন সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। যার বেশিরভাগই গুরুত্বহীন এবং অপ্রয়োজনীয় বলে দাবী সচেতন নাগরিক সমাজের। অথচ জেলা প্রশাসনের এসব দিবস উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতায় প্রতিদিন গড়ে সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা খরচ ধরা হলেও বছরে তা গড়ে প্রায় কোটি টাকা। সে হিসেবে শুধু ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসনের খরচ ৬৪ কোটি টাকার উপরে। এই টাকা খরচ করে সাধারণ মানুষের কতটুকু উপকার হচ্ছে বলে প্রশ্ন তোলেন সিনিয়র সিটিজেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেসব দিবস উদযাপন হয়, তার কিছু তাদের নিজস্ব আবার বেশিরভাগ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও বরাদ্দ থাকে। নিজস্ব দিবস উদযাপন কম খরচে হলেও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নের দিবসগুলোতে কমপক্ষে ৪০-৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। অথচ এসব দিবস উদযাপন যাদের জন্য, তাদের সম্পৃক্ততা এতে নেই বললেই চলে বলে জানান সিনিয়র সিটিজেন নেতৃবৃন্দ।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বছরের প্রায় প্রতিদিনই এখন কোনো না কোনো দিবস উদযাপন হচ্ছে। আন্তর্জাতিক, জাতীয় বা স্থানীয়ভাবে প্রতিটি দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে হচ্ছে নানা আয়োজন। এসব দিবস উদযাপনে সরকারি দপ্তর, বিশেষ করে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে ব্যানার, মঞ্চ, র‌্যালি ও সেমিনারে ব্যয় হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। ফলে প্রশ্ন উঠছে— এসব দিবস উদযাপনের প্রকৃত সুফল কতটুকু?
বছরজুড়ে মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস, হাত ধোয়া দিবস, দুধ বা দুগ্ধ দিবস, মুখ ধোয়া দিবস, কৃষক দিবস, শ্রমিক দিবস, আমীষ বা নিরামিষ দিবস, মা-বাবা, আত্মীয় ইত্যাদি শতাধিক দিবস পালিত হচ্ছে দেশের সব জেলায়। প্রতিটি দিবস মানেই আলাদা প্রস্তুতি, মঞ্চ সাজানো, ব্যানার-ফেস্টুন, আপ্যায়ন, সভা ও রেলি বা মিছিল।
সরকারি হিসাব না থাকলেও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মতে, শুধু এসব আনুষ্ঠানিকতায় সারাদেশে বছরে ব্যয় হচ্ছে কয়েক হাজার কোটি টাকা। এর বেশিরভাগই ব্যয় হয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি, সরঞ্জাম ও আপ্যায়নে। একজন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অনেক সময় দিবসের আয়োজন বাধ্যতামূলক ভাবে করতে হয়। উদ্দেশ্য ভালো, কিন্তু বাস্তবে এটি অনেক সময় আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সাধারণ মানুষের কোনো সম্পৃক্ততা থাকেনা। ফলে এটি টেবিল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ বলে জানান তিনি।
আবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিবস উদযাপন সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যকর মাধ্যম হতে পারে, যদি তা প্রকৃত অর্থে জনগণ কেন্দ্রিক হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এসব আয়োজন হয়ে দাঁড়ায় কেবল আনুষ্ঠানিক ছবি তোলা ও বক্তৃতা নির্ভর একটি প্রথা। সমাজবিজ্ঞানী ড. মাহবুব হোসেন মনে করেন, “দিবস উদযাপন মানে শুধুই অনুষ্ঠান নয়, এটি হতে পারে বাস্তব কর্মসূচির সূচনা। কিন্তু এখন এটি অনেক সময় প্রশাসনিক প্রদর্শনীতে পরিণত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
অন্যদিকে সাধারণ সচেতন নাগরিকদের অভিমত, এসব দিবস পালনে প্রশাসনের সময় ও অর্থ খরচ হয় অনেক, কিন্তু তার সুফল সাধারণ মানুষ তেমনভাবে পায় না।
বরিশালের সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের কৃষক বেলাল মৃধা বলেন, কৃষক দিবস বা শ্রমিক দিবসের কথা শুনেছি। কিন্তু কি হয় এ দিবসে তা জানিনা। কেউ কোনোদিন আমাদের ডাকেওনি বা আমাদের কাছেও আসেনি।
দেশে বছরে দুই শতাধিক দিবস উদযাপিত হয় জানিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা বীরপ্রতীক মহিউদ্দিন মানিক বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা দিবস নামে একটি দিবস রয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও এই দিবস উপলক্ষে লাখ টাকা খরচ করছে। এতে সাধারণ মানুষ বা মুক্তিযোদ্ধাদের কি আদৌ কোন উপকার হয়েছে? বরং ঐ টাকায় অসহায় হতদরিদ্র মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পাশে সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়ানো যেত বলে মনে করেন মহিউদ্দিন মানিক।
বরিশালের ষাটোর্ধ সিনিয়র সিটিজেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এর সহসভাপতি কাজী মিজানুর রহমান বলেন, দিবস পালনের পাশাপাশি তার ফলাফল মূল্যায়নও জরুরি। অন্যথায় এটি কেবলই আনুষ্ঠানিক উৎসবে সীমাবদ্ধ থেকে যাবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেসব দিবস উদযাপন হয়েছে, তার কয়েকটিতে উপস্থিত থাকার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, যাদের জন্য এই দিবস তারা কেউই নেই। পুলিশের এসপি বা কমিশনার, দু-চারটি এনজিও প্রতিনিধি আর আমরা নগরীর দু-তিন জন। আবার এসব দিবস নিয়ে সাংবাদিকরা যে নিউজ করেন সেখানে আলোচ্য বিষয়ের কোনো গুরুত্ব নেই। জেলা প্রশাসনের আয়োজনই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আসছে। এটা অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয় বলে জানান কাজী মিজানুর রহমান। ##
Print Friendly, PDF & Email

Sharing is caring!

About the author

ডিসেম্বর ৭১! কৃত্তনখোলার জলে সাঁতার কেটে বেড়ে ওঠা জীবন। ইছামতির তীরঘেষা ভালবাসা ছুঁয়ে যায় গঙ্গার আহ্বানে। সেই টানে কলকাতার বিরাটিতে তিনটি বছর। এদিকে পিতা প্রয়াত আলাউদ্দিন আহমেদ-এর উৎকণ্ঠা আর মা জিন্নাত আরা বেগম-এর চোখের জল, গঙ্গার সম্মোহনী কাটিয়ে তাই ফিরে আসা ঘরে। কিন্তু কৈশরী প্রেম আবার তাড়া করে, তের বছর বয়সে তের বার হারিয়ে যাওয়ার রেকর্ডে যেন বিদ্রোহী কবি নজরুলের অনুসরণ। জীবনানন্দ আর সুকান্তে প্রভাবিত যৌবন আটকে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পদার্পন মাত্রই। এখানে আধুনিক হবার চেষ্টায় বড় তারাতারি বদলে যায় জীবন। প্রতিবাদে দেবী আর নিগার নামের দুটি কাব্য সংকলন প্রশ্ন তোলে বিবেকবানের মনে। তার কবিতায়, উচ্চারণ শুদ্ধতা আর কবিত্বের আধুনিকায়নের দাবী তুলে তুলে নেন দীক্ষার ভার প্রয়াত নরেণ বিশ্বাস স্যার। স্যারের পরামর্শে প্রথম আলাপ কবি আসাদ চৌধুরী, মুহাম্মদ নুরুল হুদা এবং তৎকালিন ভাষাতত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজীব হুমায়ুন ডেকে পাঠান তাকে। অভিনেতা রাজনীতিবিদ আসাদুজ্জামান নূর, সাংকৃতজন আলী যাকের আর সারা যাকের-এর উৎসাহ উদ্দিপনায় শুরু হয় নতুন পথ চলা। ঢাকা সুবচন, থিয়েটার ইউনিট হয়ে মাযহারুল হক পিন্টুর সাথে নাট্যাভিনয় ইউনিভার্সেল থিয়েটারে। শংকর শাওজাল হাত ধরে শিখান মঞ্চনাটবের রিপোটিংটা। তারই সূত্র ধরে তৈরি হয় দৈনিক ভোরের কাগজের প্রথম মঞ্চপাতা। একইসমেয় দর্শন চাষা সরদার ফজলুল করিম- হাত ধরে নিযে চলেন জীবনদত্তের পাঠশালায়। বলেন- মানুষ হও দাদু ভাই, প্রকৃত মানুষ। সরদার ফজলুল করিমের এ উক্তি ছুঁয়ে যায় হৃদয়। সত্যিকারের মানুষ হবার চেষ্টায় তাই জাতীয় দৈনিক রুপালী, বাংলার বাণী, জনকণ্ঠ, ইত্তেফাক, মুক্তকণ্ঠের প্রদায়ক হয়ে এবং অবশেষে ভোরেরকাগজের প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়ান ৬৫টি জেলায়। ছুটে বেড়ান গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। ২০০২ সালে প্রথম চ্যানেল আই-্র সংবাদ বিভাগে স্থির হন বটে, তবে অস্থির চিত্ত এরপর ঘনবদল বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, আমাদের সময়, মানবজমিন ও দৈনিক যায়যায়দিন হয়ে এখন আবার বেকার। প্রথম আলো ও চ্যানেল আই আর অভিনেত্রী, নির্দেশক সারা যাকের এর প্রশ্রয়ে ও স্নেহ ছায়ায় আজও বিচরণ তার। একইসাথে চলছে সাহিত্য বাজার নামের পত্রিকা সম্পাদনার কাজ।