স্বাস্থ্য খাত সংস্কার আন্দোলন: কি হচ্ছে বরিশালে?
বেশিরভাগ মানুষ দাবীর পক্ষে:
শেবাচিম পরিচালক বললেন, ধৈর্য্য ধরুন। প্রয়োজন আমার কাজের মনিটরিং করুন…
বিশেষ প্রতিবেদক
একদিকে সড়ক অবরোধ অন্যদিকে অনশন কর্মসূচি। স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের দাবীতে ছাত্র জনতার এই আন্দোলন চলেছে টানা ১৮ দিন। এরফলে সড়ক অবরোধ হয়েছে প্রায় ৪০ ঘন্টা। এতে জনভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে শেবাচিম পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডাঃ মশিউল মুনীর সংবাদ সম্মেলন করে তিন মাসের মধ্যে শেবাচিম ঠিক করার প্রতিশ্রুতিসহ যে সব পদক্ষেপ ইতিমধ্যে নিয়েছেন তা তুলে ধরেছেন। আবার ছাত্র জনতার দাবীর মুখে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পাঠানো কমিটি নিয়ে বরিশালে এসেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবু জাফর। তিনি এসেই প্রথমে ছাত্র জনতা ও শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হয়েছেন এবং তাদের আশ্বস্ত করেছেন, যে সংস্কারের দাবী তারা তুলেছেন তার সবকিছু সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনাতেও রয়েছে। তাই স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের দাবীতে সরকার ও ছাত্র জনতা একইপথে রয়েছে। এই সংস্কারের যেসব অতিপ্রয়োজনীয় তা এই মুহূর্ত থেকে সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন সয়ং প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুস। তাহলে সড়ক অবরোধ করে এবং অনশন কর্মসূচি নিয়ে জনভোগান্তি কেন বলে প্রশ্ন তোলেন মহাপরিচালক। তিনি এসময় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কাছে ডেকে তারা কোন শ্রেণীতে পড়াশুনা করছে জানতে চাইলে কেউ হাইস্কুল ও কেউ কলেজের প্রথম বর্ষে পড়ছে বলে জানান। তখন মহাপরিচালক প্রশ্ন করেন – তোমরা কোমলমতি শিক্ষার্থীরা কি আসলেই সংস্কার বোঝো, তাহলে বলো, সংস্কার আসলে কি? তার এ প্রশ্নে শিক্ষার্থীরা নিরব। আশেপাশে খুঁজে পাওয়া যায়নি নাভিদ, রনি কিম্বা সাব্বিরকে। যারা গত ১৭দিন টানা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এসময় মহাপরিচালক বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের দাবীতে সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে কোনো ভিন্নতা নেই। তাহলে কেন এই আন্দোলন। এটাতো অযৌক্তিক। তার এই বক্তব্যকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছে কিছু মিডিয়া। তারা এটিকে দাবী অযৌক্তিক বলেছেন মহাপরিচালক শিরোনাম করে আন্দোলনকে উসকে দেয়। ফলে ছাত্র জনতা দুভাগে বিভক্ত হয়ে পরে।
তারপরও বরিশালের সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক কাজী মিজানুর রহমান বলেছেন, ওদের দাবী খুবই যৌক্তিক। হয়তো ওদের আন্দোলনের পদ্ধতি ঠিক নেই কিন্তু শেবাচিম পরিচালক আজ যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং এই যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরিশালে আসতে বাধ্য হলেন, তা এই আন্দোলনের ফসল।
আবার বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন নিজেও এই দাবীর সাথে সহমত পোষণ করে বলেন, শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান।বিগত প্রায় ১৭ বছর একটি রাজনৈতিক দলের কুক্ষিগত সম্পত্তি হিসেবে এটি ব্যবহার হয়েছে। অথচ চিকিৎসক, স্টাফ, আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি কোনোকিছুরই উন্নয়ন হয়নি। বরিশালবাসীর দাবীর মুখে সেনাবাহিনী থেকে পরিচালক এসেছেন তাও নয় মাস হয়ে গেছে। কি করেছেন তিনি। তিনি কিছু করতে পারেন নাই বলেই আজ আবারও আন্দোলন শুরু হয়েছে। ওদের আন্দোলনের কোনো ব্যানসর নাই। থাকলে আমিও যোগ দিতাম বলে জানান বিলকিস জাহান শিরিন।
শেবাচিমের সামনে অনশনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা মঈনুল হোসেন বলেন, সবার আগে শেবাচিমের সামনের ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালের সিণ্ডিকেট ভাঙতে হবে। ছাত্র জনতার এই দাবীতে আমি ব্যক্তিগতভাবে সম্পূর্ণ সহমত পোষণ করছি। ওদের আন্দোলন চলমান না থাকলে এই সিন্ডিকেট আর কখনোই ভাঙা যাবেনা। আমরা বড়োরা যা পারিনা, ওরা ছোট হয়ে তাই করে দেখাচ্ছে। ওদের উপর যারা হামলা করেছে এবং ওদের বিভিন্ন ট্যাগ দিচ্ছে তারাই মুলত সুবিধাবাদী। তারই ঐ সিন্ডিকেট চক্রের লোক। তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। সুবিধাবাদী এটাই তাদের পরিচয়।
এদিকে মহাপরিচালকের বক্তব্যের পরপরই বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন বরিশালের নেতা সাব্বির হোসেন সোহাগ ফেসবুকে স্টাটাস দিয়ে তাদের আন্দোলন তুলে নিয়েছেন এবং এরপরই তার আরেকটি স্টাটাস দেখা যায় অনশনরত শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে।
ইতিপূর্বেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু জাফর এর বক্তব্যে উৎসাহিত হয়ে ইন্টার্নি চিকিৎসকরা তাদের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ তুলে আন্দোলনের ঘোষণা দেন এবং ১৪ আগস্ট সকালে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে প্রথমে মানববন্ধন এবং পরে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিতে পদক্ষেপ নেয়। এতে ইন্টার্নি চিকিৎসক, কর্মচারীদের হামলার শিকার হয়েছেন ১২/১৫ জন অনশনরত শিক্ষার্থী।
এরকম সময় বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতা সাব্বির হোসেন সোহাগ আরো একটি স্টাটাস দিয়ে লিখেন, “শের-ই-বাংলা মেডিকেলের ডাক্তার,নার্স এবং স্টাফদের উপর যারা হামলা করেছে এবং তাদের সেবাদানের কাজে যারা বাধা দিতে চায় তাদেরকে বরিশালের আপামর জনতা প্রতিহত করবে।”
তার এই হঠাৎ পাল্টিখাওয়া এবং বিভ্রান্তিকর স্টাটাস দেওয়া রহস্যজনক দাবী করে এই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও মুখপাত্র নাভিদ নাসিফ বলেন, তারাতো এই আন্দোলন উড্রো করার কেউনা। তারা বিএম কলেজের শিক্ষার্থী হিসেবে এতোদিন আমাদের সাথী হিসেবে ছিলেন। হঠাৎ করে তাদের এই পরিবর্তনের পিছনে নিশ্চয়ই কোনো রহস্য রয়েছে। এই আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নিতে চতুরমুখী ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা কিছুক্ষণের মধ্যেই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সবকিছু পরিষ্কার করবো বলে জানান তিনি।
এসময় ইন্টার্নি চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মচারী মিলে অনশনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান নাভিদ নাসিফ। দুপুর বারোটায় তারা একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার আন্দোলনের পক্ষ থেকে। সেখানে বলা হয়- সম্প্রতি একটা অপপ্রচার স্যোশাল মিডিয়ায় ঘুরছে যে “স্বাস্থ্যখাত আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে” যার কোনো ভিত্তি নেই। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি। একটি কুচক্রী মহল আন্দোলন ভন্ডুল করার জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ধরনের ফেইক নিউজের প্রতি তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এ ধরনের ভিত্তিহীন প্রচারে বিভ্রান্ত না হতে বরিশালসহ দেশবাসীর কাছে আহবান জানাচ্ছি।
স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার, সরকারি হাসপাতালে দুর্নীতি-অনিয়ম, হয়রানি বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে বরিশালে ছাত্র-জনতার ব্যানারে এই আন্দোলন শুরু হয় গত ২৮ জুলাই থেকে। তবে তারা গত ৭ আগস্ট থেকে এই দাবিতে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দালন অব্যাহত রেখেছেন। এই সাত দিনে তাঁরা প্রায় ৪০ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখায় সীমাহীন দুর্ভোগে পরেন দক্ষিণাঞ্চলের লাখো যাত্রী। এদিকে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যেও অসন্তোষ প্রকাশ পায়। তারাও সড়ক অবরোধ ও পরিবহন ধর্মঘট ডাকার হুমকী দেন। যে হুমকীর ফলশ্রুতিতেই সরকার তড়িঘড়ি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বরিশালে পাঠিয়েছেন বলে দাবী আন্দোলনকারীদের। অর্থাৎ ছাত্র জনতার দাবীর মুখে নয়, পরিবহন ধর্মঘটের হুমকীতে সাড়া দিয়েছেন সরকার। যে কারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু জাফর এর বক্তব্যে এই আন্দোলন দমানোর ঈঙ্গিত ছিলো বলে দাবী করেন আন্দোলনকারীরা। বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে যা স্পষ্ট করেন নাভিদ, রনি ও রাফিসহ একাধিক শিক্ষার্থী।
ইতিপূর্বে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকার চৌমাথায় তাদের আন্দোলন চলাকালে জয়বাংলা শ্লোগান দেয়া একজনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। নিজেদের মধ্যে কয়েক দফা হামলার শিকার হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ ১৪ আগস্ট সকালে অনশনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়ে তাদের হাসপাতাল এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে ১৩ আগস্ট সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু জাফর বরিশালে আসেন। তিনি দুপুর ১২টার দিকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের সম্মেলনকক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, চিকিৎসক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও হাপতাাল এবং কলেজ কর্তৃপক্ষকে নিয়ে আলোচনা সভায় যোগ দেন। বেলা সোয়া তিনটা পর্যন্ত এই সভা চলে। আলোচনায় মহাপরিচালক শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং মেডিকেল কলেজের পরিচালক কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন বলে জানান। অন্য দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। এর আগে তিনি অনশনরত শিক্ষার্থীদের কাছে যান এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন। তখন তিনি দাবী করেন, সংস্কার আন্দোলন চাকুরীজীবিদের আন্দোলন হতে পারে। তোমরা শিক্ষার্থীরা সংস্কারের কিছুতো এখনো বোঝোই না। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে অযৌক্তিক দাবী করলে চারিদিকে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদে রাতেই মশাল মিছিল করে ছাত্র জনতা।
এদিকে মহাপরিচালক তার বক্তব্যে বলেছেন, এরপরও জনভোগান্তি জাতীয় সমস্যা প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। তার এ বক্তব্যে সুবিধাবাদী শ্রেণির জন্য সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করে ঐদিন রাতেই আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা। নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এসে সমাবেশ করে বিএম কলেজের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল জেলার সাবেক আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন সোহাগ আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। এসময় তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আমাদের দাবিগুলো পূরণ করা হবে এবং মেডিকেলের সকল সিন্ডিকেট ও দালালদের নির্মূল করা হবে। যদি তা না হয়, আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’
এদিকে ব্লকেড কর্মসূচি অব্যাহত রেখে ও গণ–অনশনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনের মূলপক্ষ এখন পর্যন্ত মাঠে রয়েছে। তারা বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের ঘোষণাকে রহস্যজনক দাবী করে পাল্টা বিবৃতি দিয়েছেন। ছাত্র-জনতার ব্যানারে ওই আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি। তিনি বলেন, ‘দাবিদাওয়া নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, তাতে আমাদের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরিশালে এসেছেন। কিন্তু আমাদের যে দাবি, যে সমস্যা, তা সমাধানের জন্য যথেষ্ট সক্ষমতা (ক্যাপাসিটি) তাঁর নেই। এই সমস্যার সমাধান করতে হলে স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে বরিশালে আসতে হবে।’ এ সময় তিনি চলমান বরিশাল ব্লকেড কর্মসূচির পাশাপাশি নতুন করে গণ–অনশনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তাদের তিন দফা দাবি হচ্ছে –
১) শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজসহ দেশের সব সরকারি হাসপাতালে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা।
২) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ দেশের সব হাসপাতালে দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, দলীয় লেজুড়বৃত্তিক চিকিৎসকদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, ডিজিটাল অটোমেশন ও স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক টাস্কফোর্স গঠন। ৩) স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনকে জনগণের ভোগান্তির বিষয় শুনে তাৎক্ষণিক তদন্ত সাপেক্ষে সুপারিশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে জোরদার পদক্ষেপ নেওয়া।
শেবাচিম সংস্কারের প্রতিশ্রুতিতে এগুলো এখনো অনুপস্থিত এবং চিকিৎসকরা সবাই এখনো একটি নির্দিষ্ট দলের লেজুড়বৃত্তি করছে বলে দাবী করেন আন্দোলকারীরা।
অন্যদিকে ছাত্র জনতার আন্দোলন অব্যাহত রাখার প্রতিবাদে এবং নিজেদের কাজে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে ১৪ আগস্ট সকালে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ইন্টার্নি চিকিৎসক ও নার্সরা। এরপর তারা মিছিল নিয়ে অনশনরত শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও হন। এতে ১২/১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখপাত্র নাভিদ নাসিফ।
শেবাচিমে মানববন্ধন চলাকালে মিড লেবেল ডাক্তার এসোসিয়েশনের সভাপতি বিএনপিপন্থী চিকিৎসক ডাঃ সাখাওয়াত বলেছেন, হাসপাতালের সামনে অনশনরত শিক্ষার্থীদের কারণে তাদের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। তারা কেউ কেউ হাসপাতালের ভিতরে প্রবেশ করে ইন্টার্নি চিকিৎসকদের ও রোগীদের ছবি তুলছেন। তাদের সাথে খারাপ আচরণ করছেন। এভাবে কোনো আন্দোলন আমরা সমর্থন করিনা।
তার এই বক্তব্য সমর্থন করেন শেবাচিম পরিচালকও। পুরো বিষয়টি এখন হযবরল পরিস্থিতি দাবী করেন শেবাচিম পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডাঃ মশিউল মুনীর। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের বিশেষ করে শেবাচিম সংস্কারের দাবীতে আমরাওতো তাদের সাথে সহমত পোষণ করেছি। ইতিমধ্যেই আমি অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছি। এই হাসপাতালের অবস্থা মরা সাপের মতো। পূর্বসূরিদের অপরাধের বোঝা আমরা বহন করছি। আমাদেরতো সময় দিতে হবে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সামলাচ্ছি। এগুলো আগে কোথায় ছিলো? আগে কেন আপনারা এসব বিষয় দৃষ্টি দেন নাই। এখন হাসপাতালের সামনে অনশন, ভিতরে নার্সদের সাথে অশোভন আচরণের অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে। হাসপাতালের সামনে আসা তাদের ঠিক হয়নি, নগরীতে কি জায়গার অভাব রয়েছে? এভাবে কখনো সংস্কার হয়না দাবী করে পরিচালক আরো বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও জনতাকে বলবো- আপনারা একটু ধৈর্য্য ধরুন। আমাকে কাজ করতে দিন। প্রয়োজনে আপনাদের একটি প্রতিনিধি দল আমার কাজের মনিটরিং করুন।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউনহলের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এই আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ছাত্র জনতা। এসময় রনি, রাফি, নাভিদসহ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সকালে মেডিকেলের গেটে তাদের অনশনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই হামলাই প্রমাণ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরিশাল আসাটা সম্পূর্ণ এই আন্দোলন দমাতে। তিনি পুরাতন ব্যবস্থাকে উসকে দিয়েছেন। শেবাচিম এ সিন্ডিকেট চক্রের কাছে হাসপাতাল পরিচালকসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবাই জিম্মি বলে দাবী আন্দোলনকারীদের।







