১৯৭১-এর যুদ্ধ: হারলো পাকিস্তান, কেন?’- সৈয়দ জিয়াউল হক

অতিথি লেখক

Sharing is caring!

১৯৭১-এর যুদ্ধ: হারলো পাকিস্তান, কেন?’

(সৈয়দ জিয়াউল হক এর বিশ্লেষণ  হুবহু তুলে ধরা হলো)

১৯৭১-এর যুদ্ধ: হারলো পাকিস্তান, কেন?’ – পিনাকীদার এই ভিডিওটি হয়তো অনেকেই ইতিমধ্যে দেখেছেন। পিনাকীদার প্রায় সব ভিডিওই অনেক আগে থেকে দেখা হয়। কিন্তু এই ভিডিওটি পিওরলি সামরিক ডোমেইনের ভিতরে পড়ে তাই এটি দেখার পর বেশ কিছু চিন্তা সামনে আসে। সেগুলো এখানে শেয়ার করছি:

১। এ কথাতে আমি একমত যে, আমরা সশস্ত্র বাহিনীর অফিসাররা দেশের জন্য অনেকভাবে অবদান রাখার চেষ্টা করছি কিন্তু ভা/র|তী/য় সামরিক বাহিনীর মিথ ভাঙ্গার বিষয়টি ঠিক ঐভাবে সম্পন্ন হচ্ছে না যদিও এ ব্যাপারে কন্টিনিউআস সাইকোলজিকাল-ওয়ারফেয়ার চলমান। এই ভিডিওটির সবচেয়ে বড় সাফল্য এটিই যে, আমার মতো অনেকের সামনে এই মিথ ভাঙ্গার গুরুত্ব বেশ ক্লিয়ারলি পৌঁছে গেছে।

Oplus_131072

এতদিন কেন বিষয়টি সেভাবে আমাদের অনেকের সামনে আসে নি? এর কারণ: আমাদের বিভিন্ন কোর্সে, ষ্টাডি পিরিয়ডে ৭১-এর Battle Study-গুলোর একটি প্রভাব আছে। ৭১ এ Battle Study-গুলোর ক্ষেত্রে আমরা ভা/র|ত/কে রীড করি আমাদের সহযোগী শক্তি। কিন্তু ৭১ এর পর থেকে হয়ে এটি গেছে সবচেয়ে সম্ভাব্য National Threat! এছাড়া Battle Study-গুলো নিউট্রালি করা হয়, এটিও সত্য। Military Strategy শেখার জন্য এই নিউট্রালিটি জরুরীও।

২। নিউট্রালি Battle Study করার মতো একই রকম আরেকটি জরুরী বিষয় হচ্ছে, আমাদের সবচেয়ে সম্ভাব্য National Threat এর ব্যাপারে আমাদের মনে কোন হীনমন্যতা না রাখা, এ ব্যাপারে কোন মিথ চালু না থাকা। ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ারের এ যুগে যেভাবে বিভিন্ন মুভির মাধ্যমে সামরিক বাহিনীগুলোকে শক্তিশালী দেখিয়ে, শত্রু বাহিনীকে মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে দূর্বল করা সম্ভব, একইভাবে ঐতিহাসিক পর্যালোচনার ক্ষেত্রেও ভা/র|তী/য় অপারেশনাল ক্যাপাবিলিটিকে বড় করে দেখিয়ে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীতে হীনমন্যতা তৈরী করা সম্ভব। মুক্তিযুদ্ধের পরই দাসত্বের সেই ৭ দফা চুক্তিতে তো এদেশের আলাদা কোন সামরিক বাহিনীর অস্ত্বিত্বই বাদ দেয়া হয়েছিল!

৩। শত্রু বাহিনীর ব্যাপারে নিজ বাহিনীর মধ্যে মিথ তৈরী হওয়া একটি সমস্যা। কিন্তু এর থেকে আরও অনেক বড় সমস্যা হচ্ছে, আপনার শত্রু রাষ্ট্র আপনার দেশেই একটি প্রক্সি শাসন চালাতে পারলে এবং আপনার মিলিটারি ডকট্রিনকেই তার সুবিধা অনুযায়ী প্রভাবিত করে ফেলতে পারে। এ কারণেই সম্ভবত বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্ভাব্য National Threat কে? কোন দেশ? সেটি বেশ ঘোলাটে, Well defined নেই!

একটি রাষ্ট্রকে যদি এ পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় যে, আপনার সবচেয়ে সম্ভাব্য National Threat-কেই আপনি বন্ধু রাষ্ট্র মনে করেন, তার কাছে ট্রেনিং নেন, তার কাছ থেকে লজিস্টিকস কিনেন, তাহলে যুদ্ধে জেতার জন্য সেই National Threat এর আর কিছু করারই দরকার নেই। সে যুদ্ধের আগেই আগেই যুদ্ধ জিতে গেছে। আমরা সম্ভবত exactly এই অবস্থায় ছিলাম বা এখনো আছি! এর চেয়ে ভয়ংকর বিষয় আর কী হতে পারে – আমি জানি না।

৪। Battle Study-র মতো শুকনো একটি বিষয়কে পিনাকীদা যেভাবে তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গীতে সাধারণ জনগণের উপযোগী করে রসালোভাবে কাভার করেছেন, তা এক কথায় অসাধারণ।

– ভিডিওটিতে ট্যাকটিক্যাল, অপারেশনাল ও ষ্ট্রাটেজিক লেভেল প্রতিটি টার্মই ঐতিহাসিক উদাহরণ দিয়ে বুঝানো হয়েছে।

– ORBAT বা অর্ডার অব ব্যাটেল ঐতিহাসিক উদাহরণ দিয়ে বুঝানো হয়েছে। পরে মুক্তিযুদ্ধে ভা/র|ত ও পাকিস্তানের আর্মি ও এয়ারফোর্সের ORBAT কাভার করা হয়েছে।

– ফিল্ড মার্শাল ভন মল্টেকে এর ব্যাপারে বিস্তারিত ধারনা দেয়া হয়েছে। তবে আমার মতে, এক ঘন্টার ভিডিও এর জন্য এটি এত জরুরী ছিল না। যদিও বাঙ্গু-সুশীলদের মুখ বন্ধ করার জন্য পিনাকিদা এটি এনেছেন, এটি মাথায় রেখেই এ কথা বলছি। এর চেয়ে ভা/র|ত সহজে জিতে যাবার কারণগুলো আরও বিস্তারিত কাভার করা যেত।

– এডভান্স টু কন্টাক্ট থেকে শুরু করে ডিফেন্স এর কনসেপ্টও এ ভিডিওতে টাচ করা হয়েছে। অনেকগুলো ছবি দিয়ে কনসেপ্টগুলোকে পরিষ্কার করা হয়েছে।

– এডভান্স টু কনটাক্টের ক্ষেত্রে এভিনিউ অব এপ্রোচ এবং রোড/রেইল নেটওয়ার্ক এর বিষয়টি বেশ সুন্দরভাবে কাভার হয়েছে। আমার মনে আছে, একবার আমি এক সিনিয়ার অফিসারকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, ‘এভিনিউ অব এপ্রোচ কি অনেকটাই রোড / রেল লাইন বেইজড কিনা’? এর উত্তর খুব পরিষ্কারভাবে পাই নি। বাংলাদেশের মতো দেশের ক্ষেত্রে আসলে এটি অনেকটাই সত্য। যদিও মুরুভূমি বা হার্ড টেরেইনে (শক্ত ভূমির গঠন) বিষয়টি এমন হবে না।

– ট্যাকটিকস বনাম লজিস্টিকস এর সম্পর্ক আলাপ করতেও তিনি ছাড়েন নি। বিষয়টি সামরিক বাহিনীতে কিছুটা সিনিয়ার অফিসারদের কোর্সে বিস্তারিত কাভার হয়।

– ব্যাটেল চার্জের ব্যাপারেও তিনি হালকা আলাপ করেছেন।

– মুক্তিযুদ্ধের সময় জেড ফোর্স, এস ফোর্স, কে ফোর্স এর গঠন নিয়ে বেশ বিস্তারিত কাভার করা হয়েছে। ভা/র|তী/য় বাহিনীর সাথে জয়েন্টনেস এর ক্ষেত্রে যে দূর্বলতা ছিল তাও কাভার করা হয়েছে!

– মুক্তিযুদ্ধে এয়ার ফোর্সের ব্যবহার এবং গ্রাভিটি বেইজড বোমার বিষয়টি খুব সুন্দরভাবে কাভার করা হয়েছে।

– এ রকম আরও অনেক কিছুই এক ঘন্টার এক ভিডিওতে কাভার করে ফেলা রীতিমতো অসম্ভবকে সম্ভব করার মতো বিষয়।

৫। পিনাকীদার এ ভিডিও এর ব্যাপারে বিস্তারিত পর্যালোচনায় যাচ্ছি না। ভিডিওটির কোন কোন দিক থেকে পর্যালোচনা করে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গী সামনে আনা সম্ভব। যেমন:

ক। ভিডিওটিতে জেড ফোর্স, এস ফোর্স, কে ফোর্স এর অপারেশনাল ইমপ্যাক্ট এর বিষয় একটু কম কাভার হয়েছে। যদিও ভিডিওটির আলোচনার বিষয় মূলত ছিল ২১ নভেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভা/র|তী/য় বাহিনীর অপারেশনাল এনালাইসিস। হয়তো এ কারণে বিষয়টির বিস্তারিত তিনি এভয়েড করেছেন। কিন্তু এই ৩ ব্রিগেডের অপারেশনগুলো পরবর্তীতে যৌথ বাহিনীর অফেন্সিভে বেশ সহায়তা করেছে।

খ। যুদ্ধের এক পর্যায়ে পাকিস্তানের ৯ম ডিভিশন যশোর ছেড়ে দিয়ে খুলনায় চলে যাওয়া – এটি হচ্ছে Withdraw বা Tactical Re-deployment. এটি বাধ্য হয়েই করা হয়। একইভাবে মৌলভীবাজারে অবস্থিত পাকিস্তানী ইউনিট ডিফেন্সিভ অবস্থান ছেড়ে দিয়ে সিলেটে Withdraw করার মানে মৌলভীবাজারের ডিফেন্সিভ লোকেশন থেকে উইথড্রো করতে বাধ্য হওয়া।

যুদ্ধে বর্তমান ডিফেন্সিভ পজিশন ধরে রাখা সম্ভব না হলে এটি হাতে নেয়া হয়। তাই পাকিস্তানী বাহিনীর এই পিছনে সরে যাবার মধ্যে যৌথ বাহিনীর একটি কৃতিত্ব আছে। ঘটনাগুলোর এ দিকটি ভিডিওতে আলোচিত হয় নি। হয়তো স্বল্প সময়ে এত কিছু কাভার করার সম্ভবও না।

৬। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনী বিজয় লাভ করার মূল কারণগুলোর আংশিক তালিকা করলে যা দাঁড়ায়: (যেটিকে ভা/র|তী/য় জেনারেল মানেক শ এভাবে উল্লেখ করেছেন যে, They had no chance আর কথাটি সঠিক)

ক। আমাদের জেড ফোর্স, এস ফোর্স, কে-ফোর্স তাদের অপারেশনগুলোর মাধ্যমে পাকিস্তানী বাহিনীকে বেশ নাস্তানাবোধ করে রেখেছিল। ছোট ছোট অপারেশন ফেস করার কারণে দীর্ঘ ৮ মাস ধরে পাকিস্তানী বাহিনী War Fatigue এর মধ্যে ছিল। বেশ কিছু ক্ষেত্রে ক্যাজুয়ালিটিও সাফার করছিল। বলা যায়, ভা/র|তী/য় বাহিনী নিজ জায়গায় নিরাপদে থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে একটি প্রক্সি ওয়ার চালিয়েছে। তাই অফেন্সিভ এর শুরুতে ভা/র|তী/য় বাহিনী ছিল পুরো ফ্রেশ অবস্থায়। এতে ভা/র|তী/য় বাহিনী বেশ সুবিধা পেয়েছে।

খ। এদেশের সাধারণ মানুষ তখন ব্যাপকভাবে পাকিস্তান আর্মির বিরুদ্ধে ছিল। যে কোন ডিফেন্সে পাবলিক সাপোর্ট ছাড়া টিকে থাকা কঠিন। এটি সামরিক বাহিনীর মধ্যে বিশাল এক সাইকোলজিক্যাল এফেক্ট ফেলে। যে অঞ্চলে যুদ্ধ করছি যেখানে শত্রু বাহিনীর অপারেশনকে হ্যান্ডেল করতে তো হবেই, পাশাপাশি এলাকার মানুষও বাপকভাবে শত্রুভাবাপন্ন। উল্টোদিকে, যৌথ বাহিনীর মাথায় উল্টো হিসাব। বাংলাদেশের প্রায় সকলেই তাদের পক্ষে। তাদের মানসিক সাহস (মোরাল) এমনিতেই আকাশসম (স্কাই হাই) থাকার কথা। আর যুদ্ধের ময়দানে মনোবল বা মোরাল এর গুরুত্ব আশা করি সকলেই বুঝেন।

গ। পাকিস্তান আর্মি যখন ৩ দিক থেকে অফেন্সিভ ফেইস করে, সেটি এক ধরনের ‘কান্ট্রি ওয়াইড এনসারর্কেলমেন্ট’ও বটে। যে কোন এক দিক থেকে অফেন্সিভ আসলে নিজের ফোর্স যেভাবে পুনর্বিন্যাস (Reshuffle, Redeployment) করার সুযোগ থাকে, এক্ষেত্রে এর কোন চান্সই ছিল না। এর উপর পাকিস্তানী বাহিনীর কমান্ডারের হাতে তেমন কোন রিজার্ভও ছিল না। এক সেক্টর থেকে অন্য সেক্টরে রিএনফোর্সমেন্ট পাঠানোর তেমন কোন সুযোগ নেই। এটি সিনিয়ার মিলিটারি কমান্ডারদের হাত-পা বেঁধে যুদ্ধে নামিয়ে দেয়ার সামিল। এ কঠিন অবস্থায় পাকিস্তানী মিলিটারির বিজয় লাভ করার আসলে কোন চান্সই ছিল না।

ঘ। জিওগ্রাফিক্যালী পশ্চিম পাকিস্তানের ১৬০০ কিমি দূরত্ব আরেকটি বড় ফ্যাক্টর ছিল। পাকিস্তান আর্মি যদি এই যুদ্ধকে প্রলম্বিত করতে চাইতো, সেটি তাদের জন্য অনেক costly হতো। এত দূর থেকে যুদ্ধের লজিষ্টিক সাপ্লাই তাও মাঝে ভারত, একটি বিশাল সমস্যা ছিল।

ঙ। আরেকটি কারণ সম্ভবত পশ্চিম পাকিস্তান সরকারের পলিটিকাল ডিসিশন। যদি পলিটিকালী ডিসাইসিভ ব্যাটেল ফাইট না করার পরিকল্পণা থাকে, তাহলে রিসোর্স এলটমেণ্টও সেইভাবে হবে। মাত্র ৩টি ডিভিশনকে দিয়ে ইজ্জত রক্ষার্থে ১৫-২০ দিন ভা/র|তী/য় অফেন্সিভ এর সামনে টিকে থেকে এরপর সারেন্ডার করা একটি কনশাস পলিটিকাল ডিসিশন হলে আমি আশ্চর্য হবো না। এটি আমার ধারনা, এক্ষেত্রে বিজ্ঞজনদের মতামত জানতে চাই।

কেন এ ধারনা করছি? সেই ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান বা তার আগে থেকেই বাংলাদেশের মানুষের আলাদা একটি পলিটিকাল এন্টিটি গড়ে উঠছে পাকিস্তানী জেনারেলদের চোখের সামনেই। এরপর ৭০ এর নির্বাচন, ২৫শে মার্চের পর তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের ‘We Revolt’, অন্যান্য অফিসার ও ইউনিটের বিদ্রোহ – এগুলো থেকে একটি ক্লিয়ার ও ডিসাইসিভ পলিটিকাল ডাইরেকশন বুঝা যাচ্ছিল। আর War is politics by other means। পাকিস্তানি জেনারেলরা এই যুদ্ধকে প্রলম্বিত করলেও সেটি হতো একটি Lost War। এতে শুধু নিজেদের শক্তি ক্ষয় করাই হতো। এ কারণেই হয়তো পশ্চিম পাকিস্তান থেকে নতুন ডিভিশনও তারা পাঠায় নি এবং কোন কোন ডিফেন্সিভ লোকেশন থেকে অল্প ফাইট ব্যাক করেই তারা Withdraw করেছে।

যদি কেউ প্রশ্ন করেন, তাহলে পাকিস্তানী বাহিনী কামালপুরের মতো কোন কোন ডিফেন্সে এত ডাই-হার্ড ফাইট করলো কেন? এর উত্তর হতে পারে: ষ্ট্রেটেজিক ডিসিশন প্রায়ই ফিল্ড লেভেলে জানানো হয় না। উদাহরণ: ডিকয় এট্যাক, যেগুলো করা হয় শুধু শত্রুদের মনযোগ ভিন্ন দিকে ফেরানোর জন্য। যদিও সিনিয়ার কমান্ডাররা আগে থেকেই জানেন যে, এই ফোর্সকে তেমন রিএনফোর্সমেন্ট পাঠানো হবে না, এট্যাক ফেইল্ড হওয়া এবং ক্ষয়-ক্ষতি হওয়া স্বাভাবিক কিন্তু এরপরও এমন ডিসিশন যুদ্ধে নেয়া হয়।

চ। আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে: No Defensive Depth। বাংলাদেশের ডিফেন্সিভ ডেপথ কম থাকায় কয়েক ফেইজে ডিফেন্সিভ ব্যাটেল করা বেশ কঠিন। একটি ডিফেন্সিভ লোকেশন বাইপাস করে যদি শত্রু বাহিনী সামনে এগিয়ে যায়, তাতে ডিফেন্ডারদের জন্য বেশ রিস্ক তৈরী করে। বিশেষত যদি রিজার্ভও না থাকে, পাবলিক সাপোর্টও বিপক্ষে থাকে এবং তিন দিক থেকে অফেন্সিভের মোকাবেলা করতে হয় – তাহলে তা যে কোন বাহিনীর জন্য হয়ে ওঠে একটি Deadly Combination.

পাকিস্তান মিলিটারি যৌথ বাহিনীর হাতে হেরে যাবার এ রকম আরও কিছু কারণ আছে। আপাতত এই কয়েকটাই লিস্টে থাকুক।

৭। এই ভা/র|তী/য় অফেন্সিভের বিরুদ্ধে ২০/২১ দিন টিকে থাকার জন্য পাকিস্তান আর্মি যে সুবিধাটি পেয়েছে তা হচ্ছে, বাংলাদেশ হল ডিফেন্ডার্স প্যারাডাইজ। এর রোড / রেল নেটওয়ার্ক এবং নদী-নালা ইত্যাদি এমনভাবে আছে যে, বড় বড় রোড / রেল লাইন বাদ দিয়ে যে কোন ফোর্সের জন্য এডভান্স টু কনটাক্ট প্রায় অসম্ভব।

এ কারণেই বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ স্থান ও রোড জাংশনে শক্ত ডিফেন্সিভ পজিশন নিয়ে পাকিস্তান আর্মি যৌথ বাহিনীকে বেশ কিছুদিন আটকে রাখতে পেরেছিল।

৮। সব মিলিয়ে, একজন ডাক্তার হবার পরও মাত্র এক ঘণ্টার ভিডিওতে পিনাকীদা যে লেভেল পর্যন্ত কাভার করেছেন তা বিস্ময়কর। তিনি শুধু এ কারণেই ধন্যবাদ পাবার যোগ্য।

কিন্তু পিনাকীদার এই ভিডিও (এবং এই সংক্রান্ত আরও ২/১টি ভিডিও) এর সবচেয়ে বড় যে অর্জন তা হলো, ৭১ এর বানোয়াট বিভিন্ন গল্প এবং ভা/র|তী/য় সামরিক বাহিনীর মিথ ভাঙ্গার আহবান তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন। এ সকল বানোয়াট গল্পের কারণে যেন মুক্তিযোদ্ধাদের সত্যিকার সংগ্রামের মাহাত্ম কমে না যায় – এ জন্য এই সত্য উদঘাটন জরুরী।

এ সংক্রান্ত আরেকটি ভিডিও দেখার পর দুই/একজন অফিসার আমাকে এটি বলেছেনও যে, পিনাকীদার ঐ ভিডিও দেখার পর তিনি ৭১ সংক্রান্ত একটি মিথ নিয়ে মিলিটারি পার্সপেক্টিভ থেকে বিস্তারিত লিখেছেন!

এ ভিডিও দেখার পর আমার নিজের টাস্ক লিস্টে একটি কাজ যোগ করেছি, তা হলো, ভা/র|তী/য় সামরিক বাহিনীর ব্যাপারে এদেশে যে মিথগুলো expose করা। আশা করবো, আমাদের অন্যান্য কলিগরাও এ বিষয়টির দিকে যথাযথ নজর দিবেন। বাহিনীগুলোর পাশাপাশি সাধারণ জনগণের মধ্যেও যেন ভা/র|তী/য় বাহিনীর ব্যাপারে কোন মিথ প্রচলিত না থাকে, এর দূর্বলতাগুলো যেন এদেশের আপামত জনগণ জানেন, সে চেষ্টা আমাদের করা উচিত। এদেশের স্বাধীনতা ধরে রাখা এবং যে কোন আগ্রাসনের মোকাবেলার জন্য এটি জরুরী।

১০। ফাইনালি বলবো, কিছু কিছু মানুষ একই চিন্তার মধ্যে নতুন কিছু খোরাক জোগাড় করেন, নতুন এনালাইসিস বা তথ্য এনে দেখান, তারা অবশ্যই ধন্যবাদ পাবার যোগ্য। কিছু কিছু মানুষ চিন্তার নতুন নতুন ডাইমেনশন বা দিক উন্মোচন করেন, তারা আরও বেশী ধন্যবাদ পাবার যোগ্য। পিনাকীদা দ্বিতীয় ক্যাটাগরির।

Print Friendly, PDF & Email

Sharing is caring!