সাবধানের মার নেই: একতা ছাড়া বল নেই…
বিশেষ প্রতিবেদক
গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদেরসহ ভিপি নূর এর উপর হামলার পরপরই রাজশাহী ও চট্টগ্রাম ঢাকার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ ও গাজীপুরের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে শিক্ষার্থীদের উপর বিভিন্ন কৌশলে ও অজুহাতে হামলা চালানো হচ্ছে। প্রশাসন থেকে শ্রমজীবী মানুষও বলছেন এটি সুপরিকল্পিত সহিংসতা। দেশকে অস্থিতিশীল করতে উঠেপড়ে লেগেছে এক বা একাধিক পক্ষ। কিন্তু তখনও মুরব্বিদের বৃহৎ রাজনৈতিক দলটির কতিপয় নেতারা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র খুঁজছেন। তাদের জন্য নির্বাচন, নির্বাচন আর নির্বাচন। বাংলাদেশ জাহান্নামে যাক, শিক্ষার্থীরা মার খেয়ে মরে ভূত হয়ে যাক, তাতে তাদের কিছু যায় আসেনা। তাদের চাই নির্বাচন।।
এদিকে জুলাই বিপ্লবের চেতনায় বিশ্বাসী গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন একটিভিস্ট সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন, Elias Hossain dr.kanak sarwar -ড.কনক সরওয়ার Face the people – ফেস দ্যা পিপল মুখোমুখি সাইফুর রহমান সাগর, মাসুম মাহবুব এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক Pinaki Bhattacharya – পিনাকী ভট্টাচার্য বারবার এ বিষয়ে সতর্কতা দিয়ে আসছেন গত প্রায় আটমাস ধরেই। তারা বিপ্লবী সরকার গঠনের পক্ষে। তাদের যুক্তি, একমাত্র বিপ্লবী সরকার গঠিত হলেই বিডিআর হত্যাসহ গত প্রায় ১৭ বছরের সবগুলো গুম, খুন, হেফাজতে ইসলামের হত্যাযজ্ঞের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি দেশের ভিতর একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত হবে। নতুন সংবিধান এবং চুপ্পু ওয়াকার উজ জামান এর অপসারণ তাদের অন্যতম দাবী। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের হত্যাযজ্ঞ নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সেখানে ৭২ জন সেনা কর্মকর্তা দোষী সাবস্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ২৬ জন সরাসরি অভিযুক্ত এবং এরা সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান এর ঘনিষ্ঠ। যে কারণে তদন্তে সেনাপ্রধান বাধা সৃষ্টি করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ঐ প্রতিবেদনে। তারপরও গত একবছরে একটি বিচারও সম্পন্ন হয়নি এবং ৮ আগস্ট ২৪ এ গঠিত ইন্টেরিম সরকার ক্রমশ বিতর্কিত এবং দূর্বল সরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এখন।
ভিপি নূর এর উপর হামলার পরপরই সারাদেশে যে সহিংস অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে তা মোকাবেলা করতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে ঢিলেমী স্পষ্ট। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য চিৎকার করে সাহায্য চেয়ে পাননি। অথচ ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মাঠে রয়েছে।
অনেকই বিভিন্নভাবে এই সহিংস অরাজকতাকে নির্বাচন পিছিয়ে নেয়ার কৌশল দাবী করছেন। আর এ জন্য এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করছেন। আসলে কি তাই? জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ সমমনা কিছু ছোট রাজনৈতিক দলের দাবী পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন। কারণ তারা আসনের ভাগ চায়। এমনিতেই জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৩২ দফার ভিতর স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, তারা ক্ষমতায় গেলে সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবেন এবং উচ্চ-কক্ষ ও নিম্ন-কক্ষ করবেন। তাহলে আগেই তা মেনে নিতে সমস্যা কোথায়? নির্বাচন পিছিয়ে দিতে এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামী সহিংসতা করছে বলে বড়োদল বিএনপির কতিপয় নেতাদের এই রসিকতা কতটা ভয়ংকর তা অল্পসময়ের মধ্যে টের পাবেন। যদি এখনই জুলাই বিপ্লবের চেতনা বহনকারী সবগুলো রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ না হয়। বিএনপি নেতৃবৃন্দ কি মনে করেন, নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচন হবে? বিএনপি ক্ষমতায় আসবে এবং ভারত তা হাসিমুখে মেনে নেবে? ভারতের কাছে জামায়াতে ইসলামী যা, বিএনপিও তা। ভারতের মুসলিম বিদ্বেষী মোদী সরকার বিএনপিকে কখনোই বন্ধু ভাবতে পারবেনা, ভাববেও না। এটা পরিষ্কার। বিশ্বাস না হলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে আলোচনা করে দেখুন প্লিজ। আল্লাহ চাইলে তিনিই এখন বাংলাদেশের একমাত্র রক্ষাকর্তা। চলমান পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে এই মুহূর্তে তাকে রাষ্ট্রপতির আসনে বসিয়ে নিন প্লিজ।।।
(ব্যবহার করা ছবি সংগৃহীত))








