শিক্ষাগুরু ওয়াহিদুল হক স্মরণে আলোচনা, আবৃত্তি ও সংগীত

সাবা প্রতিবেদক

Sharing is caring!

শিক্ষাগুরু ওয়াহিদুল হক স্মরণে আলোচনা, আবৃত্তি ও সংগীত

গতকাল সন্ধ্যায় স্মৃতিচারণ, সংগীত ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শিক্ষাগুরু ওয়াহিদুল হকের মৃত্যুবার্ষিক উদ্যাপন করেছে তাঁর হাতে গড়া সংগঠন কণ্ঠশীলন।
৭৩/১ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে পথচলার স্মৃতি তুলে ধরেন তাঁর কাছের মানুষ আব্দুল ওয়াদুদ। আরও আলোচনা করেন মীর বরকত, গোলাম সারোয়ার ও বিলকিস আহমেদ। আবৃত্তি করেন রাজিয়া সুলতানা মুক্তা, আল মামুন সিদ্দিক, অনন্যা গোস্বামী ও রইস উল ইসলাম। এছাড়াও তাঁকে নিবেদন করে সংগীত পরিবেশন করেন সাঈদা হোসেন পাপড়ী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নুরুজ্জামান নান্নু।
ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে পথচলার স্মৃতিময় কিছু ঘটনা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ওয়াহিদুল হক ছোট বড় সকলের সাথে মিশতেন এবং সকলকে সম্মান করতেন। তার ভক্ত ছিল না এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যাবে। তার সমস্ত কর্মজীবনে বাঙালি সংস্কৃতির আলো ফুটেছিলো। সকল সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি মানুষের ভেতরে সঙ্গীতের অনুরনন তুলেছিলেন। ওয়াহিদুল হকের আদর্শে পথ চললে জীবনের পথগুলো অনেক বেশি সুন্দর হবে। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, দেশের সবধরনের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে ওয়াহিদুল হক ছিলেন এক নিরন্তর যোদ্ধা। ওয়াহিদুল হককে অনুসরণ করলে আমরা অসা¤প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক হতে পারবো এবং মানুষের জন্য কাজ করতে পারবো। তিনি দেশের নামকরা পত্রিকায় কাজ করেছেন। শেষ জীবনে তিনি কলাম লিখতেন। এমন কোন বিষয় ছিল না যে বিষয়ের উপর তিনি লিখতে পারতেন না। শব্দের উৎপত্তি ও ব্যবহার তিনি অভিধান না দেখেই বলে দিতে পারতেন। অসাধারণ সুন্দর মানসিকতার মানুষ হয়েও তিনি সাধারণ জীবনযাপন করতেন।
ওয়াহিদুল হক আজ বহুদূরে, জগতের যত হাসি—কান্না, হিসাব—নিকাশের বাইরে। আবার বহুকাছেও আছেন তিনি, তাঁর কর্মে, তাঁর সৃষ্টির পথে পথে, অন্তরের অনুরণনে Ñ কথাহীন, শরীরহীন অনন্ত হয়ে। দিন চলে যায়, চলে যাবে। তবে তাঁর ছেঁায়াটুকু, কর্মটুকু থাকবে, থাকতেই হয়, যেমনটি করে সক্রেটিস, লালন বেঁচে আছেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। প্রয়াত নাজিম মাহমুদ ওয়াহিদ ভাইকে বলতেন ‘হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা’। ঠিক তাই। বাঁশির সুর ছড়িয়েছিলেন তিনি পথে পথে, পদে—পদে জাতিসত্তার ‘চির উন্নত শিরে’ অবগাহনে। সেই সুর তাঁকে চিনিয়ে দিবে কালে কালে। অবিশ্বাস্য তাঁর পথচলাসীমানা, অবিশ্বাস্য তাঁর পরিচিতজন—স্বজন পরিধি বয়সের গণনাকে তুচ্ছ করে। ওয়াহিদ ভাই Ñ এর সঙ্গে সম্পর্কিত সকলের একটা বদ্ধমূল ধারণা কিংবা সকলে বিশ্বাস করে ওয়াহিদ ভাই Ñ সঙ্গে তারই কেবল আলাদা এবং অথচ গভীর একটি আত্মিক সম্পর্ক আছে এমনটা আর কারও সঙ্গে নেই। আমরা বিশ্বাস করি, এই আত্মীয়তা নিয়ে ওয়াহিদ ভাই বেঁচে থাকবেন সবার মাঝে।
জীবিতকালে ২৭ সংখ্যাটিকে ওয়াহিদুল হক খুব পছন্দ করতেন, বয়স গণনায় তিনি আনন্দের সঙ্গে বলতেন যে, ‘বয়সটাকে আমি সাতাশে রাখতে চাই’। আরও বলতেন ‘একজন মানুষের সেরা বয়সকাল হওয়া উচিৎ ২৭’। কত পথ—মতকে তিনি সাবলীল করেছেন, অর্জন করেছেন অনেক। আবৃত্তিকেও তাঁর আরেক ভালোবাসার জগত বলে মেনেছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

Sharing is caring!