বরিশাল ৫ আসনের রাজনীতি: বিএনপি আর জামায়াতে দৃষ্টি মানুষের

আরিফ আহমেদ

Sharing is caring!

বরিশাল ৫ আসনের রাজনীতি: বিএনপিতে শেষ সুযোগ চায় সরোয়ার: রহমতুল্লাহ ছাড়াও প্রচারণা চালাচ্ছেন অনেকে।
সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে জামাায়াত ইসলামির প্রার্থী হেলাল। বাড়ছে জনপ্রিয়তা 
বিশেষ প্রতিবেদক

Oplus_131072

আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন। যে কারণে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচন নিয়ে বেশ তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বিএনপি ছাড়া অন্য প্রায় সব রাজনৈতিক দল তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে দিয়েছেন। কেননা তাদের মধ্যে মনোনয়ন বাণিজ্য বলে কিছু নেই। তারা যোগ্যতা অনুযায়ী তাদের প্রার্থী নির্ধারণ করেন। ফলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামি আন্দোলন এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই সারাদেশে তাদের মনোনীত প্রার্থীদের জনসংযোগ শুরু হয়ে গেছে। বরিশাল ৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযয্ম হোসাইন হেলাল প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছেন। আবার ইসলামি আন্দোলন এর সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম এবং বাসদ নেত্রী ডাঃ মনীষা চক্রবর্তী বরিশাল ৫ আসনের মনোনয়ন পেয়েছেন। তারা সবাই ইতিমধ্যেই বরিশাল মহানগরীর ৩০ ওয়ার্ড এবং সদর উপজেলার ১০ ইউনিয়নে জনসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন। যাচ্ছেন সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে। জানতে চাচ্ছেন তাদের সমস্যা। দল ক্ষমতায় গেলে এসব সমস্যার সমাধান করার আশ্বাসও দিচ্ছেন।
ব্যতিক্রম শুধু এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বিতর্কিত বড়ো রাজনৈতিক দলটি। এখন পর্যন্ত কোথাও তাদের কোনো প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়নি। যে কারণে তাদের বেশিরভাগ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শহর বা পৌরশহর কেন্দ্রিক। প্রত্যন্ত গ্রামে সাধারণ মানুষের দুয়ারে যাওয়ার মতো আগ্রহ তাদের মধ্যে নেই বললেই চলে। প্রতিটি স্থানে তাদের চার বা ততোধিক প্রার্থীর প্রচারণা চলছে। শুধুমাত্র বরিশাল ৫ আসনের জন্য মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রায় ৭/৮ জন। তাদের মধ্যে অন্যতম চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য ও মেয়র এ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার, উপদেষ্টা ও ঢাকার সাবেক সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, পদস্থগিত সাবেক বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ। এছাড়াও মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে লবিং চালাচ্ছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুকসহ আরো অনেকে ।

Oplus_131072

এদের মধ্যে আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ গত ২০১৮ সাল থেকে সদর উপজেলার ১০ ইউনিয়নে তার প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। গ্রামাঞ্চলে তার নাম মানুষের মুখে মুখে। আবার বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মজিবুর রহমান সরোয়ারের পক্ষে তার সমর্থকরা শেষবারের মতো একটা সুযোগ চাচ্ছেন বলে জানা গেছে। বয়সের ভারে নূয়ে পরা মজিবুর রহমান সরোয়ার ইদানীং প্রায়শই অসুস্থ এবং চিকিৎসাধীন থাকেন। মৃত্যুর আগে সংসদ সদস্য হিসেবে মৃত্যুবরণ করার স্বপ্ন দেখেন তিনি। তার পক্ষে এ জাতীয় প্রচারণা পৌঁছে গেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছেও। আবার মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও পদস্থগিত হওয়ার কারণে নিজের মেজাজ হারাচ্ছেন সাবেক বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন। প্রায়শই তার সাথে বরিশালের সাংবাদিকদের বাকবিতন্ডা হচ্ছে কিম্বা মামলা মোকদ্দমায় জড়াচ্ছেন তিনি। লোকাল পত্রিকায় তার ছবি ছাপা হওয়া না হওয়া নিয়েও মেজাজ হারানোর অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।  সবমিলিয়ে বরিশাল ৫ বা সদর আসনে এই মুহূর্তে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুয়াযয্ম হোসাইন হেলাল। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী ফয়জুল করিমও আলোচনায় আছেন তবে তার মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হওয়াই উত্তম বলে মনে করেন বেশিরভাগ মানুষ। বরিশালে বাসদ নেত্রী ডাঃ মনীষা চক্রবর্তী বেশ জনপ্রিয় হলেও তা শুধুই রিক্সাচালক ও শ্রমিকদের মধ্যে। যাদের বেশিরভাগ মানুষ সদর উপজেলার ভোটারই নয়। তাই এই নির্বাচনী যুদ্ধে বরিশালে ৫ আসনে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য নয় বলে মনে করেন সদর আসনের একাধিক ভোটার। তবে তরুণ ভোটারদের সবাই একবাক্যে স্বীকার করেন বরিশাল সদর আসনের গুরুত্ব। তারা বলেন, এই আসনে যে দল জয়লাভ করবে তাদের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে বরিশালের ছয়টি আসনসহ অন্য ছয় জেলার ২১টি আসন।

যতদুর জানা যায়, স্বাধীনতার পর বরিশাল ৫ আসনের নির্বাচনে (১৯৭৩ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এ আসনে দুটি উপ নির্বাচনসহ) ১০টি নির্বাচনের মধ্যে ৮টিতে জয় পেয়েছিল বিএনপি। এছাড়া আওয়ামী লীগ একবার ১৯৭৩ সালে এবং ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি একবার বিজয়ী হয়।
এই আসনে বিজয়ী বিএনপির দোর্দণ্ড প্রতাপশালী নেতাদের মধ্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস, তার ছেলে নাসিম বিশ্বাস ও মজিবুর রহমান সরোয়ার একাধিকবার প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে এর মধ্যে সব থেকে বেশিবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সারোয়ার। তিনি টানা তিনবারসহ চারবার এ আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়েছেন। এবারেও তিনি এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পত্র চাইবেন বলে অনুসারীরা জানিয়েছেন। তবে এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের আরেক উপদেষ্টা বরিশালের সন্তান সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। এই দুই উপদেষ্টার সাথে বিএনপির জাতীয় কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতউল্লাহ, এবাশদুল হক চান, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুকও আছেন তালিকায়। পেশায় ব্যবসায়ী এই প্রার্থীদের সবাই বিরোধী দলের রাজনীতিতে থেকে বিগত সময়ে একাধিক মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন। তবে বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপি বিগত ফ্যাসিবাদের সময়ের পুরোপুরি সমঝোতা করে চলতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে জেলা ও মহানগর কমিটি থেকে সরোয়ার ও চানকে সরিয়ে দপয়া হয়। তবে জুলাই বিপ্লবের সূচনালগ্ন থেকেই প্রতিবাদমূখর বিএনপি। বরিশালের অনেক নেতাই একাধিকবার কারবারণ করেছেন। ফলে বলাই যায়, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বরিশাল সদর আসনে বিএনপির ভেতরে চলছে আরেক লড়াই। কে পাবেন দলীয় প্রতীক, আর তা নিয়ে যেন ভেতরকার ঠান্ডা যুদ্ধ স্পষ্ট টের পাচ্ছেন বরিশালের রাজনীতি সচেতন নাগরিকরা। যদিও সাড়ে ৪ লাখ ভোটারের এই আসনে ব্যতিক্রমী আলোচনা রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থীর ক্ষেত্রে। এ দলে সবাই তাকিয়ে থাকেন দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর। সেক্ষেত্রে ২০১৮ সালের মতো এবারেও এ আসনে দলের সিনিয়র নায়েবে আমির ও চরমোনাই পীরের ভাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়ায় বেশ উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তবে বিতর্কিত আলোচনা রয়েছে তার বিগত বরিশাল সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহন নিয়ে। জাপার মতো ইসলামি আন্দোলনও আওয়ামী লীগ কে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করার গল্প ধোপো টেকেনি জুলাই বিপ্লবে তাদের বলিষ্ঠ ভূমিকার জন্য।  এছাড়াও সেময় ভোটের দিন মেয়র প্রার্থী এই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলারও শিকার হয়েছিলেন। যা নিয়ে এখনও আলোচনা হয় নগরীতে।

Oplus_131072

অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এ্যাডভোকেট মুয়াযয্ম হোসাইন হেলাল এর জনপ্রিয়তা দিনকে দিন বেড়েই চলছে। ব্যক্তি হিসেবে পরিচ্ছন্ন ইমেজের এবং দলের জন্য ত্যাগী ও পরীক্ষিত একজন নেতা তিনি। তাকে ঘীরে মহানগর ও জেলা উপজেলার জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ প্রচারণা চলছে সদর উপজেলার ১০ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামে।

এরপরও গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিএনপির প্রার্থীর জন্য অপেক্ষা দেখা গেছে। অনেকেই এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বলছেন, সব দল তাদের প্রার্থী নিশ্চিত করলেও বিএনপি কেন চুপ। তবে কি তারা নির্বাচন আরো পেছাতে চাচ্ছেন? আবার কেউ কেউ বলছেন, মনোনয়ন বাণিজ্যের পথ সম্ভবত এখনো সহজ হয়নি। এজন্য দেরী হচ্ছে। তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরলেই তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ।
বরিশাল ৫ আসনের চরমোনাই ইউনিয়নের বাসিন্দা আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ আরো বলেন, জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতি হবে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন। এখানে মনোনয়ন বাণিজ্যের আর কোনো সুযোগ নেই, থাকবে না। আমাদের নেতা তারেক রহমান দেশে ফিরে যাকে যেখানে মনোনয়ন দেবেন তাকে ঘীরেই বিএনপিসহ সব অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এটা শুধু তারেক রহমান নয়, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ারও পরিষ্কার নির্দেশ রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এবার বিএনপির মনোনয়ন জনগণের ভোটের মাধ্যমে দেয়া হবে। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাওয়া নেতাকে খুঁজে বের করে মনোনয়ন দেবে বিএনপি।
টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের একজন তরুণ ভোটার আশারফ আলী হাওলাদার বলেন, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা কীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তা সবাই জানে। তবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে প্রার্থী হোক না কেন বরিশাল সদর আসন বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ভোটার সম্পৃক্ত নির্বাচনে এখানে জয়ী হতে হলে বিএনপিকেই বড় প্রতিপক্ষ বলে মেনে নিতে হবে অপর প্রার্থীদের। আর বিএনপিকে অবশ্যই সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহনযোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে হবে বরিশাল অঞ্চলের সব জেলায়।
গত ১৭ বছরে ২৫টির ওপর মামলার আসামি বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সারোয়ার আগামী  নির্বাচনের বিষয়ে বলেন, সংস্কারও যেমন প্রয়োজন তেমনি নির্বাচনও প্রয়োজন, মানুষ চায় ভোট দিতে। তাই নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার চালিয়ে যেতে হবে। এসময় তিনি ত্রয়োদশ নির্বাচনে শেষবারের মতো নিজের প্রার্থী হওয়ার কথাও জানান ।

Oplus_131072

এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ্যাডভোকেট মুয়াযয্ম হোসাইন হেলাল বলেন, নতুন বাংলাদেশে ছাত্র-জনতা যে পরিবর্তন চায় সেই পরিবর্তনের নীতি আদর্শ নিয়ে জামায়াত ইসলাম কাজ করছে। আশা করি আমাদের সাথে ভোটাররা থাকবেন এবং আগামীর সুন্দর দেশ গড়তে অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন। আমরা কথা নয়, কাজ দিয়ে প্রমাণ করবো ইনশাআল্লাহ। একাধিক মামলার আসামি ও বহুবার কারাবরণকারী এই নেতা আশা করেন, জামায়াতে ইসলামী বরিশালের সবকয়টি আসন থেকে বিজয়ী হবে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহবুব খান বলেন, সব রাজনৈতিক দল যখন তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে, তখন বিএনপির মধ্যে মনোনয়ন নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে। এটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আবার বিগত সময়ের মতো যদি প্রার্থী বাছাই টাকার জোড়ে হয়, তাহলেও সমস্যা সৃষ্টি হবে। আমরা চাই জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাওয়া একজন নেতা। সেটা শুধু বিএনপি বা জামাত নয়, সব রাজনৈতিক দলের থেকে একজন সৎ, সুশিক্ষিত প্রার্থী চাই আমরা।
Print Friendly, PDF & Email

Sharing is caring!

About the author

ডিসেম্বর ৭১! কৃত্তনখোলার জলে সাঁতার কেটে বেড়ে ওঠা জীবন। ইছামতির তীরঘেষা ভালবাসা ছুঁয়ে যায় গঙ্গার আহ্বানে। সেই টানে কলকাতার বিরাটিতে তিনটি বছর। এদিকে পিতা প্রয়াত আলাউদ্দিন আহমেদ-এর উৎকণ্ঠা আর মা জিন্নাত আরা বেগম-এর চোখের জল, গঙ্গার সম্মোহনী কাটিয়ে তাই ফিরে আসা ঘরে। কিন্তু কৈশরী প্রেম আবার তাড়া করে, তের বছর বয়সে তের বার হারিয়ে যাওয়ার রেকর্ডে যেন বিদ্রোহী কবি নজরুলের অনুসরণ। জীবনানন্দ আর সুকান্তে প্রভাবিত যৌবন আটকে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পদার্পন মাত্রই। এখানে আধুনিক হবার চেষ্টায় বড় তারাতারি বদলে যায় জীবন। প্রতিবাদে দেবী আর নিগার নামের দুটি কাব্য সংকলন প্রশ্ন তোলে বিবেকবানের মনে। তার কবিতায়, উচ্চারণ শুদ্ধতা আর কবিত্বের আধুনিকায়নের দাবী তুলে তুলে নেন দীক্ষার ভার প্রয়াত নরেণ বিশ্বাস স্যার। স্যারের পরামর্শে প্রথম আলাপ কবি আসাদ চৌধুরী, মুহাম্মদ নুরুল হুদা এবং তৎকালিন ভাষাতত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজীব হুমায়ুন ডেকে পাঠান তাকে। অভিনেতা রাজনীতিবিদ আসাদুজ্জামান নূর, সাংকৃতজন আলী যাকের আর সারা যাকের-এর উৎসাহ উদ্দিপনায় শুরু হয় নতুন পথ চলা। ঢাকা সুবচন, থিয়েটার ইউনিট হয়ে মাযহারুল হক পিন্টুর সাথে নাট্যাভিনয় ইউনিভার্সেল থিয়েটারে। শংকর শাওজাল হাত ধরে শিখান মঞ্চনাটবের রিপোটিংটা। তারই সূত্র ধরে তৈরি হয় দৈনিক ভোরের কাগজের প্রথম মঞ্চপাতা। একইসমেয় দর্শন চাষা সরদার ফজলুল করিম- হাত ধরে নিযে চলেন জীবনদত্তের পাঠশালায়। বলেন- মানুষ হও দাদু ভাই, প্রকৃত মানুষ। সরদার ফজলুল করিমের এ উক্তি ছুঁয়ে যায় হৃদয়। সত্যিকারের মানুষ হবার চেষ্টায় তাই জাতীয় দৈনিক রুপালী, বাংলার বাণী, জনকণ্ঠ, ইত্তেফাক, মুক্তকণ্ঠের প্রদায়ক হয়ে এবং অবশেষে ভোরেরকাগজের প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়ান ৬৫টি জেলায়। ছুটে বেড়ান গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। ২০০২ সালে প্রথম চ্যানেল আই-্র সংবাদ বিভাগে স্থির হন বটে, তবে অস্থির চিত্ত এরপর ঘনবদল বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, আমাদের সময়, মানবজমিন ও দৈনিক যায়যায়দিন হয়ে এখন আবার বেকার। প্রথম আলো ও চ্যানেল আই আর অভিনেত্রী, নির্দেশক সারা যাকের এর প্রশ্রয়ে ও স্নেহ ছায়ায় আজও বিচরণ তার। একইসাথে চলছে সাহিত্য বাজার নামের পত্রিকা সম্পাদনার কাজ।