<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>ইজারাদার &#8211; সাহিত্য বাজার</title>
	<atom:link href="https://shahittabazar.com/tag/%e0%a6%87%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b0/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://shahittabazar.com</link>
	<description>সাহিত্যের আয়নায় মানুষের মুখ</description>
	<lastBuildDate>Sun, 14 Dec 2025 09:38:25 +0000</lastBuildDate>
	<language>bn-BD</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.0.4</generator>
	<item>
		<title>চরকাউয়া খেয়াঘাট ইজারা দেওয়ার ষড়যন্ত্র: সাধারণ মানুষের ক্ষতি করে রাজস্ব খুঁজছে প্রশাসন</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%89%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%96%e0%a7%87%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%98%e0%a6%be%e0%a6%9f-%e0%a6%87%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%89%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%96%e0%a7%87%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%98%e0%a6%be%e0%a6%9f-%e0%a6%87%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 14 Dec 2025 09:05:59 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জাতীয়]]></category>
		<category><![CDATA[বরিশাল বিভাগ]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলার চিঠি]]></category>
		<category><![CDATA[ইজারাদার]]></category>
		<category><![CDATA[প্রশাসন]]></category>
		<category><![CDATA[বাজার]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=5866</guid>

					<description><![CDATA[<p>চরকাউয়া খেয়াঘাট ইজারা দেওয়ার ষড়যন্ত্র: সাধারণ মানুষের ক্ষতি করে রাজস্ব খুঁজছে প্রশাসন</p> <p>,বিশেষ প্রতিবেদক</p> <p>এই মুহূর্তে বরিশালের চরকাউয়া খেয়াঘাট ইজারা দেওয়ার পায়তারা বন্ধের আন্দোলন করছে ছাত্র জনতা। তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%89%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%96%e0%a7%87%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%98%e0%a6%be%e0%a6%9f-%e0%a6%87%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>চরকাউয়া খেয়াঘাট ইজারা দেওয়ার ষড়যন্ত্র: সাধারণ মানুষের ক্ষতি করে রাজস্ব খুঁজছে প্রশাসন</strong></p>
<p>,<strong>বিশেষ প্রতিবেদক</strong></p>
<p><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/IMG_20251214_150847.png"><img decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-5868" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/IMG_20251214_150847-300x195.png" alt="" width="300" height="195" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/IMG_20251214_150847-300x195.png 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/IMG_20251214_150847-1024x666.png 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/IMG_20251214_150847-768x500.png 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/12/IMG_20251214_150847.png 1136w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>এই মুহূর্তে বরিশালের চরকাউয়া খেয়াঘাট ইজারা দেওয়ার পায়তারা বন্ধের আন্দোলন করছে ছাত্র জনতা। তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু নাসের মোঃ রহমতুল্লাহ। ইজারা মুক্ত টোল ফ্রি এই খেয়াঘাট সহ বরিশাল জেলাধীন সবকটি খেয়াঘাট ইজারা মুক্ত করার দাবী বরিশালবাসীর। কেননা এই ইজারাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দিনকে দিন বাড়ছে। এমনকি এ নিয়ে হত্যার মত ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। প্রতিবছর এই ইাজারা যুদ্ধে ঘাটের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাণহানি, ভাড়া বৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষের উপর হয়রানি ও জুলুম বাড়ছে বলে জানান তারা।<br />
তাদের অভিযোগ, প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরন এর সময়ে চরকাউয়া খেয়াঘাট টোল ফ্রি ও ইজারা মুক্ত করা হয়। এরপর তিনি বরিশালের আরো চারটি খেয়াঘাট টোল ফ্রি করার ঘোষণা দেন। যদিও পরবর্তীতে জেলা পরিষদ তা এড়িয়ে যায় ও ইজারা পুনর্বহাল করে। তানা হলে তালতলি, দপদপিয়া ও মীরগঞ্জ খেয়াঘাটও এখন টোল ফ্রি হতো বলে জানান বাবুগঞ্জ ও সদর উপজেলার বাসিন্দারা।<br />
এদিকে চরকাউয়া খেয়াঘাট ইজারা বন্ধের দাবীতে ঐক্যবদ্ধ বরিশালের ছাত্র জনতা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, বিআইডব্লিউটিএর পোর্ট রোড বাজার অংশ চলতি অর্থবছরে চার কোটি টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। এতে করে কর্তৃপক্ষের লোভ বেড়ে গেছে এবং তারা চরকাউয়া খেয়াঘাট ইজারা দিতে বিভিন্ন অযুহাত খুঁজছে। এ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে এবং ইজারার নামে নতুন করে সাধারণ মানুষকে হয়রানির এই চক্রান্ত বন্ধ করার আন্দোলনকারীদের।<br />
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ বলেন, ইজারা মানেই হচ্ছে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করা। দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা দূর করা বা সিণ্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার দায়িত্ব প্রশাসনের। প্রশাসন তা না করে ইজারা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যা অবশ্যই উদ্দেশ্যমূলক এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে আঁতাতের গন্ধ এখানে রয়েছে।<br />
রহমতউল্লাহ বলেন, আমরা উন্নয়নের পক্ষে। বেকারত্ব দূরীকরণের পক্ষে। বরিশালে সবরকম ইজারা প্রথা বাতিল করে সরাসরি সরকারের নিয়ন্ত্রণ বা বিকল্প উন্নয়ন ও রাজস্ব আদায় কৌশল গ্রহণের দাবী আমাদের। এতে করে সরকারি ভাবেই আউটসোর্সিং লোকবল নিয়োগ হতে পারে বলে জানান তিনি।<br />
চরকাউয়া খেয়াঘাটের কয়েকজন ঘাট শ্রমিক বা ট্রলার চালকের সাথে কথা বলে জানা যায়, একটি দল এটি ইজারা দিতে প্রশাসনকে উষ্কে দিয়ে ফায়দা লুটতে চায়। ঘাট সিন্ডিকেট ও বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ তুলে তারা প্রশাসনকে উষ্কে দিচ্ছে। নতুন ট্রলার ঘাটে যুক্ত করতে এসে পুরাতনদের বাধার মুখে পরে তারা। ফলে এখানে সিন্ডিকেট রয়েছে এই অভিযোগে নৌ উপদেষ্টা সাখাওয়াতকে দিয়ে এই ইজারা মুক্ত খেয়াঘাট পুনরায় ইজারা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান চরকাউয়া খেয়াঘাটের একাধিক মাঝি বা শ্রমিক।<br />
এদিকে সাধারণ মানুষের দাবি, প্রতিবছর হাট-বাজার ও খেয়াঘাটের ইজারা যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে তা অচিরেই ভয়ংকর রূপ ধারণ করবে। উদাহরণ হিসেবে তারা বলেন, সম্প্রতি বরিশাল পোর্ট রোড বাজার ও দপদপিয়া পুরাতন খেয়াঘাট ইজারা দেওয়া হয়েছে কোটি টাকার উপরে। আবার লঞ্চঘাটের ইজারা হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। বিআইডব্লিউটিএর প্রশাসন এগুলো করছে শুধু তাদের আয় বা রাজস্ব বৃদ্ধির দোহাই দিয়ে। এরফল ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও যাত্রীদের। অন্যদিকে গ্রামের একটি ছোট বাজারের ইজারা হয়েছে দেড় লাখ টাকা আবার ফেরীঘাট, ব্রীজ ও সেতুর ইজারা ২০ থেকে ৫০ কোটি ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলে জানান তারা।<br />
শুধুমাত্র বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকার ১৭টি বাজারের ১৪টির ইজারা হয়েছে এরকম কোটি টাকার কাছাকাছি দরে। এতোদিন এগুলো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দখলে থাকলেও এখন তা চলে এসেছে শক্তিশালী পক্ষের কাছে। কেউ পুরাতন ইজারাদারের সাথে চুক্তিভুক্ত হয়ে কাজ করছেন, আবার কেউ নিজেই দখল করে নিয়েছেন পুরো ইজারা প্রক্রিয়া। মাঝখানে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ গুনছেন বাড়তি টাকা। রাজস্ব ও উপার্জন বৃদ্ধির প্রলোভনে পরে সরকার যেমন এটাকে সমর্থন দিচ্ছেন তেমনি রাজনৈতিক দলগুলো দিচ্ছেন বাহবা। কেননা যেখানে যা-ই ইজারা হোক পাচ্ছেতো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের লোকেরাই।<br />
৯০ দশকে ১৪-১৬ হাজার টাকার বাজার বা ঘাট, কিম্বা ব্রীজের টোলঘর রাতারাতি কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করেছে ২০১৩ সালে এসে। এতে সরকারের রাজস্ব বেড়েছে বলে দাবী প্রশাসনের। যদিও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বেশিরভাগ ইজারা লোকসানে বা বাকীতে থাকায় ভর্তুকী গুনতে হচ্ছে সরকারকে। অন্যদিকে এই দর বৃদ্ধির প্রভাবে রাতারাতি ৫ টাকার খেয়াভাড়া ১০ বা ১৫ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। আবার পোর্ট রোড বাজারে ১০০ টাকার বদলে ২০০ টাকা গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। যা নিয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই প্রশাসন বা রাজনৈতিক দলগুলোর কারোই। আবার অনেক স্থানে বাতিল করে দেয়া ব্রীজ ও খেয়াঘাটের নতুন করে ইজারা দেওয়ার অভিযোগ সড়ক বিভাগ ও স্থানীয় সরকার বিভাগের বিরুদ্ধে। আর এই ইজারাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সংঘাত লেগেই আছে।<br />
সরেজমিনে বরিশালের ইজারা পরিস্থিতি যাচাই করতে এসে উঠে এলো এমন অসংখ্য ভয়াবহ চিত্র। ৫ আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা বাজার মনিটরিং এ এসে বরিশালের প্রায় প্রতিটি বাজারে নির্দিষ্ট খাজনা চার্ট ঝুলিয়ে রশীদ দিয়ে খাজনা আদায়ের নির্দেশনা দিয়ে যায়। কিন্তু সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন বাজার ঘুরে কোথাও কোনো সিটি চার্ট খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রথম কয়েকদিন বাজারসহ বিভিন্ন টোলপ্লাজা ও ফেরীঘাটে সহনীয় অবস্থা বিরাজ করলেও এখন সবখানে পূর্বের আগ্রাসন ও হয়রানির চিত্র। জানা গেছে, ইসলামি দলগুলো বাদে প্রায় সব রাজনৈতিক দলের নেতারাই এখন এই ইজারা সুবিধায় লাভবান হচ্ছেন। এমনকি এনসিপি ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতারাও রয়েছেন এ তালিকায়। সাধারণ মানুষের দাবী এই ইজারা প্রথা বাতিল করে সহনীয় কিছু করা হোক। সরাসরি সরকারের নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা হতে পারে।<br />
এ ক্ষেত্রে ১৫/২০ বছরের বেশি বয়সের খেয়াঘাট, বাজার ও ব্রীজগুলো ইজারা মুক্ত ঘোষণার দাবী তাদের। যদিও প্রশাসন বলছে, তাহলে স্থানীয় সরকার, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের আয়ের পথ বন্ধ হবে। এগুলো চলবে কি করে?<br />
এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ ও সচেতন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বক্তব্য হচ্ছে, এজন্য নিয়মিত বাসাবাড়ি ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান সরকারকে খাজনা বা ট্যাক্স দিচ্ছে। ইজারা প্রথা যতনা উপকার করছে, তারচেয়ে ক্ষতি করছে কয়েকগুণ বেশি বলে জানালেন বরিশালের কয়েকটি গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ সদসরাও। উদাহরণ হিসেবে তারা সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের তালুকদার হাট বাজারটি ঘুরে দেখার প্রস্তাব করেন। বলেন, ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়ার পর বাজারের অংশে আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করেছে উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তারা। এখন ব্যাক্তিগত স্থানে বাজার বসে সেখানে।<br />
এসময় রূপাতলী বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে আসা মেহেন্দিগঞ্জের গাড়ি চালক আলী ও তার যাত্রীরা জানান, ঝালকাঠির কাঠালিয়া সেতুটি টোল মুক্ত ছিলো বিগত সরকারের সময়ও। এখন সেখানে হঠাৎ করে টোলঘর নির্মাণ হয়েছে। এই মাত্র ১২০ টাকা টোল দিয়ে এলাম। আবার পথে মীরগঞ্জ ফেরীতে যানবাহন পারাপারের রশীদ দেওয়া হচ্ছে রিজার্ভ রশীদ। প্রতিবাদ করলে মারমুখী আচরণ করছে ইজারাদারের লোক। এখানে মীরগঞ্জ ও তালতলী খেয়াঘাট নিয়ে টোল ফ্রি আন্দোলন করছেন চরমোনাইবাসী ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ।<br />
বরিশাল সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে ১৭টি হাট-বাজার রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি হাট-বাজারের ইজারা রয়েছে। সরকার পতনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী ও জনতা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে বৈঠক করে নগরীর নতুন বাজার, বাংলা বাজার ও সাগরদি বাজারের ইজারা মুক্ত করেন। ফলে এই তিন বাজারের ব্যবসায়ীদের কোনো ইজারদারকে চাঁদা বা খাজনা দিতে হয় না এখন। তারপরও বাজার তিনটিতেই পোর্ট রোড বাজারের তুলনায় সব পণ্যের দাম বেশি রাখা হয় বলে একাধিক অভিযোগ ক্রেতাদের। কিন্তু যেসব বাজারের ইজারা এখনো চলমান রয়েছে তারমধ্যে চৌমাথা ও পোর্ট রোড অন্যতম। এ দুটি বাজারে কোথাও কোনো ইজারাকৃত মূল্য তালিকার সিটি চার্ট দেখা যায়নি। ফলে নিজেদের ইচ্ছেমতো মূল্য নিচ্ছেন ইজারাদাররা। প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। আর বাড়তি মূল্যের চাপ পড়ছে ক্রেতাদের ওপর।<br />
ব্যবসায়ীরা জানান, টোকেন (রশিদ) ছাড়াই খাজনা উত্তোলন করেন ইজারাদাররা। ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে এই বাজারে কোনো সিটি চার্ট নেই। ফলে যতখুশি তত টাকা নেন ইজারাদাররা। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য ভাসমান ভ্যান ব্যবসায়ী থেকে ৫০/১০০ করে টাকা নেওয়া হয়। আর ব্যবসায়ীরা জানেন না, তারা জমির খাজনা বেশি দিচ্ছেন না কম দিচ্ছেন।<br />
মুরগি ব্যবসায়ী সৈকত মির্জা বলেন, চৌমাথা বাজার জমে ওঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত সিটি চার্ট দেখিনি। ফলে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন ইজারাদাররা।<br />
পোর্ট রোড বাজারের ব্যবসায়ী জহির বলেন, ২৫ থেকে ৩০ বছর ব্যবসা করছি। কিন্তু কখনো সিটি চার্ট দেখানো হয়নি আমাদের। যেটি প্রতিটি বাজারে সিটি করপোরেশনের লোকদের টানিয়ে দেওয়ার কথা।<br />
পোর্ট রোড বাজারের সবজি বিক্রেতা জয়নাল, মাছ ব্যবসায়ী জহির ও আলমাসসহ ব্যবসায়ীরা বলেন, পোর্ট রোড বাজার দুইভাগে বিভক্ত। একাংশ বিআইডব্লিউটিএর বাকী অংশ সিটি করপোরেশনের। ২০০৯ সালের এটি যখন প্রথম ইজারা হয় তখন মাত্র ৮/১০ হাজার টাকায় দরপত্র হয়। এরপর ইজারাদারদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থেকে প্রতিবছরই ইজারার মূল্য বাড়তে থাকে। সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হীরণ তাই রাগ করে সব ইজারা বাতিল বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। এমনকি সিটি করপোরেশনের বাইরের তালতলী ও মিরগঞ্জ খেয়াঘাটের ইজারাও তুলে নেওয়ার প্রস্তাব ছিলো তার।<br />
মেয়র হীরন মারা যাওয়ার পরপরই চরকাউয়া খেয়াঘাট ছাড়া সব আবার ইজারা দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন তারা।<br />
মাছ ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা আরো জানান, সরকারি মৎস্য আহরোণ কেন্দ্র ছিলো, সেটিকে ষড়যন্ত্র করে বন্ধ করা হয়েছে। সেটি চলমান থাকলে এখনকার এই ইজারাদার দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়ে যেত। ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা এই বাজারের ইজারা হয়েছে। খান হাবীবের স্ত্রীর নামে এখন এই বাজারের ইজারা চলছে। বিএনপি ও খান হাবীবের লোকেরা মিলেমিশে এই বাজার চালাচ্ছে বলে জানান তারা।<br />
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৮৫-৮৬ সালে বরিশালের বান্দরোডে কীর্তনখোলা নদীর তীরে ১ দশমিক ২৩ একর জমিতে মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) কেন্দ্রটি নির্মাণ করে। কিন্তু তখন প্রভাবশালীদের জন্য সেটি চালু করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কেন্দ্রটি চালু হয়। ওই সময় ব্যবসায়ীদের নিয়মিত মাছ বেচাকেনার ফলে কেন্দ্রটি জমজমাটও হয়ে ওঠে এবং দুই বছরে গড়ে প্রায় তিন কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ২০০৯ সালের ১৩ জুলাই ব্যবসায়ীরা পোর্ট রোডের বেসরকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ফিরে আসে এবং সেখানেই চলছে এখন মাছ বেচাকেনার কাজ।<br />
পোর্ট রোডের ইলিশ মোকাম সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১০ সালের দিকে এর নিয়ন্ত্রণ নেন মৎস্যজীবী লীগের নেতা খান হাবিব। তিনি ছিলেন তৎকালীন সিটি মেয়র প্রয়াত শওকত হোসেন হিরণের অনুসারী। তিনি তাঁর বাহিনী দিয়ে মোকামের পাশাপাশি রাস্তার ওপর বাজার বসিয়ে চাঁদা তুলতেন। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মোকাম নিয়ন্ত্রণ করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল। তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর ‘প্রধান খলিফা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২৩ সালে সাদিক আব্দুল্লাহ নগরীর আধিপত্য হারালে মোকাম আবারও খান হাবিবের নিয়ন্ত্রণে যায়। তিনি চলতি অর্থবছরে তাঁর স্ত্রীর নামে এটি ইজারা নেন। গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর খান হাবিব আত্মগোপন করেন। এসময় দখলদারিত্ব শুরু হলে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকজন বিএনপির নেতা মৎস্য আড়ৎ দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে। পোর্ট রোড বাজার ও মৎস্য আড়ৎ মুলত ৯ নং ওয়ার্ডের অধীনে। এ খবর জানাজানি হলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কেরা গিয়ে প্রকৃত ইজারাদারের প্রতিনিধির খাজনা আদায় নিশ্চিত করেন। তবে খান হাবিবসহ তাঁর অনুসারীরা আত্মগোপনে থাকায় মৎস্য আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর শীর্ষ পদ বাগিয়ে নেন সুবিধাবাদী কিছু রাজনৈতিক ব্যবসায়ী। এখন তাদের নিয়ন্ত্রণেই মোকামগুলো চলছে বলে জানা যায়। পোর্ট রোড বাজারের সিটি করপোরেশন অংশের ইজারা হয়েছে ৭৩ লাখ টাকা রুবেল ও সোহেল নামে বিএনপির দুজন নেতা এই ইজারা পরিচালক বর্তমানে। আর আল-আমীন চার কোটি টাকায় নিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএর বাজার।<br />
নিয়ন্ত্রকদের মধ্যে আরো রয়েছেন মৎস্যজীবী দলের মহানগর সাধারণ সম্পাদক কামাল সিকদার, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্যসচিব আনিচুর রহমান মিলন ও ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক খান মো. কামাল। খান কামাল আবার খান হাবিবের আপন ভাই।<br />
এদিকে বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড, কাশিপুর, চরকাউয়া খেয়াঘাট, নথুল্লাবাদ, রূপাতলী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বরিশাল সিটি করপোরেশন কর্তৃক কোনো চার্ট স্থাপন করা হয়নি। ফলে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ রয়েছে ইজারাদারদের। এভাবে যুগের পর যুগ চলে আসছে বলে জানিয়েছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা।<br />
বরিশাল নগরীর একটি বাজারেও সিটি চার্ট না থাকার কথা স্বীকার করে বরিশালে সিটি করপোরেশনের বাজার ও স্টল শাখার তত্ত্বাবধায়ক মু. নুরুল ইসলাম বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া আমরা কোনো বক্তব্য দিতে পারি না। তবে জুলাই বিপ্লবের পরপরই শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাগরদী বাজার, বাংলা বাজার ও নতুন বাজার ইজারা মুক্ত রয়েছে। আর চরকাউয়া খেয়াঘাট সম্পূর্ণ বিআইডব্লিউটিএর বলে জানান তিনি।<br />
অন্যদিকে পোর্ট রোড বাজারটির ইজারাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) হলেও এর বেশিরভাগ অংশ অর্থাৎ দুটি অংশের দায়ভার সিটি করপোরেশনের জানিয়ে বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর উপ পরিচালক আসাদুজ্জামান বলেন, আমি সেভাবে কিছুই জানিনা। তবে ছোট লঞ্চঘাট ইজারা দেওয়া হয়েছে গত ২৭ জুন। এই ঘাটের দরপত্র আহ্বান করা হলে হাসিবুল এন্টারপ্রাইজ নামে প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ১ কোটি ২০ লাখ টাকায় দরদাতা হিসেবে ইজারা পায়। অপরদিকে সদ্য সাবেক ইজারাদার আবুল হোসেন অরুণ এন্টারপ্রাইজ ৭৩ লাখ টাকায় সর্বনিম্ন দরদাতা ছিলেন। তিনি বলেন, ইজারাদারদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও প্রভাব বিস্তারের ফলে টেন্ডার মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে এটা সত্যি। তবে এতে করে সরকার লাভবান হচ্ছে। সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী টেন্ডার হয়। অর্ধেকের বেশি দরপত্র অনুযায়ী মূল্য অগ্রীম প্রদান করতে হয়। বাকীটা প্রদানের জন্য তিন কিস্তি সুযোগ দেওয়া হয়।<br />
তিনি বলেন, চরকাউয়া খেয়াঘাট ইজারা পক্রিয়া উপরের আদেশ। এখানে আমার করণীয় কিছু নেই। আমাকে আদেশ পালন করতে হয়। এই খেয়াঘাট নিয়ে বিশাল সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া ঘাট এলাকায় বিভিন্ন অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ইজারার বিকল্প নেই। ইজারা হলে পারাপার মাথাপিছু ২ টাকা এবং মোটরসাইকেল পারাপার ১০ টাকা হবে বলে জানালেন বিআইডাব্লিউটিএ এর এই কর্মকর্তা।<br />
জেলার অন্য গুরুত্বপূর্ণ ইজারার কয়েকটি জেলা পরিষদের দায়িত্বে। এরমধ্যে রয়েছে মীরগঞ্জ ফেরী, তালতলা খেয়াঘাট এবং দপদপিয়া খেয়াঘাট। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান না থাকায় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ও সিইও দেখছেন বিষয়টি। কয়েকবার ফোন করেও এ বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক এর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%89%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%96%e0%a7%87%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%98%e0%a6%be%e0%a6%9f-%e0%a6%87%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
