<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>শিশুতোষ &#8211; সাহিত্য বাজার</title>
	<atom:link href="https://shahittabazar.com/category/%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF/%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%B7/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://shahittabazar.com</link>
	<description>সাহিত্যের আয়নায় মানুষের মুখ</description>
	<lastBuildDate>Thu, 14 Oct 2021 07:43:06 +0000</lastBuildDate>
	<language>bn-BD</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.4</generator>
	<item>
		<title>শিশুতোষ বিনোদন ও আমাদের শিশু ভাবনা</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%b7-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8b%e0%a6%a6%e0%a6%a8-%e0%a6%93-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b6/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%b7-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8b%e0%a6%a6%e0%a6%a8-%e0%a6%93-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b6/#comments</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 15 Mar 2014 10:57:30 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[শিশুতোষ]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=2089</guid>

					<description><![CDATA[<p>সূধী পাঠক ও শ্রোতা, ক্ষমা করবেন। আমি যেহেতু জন্মসূত্রে একজন মুসলমান এবং ৯০ ভাগ মুসলিম প্রধান অঞ্চলে আমার বসবাস। তাই প্রথমেই ইসলাম ধর্মের নির্দেশনামতে একজন শিশু ও তার শিক্ষার পথগুলো</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%b7-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8b%e0%a6%a6%e0%a6%a8-%e0%a6%93-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b6/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2013/12/55.jpg"><img decoding="async" class="size-full wp-image-1211 alignleft" alt="55" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2013/12/55.jpg" width="192" height="213" /></a>সূধী পাঠক ও শ্রোতা, ক্ষমা করবেন। আমি যেহেতু জন্মসূত্রে একজন মুসলমান এবং ৯০ ভাগ মুসলিম প্রধান অঞ্চলে আমার বসবাস। তাই প্রথমেই ইসলাম ধর্মের নির্দেশনামতে একজন শিশু ও তার শিক্ষার পথগুলো তুলে ধরছি। যদিও জানি আমাদের দেশে প্রিন্ট বা ইলেক্ট্রনিকস মিডিয়ায় ধর্মের কথা বিশেষ করে ইসলাম ধর্মের উদাহরণ তুলে ধরলেই তাকে জামায়াতে ইসলাম বলে গালাগাল করা হয়। অথচ একটু যদি ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে লক্ষ্য করেন, তাহলে দেখবেন ওদের শিশুতোষ কার্টুন থেকে শুরু করে জনপ্রিয় সব নাটক, সিনেমায় সমানে দেব দেবীর আরাধনা চলছে, সেটা কোনো দুষ্ট দোষ হচ্ছেনা।</p>
<p>সাহিত্য বাজার পত্রিকার এক জরিপে দেখা গেছে আমাদের দেশের স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর তুলনায় ভারতীয় স্টারপ্লাস, জি বাংলা ও স্টারজলসা চ্যানেলগুলো এই বাংলাদেশের শুধু ঢাকাতেই ৮০ ভাগ মানুষের জনপ্রিয় চ্যানেল। যে কারণে ভারতীয় পরিচালকরা গর্ব করে বলতে পারেন, আজ বাংলাদেশের সরকার ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ করে দিলে, কাল বাংলাদেশের দর্শকরা রাস্তায় নেমে হরতাল করবে।</p>
<p>সে যাইহোক, শিশু সাহিত্যের আলোচনা করতে এসে প্রথমেই যদি ইসলাম ধর্ম এ নিয়ে কি বলেছে তা জেনে নেই তবে আমাদের আলোচনা আরো গতিশীল ও তথ্যবহুল হবে। রাসূলে কারীম (সাঃ) মানব সন্তানের বেড়ে ওঠার প্রাথমিক কালগুলোকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বে ভাগ করে বলেছেন, &#8220;সন্তান তার প্রথম সাত বছরে হলো সাইয়্যেদ বা মহোদয়, দ্বিতীয় সাত বছরে হলো আনুগত্যকারী বা আদেশ মান্যকারী আর তৃতীয় সাত বছরে হলো দায়িত্বশীল। কী সুন্দর উপমা দিয়ে, পরিভাষা দিয়ে রাসূল (সাঃ) শিশুর বেড়ে ওঠার কাল এবং আচরণগত বৈশিষ্ট্যগুলোকে তুলে ধরেছেন। আমরা তাঁর এই পরিভাষাগুলোকে খানিকটা ব্যাখ্যা করে বলার চেষ্টা করবো।<br />
একুশ বছর বয়স পর্যন্ত একটি সন্তানের বেড়ে ওঠার পর্বগুলোকে রাসূল (সাঃ) যেভাবে নির্দেশ করেছেন, তাকে শিশুকাল, কিশোরকাল এবং যৌবনকালের বৃত্তে ফেলা যেতে পারে। শিশুকালটিকে যদি আমরা কর্তৃত্বের অর্থে ধরে নিই, যেমনটি রাসূল বলেছেন, তাহলে তার অর্থ দাঁড়াবে, শিশু এ সময় যা খুশি তা-ই করবে। এ সাত বছর শিশু সম্পূর্ণ স্বাধীন। তার সকল কর্তৃত্ব মেনে নিতে হবে। এভাবেই শিশু সাত বছর কাটিয়ে দ্বিতীয় সাতে গিয়ে পড়বে। দ্বিতীয় সাত মানে হলো আনুগত্য বা আদেশ পালন করার পর্ব। অর্থাৎ এই পর্বে শিশুকে আর স্বাধীনভাবে কর্তৃত্ব করতে দেয়া যাবে না। বরং তাকেই বাবা-মা বা অন্যান্য মুরুব্বীদের কথা মেনে চলতে হবে। এই দ্বিতীয় সাত অর্থাৎ সাত বছর থেকে চৌদ্দ বছর পর্যন্ত সময়কাল যদি একটি শিশু যথাযথ নির্দেশনা মেনে বেড়ে ওঠে, তাহলে তৃতীয় সাত বছর অর্থাৎ চৌদ্দ থেকে একুশ বছর বয়সকাল পর্যন্ত শিশুটি হয়ে উঠতে পারে সংসার পরিচালনায় বাবা-মায়ের একজন যথার্থ সহযোগী।</p>
<p>রাসূল (সাঃ)এর আরেকটি হাদীসে এ পর্ব তিনটিতে সন্তানদের প্রশিক্ষণ এবং বাবা-মায়ের করণীয় আরো পরিস্কারভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি বলেছেন, তোমাদের সন্তানদেরকে সাত বছর পর্যন্ত খেলাধূলা করতে দাও, পরবর্তী সাত বছর তাদেরকে সংশোধনীমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দাও এবং পরবর্তী সাত বছর তাদেরকে তোমাদের পরামর্শদাতা ও সহযাত্রী কর। জীবনের প্রথম সাতটি বছরে একটি শিশুর অনুধাবনশক্তি কিংবা স্মৃতিশক্তি থাকে একেবারেই অপক্ক। তার শারীরিক অবস্থাও থাকে অত্যন্ত নাজুক পর্যায়ে। তাই এ সময়টায় বাবা-মায়ের উচিত সন্তানের প্রতি সদয় ও সহানুভূতিশীল আচরণ করা। তার চাহিদাগুলোকে সাধ্যমতো পূরণ করা এবং তাঁর জিজ্ঞাসাগুলোর ইতিবাচক জবাব দেয়া। শিশু তার প্রথম সাত বছর পর্যন্ত স্বাধীন। তাই স্বাধীনভাবে সে খেলাধূলা করবে, নাচানাচি-দৌড়াদৌড়ি করবে, আদেশের পর আদেশ দেবে-যা খুশি তাই করবে। এসবের মাধ্যমে তার মধ্যে ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠবে। তাই তার ওপর এ সময় কোন নিষেধাজ্ঞা বা সীমাবদ্ধতা আরোপ করা অনুচিত। এমনকি তাকে এসময় কোন কিছু সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়াও ঠিক নয়। শিশু তার বাবা-মা তথা পরিবারের সকল মুরব্বী, পাড়া-প্রতিবেশী, আশে-পাশের লোকজন এবং অন্যান্য শিশুদের প্রভাবেই বড় হয়ে উঠবে।</p>
<p><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2013/10/IMG0037A.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-759 alignright" alt="IMG0037A" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2013/10/IMG0037A.jpg" width="200" height="250" /></a>অর্থাৎ ইসলাম ধর্ম মতে, শিশুর প্রথম সাত বছরের এই শিক্ষা হচ্ছে কোনো কিছুই চাপিয়ে দেয়া যাবেনা, সে তার ইচ্ছে মত যা মনে হবে তা-ই করবে ও শিখবে। সতর্ক থাকতে হবে বাবা-মা আর বড়দের। শিশুটি যা দেখবে, যা করার বা জানার সুযোগ বা পরিবেশ পাবে, তা-ই তার মনে গুরুত্ব পাবে। সে যদি ঐ বিদেশী টিভি চ্যানেলে টম এন্ড জেরী বা ডোরেমন বা বাবা-মায়ের পাশে বসে স্টারপ্লাস, জলসা দেখার সুযোগ বেশি পায় তবে তার বেড়ে ওঠার শিক্ষায় এসব বিষয়ই প্রভাব ফেলবে এটাই স্বাভাবিক। শিশুরা শেখে তার বিনোদনের উপকরণ থেকে এটাই চিরন্তন সত্য। তার বিনোদনের উপকরণ কি হবে তা নির্ভর করে বাবা-মায়ের সচেতনতার উপর। আমাদের শিশু সাহিত্যের উপকরণ টোনাটুনির গল্প, বাঘ, ভুতের কাহিনী, বানরের কিচ্ছা এ গুলোর বাইরে আর কি আছে? শিশুরা ছবি, রঙতুলি খুব পছন্দ করে। ব্রাক বিশ্ব বিদ্যালয়ের এক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, শিশুরা আনন্দের মাধ্যমে শিখতে চায়, তাই তাদের জন্য বেশি বেশি শিশুতোষ সাহিত্য তৈরি করা উচিৎ লক্ষ্য রাখতে হবে শিশুদের জন্য সৃষ্ট সাহিত্যকর্মে যেন কোনো অসামঞ্জস্য না থাকে।</p>
<p>বাংলাভাষার প্রধান সাহিত্যিক সুকুমার রায়, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কবি ফররুখ আহমদ, বন্দেআলী মিয়া, জসিমউদ্দীন সহ আরো অনেকে শিশু সাহিত্য রচনা করেছেন। তবে এক্ষেত্রে বৈচিত্র্যপূর্ণ সাহিত্য রচনা করেছেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। কিন্তু একুশের এই শতক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তিতে কয়েক ধাপ এগিয়ে যাওয়ায় তাদের সাহিত্য কর্মগুলো এই শতকের শিশুদের জন্য কতটুকু উপযোগী তা শিশু সাহিত্যিক, গুণীজনদের সাথে সাথে তরুণদের বেশি করে ভাবা উচিত। লেখা উচিত। অনেক কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সম্পাদকরা শিশুদের নিয়ে লেখতে অনাগ্রহী। তরুণদের কাছে টানতেও অনেকে হীনমন্যতা দেখান। আর যারা কয়েকজন লিখছেন দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ইদানিংকার শিশুতোষ সাহিত্যে ছড়া কিম্বা গল্প সবটাতেই রয়েছে অসংখ্য অসামঞ্জস্য।</p>
<p><strong>শিশু সাহিত্য ও প্রসঙ্গ ভাবনা শীর্ষক এক প্রবন্ধে শামসীর হারুনুর রশীদ</strong> বলেছেন, ‘শিশুদের প্রতিভা বিকাশের দায়িত্ব কার? নিশ্চয় বলবেন আমার। উত্তরটা যদি সঠিক হয় তাহলে তাদের পূর্ণ মানুষ হয়ে গড়ে উঠার জন্য যা-যা করা দরকার তা কতটুকু করা হয়েছে? জাতীয় দৈনিক পত্রিকা থেকে সাহিত্য কাগজগুলোতে শিশুদের চাহিদা পূরণে বা শিশু সাহিত্য নিয়ে কি পরিমাণ কাজ হয়েছে বা হচ্ছে? তথ্য প্রযুক্তির এই শতকে বাংলাদেশে শিশু সাহিত্য এবং শিশু সাহিত্যের মান ও ভবিষ্যৎ কেমন? শিশুরা সবসময় নতুন কিছু জানতে আগ্রহী। তারা কল্পনা করতে ভালোবাসে, এদেশের শিশু সাহিত্যিকরা শিশুদের জন্য স্বপ্ন ও কল্পনার জগৎ কতটুকু সৃষ্টি করেছেন? এ ব্যাপারে অভিভাবক ও গুনীজনেরা কতটুকু সচেতন? এসব প্রশ্নের সুরাহাকল্পে দৈনিক পত্রিকার পাতা ও সাহিত্য কাগজগুলো কতটুকু দায়িত্ব পালন করছে তা পাঠককুল ভাল জানেন …?’</p>
<p>এ যুগটি তথ্য প্রযুক্তির, স্যাটেলাইটের। শিশুদের জন্য এ যুগের উপযোগী ক্যামেরায় ধারণ করা যায় এমন কাহিনী, নাট্য চিত্র, দৃশ্যকল্প নির্মাণ করা খুবই দরকার। ভারতীয় টিভি চ্যানেল ডিডি সেভেন বা জী বাংলায় প্রায় নিয়মিতই ঠাকুরমার ঝুলি বা গোপালভাড়ের কেচ্ছা কার্টুন প্রদর্শন হচ্ছে। কার্টুন ছবি সিন্দবাদ বা আলী বাবার চল্লিশ চোর সেখানে বেশ জনপ্রিয় শিশুতোষ বিনোদন। আমাদের এখানে এ জাতীয় কোনো উদ্যোগ কখনোই গ্রহণ হয়নি। মুস্তফা মনোয়ারের পাপেট শো আর নয়নতারার সিসিমপুর ছাড়া শিশু বিনোদনের জন্য আমাদের টেলিভিশনগুলোতে নিজস্ব বলে কিছুই নেই। অথচ আমাদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিতেই রয়েছে আরো ভালো ভালো উপাদান। দাতা হাতেম তাই, বিদ্যাসাগরের নদী পাড়ি, বায়েজীদ বোস্তামীর মা ভক্তি, ঠাকুরমার ঝুলি ইত্যাদি আমাদেরই কাহিনী। যা থেকে অনায়াসে তৈরি হতে পারে জনপ্রিয় সব কার্টুন। কারণ আজকের শিশুরা সহজে বই পড়ে না তারা টিভিতে রোমাঞ্চকর ঘটনাবলি দেখতে চায়। তারা দেখে দেখে শিখতে চায়। এর সাথে আমাদের তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে পিছিয়ে পড়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক পত্রিকা, সাহিত্য কাগজগুলোসহ স্যাটেলাইটের কাছে আমাদের দাবি শিশু উপযোগী গল্প, কাহিনী, বাস্তবচিত্র ও শিক্ষনীয় বিষয়াদি প্রদর্শন করতে হবে।</p>
<p>আর যারা ধর্মীয় শিক্ষাকে অবজ্ঞা করছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ জানাবো, দয়া করে ধর্মের অপব্যাখ্যায় বিভ্রান্ত হবেন না। হাদিস শরীফগুলোতে বিব্রান্তের ভয় আছে। আবার পীর/ইমাম/হুজুরের কথায়ও যখন একজনের সাথে আরেকজনের কোনো মিল নেই, তখন নিজেই সরাসরি পবিত্র কোরআন থেকে সত্যটা জেনে নিন। আরবী পড়তে না পারলে ইংরাজী বা বাংলার তরজমাটা পড়ুন ও সত্যটা জানুন। একই অনুরোধ জানাবো আমাদের অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি। হিন্দু ভাই বোনদের বলবো আপনার বেদ কি বলেছে জানুন। বাইবেল ও ত্রিপিটক কি বলেছে তা খ্রীস্টান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায় জানুন। ধর্মীয় শিক্ষা শিশুর নীতি নৈতিকতার সুগঠক ও নিয়ন্ত্রক। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসার বন্ধন তৈরির শিক্ষাটা একমাত্র ধর্মগ্রন্থই দিতে পারে আর কিছুতেই নয়। তাই তথ্য প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষাটাও গ্রহণ করার ব্যবস্থা করা দরকার। বিজ্ঞান হোক বা ধর্ম হোক শিশুদের জন্য তা সুপরিকল্পিত ভাবে প্রদর্শন করা জরুরি।<br />
পরিশেষে <strong>শিশু বিশেষজ্ঞ জাতীয় অধ্যাপক প্রফেসর ডাঃ এম আর খান</strong>-এর একটি কথা দিয়ে শেষ করবো। ডাঃ এম আর খান একদিন তার চেম্বারে আসা ক’জন মা’কে লক্ষ্য করে বলেছেন, শিশুর প্রতিপালনে বাবা-মায়ের সচেতনতা খুবই জরুরী। তার আগে জরুরী রাসূল করিম (সাঃ) এ বিষয়ে কি নির্দেশনা দিয়েছেন তা মেনে চলা। কারণ পৃথিবীর ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ক তিনি। এ কথা স্বীকার করছেন আধুনিক বিজ্ঞানীরাও। তাই সব ধর্মের মানুষেরাই তাদের শিশুর সুন্দর জীবনের জন্য হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর দেখানো পথে হাঁটতে পারেন। এটা করলে তারা কেউ মুসলমান হয়ে যাবেন না। কিন্তু শিশুর জন্য সুন্দর জীবন পাবেন এটা নিশ্চিত।</p>
<p>(বিঃদ্রঃ &#8211; শিশু সাহিত্য বিষয়ে একটি প্রবন্ধ লেখার অনুরোধ জানানো হয়েছিল শিশু সাহিত্যিক শ্রদ্ধেয় ফারুক নেওয়াজ ভাইকে। আজ পর্যন্ত তার প্রবন্ধটি পাই নাই। যে টেলিফোন নম্বরটিতে তার সাথে যোগাযোগ হত সেটিও এখন বন্ধ পাচ্ছি। তাই জোড়াতালি দিয়ে নিজেই লেখার ব্যর্থ চেষ্টা করলাম।)</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%b7-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8b%e0%a6%a6%e0%a6%a8-%e0%a6%93-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b6/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>1</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>দীপংকর চক্রবর্তী-এর ছড়াগুচ্ছ</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a6%e0%a7%80%e0%a6%aa%e0%a6%82%e0%a6%95%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%80-%e0%a6%8f%e0%a6%b0-%e0%a6%9b%e0%a7%9c%e0%a6%be%e0%a6%97/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a6%e0%a7%80%e0%a6%aa%e0%a6%82%e0%a6%95%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%80-%e0%a6%8f%e0%a6%b0-%e0%a6%9b%e0%a7%9c%e0%a6%be%e0%a6%97/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[সাহিত্য বাজার]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 13 Feb 2014 06:00:51 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[শিশুতোষ]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=1806</guid>

					<description><![CDATA[<p>দীপংকর চক্রবর্তী-এর ছড়া কবিতা<br /> <br /> চামচিকে<br /> চামচিকেটা সামনে এসে<br /> বুক ফুলিয়ে বলে<br /> এই এলাকার সকল পাখি<br /> আমার কথায় চলে।</p> <p>রাত্র জাগি, পাহারা দেই<br /></p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%a6%e0%a7%80%e0%a6%aa%e0%a6%82%e0%a6%95%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%80-%e0%a6%8f%e0%a6%b0-%e0%a6%9b%e0%a7%9c%e0%a6%be%e0%a6%97/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>দীপংকর চক্রবর্তী-এর ছড়া কবিতা</strong><br />
<a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/02/55.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-1807 alignleft" alt="55" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/02/55-300x200.jpg" width="300" height="200" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/02/55-300x200.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/02/55.jpg 309w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><br />
<strong>চামচিকে</strong><br />
চামচিকেটা সামনে এসে<br />
বুক ফুলিয়ে বলে<br />
এই এলাকার সকল পাখি<br />
আমার কথায় চলে।</p>
<p>রাত্র জাগি, পাহারা দেই<br />
ঘুমায় ওরা সব<br />
সকাল বেলা ডাক দিলে পর<br />
জুড়বে কলরব।</p>
<p>হুকুম পেলেই খাবার খোঁজে<br />
ছুটবে সকল পাখি<br />
সেই কারণেই আমরা ওদের<br />
পাহারা দিয়ে রাখি।</p>
<p><strong>নানা</strong><br />
দাদামশায়ের নাতি<br />
ফোলায় বুকের ছাতি<br />
বুকের ছাতি তিরিশ দেখেই<br />
প্রবল মাতামাতি।</p>
<p>দাদামশায়ের নাতি<br />
হাতি কিনবেন হাতি<br />
হাতি কেনার জন্যে গেলেন<br />
সঙ্গে রঙিন ছাতি।</p>
<p>দাদামশায়ের নাতি<br />
করবে চড়–ইভাতি<br />
বন্ধু ক’জন সঙ্গে নিয়ে<br />
চলল বিনয়গাতি।</p>
<p>দাদামশায়ের নাতি<br />
মাথায় রঙিন ছাতি<br />
এক ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে ফেলেন<br />
ইলেকটিরিক বাতি।</p>
<p>দা’ মশায়ের নাতি।</p>
<p><strong>ফিরে পেতে চাই</strong><br />
ফিরে যেতে চাই উঠোনের ঘাসে<br />
যেখানে শিশির হাসে<br />
ফিরে যেতে চাই আমের বনেতে<br />
শুধু বৈশাখ মাসে।</p>
<p>ফিরে পেতে চাই চেনা সেই গ্রাম<br />
শুধুই সবুজ মাখা<br />
ফিরে পেতে চাই সেই নদীটিরে<br />
স্মৃতি যার বুকে আঁকা।</p>
<p>ফিরে পেতে চাই শৈশবটাকে<br />
একান্ত করে কাছে<br />
সেই শৈশব যার স্মৃতি নিয়ে<br />
সকল মানুষ বাঁচে।</p>
<p><strong>বেড়াল</strong><br />
বেড়াল বেড়াল কোথায় বেড়াল<br />
খাটের তলায় নাকি<br />
অন্ধকারে লুকিয়ে থাকে<br />
চোখকে দিয়ে ফাঁকি।</p>
<p>বেড়াল বেড়াল কয়টা বেড়াল<br />
একটা নাকি গন্ডা চার<br />
সবক’টাকে দেখে এলেম<br />
সন্ধ্যে বেলায় পুকুরপাড়।</p>
<p>বেড়াল বেড়াল, কি রং বেড়াল<br />
লাল, সাদা না কালো<br />
আমার তো না, তোমার বেড়াল<br />
তুমিই জানো ভালো।</p>
<p><strong>দুই শালিক</strong></p>
<p>দুই শালিকের মালিক সেদিন<br />
বসল এসে দুয়ার-ধারে<br />
আমি তখন জল তুলছি<br />
মাঝ উঠানে কুয়ার পাড়ে।</p>
<p>শালিক দুটি খাঁচার ভেতর<br />
ইচ্ছেমত লাফাচ্ছিল<br />
খাঁচার মালিক দুয়ার-ধারে<br />
বসে বসে হাঁপাচ্ছিল।</p>
<p>দুই শালিকের মালিক কেন<br />
শালিক নিয়ে নিত্য ঘোরে<br />
সেই কাহিনী বলার জন্য<br />
খোদ এসেছেন এই দুপুরে।</p>
<p>‘দুই শালিকে ভাগ্য ফেরে<br />
ভাগ্য ফেরার জন্যে তাই<br />
জোড়াশালিক সঙ্গে নিয়ে<br />
নানান দেশে ঘুরতে যাই।</p>
<p>তারপরও ছাই ফল মেলে না<br />
ভাগ্য রেখা হাতেই নাই<br />
শোনাতে এই দুঃখ কথা<br />
শালিক জোড়াও সঙ্গে চাই।’</p>
<p>এই বলে খাঁচা খুলে<br />
ওড়ালো শালিক<br />
তারপরে মারা গেল<br />
খাঁচার মালিক।</p>
<p><strong>ছড়াকারের জগৎ</strong><br />
পশুও ভালো, পাখিও ভালো<br />
ভালো দত্যি দানা<br />
তাদের নিয়ে যতই লেখো<br />
কেউ করে না মানা।</p>
<p>ছড়ার ভেতর সিংহ মামা<br />
ভীষণ রকম শান্ত<br />
বাঘমামাও তথৈবচ<br />
ছড়াকাররা জানত।<br />
সেই কারণেই ছড়ার মধ্যে<br />
পশু পাখির মেলা<br />
সত্যি দানো নিয়েও চলে<br />
ছড়াকারের খেলা।</p>
<p>ছড়ার জগত সেই কারণেই<br />
হাজার মজায় ভরা<br />
ছড়াকারের কলম দিয়েই<br />
হাজার ভাঙা গড়া।</p>
<p><strong>বুদ্ধিজীবী</strong></p>
<p>শেয়াল বলে, চড়াই<br />
কিসের এত বড়াই<br />
পরের ঘরে থেকে কেন<br />
আমার সংগে লড়াই।</p>
<p>চড়াই বলে, নারে<br />
তোর সাথে কেউ পারে!<br />
বুদ্ধিবেচা বুদ্ধিজীবী<br />
থাকিস আড়ে আড়ে।</p>
<p>শেয়াল বলে, শোন<br />
চড়াই বলে, থাম।<br />
এমন সময় ফিরল বাড়ি<br />
অনন্তলাল দাম।</p>
<p>চড়াই বলে, ফুরুৎ<br />
শেয়াল বলে, সরতো<br />
দৌড়ে শেয়াল জঙ্গলে যায়<br />
খুঁজতে নিজের গর্ত।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a6%e0%a7%80%e0%a6%aa%e0%a6%82%e0%a6%95%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%80-%e0%a6%8f%e0%a6%b0-%e0%a6%9b%e0%a7%9c%e0%a6%be%e0%a6%97/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>রেবা তুমি বাঙালি না বাঙ্গালী</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97-2/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97-2/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 13 Dec 2013 05:40:24 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[শিশুতোষ]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=1281</guid>

					<description><![CDATA[<p>কেউ যদি তোমাকে প্রশ্ন করে তুম বাঙালি না বাঙ্গালী? তাহলে কি উত্তর দেবে বলতো শোনামনিরা। এমনি একটা উদ্ভট প্রশ্ন যখন বড়দের মাথায় জট পাকিয়ে দেয় তখন প্রাইমারি স্কুলের একজন ছাত্রী</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97-2/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2013/12/225.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-1282 alignleft" alt="22" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2013/12/225.jpg" width="128" height="72" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2013/12/225.jpg 128w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2013/12/225-70x40.jpg 70w" sizes="auto, (max-width: 128px) 100vw, 128px" /></a>কেউ যদি তোমাকে প্রশ্ন করে তুম বাঙালি না বাঙ্গালী? তাহলে কি উত্তর দেবে বলতো শোনামনিরা। এমনি একটা উদ্ভট প্রশ্ন যখন বড়দের মাথায় জট পাকিয়ে দেয় তখন প্রাইমারি স্কুলের একজন ছাত্রী কী উত্তর দেবে এ প্রশ্নের। হঠাৎই একদিন শ্রেণী কে বাংলা স্যার মুক্তিযুদ্ধে গল্প বলতে গিয়ে ব্লাকবোর্ডে লেখেন &#8211; তুমি বাঙ্গালী না বাঙালি? তারপর রেবাকে ডেকে জানতে চান, রেবা তুমি কোনটা, বাঙালি না বাঙ্গালী? একে একে স্যার কাশের সবাইকে এ প্রশ্ন করেন। কেউই কোনো উত্তর দিতে পারেনা দেখে স্যার হাসেন। তারপর বইটা ছুড়ে ফেলে চলে যান।<br />
ছোট্টমনি রেবা আদর্শ স্কুলের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী। প্রতিদিন সে নিয়ম করে স্কুলে যায়। হাতের কাজ জমা দেয় এবং স্কুলের সব নিয়ম নীতি মেনে চলে। এ কারণে শিকরাও তাকে খুব ভালোবাসেন। সে বরাবরই কাসে প্রথম হয়। এ জন্য তার বাবা মাও খুব খুশি। কিন্তু বাংলা স্যারের প্রশ্নের উত্তর না দিতে পেরে রেবার খুব মন খারাপ হয়। সে ঘরে গিয়ে খুব কাদে। বাবা এসে রেবা কান্না দেখে তারাতাড়ি বাংলা স্যারকে ডেকে আনে। বাংলা স্যার এসেই ওর মাথায় হাত বুলিয়ে বলে, ছিঃ মা মনি কাদে না। তোমাকে যে প্রশ্নটা করেছি, তার উত্তর যে আমি নিজেও জানিনা মা। বলে ওকে খুব আদর করে বাংলা স্যার সেদিন চলে যায়। কয়েকদিন পর আবার একদিন বাংলা স্যার কাশে বীরশ্রেষ্ঠদের গল্প পড়াচ্ছেন। তিনি বীরশ্রেষ্ঠ পড়াতে গিয়ে হঠাৎ প্রচণ্ড রেগে উঠলেন এবং ভুল ভুল বলে হাতের বইটি ছুড়ে ফেলে দিয়ে কাশ থেকে বের হয়ে গেলেন। ছাত্রছাত্রীরা তো সবাই খুব অবাক। কারণ স্কুলের সবচেয়ে শান্তশিষ্ট এবং নরম মনের এ শিকটি ছোটদের খুবই প্রিয়। তাকে কেউ কখনো রাগ করতে দেখেনি। সবসময় ছোটদের সঙ্গে গল্প করেন। মজার সব গল্প বলে বলে বইয়ের পড়া শেখান। আজ হঠাৎ স্যারের একি আচরণ। রেবার মন খুব খারাপ হয়। কারণ বাংলা স্যার ওর কাছে শুধু স্যার নয়, ওর বড়চাচা সে, বাবার আপন বড়ভাই।<br />
রাতে রেবা বিছানায় ঘুমাতে গিয়ে বাবার গলা জড়িয়ে ধরে স্কুলের গল্প করে। বাবার কাছে বাংলা স্যারের হঠাৎ রেগে যাওয়া ও বই ছুড়ে ফেলার কথা বলে। জানতে চায় চাচ্চু কেন এটা করেছে। বাবা তখন রেবাকে বলে, দেখিতো মা মনি &#8211; তোমার বাংলা বইটা। রেবা দ্রুত বাংলা বইটা বাবার হাতে দেয়। বাবা সেটা উল্টে-পাল্টে দেখে। বীরশ্রেষ্ঠদের গল্প অংশে এসে বাবাও থেমে যান। এমনিতেই পুরো বইয়ের মধ্যে অসংখ্য বানান ভুল। তারউপর বীরশ্রেষ্ঠদের গল্পে এসে বাঙ্গালী বানানটা হয়েছে বাঙালি আর যোদ্ধা হয়েছে যোদ্দা। বিষয়টা দেখে বাবা বলে, মা মনি তোমার চাচ্চু এমনিতেই কোনো বানান ভুল দেখলে রেগে যান। আর সেটা যদি হয় মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা নিয়ে তাহলে তো ভয়ানক ব্যাপার। কারণ তোমার চাচ্চু নিজেও যে একজন মুক্তিযোদ্ধা।<br />
রেবা তখন বলে, কিন্তু বাবা, এ বইয়ে তো এরকম অনেক ভুল আছে, চাচ্চু পড়াবার সময় নিজেই সেসব ভুল বানান ঠিক করে দিচ্ছেন। তাহলে এখানে কেন ঠিক করলেন না?<br />
বাবা &#8211; কারণ এখানে যে ‘বাঙালি’ শব্দটা লিখেছে। এটা নিয়ে তোমার চাচ্চুর যুক্তি হচ্ছে -“আমরা বাংলাদেশীরা বাঙালি না, আমরা বাঙ্গালী। কারণ প্রাচীন ইতিহাসে আমাদের এ অঞ্চল ছিল মূলত বঙ্গ নামেই পরিচিত ছিল। খ্রিস্টিয় অষ্টম শতাব্দীতেও বঙ্গ ছিল গুরুত্বপূর্ণ স্থান। অনেক পরে সেটা বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আমাদের বাংলাদেশ হয়েছে। বঙ বা ব্যঙ জাতীয় কোনো শব্দ এখানে নেই। এ কারণে বঙ্গ থেকে বাঙ্গালী হবে, এটাই তোমার চাচ্চুর যুক্তি। এটা তুমি এখন বুঝবে না। বড় হলে বুঝতে পারবে।<br />
রেবাÑ কিন্তু চাচ্চু এতো রেগে গেল কেন?<br />
কারণ এইযে আজ আমরা বাংলায় কথা বলছি, আজ পৃথিবী জুড়ে যে বাংলা ছড়িয়ে পড়েছে। এ বাংলার জন্য ১৯৫২ সালের ফেব্র“য়ারি মাসে কত লোক প্রাণ দিয়েছে। তুমি তো সালাম, জব্বার, রফিকের কথা পড়েছো। এদের মাঝে আরো অনেকে ছিলেন, তোমার দাদাও শহিদ হয়েছেন এই ভাষা আন্দোলনে। তাদের রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা বাংলায় কথা বলছি। আজ সারাবিশ্বে বাংলার প্রচলন। তুমিই বলো মা-মনি সারাবিশ্বে এখন যে ভাষার ব্যবহার চলছে, সেই ভাষার একটা শব্দ যদি অনেক রকম বানান হয় তবে কি মান থাকে। একই বইয়ে এক জাযগায় বাঙালি আর এক জায়গায় বাঙ্গালী হলে তুমি কোনটা লিখবে? এরকম আরো অসংখ্য ভুল আছে তোমাদের পাঠ্যবইতে। এইযে, ‘আরো’ বললাম এটাও কোথাও কেউ কেউ লিখছেন আরও, আরো, আবার ‘কারো&#8217;কে কেউ লিখছেন কারও এটার একটা নীতিমালা হওয়া উচিত। কোনটা ব্যবহার হবে তা দেশের বাংলা একাডেমিকে নির্ধারণ করে দিতে হবে। আমরা বাংলাদেশি না বাংলাদেশী লিখবো, বাংলা একাডেমি না আকাডেমি বলবো এটা যতদিন নির্ধারণ না হবে ততদিনে এ ভাষার যাচ্ছে তাই ব্যবহার বন্ধ হবে না। আর পাঠ্যবই যারা ছাপেন তাদের হতে হবে অনেক বেশি সচেতন। কারণ তোমাদের বয়স থেকেই তো সত্যিকার শিা শুরু হয়। প্রথম ধাপেই যদি ভুল শিা পাও তবে তো সারাটা জীবন এই ভুলটাই করে যাবে। এটা ভেবেই তোমার চাচ্চু খুব রেগে গেছেন। সে তখন কল্পনার চোখে দেখতে পেয়েছেন, তোমরা সবাই বড় হয়ে বাংলাভাষার অপমান করছো। নিজের মাতৃভাষাকে ব্যঙ্গ করছো।<br />
রেবা &#8211; এটা কেন ঠিক করা যাচ্ছে না বাবা। আমরা কেন ভুল শিখবো?<br />
বাবা &#8211; এটা করতে হলেও যে আবার একটা আন্দোলন লাগেরে মা। সেই মানুষ কই যে এ সব নিয়ে কথা বলবে।<br />
রেবা এ কথা শুনে চুপ হয়ে যায়। ওর কানে ভাসে একুশে ফেব্র“য়ারির সেই গান। আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো&#8212;&#8212;&#8211;।<br />
পরদিন স্কুলে গিয়েই রেবা তার শ্রেণীকরে সব ছাত্রছাত্রীকে বাবার বলা কথাগুলো বুঝিয়ে বললো। ছাত্ররা সবাই তাদের বই খুলে বিষয়টি ল্য করলো। সকলের মাঝে একটা গুঞ্জন ওঠে। আমরা সঠিক শব্দের বানান চাই। বিষয়টা একে একে ৫ম শ্রেণী থেকে ছড়িয়ে পড়লো ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত। সবাই বই খুলে দেখে একই শব্দের একাধিক বানান। ১ম থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত এ নিয়ে তুমুল ােভ প্রকাশ শুরু হয়ে যায়। রেবাদের কাশে তখন রেবা ও তার সহপাঠীরা বানান সংশোধনের দাবি তুলে প্রধান শিকের করে সামনে বসে পড়েছে। ছোট্ট বাচ্চারা এটা করছে শুনে লজ্জায় কলেজ পড়–য়া ছেলেমেয়েরা রাস্তায় বের হয়ে পড়ল ব্যাণার ও মিছিল নিয়ে। ওদের ব্যাণারে ফুটে উঠলো আরো অসংখ্য শব্দ। বই পড়া, আর ঢলে পড়া না পরা। পড়া, পরা’র ব্যবহার ঠিক করতে হবে। বারাবারি না বাড়াবাড়ি হয়তো না হয়ত, ছিল না ছিলো, ছিলনা, করিনা, পারিনা এ শব্দে না কি যুক্ত না অযুক্ত। ইত্যাদি শব্দের সঠিক ব্যবহারের দাবিতে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে যোগ দিলেন অভিভাবকও। সবাই গিয়ে হাজির হলেন বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। সঠিক বানানের দাবিতে একাডেমি প্রাঙ্গনে মানুষের ঢল দেখে বিস্মিত একাডেমি কর্তৃপ। এতোদিন তারা দায় সারা ভাবে কোনোরকম বাংলা অভিধান পূন:মুদ্রন করে আসছিলেন। আন্দোলনের মুখে তারা এসে হাতজোড় করে মা চাইলেন জনতার কাছে। স্বীকার করলেন তাদের গাফলতি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নিজেও ছুটে এলেন এ সংবাদে। এসেই রেবকে তিনি কোলে তুলে নিলেন। ভাষার এ বানান সংকটে তিনি নিজেও বেশ সমস্যায় পড়েছেন বলে স্বীকার করলেন এবং তিনমাসের মধ্যে সব বানান ঠিক করে নতুন অভিধান ও পাঠ্যবই প্রকাশের নির্দেশ দিলেন বাংলা একাডেমি ও পাঠ্যপুস্তক প্রকাশনা দপ্তর কর্তৃপকে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97-2/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আচানক কথা : আব্দুর রহমান শিপুল</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%95-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b6%e0%a6%bf/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%95-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b6%e0%a6%bf/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[সাহিত্য বাজার]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 25 Nov 2013 14:44:52 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[শিশুতোষ]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=1134</guid>

					<description><![CDATA[(ছড়া) আচানক কথা আব্দুর রহমান শিপুল কালুর আছে মস্ত হাতি মাথায় তুলে নাচে সাবান দিয়ে গা ধুয়ে আছাড় দিয়ে কাঁচে। বিড়ি খাওয়া বিড়ালটা বাঘের মত ডাকে আস্ত গরু গিলে খায়<span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%95-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b6%e0%a6%bf/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<pre><strong><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2013/11/images12.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-1135 alignleft" alt="images" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2013/11/images12.jpg" width="147" height="92" /></a><span style="text-decoration: underline;">(ছড়া)</span>
আচানক কথা </strong>
<strong>আব্দুর রহমান শিপুল</strong>

কালুর আছে মস্ত হাতি
মাথায় তুলে নাচে
সাবান দিয়ে গা ধুয়ে
আছাড় দিয়ে কাঁচে।
বিড়ি খাওয়া বিড়ালটা
বাঘের মত ডাকে
আস্ত গরু গিলে খায়
আর মুখ ফুলিয়ে থাকে।
হিরোমার্কা ভেড়াটা
চশমা চোখে দিয়ে
ডাকাতি করে বাড়ি বাড়ি
হাঁস-মুরগি নিয়ে।
গাধা-ছাগল পুঁথি নিয়ে
পাঠশালাতে যায়...
স্যারের গায়ে বমি করে
দাঁত কেলিয়ে লাফায়।
পান খাওয়া কালো দাঁতে
কালু মিয়া বলে
অনেক কিছু দেখতে পাবে
আমার কাছে এলে।</pre>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%95-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b6%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>রঙিলা রাজা : আফরোজা অদিতি</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b0%e0%a6%99%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%ab%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%9c%e0%a6%be-%e0%a6%85%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%bf/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b0%e0%a6%99%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%ab%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%9c%e0%a6%be-%e0%a6%85%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%bf/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[সাহিত্য বাজার]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 30 Oct 2013 09:47:51 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[শিশুতোষ]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=743</guid>

					<description><![CDATA[<p>রঙিলা রাজা<br /> আফরোজা অদিতি<br /> সবুজ সবুজ পাতা আর হরেক রকম ফল ফুলে ভরা এক বন। বনেরর গাছগুলোর ফাঁকে ফাঁকে দিনে সূর্যের আলো আর রাাতে চাঁদের আলো টুকরো টুকরো</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%b0%e0%a6%99%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%ab%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%9c%e0%a6%be-%e0%a6%85%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%bf/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2013/10/khulna-3.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-533 alignright" alt="khulna-3" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2013/10/khulna-3.jpg" width="300" height="225" /></a>রঙিলা রাজা</strong><br />
<strong>আফরোজা অদিতি</strong><br />
সবুজ সবুজ পাতা আর হরেক রকম ফল ফুলে ভরা এক বন। বনেরর গাছগুলোর ফাঁকে ফাঁকে দিনে সূর্যের আলো আর রাাতে চাঁদের আলো টুকরো টুকরো ছড়িয়ে মায়া মায়া করে রাখে সেই বনের পরিবেশ। সেই বনের গা ঘেঁষে বয়ে গিয়েছে এক হাওড়। হাওড়ের জলে রঙ-বেরঙের মাছ ছাড়াও কাঁকড়া, গুগলি, শামুকেরা খেলা করে, খায়-দায় থাকে। অতিথি পাখিরা আসে-যায়। ওই বনে হাতি, গন্ডার, সিংহ, বাঘ হরিণ তো আছেই আরও আছে খরগোস, কাঠবিড়ালি, বনমোরগ, বাঘডাসা। নানান প্রজাতির পাখ-পাখালি, প্রজাপতি, ফড়িং ওড়ে, উড়ে উড়ে এ ফুল, ও ফুল, পাতা, ঘাস, ঘাস-ফুলে বেড়ায়। সাপ, ব্যাঙ, কেঁচো ওরাও বাস করতো ওই বনে। বনের পাশের হাওড়ের জল খায়, সেখানেই গা ধোয় বনের পশু-পাখি। ওই বনে সকলেই বেশ সুখেই দিন কাটাচ্ছিলো।<br />
কিন্ত একদিন, এক সিংহ ঘোষণা দিলো বনের রাজা হিসেবে মানতে হবে তাকে। সিংহের হুঙ্কারে কেঁপে উঠলো বন, কেঁপে উঠলো বনের পশু-পাখি। ভয়ে ভয়ে সিংহকে, রাজা হিসেবে মেনে নিলো বনের পশু-পাখিরা। ভালোই চলছিলো সিংহের রাজ্য। কেউ কিছু বলতো না, বলার সাহসই পেতো না। একদিন এক শিকারীর গুলিতে সিংহরাজা আহত হলো, মারা গেলো। সিংহাসনে বসলো নতুন সিংহরাজা। নতুন রাজা রাজদন্ড হাতে পাওয়ার পর কেমন যেন বদলে গেলো বনের পরিবেশ। নতুন রাজা হওয়ার পর অন্যান্য সিংহরা  নিজেদের মনমতো কাজ করতে শুরু করলো। সিংহরা, ওদের থেকে দূর্বল প্রণীদের ঘাড় মটকে খেতে শুরু করলো। শুরু করলো অত্যচার। যে পথে হরিণেরা যাবে পানি খেতে সে পথে গাছের ডালপালা জড়ো করে ব্যারিকেড দেয়। যাতে হরিণ, খরগোস বা নিরীহ সব প্রাণী যাওয়ার সময় খেতে পারে। সিংহরা হরিণ দেখলেই তাড়া করে। খরগোসদের না পেয়ে ওদেও বাসা ভেঙে দেয়। যখন তখন গর্জন করে। ওদের ডাকে পাখির বাচ্চা ভয় পেয়ে বাসা থেকে পড়ে যায়। ওদের অত্যাচারে খুব অসহায় হয়ে থাকে বনের অন্যান্য পশু-পাখিরা।<br />
শিয়ালপন্ডিতের পাঠশালা ছিলো নদীর তীরে একটা উঁচু ডিবির ওপর, সেটাও একদিন ভেঙে গুঁড়িয়ে দিলো সিংহ রাজার চ্যালা চামুন্ডা। ‘বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড়’- এরকম মনোভাব তাদের। হুঙ্কার দিলো তারা, সব বন্ধ, সব। সিংহ ছাড়া কেউ তাদের ইচ্ছামতো কিছু করতে পারবে না, থাকতেও পারবে না। এই বনে যারা আছে তাদের কাজ শুধু সিংহের খাদ্য হওয়া আর খাবার সাপ্লাই করা, এবং ‘জী হুজুর’, ‘জী হুজুর’ করা। বনে তো শুধু ভালো প্রাণীরাই থাকে না, খারাপ মনোভাবের পশুরাও থাকে। এ রকম কিছু পশু-পাখি জী হুজুর, জী হুজুর করতে শুরু করে সিংহ রাজাকে। ওই সব পশু পাখিদের জন্য সিংহদের অত্যাচার বাড়তে লাগলো। বনের ভেতর চলল সিংহদের দাপাদাপি। তখন সিংহদের অত্যাচারে জর্জরিত হয়ে অন্যান্য পশুরা একজোট হলো, বললো, এভাবে থাকা যায় না। আমরা রাজার কাছে যাবো, সব কথা খুলে বলবো। সবাই মিলে তো একসঙ্গে কথা বলা যায় না, তাই ওরা ঠিক করলো বাঘ, ওদের হয়ে কথা বলবে। বাঘও রাজী হলো।</p>
<p>সিংহরাজার দরবার। শুধু সিংহরাই নেই। সেখানে আছে কিছু বাঘ, আছে শিয়াল, আছে হরিণ, গন্ডার, হাতি, ঈগল, বাজ। এদের সংখ্যা কম, এরা জী হুজুরের দলে তাই এদের কোন কথা কানে নেয় না সিংহ রাজা। দরবারে যে সব বাঘ, শিয়াল, হরিণ, গন্ডার, হাতি, পাখি আছে তারা সিংহের কথার কোন কথা বলে না। নিজেদের সুখ স্বাচ্ছন্দ্য নষ্ট করতে চায় না তারা।</p>
<p>অত্যাচারিত, নির্যাতিত পশু পাখিরা যে বাঘকে তাদের প্রতিনিধি করেন দরবারে পাঠালো, সেই বাঘ, সবার হয়ে দরবারে ওদের ওপর নির্যাতন, নিপীড়নের কথা বললো। কিন্তু সিংহরাজা শুধু বললো দেখবো! দেখবো! সব তো শুনলাম, সব দেখবো! কিন্তু কোন ফল হলো না। দিন দিন অত্যাচার, নিপীড়নের সীমা ছাড়িয়ে যেতে লাগলো। অতিষ্ঠ হয়ে উঠলো পশু-পাখি।</p>
<p>একদিন গভীর রাতে সিংহরাজাকে মেরে ফেলে রাজা হলো রঙিলা শিয়াল। এই শিয়ালের কাহিনী আবার ভিন্ন রকম। ওই শিয়ালটা বেজায় চালাক। রাজাকে মারার আগে চুপিচুপি নদীর অপর পাড়ে, গ্রামের এক চিত্রকরের বাড়ি গিয়ে হাজির। চিত্রকরতো শিয়ালকে দেখেই তার পোষা কুকুরকে ডাক দিলো, আয়, আয় তু তু &#8212;।</p>
<p>পোষা কুকুরকে ডাকতে শুনেই শিয়াল তো লাফিয়ে গিয়ে পড়ল চিত্রকরের পায়ের ওপর। চোখের জল ঝরিয়ে অনুনয় করে বলতে শুরু করল, দোহাই চিত্রকর মশাই ডাকবেন না, ডাকবেন না আপনার পোষা কুকুরকে। আমি, আপনার মুরগী, হাঁস, কবুতর কিছুই নিতে আসি নি। আমি এসেছি নিজেকে একটু রাঙিয়ে নিতে। আপনি তো ভালো আঁকিয়ে, আপনি আপনার রঙ দিয়ে আমাকে একটু চিত্র-বিচিত্র করে দিন। আমি বনের রাজা হতে চাই।<br />
চিত্রকর, শিয়ালের অনুনয় শুনে রাঙিয়ে দিলো শিয়ালকে। নিজেকে চিত্র-বিচিত্র করে বনে গেল। পশু-পাখিদের বলল, আমি, রঙিলা শিয়াল। সেই রঙিলা শিয়াল এখন বনের রাজা। সিংহ ছাড়া বনের অন্যান্য পশু-পাখি ভাবল, নতুন রাজা এলো, ওদেরও সুখের দিন আসবে।<br />
মাস কয়েক ভালোই গেল। এর মধ্যে পশুপাখিরা ভাগ হয়ে গেল। নিজেদের ঐক্য ধরে রাখতে পারল না। সিংহরাতো ঐক্যবদ্ধ দল ছিল। সেই  ঐক্যবদ্ধতা ভেঙে দিতে ওই দলে ঢুকলো কিছু চালাক-চতুর পশু-পাখি। তারা তোয়াজ-তোষামোদে সিংহদের পিছুপিছু চলতে লাগল। তাদের মনে নেতা হওয়ার স্বপ্ন, রাজা হওয়ার স্বপ্ন। রঙিলা শিয়াল ভালোই রাজত্ব করছে। বনের নিরীহ পশুপাখি খুশী। খুশী নয় সিংহ, সিংহের তোষামোদকারীরা এবং নতুন নতুন যারা সিংহের দলে যোগ দিয়েছে তারা। সিংহ তো রাজা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেই, সেইসঙ্গে রাজা হওয়ার স্বপ্ন দেখছে দলে নতুন ঢুকেছে যারা, তারা। তারা একটা সভা ডাকল।<br />
সভা বসল। সভায় সিংহ, বাঘ, গন্ডার শক্তিশালী। হাতির শক্তি বেশী, আয়তনে বিশাল কিন্তু বুদ্ধি কম, তাই তারা হাতিকে গোনার মধ্যে না নিয়ে বলল, আমরা যা বলবো তাই হবে।<br />
সিংহ, এক তোষামোদকারী বাঘকে ডেকে বলল, তুমি বলো, আমরা কী ছিলাম, কী চাই। বাঘ, সভায় আসা সকলের উদ্দেশ্যে বলল, তোমরা জানো যুগ যুগ ধরে এ বনের রাজা সিংহ। ওই রাজদন্ড ছিল সিংহের হাতে। কিন্তু সিংহরা বলেছে এখন বনের পশু-পাখিরা যাকে চায়, সেই হবে রাজা। তোমরা, আমাদের সঙ্গে আসো, ওই রঙিলা শিয়ালকে বের করে দেই বন থেকে। তোমাদের কোন অসুবিধা আর হবে না। পশুরা, যারা বাঘ-সিংহের পক্ষে ছিলো তারা সবাই সায় দিলো বাঘের কথায়। রঙিলা শিয়ালের পক্ষে যারা ছিল, তারা সংখ্যায় কম, তবুও ওদের মধ্যে বুদ্ধিমান ফিঙে গাছের ডালে ওপর থেকে বলল, শিয়াল রাজা তো মন্দ নয়, থাক না।<br />
ফিঙের কথায় হুঙ্কার দিয়ে উঠল বাঘ। এই বাঘ সিংহের কথা বললেও তার মনের সুপ্ত আকাঙ্খা বনের রাজা হওয়ার। তার একটা দলও আছে। সেই দলের সবাই একচোটে দাঁড়িয়ে গেল। পাখিরা সকলে উড়ে গেল, পালিয়ে গেল শিয়ালের পক্ষের পশুরা।<br />
একদিন,সিংহের তোষামোদকারি দলের পশুরা বন থেকে বের করে দিল রঙিলা শিয়ালকে। তারপর ওই পশু-পাখিরা বলল, রাজা হবে সিংহ। কিন্তু বনের অন্য পশু-পাখিরা বলল, এতোদিন আমরা সিংহ-রাজাকে পেয়েছি, এবার রাজা বদল হোক। সিংহ বলল, তা’হলে কে রাজা হবে, বাঘ, হাতি, গন্ডার না অজগর। সকলে বাঘের পক্ষে রায় দিলো। পশুর রাজা হলো বাঘ। বাঘের হাতে রাজদন্ড। বুক জ্বলে যায় সিংহের। আবার অরাজকতা শুরু হয় বনে। বনের দূর্বল পশু-পাখি, সবার মনে কষ্ট। কেউই তাদের মনের মতো নয়।<br />
রাজা ছিলো সিংহ। তারপর রাজা হলো রঙিলা শিয়াল। এখন রাজত্ব চলছে বাঘের। কিন্তু ওদের দিন যে কে সেই। ওদের জীবনের কোন উন্নতি নেই। ওরা খেতে পায় না। ওদের খেতে হলে এ বন ছেড়ে অন্য বন কিংবা অন্য কোনখান থেকে খাবার সংগ্রহ করতে হয়। তাছাড়া বেশীরভাগ সময় পালিয়ে পালিয়ে বেড়াতে হয়। ওদের জন্য গাছের ছায়া নেই, ঘাসের বন নেই। ওদের অবস্থা একটা চাদরে অনেকের শীত নিবারণের মতো। এদিক টানলে ওদিক আলগা হয়, ওদিক টানলে এদিক।<br />
পাখিরা খুব একটা অসুবিধায় থাকে না। কারণ ওরা থাকে গাছের ওপর। অসুবিধা খরগোস, হরিণ, আর অন্যান্য দূর্বল প্রাণীদের। বর্ষাকালে বৃষ্টি, বন্যায় বনের ভেতর জল টলটল করে তখন ওরা বসবাসের জন্য উঁচু জায়গা পায় না। ওরা তখন উঁচু জায়গার খোঁজে বের হয়, তখন সবল পশুরা মেরে বের করে দেয়, না হয় খেয়ে ফেলে।<br />
এই অবস্থা দেখে একদিন উড়ে এলো এক ফিঙে। ওইসব অত্যাচারিত পশুর কাছে এসে বলল, আমরা এভাবে মরতে চাই না, আমরা বাঁচতে চাই। সবার মুখে তখন ওই এক কথা, আমরা মরতে চাই না, আমরা বাঁচতে চাই। কথায় কথায় একসময় শ্লোগান হয়ে গেল কথাটা। আমরা মরতে চাই না, আমরা বাঁচতে চাই।<br />
ফিঙের নেতৃত্বে শুরু হলো দিনবদলের কর্মসুচী। ওদের আশা, একদিন জয় ওদের হবেই হবে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b0%e0%a6%99%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%ab%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%9c%e0%a6%be-%e0%a6%85%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>পাখিদের ভালবাসা : আরিফ আহমেদ</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%96%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ab-%e0%a6%86%e0%a6%b9%e0%a6%ae/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%96%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ab-%e0%a6%86%e0%a6%b9%e0%a6%ae/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[সাহিত্য বাজার]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 20 Oct 2013 18:56:24 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[শিশুতোষ]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=596</guid>

					<description><![CDATA[<p>অনেকদিন আগের কথা। বরিশাল জেলার সদর থানার চাঁনপুরা ইউনিয়নের তালুকদার বাড়িতে সেদিন ছিল বিয়ের উৎসব। বাড়ির সামনেই ছিল তালুকদারহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। সেই কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন তালুকদার বাড়ির সেজছেলে</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%96%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ab-%e0%a6%86%e0%a6%b9%e0%a6%ae/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2013/10/images-br-2.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-597 alignright" alt="images br 2" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2013/10/images-br-2.jpg" width="130" height="83" /></a>অনেকদিন আগের কথা। বরিশাল জেলার সদর থানার চাঁনপুরা ইউনিয়নের তালুকদার বাড়িতে সেদিন ছিল বিয়ের উৎসব। বাড়ির সামনেই ছিল তালুকদারহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। সেই কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন তালুকদার বাড়ির সেজছেলে জাহাঙ্গির তালুকদার। আর বড়ছেলে আনিস তালুকদার ছিলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তারা সবসময় ছাত্রদের শিখাতেন, কীভাবে মানুষকে ভালবাসতে হয়, কীভাবে মানুষের উপকার করতে হয়। সে সাথে তারা বলতেন, বনের পশু-পাখিদের কথা, এরা নাকি উপকার করলে প্রতিদান দিতে ভুল করে না। তালুকদারদের এসব কথা শুনে কলেজ পড়–য়া ছেলে মেয়েরা হেসে খুন হতো। আর একে অপরের সাথে বলতো, হেডমাস্টার আর প্রিন্সিপাল বুড়ো হয়ে গেছে।<br />
সে যাই হোক। তালুকদার বাড়ির বিয়ে বলে কথা। পুকুরের বড় বড় মাছ ধরা হয়েছে। গরু জবাই হয়েছে। আশেপাশের দু’দশ গ্রামের সব আত্মিয়-স্বজন-প্রতিবেশি এসে জড়ো হয়েছে এ বাড়িতে। বাচ্চাদের মধ্যে হৈ হুল্লোর চলছে। অনেক বাচ্চারা একসঙ্গে গিয়ে বসে আছে স্কুলের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি খালের পাশে। এটি কীর্তোণখোলা নদীর একটি শাখা নদ। বর ও কনে লঞ্চযোগে এইপথে বাড়িতে আসবে। তাই বাচ্চাদের এ অপেক্ষা। এদিকে বিবাহ উপলক্ষে বাড়িতে আসা মেহমানদের একজন বন্দুক নিয়ে বের হয়েছে পাখি শিকারে। তারা ঘু ঘু পাখির ডাক শুনে শুনে ছুটছে শিকারের জন্য। এভাবে তারা গিয়ে পৌছেছে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী একটি পর্যটন স্পট গজনীর দিঘি নামের স্থানে। নদের পার থেকে তাদের যেতে দেখে কৌতুহল বশে স্কুলের একজন ছাত্র সমীর তাদের পিছু নিয়েছে। শিকারী ও তার সঙ্গের ৪জন ওকে দেখে বলে, এই তুই আসিছ না। যা ভাগ।<br />
তখন কেউ একজন শিকারীর কানে কানে বলে এ তালুকদারদের সবার ছোটভাই। আর সকলের খুব আদরের। এ কথা শুনে শিকারী লজ্জাপায় এবং আপনি করে কথা বলে। অন্যরা তখন খুব খাতির করতে থাকে এবং ওকে ঝোলা থেকে একে একে পাঁচটি পাখি বের করে দেখায়। বলে এগুলোর দুটো আপনার। গুলি খেয়ে মারা যাওয়া পাখিদের দেখে সমীরের চোখ ছলছল করে ওঠে। ওর বড়ভাইরা ওকে শিখিয়েছে পাখিরা কত উপকারী। কখনো কারো কোনো ক্ষতি করে না।<br />
তখন ও চিন্তা করে এ শিকারীদের শিক্ষা দিতে হবে। ও বলে, গজনীর দিঘিতে অনেক পাখি আছে। ডাহুক আছে। শিকারীরা তখন ওকে সাথে নিয়ে গজনীর পাড়ে যায়। সেখানে গিয়ে একসঙ্গে অনেক পাখির কোলাহল শুনে শিকারীরা খুব অবাক হয়। তারা পাখির ডাক লক্ষ্য করে বন্দুক বাগিয়ে ছোটে। গজনীর পাড়ে জঙ্গল তখন খুব ঘন ছিল। আশেপাশের এলাকার মানুষেরা সেখানে যেত না। এ পাড় নিয়ে আজো অনেক লোককাহিনী প্রচলিত আছে। এখনো নাকি এ দিঘির জলে স্বর্নের নৌকা ভাসে। মানুষ কোনো মানত করে পুকুরের পাড়ে ডাল ছিটিয়ে গেলে তার ইচ্ছা পূর্ণ হয় ইত্যাদি।<br />
যাই হোক, শিকারীরা সে জঙ্গলে ঢুকে গেল। পাখিদের ডাকে তারা সমীরের কথাও ভুলে গেল। গজনীর জঙ্গলে আলো খুব কম। আর বছরের সবসময় এখানের একটা জায়গায় কোমড় পর্যন্ত কাঁদা থাকে। দিনের বেলাতেও কেউ ভুলে সেখানে যায় না। তারওপর রয়েছে বাতাস ফকির নামের কোনো এক সাধুর কবর। সে কবর পাহারা দেয় ভয়াল কালো দুটো বিড়াল। ঐ বিড়ালের চোখ নাকি বাঘের চেয়েও ভয়ংকর। কোনো মানুষ ঐ বিড়ালের চোখে তাকালেই সে পথ হারিয়ে একই জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। যেমনটি বন্দুকের গুলির শব্দে এ মুহূর্তে পাখিরা ভয় পেয়ে একই জায়গায় ঘুরছে। সমীর জঙ্গলের বাহিরে দাঁড়িয়ে পরপর দুটো গুলির শব্দ শুনতে পেল। দেখলো ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি ভয় পেয়ে ওর মাথার ওপর দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। বেশ কিছুক্ষণ আর কোনো শব্দ নেই। তখন ও বাড়ির পথ ধরলো। পথে এক জায়গায় দেখে কি একটা ঝোপের ভিতর কিছু একটা লড়ছে। ঝোপ ফাঁক করে দেখে একটি ঘুঘু পাখির বাচ্চা ভিতরে ছটফট করছে। পাখিটার গায়ে কাটাও বিধেছে। ও পাখিটা হাতে নিল ও কাটা খুঁজে বের করে দিল। ভালো করে খুটিয়ে দেখলো, না কোথাও গুলি লাগেনি। তখন বুঝলো পাখিটা অল্প অল্প উড়তে পারে। গুলির শব্দে ও ভয়ে পালিয়েছে। পাখিটাকে নিয়ে আবার গজনীর পাড়ে গেল, সেখানে পাখিটাকে একটু পানি খেতে দিয়ে এ গাছ-ও গাছে উকি দিয়ে ওর বাসা খুজল। কিন্তু কোনটায় যে পাখিটার বাসা তা বুঝতে না পেরে একটা বড় গাছে চড়ে সেটার নিরাপদ একটা ডালে পাখিটাকে বসিয়ে দিলো। ততক্ষণে বাচ্চা পাখিটার ডাকশুনে চারপাশে মা পাখি ও বাবা পাখি ঘুরে বেড়াচ্ছিল। উঁচুডাল থেকে উঁকি দিয়ে সমীর দেখতে পেল শিকারী ও তার সঙ্গের লোকেরা কোমড় সমান কাঁদার ভিতর দাঁড়িয়ে কি যেন খুঁজছে। তারা কাঁদা থেকে মুক্ত হবার জন্য লড়াই করছে। এ দেখে ও বাড়ি চলে এলো। এদিকে বিয়ে বাড়িতে তখন সবাই এসে গেছে। কিন্তু সমীরকে খুঁজে না পেয়ে বর-ও কনে লঞ্চ থেকে নামছে না। অবশেষে গায়ে কাঁদা মাখা অবস্থায় যখন ও গিয়ে হাজির হল লঞ্চঘাটে। বর ও কনে দু-জনই ওকে প্রথমে বকলো তারপর জড়িয়ে ধরল। এতে তাদের গায়ে কাদা লেগে যাবার ভয়ে ও সরে যেতে চাইলেও বর-ও কনে কেউই ওকে ছাড়লো না। ফলে তাদের গায়ে কাদা লেগে গেল। আর কনে ওর কান ধরে জানতে চাইলো কোথায় হারিয়ে গেছিলি? ও তখন কনের কানে কানে বলে দিল শিকারীদের ফাঁদে ফেলার গল্প। শুনেতো বর ও কনে দুজনেই হেসে খুন।<br />
সন্ধ্যার অনেকপরে শিকারী ও তার সঙ্গীরা খালিহাতে এসে হাজির। তাদের সারাগায়ে কাদার প্রলেপ। জানা গেল কাদার ভেতর বন্দুক, জুতো সব ফেলে এসেছে। আরও জানা গেল শিকারী আর কেউ নয় সম্পর্কে কনেরই মামা। এ শুনে বাড়ির চাকর বাকর ছুটে গেল কাদা থেকে তাদের বন্দুক ও জুতো উদ্ধারে। আর কনে গেল সমীরের হয়ে তার মামার কাছে ক্ষমা চাইতে।<br />
পরদিন সকালে চারিদিকে গুজুব ছড়িয়ে পড়লো যে কনের নাকফুল হারিয়ে গেছে। কীভাবে হারালো। বর কনে রাতে শর্শেক্ষেতে শিশির ধরতে গিয়েছিল। সেখানে বরের হাত লেগে নাকফুল পরে গেছে। এ নিয়ে মুরুব্বিরাতো না অমঙ্গলের কথা রটাতো লাগলো। মুরুব্বীদের কথাশুনে নতুন বৌ কাঁদছে। সমীর তখন ছুটে গেল শর্ষে ক্ষেতে। অনেক সময় ধরে ও নাকফুল খোঁজে। কিন্তু খুজে পায় না। জমির মাঝের যে আইল (পায়েচলা পথ বা শিল্লা ) সেখানে ও বসে বসে খোজে। এমন সময় দেখে কি দুটো ঘুঘু ক্ষেতের ভিতর হাটছে আর ঘু ঘু ঘু ডাকছে। একটা ঘু ঘু আইলে ওপর উঠে ঘাসে ওর মুখ ঘষলো। আর তখনই কিছু একটা ঝিলিক দিয়ে উঠলো সেখানে। সমীর কাছে গিয়ে দেখে ফুলের বোটার মতো কিছু একটা। ও হাতে নিয়ে বুঝলো এটাই ওর ভাবীর নাকফুল। ও দৌড়ে বাড়িতে গেল এবং এটি ভাবীর হাতে দিয়ে বললো, দেখতো এটা তোমার নাকফুল কি না। ভাবীতো অবাক। বলে হ্যাঁ।<br />
সবশুনে ভাবী বললো, তুমি যে কাল পাখিদের উপকার করলে, তাই আজ ওরা তা শোধ করে গেল। তখন পুরো চাঁনপুরা গ্রামে রটে গেল এ ঘটনা। এরপর থেকে এ গ্রাম ও এর আশেপাশের গ্রামে কেউ আর কখনো পাখিদের শিকার করে না। এমনকি ছোটবাচ্চারাও গুলোই নিয়ে কোন পাখি মারে না। তালুকদার বাড়ির বড়ভাইয়েরা যে স্কুলে ভুল শেখায় নাÑ গ্রামের সবাই সেটা বিশ্বাস করতে শুরু করলো। আর কলেজ পড়–য়া যে ছাত্ররা অবিশ্বাস করছিল তারা খুব লজ্জা পেল। এই সমীর তালুকদার পরে এই তালুকদারহাট স্কুল থেকেই মেট্টিকে যশোর বোর্ডে অস্টম প্লেস পেয়েছিল এবং সে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিলাতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। তার যে আরও একটি ছোটভাই আছে, আর সে এখনো ইমিডিয়েট বড় ভাইটির প্রতিক্ষায় দিন গুনে যায়।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%96%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ab-%e0%a6%86%e0%a6%b9%e0%a6%ae/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ফরিদুর রেজা সাগরের ছোট কাকু সিরেজের গল্প</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ab%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9c%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9b%e0%a7%8b%e0%a6%9f-%e0%a6%95%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ab%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9c%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9b%e0%a7%8b%e0%a6%9f-%e0%a6%95%e0%a6%be/#comments</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[সাহিত্য বাজার]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 07 Oct 2013 08:26:15 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[শিশুতোষ]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=463</guid>

					<description><![CDATA[<p>সাহিত্য বাজার, ৬ অক্টোবর, ঢাকা : কক্সবাজারের কাকাতুয়া- চ্যানেল আইয়ের শিশুতোষ ধারাবাহিক নাটক ছোট কাকু সিরিজটির এ পর্যন্ত আটটি পর্ব প্রচারিত হয়েছে। রোমান্টিকতা ও রহস্য উম্মোচনের নায়ক ছোট কাকু এখন</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%ab%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9c%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9b%e0%a7%8b%e0%a6%9f-%e0%a6%95%e0%a6%be/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>সাহিত্য বাজার, ৬ অক্টোবর, ঢাকা :</strong> কক্সবাজারের কাকাতুয়া- চ্যানেল আইয়ের শিশুতোষ ধারাবাহিক নাটক ছোট কাকু সিরিজটির এ পর্যন্ত আটটি পর্ব প্রচারিত হয়েছে। রোমান্টিকতা<a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2013/10/chhoto-kaku.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="aligncenter size-medium wp-image-464" alt="chhoto kaku" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2013/10/chhoto-kaku-184x300.jpg" width="184" height="300" /></a> ও রহস্য উম্মোচনের নায়ক ছোট কাকু এখন ছোটদের প্রিয় ধারাবাহিকের একটি। ছোটদের কাছেতো বটেই বড়দের অনেকের কাছেই ছোট কাকু নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই। সম্প্রতী এ সম্পর্কে জানার আগ্রহ নিয়ে অনেকেই চিঠি লিখেছেন সাহিত্য বাজার পত্রিকায়। এমনই একজন সাতক্ষীরার সায়েম বাসার। তিনি জানতে চেয়েছেন-এই ছোট কাকুটা সিরিজটা আসলে কি? এটা কি নাটকের বই না গল্প? বিষয়টা নিয়ে আমরা কথা বলি চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর এবং নির্বাহী প্রযোজক ছড়াকার আমীরুল ইসলাম-এর সাথে।</p>
<p>জানা যায়, ছোট কাকু মূলত ফরিদুর রেজা সাগরের একটি ধারাবাহিক শিশুসাহিত্য রচনা। যার একটি বইয়ে রয়েছে অনেকগুলো ধারাবাহিক গল্পের সমন্বয়। যেমন রাত বিরাতে সাতক্ষিরাতে নামের একটি সিরিজ-এর শুরু হয়েছে তথ্য প্রযুক্তির উন্নত সেবক স্যামসাং গ্যালাক্সি এইচ থ্রি ফোর নিয়ে। এখানে অন্যতম একটি চরিত্র ছোটকাকুর বন্ধু শরিফ সিঙ্গাপুরি। তিনি জড়িয়ে পরলেন দু’দুটি খুনের সাথে, তাও আবার সাতক্ষীরায়, যেখানে তিনি জীবনে কখনো যান নাই। এই রহস্যের উম্মোচন করতে ছোট কাকুর দল এবার যাচ্ছে সাতক্ষীরাতে। সম্প্রতী চ্যানেল আই ও নির্মাতা আফজাল হোসেন রাতবিরাতে সাতক্ষীরাতে নাটকের চিত্রায়ন শেষ করেছেন। ছো কাকু সিরিজের আগামী পর্ব শুরু হচ্ছে ফরিদুর রেজা সাগরের এই গল্পটি দিয়ে।</p>
<p>অনেকে যারা কুয়াসা, দস্যু বনহুর, মাসুদ রানা সিরিজ পড়েছেন তারা খুব সহজেই ধরতে পারবেন এই ছোট কাকু সিরিজ রহস্য। এটাকে গল্প না বলে উপন্যাস বললেও ভুল বলা হবে না। আবার যদি বলেন ধারাবাহিক শিশুতোষ নাটিকা, তাতেও ভুল নেই। এটা আসলে এক এর ভিতর তিন বলে জানালেন আমীরুল ইসলাম।</p>
<p>যদিও এ প্রসঙ্গে শিশুবন্ধু ফরিদুর রেজা সগর বলেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, এটা একটা ধারাবাহিক রচনা। দস্যু বনহুর বা মাসুদ রানা বড়দের জন্য। কিন্তু ছোটদের জন্য কার্টুনগুলো ছাড়াতো ধারাবাহিক কিছু নেই। তাই এই ধারাবাহিক সিরিজ রচনার চেষ্টা। এটা শুধু শিশুদের জন্যই নয়, বড়দেরকেও আমি এটির মাধ্যমে বিনোদন দিতে চেয়েছি। এটা গল্প না উপন্যাস সে নিয়ে ভাবিনি। তবে ছোট কাকু’র প্রথম বইটির পর্বগুলো নিয়ে এ পর্যন্ত ৮টি ধারাবাহিক পর্ব নির্মিত ও প্রচার হয়েছে। এটা চলমান প্রক্রিয়া। প্রথম বইটির সব পর্ব নিয়ে সিরিজ নাটক তৈরি শেষে ২য় বা ৩য় বই থেকে পরবর্তী সিরিজ বাছাই হবে।</p>
<p>তিনি জানান, আমার লেখা ছোট কাকু সমগ্র নিয়ে এ পর্যন্ত ২৫টি বই বা সিরিজ বই প্রকাশ করেছে অনন্যা প্রকাশনী। সর্বশেষে প্রকাশিত তিনটি বই-এর নাম- রাতবিরাতে সাকক্ষীরাতে, রাজশাহীর রসগোল্রা ও খালি খালি নোয়াখালি।</p>
<p>ছোট কাকু সিরিজের ব্যতিক্রম হচ্ছে এর প্রতিটি নামকরণে রয়েছে শিক্ষার উপকরণ ও রোমান্টিকতার হাতছানি। যেমন- খেলা হলো খুলনায়, জাদুঘরের জাদুকর, গোলমালে গড়াগড়ি, ঢাক বাজলো ঢাকায়, চুপি চুপি চট্টগ্রামে, রংপুরের রংধনু, ময়মনসিংহের ময়না, নাটক নাটোরে, বকা খেয়ে বগুরায় ইত্যাদি নাম শুনে ছোট বন্ধুদেরতো বটেই বড়দেরও চুটে যেতে ইচ্ছে হবে এক লাফে টেকনাফে কিম্বা কাকুর সাথে কুমিল্লায়। কি যাবেন নাকি ? হাতে সময় না থাকলে কি আর করা বলুন, তাহলে ঘরে বসে চ্যানেল আইয়ের পর্দায় ছোটকাকুর সাথেই উপভোগ করুন মনের ইচ্ছেগুলো সাজিয়ে ধরার এই মনস্তাত্তিক বিনোদনে। ছোট কাকু ঘুরে বেড়াবেন ৬৪টি জেলায়। তার সাথে আমরাও দেখে নেব রূপবতী বাংলার অফুরন্ত রূপ লাবণ্য।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ab%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9c%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9b%e0%a7%8b%e0%a6%9f-%e0%a6%95%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>1</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>রেবা তুমি বাঙালি না বাঙ্গালী</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 28 Sep 2013 09:36:26 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[শিশুতোষ]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=339</guid>

					<description><![CDATA[<p>কেউ যদি তোমাকে প্রশ্ন করে তুম বাঙালি না বাঙ্গালী? তাহলে কি উত্তর দেবে বলতো শোনামনিরা। এমনি একটা উদ্ভট প্রশ্ন যখন বড়দের মাথায় জট পাকিয়ে দেয় তখন প্রাইমারি স্কুলের একজন ছাত্রী</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2013/09/cloudy-fairy.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-146 alignright" alt="cloudy fairy" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2013/09/cloudy-fairy-300x187.jpg" width="300" height="187" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2013/09/cloudy-fairy-300x187.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2013/09/cloudy-fairy.jpg 500w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>কেউ যদি তোমাকে প্রশ্ন করে তুম বাঙালি না বাঙ্গালী? তাহলে কি উত্তর দেবে বলতো শোনামনিরা। এমনি একটা উদ্ভট প্রশ্ন যখন বড়দের মাথায় জট পাকিয়ে দেয় তখন প্রাইমারি স্কুলের একজন ছাত্রী কী উত্তর দেবে এ প্রশ্নের। হঠাৎই একদিন শ্রেণী কক্ষে বাংলা স্যার মুক্তিযুদ্ধে গল্প বলতে গিয়ে ব্লাকবোর্ডে লেখেনÑ তুমি বাঙালি না বাঙ্গালী? তারপর রেবাকে ডেকে জানতে চান, রেবা তুমি কোনটা, বাঙালি না বাঙ্গালী? একে একে স্যার ক্লাশের সবাইকে এ প্রশ্ন করেন। কেউই কোনো উত্তর দিতে পারেনা দেখে স্যার হাসেন। তারপর বইটা ছুড়ে ফেলে চলে যান।</p>
<p>ছোট্টমনি রেবা আদর্শ স্কুলের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী। প্রতিদিন সে নিয়ম করে স্কুলে যায়। হাতের কাজ জমা দেয় এবং স্কুলের সব নিয়ম নীতি মেনে চলে। এ কারণে শিক্ষকরাও তাকে খুব ভালোবাসেন। সে বরাবরই ক্লাসে প্রথম হয়। এ জন্য তার বাবা মাও খুব খুশি। কিন্তু বাংলা স্যারের প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে রেবার খুব মন খারাপ হয়ে যায়। সে ঘরে গিয়ে খুব কান্না করে। বাবা এসে রেবার কান্না দেখে জানতে চায়, মা মনি কি হয়েছে? রেবার মুখে সব কথা শুনে তিনি তারাতারি বাংলা স্যারকে ডেকে আনেন। বাংলা স্যার এসেই ওর মাথায় হাত বুলিয়ে বলে, ছিঃ মা মনি কাঁদে না। তোমাকে যে প্রশ্নটা করেছি, তার উত্তর যে আমি নিজেও জানিনা মা। বলে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে ও কপালে চুমু খেয়ে বাংলা স্যার সেদিন চলে যান। কয়েকদিন পর আবার একদিন বাংলা স্যার ক্লাশে বীরশ্রেষ্ঠদের গল্প পড়াচ্ছেন। তিনি বীরশ্রেষ্ঠ পড়াতে গিয়ে হঠাৎ প্রচণ্ড রেগে উঠলেন এবং ভুল ভুল বলে হাতের বইটি ছুড়ে ফেলে দিয়ে ক্লাশ থেকে বের হয়ে গেলেন। ছাত্রছাত্রীরা তো সবাই খুব অবাক। কারণ স্কুলের সবচেয়ে শান্তশিষ্ট এবং নরম মনের এ শিক্ষকটি ছোটদের খুবই প্রিয়। তাকে কেউ কখনো রাগ করতে দেখেনি। সবসময় ছোটদের সঙ্গে গল্প করেন। মজার সব গল্প বলে বলে বইয়ের পড়া শেখান। আজ হঠাৎ স্যারের একি আচরণ। রেবার মন খুব খারাপ হয়। কারণ বাংলা স্যার ওর কাছে শুধু স্যার নয়, ওর বড়চাচা সে, বাবার আপন বড়ভাই।</p>
<p>রাতে রেবা বিছানায় ঘুমাতে গিয়ে বাবার গলা জড়িয়ে ধরে স্কুলের গল্প করে। বাবার কাছে বাংলা স্যারের হঠাৎ রেগে যাওয়া ও বই ছুড়ে ফেলার কথা বলে। জানতে চায় চাচ্চু কেন এটা করেছে। বাবা তখন রেবাকে বলে, দেখিতো মা মনিÑ তোমার বাংলা বইটা। রেবা দ্রুত বাংলা বইটা বাবার হাতে দেয়। বাবা সেটা উল্টে-পাল্টে দেখে। বীরশ্রেষ্ঠদের গল্প অংশে এসে বাবাও থেমে যান। এমনিতেই পুরো বইয়ের মধ্যে অসংখ্য বানান ভুল। তারউপর বীরশ্রেষ্ঠদের গল্পে এসে বাঙ্গালী বানানটা হয়েছে বাঙালি আর যোদ্ধা হয়েছে যোদ্দা। বিষয়টা দেখে বাবা বলে, মা মনি তোমার চাচ্চু এমনিতেই কোনো বানান ভুল দেখলে রেগে যান। আর সেটা যদি হয় মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা নিয়ে তাহলে তো ভয়ানক ব্যাপার। কারণ তোমার চাচ্চু নিজেও যে একজন মুক্তিযোদ্ধা।<br />
রেবা তখন বলে, কিন্তু বাবা, এ বইয়ে তো এরকম অনেক ভুল আছে, চাচ্চু পড়াবার সময় নিজেই সেসব ভুল বানান ঠিক করে দিচ্ছেন। তাহলে এখানে কেন ঠিক করলেন না?<br />
বাবাÑ কারণ এখানে যে ‘বাঙালি’ শব্দটা লিখেছে। এটা নিয়ে তোমার চাচ্চুর যুক্তি হচ্ছে Ñ“আমরা বাংলাদেশীরা বাঙালি না, আমরা বাঙ্গালী। কারণ প্রাচীন ইতিহাসে আমাদের এ অঞ্চল মূলত বঙ্গ নামেই পরিচিত ছিল। খ্রিস্টিয় অষ্টম শতাব্দীতেও বঙ্গ ছিল গুরুত্বপূর্ণ স্থান। অনেক পরে সেটা বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আমাদের বাংলাদেশ হয়েছে। বঙ বা ব্যঙ জাতীয় কোনো শব্দ এখানে নেই। এ কারণে বঙ্গ থেকে বাঙ্গালী হবে, এটাই তোমার চাচ্চুর যুক্তি। এটা তুমি এখন বুঝবে না। বড় হলে বুঝতে পারবে।<br />
রেবাÑ কিন্তু চাচ্চু এতো রেগে গেল কেন?<br />
কারণ এই যে, আজ আমরা বাংলায় কথা বলছি, পৃথিবী জুড়ে যে বাংলা ছড়িয়ে পড়েছে। এ বাংলার জন্য ১৯৫২ সালের ফেব্র“য়ারি মাসে কত লোক প্রাণ দিয়েছে। তুমি তো সালাম, জব্বার, রফিকের কথা পড়েছো। এদের মাঝে আরো অনেকে ছিলেন, তোমার দাদাও শহিদ হয়েছেন এই ভাষা আন্দোলনে। তাদের রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা বাংলায় কথা বলছি। আজ সারাবিশ্বে বাংলার প্রচলন। তুমিই বলো মা-মনি সারাবিশ্বে এখন যে ভাষার ব্যবহার চলছে, সেই ভাষার একটা শব্দ যদি অনেক রকম বানান হয় তবে কি মান থাকে। একই বইয়ে এক জাযগায় বাঙালি আর এক জায়গায় বাঙ্গালী হলে তুমি কোনটা লিখবে? এরকম আরো অসংখ্য ভুল আছে তোমাদের পাঠ্যবইতে। এইযে, ‘আরো’ বললাম এটাও কোথাও কেউ কেউ লিখছেন আরও, আরো, আবার ‘কারো&#8217;কে কেউ লিখছেন কারও এটার একটা নীতিমালা হওয়া উচিত। ‘বই পড়া’, আর ‘সরে পরা’র মধ্যে দুটো ‘পড়া ও পরা’ এক নয়। অথচ তোমাদের পাঠ্যে-পত্রপত্রিকায় দুটোতেই ব্যবহার হচ্ছে ‘পড়া’। আসলে কোনটা ব্যবহার হবে, কেন হবে তা দেশের বাংলা একাডেমিকে নির্ধারণ করে দিতে হবে। আমরা বাংলাদেশি না বাংলাদেশী লিখবো, বাংলা একাডেমি না আকাডেমি বলবো এটা যতদিন নির্ধারণ না হবে ততদিনে এ ভাষার যাচ্ছে তাই ব্যবহার বন্ধ হবে না। আর পাঠ্যবই যারা ছাপেন তাদের হতে হবে অনেক বেশি সচেতন। কারণ তোমাদের বয়স থেকেই তো সত্যিকার শিক্ষা শুরু হয়। প্রথম ধাপেই যদি ভুল শিক্ষা পাও তবে তো সারাটা জীবন এই ভুলটাই করে যাবে। এটা ভেবেই তোমার চাচ্চু খুব রেগে গেছেন। সে তখন কল্পনার চোখে দেখতে পেয়েছেন, তোমরা সবাই বড় হয়ে বাংলাভাষার অপমান করছো। নিজের মাতৃভাষাকে ব্যঙ্গ করছো।<br />
রেবাÑ এটা কেন ঠিক করা যাচ্ছে না বাবা। আমরা কেন ভুল শিখবো?<br />
বাবাÑ এটা করতে হলেও যে আবার একটা আন্দোলন লাগেরে মা। সেই মানুষ কই যে এ সব নিয়ে কথা বলবে।</p>
<p>রেবা এ কথা শুনে চুপ হয়ে যায়। ওর কানে ভাসে একুশে ফেব্র“য়ারির সেই গান। আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো&#8212;&#8212;&#8211;।</p>
<p>পরদিন স্কুলে গিয়েই রেবা তার শ্রেণীকক্ষের সব ছাত্রছাত্রীকে বাবার বলা কথাগুলো বুঝিয়ে বললো। ছাত্ররা সবাই তাদের বই খুলে বিষয়টি লক্ষ্য করলো। সকলের মাঝে একটা গুঞ্জন ওঠে। আমরা সঠিক শব্দের বানান চাই। বিষয়টা একে একে ৫ম শ্রেণী থেকে ছড়িয়ে পড়লো ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত। সবাই বই খুলে দেখে একই শব্দের একাধিক বানান। ১ম থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত এ নিয়ে তুমুল ক্ষোভ প্রকাশ শুরু হয়ে যায়। রেবাদের ক্লাশে তখন রেবা ও তার সহপাঠীরা বানান সংশোধনের দাবি তুলে প্রধান শিক্ষকের কক্ষের সামনে বসে পড়েছে। ছোট্ট বাচ্চারা এটা করছে শুনে লজ্জায় কলেজ পড়–য়া ছেলেমেয়েরা রাস্তায় বের হয়ে পড়ল ব্যাণার ও মিছিল নিয়ে। ওদের ব্যাণারে ফুটে উঠলো আরো অসংখ্য শব্দ। বই পড়া, আর ঢলে পড়া না পরা। পড়া, পরা’র ব্যবহার ঠিক করতে হবে। বারাবারি না বাড়াবাড়ি হয়তো না হয়ত, ছিল না ছিলো, ছিলনা, করিনা, পারিনা এ শব্দে না কি যুক্ত না অযুক্ত। ইত্যাদি শব্দের সঠিক ব্যবহারের দাবিতে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে যোগ দিলেন অভিভাবকও। সবাই গিয়ে হাজির হলেন বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। সঠিক বানানের দাবিতে একাডেমি প্রাঙ্গনে মানুষের ঢল দেখে বিস্মিত একাডেমি কর্তৃপক্ষ। এতোদিন তারা দায় সারা ভাবে কোনোরকম বাংলা অভিধান পূন:মুদ্রন করে আসছিলেন। আন্দোলনের মুখে তারা এসে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন জনতার কাছে। স্বীকার করলেন তাদের গাফলতি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নিজেও ছুটে এলেন এ সংবাদে। এসেই রেবকে তিনি কোলে তুলে নিলেন। ভাষার এ বানান সংকটে তিনি নিজেও বেশ সমস্যায় পড়েছেন বলে স্বীকার করলেন এবং তিনমাসের মধ্যে সব বানান ঠিক করে নতুন অভিধান ও পাঠ্যবই প্রকাশের নির্দেশ দিলেন বাংলা একাডেমি ও পাঠ্যপুস্তক প্রকাশনা দপ্তর কর্তৃপক্ষকে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
