<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>স্মৃতিকথা &#8211; সাহিত্য বাজার</title>
	<atom:link href="https://shahittabazar.com/category/%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://shahittabazar.com</link>
	<description>সাহিত্যের আয়নায় মানুষের মুখ</description>
	<lastBuildDate>Sat, 28 Sep 2024 10:32:16 +0000</lastBuildDate>
	<language>bn-BD</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.4</generator>
	<item>
		<title>কিছুতেই থামে না স্বজনহারাদের কান্না! পায়নি কোনো সরকারি অনুদান</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[সাবা প্রতিবেদক]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 28 Sep 2024 10:28:04 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কথামালা]]></category>
		<category><![CDATA[স্মৃতিকথা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=5382</guid>

					<description><![CDATA[কিছুতেই থামে না স্বজনহারাদের কান্না! (বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত বরিশালের একই গ্রামে দুইজন শহীদ রাসেল ও সাজিদ, পাশের গ্রামে ঘুমিয়ে আছেন ওয়াদুদ নামে আরো একজন) (আজো পায়নি সরকারি কোনো অনুদান&#8230;) বিশেষ<span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div id="m#msg-a:r-1230546694270407961" class="mail-message expanded">
<div class="mail-message-header spacer"><strong>কিছুতেই থামে না স্বজনহারাদের কান্না!</strong></div>
<div>
<div class="mail-message-header spacer"><strong>(বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত বরিশালের একই গ্রামে দুইজন শহীদ রাসেল ও সাজিদ, পাশের গ্রামে ঘুমিয়ে আছেন ওয়াদুদ নামে আরো একজন)</strong></div>
<div></div>
</div>
<div class="mail-message-content collapsible zoom-normal mail-show-images ">
<div class="clear">
<div dir="auto">
<div dir="auto">(আজো পায়নি সরকারি কোনো অনুদান&#8230;)</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"><strong>বিশেষ প্রতিবেদক</strong></div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">
<div id="attachment_5383" style="width: 310px" class="wp-caption alignleft"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/09/IMG20240926155032.jpg"><img fetchpriority="high" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-5383" class="size-medium wp-image-5383" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/09/IMG20240926155032-300x169.jpg" alt="" width="300" height="169" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/09/IMG20240926155032-300x170.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/09/IMG20240926155032-768x432.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/09/IMG20240926155032-1024x576.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/09/IMG20240926155032-70x40.jpg 70w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/09/IMG20240926155032.jpg 1920w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-5383" class="wp-caption-text">শহীদ রাসেল তালুকদার এর স্বজনদের আহাজারি। শিশুকন্যার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত তারা</p></div>
<p>মায়ের চোখের জল শুকিয়ে গেছে। সন্তানের লাশ কাঁধে নিয়ে দাফন সম্পন্ন করার পর থেকে নির্বাক বাবা। পৃথিবীর সব ভার এখন তাকে ঋজু করে দিয়েছে। ছোট্ট শিশুটিকে বুকে আঁকড়ে ধরে নিহতের স্ত্রীর আহাজারিতে আকাশ-পাতাল ভারী হয়ে ওঠে। শিশুটি আজো ডাকে বা-বা&#8230;। শিশুর ডাকের সাথে পাল্লা দিয়ে বারে মায়ের কান্না। ওকে কি করে বোঝাবে মা? ওর বাবা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। সদ্য বিধবা হওয়া যৌবতী  মায়ের আকুতি &#8211; আমার কি হবে? এই বয়সে কি আমার বিধবা হওয়ার কথা ছিলো? আমার এই শিশু সন্তানের কি হবে?</p>
</div>
<div dir="auto">বরিশালের একই গ্রামে দুজন শহীদ পরিবারের এই চিত্র যেন সারা বাংলাদেশের ৭০৮ জন শহীদ পরিবারের কান্নার প্রতিনিধিত্ব করছে। ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের দিন ৫ ই আগস্ট (৩৬ জুলাই) ঢাকার সাভারে ও বাড্ডায় পুলিশ ও ছাত্রলীগের গুলিতে বুকে পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার মোট ছয়জন ছাত্র জনতা। তাদের মধ্যে তিনজন একই ইউনিয়নের বাসিন্দা। আবার দুজনের বাড়ি একই গ্রামে।</div>
<div dir="auto"> সরকারি তথ্য মতে বরিশালে এখন পর্যন্ত শহীদের যে পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে, তা ৩০ জনের মতো। যার ৬ জনই বাকেরগঞ্জের। সম্প্রতি বরিশালের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।</div>
<div dir="auto">এদের তিনজন আবার একই ইউনিয়নের এবং একই গ্রামের দুজন।</div>
<div dir="auto">
<p>বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া খেয়াঘাট থেকে বাসে গোমা ফেরীঘাট। ফেরী বা খেয়া পার হলেই ওপারে বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়ন। গোমা বাজার থেকেই ব্যবসায়ীদের মুখে মুখে শোনা গেল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ তিনজনের কথা। তবে শহীদদের নাম জানা নেই বেশিরভাগ মানুষের। হোটেল ও চা দোকানের ব্যবসায়ী মঈনউদ্দীন জানালেন, দুধল ইউনিয়নের কবিরাজ ডিকিপি স্কুল সংলগ্ন এক বাড়িতে একজন এবং এই সড়ক ধরে সোজা সামনের স্টেশনে সুন্দরকাঠী গ্রামে দু&#8217;জন শহীদ এর বাড়ি। একজন তালুকদার বাড়ি আর অন্যজন একটু ভিতরে হাওলাদার বা মৃর্ধা বাড়ি।  গোমা বাজার থেকে ইজিবাইকে সুন্দরকাঠী বাজার মাত্র ১০ মিনিটের পথ। এখান থেকে আবার অটোভ্যানে প্রায় ২০ মিনিট চলার পর পূর্ব সুন্দরকাঠী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গরুর হাট। সকালে বৃষ্টি হয়ে যাওয়া এবং এখনো থেমে থেমে বৃষ্টি চলমান থাকায় সড়কে ও গরুর হাটে মানুষের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। এখানে খালের উপর সেতু পার হয়ে ওপারে হেরিংবন অর্থাৎ ব্রিটিশামলের ইটা বিছানো পায়েচলা পথ। বৃষ্টির কারণে পিছলে যাচ্ছে পা। মাঝেমধ্যে আবার কাঁদামাটি। এভাবে কিছুদূর চলার পর ইটা বিছানো পথ শেষে শুরু হলো কাঁদামাটির পিচ্ছিল পথ। এই পিচ্ছিল পথ ধরে ১০ মিনিট হাঁটার পর অনেকের কাছে জিজ্ঞেস করে করে অবশেষে যে করবটি পাওয়া গেল সেটি হাওলাদার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থান। পাশেই হাওলাদার বাড়ি।</p>
<div id="attachment_5384" style="width: 310px" class="wp-caption alignright"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/09/IMG20240926164821.jpg"><img decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-5384" class="size-medium wp-image-5384" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/09/IMG20240926164821-300x169.jpg" alt="" width="300" height="169" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/09/IMG20240926164821-300x170.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/09/IMG20240926164821-768x432.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/09/IMG20240926164821-1024x576.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/09/IMG20240926164821-70x40.jpg 70w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/09/IMG20240926164821.jpg 1920w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-5384" class="wp-caption-text">শহীদ সাজিদ হাওলাদার এর সমাধি। নেই কোনো স্মৃতিচিহ্ন।</p></div>
<p>পলিথিন ব্যবহার করে ঢেকে রাখা এই কবরটি ঢাকার বাড্ডায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ সাজিদ হাওলাদার এর। তাঁর বড় চাচা মোতালেব বা মতি হাওলাদার এলাকায় খুব পরিচিত। তিনি জানালেন, সাজিদ এর বাবা আমার মেজ ভাই মিলন হাওলাদার পরিবার নিয়ে ঢাকাতেই থাকেন। সাজিদও ঢাকায় বড় হয়েছে তাই গ্রামের মানুষ তাকে চেনেনা। আমরা যতটুকু সাজিদকে দেখেছি বা জানি, সে অত্যন্ত নিরিহ, বিনয়ী ও ভদ্র একজন যুবক। বছর পাঁচেক হয়েছে বিয়ে করেছে। স্ত্রী ছাড়াও শিশু সন্তান রয়েছে। যার বয়ছ মাত্র দুই-তিন বছর।  পরিবারের সবাই ঢাকায় থাকার কারণে সাজিদ এর কবরের পাশে কোনো স্মৃতিচিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি।</p>
</div>
<div dir="auto">একই পথে বহুকষ্টে আবার ফিরে আসা সুন্দরকাঠী বাজারে। এখানে বসতেই স্থানীয় যুবদলের নেতা সোহান তালুকদার এগিয়ে এসে পরিচিত হলেন। তার কাছেই জানাগেল, কবাই, পাদ্রী শিবপুর, চরাদিতে একজন করে মোট তিনজন এবং এই দুধল ইউনিয়নে তিনজনসহ মোট ছয়জন শহীদের কবর রয়েছে বরিশালের বাকেরগঞ্জের উপজেলায়। কবিরাজ গ্রামের ডিকিপি স্কুল সংলগ্ন খোন্তাখালি মোল্লা বাড়িতে ওদুদ নামে একজন শহীদের কবর রয়েছে। আর এই সুন্দরকাঠী গ্রামে দুজন। সোহান নিজেই পথ দেখিয়ে নিয়ে চললেন তারই আপন চাচাতো ভাই শহীদ রাসেল তালুকদার এর কবরের কাশে। তালুকদার বাড়ির পারিবারিক সমাধিস্থলে স্পষ্ট সাইনবোর্ডে লেখা আছে &#8211; সমাধিস্থল</div>
<div dir="auto">শহীদ আরিফুর রহমান রাসেল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে লং মার্চ টু ঢাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন।</div>
<div dir="auto">কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দু মিনিট নিরবতা পালনের ফাঁকেই ঘরের ভিতর থেকে কান্না আর আহজারি স্পষ্ট হয়। শিশুকন্যাকে কোলে নিয়ে সামনে এসে দাঁড়ায় একজন সদ্য বিধবা মা। যার বয়স মাত্রই ২২কি ২৩ হবে অনুমান। নিহত রাসেলের বড়ভাই সোহাগ তালুকদার পরিচয় করিয়ে দিলেন, শহীদ রাসেলের স্ত্রী ও শিশু সন্তানের সাথে। তারপর জানালেন, লং মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচিতে ঢাকার সাভারে পুলিশ ও ছাত্রলীগের গুলিতে নিহত হয়েছে আমার ভাই। ঐ দিন শিক্ষার্থীরা আহত অবস্থায় ওকে এনাম মেডিকেলে ভর্তি করে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা আমাকেই ফোন করে বিষয়টি জানায় আর বলে রাসেল এর বুকে ও পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আমরা দ্রুত ওর কাছে যাই।  ৪০ মিনিট পর রাসেল মারা যায়।</div>
<div dir="auto">এসময় রাসেলের স্ত্রী চিৎকার করে ওঠেন, কান্নারত কণ্ঠে বলেন,  এনাম মেডিকেল রাসেলকে  সুচিকিৎসা দেয়নি। বিনা চিকিৎসায় ফেলে রেখেছিল। আমরা যাওয়ার পর, টাকার নিশ্চয়তা দেওয়ার পর তারা আইসিইউতে নেয়। এর আগেই যদি তারা সুচিকিৎসার নিশ্চিত করতো তাহলে হয়তো আরো অনেক প্রাণহানি কমে যেত। সন্তানকে বুকে আঁকড়ে ধরে এই মা কান্নারত প্রশ্ন তোলেন, আমার এই সন্তানের কি হবে ভবিষ্যৎ বলতে পারেন?</div>
<div dir="auto">
<div id="attachment_5385" style="width: 310px" class="wp-caption alignleft"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/09/IMG20240926153208.jpg"><img decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-5385" class="size-medium wp-image-5385" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/09/IMG20240926153208-300x169.jpg" alt="" width="300" height="169" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/09/IMG20240926153208-300x170.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/09/IMG20240926153208-768x432.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/09/IMG20240926153208-1024x576.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/09/IMG20240926153208-70x40.jpg 70w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/09/IMG20240926153208.jpg 1920w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-5385" class="wp-caption-text">শহীদ রাসেল তালুকদার এর সমাধি।</p></div>
<p>রাসেলের বাবা খলিলুর রহমান এবং মা এসে দাঁড়িয়েছেন কবরের পাশে। হাত তুলে সন্তানের জন্য দোয়া করলেন মা। তারপর বললেন, বিধবা এই বড় মেয়েটি এবং তার কোলের ছোট মেয়েটির কথা ভেবে আমাদের রাতে ঘুম হয় না। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ জানাবো, এদের জীবনের নিশ্চয়তা দিন। শিশু সন্তানের ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দিন।</p>
</div>
<div dir="auto">এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর বরিশালে শহীদ আবীর এর পরিবার সাথে সাক্ষাৎ শেষে জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, আন্দোলনে বরিশাল জেলায় এখন পর্যন্ত ৩০ জন শহীদের সন্ধান পাওয়া গেছে। তাঁদের তালিকা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী এসব পরিবারের পাশে দাঁড়াবে সরকার। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁরা পর্যায়ক্রমে সবার পরিবারের কাছে যাবেন এবং সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সহায়তা দেবেন।</div>
<div dir="auto">বাকেরগঞ্জের দুধল ইউনিয়নের সুন্দরকাঠী গ্রামের হাওলাদার বাড়িতে এবং কবিরাজ গ্রামের শহীদ ওদুদ এর বাড়িতে এখনো সরকারের কেউ কোনো খোঁজ নেয়নি বলে জানা গেছে।</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্য ও একজন সংবাদ কর্মীর অভিজ্ঞতা</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a4%e0%a6%a5%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%93/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a4%e0%a6%a5%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%93/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 19 Aug 2024 13:20:06 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কথামালা]]></category>
		<category><![CDATA[রাজখবর]]></category>
		<category><![CDATA[সম্পাদকীয়]]></category>
		<category><![CDATA[স্মৃতিকথা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=5371</guid>

					<description><![CDATA[<p>তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্য ও একজন সংবাদ কর্মীর অভিজ্ঞতা</p> <p>সম্পাদকীয়</p> <p>আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মত দুভাগে বিভক্ত বাংলাদেশের সাংবাদিকতা। এটা যেন আর না হয় বললেন তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। একইসাথে সব</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%a4%e0%a6%a5%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%93/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্য ও একজন সংবাদ কর্মীর অভিজ্ঞতা</strong></p>
<p>সম্পাদকীয়</p>
<div id="attachment_5372" style="width: 244px" class="wp-caption alignleft"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/08/IMG_20240817_192646.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-5372" class="size-medium wp-image-5372" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/08/IMG_20240817_192646-234x300.jpg" alt="" width="234" height="300" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/08/IMG_20240817_192646-234x300.jpg 234w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/08/IMG_20240817_192646-768x984.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/08/IMG_20240817_192646-799x1024.jpg 799w" sizes="auto, (max-width: 234px) 100vw, 234px" /></a><p id="caption-attachment-5372" class="wp-caption-text">আরিফ আহমেদ, সংবাদ কর্মী ও সম্পাদক সাবা</p></div>
<p>আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মত দুভাগে বিভক্ত বাংলাদেশের সাংবাদিকতা। এটা যেন আর না হয় বললেন তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। একইসাথে সব কালো আইনও বাতিলের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।<br />
তার এই বক্তব্যকে অবশ্যই সাধুবাদ এবং সাহসী বক্তব্য তা বলতেই হবে। কিন্তু কতটা কি তিনি পারবেন তা সময়ই বলে দেবে। আমি শুধু এখানে আমার কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো। আমি কোনো দলীয় রাজনীতি কখনোই করিনি এবং কোনোরকম দলীয় প্রভাব মুক্ত থেকেই দায়িত্ব পালন করছি বিগত ১৯৯৩ সাল থেকে। শিক্ষাগত যোগ্যতা কম হবার কারণে আর দশজন সাংবাদিকের মতন আমি কখনোই নিজেকে সাংবাদিক দাবী করে কথা বলিনা। বলি একজন সংবাদ কর্মী। যে কারণে অনেকের কাছে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছি বহুবার। তারপরও জনমানুষের পক্ষে কলম ধরেছি এবং প্রয়োজনটুকু আদায় করে নিয়েছি পছন্দ বা অপছন্দের নেতা-মন্ত্রীর কাছ থেকেও। কারণ মানুষের প্রয়োজনটুকু অস্বীকার করার সাধ্য সবচেয়ে খারাপ মানুষটির মধ্যেও নেই। সাংবাদিক চাইলে তার লেখনীর জোরে বহুজনের প্রয়োজন আদায় করে নিতে পারেন। এজন্য তার দলীয় সমর্থন কোনো গুরুত্ব রাখেনা। উদাহরণ হিসেবে সাবেক সড়ক সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাহেব এর কথাই বলবো প্রথমে। সিঙ্গাপুর থেকে সাঁতার কাটার ছবি দিয়েছিলেন তিনি তার ফেসবুকে। ইনবক্সে বললাম, দেশে কি পুকুরের অভাব স্যার? সাথে সাথে কিন্তু তিনি ছবিটি ডিলিট করে বা সরিয়ে দেন। তাকে বললাম, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের ইন্সুইরেন্স আদৌ কোনো উপকারে আসেনা। পরবর্তী মিটিং এ তিনি এই দুটো বাতিল করেন। একই ভূমিকা রাখেন বানিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশিও। ঘরে ঘরে রেশনিং পদ্ধতি পুনঃ বিবেচনার দাবীতে সাধারণ মানুষের ভিডিও বক্তব্য তার কাছে তুলে ধরলে তিনি টিসিবি কার্ড তৈরি করেন। আর সাংস্কৃতিক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বা প্রতিমন্ত্রী খালিদ হোসেনতো সাথে সাথে সাড়া দিতেন। যার প্রমাণ আমার অসংখ্য সংবাদে সাহিত্য বাজার এ আজো ভাসছে।<br />
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিলো বরিশালে আসার পর একটি এলাকার মানুষকে দেখলাম সাঁতার কেটে ও কলা গাছের ভেলায় খাল পার হচ্ছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুককে ছবিসহ নিউজটি দিতেই তিনি সাথে সাথে ছুটে আসেন ঐ এলাকায়। ২০২০ সালের শেষের দিকের কথা এটি। ২০১৮ সালে তিনি সংসদ সদস্য হয়েছেন। এরপরই করোনা মহামারী হওয়ায় সবাই গৃহবন্দী জীবন যাপন করেছেন। যাইহোক ভদ্রলোক তখন আমার পরিচয় জানতে চান। বলেন আমি কোন দল করি? উত্তর দিয়েছিলাম &#8211; যতক্ষণ আপনি সৎ ও সাধারণ মানুষের ভালোর জন্য কাজ করবেন, ততক্ষণ আমি আপনার দলের। যখনি আপনি দূর্নীতি করবেন, তখনি আমিও বিরোধী দল।<br />
এরপর ভদ্রলোক আর আমার সাথে কখনো কথা বলেননি। তবে যখনই কোনো ভাংগা সড়ক, সেতু আর কোনো অসহায় মানুষের সংবাদ তৈরি করে তাকে লিংক পাঠিয়ে দিতাম, তখনি তিনি কাজটি করে ফেলতেন। বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ কখনোই ফোন রিসিভ না করায় তাকে দিয়ে জনগণের কোনো উপকার আমি করতে পারিনি। কিন্তু নবনির্বাচিত মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ সম্ভবত অনেকটা তটস্থ থাকতেন, কখন আমার মেসেজ চলে আসে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে। এই খালের কাজ ঠিক হচ্ছেনা, পাড় ভাঙছে কেন কিম্বা সড়কে বাতি নেই, সড়কের ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি গেছে, ঠিকাদারের কাজে অনিয়ম স্পষ্ট। সাথে সাথে তিনিও ছুটে যেয়ে দেখে এসেছেন স্বাধীনতা পার্ক, ১৩ নং ওয়ার্ড সাগরদি খালের কাজ। তিন তিন বার দিয়েছেন জর্ডান রোডের সড়কের স্লাব।<br />
এগুলো এজন্য বলছি যে, সাংবাদিকতা যদি নিজের জন্য না হয়, মানুষের জন্য হয়, তাহলে স্বৈরাচার থেকেও দাবী আদায় করে নেওয়া যায়।<br />
বরিশালের এ দুজন প্রতিমন্ত্রী ও মেয়র আমাকে দেখেছেন মাত্র দুবার। প্রতিমন্ত্রী আমাকে চিনলেও মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ কিন্তু আজ পর্যন্ত আমাকে চেনেন না।<br />
নিজের ব্যক্তিগত (অপারেশন জনিত) বিপদে প্রতিমন্ত্রীর সাহায্য চেয়ে কিন্তু পাইনি আমি। সেজন্য সড়ক সেতু মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছিলাম আমিও। যা এখানেই টাইমলাইনে আজো ঝুলছে। কেউ সাড়াটুকু দেয়নি আজ পর্যন্ত।<br />
এগুলো সাম্প্রতিক উদাহরণ। বিএনপি শাসনামলেও কিন্তু মেয়র সাদেক হোসেন থেকে ঢাকার মিরপুর ১০ এ মুক্তমঞ্চ ও টাউনহল তৈরির প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিয়েছিলাম। যে কারণে সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ আমাকে পছন্দ করতেন। এখনো ওখানে মুক্তমঞ্চ আছে তবে সিটি করপোরেশনের ভাগারখানার ভিতর।<br />
সর্বশেষ পিরোজপুর মঠবাড়িয়া, বরগুনা বাকেরগঞ্জ মহাসড়কের কাজে নোটিশ করলে সড়ক সেতু মন্ত্রী তা দ্রুত করার আশ্বাসও দিয়েছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামকে তার মন্ত্রণালয়ের কয়েকটি কাজের অনিয়ম সংবাদ তুলে ধরলে তিনি ভিডিও কলে তা নিজেও দেখেন। একদিন পর সরাসরি বলেই বসলেন, আমরা এখন সচিবদের হাতে জিম্মি। আমাদের কোনো গুরুত্ব এখন আর নেই।<br />
আসলে তখনই এ সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে যায়। দেশ চালাচ্ছেন শুধু প্রধানমন্ত্রী আর সচিবরা। বাকী সবাই পুতুল।।<br />
তাই অনেক বিষয়ে প্রতিবাদী কলম ধরে আর কোনো লাভ হয়নি এরপর। ২০২৪ এ দ্বাদশ জাতীয় সংসদে সরকার গঠনের পর সচিবরাই ছিলেন মন্ত্রী এমপিদের তুলনায় অনেকবেশি ক্ষমতাবান। যদিও এ ক্ষমতায়ন ২০১৮ তেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাই সচিবসহ ডিসি, এসপি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব নেওয়া এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরী।<br />
তাই বলছি, সাংবাদিক কোন দল করে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, তার কলমটা যেন সত্য তুলে ধরে &#8211; এটা গুরুত্বপূর্ণ সবসময়।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a4%e0%a6%a5%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%93/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মানুষের ভালোবাসায় বেঁচে থাকবেন ওয়াহিদুল হক</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%81%e0%a6%9a%e0%a7%87/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%81%e0%a6%9a%e0%a7%87/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 27 Jan 2024 15:19:40 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কথামালা]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলার চিঠি]]></category>
		<category><![CDATA[স্মৃতিকথা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=5248</guid>

					<description><![CDATA[<p>মানুষের ভালোবাসায় বেঁচে থাকবেন ওয়াহিদুল হক</p> <p>বিশেষ প্রতিবেদক </p> <p>স্মৃতিচারণ, গান ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রগবেষক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শিক্ষাগুরু ওয়াহিদুল হকের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিক উদ্যাপন করেছে তাঁর হাতে গড়া সংগঠন</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%81%e0%a6%9a%e0%a7%87/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>মানুষের ভালোবাসায় বেঁচে থাকবেন ওয়াহিদুল হক</strong></p>
<p>বিশেষ প্রতিবেদক <a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2016/03/waheedul-haq-utshab-photo-1.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignright size-medium wp-image-3228" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2016/03/waheedul-haq-utshab-photo-1-300x126.jpg" alt="" width="300" height="126" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2016/03/waheedul-haq-utshab-photo-1-300x126.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2016/03/waheedul-haq-utshab-photo-1.jpg 400w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a></p>
<p>স্মৃতিচারণ, গান ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রগবেষক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শিক্ষাগুরু ওয়াহিদুল হকের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিক উদ্যাপন করেছে তাঁর হাতে গড়া সংগঠন কণ্ঠশীলন। ২৭ জানুয়ারী সন্ধ্যায় কণ্ঠশীলনের কার্যালয়, ৭৩/১ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে পথচলার স্মৃতি তুলে ধরেন কণ্ঠশীলন অধ্যক্ষ মীর বরকত এবং কণ্ঠশীলন সভাপতি গোলাম সারোয়ার, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, সহ-সভাপতি রইস উল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ সদস্য বিলকিস আহমদ। আবৃত্তি করেন অনন্যা গোস্বামী, আফরিন খান ও মিনহাজুল বশির শোভন। এছাড়াও তাঁকে নিবেদন করে সংগীত পরিবেশন করেন ছায়ানটের সংগীত প্রশিক্ষক শিল্পী এটিএম জাহাঙ্গীর। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেএম মারুফ সিদ্দিকী। ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে পথচলার স্মৃতিময় কিছু ঘটনা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ওয়াহিদুল হক ছোট বড় সকলের সাথে মিশতেন এবং সকলকে সম্মান করতেন। তার ভক্ত ছিল না এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যাবে। তার সমস্ত কর্মজীবনে বাঙালি সংস্কৃতির আলো ফুটেছিলো। সকল সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি মানুষের ভেতরে সঙ্গীতের অনুরনন তুলেছিলেন। ওয়াহিদুল হকের আদর্শে পথ চললে জীবনের পথগুলো অনেক বেশি সুন্দর হবে। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, দেশের সবধরনের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে ওয়াহিদুল হক ছিলেন এক নিরন্তর যোদ্ধা। ওয়াহিদুল হককে অনুসরণ করলে আমরা অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক হতে পারবো এবং মানুষের জন্য কাজ করতে পারবো। তিনি দেশের নামকরা পত্রিকায় কাজ করেছেন। শেষ জীবনে তিনি কলাম লিখতেন।<br />
এসময় গোলাম সরোয়ার বলেন, এমন কোন বিষয় ছিল না যে বিষয়ের উপর তিনি লিখতে পারতেন না। শব্দের উৎপত্তি ও ব্যবহার তিনি অভিধান না দেখেই বলে দিতে পারতেন। অসাধারণ সুন্দর মানসিকতার মানুষ হয়েও তিনি সাধারণ জীবনযাপন করতেন বলে জানান তিনি ।ওয়াহিদুল হককে নিয়ে কণ্ঠশীলন এর বিভিন্ন কার্যক্রম ও গ্রন্থপ্রকাশ সহ নানাবিধ স্মরণিক আয়োজন তুলে ধরে মীর বরকত বলেন, ওয়াহিদুল হক আজ আমাদের থেকে বহুদূরে, জগতের যত হাসি-কান্না, হিসাব-নিকাশের বাইরে। আবার বহুকাছেও আছেন তিনি, তাঁর কর্মে, তাঁর সৃষ্টির পথে পথে, অন্তরের অনুরণনে কথাহীন, শরীরহীন অনন্ত হয়ে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%81%e0%a6%9a%e0%a7%87/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মানুষ কথা বলার নির্ভরতা খুঁজছেঃ বদিউল আলম মজুমদার </title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b7-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%96/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b7-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%96/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 25 Mar 2022 14:48:09 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কথামালা]]></category>
		<category><![CDATA[স্মৃতিকথা]]></category>
		<category><![CDATA[সিপিডি]]></category>
		<category><![CDATA[সুজন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=4857</guid>

					<description><![CDATA[<p>মানুষ কথা বলার জায়গা খুঁজছে ঃ বদিউল আলম মজুমদার </p> রাজশাহী, চট্টগ্রাম, রংপুর  ও বরিশালের সংলাপে অংশ নিয়ে এটা পরিষ্কার যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে ভিতরে ভিতরে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। একান্ত সাক্ষাতে  সুশাসনের<span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b7-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%96/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>মানুষ কথা বলার জায়গা খুঁজছে ঃ বদিউল আলম মজুমদার </strong></p>
<div class="gmail_quote">
<div dir="auto">
<div dir="auto"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/03/IMG20220324210123.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="aligncenter size-medium wp-image-4858" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/03/IMG20220324210123-300x225.jpg" alt="" width="300" height="225" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/03/IMG20220324210123-300x225.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/03/IMG20220324210123-768x576.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/03/IMG20220324210123-1024x768.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>রাজশাহী, চট্টগ্রাম, রংপুর  ও বরিশালের সংলাপে অংশ নিয়ে এটা পরিষ্কার যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে ভিতরে ভিতরে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। একান্ত সাক্ষাতে  সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার আরো বলেন, মানুষ কথা বলার, অভিযোগ জানাবার একটা নির্ভরশীল জায়গা খুঁজছে। যার প্রমাণ দেখা গেছে বরিশাল সংলাপে। নির্দিষ্ট বিষয়ের বাইরেও অনেক অভিযোগ উঠে এসেছে এখানে। যার উত্তরও চমৎকার দিয়েছেন স্থানীয় সাংসদ ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি। তিনি প্রশংসার দাবিদার।</div>
<div dir="auto">২৫ ডিসেম্বর সকালে মুঠোফোনে সুজন, সিপিডি ও ইউএনডিএফ আয়োজিত বরিশাল সংলাপের অনুভূতি ব্যক্ত করে একথা বলেন সুজন সম্পাদক।</div>
<div dir="auto">এর আগে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও রংপুর সংলাপ বিশ্লেষণে দেখা যায়,  রাজশাহী সংলাপে ছিলো আশার বাণী।  রাজশাহী অঞ্চলের যথেষ্ট উন্নয়ন হলেও সেখানে জনসম্পৃক্ততার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠে আসে বক্তাদের মুক্ত আলোচনায়। আর বাণিজ্যিক নগরীর চট্টগ্রাম অঞ্চলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সাথে সাথে শোভন কর্মসংস্থানের ওপর নজর দেয়া জরুরী হয়ে পড়েছে বলে দাবী উঠে এসেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)-এর পক্ষ থেকে আয়োজিত চট্টগ্রাম সংলাপে।</div>
<div dir="auto">রংপুর সংলাপে অংশ নিয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় হতাশা ব্যক্ত করে সয়ং বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, লালফিতার দৌরাত্ম্য বড় বেশি। আমি নিজেও কিছুটা কাবু হয়ে গেছি। অলাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে হতাশার কথা জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী সিপিডি ও সুজন আয়োজিত রংপুর সংলাপে এই কথা বলেছেন।</div>
<div dir="auto">আর তিনটি বিষয়ের উপরই গুরুত্ব আরোপ করেন বরিশালের বাসিন্দারা। এখানে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি  দ্বন্দ্বের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের বক্তব্যে।  যার সূচনা দেখা গেছে রংপুর সংলাপে বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সির বক্তব্যেও।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">জাতীয় উন্নয়নে অঙ্গীকার: শিক্ষা, শোভন কর্মসংস্থান, জেন্ডার সমতা শীর্ষক আঞ্চলিক সংলাপ নিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ সিপিডি এবং জাতিসংঘ ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ইউএনডিএফ প্রতিনিধিরা সারাদেশে ঘুরে ঘুরে আঞ্চলিক সংলাপের আয়োজন করছেন ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সমাধানের পথও খুঁজছেন।  সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে এতে উপস্থিত থাকছেন মন্ত্রী,  প্রতিমন্ত্রী, সাংসদ ও জেলা প্রশাসকগণ।</div>
<div dir="auto">তাদের সাথে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ সরাসরি কথা বলেন। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, অবকাঠামো ইত্যাদি নানা দিক নিয়ে আলোচনায় উঠে আসে দ্বিধা দ্বন্দ্ব, হতাশা ক্ষোভ।</div>
<div dir="auto">এসব বিষয়কে সামনে এনে সুজন সম্পাদক <a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/10/images-3.jpeg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-full wp-image-4526" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/10/images-3.jpeg" alt="" width="190" height="266" /></a>বদিউল আলম মজুমদার বলেন, উত্তরবঙ্গের একটি জেলার চায়ের দোকানে তৃণমূলের একদল মানুষের সঙ্গে ঘণ্টা দুই কাটানোর অভিজ্ঞতা থেকে আমার মধ্যে কতগুলো উপলব্ধি সৃষ্টি হয়েছে। একটি উপলব্ধি হলো যে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজমান। তৃণমূলের এসব মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় অসন্তোষ ভোট দিতে না পারার কারণে তাঁরা তাঁদের ভোটের অধিকারকে অনেক বড় করে দেখেন।</div>
<div dir="auto">আমার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধি হলো, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবকিছু নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক অনাস্থা বিরাজ করছে। তাঁরা আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন আমাদের রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠানের ওপর। রাজনীতিবিদদের সম্পর্কেও তাঁরা হতাশ, যদিও বর্তমান গ্যাঁড়াকল থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে তাঁরা দুই নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার ওপর ভরসা রাখতে চান। সেনাবাহিনীর ওপর তাঁরা এখনো পুরোপুরি আস্থা হারিয়ে ফেলেননি।</div>
<div dir="auto">এই যে ব্যাপক হতাশা-নিরাশার মনোভাব, তার পরিণতি দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। ইতিমধ্যে এরই প্রতিফলন দেখছি আমাদের তরুণদের মধ্যে, যাঁরা বিশেষত মেধাবী। তরুণেরা আজ বিদেশে পাড়ি দিতে এক পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে, যা জাতির ভবিষ্যতের জন্য কোনোভাবেই ইতিবাচক নয়। এর চেয়ে আরও ভয়াবহ হলো যে তরুণদের কেউ কেউ ধর্মভিত্তিক সমাধানের দিকে এগোচ্ছেন। ফলে সরকারের কঠোরতার কারণে উগ্রপন্থীদের প্রকাশ্য তৎপরতা তেমন দেখা না গেলেও, ধর্মান্ধ শক্তি ভেতরে-ভেতরে ক্রমাগত শক্তিশালী হচ্ছে বলেই অনেকের ধারণা।</div>
<div dir="auto">বরিশাল সংলাপে অংশ নিয়ে এ ধারণা আরো বদ্ধমূল হয়েছে। তবে বরিশালের মুক্ত আলোচনা ছিলো অনেক বেশী প্রাণবন্ত এবং পানি প্রতিমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, গর্বের সঙ্গে নিজেকে দূর্নীতি মুক্ত দাবী করেছেন। এট সত্যি প্রশংসনীয় বলে মনে করেন বদিউল আলম মজুমদার।</div>
</div>
</div>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b7-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%96/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মুক্তিযুদ্ধঃ সহযোদ্ধাদের গল্প</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%83-%e0%a6%b8%e0%a6%b9%e0%a6%af%e0%a7%8b%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%83-%e0%a6%b8%e0%a6%b9%e0%a6%af%e0%a7%8b%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[নিজস্ব প্রতিবেদক, সাহিত্য বাজার]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 22 Dec 2021 10:12:28 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কথামালা]]></category>
		<category><![CDATA[স্মৃতিকথা]]></category>
		<category><![CDATA[মুক্তিযুদ্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[যুদ্ধ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=4757</guid>

					<description><![CDATA[<p>মুক্তিযুদ্ধঃ সহযোদ্ধাদের গল্প</p> <p>মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধার গল্প আমরা অনেক শুনেছি।  বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সরকারের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অফুরান।  তাই তারা এখন সম্মানজনক ভাবে সমাজে বসবাস করছেন, তাদের সন্তান ও পরিবার</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%83-%e0%a6%b8%e0%a6%b9%e0%a6%af%e0%a7%8b%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>মুক্তিযুদ্ধঃ সহযোদ্ধাদের গল্প</strong></p>
<div id="attachment_4720" style="width: 310px" class="wp-caption aligncenter"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/Pic-120191023134817.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-4720" class="size-medium wp-image-4720" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/Pic-120191023134817-300x201.jpg" alt="" width="300" height="201" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/Pic-120191023134817-300x201.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/Pic-120191023134817-768x515.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/Pic-120191023134817-1024x687.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/Pic-120191023134817.jpg 2000w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-4720" class="wp-caption-text">ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি</p></div>
<p><span style="font-weight: 400;">মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধার গল্প আমরা অনেক শুনেছি।  বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সরকারের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অফুরান।  তাই তারা এখন সম্মানজনক ভাবে সমাজে বসবাস করছেন, তাদের সন্তান ও পরিবার পরিজনও পাচ্ছেন সরকারি সব সুযোগ সুবিধা। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কিন্তু যাদের উপর নির্ভরশীল হয়ে, যাদের সাহায্য ও সহযোগিতা নিয়ে সমাজে তারা আজ প্রতিষ্ঠিত সেই মানুষদের কথা আমরা কি জানি? জানি কি কেমন আছেন তারা? </span><span style="font-weight: 400;">যুদ্ধ শেষে কোনো মুক্তিযোদ্ধা কি আজ পর্যন্ত কখনো তাদের কাছে গিয়ে জানিয়েছেন এতটুকু কৃতজ্ঞতা?</span></p>
<div id="attachment_4758" style="width: 310px" class="wp-caption alignright"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211128125433.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-4758" class="size-medium wp-image-4758" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211128125433-300x225.jpg" alt="" width="300" height="225" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211128125433-300x225.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211128125433-768x576.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211128125433-1024x768.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-4758" class="wp-caption-text">আহঞ্জী বা তালুকদার বাড়ির দরজায়</p></div>
<p><span style="font-weight: 400;">বরিশালের চাঁদপুরা ইউনিয়ন এর তালুকদার হাট এলাকার আকঞ্জীবাড়ি বা তালুকদার বাড়িতে যুদ্ধকালিন সময়ে হাড়ি হাড়ি ভাত রান্না হতো মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য। এখানের ছাড়াবাড়ি ( ঘন জঙ্গল এলাকা) ও কাচারী ঘরে যুদ্ধকালিন সময়ে ঘন ঘন এসে আশ্রয় নিতেন মুক্তিযোদ্ধারা অনেকেই।  কারণ এ বাড়ির বেশ কয়েকজন যুবকও ছিলেন তাদের দলে। ঐ সময়ের সাহায্যকারীদের কথা জানতে আমরা ছুটে যাই বরিশালের চাঁদপুরা ইউনিয়নের তালুকদার হাটের তালুকদার বাড়ি, মের্ধাবাড়ি, ও চৌধুরী বাড়িতে। যেখানে আশ্রয়  ও সহযোগিতা পাওয়ার কথা স্বীকার করে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ৯ নং সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার আবদুল মান্নান এর অধীনস্থ মুক্তিযোদ্ধা মান্নান গাজী (গাজী আব্দুল মান্নান) নিজেই।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই আহঞ্জী বা তালুকদার বাড়ির প্রধান কর্তৃত্বকারী ইসমাইল তালুকদার, আব্দুল মালেক আহঞ্জী,  মকবুল আহঞ্জী ও মোবারক আহঞ্জী এদের নির্দেশ ছিলো প্রতিদিন ৩/৪ জনের বেশী ভাত রান্নার। এমনকি তরকারি রান্না করলে তাতে যেন ঝোল বেশী থাকে। একই সাথে পানি ডাল রান্না বাধ্যতামূলক ছিল। নির্দেশ দেয়ার পর আমরা বাড়ির মহিলারা জিজ্ঞাসা করি কেন? সাথে সাথে কর্তারা কইতেন &#8211;  দেশের জন্য যারা লড়াইতে নামছে, হেরা মোগো বাড়িতে ঢুকলে যেন কিছুতেই  খাবারের সমস্যা না হয়। এমনকি তাদের থাকার জন্য কাচারিঘর ও ছারাবাড়িতে ব্যবস্থাও করে রাখা হয়। &#8212;</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"> </span></p>
<div id="attachment_4759" style="width: 310px" class="wp-caption alignleft"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG_20211201_101240.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-4759" class="size-medium wp-image-4759" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG_20211201_101240-300x274.jpg" alt="" width="300" height="274" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG_20211201_101240-300x274.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG_20211201_101240-768x703.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG_20211201_101240.jpg 787w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-4759" class="wp-caption-text">দাদু চানবরু আকন</p></div>
<p><span style="font-weight: 400;">কথাগুলো বলছিলেন বরিশাল সদর উপজেলার চাঁনপুরা ইউনিয়নের তালুকদার হাট গ্রামের আকন্দ (আঞ্চলিক ভাষায় বলা হয় আহঞ্জী) বাড়ির গৃহবধূ চান বরু। বয়সের ভারে নূরে পড়া চান বরু (৮০) এখনো সুস্থ সুন্দর ছুটে বেড়ান এ বাড়ি ওবাড়ি। লাকড়ি কুড়িয়ে এনে রান্নাও করেন নিজেই। </span></p>
<div id="attachment_4760" style="width: 310px" class="wp-caption alignright"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211128125354.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-4760" class="size-medium wp-image-4760" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211128125354-300x225.jpg" alt="" width="300" height="225" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211128125354-300x225.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211128125354-768x576.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211128125354-1024x768.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-4760" class="wp-caption-text">দাদু রওশন আরা</p></div>
<p><span style="font-weight: 400;">আর মের্ধা বাড়ির বউ রওশান আরা বলেন, আহঞ্জী বাড়ি আর মের্ধাবাড়ি আসলে একইবাড়ি। এ বাড়িতে ১৪টি ঘরে তখন বসবাস করতো ১৪টি পরিবার। প্রতিটি পরিবারে ভোরে এবং একই সাথে দুপুর ও রাতের খাবার রান্না হতো। সবাই ঘরের পিছনে পৃথক রান্না ঘরে জ্বালানী কাঠ দিয়ে রান্না করতো। এ জন্য সন্ধ্যার পর আর চুলা জ্বলতো না তখন। </span><span style="font-weight: 400;">আর এই বাড়িটির চারিদিক গাছপালা থাকায় বাহির থেকে বাড়ি বোঝা যেতো না। তাছাড়া বাড়ির ৬ জনই ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সাথে জড়িত। এ কারনে সপ্তাহের ৪/৫ দিন প্রতিরাতে ২০/৩০ জনের দল নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের বাড়িতে আসতো। </span><span style="font-weight: 400;">এরপর কাচারী ও পার্শ্ববর্তী একটি জঙ্গলে রাখার ব্যবস্থা করা হতো। এ সময় ঘরের গৃহকর্তারা তাদের পাহাড়া দিতেন।</span><span style="font-weight: 400;"> </span><span style="font-weight: 400;">রাতে মুক্তিযোদ্ধাদের খাবারের জন্য প্রতিটি ঘর থেকে ভাত ও তরকারি সংগ্রহ করে তাদের খাবার দেয়া হতো। মুক্তিযোদ্ধারা কাচারীতে বসে খাবার খেতো। এরপর জঙ্গলে গিয়ে বিশ্রাম নিতো। এভাবে যুদ্ধকালীন সময় বিভিন্ন স্থান থেকে মুক্তিযোদ্ধারা এসে আমাদের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। বিশেষ করে যে সকল বাড়ির ছেলেরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল তাদের বাড়ি তারা নিরাপদ মনে করতেন। এ কারনেই ওই সময় আমাদের বাড়ি মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল গড়ে ওঠে।</span></p>
<div id="attachment_4761" style="width: 310px" class="wp-caption alignleft"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211128122655.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-4761" class="size-medium wp-image-4761" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211128122655-300x169.jpg" alt="" width="300" height="169" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211128122655-300x170.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211128122655-768x432.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211128122655-1024x576.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211128122655-70x40.jpg 70w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211128122655.jpg 1280w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-4761" class="wp-caption-text">নকীব আকঞ্জী বা আকন</p></div>
<p><span style="font-weight: 400;">ওই বাড়ির আরেক ব্যক্তি নকীব আকঞ্জী  যুদ্ধকালীন সময় যার বয়স ছিল ১৪ বছর। তিনি বলেন, শুধু খাবার নয়, এ বাড়ি থেকে বিভিন্ন ধরনের সাহায্য সহযোগিতাও করা হতো মুক্তিযোদ্ধাদের। বিশেষ করে পোশাক থেকে শুরু করে পায়ের জুতা পর্যন্ত দেয়া হয়েছে। </span><span style="font-weight: 400;">যুদ্ধকালীন সময় এক দল মুক্তিযোদ্ধা এসে ২শ’জোড়া জুতা দেয়ার অনুরোধ করেন। তখন বাড়ির সকলে মিলে টাকা সংগ্রহ করে ওই টাকা দিয়ে জুতা কিনতে বরিশাল শহরে যান আমার বাবা চাচারা। ৫০ জোড়া জুতার দাম ছিল একশ’টাকা। প্রতিজোড়া ছিল ২ টাকা করে। কিন্তু হঠাৎ করে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই জুতার মূল্য দাড়ায় ৫টাকা করে। এ কারনে ২৫ জোড়া জুতা কেনা সম্ভব হয়েছিলো।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">নকীব আকঞ্জী আরো জানালেন, ওই জুতা কোনভাবে পাকিস্তানীরা দেখে ফেললে তারা বুঝে যেতে পারে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এ জুতা ক্রয় করা হয়েছে। এ জন্য পেয়াজ কিনে তার মধ্যে জুতা লুকিয়ে তারপর বাড়িতে এনে মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া হয়। এতে তারা বেশ আনন্দিত হয়। কারন খালি পায়ে দৌড়াতে দৌড়াতে বেশীরভাগ মুক্তিযোদ্ধাদের পায়ের গোড়ালি ফেটে গেছে। তার মধ্যে মাটি ঢুকেছে। কিন্তু দেশ স্বাধীনের উম্মাদনায় তারা তা কোনভাবে অনুভব করছেন না। এভাবে একটি দল যেতো আরেকটি দল প্রবেশ করতো ওই বাড়িতে। বাড়ির সব বউয়েরা যারা এখন আমাগো দাদু ও চাচী তারা খাবার রান্না করতেন ।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এ বাড়ির ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা সরোয়ার আলম মন্টু,  নুরুল হক আহঞ্জী, খালেক, ফারুক এরা সবাই তখন মুক্তিযুদ্ধের অংশিদার। এদের বন্ধুরা বা পরিচিতজনই রাত বিরাতে খাবারের জন্য চলে আসতেন নির্দ্বিধায়। আসতেন গাজী মান্নানের সঙ্গে অনেকে।  বর্তমানে তারা কেউ ই জীবীত নেই। তবে একজন ঐ গাজী আব্দুল মান্নান এখনো আছেন। সে এসে থাকতেন তার মামাতো বোনে রওশন আরার ঘরে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কিন্তু যুদ্ধ শেষে তিনি আর আসেননি কখনো অভিযোগ বোন রওশন আরার।  </span></p>
<div id="attachment_4762" style="width: 310px" class="wp-caption aligncenter"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211204164429.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-4762" class="size-medium wp-image-4762" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211204164429-300x169.jpg" alt="" width="300" height="169" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211204164429-300x170.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211204164429-768x432.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211204164429-1024x576.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211204164429-70x40.jpg 70w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211204164429.jpg 1280w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-4762" class="wp-caption-text">মুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুল মান্নান</p></div>
<p><span style="font-weight: 400;">অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে মুক্তিযোদ্ধা  গাজী আব্দুল মান্নান বলেন, আসলে যুদ্ধকালিন ঐ সময়ে আমাদের সাব-সেক্টর কমান্ডার আবদুল মান্নান এর নির্দেশে আমরা গজনীর দিঘির পাড় ও পাড় সংলগ্ন মৃধা বাড়িতে ঘাটি স্তাপন করি। আমরা তখন চরকাউয়া ও সাইবের হাট নদীবন্দর নিয়ন্ত্রণ রাখার ও ঝটিকা আক্রমণ চালিয়ে পাকবাহিনীকে আতঙ্কিত করার চেষ্টা করতাম।  তখন কখনো কখনো আমরা বাদশা বাড়ি বা ছারাবাড়ির জঙ্গলেও অস্থায়ী ক্যাম্প করেছি। ঐ সময় আশেপাশের অনেকবাড়ি থেকেই আমাদের খাবারসহ এটাওটা সাহায্য করতো। তালুকদার বাড়ি বা আহঞ্জী বাড়ি থেকেই বেশি সাহায্য আসতো কারণ ঐ সময়ে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বেশি সমৃদ্ধশালী বাড়ি ছিল ওটি। আমি কখনো কখনো আমার বোন রওশনের বাড়িতেও থেকেছি। এই </span><span style="font-weight: 400;">মুক্তিযোদ্ধা  আরো বলেন, যুদ্ধ চলাকালে যারা আমাদের সাহায্য করেছেন তারা সবাই আসলে সহ মুক্তিযোদ্ধা।  তাদের সাহায্য ছাড়া এ দেশে মুক্তিযুদ্ধ সফল হওয়া অসম্ভব ছিলো।</span></p>
<div id="attachment_4763" style="width: 310px" class="wp-caption alignright"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/FB_IMG_1638258471962.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-4763" class="size-medium wp-image-4763" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/FB_IMG_1638258471962-300x281.jpg" alt="" width="300" height="281" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/FB_IMG_1638258471962-300x281.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/FB_IMG_1638258471962.jpg 720w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-4763" class="wp-caption-text">বাদশা তালুকদার</p></div>
<p><span style="font-weight: 400;">ওই বাড়ির আরেক বাসিন্দা বীরমুক্তিযোদ্ধা সরোয়ার আলমের ভাই প্রত্যক্ষদর্শী সফিকুল আলম বাদশা তালুকদার (৬৬) বলেন, আকন্দ বাড়ি থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হতো। খাবার থেকে শুরু করে পোশাক ও জুতা পর্যন্ত দেয়া হয়েছে। যুদ্ধ শেষে বরিশাল সার্কিট হাউসে ডেকে আমাকেসহ (বাদশা) বহু মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট দেন তৎকালীন কমান্ডার শাহজাহান ওমর। সার্টিফিকেটের সাথে সম্মানীস্বরূপ ৫০ টাকাও দেন। কিন্তু এরপর আমি মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট নেয়ার জন্য কোন ধরনের চেষ্টা করিনি। </span><span style="font-weight: 400;">তার মতে, ওই সময় বাংলাদেশে বসবাসরত ৭ কোটি মানুষের মধ্যে রাজাকার বাদে সকলেই মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশ নিয়েছে। সকলকেই মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট দেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। আকন্দ বাড়ির স্বিকৃতিপ্রাপ্ত বীরমুক্তিযোদ্ধারা হচ্ছেন : নুরুর ইসলাম আকন্দ, এবিএম ফারুক হোসেন, সরোয়ার আলম মন্টু তালুকদার ও এবিএম খালেকুজ্জামান।</span></p>
<div id="attachment_4764" style="width: 172px" class="wp-caption alignright"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/Screenshot_2021-12-04-19-35-26-84_680d03679600f7af0b4c700c6b270fe7.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-4764" class="size-medium wp-image-4764" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/Screenshot_2021-12-04-19-35-26-84_680d03679600f7af0b4c700c6b270fe7-162x300.jpg" alt="" width="162" height="300" /></a><p id="caption-attachment-4764" class="wp-caption-text">বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন মানিক বীরপ্রতীক </p></div>
<p><span style="font-weight: 400;">বরিশাল জেলা মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার কেএসএ মহিউদ্দিন মানিক (বীর প্রতীক) বলেন, ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর দখলদার পাক বাহিনী অগ্রসরমান মুক্তিযোদ্ধাদের ভয়ে এ শহর থেকে ডেরা গুটিয়ে পালিয়ে যায়। ৭ ডিসেম্বর বিকাল ৪টা থেকে বরিশালে কারফিউ জারী করেছিল পাকবাহিনী। সীমান্তে মিত্র বাহিনী আক্রমণ শুরু করার পর ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যা থেকেই পাক সেনারা বরিশাল ত্যাগের প্রস্তুতি গ্রহণ করে।</span><span style="font-weight: 400;">বরিশাল শহর কেন্দ্রীক বিভিন্ন সড়ক পথ চারদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় হানাদাররা নৌ-পথে পালাবার পরিকল্পনা করে। এ উদ্দেশ্য যাত্রীবাহী স্টিমার ইরানী, কিউইসহ লঞ্চ ও কার্গো বরিশাল স্টিমার ঘাটে প্রস্তুত রাখা হয়। এসব নৌযানে করেই পাকিস্তানী সেনাবাহিনী, পাক মিলিশিয়াসহ শহরের দালাল ও রাজাকার কমান্ডাররা বরিশাল ত্যাগ করে। পাক সেনাবাহিনীর নৌযানগুলো একাংশ চাঁদপুরের কাছে মেঘনা মোহনায় ভারতীয় মিত্র বাহিনীর বিমান হামলার কবলে পড়ে এবং কিউই জাহাজসহ গানবোড ও কার্গো ধ্বংস হয়।</span><span style="font-weight: 400;">অপর অংশ বরিশালের কদমতলা নদীতে ভারতীয় বিমানের বোমার আঘাতে পাকবাহিনীসহ নৌযানগুলো নিমজ্জিত হয়। ফলে এসব জাহাজে পলায়নরত সকল পাক সেনা, মিলিশিয়া, রাজাকার কমান্ডার ও দালালরা নিহত হয়। পাক বাহিনীর শহর ত্যাগের খবরে ৮ মাস ধরে অবরুদ্ধ বরিশালের মুক্তিকামী মানুষ বিজয়ের আনন্দে শ্লে¬াগান দিয়ে দলে দলে রাস্তায় নেমে আসে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তবে দেশ স্বাধীন হলেও বধ্যভূমিগুলো আজো সংরক্ষন করা হয়নি। এমনকি ওই বধ্যভূমিতে যারা নিহত হয়েছেন তাদেরও মেলেনি স্বিকৃতি। জেলার ৯ উপজেলার ৩৩টি বধ্যভূমির মধ্যে ৩০টিই অরক্ষিত। অথচ ওই ৩৩টি বধ্যভূমিতে ৫০ হাজারের অধিক লোক গণহত্যার শিকার হয় বলে সমীক্ষায় উঠে এসেছে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">বরিশাল জেলা সদরে তিনটি, গৌরনদীতে চারটি, আগৈলঝাড়ায় ছয়টি, বাকেরগঞ্জে তিনটি, বানারীপাড়ায় পাঁচটি, বাবুগঞ্জে দুটি, উজিরপুরে পাঁচটি, মুলাদীতে দুটি, মেহেন্দীগঞ্জে তিনটিসহ ৩৩ বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া গেছে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এর মধ্যে বরিশাল সদরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের এলাকার ভেতরে থাকা বধ্যভূমিটি আধুনিকায়ন করা হয়েছে। গৌরনদী উপজেলার কেতনার বিল এবং উজিরপুর উপজেলার দরগাহবাড়ি বধ্যভূমিতে নির্মিত হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ। বাকীগুলো রয়েছে অরক্ষিত।</span></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%83-%e0%a6%b8%e0%a6%b9%e0%a6%af%e0%a7%8b%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীঃআজো অবহেলিত বধ্যভূমি</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3-%e0%a6%9c%e0%a7%9f%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%80/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3-%e0%a6%9c%e0%a7%9f%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%80/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 08 Dec 2021 10:13:54 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কথামালা]]></category>
		<category><![CDATA[স্মৃতিকথা]]></category>
		<category><![CDATA[বধ্যভূমি]]></category>
		<category><![CDATA[মুক্তিযুদ্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[শহীদ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=4710</guid>

					<description><![CDATA[<p>১৬ ডিসেম্বর।  মহান বিজয় দিবস। এ দিন পাক-হানাদার মুক্ত হয়ে বিজয়ের উৎসব করেছে বাংলাদেশের বেশিরভাগ জেলার মানুষ। শুধু ঢাকার মীরপুর ও  বরিশালের গৌরনদী (২২ ডিসেম্বর)  ও চট্টগ্রামের মীরসরাই (১৭ ডিসেম্বর)</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3-%e0%a6%9c%e0%a7%9f%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%80/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div id="attachment_4711" style="width: 310px" class="wp-caption aligncenter"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211208131038.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-4711" class="size-medium wp-image-4711" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211208131038-300x169.jpg" alt="" width="300" height="169" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211208131038-300x170.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211208131038-768x432.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211208131038-1024x576.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211208131038-70x40.jpg 70w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211208131038.jpg 1280w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-4711" class="wp-caption-text">৯ নং সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধের চিত্র</p></div>
<p><span style="font-weight: 400;">১৬ ডিসেম্বর।  মহান বিজয় দিবস। এ দিন পাক-হানাদার মুক্ত হয়ে বিজয়ের উৎসব করেছে বাংলাদেশের বেশিরভাগ জেলার মানুষ। শুধু ঢাকার মীরপুর ও  বরিশালের গৌরনদী (২২ ডিসেম্বর)  ও চট্টগ্রামের মীরসরাই (১৭ ডিসেম্বর) সহ কয়েকটি এলাকা স্বাধীন হয় ১৬ ডিসেম্বরের পরে। সর্বশেষ ঢাকার মীরপুর স্বাধীন হয় ৩১ জানুয়ারী ১৯৭১। </span><span style="font-weight: 400;">ময়মনসিংহ, রাজশাহী,  খুলনা ও যশোর ৬ থেকে ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে স্বাধীন হয়। ৬ ডিসেম্বর যশোর,  ১০ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ,  ১৫ ডিসেম্বর সিলেট মুক্ত হয়। আর বরিশাল মুক্ত দিবস ৮ ডিসেম্বর। </span></p>
<div id="attachment_4712" style="width: 310px" class="wp-caption alignleft"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211208130525.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-4712" class="size-medium wp-image-4712" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211208130525-300x169.jpg" alt="" width="300" height="169" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211208130525-300x170.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211208130525-768x432.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211208130525-1024x576.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211208130525-70x40.jpg 70w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211208130525.jpg 1280w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-4712" class="wp-caption-text">বরিশালের বধ্যভূমির তালিকা</p></div>
<p><span style="font-weight: 400;">১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে পাকিস্তান সেনাবাহিনী হত্যাকাণ্ড চালায়। এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বিশ্বে নজিরবিহীন। এখনো আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের গণহত্যার স্বীকৃতি মেলেনি। বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যার শিকার হয় প্রায় ৩০ লাখ মানুষ। পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের এ-দেশীয় দোসর শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সহযোগিতায় এই হত্যাকাণ্ড চালায়। যুদ্ধ শেষে বধ্যভূমিগুলোতে পাওয়া অসংখ্য মাথার খুলি, হাড়গোড় ও চুল এ ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী।  মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদারদের নির্মমতার সাক্ষী হয়ে আছে বাংলাদেশের অনেক বধ্যভূমি। যেখানে এদেশের মুক্তিকামী মানুষদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এমনই প্রায় ১০০টিরও বেশি বধ্যভূমি রয়েছে বরিশাল বিভাগের ছয়জেলায়। যার মধ্যে ৬৮টি এখনো স্বীকৃতি পায়নি বলে দাবী বধ্যভূমি গবেষকদের। হাতেগোনা যে কয়েকটি স্বীকৃতি পেয়েছে তারমধ্যে বরিশালের ত্রিশ গোডাউন কম্পাউন্ড ও ওয়াপদা কলোনির বধ্যভূমি অন্যতম। </span></p>
<div id="attachment_4713" style="width: 310px" class="wp-caption alignright"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/Untitled-255-copy.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-4713" class="size-medium wp-image-4713" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/Untitled-255-copy-300x192.jpg" alt="" width="300" height="192" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/Untitled-255-copy-300x192.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/Untitled-255-copy-768x493.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/Untitled-255-copy-1024x657.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/Untitled-255-copy.jpg 2000w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-4713" class="wp-caption-text">বরিশাল মুক্ত দিবসে জেলা প্রশাসকের পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ।</p></div>
<p><span style="font-weight: 400;">ত্রিশ গোডাউন’বধ্যভূমি বরিশাল ওয়াপদা কলোনির পাশে। স্থানটি নদীর পাড়ে হওয়ায় হত্যাযজ্ঞের পর লাশ নদীতেই ফেলে দেয়া হতো। বর্তমান বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজও এখানে। ওয়াপদা কলোনিকে যুদ্ধকালে পাকিস্তানি হানাদাররা মিনি ক্যান্টনমেন্টে পরিণত করেছিলো।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">বরিশালের এই ‘ত্রিশ গোডাউন’ নামে একটি বধ্যভূমিকে নির্দেশ করলেও মূলত এখানে একসাথে দুটো বধ্যভূমি রয়েছে। এখানে গড়ে তোলা হয়েছে স্মৃতি স্তম্ভ ও রিভার ভিউ পার্ক। এটি বর্তমানে বরিশাল জেলার একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান। প্রতিদিন এখানে বেড়াতে আসেন কয়েক হাজার দর্শনার্থী। কিন্তু তাদের অনেকেই হয়তো জানেন না এই ত্রিশ গোডাউনের প্রকৃত ইতিহাস। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মনে করা হয়, বরিশাল বিভাগের সব চাইতে বড় বধ্যভূমি ছিল এটি। শোনা গেছে আনুমানিক প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছিলো এখানে। ত্রিশ গোডাউন’বধ্যভূমি স্থানটি নদীর পাড়ে হওয়ায় হত্যাযজ্ঞের পর লাশ নদীতেই ফেলে দেয়া হতো। এখানে ওয়াপদা কলোনির দক্ষিণ পাশে সাগরদী খালের উপর অবস্থিত ‘বাঙ্কার ব্রিজ’ নামে পরিচিত এই ব্রিজ। এই ব্রিজের উপর এনেই দাঁড় করিয়ে গুলি করে নিরীহ মানুষদের হত্যা করে সাগরদী খালে ফেলে দেয়া হতো। অন্যটি হলো ত্রিশ গোডাউন কম্পাউন্ডের পেছন গেট থেকে নদীর পাড় পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ত্রিশ বিঘা ধানী জমির পুরোটা। মূলত স্থান দুটি প্রায় একসাথে হওয়ায় এদের একটি বধ্যভূমি হিসেবে গণ্য করা হয়।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">’কিশোর ইতিহাস: বরিশাল জেলা’নামের গ্রন্থে বলা হয়েছে, নগরী ছাড়াও গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, বানারীপাড়া, উজিরপুর, বাকেরগঞ্জ, স্বরূপকাঠি থেকে নারী-পুরুষদের ধরে এনে সিলিংয়ে ঝুলিয়ে অত্যাচার করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হতো এবং পরে গুলি করে হত্যা করা হতো। প্রতি রাতেই হানাদাররা ১০-১৫ জনকে হত্যা করতো বলে জনশ্রুতি রয়েছে । </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৪ মে পাকিস্তানি হানাদাররা পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস ও আবাসিক বাড়িগুলো দখল করে নেয়। স্থানীয়দের ধরে এনে টর্চার সেলে পরিণত করে। প্রথমে তারা বরিশালের তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাজী আজিজুল ইসলামকে এখানে এনে হত্যা করে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211208131100.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignright size-medium wp-image-4717" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211208131100-300x169.jpg" alt="" width="300" height="169" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211208131100-300x170.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211208131100-768x432.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211208131100-1024x576.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211208131100-70x40.jpg 70w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211208131100.jpg 1280w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>এরপর ধীরে ধীরে মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধাদের গুপ্তচর, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন গ্রাম থেকে মানুষদের ধরে এনে নির্মমভাবে অত্যাচার করতো না হয় সরাসরি গুলি করে হত্যা করতো। তারা হাজী আদম আলীকে আহ্বায়ক করে শহরে একটি শান্তি কমিটি গঠন করে। এরপর তারা শহরে লুটতরাজ করে বেড়াতো। রিফিউজিদের দিয়ে এসব কাজ বেশি করতো। এছাড়াও তারা মানুষদেরকে ধরে এনে নদীর পাড়ে একত্রে দাঁড় করিয়ে সরাসরি গুলি করে হত্যা করতো।</span></p>
<div id="attachment_4720" style="width: 310px" class="wp-caption alignleft"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/Pic-120191023134817.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-4720" class="size-medium wp-image-4720" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/Pic-120191023134817-300x201.jpg" alt="" width="300" height="201" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/Pic-120191023134817-300x201.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/Pic-120191023134817-768x515.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/Pic-120191023134817-1024x687.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/Pic-120191023134817.jpg 2000w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-4720" class="wp-caption-text">ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি</p></div>
<p><span style="font-weight: 400;">ওয়াপদায় প্রায় পঞ্চাশটি বাঙ্কার ছিলো। বরিশাল পৌরসভার তিন-চার জন সুইপারকে সার্বক্ষণিক নিযুক্ত করা হয়েছিল শুধু লাশগুলো ঠেলে নদীতে ফেলে দেবার জন্য। এভাবেই প্রতিদিনই মানুষ ধরে নিয়ে আসা হতো এবং হত্যা করা হতো। তবে কত মানুষকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা কেউ জানতে পারেনি।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ওয়াপদায় পাকসেনাদের নির্মম অত্যাচার সম্পর্কে মুক্তিযোদ্ধা এ এম জি কবীর ভুলু বলেন, ‘বাটাজোর এলাকায় নৌকায় স্টেনগানসহ জুলাই মাসে ধরা পড়ি আমি, আমার বন্ধু আনোয়ার ও নৌকার মাঝি। ধরা পড়ার পর ওরা আমাদের প্রচন্ড টর্চার করে। এরপর ওয়াপদা টর্চার সেলে নিয়ে আসে। তারা মাঝিকে ছেড়ে দেয়, ওদের নির্মম অত্যাচারের আনোয়ার মারা যায়।’</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তিনি বলেন, ‘হানাদাররা আমাকে রশিতে বেঁধে অত্যাচার করেছে, পায়ে তলা ও পেট কাচ দিয় ক্ষতবিক্ষত করেছে, চড় দিয়ে আমার বাম কান নষ্ট করে দিয়েছে। এভাবে আমাকে প্রায় ১৯ দিন নির্মমভাবে অত্যাচার করে।’</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">বর্তমানে ওয়াপদা ও ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমিতে সংঘটিত এসব পৈশাচিক কর্মকাণ্ড ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে সংরক্ষিত করার জন্য বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে সরকারি অর্থায়নে স্মৃতি স্তম্ভ নির্মিত হয়েছে। এ ছাড়াও দর্শনার্থীদের জন্য সাগরদী খাল পার থেকে ত্রিশ গোডাউন ব্রিজ পর্যন্ত বিভিন্ন গাছ, বসার স্থান নির্মাণ করা হয়েছে। ওয়াপদার বাঙ্কারগু</span><span style="font-weight: 300;">লো সংরক্ষণ করা হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে মিনি হলরুম। ওয়াপদার ভিতরের রাস্তা, টর্চার সেল সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া পুরো কম্পাউন্ডে দেয়ালের বেষ্টনী নির্মাণ করা হয়েছে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">নদী তীরের ত্রিশ বিঘা জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে স্মৃতি স্তম্ভ ও রিভার ভিউ পার্ক। এসব দেখে মানুষ পাকিস্তানি হানাদারদের নির্মমতা জানতে পারে একইসাথে কীর্তনখোলা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">বরিশাল জেলার দশ উপজেলায় প্রায় চল্লিশটি বধ্যভূমির সন্ধান জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক আনিসুর রহমান স্বপন এবং সুশান্ত ঘোষ। এরমধ্যে কেতনারকোলা বধ্যভূমিটি নতুন আবিস্কৃত হয়েছে বলে জানান সুশান্ত। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কেতনারকোলা বধ্যভূমিটি বরিশালের আগৈলঝাড়ার রাজিহার গ্রামের কেতনারকোলায় পাঁচটি গর্তে যথাক্রমে ৮৫, ৬০, ৪৬, ৪০ ও ৩০টি লাশ পুঁতে রাখা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শী বিমল পাত্র ও অন্যরা জানান। এখানে বীরেন্দ্রনাথ ঢালীর ভিটায় ৪টি ও অনিল ব্যাপারীর বাড়িতে ৪৬ জনের আরেকটি গণকবর আছে। এ গণকবরগুলোতে নারীদের লাশই বেশি ছিল বলে জানা গেছে।  অন্যটি</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">বদিরপুর পুল বধ্যভূমি। এটি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ থানার সাজেদপুর গ্রামের বদিরপুল এলাকায়।  পাকিস্তানি সেনারা এই পুলের নিচে বহু লোককে লাইনে করে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯ ডিসেম্বর এখানে শত শত নরকঙ্কাল ও মাথার খুলি পাওয়া গেছে।</span></p>
<div id="attachment_4714" style="width: 235px" class="wp-caption alignleft"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211208120932.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-4714" class="size-medium wp-image-4714" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211208120932-225x300.jpg" alt="" width="225" height="300" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211208120932-225x300.jpg 225w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211208120932-768x1024.jpg 768w" sizes="auto, (max-width: 225px) 100vw, 225px" /></a><p id="caption-attachment-4714" class="wp-caption-text">মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান করছেন সিটি মেয়র।</p></div>
<p><span style="font-weight: 400;">বধ্যভূমি ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিঘেরা বরিশাল পাকসেনা মুক্ত হয় ৮ ডিসেম্বর!  এদিনটি তাই বরিশালবাসীর কাছে আনন্দ ও উৎসবের দিন। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রদর্শনের পাশাপাশি শহীদের প্রতি শ্রদ্ধার্হ অর্পণের দিন। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">প্রতিবছরের মতো এবারও ৮ ডিসেম্বর উপলক্ষে বরিশালের রাজনীতিবিদ,  মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে  নির্যাতন কেন্দ্র ও বধ্যভূমিতে পুষ্পস্তবক অর্পন করা হয়। ‍</span></p>
<div id="attachment_4715" style="width: 310px" class="wp-caption alignleft"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/Untitled-2-copy.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-4715" class="size-medium wp-image-4715" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/Untitled-2-copy-300x182.jpg" alt="" width="300" height="182" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/Untitled-2-copy-300x182.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/Untitled-2-copy-768x466.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/Untitled-2-copy-1024x621.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/Untitled-2-copy.jpg 2000w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-4715" class="wp-caption-text">ওয়াপদা কলোনির বধ্যভূমিতে বরিশালের প্রশাসন</p></div>
<p><span style="font-weight: 400;">একই স্থানে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ৯০ জন বীরমুক্তিযোদ্ধা ও ১০ জন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">দিবসটি উপলক্ষে ৮ ডিসেম্বর বুধবার  সকাল সাড়ে ১০টায় বধ্যভূমিতে বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম বাদল পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন হায়দার, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান, মুক্তিযোদ্ধা জেলা কমান্ডসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পন করা হয়। পুষ্পস্তবক অর্পন শেষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এরপর বধ্যভূমি প্রাঙ্গনে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সহযোগিতায় ৯০ জন মুক্তিযোদ্ধা ও ১০ জন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের এই দিনে দখলদার পাক বাহিনী অগ্রসরমান মুক্তিযোদ্ধাদের ভয়ে এ শহর থেকে ডেরা গুটিয়ে পালিয়ে যায়। বরিশাল শহর কেন্দ্রীক বিভিন্ন সড়ক পথ চারদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় স্টিমার ও কার্গোতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী, পাক মিলিশিয়াসহ শহরের দালাল ও রাজাকাররা বরিশাল ত্যাগ করে। পাকবাহিনীর শহর ত্যাগের খবরে ৮ মাস ধরে অবরুদ্ধ বরিশালের মুক্তিকামী মানুষ বিজয়ের আনন্দে রাস্তায় নেমে আসে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কিন্তু বিজয়ের এই আনন্দ মলিন হয়ে যায় যখন বধ্যভূমিতে শহীদের তালিকা খুঁজে পাওয়া যায়না। জানা যায়না প্রকৃত শহীদদের নাম।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">স্বাধীনতার পর ৫০ বছর কেটে গেলেও এখনও চিহ্নিত হয়নি বরিশাল, ঝালকাঠি ও</span></p>
<div id="attachment_4716" style="width: 310px" class="wp-caption alignleft"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211123175822.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-4716" class="size-medium wp-image-4716" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211123175822-300x169.jpg" alt="" width="300" height="169" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211123175822-300x170.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211123175822-768x432.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211123175822-1024x576.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211123175822-70x40.jpg 70w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/IMG20211123175822.jpg 1920w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-4716" class="wp-caption-text">মুক্তিযুদ্ধ গবেষক সুশান্ত ঘোষ ও সাংবাদিক আরিফ আহমেদ</p></div>
<p><span style="font-weight: 400;">পিরোজপুরের ৭০ ভাগ বধ্যভূমি। এমনকি তৈরি হয়নি এসব জেলার শহীদদের তালিকাও । তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগের গবেষকদের দাবি, বরিশালের ১০ উপজেলা,  পিরোজপুর ও ঝালকাঠীর বিভিন্ন অঞ্চলে সরেজমিনে অনুসন্ধান চালিয়ে অন্তত ৬৮টি বধ্যভূমির সন্ধান তারা পেয়েছেন।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এ অঞ্চলে ’জেনোসাইড স্টাডিজ’ প্রকল্পের গবেষক সুশান্ত ঘোষ জানিয়েছেন, বরিশাল অঞ্চলে ৬৮টি বধ্যভূমির মধ্যে বরিশাল জেলার সদরে ৩, গৌরনদীতে ৪, আগৈলঝাড়ায় ৬, বাকেরগঞ্জে ৩, বানারীপাড়ায় ৫, বাবুগঞ্জে ২, উজিরপুরে ৫, মুলাদীতে ২, মেহেন্দীগঞ্জে ৩টি সহ ৩৩ টি বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া গেছে। এছাড়া ঝালকাঠীতে ৯টি, পিরোজপুরে ২৬টি বধ্যভূমি চিহ্নিত করা গেছে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তিনি বলেন, এই ৬৮টি বধ্যভূমিতে নিহতদের সম্ভাব্য সংখ্যা নিরূপণ করা মুশকিল।  তারপরেও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা, স্মৃতিচারণ, ঘটনার বিবরণ বিশ্লেষণ করে শহীদের সম্ভাব্য সংখ্যা ১০-১৫ হাজার হতে পারে। এই বধ্যভূমির বাইরেও অসংখ্য মানুষ হানাদার বাহিনীর হত্যার শিকার হয়েছেন। এই শহীদদের সংখ্যা বধ্যভূমিতে নিহতের সংখ্যার দ্বিগুণ বা তারও বেশি হতে পারে।</span></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3-%e0%a6%9c%e0%a7%9f%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%80/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কবি দিলওয়ার গণমানুষের কবি &#8211; সাঈদ চৌধুরী, লন্ডন থেকে</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%a3%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%ac/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%a3%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%ac/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[অতিথি লেখক]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 13 Oct 2021 10:13:20 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কথামালা]]></category>
		<category><![CDATA[স্মৃতিকথা]]></category>
		<category><![CDATA[কবি দিলওয়ার]]></category>
		<category><![CDATA[স্মরণ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=4530</guid>

					<description><![CDATA[<p>কবি দিলওয়ার স্মরণেঃ গণমানুষের কবি<br /> সাঈদ চৌধুরী, লন্ডন থেকে<br /> <br /> বাংলা সাহিত্যের এক প্রবাদ পুরুষ কবি দিলওয়ার। তার মন ছিল গভীর ঐশ্বর্যময়। স্বভাব ছিল বহতা নদীর মতো,</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%a3%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%ac/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>কবি দিলওয়ার স্মরণেঃ গণমানুষের কবি<br />
সাঈদ চৌধুরী, লন্ডন থেকে<br />
<a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/10/Dilwar-0.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/10/Dilwar-0-221x300.jpg" alt="" width="221" height="300" class="alignright size-medium wp-image-4531" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/10/Dilwar-0-221x300.jpg 221w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/10/Dilwar-0.jpg 253w" sizes="auto, (max-width: 221px) 100vw, 221px" /></a><br />
বাংলা সাহিত্যের এক প্রবাদ পুরুষ কবি দিলওয়ার। তার মন ছিল গভীর ঐশ্বর্যময়। স্বভাব ছিল বহতা নদীর মতো, সতত বহমান। আর মানুষ হিসেবে এবং কবি হিসেবে ছিলেন অনেক বড় মাপের অনন্য একজন। তিনি গণমানুষের কবি। মুক্তিকামী মানুষের কবি। তার নিজের ভাষায়-<br />
‘পৃথিবী স্বদেশ যার, আমি তার সঙ্গী চিরদিন’।<br />
কাব্যের সুদূর প্রসারী আবেদন সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাসী ছিলেন বলেই কবি বলতে পেরেছেন-<br />
‘এবার এলো শক্তিহীনের<br />
শক্তি লাভের দিন<br />
নবীন ভুবন সৃষ্টি হবে<br />
ঐক্যে অমলিন।‘<br />
২০০১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলা টাউন হলে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সংঘ কর্তৃক কবি দিলওয়ারকে প্রদত্ব সংবর্ধনার মানপত্রে উল্লেখ করা হয়-<br />
‘সাথী আজ তোমাকে সংবর্ধিত করার সুযোগ পেয়ে আমরা আনন্দিত। তোমাকে সম্মান জানানোর নাম মানুষকে ভালোবাসা।<br />
… তুমি কোনো একটি দেশের নও। কোনো দেশের কোন সীমানা তোমাকে বেঁধে রাখতে পারেনি। তোমার আশ্চর্যজনক সুস্থমন, প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও দৃঢ় আত্মসম্মানবোধ তোমাকে এক কর্মযোগী করে তুলেছে।’ </p>
<p><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/10/Dilwar-2.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/10/Dilwar-2-300x211.jpg" alt="" width="300" height="211" class="alignleft size-medium wp-image-4532" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/10/Dilwar-2-300x211.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/10/Dilwar-2-768x540.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/10/Dilwar-2-1024x721.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/10/Dilwar-2.jpg 1276w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>কবি দিলওয়ার সাম্য, মানবতা ও শোষিত মানুষের মুক্তির বার্তা নিয়ে এসেছিলেন। অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার। তিনি আমাদের অনেক স্মরণীয় রচনা উপহার দিয়েছেন। তার কবিতার বহু পংক্তি সাধারণ মানুষেরও মুখস্থ। সমাজ পরিবর্তনে সংগ্রামীদের উদ্দীপ্ত করে তার এসব ছড়া ও কবিতা। জাতীয় মুক্তির সংগ্রামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ কবি বলেন-<br />
‘চাই বিপ্লব, চাই বিপ্লব, চাই<br />
বিপ্লব ছাড়া মুক্তির উপায় নাই<br />
পুরাতন করে কর্তন<br />
আনো নব পরিবর্তন<br />
নরদানবের বংশ<br />
করবো সমুলে ধ্বংস<br />
বুঝে নাও আজ এই ধরণীর<br />
প্রাপ্য যে যার অংশ<br />
রুখিয়া দাঁড়াও ভাইরে<br />
জীবনের গান গাইরে<br />
প্রাণ ধারণের প্রাপ্য রাসদ<br />
চাইরে মোদের চাই<br />
বিপ্লব ছাড়া জীবন জাগার কোনো উপায় নাই<br />
দাও তবে প্রতিঘাত<br />
হাতেতে মিলাও হাত<br />
দাও হুঙ্কার, টুটাবোই মোরা<br />
দুঃস্বপ্নের রাত।’ </p>
<p>সিলেট শহরতলীতে ঠিকানা থাকলেও কবি দিলওয়ার আলোচিত ও সমাদৃত ছিলেন রাজধানী ঢাকা ও কলকাতার শীর্ষ কবিদের মধ্যে।<br />
১৯৮০ সালে কবি দিলওয়ার কাব্যচর্চায় বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ করেন। বাংলা একাডেমী ফেলোশীপ লাভ করেন ১৯৮১ সালে। ২০০৮ সালে সাহিত্যে অবদানের জন্য তাকে একুশে পদক প্রদান করা হয়। তিনি একাধারে কবি, ছড়াকার, সাংবাদিক, নাট্যকার ও গীতিকার ছিলেন।<br />
বায়ান্নর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মুক্তি সংগ্রামে তার কবিতা প্রেরণা সঞ্চার করেছে। দিলওয়ার গণমানুষকে হদয়ে কতটা জায়গা দিয়েছিলেন তার প্রমাণ মেলে তাঁর বিভিন্ন কবিতায়।</p>
<p>‘আয়রে চাষী মজুর কুলি মেথর কুমার কামার<br />
বাংলা ভাষা ডাক দিয়েছে বাংলা তোমার-আমার।’<br />
অথবা<br />
‘বহু লাঞ্ছনা, বহু অপমান সহিয়াছে যারা মুখ করি ম্লান<br />
জয় হবে সেই নিপীড়িতদের<br />
জালিমেরা শির নোয়াবে<br />
এইবারে রাত পোহাবে।‘</p>
<p>১৯৭৭ সালের ৭ মার্চ সিলেটে কবি দিলওয়ারকে দেয়া নাগরিক সংবর্ধনার মানপত্রে ‘গণমানুষের কবি’ অভিধায় অভিষিক্ত করা হয় তাঁকে। এরপর তিনি আজীবন বরণীয় হয়েছেন এই গণমানুষের কবি নামেই।<br />
সিলেটে বৃটিশ ঐতিহ্যের নিদর্শন কীনব্রীজ নিয়ে কবি লেখেন &#8211; ‘কীনব্রীজে সূর্যোদয়’।<br />
‘এখন প্রশান্ত ভোর। ঝিরঝিরে শীতল বাতাস<br />
রাত্রির ঘুমের ক্লান্তি মন থেকে ঝেড়ে মুছে নিয়ে<br />
আমাকে সজীব করে। উর্ধ্বে ব্যাপ্ত সুনীল আকাশ<br />
পাঠায় দূরের ডাক নীড়াশ্রয়ী পাখীকে দুলিয়ে।<br />
নীচে জল কলকল বেগবতী নদী সুরমার,<br />
কান পেতে শুনি সেই অপরূপ তটিনীর ভাষা<br />
গতিবন্ত প্রাণ যার জীবনের সেই শ্রেয় আশা<br />
সৃষ্টির পলিতে সেই বীজ বোনে অক্ষয় প্রজ্ঞার।&#8230;<br />
পৃথিবীর অন্যতম দীর্ঘ পায়ে হাঁটার সেতু। বড় বড় লোহার কাঠামোয় অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। ১৯৩৩ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয় ১৯৩৬ সালে। তৎকালীন আসাম প্রদেশের গভর্নর মাইকেল কীনের নামে এই সেতুর নামকরণ হয় কীনব্রীজ। ১১৫০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ১৮ ফুট প্রস্থ ব্রীজ দিয়ে হাঁটার সময় বড় মনোরম দেখায়। নদীর কাব্যময় ঢেউ বয়ে চলে অবিরাম। বুকের মধ্যে ছল ছল করে ঢেউ ছলকায়। কখন পৌঁছে যাই কবি মন্জিল। ভার্থখলা, খান মন্জিল।<br />
কবিপুত্র কিশওয়ার ইবনে দিলওয়ার, শাহীন ইবনে দিলওয়ার, কামরান ইবনে দিলওয়ার সহ তাদের ভাই-ভাতিজা সহ অনেকে লেখেন। মান সম্পন্ন লেখা। তবে আমার কাছে মূলত তিনিই প্রধান আকর্ষণ। মনের গভীরে থাকে সুরমা পারের কবি, আমাদের প্রিয় দিলু মামা।<br />
<a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/10/Dilwar-6.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/10/Dilwar-6-300x192.jpg" alt="" width="300" height="192" class="alignright size-medium wp-image-4534" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/10/Dilwar-6-300x192.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/10/Dilwar-6-768x491.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/10/Dilwar-6-1024x654.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/10/Dilwar-6.jpg 1423w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><br />
সমকালীন বাংলা সাহিত্যের জননন্দিত লেখক কবি দিলওয়ার আমাদের সাহিত্যে দৃঢ়তা ও শক্তিময়তার অভাব অবলীলায় পূরণ করেছেন। তার কবিতা স্বাধীনতা, মানবতা এবং সুবিচার প্রত্যাশায় তীক্ষ্ণ, তীর্য ও উজ্জ্বল। তার কল্পনায় ধর্মীয় উদারতা ও সাম্যবাদ আবার কখনো নৈরাজ্য স্পর্শ করেছে। তবে ভালোবাসা সর্বত্র প্রাধান্য পেয়েছে।<br />
‘সে’ কবিতায় কবি দিলওয়ার বলেন-<br />
‘ভারি মজার মজার কতো কথাই-না সে বলতো<br />
সে বলতো হাত দুটি নেড়ে নেড়ে, সহাস্যে, সোল্লাসে<br />
ছাই চাপা আগুনের মত সেই ক্ষণে সে জ্বলতো<br />
আমি বুঝতাম বৈকি। আমি বুঝতাম অনায়াসে।</p>
<p>… তার সেই ক‘টি কথা এই মনে এখনো সরব<br />
হিটলারের মুন্ডু হাতে আমি যেন মার্শাল জুকভ।’</p>
<p>কবির মুখে কত শত পংক্তিমালা শুনেছি, আজো কানে বাজে। সমাজ বিকাশের চেতনাকে কেন্দ্র করে সৃজিত অবিস্মরণীয় পংক্তিমালা। যে কবিতা সূর্যের মতো সর্বত্রই রশ্মি ছড়ায়।<br />
‘যতোদিন বেঁচে আছো ততোদিন মুক্ত হয়ে বাঁচো<br />
আকাশ-মাটির কন্ঠে শুনি যেনো তুমি বেঁচে আছো।’ অথবা<br />
‘মৃত্যুর মিছিলে তুমি জীবনের দীপ্ত তরবারী<br />
একথা নতুন করে তোমাকে জানাতে হবে নাকি?<br />
এ-কথারি ঢেউ নিয়ে কখন ছেড়েছে নীড় পাখী<br />
উন্মুক্ত আকাশ তলে তোমারি বন্দনা শুনি, নারী&#8230;সে কথা ভুলোনা তুমি। ভুলো না পাথর চাপা ঘাসে<br />
তোমারি সৌহার্দে, নারী, ঈশ্বর শিশুর মতো হাসে।<br />
‘তুমি রহমতের নদীয়া, দোয়া করো মোরে হযরত শাহজালাল আউলিয়া’<br />
এসব গান ও কবিতা সিলেটের জনমনে এখনো ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে আছে। সিলেট বেতার কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়েছিলো কবি দিলওয়ারের এই গানটি দিয়ে। প্রায় পাঁচ দশক ধরে সিলেটের অসংখ্য শিল্পী তার লেখা গান গেয়ে আসছেন। মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করতে তার লেখনী নিসৃত হয়েছে। কবিতায় শ্রেণী বিভক্তির বিরুদ্ধে কবির দৃপ্ত উচ্চরণ-<br />
‘শ্রদ্ধেয় পিতা ক্ষমা করবেন যদি অপরাধ হয়<br />
আমরা কি আজো দিতে পারলাম<br />
মানুষের পরিচয়?<br />
ডুবে আছি আজো খন্ডে খন্ডে সাম্প্রদায়িক পাঁকে<br />
দম্ভদূষিত নাগপাশে বেঁধে<br />
মানুষের বিধাতাকে।</p>
<p>নিপীড়িত জনতার সাহসের বাতিঘর গণ মানুষের কবি দিলওয়ার এর সত্যিকারের সহযাত্রী ও সহধর্মিণী আনিসা দিলওয়ার আছেন তার সৃষ্টিশীলতার বড় একটা অংশ জুড়ে। তাকে ঘীরে কবি লেখেন &#8211;<br />
 ‘প্রিয়তমা এসো তুমি যৌথকণ্ঠে শেষ বার বলি<br />
আমরা বহন করি অলৌকিক মানবতা বোধ<br />
তাকে রোজ স্নাত করে অতলের জলীয় আমোদ<br />
তার স্বাদ পেতে চায় আদিম প্রাণের কথাকলি<br />
উঠোনে দাঁড়িয়ে দেখি রোদ হাতে নাজিম হিকমত<br />
ম্যাক্সিম গোর্কির রাত আজো কিনা হয়নি নিঃশেষ<br />
জননীর কণ্ঠে শুনি বাঁধভাঙ্গা কঠোর আদেশ<br />
ধ্বংসকে দেখিয়ে দাও সৃজনের ধ্র“পদী হিম্মত<br />
প্রিয়তমা, মনে রেখো পৃথিবীর সূর্যপ্রদক্ষিণ<br />
অগত্যা বিশ্রাম নেই আকাঙ্খিত আলোর সফরে<br />
অনাগত সন্তানেরা রক্তস্রোতে বিচরণ করে<br />
পশু মানুষের হাতে নয় তারা কখনো অধীন<br />
প্রিয়তমা তুমি নও, গোটা বিশ্ব আজ প্রিয়তমা<br />
তার জন্য অনিবার্য বৈপ্লবিক প্রেম-পরিক্রমা।’<br />
ষাটের দশকে দক্ষিণ স্বাধীনতাকামী নেলসন মানদেলা যখন জেলে বন্দি, তখন দিলওয়ার তাকে নিয়ে লিখেন-<br />
‘নেলসন মানদেলা: একটি আগ্নেয় স্মরণ।’ কবি বিশ্বমানবতার পক্ষে কলম ধরেন ‘আনিসা শুনতে পাও, ‘উহুরু’ ‘উহুরু’ সেই ডাক?<br />
অগ্নিগোলকের মতো কৃতঘ্ন আঁধার ভেদ করে<br />
সে-ডাক ছুটন্ত দ্যাখো। রৌদ্র নৃত্য কালের অধরে!<br />
কৃষ্ণ সাগরের স্রোতে শ্বেতদৈত্য আতংকে নির্বাক<br />
এবং শুনতে পাও খাচাভাঙ্গা সিংহের গর্জন?&#8230;</p>
<p>কবি দিলওয়ারের প্রথম কবিতা ‘সাইফুল্লাহ হে নজরুল’ প্রকাশিত হয় ১৯৪৯ সালে সাপ্তাহিক যুগভেরীতে। ১৯৫৩ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘জিজ্ঞাসা’ প্রকাশিত হয়। ১৯৬৪ সালে বের হয় দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘ঐকতান’। এরপর কবি একে একে লিখেন পুবাল হাওয়া (গানের বই, ১৯৬৫), উদ্ভিন্ন উল্লাস (কাব্যগ্রন্থ, ১৯৬৯), বাংলা তোমার আমার (গানের বই, ১৯৭২), ফেসিং দি মিউজিক (ইংরেজি কাব্যগ্রন্থ, ১৯৭৫), স্বনিষ্ঠ সনেট (কাব্যগ্রন্থ, ১৯৭৭), রক্তে আমর অনাদি অস্থি (কাব্যগ্রন্থ, ১৯৮১), বাংলাদেশ জন্ম না নিলে (গ্রবন্ধগ্রন্থ, ১৯৮৫), নির্বাচিত কবিতা (কাব্যগ্রন্থ, ১৯৮৭), দিলওয়ারের শত ছড়া (ছড়ার বই, ১৯৮৯), দিলওয়ারের একুশের কবিতা (কাব্যগ্রন্থ, ১৯৯৩), দিলওয়ারের স্বাধীনতার কবিতা (কাব্যগ্রন্থ, ১৯৯৩), ছাড়ায় অ আ ক খ (ছড়ার বই, ১৯৯৪), দিলওয়ারের রচনাসমগ্র ১ম খণ্ড (১৯৯৯), দিলওয়ার-এর রচনা সমগ্র ২য় খণ্ড (২০০০), ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীর ডাকে (ভ্রমণ, ২০০১), দুই মেরু, দুই ডানা (কাব্যগ্রন্থ ২০০৯) ৷<br />
সাহসী শব্দ সৈনিক কবি দিলওয়ারের ‘চলমান শব্দাবলী’র মতো কলামগুলো দেশে-বিদেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। তার গল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ‘সাদা কালো বিড়াল’ এবং ‘ইলিশ মাছের কাঁটা’। মঞ্চ নাটক হচ্ছে ‘আসল মুক্তিযুদ্ধ এবং রুধিরাক্ত কাল’।<br />
ইংরেজি রচনা ও অনুবাদেও প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন কবি দিলওয়ার। অনুবাদ করেছেন মার্কিন কবি নরমান, কোরীয় লেখক মোগউ, জার্মান কবি কাল ক্রালাউ, রুশ কবি আইওন, ইতালিয়ান কথা সাহিত্যিক মোরাকিয়ান সহ বিখ্যাত লেখকদের বই।</p>
<p>কবি দিলওয়ার ১ জানুয়ারি ১৯৩৭ সালে সিলেট শহরের দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলাস্থ পৈতৃক নিবাস খান মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মৌলভী হাসান খান এবং মাতা মোছাম্মৎ রহিমুন্নেসা। পুরো নাম দিলওয়ার খান। যদিও তিনি পারিবারিক ‘খান’ পদবি কখনো ব্যবহার করেননি। রক্ষণশীল পারিবারিক ঐতিহ্য ভেঙে কবি দিলওয়ার সাধারণ মানুষের সাথে মিশে গিয়েছিলেন। সকল চাওয়া পাওয়ার উর্ধ্বে কবি দিলওয়ারের চেতনায় ছিল শুধুই দেশপ্রেম। মানুষকে ভালোবেসে তিনি নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন।<br />
‘আমার মৃত্যুর পর’ শীর্ষক লেখা কবিতায় কবি দিলওয়ার বলেছেন<br />
‘আমার মৃত্যুর পরে যদি তুমি<br />
কখনো খুঁজতে যাও এই মর্মভূমি<br />
মনে রেখো তবে<br />
বাংলার হৃদয় নিয়ে কেটেছে<br />
আমার দিন<br />
প্রতীচ্যের মুক্তির গৌরবে।’<br />
২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর বার্ধক্যজনিত কারণে ইহকাল ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম এই প্রধান কবি। যার ভালবাসা ছিল কর্মচঞ্চল মানুষের সাথে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%a3%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%ac/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আমিনা বেগমের ডায়রী : ‍একজন রত্নগর্ভ মা ‍এর ‍আত্মকথা</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%97%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%85%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%97%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%85%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 03 Aug 2021 11:57:04 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কথামালা]]></category>
		<category><![CDATA[স্মৃতিকথা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=4432</guid>

					<description><![CDATA[<p>ভূমিকার বদলে</p> <p>২০০০ সালের সূচনা লগ্নে, মার্চের এক বিকালে দৈনিক ভোরের কাগজের মহিলা বিষয়ক পাতা নারীপক্ষের একটি লেখার জন্য আমাকে ডেকে পাঠালেন সম্পাদক বেনজীর আহমেদ। বিষয় ছিলো বরিশাল বিভাগের প্রথম</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%97%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%85%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ভূমিকার বদলে</p>
<p><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/01/IMG0028A.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/01/IMG0028A-240x300.jpg" alt="" width="240" height="300" class="alignleft size-medium wp-image-1655" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/01/IMG0028A-240x300.jpg 240w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/01/IMG0028A.jpg 300w" sizes="auto, (max-width: 240px) 100vw, 240px" /></a>২০০০ সালের সূচনা লগ্নে, মার্চের এক বিকালে দৈনিক ভোরের কাগজের মহিলা বিষয়ক পাতা নারীপক্ষের একটি লেখার জন্য আমাকে ডেকে পাঠালেন সম্পাদক বেনজীর আহমেদ। বিষয় ছিলো বরিশাল বিভাগের প্রথম শিক্ষিত নারীকে খুঁজে বের করে তাঁর বর্তমান অবস্থান তুলে ধরা।<br />
একইসময় বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের প্রসিদ্ধ অভিনেতা এবং বর্তমান বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী (সাবেক) আসাদুজ্জামান নূর এমপি ডেকে পাঠালেন “তাঁর মায়ের পাশে বসে, তিনি (মা) যা বলবেন, তা লিখে দেবার জন্য”। মূলত এটা একটি আত্মজীবনী মূলক রচনা হবে।<br />
একদিকে আমি খুঁজছি বৃহত্তর বরিশালের প্রথম শিক্ষিত নারীটিকে, অন্যদিকে নূর ভাইয়ের মায়ের কথা শুনে শুনে তৈরি করছি তাঁর আত্মজীবনী। নূর ভাইয়ের মা খুব চমৎকার গুছিয়ে বলতে পারতেন, তবে হাতের আঙ্গুলে সমস্যা থাকার কারণে তিনি লিখতে পারতেন না। তাঁর স্মরণ শক্তিও খুব প্রখর ছিলো, তারপরও তিনি বলতেন, এই যে তুমি যা লিখছো, তা কতটা সত্য লিখছো, সেটা তোমার যাচাই করা উচিৎ। এজন্য তোমাকে আমার গ্রামের বাড়িতে, আমি যেসব স্থানে দীর্ঘদিন বসবাস করেছি, সেসব স্থানের আমার পরিচিতজনদের সাথেও কথা বলা উচিৎ। তাহলে তোমার এই রচনা সার্থক হবে। কখনো কারো আত্মজীবনী লিখলে, এ কাজটি সবসময় করবে, এটা স্মরণ রেখ। খালাম্মার (আমিনা বেগম)এর বলা এ কথা আমি স্মরণ রেখেছি, যারফলেই প্রফেসর ডাক্তার এম আর খানের জীবনী করতে যেয়ে সেখানেও আমি হেঁটে এসেছিলাম এম আর খানের ছেলেবেলার পথে।<br />
নূর ভাইয়ের মায়ের বক্তব্যের সুত্র ধরে, তাঁরই দেখানো পথে আমি হেঁটে এলাম তাঁর জন্মস্থান বরিশালের পিরোজপুর জেলাধীন স্বরূপকাঠীর সুঠিয়াকাঠী গ্রামে। কলকাতার জলপাইগুড়িতে যেতে না পারলেও হেঁটে এলাম রংপুর হয়ে নীলফামারী জেলায়। কথা বললাম ও তথ্য মিলিয়ে নিলাম তাঁর পরিচিত অনেকের কাছ থেকে। শুধু তাই নয় একইসাথে আমার হাঁটা হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত। আর এই স্বরূপকাঠীতে বসেই আমি আবিস্কার করলাম- বৃহত্তর বরিশালের প্রথম শিক্ষিত মুসলিম গ্রাজুয়েট নারীটি অন্য কেউ নয়, তিনি আসাদুজ্জামান নূর সাহেবেরই মা আমিনা বেগম স্বয়ং। শুধু তাই নয়, তিনি শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের প্রতিষ্ঠিত কলকাতার লেডি ব্রেবোন কলেজেরও প্রথম মুসলিম ছাত্রী।<br />
ব্যস আমাকে আর পায় কে? ভোরের কাগজে অচিরেই ছাপা হলো &#8211; কল্পকথার নক্সীকাঁথা (আমার জীবন আমার কথা) &#8211; শিরোনামে  আমেনা বেগমের সংক্ষিপ্ত জীবনচরিত।<br />
আমেনা বেগমের জীবদ্দশাতেই অতি ধীরে ধীরে তৈরি হলো এই আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থটি। <a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/08/Amena-00.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/08/Amena-00-300x225.jpg" alt="" width="300" height="225" class="alignleft size-medium wp-image-4451" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/08/Amena-00-300x225.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/08/Amena-00-768x576.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/08/Amena-00-1024x768.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/08/Amena-00.jpg 1125w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>২০০৫ সালের ১৮ জনিুয়ারীতে হঠাৎ তিনি সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন পুথিবীর মায়া ছেড়ে। তাঁর চলে যাওয়ার সাথে সাথে এই আত্মজীবনীটিও যেন হারিয়ে গিয়েছিলো। নূর ভাইয়ের বাসায় কম্পোজ কপিটি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তিনি তাই আমাকেই পুনরায় লেখাটি গোছাতে বললেন। এরপর দীর্ঘসময়, ব্যস্ততায় এ বিষয়টিকে সবাই ভুলেই গিয়েছিলাম।<br />
সম্প্রতী রাজনীতিবিদ  ও সাংসদ আসাদুজ্জামান নূর ঐ আত্মজীবনীটা বিষয়ে পুনরায় খোঁজ করলেন। আমিও তৈরি ছিলাম। হাতে লেখা পা-ুলিপিটা পুনরায় কম্পোজ করিয়ে তৈরি রেখেছি, যাতে তিনি ডাকলেই ছুটে যেতে পারি।<br />
বি:দ্র:- ‍এই ‍আত্মলিখনি কোনো দলিল নয়। ‍এভানের সব কথা স্মৃতি হাতড়ানো ‍আবেগগাঁথা। তথ্যগত কোনো ভুল ধরিয়ে দিলে কৃতজ্ঞ হবো।</p>
<p>আলাপে<br />
আরিফ আহমেদ<br />
অনুলেখক ও সম্পাদক</p>
<p><strong>এক</strong></p>
<div id="attachment_4433" style="width: 231px" class="wp-caption alignleft"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/08/noor_vai_-maaa-33.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-4433" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/08/noor_vai_-maaa-33-221x300.jpg" alt="" width="221" height="300" class="size-medium wp-image-4433" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/08/noor_vai_-maaa-33-221x300.jpg 221w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/08/noor_vai_-maaa-33.jpg 342w" sizes="auto, (max-width: 221px) 100vw, 221px" /></a><p id="caption-attachment-4433" class="wp-caption-text">আমিনা বেগম, বৃহত্তর বরিশালের প্রথম মুসলমান গ্রাজুয়েট মহিলা</p></div>
<p>হে ¯স্রষ্টা তুমি, পথ ভ্রষ্টা<br />
আমাদের ক্ষমা করো<br />
জ্বালো মঙ্গোল শিখা জ্বালো<br />
জ্বালো সত্য পিদীম জ্বালো।<br />
আমাদের মনের গহীনে লুকানো &#8211; সুপ্ত কণায়<br />
পাপেরা সেখানে সাঁতার কাটে আর বড় হয়।<br />
তুমি ¯্রষ্টা সব দ্রষ্টা<br />
পাপীদের ক্ষমা করো।।<br />
একা হলেই গুন গুন করে এভাবেই কখনো প্রার্থনা সংগীত কখনো পবিত্র কোরআনের ‍আয়াত গেয়ে যাই আপন মনে ।মনে বেশ বল পাই তখন, এখনো বেঁচে আছি সেতো এই মনেরই জোরে। নারীর প্রধান ভরসা হচ্ছে স্বামী, স্বামী যদি না থাকে তবে আল্লাহ ছাড়া আর ভরসা কোথায়?<br />
নারী হয়ে জন্ম নিয়ে এই দেশে &#8211; এটুকু শিখেছি। দেখেই খুব জোড় গলায় বলতে পারি যে, কৈশরে বাবা মা আর যৌবনে স্বামী নারীর সবচেয়ে আপনজন। এরপরের সময়টা ছেলেমেয়ের জন্য। কিন্তু ছেলেমেয়ে বড় ও স্বাবলম্বী হয়ে গেলে নারীকে পুনরায় স্বামী নির্ভর হতেই হয়। আমরা বাঙালী মেয়েরা যে বয়সে শাড়ী পড়তে শিখি, সে বয়সে ঘর-সংসারের স্বপ্ন বাঁধতে শিখি। এ নিয়মের একটু অন্যথা হলেই সে নারীটিকে হতে হয়েছে সমাজ ত্যাগী কিম্বা বিপথগামী।<br />
আজকের সমাজের কথাই যদি ধরি, নারী এখন যত স্বাধীন হয়েছে, যত বেশি আধুনিক  হতে শিখেছে ততোই বেশি নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে তাদের। আগেও যে এমনটি ছিলোনা তা নয়, তবে আগে নারীরা শুধু স্বামীর দ্বারাই নির্যাতনের শিকার হতো, আর এখন চারিদিকে &#8211; চতুর্মূখী নির্যাতনের শিকার নারী।<br />
ছোটবেলা দাদীমার কোলো শুয়ে গল্প শুনতে চাইলে, দাদীমা প্রায়ই একটা ভিন্ন গল্প শোনাতেন। &#8211; এখন আর গল্পটা মনে পড়ে না, তবে অর্থটা এখনো খুব স্পষ্ট মনে আছে &#8211; একটা সময় ছিলো যখন মেয়ে পক্ষকে যৌতুক দিয়ে ছেলেপক্ষের লোকেরা মেয়েকে নিয়ে যেত। আজ দিন বদলে গেছে, উল্টো ছেলেপক্ষকেই যৌতুক দিয়ে মেয়েকে তুলে দিতে হয়। দাদীমার বলা গল্পটিতে এই দিনের পরিণতি স্পষ্ট হয়েছিল। ইস্ আজ যদি দাদীমা বেঁচে থাকতেন তাহলে হয়ত গল্পটাকে আবার ছড়িয়ে দেয়া যেত। দাদীমা আজ নেই, তার গল্পটিও নেই কিন্তু রাজকুমার ও রাক্ষস-খোক্ষসের গল্পটাতো তোমরা অনেকেই পড়েছ। রাজকুমারীকে রাক্ষসের গুহা থেকে উদ্ধার করতে একজন রাজকুমার কি কষ্টটাই না স্বীকার করে। এ গল্পটিতেও কিন্তু নারীকে বসানো হয়েছিল বিশেষ সম্মানিত এক স্থানে। যে স্থানটিতে পৌঁছে তবেই নারীর মন জয় করা সম্ভব ছিল পুরুষের পক্ষে। আজকের আধুনিক গল্পের রূপরেখা-বক্তব্য ভিন্ন। এখনকার গল্পকাররা নারীকে পণ্য করছে আর ঠেলে দিচ্ছে নির্যাতীত সেই সব পথে যেখানে রয়েছে পণ্য হবার অবাধ স্বাধীনতা। দাদীমার গল্পটি যদি মনে থাকত তবে নারীদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া যেত &#8211; এটাই তোমাদের ভবিষ্যত।<br />
কারো সাথে কথা বলতেই এখন আর তেমন উৎসাহ পাই না। পাব কি করে অল্পতেই যে এখন হাঁপিয়ে উঠি। মাঝে মধ্যে নিজেই নিজেকে ব্যঙ্গ করি &#8211; কি হে আমিনা বেগম, সারা জীবন কথা বলার চাকুরী করে এখন এই বৃদ্ধ বয়সে এ কী ভীমরতি?<br />
মনে মনে অবশ্য নিজের সাথে নিজে বেশ কথা বলি, বেশীর ভাগ কথাই হয় যুগের পরিবর্তন নিয়ে- জানি মানুষ পরিবর্তনশীল, কিন্তু এ সমাজের এত দ্রুত পরিবর্তনটা বড্ড চোখে পড়ে। আমরা যখন স্কুলে গিয়েছি তখনকার সমাজ ব্যবস্থা ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে শিক্ষকের সম্পর্ক কী মধুর সে দিন, আর আজ? আজকের শিক্ষা ব্যবস্থায় কোন ছাত্র-ছাত্রী সত্যিকারের শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে বলে আমার মনে হয় না। আজকের শিক্ষার্থীদের সাথে আমাদের বিস্তর ব্যবধান &#8211; অনেক ক্রোশ ব্যবধান আজ। শুধু ভাল লাগে সমাজে এই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিটুকু। আমরা যখন মাইলের পর মাইল কষ্ট করে পায়ে হেঁটে, কাঁদা পানি মারিয়ে পড়তে গেছি, আজ ওরা কী সহজে গাড়ি &#8211; রিক্সা ব্যবহার করে পড়তে যায়। কী আরাম! বড় লোভ হয় আবার যৌবনে ফিরে যেতে।<br />
শাহিনা আর সেতারাকে দেখে দেখে একটা দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই আমার। শাহিনা হচ্ছে আমার বড় ছেলে নূরের স্ত্রী, একজন সফল ডাক্তার। আর সেতারা আমার ছোট ছেলে মিজানের বউ। কি একটি বিষয়ে যেন গবেষণা করছে। বেশীর ভাগ সময়েই গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াতে হয়। কি নিঃসঙ্কোচে আজ ওরা কর্মক্ষেত্রে বিচরণ করছে, অথচ ওদের বয়সে আমি যখন প্রথম কার্যক্ষেত্রে প্রবেশ করি তখনকার সমাজ ব্যবস্থাই এমন যে একমাত্র শিক্ষকতা পেশাটাই মেয়েদের জন্যে সম্মানের ছিল। অন্য পেশায় মেয়েদের আশাই করা যেত না। শাহিনাদের আজকের এই সময়টাকে পেতে আমরা পারি দিয়েছি অনেকগুলো ভাংগা গড়া সাগর, যার অস্তিত্ব শাহিনা, সেতারা কিম্বা ওর মেয়ে এগার বছরের সুপ্রভা কল্পনাই করতে পারবে না। আজকের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আটপৌড়ে এক বৃদ্ধের একাকীত্বের সময় কাটানোর জন্যে এই যে কলম তুলে নেয়া সেও ওদের জন্যেই। ওদেরকে ঐ সময়টায় একটু মানসিক হাঁটানোর জন্যে আমার চেষ্টা কতটা সফল হবে জানি না। তবে নিজের দেখা সময়টার গল্প করার এ সুযোগটুকু কে-ই বা হাত ছাড়া করতে চায়?<br />
বারবার একাকীত্ব বলছি বলে কেউ যেন ভেব না আমার কেউ নেই, তা নয়, আসলে বয়স বাড়লেই বোধ-বুদ্ধি কিছু কিছু পরিবর্তন শুরু হয় যেখানে নিজেকে ছাড়া আর কিছুই ভাবনায় আসে না, বেইলী রোডে নূরের এই বিশাল বাড়িটায় দু’জন বুয়া ওর ছেলে সুদীপ্ত &#8211; মেয়ে সুপ্রভা সবাই আছে, সবার মাঝে আমিও আছি, কিন্তু তারপরও কোথায় যেন একটা শূন্যতা, নাজেম চলে যাবার পর থেকেই এ শূন্যতা দিনকে দিন আমাকে কুড়ে কুড়ে খেয়েছে, এখনো খায়।<br />
ছোটবেলা থেকেই আমি কথা খুব কম বলতাম, আমার শিক্ষকতা জীবনেও ছাত্রীদের সাথে প্রয়োজনীয় কথাটুকু ছাড়া তেমন কথা হয়নি। স্বামী সংসার ছেলে মেয়ে এ সবকিছু নিয়েই আমার সুখের সংসারে কথোপকথনটা ছিল নেহাত প্রয়োজনে। নাজেম অবশ্য খুব আড্ডা প্রিয় ছিল। সবসময় একটা না একটা কাজ নিয়ে ও ব্যস্ত থাকতো। নূর ঠিক ওর বাবার ধারা পেয়েছে। বড় ব্যস্ত মানুষ ও। সকালে বের হয় ফেরে অনেক রাত্রে। বউমা ডাক্তার, পিজি হাসপাতালে চাকুরী ওর। সুদীপ্ত &#8211; সুপ্রভাদের স্কুলে যেতে হয়। ওদের বইয়ের রাজ্য দেখে আমি নিজেই ভিমরী খেয়ে যাই। ওরা যখন খুব ছোট ছিল তখন ওদের নিয়েই বেশ সময় কেটে যেত। এখন ওরাও বড় হয়েছে, ওরা যত বড় হচ্ছে ততোই কেমন একটা দুরত্বের দেয়াল। আমরা এ বয়সেও দাদীমার কোলে শুয়ে গল্প শুনতাম, ওরা বইয়ের পাহাড়ে ডুবে থাকে। প্রয়োজন ছাড়া দাদীমার কাছে খুব একটা ঘেঁষে না।<br />
আমার ছেলে-মেয়েরা, নূর, মিজান ও ফোয়ারা কিন্তু ওদের দাদীমার কাছে বেশী থেকেছে। আমরা স্বামী-স্ত্রী যখন চাকুরী নিয়ে ব্যস্ত তখন বাচ্চাদের দেখবার দায়িত্বটা আমার শ্বাশুড়ী নিজের হাতে তুলে নিয়েছিলেন।<br />
১৯৮২ সনের ১৮ই জুলাই আমার শ্বাশুরী মারা যান। তাঁর সম্পর্কে আরো পরে বলছি। আগে তাঁদের সাথে আমাদের আলাপের পথে হাঁটি।<br />
<div id="attachment_4434" style="width: 310px" class="wp-caption alignright"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/08/noor_vai_-maaa-2.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-4434" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/08/noor_vai_-maaa-2-300x169.jpg" alt="" width="300" height="169" class="size-medium wp-image-4434" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/08/noor_vai_-maaa-2-300x170.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/08/noor_vai_-maaa-2-768x432.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/08/noor_vai_-maaa-2-70x40.jpg 70w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/08/noor_vai_-maaa-2.jpg 860w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-4434" class="wp-caption-text">আসাদুজ্জামান নূরের মেয়ে সুপ্রভা ও ‍আমেনা বেগম।</p></div><br />
নূরের মেয়ে সু-প্রভা কিন্তু ঠিক আমার ছোটবেলার আদল পেয়েছে।মাঝে মধ্যে ওকে দেখি আর নিজের ছোটবেলাটা স্মরণ করি, ওর ছেলেবেলার সাথে আমার ছেলেবেলার কি বিস্তর ব্যবধান?<br />
পাড়া গাঁয়ের এদোঁ কাঁদা গায়ে মেখে বেড়ে ওঠা জীবন আমার। সভ্যতার আলো তখনো পড়েনি, তবে বেগম রোকেয়ার প্রভাব কিছুটা পরেছিল ঐ সুঠিয়াকাঠী নামের গ্রামটিতে। আমাদের গ্রামটি তেমন পরিচিত না হলেও তখনকারদিনে বাকেরগঞ্জ জেলাধীন পিরোজপুর মহকুমার স্বরূপকাঠী ছিল ভারতবর্ষের গুরুত্বপূর্ণ স্থান। তখনকার সময়েই পেয়ারা চাষ ও কাঠ ব্যবসার জন্যে এ অঞ্চলের খ্যাতি ছড়িয়ে পরেছিল। শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক সাহেব ছিলেন আমাদের গ্রাম প্রতিবেশী। বাবা চাচাদের সাথে তাঁর ছিল গভীর বন্ধুত্ব। আমাদের গ্রামটিতে তাঁর যাতায়াত ছিল। বলা যায় বিদ্যানূরাগী এ মানুষটির উৎসাহ উদ্দীপনাই স্বরূপকাঠীর মানুষের মাঝে শিক্ষার বিস্তার ঘটিয়ে ছিল।<br />
আমার জন্মের পরপরই  আমরা দু’জন লোকের নাম খুব শুনতে পেতাম &#8211; একজন শেরে বাংলা, অন্যজন  শরশীনার পীর সাহেব নেছারউদ্দীন আহমেদ। ইংরাজী ১৯২০ সালের ১৫ মার্চ বাংলা ১৩২৬ সনের পয়লা চৈত্র আমার জন্ম হয়েছিল বলে শুনেছিলাম। মা-বাবার চতুর্থ সন্তান হিসেবে আমার জন্ম হলেও আদতে আমিই ছিলাম দ্বিতীয় সন্তান। কেননা খুব অল্প বয়সেই আমার মাঝখানের এক ভাই ও এক বোন মারা গিয়েছিল। আমার ভাইবোনদের মধ্যে সকলের বড় ছিল বোন নূরজাহান বেগম টুলু। আমাকে কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোটা ছিল ওর প্রধান দায়িত্ব। চাচীদের কোলেও ছিলাম তবে ছোট চাচা ও দাদীমার আদরেই কেটেছে শিশুকাল। ধর্মীয় অনুশাসনে বন্দী একটি পরিবারের আচার ব্যবহারের সাথে তাল মিলাতে হয়তো বেশ সময় নিয়েছিলাম। তবে হাঁটি হাঁটি পা পা থেকেই সম্ভ্রান্ত পরিবারের যাবতীয় সভ্যতার বুলিগুলো শিখে নিচ্ছিলাম খুব দ্রুত।<br />
নদী বেষ্টিত একটি গ্রাম সুঠিয়াকাঠী। চারিদিকে থৈ থৈ পানির ভিতর আমাদের বেড়ে ওঠা। নদীর নাম সন্ধ্যা। কে কখন এ নামটি রেখেছিলেন তা জানি না, তবে নামের সাথে সন্ধ্যার মিল ছিল দারুন। বিশেষ করে বর্ষা কালটায় থৈ থৈ পানি আর মেঘের গর্জনের সাথে ছই (ছাওনী) নৌকোর দুলে চলা দৃশ্য এখনো চোখ বন্ধ করলেই মনের পর্দায় ভেসে ওঠে। ইচ্ছে হয় ছুটে যাই ঐ ফেলে আসা গায়ে। নৌকো ছাড়া তো আমাদের তখন আর কোন বাহন ছিল না। বাড়ির বাগানে প্রচুর পেয়ারা গাছ ছিল, পেয়ারা কিম্বা আম খেতে হলে নৌকো নিয়ে বাগানে যেতে হত। শুধু বর্ষাকালে নয়, অন্যান্য সময়েও জোয়ারের পানি বাড়ির ভেতর উঠোনে চলে আসতো। তার উপর বাড়িতে ছিল বড় বড় চারটি পুকুর। পানিতে পরে শিশুরা যাতে ডুবে না যায়, সে জন্য সতর্কতার কমতি ছিল না। এমনি সতর্কতার চিহ্নস্বরূপ আমার পায়ে ঘুঙুর বেধে দেয়া হয়েছিল। পুকুরের দিক থেকে ঘুঙুরের শব্দ শোনা গেলেই বড়রা ছুটে এসে আমাকে সরিয়ে নিয়ে যেতেন। শব্দটি ছিল অদ্ভুত ঢং ঢং থং থং রকমের, যার জন্য আঢ়ালে আবডালে আনেকেই আমার নাম দিয়েছিল ঢনঢনি।<br />
আমাদের বাড়িটা যে খুব বড় ছিল তা কিন্তু নয়। দুটি মাত্র ঘর ছিল বাড়িতে, একটি ঘর আমার দাদা আনিসউদ্দীন আহমেদ তৈরি করেছিলেন। অন্যটি চাচাত দাদা নাজেমউদ্দীন আকনের তৈরি। তাঁর ঘরটি ভেঙ্গে ওখানে  দালান তৈরি হয়েছে। শুধু আমাদের দাদার তৈরি ঘরটি এখনো টিনেরই আছে, তবে কাঠের দোতলা গড়া হয়েছে। একটি ঘর থেকে এখন দু’টি বড় ঘর হয়েছে। ঘরের আসবাবপত্রের কোন পরিবর্তন করা হয়নি। শুনেছি দাদার ব্যবহৃত খাট ও আলমারী এখনো আছে। সুঠিয়াকাঠী গ্রামের আদি বাসিন্দা হিসেবে মাত্র চার কি পাঁচটি পরিবার ছিল। এদের মধ্যে আমাদের পর পিতামহরাও ছিলেন।<br />
শুনেছি ফেলাই ও নব্দি নামের দু’ভাই থেকেই আমাদের বংশের উৎপত্তি। এই দু’ভাই বাবুগঞ্জের জয়পুর থেকে ব্যবসা উপলক্ষে স্বরূপকাঠীতে এসে এই সুঠিয়াকাঠী গ্রামে বসতি স্থাপন করেছিলেন। তাদের দু’ ভাইয়ের এক জনের ছয় ছেলে দুই মেয়ে, অন্য জনের তিন ছেলে তিন মেয়ে ছিল। যদিও নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি ছয় ছেলের জনক ফেলাই না নবদি তবে ঐ ছয় ছেলের সবচেয়ে ছোট ইজ্জতউল্লাহ আকন্ থেকেই আমাদের বংশের উৎপত্তি।<br />
ফেলাই ও নব্দি<br />
(নবদি এর তিন ছেলে তিন মেয়ে, তবে তাদের নাম সংগ্রহ করা যায়নি।)<br />
ছয় ছেলে দুই মেয়ে<br />
১। মদনউদ্দীন আক্ন<br />
২। ছফেরউদ্দীন আক্ন<br />
৩। ছমেরউদ্দীন আক্ন<br />
৪। আজিমউদ্দীন আক্ন Ñ নামেজউদ্দীন ব্যাপারি Ñ মৌলভী ইসরাইল Ñ আজমল হক<br />
৫। কমরউদ্দীন আক্ন Ñ তোসনউদ্দীন Ñ আব্দুল হামিদ Ñ সাইদুল রহমান খোকা<br />
৬। ইজ্জতউল্লা আক্ন Ñ আনিসউদ্দীন আহমেদ ও ইয়াকুবউদ্দীন<br />
ইজ্জতউল্লাহ আকনের দুই ছেলে আনিসউদ্দীন আহমেদ ও ইয়াকুবউদ্দীন। এই আনিসউদ্দীন আহমেদই আমাদের দাদা ছিলেন। তিনি বিয়ে করে ছিলেন কৌড়িখাড়া মুন্সি বাড়ির মেয়ে ছোটি বিবিকে। প্রচন্ড ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন এই মহিলার গর্ভেই আমার বাবা-চাচাদের জন্ম হয়েছিল। বাবা-চাচারা ছিলেন ছয় ভাই। সবার বড় আদিলউদ্দিন আহমেদ বিয়ে করেছিলেন কৌড়িখাড়ার মিয়া বাড়িতে। মা বাবার দ্বিতীয় সন্তান ছিলেন আমার বাবা হেলালউদ্দিন আহমেদ। সেজচাচা আজহারউদ্দীন আহমেদ বাবার তুলনায় দু’বছরের ছোট হলেও সফিউদ্দীন আহমেদ, কফিলউদ্দীন আহমেদ ও ছোট চাচা আতাহারউদ্দীন আহমেদের বয়সের ব্যবধান ছিল এক বছর।<br />
আনিসউদ্দীন আহমেদ এর ছয় ছেলে দুই মেয়ে (বক্স হবে)<br />
(দুই মেয়ে জন্মের সাথে সাথেই মারা যায়)<br />
১। আলহ্বাজ আদিলউদ্দীন আহমেদ Ñ আবু বড় মিঞা, কিসলু, মালেক, চারু এবং আমিরন ও মজিরন<br />
২। হেলালউদ্দীন আহমেদ Ñ আমেনা বেগম সহ মোট পনের ভাই বোন<br />
৩। আলহ্বাজ আজহারউদ্দীন আহমেদ Ñ এক ছেলে দুই মেয়ে<br />
৪। আলহ্বাজ আহমেদ Ñ ডাঃ হাবিবুর রহমান ও মেরী<br />
৫। আলহ্বাজ কফিলউদ্দীন আহমেদ Ñ সাত ছেলে পাঁচ মেয়ে<br />
৬। আতাহারউদ্দীন আহমেদ Ñ ছয় ছেলে ও চার মেয়ে<br />
কাঠের ব্যবসায় আমার দাদা তেমন প্রসার জমাতে পারেন নি, যার ফলে দরিদ্রতার কষাঘাত সহ্য করতে হয়েছিল তাঁকে। ছয় ছেলে নিয়ে একটি মাত্র ঘরেই একান্নবর্তী হয়ে বসবাস তাঁর। তিনি যখন হঠাৎ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করলেন আমার বাবা চাচারা পরলেন অথই সাগরে। বাবা তখন সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র, বড় চাচা তখন তারই চাচাত চাচা নাজেমউদ্দীন আক্ন এর কাঠ ব্যবসায় কাজ করতেন। অন্য চাচারা সবাই খুবই ছোট। বাবার পড়াশুনা আর হল না। বড় ভাইয়ের সাথে তিনিও লেগে পড়লেন ব্যবসায়ের দেখাশুনায়। নাজেমউদ্দীন আক্নের সাহায্য সহযোগিতায় বাবার সাফল্য ক্রমশঃ বেড়ে চলল। নাজেমউদ্দীন আক্ন কিন্তু, ইজ্জতুল্লাহ আক্ন অর্থাৎ আমাদের বংশিয় প্রধানের ভাইয়ের ছেলে। সম্পর্কে আমাদের দাদা ছিলেন। নাজেমউদ্দিন আকনের তিন ছেলে ছিল। তাদের মধ্যে সবার বড় ইসরাইল মৌলভীর ছেলে আজমল হক এখনও ঐ বাড়িতেই বসবাস করছেন।<br />
ইজ্জতুল্লাহ আক্ন ছিলেন গ্রাম্য পঞ্চায়েত প্রধান। সেখান থেকে এই পঞ্চায়েতের দায়িত্ব পেয়েছিলেন নাজেমউদ্দীন আক্ন। বড় চাচা ও বাবার বিয়ের বিষয়ে তারই অবদান ছিল বেশ উল্লেখযোগ্য। আমার মা আজিমুন্নেছো ছিলেন নামকরা বংশের মেয়ে, নানা দলিলউদ্দীন আকন ছিলেন কাঠের বড় ব্যবসায়ী। যার দরুন মা’কে বিয়ে করে বাবার ব্যবসায়ের প্রসার ঘটেছিল আসাম ও বার্মা পর্যন্ত।<br />
মোট পনের ভাই বোন ছিলাম আমরা। আমার বড় ছিল তিন জন, বাকীরা সবাই ছোট। অল্প বয়সেই তিন ভাই ও তিন বোন মারা যাওয়ায়, নয় ভাই বোন জীবীত ছিলাম। আজকের যুগে পরিবার পরিকল্পনার প্রভাবে সংসার ছোট রাখা যায় &#8211; তখনকার দিনে তো এটা কেউ কল্পনাই করেনি। সন্তান “আল্লাহর দান” বলে তখনকার বাবা মায়েরা নির্দ্বিধায় একের পর এক সন্তানের জন্ম দিয়ে যেতেন। জনসংখ্যার বিস্তার ঘটেছিল এভাবেই। খাওয়া পরার তেমন চিন্তা ছিল না। গোলা ভরা ধান আর পুকুর ভরা মাছ তো আমরাই দেখেছি। আমার বয়স যখন সাত বছর তখন থেকেই বড়শি পেতে মাছ ধরা আমার সখ ছিল। পুকুরে পা ধুতে গেলেই মাছেরা এসে পায়ের উপড় আঁছড়ে পড়তো, সরপুটি, টিট পুটি। বোয়াল মাছটা খুব ভয় পেতাম। ওটাকে বলতাম রাক্ষুসে মাছ। সুযোগ পেলেই বিশাল হাঁ করে তেড়ে আসতো। সাত বছর বয়স পর্যন্ত বেশ ভালই ছিলাম। গাছে চড়া, লুকোচুরী খেলা এ সব কিছুতেই বেশ পারদর্শি ছিলাম। কেউ কখনো বাঁধাও দিত না।<br />
কিন্তু এরপরই শুরু হল নিয়ম নীতির ভার, মেয়ে হবার সুবাদেই হয়ত বাইরে মেলা মেশা কমিয়ে দিতে হল। এ জনমে দু’বার মার খেয়েছিলাম, একবার বাবার হুক্কায় ফুঁ দিয়ে। আরেকবার গাছে চড়ার অপরাধে। মারের ভয়ে বাধ্য হয়েই নিয়ম নীতি মেনে চলার চেষ্টা করতাম। মক্তোবে ভর্তি করে দেয়া হলে, বড় বোন টুলু আমায় নামাজ পড়া শিখাতে শুরু করলেন। আমিই সবার চেয়ে বেশী পড়াশুনার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছিলাম। এদিকে আবার আমার ছোটদের সেবা যতেœর কমতি হলে মা রাগারাগি করতেন।<br />
বাবা-মা-চাচারা আদর করে আমায় ডাকতেন খুকী বলে। আমার মামারা ডাকতেন আমেনা। মামাবাড়ি আর দাদা বাড়ি খুব কাছাকাছি হওয়ায় সুবিধেটা পুরোদমে ভোগ করতাম, বাড়ি থেকে কেউ একটু মন্দ বললেই রাগ করে যেয়ে মামা বাড়িতে উঠতাম। ছোট চাচা আর দাদী এসে আমায় নিয়ে যেতো তখন। আমার দাদী ছোটি বিবির ব্যক্তিত্ব এমন ছিল যে, তার ছেলেরা কখনোই তাকে জিজ্ঞাসা না করে কিছু করতেন না। এমনকি পঞ্চায়েতের দায়িত্ব গ্রহণ করার পরও বাবাকে দেখেছি দাদিমার পরামর্শ গ্রহণ করতে। বাবা বিদ্যানূরাগী ছিলেন। ছোট চাচাদের পড়াশুনার জন্য বেশ উৎসাহ যোগতেন। বাড়ির ছেলে মেয়েদের পড়াশুনার সুবিধার জন্য বাবা একটা মাদ্রাসা তৈরি করেছিলেন। দুর দুরান্তের পাঠানূরাগী ছাত্ররা এসে যেন পড়াশুনা করতে পারে, সে জন্য মাদ্রাসার সাথে থাকার জন্য ঘর করে দেয়া হয়েছিল। আমাদের বাড়ির দরজায় যে পুকুরটি কাটা হয়েছে ওখানেই ছিল মাদ্রাসা ঘর। বাড়ির ছেলেরা ওখানেই পড়াশুনা করত, মেয়েদের পাঠ দানের জন্য মাদ্রাসার একজন মৌলভী ও একজন হিন্দু ব্রাহ্মণকে বাড়ির ভিতর কাচারী ঘরে এসে পাঠদানের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। ব্রাহ্মণকে নারায়ণ পন্ডীত বলে ডাকতো সবাই। মৌলভীর মশাইয়ের নামটা অবশ্য এখন আর মনে পড়ে না।<br />
আগেই বলেছি, চারিদিকে নদী বেষ্টিত একটি গ্রাম সুঠিয়াকাঠী। গ্রামের মধ্যে দিয়েও ছোট ছোট শাখা নদী বা খাল সরু ফিতার ন্যায় এঁকে বেঁকে গেছে। আগাখাল থেকে গোড়াখাল, জোয়ার-ভাটায় গ্রামের সব ময়লা আবর্জনা ধুয়ে যেত এ খাল পথে। গাছ-পালা দিয়ে এমনভাবে ঢাকা যে দুপুর বেলাতেও সূর্যের আলোটা ছিল বিছানো জালের মতো, তেজহীন। লোকবসতী কম হওয়ায় দিন দুপুরে ভয়ে গাঁ ছম ছম করতো। শিয়ালের ভয় ছিলো খুব। সন্ধ্যার পর ঘরের বাহিরে যাওয়া তাই নিষিদ্ধ ছিলো। সেই সময়, আমার বয়সী প্রায় সব ছেলে-মেয়েকেই এরকম জীবন উপভোগ করতে হয়েছে। আসলে তখনকার গ্রাম বাংলার প্রকৃতির সাথে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস যেমন ছিলো, তেমনি ছিলো বাঘ-শিয়াল আর সাপের ভয়। নৌকা ছিলো প্রধান বাহন। প্রতিটা গৃহস্থের ঘরেই নৌকা ছিলো। বাজার থেকে নৌকা বোঝাই করে বাজার আসতো বাড়িতে। মা-চাচীরা সেই বাজার নিয়ে যখন ব্যস্ত, আমরা দু’বোন তখন ছোটদের নিয়ে কাচারী ঘরে কিম্বা উঠোনে জড়ো হয়ে খেলা করতাম। রাতে ব্রাহ্মণ প-িতের কাছে পড়তে যেতাম, আমার ছোটভাই হেমায়েতউদ্দিন আহমেদ, ডাকনাম কাঞ্চন মিয়া এবং ছোটবোন রওশনজাহান কুসুম আমার সাথে পড়তে যেত। তখনই একটা বিষয় আমার চোখে পড়ে, আমি দেখতাম মেয়েদের পড়াশুনার প্রতি মৌলভী বা প-িতরা মোটেও গুরুত্ব দিতেন না। এমনকি পরিবার থেকেও তেমন চাঁপ ছিলোনা। একমাত্র ছোট চাচা আতাহারউদ্দিন আহমেদ এবং বড় মামা মোজাফফর আলী মেয়েদের পড়াশুনার বিষয়ে সচেতন ছিলেন। বাবার সম্পর্কের ফুফাতো ভাই মোদাচ্ছের আলী চাচা এসে এ সচেতনাকে আরো বাড়িয়ে দিলেন। তাঁর মুখেই প্রথম বেগম রোকেয়ার গল্প শুনলাম আমরা। তিনি যে মেয়েদের শিক্ষার জন্য একটা স্কুল করেছেন, তা-ও ঐ প্রথম জানতে পারলাম। ছোট চাচা ও মোদাচ্ছের আলী চাচার উৎসাহে বাবা মাদ্রাসা বন্ধ করে জুনিয়র গার্লস স্কুল তৈরি করলেন। এটা ১৯২৭ সালের জুলাই মাসে। পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত এই স্কুলেই পড়াশুনা আমার। ইতিপূর্বে ১৯০৯ সালেই বাবার উদ্যোগে জুনিয়র বয়েজ ইংলিশ স্কুল চালু হয়েছিল। আমার বাবা বুঝতে পেরেছিলেন ছেলেদের পড়াশুনার জন্যে হাইস্কুল দরকার। তাছাড়া একটি হাইস্কুল না হলে গ্রামের ছেলেরাও মানুষ হয়ে উঠবে না। এই চিন্তাধারায় বাবা হাইস্কুল তৈরি করলেন। শের-ই-বাংলা এ.কে ফজলুল হক এসে এই স্কুলের উদ্বোধন করেছিলেন। আমার ভাই কাঞ্চন, কিসলু ও হাবিব প্রথম ঐ স্কুল থেকে মেট্রিক পাশ করে। বাবা যতদিন বেঁচে ছিলেন, ঐ স্কুলের সেক্রেটারীর দায়িত্ব তিনিই পালন করেছিলেন। চাচাত-মামাত ভাইয়েরা এই বয়েজ স্কুলেই পড়াশুনা করত। বংশিয়ভাবে আমাদের ভাই বোনদের মধ্যে বড় চাচার ছেলে আবু ছিল সবচেয়ে বড়। তাই তার নামের সাথে আবু বড় মিয়া যোগ করা হয়েছিল।<br />
আমাদের পনের ভাই-বোনের নামের তালিকা (বক্স হবে)<br />
১। নূরজাহান বেগম টুলু<br />
২। পাঁচ মাস বয়সের মৃত এক ভাই<br />
৩। ফিরোজা বেগম<br />
৪। ফরিদা বেগম<br />
৫। আমেনা বেগম<br />
৬। হেমায়েতউদ্দীন আহমেদ কাঞ্চন<br />
৭। রওশন জাহান বেগম কুসুম<br />
৮। শওকত আরা বেগম রেণু<br />
৯। আটমাস বয়সের মৃত এক ভাই<br />
১০। মহিউদ্দীন আহমেদ রাজা<br />
১১। সুজন<br />
১২। ফেরদৌস্ আরা বেগম শেফালী<br />
১৩। কবিরউদ্দীন আহমেদ মনু<br />
১৪। তিন মাস বয়সে মারা যাওয়া বোন<br />
১৫। রওশন আক্তার বেগম বড়ি<br />
একান্নবর্তী পরিবারের প্রথম শর্তই ছিল দাদীমা সংসারে প্রধান, তার জীবীতকালে আমার বাবা চাচারা কখনোই পৃথক হননি। এমনকি খাবার পরিবেশনটাও ছিল সকলে এক সংগে বসে, সে এক দেখার মতন বিষয়, বড় ঘরের বারান্দায় চাটি পেতে দীর্ঘ লাইন। মেয়েরা খাবার পরিবেশন করত। পুরুষরা; বাবা-চাচা-চাচাত ভাইয়েরা সবাই খেয়ে গেলে মেয়েরা বসত খেতে। এ নিয়ম দেশ বিভাগের পূর্ব পর্যন্ত বলবৎ ছিল। পরবর্তিতে সব চাচাদের ছেলে পুলেতে সংসার ভরে ওঠায় বাধ্য হয়েই চাচারা পৃথক ঘর তোলেন। তবে সেক্ষেত্রেও বাজারটা কিন্তু একই নৌকায় করে সব ঘরের জন্য সমান বিতরণ ব্যবস্থা ছিল। একজনের জন্যে মাছ-অন্যজন মাংস এটা কখনোই হত না। আমাদের বাড়ির অবস্থাটা এমন যে, নদীতে জোয়ার এলে বাড়ির ভিতর হাটু জল জমা হতো, ফলে নৌকো একেবারে রান্না ঘরে যেয়ে বাজার তুলে দিতে পারতো। কাঠের ব্যবসায়ী হবার সুবাধেই হয়ত আমাদের ঘরগুলো তৈরি হয়েছিল কাঠ দিয়ে। সেগুন কাঠের ব্যবহার হয়েছিল দাদার তৈরি ঘরটিতে।<br />
সে যাকগে আবার নিজের কথায় ফিরে আসি। পঞ্চম শ্রেণীতে হাজী মোহাম্মদ মহসীন বৃত্তি লাভ করেছিলাম, আর এই সুবাদেই আমাকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হয়েছিলেন বাবা-চাচারা। বড় মামা তো এ সংবাদে মহাউৎফুল্ল। কেন না আমার লেখা পড়ার হাতে খড়ি হয়েছিল তাঁর হাতে। বড় মামাই আমাকে অ, আ, ক, খ, লেখা শিখিয়ে ছিলেন। ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত সুঠিয়াকাঠী জুনিয়র গার্লস্ স্কুলে পড়াশুনা করেছি। তারপর হঠাৎ করেই বড় মামা মোজাফফর আলী এসে বাবাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে আমাকে রংপুরে তার কাছে নিয়ে রাখতে চাইলেন। প্রথম দিকে বাবা সম্মত না হলেও, ছোট চাচা ও মোদাচ্ছের আলী চাচার উৎসাহে অবশেষে রাজী হলেন বাবা। এই প্রথম নিজ এলাকা ছেড়ে দূরে অনেক দূরে পড়তে যাবার উত্তেজনা গ্রামের সব খেলার সাথীকে রসিয়ে রসিয়ে বললাম। খেলার সাথী মেয়েদের কথা মাঝে মাঝে মনে পড়ে, কিন্তু ওদের কারো নামই এখন স্বরণ নেই। কেউ বেঁচে আছে কিনা তাও জানিনা। থাকলেও কাউকে চিনবো না এখন। তবে নাজমা নামের একজন ঐ সময় আমার খুব ঘনিষ্ট ছিল।<br />
ইতিপূর্বে দাদীমার সাথে তাঁর বাপের বাড়ি কিম্বা বোনের বাড়িতে বেড়াতে গেছি। নৌকায় করে সে সব যাত্রা, দিন রাত নৌকায় কাটানোর অভিজ্ঞতা ঐ কিশোর রয়সেই ছিল। ষ্টীমার, ট্রেন নাম শুনেই তো আকর্ষণ আরো বেড়ে গেল। যদিও গ্রামের সীমানায় নদীর তীরে দাঁড়িয়ে বহুবার স্টীমারের দুলে চলা দেখে মুগ্ধ হয়ে চেয়ে থেকেছি। কিন্তু চড়ার সুযোগ কখনো হয়নি। চড়বোই বা কি করে নদী পথে কাছাকাছি গ্রাম ছাড়া দূরে তো কোথাও যাইনি। তবে হ্যাঃ, একবার সোহাগদলের ইন্দের হাটে হিন্দুদের মেলায় গিয়েছিলাম। লুকিয়ে লুকিয়ে চড়কায় চড়েছিলাম। বাবা জানতে পেরে খুব রাগ করলেও ছোট চাচার জন্যে সে যাত্রা বেঁচে গিয়েছিলাম।<br />
আমাদের বংশীয় লোকেরা গোড়া মুসলিম হলেও পর্দা প্রথায় তেমন গুরুত্ব দিতেন না, যারফলে পর্দাটা কখনোই বিষয় হয়ে ওঠেনি। যদিও এ নিয়ে গ্রামে বেশ কানাঘুষা চলতো। তবে বাবা চাচারা কখনো আমল দিতেন না। আমার বুঝতে শেখার বয়স থেকেই দেখেছি বাবাকে গ্রামের সকলে সমীহ করে চলত। তিনি যে পথে হাঁটতেন সে পথে গ্রামবাসীরা দাঁড়িয়ে আগে তাকে যেতে দিতেন। বাড়ির ভিতরে বাহিরের পুরুষদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। কারো বেশী প্রয়োজন হলে কাচারী ঘরে অপেক্ষা করতেন। কাচারী ঘরটি মূলত বিচার কার্য পরিচালনার জন্যেই ব্যবহার হতো। নাজেমউদ্দীন আকন্ পঞ্চায়েত প্রধানের দায়িত্ব বাবার হাতে সঁপে ছিলেন বলে গ্রামের বিচার কার্য বাবাই পরিচালনা করতেন।<br />
বাবার হাতে এ দায়িত্ব তুলে দেয়ার নেপথ্যে একটি ঘটনা ছিল। একবার কোনো এক মামলার বাদী এসে নাজেমউদ্দীন আক্নের ঘরে কিছু আম দিয়ে গিয়েছিল। সব সময় আমাদের বাজার এভাবেই নৌকা করে অন্য লোকে দিয়ে যেতো বলে বাড়ির মহিলারা তা নিয়ে ভাবতো না। খেতে বসে নাজেম ব্যাপারী আম দেখে খুব অবাক হলেন, জিজ্ঞেসাবাদ করে যখন বুঝতে পারলেন এটা বাদীপক্ষ দিয়ে গেছে এবং ইতিমধ্যে এই বাড়ির ছেলেরা তা খেয়েছে শুনে তিনি খুব রেগে গেলেন এবং বাড়ির সব ছেলেদের ডেকে তখনই তিনি ছেলেদের মুখে আঙ্গুল পুরে বমি করিয়ে আম বের করে আনলেন। সেদিনই নিজে পিরোজপুর চলে যেয়ে পঞ্চায়েত প্রধান হতে ইস্তফা দিয়ে আসেন। এরপর বাবাকে ডেকে দায়িত্ব তুলে দেয়া হলো বাবার হাতে। দীর্ঘ ৫২ বছর এভাবে আমাদের বংশের লোকেরাই এ থানার পঞ্চায়েত ও প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করে।</p>
<p><strong>দুই</strong></p>
<p>১৯৩১ সালের বর্ষাকালে মামার হাত ধরে নৌকায় চড়লাম, গন্তব্য রংপুর। মামা তখন রংপুরের ডেপুটি কালেক্টর। নৌকাযোগে আমাদের গ্রাম থেকে প্রায় তিন ঘন্টার পথ কাউখালী স্টীমার ঘাটে যখন পৌঁছলাম স্টীমারটি তখন ভো ভো হুইসেল দিয়ে ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। হলুদ রংয়ের বিশাল সে জলযানটি আমার কিশোরী মনে আতংকের জন্ম দিয়েছিল। মামার হাত জড়িয়ে ধরে চড়ে বসেছিলাম যানটিতে। মামা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে স্টীমারের সব কিছু দেখিয়ে আমার ভয় কাটানোর চেষ্টা করেছিলেন। বিশাল বিশাল সব ইঞ্জিন দেখে আমি খুব অবাক হলাম। কথা কম বলা আমার স্বভাব ছিল বলেই মামাকে কোন প্রশ্ন করতাম না। নিশ্চুপ দেখে যেতাম, পড়ে শুনেছি সে যাত্রা নাকি আমি খুব উপভোগ করেছিলাম। মামার ধারণা ছিল আমি খুব কান্নাকাটি করবো, পরিচিত গ-ি বাবা-মা ভাই-বোন ছেড়ে অনেক দূরে যাচ্ছি, কান্নাকাটি করাটাই স্বাভাবিক কিন্তু স্টীমারের সাথে সাথে আমিও সব কিছুকেই নিজের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে শিখেছিলাম ঐ টুকু বয়সেই।<br />
আমি যে বছর বৃত্তি পেলাম, সে বছর বরিশালে লবন আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। মহত্মাগান্ধি তখন বরিশালে এসে কর্মিদের উৎসাহিত করেছেন, বাবা-চাচাদের মাঝেও সে ব্যস্ততা দেখেছি, সে সময় শেরে বাংলা ঘনঘন আমাদের গ্রামে এসে বাবাকে ডেকে নিয়ে যেতেন। এসব কিছুই আমি স্বাভাবিক বলেই ভাবতে শিখেছিলাম। লবন আন্দোলনের ফলে বাড়ির রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় লবন নিজেদেরই তৈরি করে নিতে হয়েছিল। আমাদের বাড়িতে নারিকেলের ডগাপুড়ে ছাই করে সে ছাই পানিতে ভিজিয়ে লবন উৎপাদন করতাম আমরা। বিদেশী কাপড় বর্জন, ভারত ছাড় শ্লোগান- এ সব ছোটবেলা থেকেই দেখে দেখে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। কিছুই বুঝতাম না তখন, জানতাম না মহত্মাগান্ধি কি, জিন্নাহ, বা শেরে বাংলা কেন? তবে আমাদের গ্রামের লোকের কাছে হক ভাই বা শেরে বাংলার নামটা ছিল যাদুমন্ত্রের মতই সমস্যা সমাধানের অবলম্বন। বলাবাহুল্য যে, এই লবন আন্দোলনের সুত্র ধরেই বাকেরগঞ্জ জেলার নাম পরিবর্তন করে বরিশাল জেলা করা হয়েছিল, বরিশল্ট থেকে বরিশাল হয়েছে বলে শুনেছিলাম।<br />
স্টীমারে করে মহাত্মগান্ধী এসেছেন, শেরে বাংলা আসছেন, ইত্যাদি শুনে শুনে আমিও বুঝি স্টীমার প্রেমিক হয়ে উঠেছিলাম, যার জন্যেই হয়ত বড় মামা স্টীমারে কাটানো দু’দিন-দু’রাতের মধ্যে আমাকে একবারও মনক্ষুন্ন দেখেন নি, কিন্তু খুলনা পৌঁছে রানাঘাট থেকে যখন সাপের পেটের মধ্যে ঢুকতে বলা হল তখন আমি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলাম। অবিকল সাপের মতই হুইস হুইস শব্দে দাঁড়িয়ে থাকা এ যানটি যে ট্রেন তা মেনে নিতে বেশ সময় লেগেছিল। ট্রেনের পেটের ভিতর শুয়ে থাকার ব্যবস্থা, টয়লেট ইত্যাদি দেখে খুব অবাক হয়েছিলাম। তখনকার দিনের কয়লা চালিত ইঞ্জিন ট্রেনের বগিগুলো টেনে নিয়ে যেত। দু’পাশে বাড়ি ঘর ফেলে রেখে লোহার চিকন পাতের উপর ছুটে চলা ট্রেনের সাথে আমার মনটাও বুঝি বারবার গ্রামের বাড়িতে ফিরে গিয়েছিল। সারাটা পথ বুঝি খুব কেঁদেছিলাম। তবে প্রতিটা ষ্টেশনেই অবাক হয়ে জানালা দিয়ে চেয়ে থাকতাম। নতুন নতুন শহরের মুখ ঐ প্রথম দেখতে শিখেছিলাম। বড় মামা ষ্টেশন এলেই নেমে যেয়ে আমার জন্যে একটা না একটা খাবার কিনে আনতেন। বললে হয়তো হাসি পাবে, আমার ধারণা ছিল এক একটি শহরের মানুষের মাঝে দৃশ্যপটের মাঝে অনেক পরিবর্তন দেখা যাবে কিন্তু সবগুলো ষ্টেশনই আমার কাছে একই রকম মনে হয়েছিল। কখনো নদীর পাড় ধরে, কখনো নদীর উপর দিয়ে ছুটে চলা ট্রেনটি যেন ঘুরে ফিরে একই ষ্টেশনে এসে দাঁড়িয়েছিল, আমার সেটাই মনে হচ্ছিল। খুব সম্ভব দশ বারোটি ষ্টেশনে দাঁড়িয়ে ছিল ট্রেন। দু-দিন লেগেছিল পার্বতীপুর নামের ষ্টেশনে পৌঁছতে। পার্বতীপুর থেকে আবার ট্রেনে চড়ে রংপুর পৌঁছে ছিলাম দুপুরের দিকে।</p>
<p>তিন</p>
<p>কালি ঘুটি কালি ঘুটি<br />
আল্লাহর নাম টান<br />
যার দোয়াতে ভাল কালি<br />
আমর দোয়াতে আন”<br />
হাতের লেখা একটু খারাপ হলেই আমরা বাচ্চারা এ ধরণের শ্লোক আউড়াতাম। বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তৈরি কলম কালি পানিতে ডুবিয়ে ডুবিয়ে লিখতে হতো। কালি পানি রাখা বোতলটিকেই দোয়াত বলা হতো। রংপুরে বড় মামার ছেলে মেয়েদের সাথে একত্রে পড়াশুনার ফাঁকে এ ধরনের শ্লোকের ব্যবহার ছিল অজ¯্রবার। আজকের মতো তখনকার সময়ে কোনো বলপেন, ফাউন্টেনপেন ছিলো না। নিজেদেরকেই বিভিন্ন উপায়ে কালি বানিয়ে নিতে হতো। বড় মামার পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ে মেয়েরা পড়ত রংপুর গভর্মেন্ট গার্লস্ স্কুলে, ঐ স্কুলেই সপ্তম শ্রেণীতে আমাকে ভর্তি করে দেয়া হলো।<br />
রংপুর শহরটি বেশ বড়। শ্যামাসুন্দরী নামের একটি খাল শহরটিকে ঠিক মাঝখান দিয়ে বিভক্ত করেছে। একদিকের নদী থেকে খালটির উৎপত্তি হয়ে বিপরীত দিকে বহমান তিস্তার সাথে গিয়ে মিশে ছিল। এর ফলে, শহরের ময়লা-আবর্জনা ইত্যাদি জোয়ার ভাটার সাথে শহর থেকে মুছে যেত। শ্যামাসুন্দরী নামকরণের পিছনে ছিলো এ খাল নির্মাতার অবদান। কেননা, তৎকালীন কারজীরহাম পরগুনাধীন ডিমলার রাজবধূ ছিলেন চৌধুরাণী শ্যামাসুন্দরী দেবী। তারই সন্তান ছিলেন রাজা জানকি বল্লব সেন। ১৮৫২ খ্রীঃ হঠাৎ করে ডায়রিয়া জাতীয় রোগে আক্রান্ত হয়ে শ্যামাসুন্দরী মারা গেলেন। রাজা বল্লব সেন তখন শহরের সমস্ত রোগ জীবাণু দূর করার জন্য এই খাল খনন করান। আমাদের গার্লস স্কুলের ঠিক পিছন দিয়েই চলে গেছে এই শ্যামাসুন্দরী খালের একটি অংশ। এখনকার নিউ ইঞ্জিনিয়ারিং পাড়াতেই সম্ভবত আমার ফেলে আসা স্কুলটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে। আমরা এখানে প্রথমদিকে ছিলাম কেরানী পাড়ায়। পরবর্তীতে মুন্সীপাড়া, পালপাড়া ও সেনপাড়ার ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেছি। কাছাকাছি লাগোয়া এই পাড়াগুলোর শুধু মাত্র মুন্সি পাড়াতেই তখন মুসলিমদের সংখ্যা গরিষ্ঠতা ছিল। অন্য পাড়াগুলো ছিল হিন্দু প্রধান। গার্লস স্কুলের ছাত্রীদের মধ্যে তখন তিন-চার জনের বেশী মুসলীম মেয়ে ছিল না। আমাদের সময় খুব সম্ভবত শেফালী ঘোষ ছিলেন রংপুর গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। তিনি খুব কড়া টিচার ছিলেন। তার ক্লাশে সব মেয়েকেই পড়া তৈরি করে আসতে হতো। গার্লস স্কুলে আমার সহপাঠী ছিল রেজিনা বেগম নামের একটি মেয়ে। পরে শুনেছি ও ছিল জাহানারা ইমামের স্বামী শফি ইমামের ছোট বোন। টিবি রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিল রেজিনা। একই সময় আমার ইমিডিয়েট বড় বোন ফরিদা মারা গিয়েছিল বলে ওর কথা আজও মনে আছে।<br />
<div id="attachment_4435" style="width: 282px" class="wp-caption alignleft"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/08/Noor-1.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-4435" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/08/Noor-1.jpg" alt="" width="272" height="185" class="size-full wp-image-4435" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/08/Noor-1.jpg 272w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/08/Noor-1-190x130.jpg 190w" sizes="auto, (max-width: 272px) 100vw, 272px" /></a><p id="caption-attachment-4435" class="wp-caption-text">স্বপরিবারে ‍আসাদৃজ্জামান নূর</p></div>রংপুরে বসবাসের সময়টাকে সম্পূর্ণ তুলে ধরা আমার পক্ষে হয়তো সম্ভব নয়। রংপুর অঞ্চলের একটি ব্যতিক্রম ছিল এই যে, এখানকার মাটি খুড়লেই শুধু বালি আর বালি, খুব সম্ভব এক কি দু’হাত মাটি খুড়লেই এখানে বালি উঠে আসে। যারফলে, আমাদের রান্নার জন্য আলগা মাটির চুলো ব্যবহার করতে হতো। বড় বড় মাটির হাড়িতে তখন রান্না হতো। শুধু মাত্র বিয়ের উৎসবের জন্যে বিশাল মাপের পিতলের হাড়ি ব্যবহার হতো। মাটির হাড়ির রান্নায় একটা ভয় ছিলো, তাপ পরিমাণের চেয়ে বেশী হলে হাড়ি ফেটে যেত। কুমাররা মাটির তৈরি হাড়ি-পাতিল নিয়ে প্রতি সপ্তাহে-ই একবার ঘুরে যেত শহরে। যদিও মামা-মামীর ব্যবহারের হাড়ি-পাতিল বেশীর ভাগই সুঠিয়াকাঠীর কুমারদেরই তৈরি ছিল। সে যাকগে, ঐ বালি রহস্য সম্পর্কে পরে শুনেছিলাম- ১৭৫০ কিম্বা ৫৬ সালেও রংপুর ছিলো খুব নীচু এলাকা। ঐ সময় হিমালয় থেকে পলিবাহী এক ¯্রােত নেমে আসে এবং রংপুর শহরে বালুয়ারীর বন্যা বইয়ে দেয়। প্রাচীন রংপুর নগরী ঐ সময় চাঁপা পরে যায় বালুর নীচে। নীচু অঞ্চল-উঁচু হয়। ধীরে ধীরে সেই বালির উপর আস্তর জমে গড়ে ওঠে বর্তমানের রংপুর।<br />
মামাতো ভাই-বোনদের সাথে খেলা-ধূলা তো করতামই, আবার বাড়ির জন্য মন খারাপ করে বসেও থাকতাম। পুর্বেই বলেছি কথা কম বলা আমার স্বভাবজাত। বিষয়টি মামাতো বোন-ভাইয়েরাও মেনে নিয়েছিল। বাহিরে খুব একটা বেড়াতে যেতাম না। ওদের চাঁপে কখনো-সখনো তিস্তার পাড়ে গিয়েছি। অন্য মুসলীম মেয়েরা তখন বোরখা পরেই আসতো। ওখানে বোরখা পরাটা বাধ্যতামুলক হলেও মামার উৎসাহে আমি এবং মামাতো বোনেরা বোরখার ব্যবহার খুব একটা করতাম না। তবে হ্যাঁ মাথার কাপড়টা আঁট-সাঁট করে বেঁধে রাখতাম। এদিক দিয়ে হিন্দু মেয়েদের খোলা-মেলা পোষাক পরিচ্ছদ আমার দৃষ্টি কাঁড়তো। ওদেরকে খুব ভাগ্যবান মনে হতো। আমরা যেহেতু বেশীর ভাগ সময় হিন্দুপাড়ার ভেতর বসবাস করেছি তাই কীর্তনপালা, ভোজালী, আলকাপ, দূর্গাউৎসব জাতিয় অনুষ্ঠান খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। বড় মামা অবশ্য আমার জন্যে অনেক বড় বড় লেখকের বই নিয়ে আসতেন। উপন্যাস পড়তে আমার খুবই ভাল লাগতো।</p>
<p>চার</p>
<p>কলিংবেল বাজছে। এবার বুঝি নূর এলো। আজ ক’দিন ধরে ওর শরীর আরো খারাপ হয় পড়েছে, ব্যাকবোনের ব্যাথাটা বেড়েছে। নূর যে বুড়ো হয়ে যাচ্ছে তা ওর মন মানতে পারছে না। আমি বেশ বুঝি, এ বছর ওর বয়স ৫৪ পেরিয়ে ৫৫ তে পরবে। অথচ ওর ব্যস্ততা ছুটোছুটি এখনো সেই তরুণ বেলার মতোই। এতোদিন শুধু অভিনয় আর অফিস নিয়ে ব্যস্ত ছিল। এখন আবার ব্যস্ত রাজনীতি নিয়ে। ওর বাবাও ছিল এমন ধারার। তার কথা মনে আসতেই একটা চাঁপা ক্ষোভ জেগে ওঠে মনে, কী চমৎকার হাসি-খুশি মানুষটি আমাকে একা রেখে নির্দ্বীধায় চলে গেলেন।<br />
এ যুগে তোমরা যারা এ লেখা পড়ছো, তাদের কাছে হয়তো খুব অবাক লাগছে &#8211; স্বামীকে আপনি সম্মানে কথা বলছি বলে। আসলে তখনকার দিনের নিয়মই ছিল এমন। আমর মা, বাবাকে আপনি সম্বোধন করতেন। যারা বলে, আপনি সম্বধোন অনেক দূরের। তারা আসলে ভুল বলেন। বরং আমি দেখেছি, আমার বাবা-মায়ের মধ্যে যে ভালবাসা, একে অপরের প্রতি যে আন্তরিকতা ও শ্রদ্ধাবোধ ছিলো তা বর্তমানের অনেক “তুমি” সম্বোধনের পরিবারেই নেই। শুনেছি এটা ছিলো আমাদের পারিবারিক রেওয়াজ। আমার দাদীতো প্রচন্ড দাপটের সাথে তাঁর সংসারকে নিয়ন্ত্রণ করতেন। দাদা মারা গেছেন আজ ১০০ বছর পার হয়ে গেছে। ১৮০০ শতকের শেষ দিকে খুব সম্বব ১৮৯০ কিংবা ৯৬ এর কোন এক সোমবারে দাদা মারা গেলেন। দাদীমার তীক্ষèবুদ্ধি আর কৌশলে পরিবারটি এমনভাবে নিয়ন্ত্রিত হল যে, আজ পর্যন্ত সম্পত্তির ভাগাভাগি কিম্বা জুদা (ভিন্ন) শব্দটির সাথে আমাদের বংশের কেউ পরিচিত নয়। এমন কি চাচাত-ফুপাত ও সৎ ভাইদেরকেও আলাদা করার কোন উপায় নেই। এটা ছিল আমাদের পারিবারিক রীতি। আমার যখন সাত বছর বয়স হলো, নামাজ পড়া শিখলাম, তখন বড় চাচী এবং মাকে দেখেছি সংসারের কাজ করতেন দাদীর পরামর্শে কিন্তু শতকর্মের মাঝেও স্বামীর জন্যে অপেক্ষা, স্বামীর সেবায় নিজেকে ধন্য করা ছিল তাদের ব্রত। না এ ব্রত বেহেশ্ত পাবার লোভে নয়। এটা ভালবাসা, গভীর ভালবাসা। বাবা আমার মাকে তুমি সম্বোধন করতেন, বাহির থেকে ফিরে সালাম দিতেন। কোন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করতেন। বাড়ির সম্মুখে বিশাল কাচারী ঘরটি চাচাত দাদা নাজিম উদ্দীন তৈরি করে গিয়েছিলেন। ওখানে বসেই পঞ্চায়েত প্রধানের দায়িত্ব পালন করতেন বাবা।<br />
বাবা হেলালউদ্দীন সাহেবকে সবাই ডাকতেন মেজ মিঞা বলে। প্রচন্ড রাশভারি লোক ছিলেন তিনি। পথ দিয়ে যখন চলতেন সম্মুখের লোকেরা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে যেতো। যতক্ষণ না বাবা তাদের পার হয়ে কোন আঢ়ালে চলে না যেতেন ততক্ষণ কেউ নড়ত না। না ভয়ে নয়, কারণ ভয় পাবার মত কোন আচরণ বাবা &#8211; চাচারা কোন মানুষের সাথে কখনোই করেন নি বরং ব্যক্তিত্ব আর ভালবাসা দিয়ে এমনভাবে জয় করেছেন যে, একটানা ৫২ বছর সুঠিয়াকাঠী ও তার আশে-পাশের গ্রামের বিচারকার্য পরিচালনা করেছেন আমারই বাবা-চাচারা। ফলে, গ্রাম বাসীদের শ্রদ্ধা-সম্মান ও ভালবাসা তার আদায় করে নিয়েছিলেন। এমনকি বর্তমানেও ওখানকার চেয়ারম্যান হিসেবে ছোট চাচার ছেলে জাহিদের বেশ নাম ডাক রয়েছে।<br />
বাড়ির সাথে আমার যোগাযোগ স্কুল জীবনের পর খুব কমে গিয়েছিল। এমনিতেই একটু অমিশুক টাইপের মানুষ ছিলাম আমি। কথা-বার্তা বলতাম না বলে অনেকে হয়তো দেমাগী ভাবতো কিন্তু এ নিয়ে আমার মধ্যে কোন হেজিট্রেশন ছিল না। আমার সমস্ত চিন্তা ভাবনা ক্রমশ রংপুর শহরকে ঘিরেই বেড়ে উঠছিল। যদিও স্কুল ও বাসা ছাড়া আমার আর কোন গন্তব্য ছিলো না। আমাদের সময়ে স্কুলে নিয়মিত এসেম্বলী  হতো। তখনকার সময়ে তো আর সোনার বাংলা জাতীয় সংগীত ছিলো না, আমরা গাইতামÑ<br />
“জনগণ মন<br />
অধিনায়ক মম- জয় হে<br />
ভারত ভাগ্য বিধাতা-<br />
জয় হে- জয় হে”-<br />
আমরা সমবেত কণ্ঠে এ গানটি গাইতাম। কখনো কখনো বাসায় বসে মামাতো ভাই-বোনদের সাথে কণ্ঠ মিলাতাম। একটা অন্যরকম অনুভূতি ছিলো এ গানটিতে। তখন কিন্তু জানতাম না এটি রবীন্দ্র সংগীত। বড় মামার পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ে। সকলের সাথেই আমার সম্পর্ক ছিল একই রকম। ওরা সবাই আমাকে সাহায্য করত। আমার ভাই হেমায়েতউদ্দীন কাঞ্চন বিয়ে করেছিল বড় মামারই বড় মেয়ে জোস্নাকে। বড় মামার পাঁচ ছেলেদের মধ্যে সবার বড় সমশের আলী পরবর্তীতে বরিশালের নামকরা এ্যাডভোকেট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। দ্বিতীয় ছেলে আশফাক আলী রেলওয়ের প্রকৌশলী। একছেলে পটল, সে ডেটালারী সার্জন, আরেকজন লাল, আর্ট স্কুল থেকে পাশ করে আর্টিস্ট হিসেবে বেশ নাম করেছিল লাল এবং মেয়ে পেয়ারা মাইজদী কলেজের প্রফেসর হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করছিল। বর্তমানে তারা কেউই বেঁচে নেই। আসলে বিয়ের পরে নিজের সংসার চাকুরী নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরার ফলে নিজ জেলা থেকে দূরে নীলফামারীতে বসবাস করাতে আত্মীয় স্বজনদের সাথে দেখা কম হতো। তারাও কর্মস্থলে এখানে ওখানে বাস করতো বলে, দেশে তাদের খুব কমই আসা হতো। তবে কে কোথায় আছে সে খবর ঠিকই পেতাম।<br />
রংপুরের স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে যখন পড়ছি ঠিক তখন-ই বড় বোনের বিয়ের সংবাদ পেলাম। রংপুর থেকে নৌকায় করে পার্বতীপুর সেখান থেকে ট্রেনে খুলনা এবং খুলনা থেকে রকেটে কাউখালি তারপর নৌকায় বাড়িতে। মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে নূরজাহানের বিয়ে হল গোপালপুরের কাজী বাড়ির ছেলে আব্দুর রউফের সঙ্গে। ঐ সময় উর্দূ স্কুল থেকে পঞ্চম ক্লাস পাশ করায় কলকাতা গেজেটে বড় বোনের নাম ছাপা হয়েছিল। যে নাম দেখে ছেলে পক্ষ সম্বন্ধ নিয়ে আসেন। ছেলে পক্ষ যখন কনে দেখতে এলো, তখন আমাদের বাড়ির মেয়েদের বিশেষ করে আমাকে মুখে মুখে ইংরাজী বলতে দেখে ওদের ধারণাই জন্মে গিয়েছিল যে এ বাড়ির প্রতিটি ছেলে মেয়ে উচ্চশিক্ষিত। বিয়ে বাড়ির তখনকার রেওয়াজ অনুযায়ী কনের বাড়িতে ধুম পড়ে গেল, নতুন পুকুর কাটা হলো। ঐ সময়ে কাচারী ঘরের সম্মুখের পুকুরটি বুজিয়ে দেয়া হলো। খুব সম্ভবত ১৯৩১ সনের শেষের দিকের কথা এটি।<br />
পালকী চড়ে নবদম্পতিকে নৌকায় তুলে দেয়া হলো। আমাদের বড় বজড়া নৌকায় করেই পৌঁছে দেয়া হলো জামাই বাবুকে তার বাড়িতে। পরবর্তীতে এই জামাই বাবুর কাছেই ইংরাজী শিখেছিলাম আমি। তখনকার নিয়মে কনের সাথে আত্মীয়-স্বজন কেউ যেত না, শুধু একজন দাসীকে সঙ্গে দেয়া হতো। বিয়ে বাড়ির আনন্দ উৎসব ও ছিল ভিন্ন রকম। ভিতর বাড়িতে মেয়েদের মধ্যে মেহেদী-হলুদ বাটার ধুম পরে যেত। বাহিরে পুরুষরা মাছ ধরার পাল্লা দিতো। সবচেয়ে বড় মাছটি যে ধরতো তাকে পুরস্কার দেয়া হতো। পুরস্কারটি ছিল আরো ভিন্ন রকম, বরের পাশে বসে মাছের মাথাটি ভাঙ্গার সুযোগ তাকেই দেয়া হতো। নাজেম দাদুর তৈরি কাচারী ঘরটি বাবা পুনঃনির্মাণ করলেন ঐ সময়। পুকুর থেকে বড় মাছটি ধরে বিয়ে বাড়িতে রান্নার রেওয়াজ তখন। অনেক বড় বড় রুই, কাতল আর বোয়াল ছিল খাবারের প্রধান আকর্ষণ। সবশেষে বাতাসা আর দধি না হলে গ্রামের মানুষের তৃপ্তি হতো না। ছানার তৈরি দানাদার এবং সন্দেশ লুঙ্গির কোঁচায় কিম্বা শাড়ীর আঁচলে পেঁচিয়ে বিয়ে বাড়ির খাবারের গল্প করতে করতে পথ দিয়ে হেঁটে যেত গ্রামবাসী। মুখে পুড়ত বাতাসা, সন্দেশ। এটাই ছিল তখনকার রীতি। আরেকটা বিষয় খুব উল্ল্যেখযোগ্য যে, আমাদের সময় কিন্তু কনে পক্ষকেই যৌতুক দিয়ে বরের পক্ষ কনেকে নিয়ে যেত। যা এখনকার দিনে তোমরা কল্পনাই করতে পারবেনা।</p>
<p>পাঁচ</p>
<p>রংপুরের স্কুলে নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছিলাম। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীতে যখন পড়ছি তখন আমরা মুন্সিপাড়া নামক স্থানে বাড়ি ভাড়া করে থাকতাম। শহরের প্রধান বাহন বলতে অভিজাতদের জন্যে ঘোড়ার গাড়ি আর অন্যরা পায়ে হাঁটা ছাড়া গতি ছিলনা। মাঝে মধ্যে গরুর গাড়ীও চলতো তবে, তা মালামাল বহনের জন্য। আমি এবং মামাতো বোনরা ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে স্কুলে যেতাম। নবম শ্রেণীতে পড়ার সময়টায় আমরা হিন্দুপাড়ায় বাসা ভাড়া করি। গোমস্তা পাড়াতেও ছিলাম কিছুদিন। এই সময়টায় বাড়ির সাথে যোগাযোগ একেবারেই কমে গিয়েছিল। ততদিনে আমার অন্য ভাইবোনরা জন্ম নিয়ে বেড়ে উঠছিলো। গ্রীষ্মের বন্দে গ্রামে যেয়ে ওদের সাথে খেলা করতাম। বাড়িতে আমি হয়ে গেলাম অতিথির মতোন। পড়াশুনায় খুব ভালো ছিলাম বলেই হয়তো বাড়ির অন্যদের বিশেষ দৃষ্টি ছিল আমার উপর। ছোট চাচা আতাহারউদ্দীন আহমেদ তখন বিয়ে করেছেন। বরিশালের ফকির বাড়ির মেয়ে হাজেরা বেগম শিক্ষিত মেয়ে ছিলেন। বাড়িতে গেলে তার সাথেই আমার সময় কাটতো বেশী। শিক্ষিত বলতে পাঁচ ক্লাশ পর্যন্ত পড়েছিলেন ছোট চাচী। তখনকার দিনে পাঁচ ক্লাশ মানে মেয়েদের জন্য বিশাল পড়া। ছোট চাচী আমার তুলনায় বছর দু’একের বড় হবেন। বরিশালে তখন আহঞ্জী বা আকন্ বংশ এবং ফকির বংশের বেশ নাম ডাক ছিল। এ দুই বংশ প্রধানরা তাদের সন্তানদের ধর্মীয় শাসনে সুশিক্ষিত করে তুলতে ব্যস্ত ছিলেন বলে আশে পাশের অন্য বংশীয়রা তাদের শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন। ধনী ও সম্ভ্রান্তদের দৃষ্টি ছিল তাদের ছেলে-মেয়েদের উপর। ছোট চাচার সাথে ছোট চাচীর বিয়েটা তাই অতি সহজেই সম্ভব হয়েছিল। কাঞ্চন, আমি এবং রাজা সর্বক্ষণ ছোটচাচীকে ঘীরে থাকতাম। তার আদর &#8211; প্রশ্রয়ে আমাদের একান্ত প্রয়োজনীয় বস্তুটির জন্যে আবদারও ছিল ছোটচাচীর কাছে। আগে আমি যে কাজগুলো করতাম, সে কাজগুলোর দায় চেঁপেছে এখন কুসুম ও রেনুর উপর। রেনুর ছোট আরও চার ভাইবোন ছিল আমার। মহিউদ্দিন আহমেদ রাজার বয়স তখন ৭ বছর হবে। ওর ছোট কবিরউদ্দিন আহমেদ মনু নামের ভাইটি। সবার ছোট রওশন আক্তার বুড়ি যখন জন্মগ্রহণ করেছে আমার তখন মেট্রিকুলেশন পরীক্ষা। পিরোজপুর গার্লস স্কুলে আমার সিট পড়েছিল।<br />
ডেপুটি কালেক্টর বড় মামা হঠাৎ ঠাকুরগাঁও বদলী হয়ে গেলেন। আমার তখন মাত্রই দশম শ্রেণীর ক্লাশ শুরু হয়েছিল। অনেকটা বাধ্য হয়েই গ্রামে ফিরে এলাম। অল্পদিন পরেই ছোট মামা আলতাফ আলী এসে আমাকে তাঁর কাছে নিয়ে গেলেন। তিনি তখন কলকাতায় বাসা ভাড়া করে থাকতেন। ছোট মামা আমাকে আউটার সার্কুলার রোডের কলকাতা ব্রাহ্মণ স্কুলে ভর্তি করে দিলেন। ১৯৩৯ সালে মোট্রিকুলেশন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলাম এই ব্রাহ্মণ গার্লস স্কুল থেকে। বেগম রোকেয়া সাখাওয়াৎ এ স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তখনকার দিনের নিয়মে বিশেষ ব্যবস্থায় মেয়েরা যার যার এলাকা বা বাড়ির নিকটস্থ স্কুলে সেন্টার চাইতে পারতো। আমার অবিভাবকরাও তাই চেয়েছিলেন। সে জন্যেই আমি পিরোজপুর থেকে মেট্রিক দিতে পেরেছিলাম। ঐ সময় আমাদের বাড়ির চাচাত-মামাত ভাই-বোনরাও পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আমার বোনেরাও প্রত্যেকেই স্কুলে যেত। বাড়ির লোক সংখ্যা এতো বেড়ে গিয়েছিল যে খেতে বসলে পরিবেশনরত মহিলারা হাঁপিয়ে উঠতেন। কিন্তু কোনো গোলমাল বা ঝগড়া-ঝাটি কখনোই হতো না।<br />
আমার বড় চাচা আদিলউদ্দীন আহমেদের তখন চার ছেলে দুই মেয়ে ছিল। তিনি কৌড়িখারা গ্রামের মিয়া বাড়িতে বিয়ে করেছিলেন। তবে বিয়ের কিছুদিন পর যখন দু’ছেলে আবু ও কিসলু জন্ম গ্রহণ করেছে তখন তার পরিবারের এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছিল। পরিবার বড় হবার সাথে সাথেই আমাদের বাড়িতে ঘরের সংখ্যা বাড়ছিল। বড় চাচা ঘর তুলেছিলেন কাচারী সংলগ্ন পূর্ব পাশে। এখানে পূর্বেও আমার দাদাদের কেউ ঘর তুলেছিলেন। শুনেছি এক রাতে কোন এক বুড়ি নাকি সাত কলসি স্বর্ণ মোহর নিয়ে ঐ দাদার ঘরে এনে তুলেছিলেন আর বাড়ির মহিলাদেরকে তা দিয়ে বলেছিলেন, “নে ধর, মনসার ধন তোদের বংশের জন্যে নিয়ে এলাম। আমাকে এখান থেকে অল্প কিছু দে”। দাদা তখন ঘরে ছিলেন না। কপালে ছিলো না বলেই হয়ত বাড়ির মহিলারা তাদের গাঁয়ের সব স্বর্ণলংকার খুলে বুড়িকে দিতে চাইলো তবু ঐ ঘটি থেকে দিলো না। আর দিলো না বলেই নাকি সব কলসি সাপে পূর্ণ হয়ে গড়িয়ে পাশের-ই একটি ডোবায় পড়ে গেল। ভয়ে আতংকে কেউ আর ঐ ডোবায় নামে না। এদিকে বুড়ির অভিশাপে বংশের একজন করে যুবক-যুবতী আজো পাগলামি রোগে ভুগছে। ঐ দাদার বংশ এভাবেই নির্বংশ হয়ে গিয়েছিলো। আদিলউদ্দীন চাচা এ ঘটনা জেনেও ঐ ঘরটি পুনঃনির্মাণ করেছিলেন এবং ওঘরেই সংসার পেতে ছিলেন। কিছুদিন যেতে না যেতেই চাচা-চাচীদের মাঝে আতংক দেখা দিল। ঘরের এখানে ওখানে সাপ আর সাপ। রাতে ঘুমাতে গেলে বিছানায় সাপ দেখেন তারা। পর পর দু’টি সন্তান জন্ম নিয়েই মারা গেল। এবার ভয় পেলেন বড় চাচা। নতুন বাড়িটি করার তিন মাসের মধ্যে নিজের বাড়ি ছেড়ে দিয়ে শশুরবাড়ি বরিশালে গিয়ে আশ্রয় নেন তিনি। আজ পর্যন্ত তার বংশধররা সেভাবেই বরিশাল শহরে আছে। কিসলু, চারু, মালেক জীবিত আছে এখনো। নেই শুধু আবু বড় মিয়া। শুনেছি কিসলুর শারীরিক অবস্থাও ভাল নেই।<br />
আজহারউদ্দীন আহমেদ আমার সেজ চাচা মারা যাবার আগে তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। ছেলেটি এখন বাগেরহাটে সেটেল করেছে। নোয়া (৪র্থ) চাচা সফিউদ্দীন আহমেদ এর এক ছেলে ডাঃ হাবিবুর রহমান ও এক মেয়ে মেরী। বর্তমানে মেরীই শুধু বেঁচে আছে।<br />
কফিলউদ্দীন আহমেদ চাচার সাত ছেলে পাঁচ মেয়ে। বর্তমানে সবাই বেঁচে আছে ওরা। বাদশার ছেলে মেয়েরাও এখন অনেক বড় হয়েছে। আর ছোট চাচা আতাহারউদ্দীন এর ছয় ছেলে চার মেয়ে। শেষপর্যন্ত এদের সাথেই দীর্ঘদিন যোগাযোগ ছিলো। এখনো অল্প বিস্তর যোগাযোগ আছে সকলের সাথেই। দুলু, তৌহিদ-জাহিদ ও খালিদ ওরা এখনো পারিবারিক ঐতিহ্য আঁকড়ে পড়ে আছে সুঠিয়াকাঠী গ্রামে। কাঠের ব্যবসা নিয়েই ওদের জীবীকা। শুনেছি দুলুর এক ছেলে এক মেয়ে নাকি পাগলামি রোগে আক্রান্ত। গ্রামবাসীরা বলে এটা সেই অভিশাপের ফল। আমি বলি পুষ্টিহীনতা বা ঐ জাতীয় কোন রোগে আক্রান্ত ওরা। জাহিদ বিয়ে করেছে চাচাতো বোন ফেন্সিকে। ফেন্সির ভাল নামটা যে কি এখন আর মনে নেই। ওদের ঘরেও দুই ছেলে মেয়ে আশেক ও সুপ্রীতি।<br />
তোমাদের নিশ্চয়ই মনে হচ্ছে যে আমাদের বংশে গোড়া থেকে নিজেদের মধ্যেই বিয়ে করার প্রবণতা বেশী। আসলেও তাই। আমার ভাইয়েরাও নিজেদের মধ্যেই বিয়ে করেছে। শুধু আমি এবং আমার বোনরাই এই প্রবণতার বাহিরে ছিলাম। আমার বোনদের কিন্তু তৎকালীন পিরোজপুর মহাকুমার ভিতরেই বিয়ে দেয়া হয়েছিল। আমি কি করে অতদূরে ছিটকে পড়লাম সে প্রশ্ন অনেকেরই। সে কথায় একটু পরে আসছি। তবে হ্যাঁ, ভাললাগা বা ভালবাসার প্রতি শ্রদ্ধাটা বরাবরই ছিলো। যেহেতু জানি নিজেদের আত্মীয়দের মাঝে ওদের এইযে বিয়ে করা এর পিছনে ভালবাসার টানই ছিল প্রধান দায়ী। যার জন্যে কাঞ্চন কিংবা রাজার বিয়েটা মেনে না নিয়ে উপায় ছিলো না। রাজা বিয়ে করেছিল ছোট চাচার মেয়ে খালেদা খানম বীণাকে। ঠিক তেমনি আজ আমার মেয়ে ফোয়ারার বিয়েটাও মেনে নিতে হয়েছে। খোলামেলা ভাবে সবার কথাই খুব লিখতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু ধৈর্য্যে কুলোচ্ছে না। আসলে আরো আগে লেখা শুরু করা উচিৎ ছিল। এখন তো বেশীক্ষণ বসে থাকতেও পারি না। সবকিছু মনেও রাখতে পারিনা, তাই যখন যেটা মনে পড়ছে খাপছাড়া ভাবে সেটাই লিখে যাচ্ছি। আরিফ তুমি যতটা পারো মিলিয়ে নিও।<br />
আমাদের বাড়ি থেকে নানা বাড়ি খুব দূরে ছিলো না। পরীক্ষা শেষের সময়টা তাই গ্রামে বসেই কাটালাম। আমার মা-খালারা তিন বোন ও পাঁচ ভাই ছিলেন। মা ছিলেন বোনদের মধ্যে বড়। আমাদের বাড়ির সবচেয়ে নিকটতম বাড়িটি হচ্ছে নানা বাড়ি। শুনেছি নানা হাজী দলিলউদ্দীন সাহেবেরও কাঠের বড় ব্যবসা ছিলো। তিনি ছিলেন আমার দাদার চাচাতো ভাই হাজী হাজী নাজেমউদ্দীন ব্যাপারীর খুব ঘনিষ্ট বন্ধু। বাবা চাকুরী করতেন নাজেমউদ্দীন  ব্যাপারীর ওখানে। সে সুত্রে হাজী দলিলউদ্দীন সাহেবের সংঙ্গে বাবার পরিচয়। পরবর্তীতে বাবার ব্যাবসায়িক বিষয় বুদ্ধিতে মুগ্ধ হয়ে আমার মাকে বাবার হাতে তুলে দিয়ে দুটি বড় ব্যবসাও বাবাকে লিখে দেন নানা। বাবার অবদানেই আমাদের বংশীয় ঐতিহ্যের শ্রীবৃদ্ধি ঘটে। চাচারা সবাই ছিলেন বাবার অনুগত। তবে, বাবা কিন্তু বড় চাচা আর দাদীর পরামর্শ ছাড়া কিছইু করতেন না। আমার পাঁচ মামাদের কেউই কাঠ ব্যাবসায়ে আগ্রহী ছিলেন না। বড় মামা মোজাফফর আলী তো ছিলেন ডেপুটি কালেক্টর। তিনি বিয়ে করেছিলেন নাজেম ব্যাপারীর বড় মেয়ে। মেজ মামা আমজাদ আলী কলকাতায় চাকুরী করতেন। সেজ মামা মোবারক আলী ছিলেন কলকাতা রাইটার্স বিল্ডিং এর চাকুরে। চার নম্বর মামা তৈয়ব আলী ও ছোট মামা আলতাফ আলী কলেজ জীবনে আমার তত্ত্বাবোধায়ক ছিলেন। কলকাতাতেই থাকতেন তারা। ছোট মামা ছিলেন ডেনালারী ডিপার্টমেন্টের ডাইরেক্টর। আজ অনেক দিন হয় মামা মারা গেছেন। মামী তার ছেলেদের নিয়ে ওখানেই আছেন।</p>
<p>ছয়</p>
<p>পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে এখনকার মতো তখনও তিন-চার মাস দেরী হতো। আমাদের পারিবারিক নিয়মে ততোদিনে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছিলো। চাচারা সবাই ভিন্ন ভিন্ন ঘর তুলেছেন। সব ঘরেই চাচী-চাচাত ভাই-বোন। ওদের নিয়ে বেশ সময় কেটে যেত। মাঝে মধ্যেই আমরা মেয়েরা দল বেধে বজড়া নৌকায় ঘুরে বেড়াতাম। বেশীর ভাগ সময়টায় সন্ধ্যা নদী পাড়ি দিয়ে চলে যেতাম আটঘর কুড়িয়ানার পেয়ারা বাগানে। কখনো আবার কেরাম খেলার পাশাপাশি গ্রামোফোন রেকর্ডে আব্বাসউদ্দীনের ও নজরুল ইসলামের গজল শুনতাম। গ্রামোফোন নিয়ে তখন একজন লোক যাকে আমরা কলের গানওয়ালা বলে ডাকতাম, সে বাড়ি বাড়ি ঘুরে ধান বা চালের বিনিময়ে গ্রামবাসীদের গান শোনাতো। আমাদের গান শোনার আগ্রহ দেখে ছোট চাচা ও ছোট মামা যুক্তি করে একদিন রেডিও কিনে ফেললেন। আর যায় কোথায়! এ নিয়ে গ্রামে তুমুল কানাঘুষা শুরু হয়ে গেল। বাবাতো রেগেই আগুন, তার উপর আবার শরছিনার পীর সাহেবের কাছেও নালিশ গেল। শরছিনার পীর নেছারউদ্দীন সাহেব এসব বিষয়ে খুব কড়া ছিলেন। যে বাড়িতে নামাজ রোজার একটু কামাই বা অনিয়ম সে বাড়ির কাছ দিয়ে তিনি হাঁটতেন না। আমাদের পরিবারে মেয়েদের মধ্যে পর্দার চলন ছিলো না বলে তিনি কখনো আমাদের বাড়ির পানিও স্পর্শ করতেন না। তিনি পালকী চড়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াতেন, ইস্লামের দাওয়াত দিতেন এবং দরিদ্র অসুস্থ মানুষের সেবা করতেন। ছোট চাচার রেডিও কেনার সংবাদ তার কানে পৌঁছা মাত্র তিনি বাবাকে ডেকে পাঠালেন। এরপর কি ঘটেছিল বলতে পারবো না, তবে ছোট চাচা বাবার ভয়ে চারদিন ঘরে আসেন নাই। আমার পরীক্ষার ফল যেদিন বের হলো সেদিন কলকাতা থেকে কাঞ্চন ছুটে এসেছে। ও আমার রেজাল্ট জানতে আগেই কলকাতা গিয়েছিলো। আমি প্রথম বিভাগে পাশ করেছি শুনে বাবা চাচাদের মধ্যে সেকী উৎসব। বাড়ির সব ছেলে মেয়েরা খুব হল্লা করেছিল। আশে পাশের দশ গ্রামের লোকেরা ভিড় করেছিল আমাদের বাড়িতে। হবেনা কেন মুসলীম মেয়েদের মধ্যেতো আর উচ্চশিক্ষার প্রচলন ছিলনা। আমাদের অঞ্চলে যে আমিই ছিলাম প্রথম মেট্রিক পাশ মেয়ে। এটা অবশ্য ১৯৩৯ সালের জুলাই মাসের কথা। এ বছরই ছোট চাচা ও ছোট মামা দু’জনের উৎসাহে আমাকে কলেজ পাঠাবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হল। শেরে বাংলা ঐ সময় বাবর কাছে ছোট মামা মারফত চিঠি লিখে জানালেন, তিনি মুসলিম মেয়েদের শিক্ষার জন্য নিজেই একটি কলেজ তৈরি করেছেন। শেরে বাংলার প্রতিষ্ঠিত কলেজটির নাম দেয়া হয়েছে লেডি ব্রেবোন। পার্ক সার্কাসের একটি ভাড়া বাড়িতে দ্বীতল বিশিষ্ট লেডি ব্রেবোন কলেজের প্রথম প্রিন্সিপাল ছিলেন মিস ক্রোশ। দোতলায় মেয়েদের থাকার জন্য ছেড়ে দিয়ে নীচতলা ব্যবহৃত হতো শ্রেণীকক্ষ হিসেবে। রমাদি ও কমলাদি ছিলেন হোষ্টেল সুপার। চল্লিশ সনের মাঝামাঝি সময়ে লেডি ব্রেবোন পাশেই নিজস্ব ভবন তৈরি করে ফেলেছিল। নতুন ভবনের উদ্বোধনীতে কলকাতার অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এসেছিলেন শেরে বাংলার সাথে। তাদের মধ্যে জিন্নাহ ও নেহেরু ছিলেন। আমরা দোতলার জানালা থেকে তাদের দেখেছি। সম্মুখে আসার কোন রেওয়াজ তখন ছিলো না। মেয়েদের অবসর সময়ের বিনোদন ব্যবস্থা হিসেবে তখন দাবা, ব্যাডমিন্টন ও কেরাম ছিলো প্রধান। দরজা জানালা সব সময় পর্দা ঘেরা ছিলো বলে পার্ক সার্কাসের ও বালিগঞ্জের লোকেরা বলতো পর্দা কলেজ। বালিগঞ্জ, বলছি এ কারণে যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ব্রিটিশ সেনারা কলেজটিতে ঘাঁটি গাড়লে কিছুদিনের জন্যে লেডি ব্রেবোন কলেজটিকে বালিগঞ্জের ভাড়া বাড়িতে স্থানান্তর করা হয়। লেডি ব্রেবোন আমার চিন্তা চেতনায় অনেক পরিবর্তন এনে দিয়েছিল। এখানে আমিও ব্যাডমিন্টন খেলতাম। এখানেই প্রথম রবীন্দ্র সংগীতের সাথে আমার পরিচয় ঘটেছিল। এখানের নিয়ম শৃংখলায় কড়াকড়ি থাকলেও প্রিন্সিপাল মিস্ ক্রোশ নিজেই মেয়েদের সাথে খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করতেন। দেখতে দেখতে বছর কেটে গেল।<br />
এই এক বছরে মাত্র একবার গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম। কাঁদা পানি মাখা ঐ গাঁয়ের পথের কথা মনে হলে আজ যেমন সুখ, তখনকার ঐ ছাত্রী বয়সে কিন্তু খুব বিরক্তি এসে যেত। দু’বার ছোট চাচা ও মোদাচ্ছের আলী চাচা আমায় নিতে এলে আমি কলকাতায় ছোট মামার কাছে থেকেছি তবু গ্রামে যাইনি। এ সময় হঠাৎ করেই কলেজে ব্রিটিশ সেনারা প্রবেশ করে ঘাটি করল। অনির্দিষ্ট কালের জন্যে কলেজ স্থানান্তর করা হল বালিগঞ্জে। কিন্তু ২য় বিশ্বযুদ্ধের আয়োজনের ব্যাপকতায় শহরে থাকা বড় বিপদজনক হয়ে উঠলো। মাথার উপর দিয়ে ঘন ঘন প্লেনের ছুটে চলা, সাইরেনের শব্দ শোনা গেলেই ছুটে গিয়ে র‌্যাফেল দেওয়ালের পিছনে আশ্রয় নেয়া এসব ঝুঁকি সহ্য হলো না। ছোট মামাদের সাথে চলে এলাম গ্রামের বাড়িতে। এখানেও দেখি সেই একই আতংক। এই যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যেই লেডি ব্রেবোনের ছাত্রীদেরকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বলা হল, যার যার বাড়ির পাশের কলেজটিতেই পরীক্ষা কেন্দ্র করা হলো। কিন্তু দূর্ভাগ্য আমার, বাবা চাচাদের চেষ্টায় এখানে স্কুল প্রতিষ্ঠা হলেও কোন কলেজ তখনও তৈরি হয়নি। এমনকি মহকুমা সদরেও কোন কলেজ ছিলো না। যারফলে, বরিশাল বিএম কলেজেই আমার কেন্দ্র নির্ধারণ করা হলো। বিএম অর্থাৎ ব্রজমোহন কলেজটি তখন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে চিহ্নিত। এ কলেজে কেন্দ্র পড়ায় মনে মনে খুব খুশি হয়েছিলাম। ইন্টারমিডিয়েট বা হায়ার সেকেন্ডারী পাস করেও এক বছর বিএম কলেজেই বি.এ’তে পড়েছিলাম। বিএম কলেজের বিএ ক্লাশে তখন মাত্র দু’জন মুসলমান মেয়ে। একজন আমি অন্যজনের নাম এখন ঠিক মনে পড়ছেনা তবে শামশুন নাহার বা এ জাতীয় ছিল।<br />
লেডি ব্রেবোনে থাকতে বেশ কিছু বান্ধবী জুটেছিল আমার। আতিয়া, লিলি, হেনা, ফাতেমা ওরা খুব ঘনিষ্ট ছিল। ওদের পাল্লায় পরে মাঝে মধ্যেই আমরা সিনেমা দেখতে যেতাম Ñ লাইট হাউজ ছিলো সিনেমা হলের নাম। বেশ কবার ইংরেজি ছবি দেখেছি এই হলটিতে। তার মধ্যে বেনহুর, টেল অব ষ্টুমিস এর নাম মনে পড়ে, সবই ছিল নির্বাক ছবি। অনেকটা ঐ সাথীদের জন্যই পুনরায় লেডি ব্রেবোনে ফিরে গেলাম। ইমিডিয়েট ছোট ভাই তখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএ’তে ভর্তি হয়েছে। ও আমার ছোট হয়েও আমার চেয়ে পড়াশুনায় এগিয়ে ছিলো। কেননা তখানকার দিনের নিয়মে তো মেয়েদের পড়াশুনা করতে দেয়া হতো না। আমার নিজের যদি আগ্রহ না থাকতো, তাহলে তো চৌদ্দ বৎসর বয়সের ঐ অষ্টম শ্রেণীতেই সব চুকে যেত।<br />
কাঞ্চন কলকাতায় থাকায় আমার একটু সুবিধাই হল। ও মাঝে মধ্যেই আমার খোঁজ নিতে আসতো। ওর কাছেই জানতে পারলাম দেশ ভাগের আগাম সংবাদ। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুখোর ছাত্র নেতা আবু নাজেম মোহাম্মদ আলী তখন কাঞ্চনের খুব বন্ধু হবার সুবাদে এই প্রথম রাজনৈতিক অবস্থা, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি আমি জানতে বুঝতে শিখছি, আমরা মুসলিম মেয়েরা যখন দেশত্ব বিষয়টি নিয়ে ভাবনা চিন্তায় ব্যস্ত তখন কিন্তু হিন্দু মেয়েরা রীতিমত কোমরে আঁচল বেঁধে “ভারত ছাড়” আন্দোলনের শ্লোগান তুলে পুরুষের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে মিছিল নিয়ে চলে যেত লেডি ব্রেবোনের সম্মুখ দিয়ে। অনেকদিন কলেজের দোতলায় দাঁড়িয়ে, নেহেরু, জিন্নাহ, শেরে বাংলা প্রমূখদের দেখেছি মিছিলের অগ্রভাগে। এই সময়টায় কাঞ্চন কখনো সখনো গ্রামে চলে গেলে আবু নাজেম মোহাম্মদ আলী আমার হোস্টেলে এসে ওর জন্যে চিঠি লিখে রেখে যেতেন। বেশীরভাগ চিঠিই ছিলো মুসলীম লীগের বিভিন্ন কর্মকান্ডের সংবাদ জানিয়ে। হিস্ট্রিতে গোল্ড মেডেল প্রাপ্ত মুসলীম লীগের সুদর্শন এই ছাত্র নেতার প্রতি তখন হোস্টেলের অনেক মেয়েরই আকর্ষণ ছিলো তা বলতে দ্বিধা নেই। লুকিয়ে লুকিয়ে ওর চিঠি পড়ে কখন যে আমিও নাজেমের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম বুঝিনি। আর সেজন্যেই বুঝি আমাদের বিয়েটা সম্ভব হয়েছিল। সে কথায় না হয় একটু পরেই আসি।<br />
১৯৪৪ সালে বিএ পাস করার পর ঠিক করেছি যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএ পড়বো। আমার এখন মহাক্ষমতা। কেননা বাবা চাচাদের কেউ-ই আর পড়তে দিতে রাজী ছিলেনা না। বিয়ের জন ্য চাপা চাপি শুরু হয়ে গিয়েছিল। শহরে থেকে পড়ছি বলে নাকি বেশ ক’জন ভালো পাত্র হাতছাড়া হয়েছে বাবার। যারফলে, তার মধ্যে একটা ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। বিএ পাসের পরীক্ষার ফলাফল গ্রামের বাড়িতে বসেই জেনেছিলাম। বরিশাল বিভাগ তখনো বাকেরগঞ্জ বা চন্দ্রদ্বীপ অঞ্চল বলেই পরিচিত ছিল কলকাতাবাসীর কাছে। আমিই প্রথম মেয়ে ছিলাম যে গ্র্যাজুয়েট হয়েছি। এ সংবাদ শেরে বাংলার কানে পৌঁছতে দেরী হয়নি। তিনি বাবা ও ছোট মামাকে ডেকে বলে দিলেন আমার যতদুর ইচ্ছে আমি পড়বো কেউ যেন বাঁধা না দেয়। কিন্তু বাবা তখন বাঁধা দেওয়ার জন্যই তৈরি ছিলেন। ব্যস খবরটি দশ কান হয়ে আমার কানে আসতেই আমি ছুটলাম কলকাতায়। ছোট মামার বাড়িতে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম। কিন্তু হিস্ট্রি বা অর্থনীতি পড়ায় বাঁধা দিল কাঞ্চন। ও আমার ভর্তির দায়িত্ব গ্রহণ করে আমাকে ভর্তি করল আরবীতে। আমার উচ্চশিক্ষা গ্রহণের আগ্রহে এখানেই ভাটা পড়েছিল। তারপরও বছর দুয়েক পড়েছিলাম। আমরা কয়েকজন মুসলিম মেয়েরা এই সময় শিক্ষা সচিবের নিকট আবেদন করে মুসলীম মেয়েদের জন্য একটি হোস্টেল দাবি করলে সে সময় মুন্নুজান ছাত্রী নিবাসটি প্রতিষ্ঠিত করা হয়। আমরা মুন্নুজানে থেকেই পড়াশুনা করতাম।<br />
এমন সময় হঠাৎ করেই বাড়ি থেকে ডেকে পাঠালেন বাবা। ছোট মামার সাথে বাড়ি পৌঁছে দেখি সবাই কেমন গুরুগম্ভীর। কাঞ্চন তখন বাড়িতেই ছিল। খুব গম্ভীর একটা ব্যাপার, ছোট ভাই বোনদের কাছে জানতে পারলাম আমার বিয়ের জন্য বাবা খুব অস্থির হয়ে পরেছেন। এ নিয়ে কাঞ্চনের সাথে তার বেশ কথা কাটাকাটিও হয়েছে। কেননা কাঞ্চনের বন্ধু আবু নাজেম মোহাম্মদ আলী আমাকে দেখেছে এবং পছন্দ করেছে। মোহাম্মদ আলীর বাবাও ছবি দেখে পছন্দ করেছেন আমাকে। তারা বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। কিন্তু আবু নাজেম জলপাইগুড়ীর বাসিন্দা বলে অতদূর পথে বাবা তার মেয়েকে দিতে নারাজ। শুধু বাবা একা নয়, মনে হচ্ছে সবা চাচারাই নারাজ। আমি কিন্তু এ খবর শুনে মনে মনে বেশ পুলকিত হয়ে পড়েছিলাম। কেননা কাঞ্চনের সাথে নাজেম যে’কবার মুন্নুজান হোস্টেল গেটে এসেছিল দূর থেকে আমি ওকে ভালো ভাবে দেখেছিলাম। লম্বা চওড়া, সুদর্শন ঐ যুবকটিকে দেখার আগেই যে, কাঞ্চনের জন্যে লেখা তার চিঠিগুলো পড়ে আমি তার প্রেমে পড়ে গিয়েছি, তা তো আমি ছাড়া আর কেউ জানেনা।<br />
যাই হোক, হোটেল ভাড়া করে বিয়ের অনুষ্ঠান হলো। এই প্রথম আমাদের পারিবারিক রেওয়াজ ভেঙ্গে কলকাতা শহরের বাবুদের নিয়মে বিয়ের অনুষ্ঠান হলো। বাবাও এলেন অবশেষে। গোপনে দু’চাচা মাকে নিয়ে বিয়েতে উপস্থিত হলেন। চাচীরা সবাই এসেছিলেন, চাচাত ভাই বোনেরা দু’একজন বাদে সবাই ছিলো। তিন দিন পর গ্রামে ফিরে গিয়েছিলেন তারা। পাত্র পক্ষ সুদূর বরিশালে বিয়েতে যেতে রাজী হলো না। তাদের জন্যই কোলকাতায় বিয়ের আয়োজন করতে বাধ্য হলেন বাবা। গ্রাম থেকে আতœীয় স্বজন সবাইকে নিয়ে খুলনায়, সেখান থেকে ট্রেনের বগি রিজার্ভ করে আমার বিয়েতে এলেন সবাই। বিয়েটা হয়েছিল বৌ বাজার স্ট্রিটের পলাশী হোটেলে, খুবই জাঁকজমকের সাথে। ছোট বোনরা নেচে গেয়ে ওদের দুলাভাইকে বরণ করে নেয়। আমার দু’চারজন বান্ধবীও সেই বিয়েতে উপস্থিত ছিলো। বিয়ে হয়ে যাবার পর, আমি নতুন বউ, অজানা অচেনা পরিবেশে সংসার করতে গেলাম জলপাইগুড়ি। আমার শশুরবাড়ি ওখানেই। শুরু হল আমার অন্য জীবন।</p>
<p>সাত </p>
<p>আবু নাজেম মোহাম্মদ আলীর বাবা মোহাম্মদ মসির আলী খান ছিলেন প্রচন্ড রাশভারী টাইপের লোক। প্রথম দর্শনেই তার মুখের উপর আমার বাবার আদল স্পষ্ট দেখতে পেলাম। যেন বাবারই কার্বন কপি তিনি। পারিবারিক ঐতিহ্যগত দিক দিয়েও যে আবু নাজেমরা বেশ সম্ভ্রান্ত তা চারিদিকে প্রজাদের উপস্থিতিতেই স্পষ্ট হয়েছিল। জলপাইগুড়ির স্টেশন পাড়া, চ্যাংমারী, হলদিবাড়ির এলাকা জুড়ে বিশাল জমিদারী ওদের। প্রথমদিন আমাকে একটি জলচকির উপর দাঁড় করিয়ে প্রজাদের ডেকে দেখানো হলো। প্রজাদের সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দেয়ার এই রীতিতে প্রথমে বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম, তবে তা বেশীক্ষণ স্থায়ী হয়নি। শশুর মশাইয়ের অমায়িক ব্যবহার এবং ক্রমে আমার প্রতি তার ভালোবাসার প্রকাশ আমাকে খুব সহজেই তার অনুগত করে তুলে ছিলো।<br />
বিয়ের দ্বিতীয় দিনেই আমাকে ডেকে তিনি বলে দিয়েছিলেন, এখানে আমার একমাত্র কাজ হচ্ছে সকাল বেলা সবগুলো পত্রিকা তাকে পড়ে শুনানো। আবু নাজেম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিস্ট্রিতে গোল্ড ম্যাডেল পেয়েছিল, খুব ভালো মনের, বড় মনের লোক সে। দু’দিনের মাথায় আমাকে ডেকে বলল, তুমি ইচ্ছে করলে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারো। অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে আমার শশুর মশাইও তাকে সাপোর্ট করলেন। আমার শশুর মশাইয়ের বাবা আমার দাদা শ্বশুর মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী খান মূলত টাঙ্গাইল জেলার লোক। দাদা শশুরমশাই তাঁর বাবার উপর রাগ করে নিজ বাড়ি ছেড়ে এখানে এসে উঠেছিলেন এবং বিয়ে-থা করে এখানেই সংসারী হয়েছিলেন। আবু নাজেমের নানা বাড়ি ছিল হলদীবাড়ি। ওদের মা আমার শাশুরী ছিলেন অনেক অনেক সয়-সম্পত্তির অধিকারী। মায়ের দিক থেকেই ওরা বেশী সম্পদ পেয়েছিলো। শুনেছি আমার দাদা শ্বশুর ইদ্রিস আলী খান প্রথম জীবনে এখানে এসে খুব কষ্ট করেছিলেন। তার জন্মস্থান টাংগাইল জেলার মঙ্গলহর গ্রামে। সেখানকার মধু খান এর বড়ছেলে ছিলেন তিনি। নতুন ধূতি ছিডে যাওয়ায় তার বাবা তাকে ধমকে ছিলেন বলে রাগ করে কুচবিহারে চলে আসেন। তিনি অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছিলেন। যারফলে, খুব সহজেই কুচবিহারের নবাবের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং তার বিধবা বড় শালিকে বিয়ে করেন। তখনকার দিনের নিয়মে যদি কোন মুসলীম অবিবাহিত যুবক কোন বিধবাকে বিয়ে করে তাহলে তাকে পুনরায় অবিবাহিত কোন যুবতীকে বিয়ে করতে হবে। সেই মতে, আমার দাদা শ্বশুর ইদ্রিস আলী খানও নাকি দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং চ্যাংমারীর জমিদারের কন্যা লুৎফুন্নেসাকে বিয়ে করেন। দুই ধনি স্ত্রী’র সুবাদে দাদা শ্বশুর বিশাল সম্পত্তির মালিক হয়েছিলেন। যার জন্য তিনি পরবর্তীতে আরও দুটো বিয়ে করে ছিলেন। তার প্রথম ঘরে এক সন্তানহাসান আলী খান ও দ্বিতীয় বউয়ের ঘরে চার সন্তান জন্মেছিল। দ্বিতীয় ঘরে দু’জন ছেলে মসির আলী খান ও আজিজার আলী খান এবং দুইজন মেয়ে হালিমুন্নেসা ও আলিমুন্নেসা। মসির আলী খানই ছিলেন আমার শ্বশুর এবং নাজেম এর বাবা। এসব কথা আমি শুনেছি আমার শ্বাশুরী বছিরুন্নেসার কাছে। তিনি সুযোগ পেলেই স্বামী-শ্বশুরের গল্প করতে খুব ভালোবাসতেন। নাজেম যখন আমার শাশুরী মায়ের গর্ভে তখন আমার শশুর মশাইয়ের বাবা নাকি ছেলে বউকে দেখতে আসেন এবং চলে যাবার পূর্বে ভবিষ্যৎ নাতি সন্তানের নাম রেখে যান আবু নাজেম মোহাম্মদ আলী। ঐ সময় শশুর মশাই তার বাবাকে নাকি জিজ্ঞাসা করেছিলেন &#8211; বাবা ছেলে হবেই তারই তো কোন নিশ্চয়তা নেই। উত্তরে শশুর মশাইয়ের বাবা নাকি মৃদু হেঁসেছিলেন। আসলে তখনকার লোকেরা এমনই ছিলেন। অনেক কিছুই তারা লক্ষণ দেখেই বলে দিতে পারতেন। দুই ভাই দুই বোন নিয়ে নাজেমদের সাজানো সংসার, তার মধ্যে একবোন অল্প বয়সেই বিয়ে হয়ে যায় এবং স্বামীর সংসারে দু’ছেলে মেয়ে রেখে মারা যায়। নাম ছিল লুৎফুননাহার রাবেয়া। নাজেমের ছোট ছিল ইউসুফ নামের এক ভাই, আমার খুব ভক্ত ছিল ও। তারপর বোন লুৎফর নাহার রোকেয়া। ননদটি তখন মাত্রই অষ্টম শ্রেণীতে পড়ছে। সারাক্ষণ ছায়ার মতে আমার সাথে থাকতো। হলদীবাড়িতে যে ক’দিন একসাথে ছিলাম ওর জন্যেই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি খুব সহজেই সামলে নিতে পারতাম। বলা যায়, ঐ ছোট্ট কিশোরী চটপটে মেয়েটি আমাকে বাঁচিয়ে নিতো। আমার ননদদের নাম রাখা হয়েছিল তাদের দাদীর নামের সাথে মিলিয়ে।<br />
আবু নাজেম মোহাম্মদ আলীর বংশীয় পরিক্রমা (বক্স হবে)<br />
 সোনা খান এর ছেলে<br />
মধু খান ( টাঙ্গাইল জেলার মঙ্গল হরের বাসিন্দা।) তিন ছেলে দুই মেয়ে  মেয়েদের নাম জানা যায়নি। তবে টাঙ্গাইল জেলাতেই তাদের বিয়ে হয়েছে ও বসবাস।<br />
 ছেলে<br />
১। ইদ্রিস আলী খান Ñ ছয় ছেলে ও দুই মেয়ে Ñ হাসান আলী খান, মসির আলী খান, আজিজার আলী খান, তালেব আলী খান, মান্নাফ আলী খান, ডাক্তার কছির আলী খান, হালিমুন্নেসা ও আলিমুন্নেসা।<br />
২। আকমল আলী খান Ñ (কোনো সন্তান নেই)<br />
৩। সাহেব আলী খান Ñ (কোনো সন্তান নেই)</p>
<p>মসির আলী খান এর দুই ছেলে দুই মেয়ে<br />
১। আবু নাজেম মোহাম্মদ আলী Ñ দুই ছেলে এক মেয়ে Ñ আসাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলী (নূর), আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলী (মিজান) ও কাওছার আফছানা ফোয়ারা।<br />
২। আবু ইউসুফ মোহাম্মদ আলী Ñ<br />
৩। লুৎফুন্নেসা রাবেয়া Ñ এক ছেলে এক মেয়ে<br />
৪। লুৎফুন্নাহার রোকেয়া Ñ আহসান রহিম মঞ্জিল, গুলশিরিন মিলি, নাসরিন শিউলী, জুলফিকার রহিম মাসুম, জেসমিন এ্যানি, নাজনীন তুলি ও ইয়াসমিন লিপি।  </p>
<p>আট</p>
<p>বিয়ের অল্পদিন পরেই আমি পুনরায় মুন্নুজান হোস্টেলে চলে এলাম। এখানে বান্ধবীরা আমাকে নাজেমকে নিয়ে বেশ ঠাট্টা মস্করা করলো। আমার স্বামী ভাগ্য নিয়ে যেমন গর্বিত ছিলাম ওরা তেমনি হিংসুটে ছিলো। লতিফাবানু, রোকেয়া, সাহেরা ও জয়নাব নামে এখানে বেশ ক’জন ভালো বন্ধু পেয়েছিলাম। ওদের মধ্যে দু’একজন এখনো জীবিত আছে, ঢাকাতেই থাকে। মাঝে মাঝে ওদের সাথে টেলিফোনে কথাও হয়। মুন্নুজান হোষ্টেলে থাকাকালীন সময়েই বাবু পেটে এলো। ওর জন্যেই আমার আর পড়াশুনা হলো না। শশুর মশাই সংবাদ পেয়েই নিজে ছুটে এসে আমাকে জলপাই গুড়িতে নিয়ে গেলেন। এর পর দেশ ভাগের আগ মূহুর্ত পর্যন্ত আমরা জলপাই গুড়িতেই ছিলাম। প্রজাদের ঘরে ঘরে ঘুরে বেড়াতাম। কিভাবে যেন ওদের সাথে আমার খুব ভাব হয়ে গিয়েছিলো। প্রজাদের সুখ-দুঃখ, সুবিধা-অসুবিধা সব কিছু বিষয়ে শ্বশুর-শাশুরী আমার উপর নির্ভর করতে শুরু করলেন। শ্বশুর মশাই খুব বদ রাগী ছিলেন। কোন রকম উল্টাপাল্টা সহ্য করতে পারতেন না। তাই আমার শাশুরীর কাছেই প্রজা মেয়েদের যত আবদার এসে পৌঁছাতো। শাশুরী স্থানীয় মেয়ে বলেই তার প্রতি হয়তো একটা আলাদা টান ছিলো ওদের।<br />
১৯৪৬ সালের শেষের দিকে, বাবু (নূর) জন্মের অল্প কিছু দিন আগে হঠাৎ করেই আমার দেবর ইউসুফ অসুস্থ হয়ে পরলো। তখনকার সময়ে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব ছিলো না। চিকিৎসা বিজ্ঞানতো আর এতো উন্নত হয়নি। মৃত্যুর আগ মুহুর্তে ইউসুফ আমার শাশুরীকে বলেছিল মা, ভাবীর যদি কোন সন্তান হয় তাহলে হর নাম যেন নূর অথবা নূরী রাখা হয়। বাবু জন্মের পরে সবাই ওকে বাবু ডাকলেও আমার শাশুরী কিন্তু নূর বলেই ডাকতেন। এদিকে আবার শশুর মশাই ওর নাম রাখলেন আসাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলী। এই নাম রাখার পিছনে বেশ মজার কা- ঘটেছিল যা মনে পড়লে এখনো হাসি পায়।<br />
আমার শশুর ছিলেন যেমনি ভালো মানুষ ও অনেক বড় মনের, তেমনি ছিলেন লম্বা এবং গুরুগম্ভীর মানুষ। সাত গ্রামের মানুষ তাকে যেমন ভয় করতো তেমনি ভালোও বাসতো। কিন্তু তার সম্মুখে দাঁড়িয়ে কোনো কিছুর আবদার করার সাহস কারো ছিলো না। এ সব বিষয় সব সময়ই মহলাল বাবু অথবা নৃপেন বাবুই দেখতেন। একদিন  বাবুকে তিনি কোলে নিয়ে এমনি এক সভায় নৃপেন বাবুদের মাঝে বসে প্রজাদের ভালো মন্দ দেখছিলেন। হঠাৎ করেই বাবু তার গায়ে ‘হিশি’ কলে দিলো। অমনি তিনি খুব গম্ভীর হয়ে পরলেন। তোর এত বড় সাহস &#8211; আমার গায়ে ‘হিশি’ করলি! তাহলে তো তোকে আর বাবু ডাকা যাবে না। আজ থেকে তো নাম আসাদ হওয়া উচিৎ, আজ থেকে তুই আসাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলী। ব্যাস সেই থেকে শশুর মশাই ওকে আসাদ নামেই ডাকতেন। আমরা সবাই ওকে বাবু বলেই ডাকতাম, কিন্তু আমার শাশুরী ওকে নূর নামে ডাকতেন। আর প্রতিটি শিশুই বুঝি খুব দাদু ভক্ত হয়। নূরও তাই হয়েছিলো। যার জন্যেই হয়তো নূর নামটিই টিকে গেল। জলপাই গুড়ির তেলিপাড়া, কদমতলা, পাহাড়ি পাড়া এবং নতুন বস্তি এলাকাগুলোই ছিল আবু নাজেমের প্রজাদের শান্তিময় বসতভূমি। প্রজারা এখানে কোনরূপ খাজনা প্রদান করতো না। স্বাভাবিক কারণেই জমিদারের জন্য তাদের ভালবাসা ছিল অফুরন্ত। বেশীরভাগ প্রজারাই ছিলো হিন্দু সম্প্রদায়ের, কিন্তু মুসলমানদের সাথে ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক। মহলাল বাবু, এ্যডভোকেট নৃপেন বাবু ওদের কথা আজো মনে পড়ে। জমিদারীর মামলা মোকাদ্দমার দায়িত্ব ছিলো তাদের উপর।<br />
১৯৪৭ সনের সূচনাতেই দেশ জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়ে গেল। মার্চে নূরের জন্ম। ওর জন্মের ঠিক তিন মাস পরেই দেশ ভাগ হয়ে গেল। নূর পেটে থাকতেই আমি এবং নাজেম চাকুরীর জন্য আবেদন করেছিলাম। দেশ ভাগ হবার সমূহ সম্ভাবনায় আমার ঠিকানা দিয়েছিলাম স্বরুপকাঠীতে। আগস্টে একটা চাঁপা কষ্ট নিয়ে পূর্ববঙ্গে ফিরে এলাম আমরা। আমি, নাজেম আর আমাদের সন্তান নূর। আমার শাশুরী ও ননদ কিছুতেই জলপাই গুড়ি ছেড়ে এলেন না। আমরা এসে কিছুদিন স্বরুপকাঠী অবস্থান নিলাম। এসময়ে আমাদের আবেদনের উত্তরে নীলফামারী গার্লস স্কুলে যোগ দানের জন্য সরাসরি নিয়োগপত্র এলো। বড় বিষাদময় একটা পরিবেশে আমরা স্বামী-স্ত্রী নূরকে কোলে নিয়ে নীলফামারী স্কুলের চাকুরীতে যোগদান করলাম। স্কুলেরই একটি দু’রুম বিশিষ্ট মাটির দেয়াল ঘেরা ঘর আমাদের থাকার জন্য ছেড়ে দেয়া হল। আমি প্রধান শিক্ষিকা আর নাজেম সহকারী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করলাম আমরা। হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী, সব মিলিয়ে একশত হবে।<br />
নীলফামারী গার্লস স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন প্রফুল্লকুমার গাঙ্গুলীর কন্যা শ্রীমতি চ্যটার্জী ও ড. এম এম চ্যাটার্জী। ১৯৪৫ সনের ১৯ মে স্কুলটি যখন প্রতিষ্ঠিত হয় তখনকার ভবনগুলোই এখনো বিদ্যমান আছে। শুধু নতুন দুটি ঘর বেড়েছে। আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর এ স্কুলে হিন্দু হোস্টেল ও মুসলিম হোস্টেলের ব্যবস্থা করে মেয়েদের থাকা খাওয়ার সু-ব্যবস্থা করা হয়। মরহুম খয়রাত হোসেন ও দবিরউদ্দীনের সহযোগিতা ছিল এ বিষয়ে। তখনকার মুসলীম নেতা হিসেবে এরা দু’জনই খুব উল্লেখযোগ্য ছিলেন। মাষ্টারী চাকুরীতে যুক্ত হয়ে আবু নাজেম রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততা বন্ধ করে দিলেও প্রচন্ডভাবে রাজনীতি সচেতন ছিলেন। যারফলে, মরহুম খয়রাত হোসেন ও দবিরউদ্দীনের সাথে খুব গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়ে গিয়েছিল। তাদের কাজকর্মের সাথে নাজেমের চিন্তা ভাবনার সম্পৃক্ততা ছিল বেশী। নীলফামারী গার্লস্ স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমি হলেও স্কুলের উন্নয়ন বিষয়ে নাজেমই আমাকে পরামর্শ দিতেন, ঘরে ঘরে যেয়ে মেয়েদেরকে স্কুলে আনার জন্য আগ্রহী করে তোলায় তার অবদান নিশ্চয়ই নীলফামারীর মানুষেরা মনে রাখবে। মেয়েদের হোষ্টেলেরও তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন তিনি। মোট চারজন লোকের দায়িত্বে নীলফামারী গার্লস স্কুলের শিক্ষা ব্যবস্থা। আমরা স্বামী-স্ত্রী, একজন মৌলবী এবং একজন ক্লার্ক। থ্রী থেকে টেন পর্যন্ত অধ্যায়ন ব্যবস্থা ছিল। ১৯৪৯ সনের দিকে দুইশত এর বেশী ছাত্রী সংখ্যা দাঁড়িয়ে ছিলো এই স্কুলে। জলপাইগুড়ির সাথে তখনও নিয়মিত যোগাযোগ ছিলো। সময় সুযোগ পেলেই আমরা বেড়াতে যেতাম। হিন্দু প্রজারা সবাই ছুটে আসতেন। নূরকে নিয়ে টানা হেঁচড়া পরে যেত। ওখানে গেলে নূর বেশীর ভাগ সময় প্রজাদের কোলেই থাকতো। প্রজারাও কিন্তু বাবুকে নূর নামেই ডাকতো। ছোটবেলা থেকেই ও খুব মিশুক টাইপের হয়ে বেড়ে উঠছিলো। ১৯৪৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আবু নাজেমের বাবা মশিউর আলী খান ইন্তেকাল করলেন। জলপাইগুড়ির মাটিতেই তাকে সমাহিত করা হল। নাজেমের শত আপত্তিতেও আমার শ্বাশুরী স্বামীর ভিটে ত্যাগ করলেন না। রোকেয়াকে নিয়ে তিনি থেকে গেলেন জমিদারী দেখাশোনা করার জন্য। আমরা ফিরে এলাম নীলফামারী। এ সময়েই আমার বাড়ি থেকে সংবাদ এল দাদীমা আর নেই। দু’জনেই ছুটে গেলাম স্বরুপকাঠী গ্রামে। এটা ১৯৪৭ সালের নভেম্বর মাসের কথা। নূরের মাত্রই নয় মাস বয়স চলছে। দাদীমা মারা যাবার পর আমাদের পরিবারের যৌথ ব্যাবস্থাটা ভেঙ্গে পড়ল। আমার ভাই-বোনরাও সবাই বড় হয়ে উঠছে। চাচাতো ভাইরাও অনেকে সংসারী হয়েছে। ছোট বোনদের অনেকের বিয়েতেই আমি যেতে পারিনি। এমন কি শেফালির বিয়েতেও না। শেফালী দীর্ঘদিন আমার কাছে থেকে পড়াশুনা করেছে। এরপর অনেকদিন অনেক সংবাদ এসেছে বাড়ি থেকে, চাচা-চাচী মারা যাবার সংবাদও পেয়েছি। বিচলিত হয়েছি কিন্তু নিজের সংসারের চাঁপে যাওয়া হয়নি।<br />
স্কুল ঘরের আঙ্গিনার মধ্যেই বেড়ে উঠেছিল বাবু। ৪৯ সনের শেষদিকে খুব সম্ভব নভেম্বর মাসে মিজানের জন্ম হল। এ সময় আবার হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা শুরু হয়ে যাওয়ায় নাজেম ওর মা বোনদের কাছে ফিরে গেল। বিপদের আশংকায় কেঁপে গেল বুক। জলপাইগুড়িতে দাঙ্গা শুরু হয়েছে, এদেশ ছেড়ে হিন্দুরা সবাই পাড়ি জমাচ্ছে ওদেশে, সে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য। আমার ছাত্রীরা, আমার সন্তানরা যখন আমার থেকে বিদায় নিয়ে পালাচ্ছে তখন বুকটা খান্ খান্ হয়ে যাচ্ছে। একজন ছাত্রীতো বাবুকে বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল &#8211; মা এদেশ কি হামরার নয়? ছাত্রীটির সে প্রশ্ন এখনো কানে বাজে। ওই সময় বরিশাল আর নোয়াখালীতেও দাঙ্গা ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল।<br />
আল্লাহর হাজার শুকুর যে, দিন কয়েক পরেই মা বোনদের নিয়ে নাজেম ফিরে এল নির্বিঘেœ। জানতে পারলাম ওখানকার হিন্দু প্রজারাই আমার শাশুরী ও ননদকে আগলে ছিলো, ওরাই পার করে দিয়েছে বর্ডার। নাজেম বসতভিটা বিক্রি করে তাড়াহুড়ায় যা দাম পেয়েছে তাই নিয়ে চলে এসেছে। আমার শাশুরীর কান্না আর থামে না। তাঁর নিজের আজন্ম পরিচিত ভিটা মাটি প্রজাদের ছেড়ে ভিন দেশে কিছুতেই আসতে রাজী ছিলেন না তিনি। এখানে এসে যখন দেখলেন এখান থেকেও হিন্দুরা একইভাবে চলে যাচ্ছে ওখানে, তখন তাঁর দুঃখ বুঝি হালকা হলো কিছুটা। কলকাতা, হুগলী, ত্রিপুরা, মাজরাট প্রভৃতি অঞ্চল থেকে দলে দলে মুসলিমরা এদিকে আসছে। নাজেম ওর হাতের বাড়ি বিক্রির টাকায় এখানে জমি ক্রয় করে আর তাদের মধ্যে দান করেন। খুব বিশাল মনের মানুষ ছিলেন উনি। হাতের জমানো টাকায় জমি কিনলেন আর সব-ই দান করে দিলেন আগতদের মাঝে। বেশ ক’ ঘর হিন্দু পরিবারকে যেতে-ই দিলেন না। পিঠ দিয়ে আগলে রাখলেন। দবিরউদ্দীন, খয়রাত হোসেন এ সময় দাঙ্গা থামানোর জন্য নাজেমের সহযোগীতা গ্রহণ করেন। মাত্র বাহান্নজন ছাত্রী নিয়ে তখন আমাদের স্কুলটি টিকেছিল। আমার ননদ রোকেয়া তখন মাত্রই দশম শ্রেণীর ছাত্রী। জলপাইগুড়ি গভর্মেন্ট গার্লস্ স্কুলে ও পড়তো। এখানে এসে নীলফামারী গার্লস্ স্কুলে দশম শ্রেণীতে ভর্তি হলো। আমার ছোট দু’বোন রেণু ও শেফালী এসে ঐ সময় নীলফামারী গার্লস্ স্কুলে ভর্তি হলো। উর্দু এবং সংস্কৃতি পড়াটা ছিল তখন মুসলিম মেয়েদের জন্য বাধ্যতামূলক। আমার বোনরা অবশ্য উর্দুটাই বেছে নিয়েছিল। নাজেম তখন ওদের ইংরাজী পড়াতো। ও পুনরায় এল,এল,বি পড়াশুনায় মনোনিবেশ করেছে।<br />
এমন সময় “রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই” দাবীতে সোচ্চার হয়ে উঠল দেশ। নীলফামারীর মানুষের মধ্যেও তার প্রভাব পড়ল। আবু নাজেম আবার জড়িয়ে গেলেন রাজনীতির সাথে। মুসলিম আওয়ামী লীগের নের্তৃবৃন্দের সাথে আবু নাজেমও রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবীতে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে আন্দোলনে নামালো। ফলে বাহান্ন সনের শেষের দিকে ওকে সহ খয়রাত হোসেন ও দবিরউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হলো। আসলে রাজনৈতিক সচেতন একজন মানুষতো ঐ দুঃসময়ে চুপ থাকতে পারে না, নাজেমও পারেনি। যার জন্যে স্বাধীনতা যুদ্ধের পরেও নাজেম “নিউ ন্যাশন” পত্রিকার সহ-সম্পাদক হিসাবে দীর্ঘদিন কাজ করছিলো।<br />
আমি অবশ্য বরাবরই রাজনীতি বিরূপ। রাজনীতি নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যথ্যা ছিলো না। সত্যি বলতে দেশ ভাগের ঐ ভয়ংকর পরিস্থিতিটায় মানুষের কান্না আহাজারী দেখে আমি রাজনীতিবিদগণের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলাম। আমার মনে হয়েছে, ওনাদের জন্যই নিজের জন্মস্থান ত্যাগ করে ঐ সময়টায় মানুষদের ছুটে পালাতে হয়েছে। হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে সম্প্রদায়িক দাঙ্গাটাও ওনাদের তৈরি। ছোটবেলায় যে লবন আন্দেলন দেখেছিলাম, বরিশাল অঞ্চলের মানুষেরা তখন নারিকেল গাছের ডগা পুড়িয়ে ছাই করতো। সেই ছাই একটি জারে তুলে পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখতো। ভিজানো ঐ ছাই থেকে ফোটা ফোটা যে পানিটা পড়তো সেটা লবন পানি। সেই পানি জমা করে জাল দিয়ে লবণ তৈরি করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ছিল বরিশালের মানুষেরা। আমাদের বাড়িতেও ওভাবে লবন তৈরি হতে দেখে যখন দাদুমাকে প্রশ্ন করেছি, দাদুমা উত্তর দিতেন বর্গিরা সব লবন খেয়ে ফেলেছে দিদি।<br />
ঐ সময় মহাত্মগান্ধি বরিশালে ছিলেন। তার উৎসাহে লবন আন্দোলন প্রকট পেলেও আমরা ছোটরা দেখেছি কি অবাধে নারিকেল গাছগুলো ধ্বংস হয়েছে। এক সময়ের নারিকেল রাজ্য বরিশালে আজ নারিকেল তেমন ফলে না সেজন্য এখনো আমি ঐ আন্দোলনকেই দায়ী করি। জানি প্রতিটা আন্দোলনের পিছনে বৃহৎ স্বার্থ কাজ করে, আর সে বৃহৎ স্বার্থকে কুষ্ঠিগত করতে ছোট ছোট ত্যাগ তো স্বীকার করতেই হবে। সে না হয় করলাম। নারিকেল বাগানের ক্ষতি স্বীকার করলাম কিন্তু মানুষের সংসারের সাজানো বাগান ভেঙ্গে আমরা কি পেলাম? </p>
<p>নয়</p>
<p>চুযান্ন সনের যুক্ত ফ্রন্টের নির্বাচন সময়টায় স্কুল বন্ধ থাকায় বাবার বাড়িতে বেড়াতে গেলাম। আমাদের পরিবারে তখন নতুন অতিথি এসেছে। দু’টি ছেলের পর নাজেমের মেয়ের স্বপ্নপূরণ করে ফোয়ারার জন্ম হল।<br />
অনেকদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরলাম। কিন্তু কেমন যেন সব অচেনা ভাব। আমার জন্মস্থানে আমি অতিথি? এটাই মেয়েদের নিয়তী। এই নিয়তীর কথাই ছোটবেল মা ও দাদুর মুখে শুনেছি। তখন বুঝতাম না এখন বুঝি। চারিদিকে এখন অনেক পরিবর্তন। মিঞার হাটটিও বেস জমজমাট হয়ে উঠেছে। দোকান পাটের সংখ্যা বেড়েছে, বেড়েছে বাড়ি ঘর। নারিকেলের ছোবড়া দিয়ে প্রস্তুত বিভিন্ন দ্রব্য সামগ্রী উৎপাদনের জন্যে পূর্ব থেকেই আমাদের গ্রামটি বেশ বিখ্যাত। এখন আবার পাটের তৈরি হস্তজাত শিল্প উৎপাদনে মনোযোগী হওয়ায় দুর দুরান্তের ব্যাবসায়ীদের ভিড় বাড়ছে। অবশ্য ব্যাবসায়ীদের এ ভিড় পূর্ব থেকেই ছিলো। তবে তা শুধু কাঠ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে। ইন্দ্রের হাটের সাথে যোগাযোগ রক্ষার জন্যে কাঠের পুলও তৈরি হয়েছে। আমার বিয়ের সময়েই বাবা তিন চাচাকে আলাদা আলাদা ঘর তৈরি করে দিয়েছিলেন খালের ওপারে। আজাহার চাচা, সফি চাচা ও কফিলউদ্দীন চাচাদের ঘর থেকে সাবাই ছুটে এসে ঘিরে ফেললো। বাড়ি ভর্তি লোক। এপারে বড় চাচা-বাবা এবং ছোট চাচার ঘরেও লোকজন কম নয়। আমার চাচাত বোনদের বিশাল বাহিনী দেখে নাজেম বেচারাতো ভয়ে কাচু মাচু। সবাই ওদের দুলাভাইকে ছুঁয়ে দেখতে চায়। আগেই বলেছি আমাদের বাড়িটা ছিল শিক্ষানূরাগী আধুনিক চিন্তা চেতনায় উদ্বুদ্ধ একটি বাড়ি। পর্দা প্রথা ছিলো না, তবে বাবার কড়াকড়িতে মেয়েরা পুরুষদের সম্মুখে খুব একটা আসতো না। কিন্তু আমার চাচাতো ভাইদের সম্মুখে আসায় নিষেধ ছিলো না। ভাইয়েরা সকলেই খুব ভালো মনের এবং শিক্ষিত হয়ে উঠেছিলো। ইতিমধ্যে কাঞ্চনও বিয়ে করেছে। বড়মামার মেয়ে জোসনাকে বিয়ে করায় বাবা ওর উপর কিছুটা ক্ষুব্দ হয়েছেন। তাই কাঞ্চন বাড়ি ছেড়ে শহরে যেয়ে উঠেছে, খুলনা শহরে। এদিকে আবার মামাত ভাই শমসের আলী ওকালতি পাশ করে রাজনীতিতে জড়িয়েছে। বরিশালে তার অনেক নাম ডাক, আমার ভাই রাজা মিয়া ও চাচতো ভাই বাদশা তখন বাড়িতে ছিলো না। জানতে পারলাম, ওরা চাকুরীর জন্যে কোথাও গিয়েছে। বাবা ওদের জন্য চিন্তায় আছেন। খুব সম্ভব পটিয়ায় চাচাতো ভাই ডাঃ আশরাফউদ্দীন আহমেদের ওখানে আছে বাদশা কিন্তু রাজার কোন সংবাদ-ই নেই।<br />
নূর ও মিজান তখন রীতিমত ছুটোছুটি করে বেড়াচ্ছে। এ বাড়িতে পা রেখে একটা বিষয় খুব স্পষ্ট হলাম যে, আমাদের পারিবারিক রীতি নীতিটা এখনো বজায় আছে এবং চাচাতো ভাইদের মধ্যে আবু বড় মিয়া মারা যাবার পরে সকলের বড় কাঞ্চন হওয়ায় ওর উপরই সব ভাইদের নির্ভরতা এখনো বজায় আছে। কাঞ্চন খুলনায় এবিপি ব্রান্ড ম্যানেজার পদে কাজ করছে। বাবা খুব সম্ভব এ বছর-ই ওকে ওখানে একটা বাড়ি করে দেবেন বলেও আভাস পেলাম। আমাদের ভাইদের প্রত্যেকে যে যেখানে থাকুক না কেন, একে অপরের জন্যে চেষ্টা করবে এটাই স্বাভাবিক। বাবার নির্দেশে ভাইয়েরা যে যেখানে থাকতে পছন্দ করবে সেখানেই একটি বাড়ি তৈরি করে দিতে হবে। “আনিসউদ্দীন কল্যান ট্রাস্ট” নামে এজন্যে একটি সমিতির মত খুলেছিলেন বাবা। সব চাচারাই এই ট্রাস্টে তাদের ব্যবসায়ের লভ্যাংশ জমা রাখতেন। এ ফান্ড থেকেই আনিসউদ্দীন আহমেদের ছেলের ছেলেদের ভবিষ্যত নির্ধারণ করা হয়েছিল। মেয়েদের বিয়ের খরচও এ ফান্ড থেকেই দেওয়া হতো।</p>
<p>দশ</p>
<p>বেইলী রোডের বেইলি হাইটস ভবনের চতুর্থ তলায় বসে স্মৃতির প্রহর গোনা এক বৃদ্ধা আমি, আমার সমপর্যায়ের কেউ-ই এখন জীবীত নেই, ছোট তিন বোন অবশ্য ওদের সংসার নিয়ে এখনো টিকে আছে, তবে ভাইয়েরা সবাই চলে গেছে পৃথিবী ছেড়ে। ফেরদৌসী রহমান শেফালী আমার ছোট বোন থাকে ঢাকাতেই। গুলশানে ওর স্বামী ডা. মাকসুদুর রহমান বাড়ি করেছে একটা। ওর গ্রামের বাড়ি আমাদেরই পার্শ্ববর্তী গ্রাম নান্দুহার। ওরা বিয়ের পর পরই পাকিস্তানে চলে যায়। দীর্ঘ নয় বছর পর হঠাৎ করে নীলফামারীর বাড়িতে এসে আমাকে চমকে দিয়েছিল ওরা। আর সবার ছোট রওশন আক্তার বুড়ি আছে শ্যামলীতে। গৌরনদীতে ওর বিয়ে হয়েছিল। ওর স্বামীর নাম সিরাজুল হক। আমাদের বাবা-চাচারাও কেউ এখন আর বেঁচে নেই। তবে চাচাতো ভাইদের মধ্যে বুঝি শাহাবুদ্দিন কিসলু, মালেক, চারু, আর বাদশা জীবীত আছে এখনো, সেদিন বাদশার ছেলে আমিনুল ইসলাম রন এসেছিল। ওর কাছে জানতে পারলাম, ছোট চাচার ছেলেরা এখনো সবাই বেঁচে আছে। তাদের মধ্যে শুধু তিনজন গ্রামে থাকে। দুলু, তৌহিদ, খালিদ আর জাহিদ। জাহিদ নাকি আবার গ্রামের চেয়ারম্যান হয়েছে। বংশের ঐতিহ্যবাহী কাঠ ব্যবসা এখন জাহিদই ধরে রেখেছে এখনো। বাদশা আর জাহিদ চাচাতো ভাই, বাদশার একেবারে ছোট বোন সুমিকে বিয়ে করে জাহিদ আতœীয়তা পুনরায় দৃঢ় করেছে। ওরা কেউ আসে না। অনেক দূরে সরে এসেছে রক্তের বাঁধন। আমার ছেলেরা চেনে না ওদের মামা, মামাতো ভাইদের, এটাই বুঝি দুনিয়ার নিয়ম, আমার বোনদের সন্তানেরা কে কোথায় কেমন আছে কিভাবে আছে সবই জানি আমি, শুধু দেখা সাক্ষাত হয়ে ওঠেনা। রেনূর সন্তানরা বুঝি সবাই দেশের বাইরে। বুড়ি আর শেফালীর ছেলে মেয়েরাও নাকি দেশের বাহিরে। কাঞ্চনের ছেলে দুটি অবশ্য মাঝে মাঝে আসে।<br />
ও ঘরে সুপ্রভা যেন কার সাথে কথা বলছে, সুদীপ্ত আবার খুব চুপচাপ স্বভাবের। আজ কাওছার আফছানা ফোয়ারা আসবে। আমার একমাত্র মেয়ে, ওর বিয়ে হয়েছে ১৯৮৩ সনে। ওর স্বামী ইমতিয়াজ আহমেদ সর্ম্পকে আমার ভাইস্তা। ছোট ভাই কাঞ্চনের ছোট ছেলেও। এক সন্তানের মা হয়েছে অথচ ছেলেমানুষী এখনো যায়নি। ছোট বেলার মত এখনো নূরকে ক্ষেপাতে পারলে খুশী। মাসে একবার অন্তত তিন ভাই বোনদের একত্র হওয়া চাই। নূরের ভীষণ ব্যস্ততা, আহাদ বা মিজান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তার উপর রাষ্ট্রপতি শাহবুদ্দিন সাহেবের মেয়ে জামাই এ সব বুঝতে রাজী নয় ফোয়ারা। ওর কথা, হোক নেতা, হোক জামাই-আগে সবাই আমার ভাই। দোয়া করি ওদের এ বাঁধন অটুট থাকুক বাকীটা জীবন।<br />
নূরের বউ বেশ লক্ষ্মি মেয়ে। সব কিছু খুব সহজেই মানিয়ে নিতে পারে। বেশ কিছুদিন নীলফামারীর বাড়িতে ছিল ও। খুব মানিয়ে ছিল ওকে ঐ গ্রামের পরিবেশ। আহাদের বউ সেতারা, সাবেক বিচারপতি ও রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন সাহেবের বড় মেয়ে। সচরাচর বড়রা যেমন হয়, খুব সরল সোজা একটি মেয়ে সেতারা। গবেষণার কাজে ব্যস্ত বলে কিছুদিন ওর দেখা পাব না। অথচ খুব ইচ্ছে হয় ওদের দু’বউকে সারাক্ষণ পাশে পাশে রাখতে। আমি মাঝে মধ্যে ওর কাছেও গিয়ে থাকি। মাঝে মধ্যে নীলফামারীর জন্য মনটা খুব কাঁদে। ওখানে বাড়িটা এখন ফাঁকা পড়ে আছে। শুনেছি নূর বাড়িটাকে ভেঙ্গে নতুন করে তৈরি করছে। একটি আম গাছ রয়েছে বাড়িতে, আম ধরে কিনা জানিনা, নাকি কেটে ফেলল নূর। সেদিন আরিফ এসেছিল। নূরের কাজে ও নীলফামারী গিয়েছিল ওর কাছে জানলাম নূর কাটেনি ওটি। যাক রোকেয়ারা সবাই ভাল আছে। গাছটার আমও নাকি ও খেয়েছে। তাহলে এখনো আম ধরে গাছটিতে। সুপ্রভার জন্য আরিফ দুটো ভুট্টা নিয়ে এসেছিল, ক্ষেতের ভুট্টা, ওদিকটায় ভুট্টা বেশ ভাল জন্মে। রোকেয়া নাকি দিয়েছে, ও নাকি আমাদের খুব দেখতে চায়, আমার কাছে একটি চিঠিও লিখেছে। বাড়িটার এখন কী যে অবস্থা কে জানে, ঐ বাড়িটার প্রতিটা স্থানে নাজেমের স্মৃতি রয়ে গেছে। নূর এখন প্রায়শই নীলফামারী যায় কিন্তু ঐ বাড়িতে ওঠে না, ওঠে ওর ফুপুর বাড়িতে। বাড়িটা তৈরি শেষ হলে হয়ত নূর স্থায়ী হবে ওখানে। নূরের মধ্যে ওর বাবার ছায়া পুরোমাত্রায়। দেশ আর মানুষের জন্য ওর যতো ভাবনা। এই নীলফামারীর মানুষের ভালোর জন্যই শেষপর্যন্ত রাজনীতিতে নেমেছে নূর। আওয়ামী লীগ থেকে প্রথম নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভও করেছে।<br />
১৯৭০ সনের প্রথম দিকে বাবা মারা গেছেন। শেষ বয়সে বেশ অসুখে ভুগেছেন বাবা। চিকিৎসার জন্যে তাকে বিদেশে পাঠানো হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। বাবার মৃত্যুর সময় স্বরূপকাঠী গিয়েছিলাম। নূর তখন রীতিমত বড় হয়ে উঠেছে। ছোটবেলা থেকেই ও নাটক-গান-বাজনা, হৈ-হুল্লোড় করে বেড়াতো। ছাত্র হিসেবে ওরা তিন ভাই বোনই বেশ মেধাবী ছিল। নূর যতটা আড্ডা প্রিয়, মিজান ততটাই ঘরমুখী। ছোটবেলা থেকেই মিজান খুব গুরুগম্ভীর স্বভাবের। সবাইকে শাসন করতে খুব ভালবাসতো। আজকে ও যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হবে, তা ওর ঐ ছেলেবেলার চরিত্রে স্পষ্ট হয়েছিল। বাবার স্বভাব পুরোটাই পেয়েছে নূর। ওর বাবাই ওকে উৎসাহ দিতো। স্কুলে কিম্বা কলেজের ছেলে মেয়েদের নিয়ে বিভিন্ন উৎসব ফাংশনে মেতে থাকতে ভালবাসতো নাজেম। নূর এ বয়সেও তেমনি মেতে আছে। মিজান হয়েছে ঠিক আমার মতো, ওকে নিয়ে বেশ তর্ক হতো আমাদের স্বামী-স্ত্রীতে। কিন্তু কাওছার আফসানা আমাদের উভয়ের গুণই পেয়েছে। বাবা মারা যাবার অল্পদিন পরেই মা চলে গেলেন পৃথিবী ছেড়ে। যতদূর মনে পড়ে ১৯৭৩ সনের শেষের দিকে সর্বশেষ সুঠিয়াকাঠী গ্রামে গিয়েছিলাম চল্লিশা উপলক্ষে। আমার ভাইয়েরা খুব বড় করে বাবা-মা উভয়েরই চল্লিশা একসাথে পালন করেছিল সেবার। </p>
<p>এগারো</p>
<p>আমাদের সময়টায় আজকের মত এত পত্রিকার প্রচলন ছিলো না, কলকাতা থেকে প্রকাশিত কিছু কিছু পত্রিকা নীলফামারীতে আবু নাজেম মোহাম্মদ আলীর নামে আসতো। গার্লস স্কুলের লাইব্রেরীতেই থাকতো ওগুলো, এদের মধ্যে যুগান্তর, আনন্দ বাজার ছিলো। পূর্বেই বলেছি বই পড়া আমার নেশা ছিলো। অনেক অনেক বই পড়েছি, এখনো পড়ি। চার্লস ডিকেন্সের বই ছিলো আমার খুব প্রিয়। শওকত ওসমানের ক্রীতদাসের হাসি বইটিও খুব ভাল লেগেছিল। স্কুলে মেয়েদেরকে বই পড়ার জন্যে বলতাম। স্কুল লাইব্রেরীতে ওদের কথা চিন্তা করেই নাজেম কলকাতা থেকে পত্রিকার সাথে বিভিন্ন গল্পের বই আনাতেন। মুসলিম মেয়েরা প্রত্যেকেই বোরকা পড়ে স্কুলে আসতো। প্রথমদিকে কিছু বলতাম না তবে হোস্টেলের ছাত্রীদের মধ্যে আমাকে অনুসরণ করা শুরু হলে ধীরে ধীরে বোরকা কালচার পরিহার করল মেয়েরা, আমি ওদের বুঝাতাম মনের পর্দার কথা। শুধু ওদেরকে নয়, ঘরে ঘরে যেয়ে স্কুলে পড়ার জন্য যখন মেয়েদের ডেকে আনতে হয়েছিল তখন ছলে বলে অভিভাবকদেরকে একথাই বুঝাতে হয়েছিল যে বাইরের পর্দা নয়, সত্যিকারের ধর্মীয় বন্ধনতো উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া। ধর্মীয় সমস্ত শাসনকে নিজের মধ্যে পরিপূর্ণতা দিতে হলে নারী পুরুষ সকলকেই শিক্ষিত হতে হবে। তা না হলে ধর্মীয় অনুশাসন নয় গোঁড়ামি আর কুসংস্কারই বাসা বাঁধবে। আমার মাথার কাঁপড় কখনো পিঠে পড়েনি, রোজা-নামাজ কোনটাই কাঁজা হয়নি। সত্যি বলতে আমি তো ধর্মীয় অনুশাসনের বাইরে নই, একথা বুঝাতে ওদের বেশ বেগ পেতে হয়েছিলো।<br />
এটা সত্য যে মেয়েরা যত তার আব্রু সরিয়েছে ততই তাদের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। দেশ ভাগের পরবর্তী সময়টায়ও ধর্ষণ বা এ জাতীয় কোন শব্দ সমাজে ছিলো না। মেয়েদের সাথে পুরুষের সম্পর্কটা অন্দর মহলের বাইরে তখনো পৌঁছায়নি। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পরই যেন সব কিছু হঠাৎ বদলে যেতে শুরু করল।<br />
১৯৬৫ সনের দিকে আবু নাজেম গার্লস স্কুল ত্যাগ করে বিদ্যানিকেতন নামের একটি কম্বাইন্ড স্কুলের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। শিক্ষা-সংস্কৃতি এবং রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই নাজেমের নাম ডাক ছড়িয়ে পড়েছে মহকুমার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। নূর তখন মেট্রিক দেবে। ছেলেটার মধ্যেও বাবার অনুকরণ স্পষ্ট। ওকে নিয়ে খুব ভয়। কি সব বই পড়ে। আমাকে দেখলে লুকিয়ে ফেলে। বুঝতে পারি কমিউনিজম আদর্শে অনুপ্রাণিত হচ্ছে ও। কিছু বলি না। বললেই নাজেম এসে ওর পক্ষ নেবে। পড়াশুনায় ভালো এটাই যে মঙ্গল। ইতিমধ্যে আমরা নিজেদের অর্জিত আয়ে একটি বাড়ি করতে পেরেছি শহরের দক্ষিণ প্রান্তে। স্কুলের ভবন ছেড়ে এখন নিজেদের বাড়িতেই বসবাস করছি। আমার আর নাজেমের চাকুরীর টাকা জমিয়ে গড়া এ বাড়ির শুধু ভিটেটুকু পাকা করতে পেরেছিলাম। মুলিবাঁশের বেড়া দিয়ে খুব মজবুত দেয়াল গাঁথা হয়েছিলো, উপরে টিন। এ লেখার সূচনা লগ্নে সেভাবেই পড়ে ছিলো বাড়িটি। নাজেম জলপাইগুড়ির জমি বিক্রী করে ফিরে এসে এখানে যে জমি কিনেছিল তার অর্ধেকই চলে গেছে দান খয়রাতে, বাকী যা আছে সেখানে চাষাবাদের জন্য লতিফ নামের একজন চাষীকে বর্গাা দেয়া হয়েছিল। এখনো সে জমি বর্গায় রয়েছে তবে দেখাশুনার দায়িত্বটা রয়েছে নূরের ফুপির উপর।<br />
দেখতে দেখতে মুক্তিযুদ্ধ চলে এল। কলেজে পড়–য়া নূর যুদ্ধের ট্রেনিং নিতে চলে গেল কুচবিহার ক্যাম্পে। আমরা আরো ভিতরে গ্রামে গিয়ে আশ্রয় নিলাম। কিছুদিন ছিলাম নীলসাগর গ্রামে, ওখান থেকে আরো ভিতরে খোকসাহবাড়ি আমাদের বর্গাচাষী লতিফের বাড়িতে ছিলাম বাকীটা সময়। মিজান আর ফোয়ারাকে নিয়েই আমার যত চিন্তা। নয়টি মাস বড় দুঃশ্চিন্তায় ছিলাম। পুরো সময়টাই নাজেম আমাদের আগলে থাকলো। বড় উত্তেজিত ছিল ও। নূরের সংবাদ পাবার জন্য যেখানে সেখানে ছুটে বেড়াতো। হানাদারদের গতিবিধির উপর নজর রাখতো। ঐ সময়টায় নূরের সাথে সমস্ত যোগাযোগ নাজেম একাই রক্ষা করেছিল। আল্লাহর অশেষ মেহেরবাণীতে যুদ্ধ শেষে নূর ফিরে এলো। পরিস্থিতি একেবারে শান্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা খোকসাহবাড়িতেই থেকে গেলাম। তারপর যখন শহরে  ফিরলাম, শহর তখন ফাঁকা বলা যায়। পরিস্থিতি যখন একেবারে স্বাভাবিক হলো পুনরায় পড়াশুনায় মনোযোগী হল নূর। নীলফামারী বয়েজ কলেজ থেকেই এইচএসসি পাশ করল নূর। এই কলেজেরই প্রথম প্রিন্সিপাল আবু নাজেম মোহাম্মদ আলীর নাম আজীবন স্মরণ করবে নীলফামারীর মানুষেরা। বাবার মতোই কলেজ জীবনেই ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িয়ে যায় নূর। খুব সম্ভব একবার কলেজের নির্বাচনও করেছিল। জিএস বা এজিএস কিছু একটা হয়েছিলো ও। তারপরও খুবই ভালো রেজাল্ট করেছিলো এইচএসসিতে।<br />
১৯৭২ সনে নীলফামারী গার্লস স্কুলকে জাতীয়করণ করা হল। এখন স্কুলে হাতে গোনা কিছু মেয়ে সবাই মুসলিম, পুনরায় মেয়েদের পড়াশুনায় উৎসাহিত করার জন্যে ঘরে ঘরে যেয়ে আমি আর নাজেম ডেকে আনতে শুরু করলাম। নূরও ওর বন্ধুদের নিয়ে আমাদের সাহায্য করল। ও এম,এ’তে ভর্তি হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। অল্পদিন পরেই সংবাদ পেলাম রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে ওর চাকুরী হয়েছে। ছাত্র রাজনীতিতে ওর সক্রিয়তা ছিল। ছাত্র ইউনিয়নের সাথে জড়িত থাকার সুবাধে নীলফামারী কলেজে ওর বেশ নাম ডাক হয়েছিল খুবসম্ভবত সেই জন্যেই রাশিয়ান এ্যাম্বাসীর নজরে পড়েও। </p>
<p>৭৩ সনের দিকে হঠাৎ দেখি নূর টেলিভিশনে অভিনয় করছে। আমার মেয়ে ফোয়ারাই প্রথম টেলিভিশনে নূরকে দেখে চিৎকার করে উঠে, “মা দেখ ভাইয়া”। এসব কথা মনে পড়লে আজ আনন্দ যেমন হয়, কষ্টও তেমনি বাড়ে। সবচেয়ে বেশী আনন্দ পেত নাজেম। রাজনীতি পাগল নূর যে অভিনয় পাগল হবে, এতবড় নামী অভিনেতা হবে নাজেম কিন্তু ঠিকই বুঝেছিল। তবে নূর রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ায় একটু বুঝি ক্ষুব্ধও হয়েছিল।<br />
১৯৮১ সনের পাঁচই জানুয়ারী চাকুরী থেকে আমি অবসর নিয়েছি। আর ঠিক ঐ দিন রাতেই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেলেন আবু নাজেম মোহম্মদ আলী। ভেবেছিলাম, এবার তো ছুটি। অফিসের আর কোন ঝামেলা নেই, সকাল হলেই ছুটতে হবে না, রাতে খাতার বান্ডিল নিয়ে বসে থাকতে হবে না। স্বামী-স্ত্রী মিলে হেসে-খেলে বাকী দিনগুলো কাটিয়ে দেব। স্ত্রী হিসেবে ওর প্রতি যে কোনো দায়িত্বই ঠিকভাবে পালন করা হয়নি। বরং চাকুরি ক্ষেত্রে আমার যাবতীয় সমস্যাকে বুক পেতে সমাধান করে গেছে সে। চাকুরীতে দু’বার বদলী হয়েছিলাম। একবার বোর্ড অফিসে আর একবার জামালপুর গার্লস হাইস্কুলে। জামালপুর সরকারী গার্লস হাইস্কুল থেকেই অবসর নিয়েছিলাম। নূরের সাথে সাথে মিজানও মেট্রিক পাশ করে ঢাকাতেই কলেজে ভর্তি হয়েছে। ওরা তখন বখসী বাজারে দু’কক্ষ বিশিষ্ট একটি বাসাতে বসবাস করছে। বোর্ড অফিসে বদলীর সুবাদে আমিও ঢাকায় এসে উঠলাম। জামালপুর স্কুলে বদলী হলেও ছেলে মেয়েদের সুবিধার জন্যে বখ্সী বাজারের বাসাটি আর ছাড়া হয়নি। স্কুল কর্তৃপক্ষ আমার জন্য স্কুল কম্পাউন্ডের ভিতরেই আলাদা থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। শুধু ছুটির দিনে আমি ঢাকায় চলে আসতাম। জামালপুর স্কুল থেকে যেদিন বদলী হব তার আগের দিন সন্ধায় নাজেম নীলফামারী থেকে ঢাকায় চলে আসে। ও খুব ক্লান্ত ছিল। সেজন্য ছেলেমেয়েদের সাথে খুব একটা কথা না বলেই ঘুমোতে চলে যায়। শুধু মিজানকে বলে যায় “ভোর বেলায় তুমি মা’কে আনতে চলে যেও”। মিজান খুব ভোর বেলায় আমাকে নেয়ার জন্যে জামালপুর চলে আসে। সকালবেলা ফোয়ারা কলেজে যাবার আগে বাবাকে এতো বেলা অবধি ঘুমোতে দেখে ডাকতে শুরু করে। কাছে যেয়ে গায়ে হাত দিয়ে ডাকার পরও যখন বাবা ওঠে না, তখন ও চিৎকার করে ওঠে। “দাদু ভাই দেখ বাবা&#8230;&#8230;..”। নূরকে ফোয়ারা দাদুভাই বলেই ডাকে। আমাকে ফোন করে জানান হলো নাজেম খুব অসুস্থ। মিজানকে নিয়ে তাড়াহুড়ো করে ছুটে এলাম। একদিকে অবসর গ্রহণ অন্যদিকে স্বামীর অসুস্থতার সংবাদ সব মিলিয়ে বিপর্যস্থ এক নারী আমি। সন্তানের হাত ধরে ঢাকায় বখ্সী বাজারের ভাড়া বাড়িতে এসে দেখি বাড়ি ভর্তি আত্মীয় স্বজনদের ভিড়। আমার ছোট বোন রেণু ও শেফালী আমাকে দেখেই ছুটে এসে জড়িয়ে ধরলো, ততক্ষণে আমি বুঝি গেছি নাজেম আর নেই। নাজেমের মৃতদেহ নিয়ে আমরা আবার ফিরে গেলাম নীলফামারী। সেখানে আমার শ্বাশুরী অপেক্ষায় ছিলেন তার ছেলের জন্য।<br />
১৯৮২ সালের ১৮ জুলাই আমার শ্বাশুরী বছিরুন্নেছা মারা গেলেন। মৃত্যুর আগে তিনি আমার ননদের কাছে ছিলেন। নাজেমের মৃত্যুতে অনেকটা ভেংগে পড়েছিলেন তিনি।<br />
আমার ননদ রোকেয়া নীলফামারীতেই সংসার সাজিয়েছে। ওর স্বামী আবদুর রহিম একজন স্কুল শিক্ষক। নাজেমের উৎসাহে এবং উদারতায় ওদের বিয়েটা সম্ভব হয়েছিল। যারফলে, সব সময় নাজেমকে ঘীরে থাকতে পছন্দ করতো ওরা। ছোট বোনটিকে নাজেমও খুব ভালবাসতো। ওদের ছেলে মেয়েরাও বেশ বড় হয়েছে। সাত ছেলে/মেয়ে ওদের। খুব সম্ভব পাঁচজন মেয়ে ও দু’জন ছেলে। সবার বড় আহসান রহিম মঞ্জিল নীলফামারীতেই থাকে নতুন সংসার সাজিয়েছে ওরা। নীলফামারী গণগ্রন্থাগারের পরিচালক ও। এই গ্রন্থাগারটি জুড়েও নাজেমের অনেক স্মৃতি। মৃত্যুর আগে নাজেম নীলফামারী থেকে ফিরে আসার কারণটাও বেশ বুঝতে পারি এখন। ও আগে থেকেই বুঝতে পেরেছিল ওর দিন ঘনিয়ে এসেছে। দীর্ঘদিনের সম্পর্কে এটুকু যোগ হয়েছিল যে আমি নাজেমের মুখ দেখেই ওর মনের ইচ্ছে বলে দিতে পারতাম, তেমনি নাজেমও। অবসর গ্রহণ করায় আমার মন খারাপ হয়ে যাবে, আমি হয়তো ঘরে এসে চুপি চুপি কাঁদবো এটা ভেবেই নাজেম আমার আগে ছুটে এসেছে। ঐ দিন ও নীলফামারী থেকে না এলেই বুঝি ভাল ছিলো। আমাকে একা রেখে চলে গেল স্বার্থপরের মতো। এতদিনের এতো উদারতা, এত সেক্রিফাইস্ সব ভূলে গেল।<br />
এরপর দিনগুলো যে কিভাবে কেটেছে বলতে পারবো না। নাজেম জীবিতকালে নূরকে বিয়ের জন্য চাপা চাপি করে লাভ হয়নি কোনো। এবার যেন ও নিজেই যেঁচে বিয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করলো। ১৯৮২ সনের ১৯ নভেম্বর শাহিনা এলো ঘরে। ৮৩ সনের জুলাই মাসে মিজানও বিয়ে করল, একই সময় ফোয়ারাকে বিয়ে দিল ওরা। নূরের দু’টি সন্তান। আরেকুজ্জামান মোহম্মদ আলী (সুদীপ্ত) এবং তাসলিমা জামান (সুপ্রভা)। ফোয়ারার একটি মাত্র ছেলে শাকিল আহমেদ শান্তনু। আহাদুজ্জামান মোহম্মদ আলী (মিজান) একটি মেয়ে সন্তান নাম ইষা শ্রাবণী। আমার বেশীর ভাগ সময়টা ওদের নিয়েই কেটে যেত। নূরের বাড়িতেই থাকা পরে বেশী। আগে মাঝে মধ্যে নীলফামারীর গ্রামের বাড়িতে যেতাম। এখন আর যাওয়া হয় না। বয়স হয়েছে তো, আগের মত হাঁটা চলা ধৈর্য্যে কুলোয় না। যে কোনো সময় এখন চলে যেতে হবে। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া ছিল স্কুল প্রধান হিসেবে প্রথম জীবনে কর্মক্ষেত্রে যোগদান করতে পারা। অনেক ছাত্র &#8211; ছাত্রীকেই নিজের হাতে শিখিয়েছি। চেষ্টা করেছি সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। আমার পৃথিবীতে আসার উদ্দেশ্য কিছুটা হলেও আমি পূরণ করতে পেরেছি। আমি আমার ছাত্রীদেরকে ঝঃঁফবহঃ এর সাতটি বর্ণকে বিশ্লেষণ করে করে শিখিয়েছি। ওরা যেন এ বর্ণগুলোর মর্ম নিজেদের মাঝে ধারণ করতে পারে, আজও সেই প্রার্থনা করি। আজকের সমাজে পত্র-পত্রিকার পাতায় “অহরহ নকলের মহা উৎসব” শুনি। আর আমাদের সময়ে নকল কি জিনিস সেটাই কেউ জানতো না, পরবর্তীতে স্বাধীনতার পড়ে ছেলে মেয়েদের মধ্যে কিছুটা দেখা দেখি করার স্বভব যুক্ত হলেও বই কাগজ ছিড়ে নকল করার চিন্তা কেউই করতো না। আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে যথেষ্ট সম্মান-শ্রদ্ধা-ভালবাসা পেয়েছি। সত্যিকারের শিক্ষক সবসময়ই তা পায়।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%97%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%85%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>চলে গেলেন সত্যসন্ধানী গবেষক দেওয়ান নূরুল : সাঈদ চৌধুরী</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%9a%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%97%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%b8%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%80-%e0%a6%97%e0%a6%ac/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%9a%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%97%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%b8%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%80-%e0%a6%97%e0%a6%ac/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[অতিথি লেখক]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 28 Jul 2021 10:48:42 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কথামালা]]></category>
		<category><![CDATA[স্মৃতিকথা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=4410</guid>

					<description><![CDATA[<p>চলে গেলেন সত্যসন্ধানী গবেষক দেওয়ান নূরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরী<br /> সাঈদ চৌধুরী</p> <p>খ্যাতিমান গবেষক ও সাবেক সচিব দেওয়ান নূরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরী আজ (২৮ জুলাই ২০২১) সকালে চলে গেছেন তার</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%9a%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%97%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%b8%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%80-%e0%a6%97%e0%a6%ac/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>চলে গেলেন সত্যসন্ধানী গবেষক দেওয়ান নূরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরী<br />
সাঈদ চৌধুরী</p>
<p><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/07/দেওয়ান-নূরুল-আনোয়ার-হোসেন-চৌধুরী-১.০.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/07/দেওয়ান-নূরুল-আনোয়ার-হোসেন-চৌধুরী-১.০.jpg" alt="" width="217" height="232" class="alignright size-full wp-image-4411" /></a>খ্যাতিমান গবেষক ও সাবেক সচিব দেওয়ান নূরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরী আজ (২৮ জুলাই ২০২১) সকালে চলে গেছেন তার স্থায়ী ঠিকানায়। ইন্না-লিল্লা-হি ওয়া ইন্না-ইলাইহি রা-জিউ‘ন।<br />
বাংলাদেশে সিভিল সার্ভিসে শিষ্টাচার, সততা, যোগ্যতা ও ন্যায়পরায়ণতায় ‘আইকন‘ হিসেবে পরিচিত দেওয়ান নূরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরী ছিলেন সত্যসন্ধানী গবেষক। জালালাবাদ অঞ্চলের ইতিহাস ও সমাজ-সংস্কৃতি বিষয়ে গবেষণা করে বিশাল ঐতিহাসিক কাজ তিনি করে গেছেন। ইতিহাসের বর্ণনায় তৎকালীন সামাজিক প্রেক্ষাপটের জটিল বিষয় বিশেষ নৈপুণ্যের সঙ্গে তিনি খুলে দিয়েছেন।<br />
হযরত শাহ জালাল (র.) সহ সিলেটরে ইতিহাস নিয়ে যারা গভীর গবেষণা করেছেন, পুরানো কাগজপত্র ও দলিল-দস্তাবেজ ঘেঁটে অনুসন্ধান করেছেন, দেওয়ান নূরুল আনোয়ার তাদের মধ্যে শীর্ষ স্থান অধিকার করে আছেন। শাহ জালালের (র.) সিলেট আগমন, ইবনে বতুতার সফর থেকে শুরু করে সিলেটের সাথে আরব জাহানের যোগসূত্রের সন্ধান, প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক কীর্তি, শিলালিপি ও নিদর্শনের বিবরণ, সিলেটি নাগরি ভাষা, মুসলমান সমাজের লৌকিক আচার-অনুষ্ঠান, লেখক-সাহিত্যিকদের পরিচিতি ইত্যাদি নির্মোহ ভাবে দলিল সহকারে তুলে ধরেছেন।<br />
<a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/07/দেওয়ান-নূরুল-আনোয়ার-হোসেন-চৌধুরী-১.২.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/07/দেওয়ান-নূরুল-আনোয়ার-হোসেন-চৌধুরী-১.২.jpg" alt="" width="178" height="283" class="alignleft size-full wp-image-4413" /></a>দেওয়ান নূরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর লেখায় বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচলে পড়তে হয়না। তার গবেষণায় অতীতের সামগ্রিকতা সম্বন্ধে যাথানুপাতিক ধারণা মিলে। সহজ ভাষায় সমকালের সব রকমের রূপ-রেখা-শব্দ-গন্ধ-স্পর্শ সহ বর্ণিত হয়েছে। দেশ-বিদেশের উপাদান ও উপকরণ সংগ্রহ করে তিনি ইতিহাসের পুনর্মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণ করেছেন। তিনিই প্রমাণ করেছেন, সিলেট থেকে ভাষা আন্দোলন সহ বাংলাদেশের জাতীয় চেতনা ও স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেরণা সঞ্চারিত হয়েছে। বিখ্যাত ইতিহাসবিদরা তার তথ্য মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন। এমনকি নিজেদের ভুল শুধরে নিয়েছেন।<br />
দেওয়ান নূরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সাথে যখনই মিলিত হয়েছি, সিলেট অঞ্চলের ইতিহাস নিয়ে কথা বলতেন। তিনি মনে করতেন, তুচ্ছ ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা মিলেই ইতিহাসের সামগ্রিকতা গড়ে ওঠে। আর প্রতিটি ঘটনাই ইতিহাসের প্রক্রিয়ায় কারণিক প্রভাব বিস্তার করে। এজন্য ইতিহাসের প্রক্রিয়াকে নিবিড়ভাবে বুঝতে হলে সব রকমের ঘটনারই বিশ্লেষণ নিতান্ত প্রয়োজন।<br />
দেওয়ান নূরুল আনোয়ার ইউরোপে সিলেটিদের ছড়িয়ে পড়ার ইতিহাস সম্পর্কে নানা রকম প্রশ্ন করতেন। এখানকার প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিক যুগের সাথে সিলেটের ঐতিহাসিক বন্ধন আবিষ্কার করতেন। এর স্বপক্ষে অনেক নতুন তথ্য তিনি প্রমাণসহ পেশ করতেন। তিনি গর্ব করে বলতেন, সিলেটের মত বিশ্বের অনেক অঞ্চল এতোটা ইতিহাস সমৃদ্ধ নয়।<br />
বাংলা একাডেমি থেকে দেওয়ান নূরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর অনেকগুলো মূল্যবান গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। জালালাবাদের কথা, সিলেট বিভাগের ইতিহাস ও স্বাধীনতা সংগ্রামে সিলেট সহ অসংখ্য মূল্যবান গ্রন্থ উপহার দিয়েছেন তিনি। আমাদের ইতিহাস তার রচনায় বিপুল ভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে।<br />
<a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/07/দেওয়ান-নূরুল-আনোয়ার-হোসেন-চৌধুরী-১.১.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/07/দেওয়ান-নূরুল-আনোয়ার-হোসেন-চৌধুরী-১.১-238x300.jpg" alt="" width="238" height="300" class="alignleft size-medium wp-image-4412" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/07/দেওয়ান-নূরুল-আনোয়ার-হোসেন-চৌধুরী-১.১-238x300.jpg 238w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/07/দেওয়ান-নূরুল-আনোয়ার-হোসেন-চৌধুরী-১.১.jpg 270w" sizes="auto, (max-width: 238px) 100vw, 238px" /></a>দেশ বরেণ্য এই কৃতি ব্যক্তিত্ব ১৯৩৯ সালে সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার সদরঘাট গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন ৷ তার কর্ম জীবন শুরু হয়েছিল সিলেট জজ কোর্টে আইন পেশার মাধ্যমে। ১৯৬৯ সালে তিনি ইস্ট পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন৷ সমৃদ্ধ কর্মজীবনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, শ্রম ও কর্মসংস্থান, সংস্থাপন ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উপসচিব, দুর্নীতি দমন ব্যুরোর ডাইরেক্টর এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ছিলেন৷ ১৯৯৭ সালে যুগ্ম সচিব হিসেবে অবসর গ্রহন করেন ৷<br />
দেওয়ান নূরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরী তার বিশাল কর্মগুণে আমাদের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন। মৃত্যুকালে ৩ পুত্র, নাতি-নাতনি সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার স্ত্রী সৈয়দা তাহেরা খাতুন চৌধুরী ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ এ বি মাহমুদ হুসেন সাহেবর কন্য৷ সৈয়দা তাহেরা গত বছর ইন্তেকাল করেছেন।<br />
মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি ৷ মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%9a%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%97%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%b8%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%80-%e0%a6%97%e0%a6%ac/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>দেখা থেকে লেখা : সরেজমিনে ভোট কেন্দ্র</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9c%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%ad/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9c%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%ad/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আরিফ আহমেদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 23 Jun 2021 16:35:08 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কথামালা]]></category>
		<category><![CDATA[স্মৃতিকথা]]></category>
		<category><![CDATA[ভোট কেন্দ্র]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=4301</guid>

					<description><![CDATA[<p>ফাঁকা মাঠে গোল<br /> ফাটাই নিজের ঢোল<br /> মন যা চায় করি<br /> পরের ধনে পোদ্দারি।।।।</p> <p>(যেহেতু বিএনপি নির্বাচন বয়কট করেছে, তাই নিজেদের মধ্যে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগের</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9c%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%ad/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><div id="attachment_4295" style="width: 310px" class="wp-caption alignleft"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/06/NIK-21.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-4295" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/06/NIK-21-300x225.jpg" alt="" width="300" height="225" class="size-medium wp-image-4295" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/06/NIK-21-300x225.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/06/NIK-21-768x576.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/06/NIK-21-1024x768.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-4295" class="wp-caption-text">টুঙ্গিবাড়িয়া ভোট কেন্দ্র</p></div>ফাঁকা মাঠে গোল<br />
ফাটাই নিজের ঢোল<br />
মন যা চায় করি<br />
পরের ধনে পোদ্দারি।।।।</p>
<p>(যেহেতু বিএনপি নির্বাচন বয়কট করেছে, তাই নিজেদের মধ্যে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগের এই নির্বাচনে কোনো সংঘাত আশা করেন নাই বরিশালের সচেতন নাগরিক সমাজ। তারপরও বেলা বারোটার মধ্যে দুইজন নিহত ‍এবং সন্ধ্যার পরে ‍একজনসহ শতজন আহত হবার সংবাদে আমরাও আহতদের দলভুক্ত হলাম। সালাম মহাশয় সালাম)</p>
<p>২১ জুন সোমবার ২০২১। বরিশাল বিভাগের ১৭৩ টি ইউপিতে সকাল আটটা থেকেই ৯ লাখ ২০ হাজার ৩৩০ এবং পুরুষ ৪ লাখ ৬৮ হাজার ১৩৩ জনের ভোট গ্রহন শুরু হয়েছে। চারিদিকে থেকে প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য আমাকে উৎসাহিত করলো কোনো একটি কেন্দ্র সরাসরি কাছ থেকে দেখার। কীর্তনখোলা পত্রিকার সম্পাদক ও ঢাকার এসএ টিভির  বরিশাল প্রতিনিধি সালেহ টিটু বললেন,  চলেন শহরের বাইরে টুঙ্গিবাড়িয়া ইউপি পর্যবেক্ষণ করে আসি। দুই বন্ধু বাইক নিয়ে ছুটলাম।<br />
বেলা ৯টা ৩৫ এ আমরা বারইকান্দি কেন্দ্রের কাছে পৌঁছে থমকে গেলাম। কাঁচা সড়ক। বৃষ্টিতে হাটু কাঁদা। সকাল সাতটা থেকেই বরিশাল অঞ্চলে বৃষ্টি চলছে। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে শুধু আমরা নই শত শত মহিলা পুরুষ ভোটার চলছেন ভোট কেন্দ্রের দিকে।যা ‍আমার কাছে ‍একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল। কেনেনা ‍আমি পরিস্থিতি যা দেখেেছি ও যেসব মন্তব্য গত দুমাসে শুনেছি তার সাথে ‍এই চিত্রের কোনো মিল নেই।কারণ ‍এখানের সবাই ‍একবাক্যে ‍আওয়াম লীগ সমর্থক। তাই ‍আওয়ামী লিগের ভোটের প্রয়োজন নেই বলেই সকলের ধারণা।</p>
<p>যাইহোক বারইকাঠী কেন্দ্রর অনেকটা ‍আগেই দাঁড়িয়ে ‍আমরা যখন ভোটারদের কাদামাখা যাত্রাপথ দেখছি ঠিক তখন ভোটারদের একজন বললেন, এই সেন্টারে মোটরসাইকেল নিয়ে যেতে পারবেন না। তাছাড়া এখানে ভোটারও কম। আপনারা পতাং, সিংহেরকাঠী বা টুঙ্গিবাড়িয়া সেন্টারে যান। ওখানে মোটরসাইকেল নিয়ে সহজে যেতে পারবেন। আর ওই দুটো কেন্দ্রই গুরুত্বপূর্ণ।<br />
সুন্দর পিচঢালা পথে আমরা পৌঁছলাম পতাং মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। অবাক বিস্ময়ে দেখলাম আবালবৃদ্ধবনিতা উৎসব আমেজে ঘীরে আছেন ভোটকেন্দ্রের তিনপাশে। চারপাশে নয়, কারণ, একপাশে গ্রামের বাড়িঘর লোকালয়।  </p>
<p><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/06/NIK-21-2.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/06/NIK-21-2-300x225.jpg" alt="" width="300" height="225" class="alignright size-medium wp-image-4297" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/06/NIK-21-2-300x225.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/06/NIK-21-2-768x576.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/06/NIK-21-2-1024x768.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>আমরা ভিতরে প্রবেশ করে আরো হতভম্ব হলাম। নারীদের দীর্ঘলাইন। স্বতঃস্ফূর্ত লাইন পুরুষদেরও। এটা আমরা আশাই করিনি। দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা মনির জানালেন, ‍এটা গুরুত্বপুর্ণ কেন্দ্র। তাই টহলরত বিজেবি ছাড়াও এখানের কেন্দ্রে কর্মকর্তাসহ ২৫ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। আছেন মোবাইল টিম ও আনসার সদস্য।<br />
আমরা ‍এই কেন্দ্রের ‍একটি মাত্র দরজা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করশাম। চারপাশে দেয়াল ঘেরা চমৎকার নিরাপত্তাবেষ্টনীর ‍একটি ভোটকেন্দ্র ‍এটি। হঠাৎই দরজায় কিছুটা শোরগোলে ‍আমরা ‍এগিয়ে গেলাম।<br />
থুরথুরে বৃদ্বাকে দেখে আমাদের ক্যামেরা আর চুপ থাকতে পারলোনা। নাতির কোলে চড়ে দাদি এলেন ভোট দিতে। ভাঙ্গা ভাঙ্গা ফোকলা দাঁতে আনন্দের সাথে জানালেন,  কতবছর পর একটা ভোট দেবার সুযোগ পাইছি। গতবারতো আমার ভোট ভুতে দিছিলো। মরি না বাঁচি এইবার ভোটটা দিয়া যাই।<br />
ভোট দেয়া হলে বৃদ্ধার পিছু নিলাম। কেন্দ্র থেকে অনেকটা দূরে সরে গিয়ে জানলাম তিনি ‍আওয়ামী লীগ সমর্থক দাবী করে ভোট দিয়েছেন নাদিরা রহমান, চশমা মার্কায়। আরো জানলাম, পথে কম হরেও দশজনই ‍আমাকে জানালেন, অনেকটা ‍ইচ্ছে করেই জানালেন ‍এখানের সবাই ‍আওয়ামী লীগ। ‍আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্প নাই।<br />
চেয়ারম্যান পদে টুঙ্গিবাড়িয়া ইউপিতে মোট পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ‍আওয়ামী লীগের নৌকা নিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান বাহাউদ্দীন আহমেদ। একবারেই নবাগত একজন সাবেক সরকারী ‍উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সহধর্মিনী নাদিরা রহমান চশমা মার্কা।  আনারস নিয়ে মাসরুর আলম নাসির মিয়া, ঘোড়া মার্কা নিয়ে জব্বার মোল্লা ‍এবং  হাতপাখা প্রার্থীর নামই জানেনা এখানের অনেকে । নিতান্ত নিরিহ প্রকৃতির মানুষ মোকলেছুর রহমান।<br />
এখানের ঘুড়ি মার্কার মেম্বর প্রার্থী মামুন জানালেন, মোট নয়টি ভোট কেন্দ্র এখানে।<br />
ধোপাকাঠি, বারইকান্দি, সিংহের কাঠি বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু অন্যগুলোতে সুযোগ পেলেই হাঙ্গামা হয়। পতাং কেন্দ্রতে প্রায় তিনহাজার (২৮৫৬) ভোটার রয়েছে। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র কারন চেয়ারম্যান প্রার্থী তিনজনের বাড়ি এখানে কাছাকাছি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টুঙ্গবাড়িয়া। ওখানে ৩২০০ ভোটার। </p>
<p>আমরা ভিতরে মহিলাদের দীর্ঘ লাইনে যখন মুগ্ধ ঠিক তখন বাহিরে একটা হট্টগোল পুলিশের বাঁশির হুইশেলে একটা আতঙ্ক টের পেলাম।বাহিরে উঁকি দিয়ে বিষয়টি কি জানার চেষ্টা। কোনো এক প্রার্থীর সমর্থক তখন ব্যালট ছিনতাই ব্যালট ছিনতাই বলে গান গাওয়ার চেষ্টা করে এলাকায় গন্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করছে।  পুলিশ তাকে তাড়া করলে সে পালিয়ে যায়।<br />
বেলা ১১টা ৩০। টুঙ্গবাড়িয়ার ভোটকেন্দ্র থেকে ফোন এলো। কাশিপুর, জাগুয়া ও চরবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিরা অবশ্য বিচ্ছিন্ন কিছু বিশৃঙ্খলার কথা বললেন।  তবে ভোটারদের উপস্থিতি তা দূর করে দিয়েছে। বলা চলে সবখানে একইচিত্র। উৎসব আমেজে নারী-পুরুষের ভোট প্রদানের এই দৃশ্য ২০০১ এর নির্বাচনকে স্মরণ করিয়ে দিলো।<br />
এদিকে ভোলা পটুয়াখালী , বরগুনা,  ঝালকাঠি ও পিরোজপুরের অবস্থা জানতে ব্যাকুল আমি। বন্ধু সালেহ টিটু বললেন,  একটু ধৈর্য ধরুন।  সব পাবেন।  বেলা বারটায় এসএটিভির লাইভ সম্প্রচার পতাং কেন্দ্র থেকে।  তারপরই ব্যবস্থা করছি। টিটু তার লাইভ প্রোগ্রাম শুরু করলেন&#8230; ।<br />
লাইভ শেষ করেই সালেহ টিটু ফোনে কয়েকজন প্রতিনিধিকে ফোন করে সদরের ৪টি ইউপির সংবাদ নিলেন। জানা গেল  মুলাদির ছবিপুর এলাকায়,  উজিরপুরে ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা ও হিজলায় হরিনাথপুর ইউনিয়ন এর ৬ নং ওয়ার্ড বদরটুনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্র দখল করে নেয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। অন্য সব কেন্দ্রে সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচনের সংবাদ পাওয়া গেল। তবে সবজায়গায় মেম্বর প্রার্থীদের মধ্যে একটা গন্ডগোল পাকানোর চেষ্টা ছিল।<br />
এদিকে জেলার ৫০টি ইউপির নির্বাচন সম্পর্কে বেলা দুটা পর্যন্ত কিছু পৃথক বিশৃঙ্খলা ছাড়া শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের সংবাদ পাওয়া গেছে। তবে ভোলা ও বরগুনায় ব্যাপক সহিংসতা ঘটেছে বলে জানা গেছে।  চারটার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে আশা করছি।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9c%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%ad/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
