<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>স্বাধীন চৌধুরী &#8211; সাহিত্য বাজার</title>
	<atom:link href="https://shahittabazar.com/author/swadheen/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://shahittabazar.com</link>
	<description>সাহিত্যের আয়নায় মানুষের মুখ</description>
	<lastBuildDate>Wed, 22 Oct 2025 06:38:18 +0000</lastBuildDate>
	<language>bn-BD</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.4</generator>
	<item>
		<title>বর্ণচোরা সংস্কৃতিকর্মীঃ মুখোশ পরা ভদ্রলোক</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a6%9a%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%80%e0%a6%83/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a6%9a%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%80%e0%a6%83/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[স্বাধীন চৌধুরী]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 22 Oct 2025 06:37:28 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জাতীয়]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলার চিঠি]]></category>
		<category><![CDATA[ময়মনসিংহ বিভাগ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=5830</guid>

					<description><![CDATA[<p>বর্ণচোরা সংস্কৃতিকর্মীঃ মুখোশ পরা ভদ্রলোক<br /> স্বাধীন চৌধুরী</p> <p>১. ভূমিকাঃ সংস্কৃতির মঞ্চে ছায়া ও আলোর লড়াই<br /> বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন একসময় ছিল মুক্তচিন্তার উর্বর ক্ষেত্র, প্রতিরোধের মঞ্চ, সমাজবদলের মুখ্য স্থান</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a6%9a%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%80%e0%a6%83/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>বর্ণচোরা সংস্কৃতিকর্মীঃ মুখোশ পরা ভদ্রলোক</strong><br />
<strong>স্বাধীন চৌধুরী</strong></p>
<div id="attachment_5758" style="width: 310px" class="wp-caption alignright"><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/09/FB_IMG_1758988495670.jpg"><img fetchpriority="high" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-5758" class="size-medium wp-image-5758" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/09/FB_IMG_1758988495670-300x296.jpg" alt="" width="300" height="296" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/09/FB_IMG_1758988495670-300x296.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/09/FB_IMG_1758988495670.jpg 486w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-5758" class="wp-caption-text">লেখক স্বাধীন চৌধুরী</p></div>
<p>১. ভূমিকাঃ সংস্কৃতির মঞ্চে ছায়া ও আলোর লড়াই<br />
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন একসময় ছিল মুক্তচিন্তার উর্বর ক্ষেত্র, প্রতিরোধের মঞ্চ, সমাজবদলের মুখ্য স্থান । কিন্তু আজকাল দেখা যায়, সেই মঞ্চের বহু আলো নিভে গেছে, আর মুখোশ পরে এসেছে অচেনা মানুষ।<br />
এরা নিজেদের বলেন ‘সংস্কৃতিকর্মী’- কিন্তু এরা সংস্কৃতির নয়, সুবিধার কর্মী।<br />
যে হাতে একদিন ছিল প্রতিবাদের প্ল্যাকার্ড, সেই হাতেই আজ চামচা; যে কণ্ঠে ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সুর, সেই কণ্ঠ এখন ক্ষমতার বন্দনা গায়।<br />
এই বর্ণচোরা সংস্কৃতিকর্মীরাই আজ বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিসরে এক ভয়ংকর সংকটের নাম।</p>
<p>২. বর্ণচোরার সংজ্ঞা ও প্রকৃতিঃ<br />
&#8216;বর্ণচোরা&#8217; শব্দটি শুধু রঙ পাল্টানো নয়, নীতি ও আদর্শ বদলের এক আত্মবিকৃতি।<br />
একজন শিল্পীর মুখ্য ধর্ম হলো সত্যের প্রতি অনুরাগ- যে সত্য কখনও সুবিধাজনক নয় বরং ঝুঁকিপূর্ণ।<br />
কিন্তু বর্ণচোরা সংস্কৃতিকর্মী সেই ঝুঁকিকে এড়িয়ে চলে; সে আদর্শের পোশাক পরে প্রবেশ করে মঞ্চে, তারপর অচিরেই বিক্রির বাজারে ঢোকে।<br />
এরা সমাজে সংস্কৃতির প্রতিনিধি নয়, সংস্কৃতির বিকৃত প্রতিচ্ছবি।<br />
এদের মুখে সক্রেটিস, রবীন্দ্রনাথ, জিবরান, নজরুল, লালনের নাম থাকে; কিন্তু হৃদয়ে থাকে সুবিধা, লেনদেন, তোষণ ও পৃষ্ঠপোষকতার নরম বিছানা।</p>
<p>৩. ইতিহাসে মুখোশধারীরা: ব্রিটিশ আমল থেকে পাকিস্তানকালঃ<br />
সংস্কৃতির ইতিহাসে এই মুখোশধারীদের অভাব ছিল না।<br />
ব্রিটিশ আমলে কিছু ‘বাবু’ শ্রেণির লোক শিল্পচর্চার নাম করে ব্রিটিশ রাজের গৌরবগাথা গেয়েছেন, যাতে পদক ও অনুগ্রহ মেলে।<br />
যেখানে রবীন্দ্রনাথ &#8216;দাসত্বের জয়গান&#8217; প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, সেখানে অন্যরা কোলকাতার সভাগৃহে দাঁড়িয়ে বিদেশি প্রভুর প্রশস্তি গাইছিলেন- তারা ছিলেন সংস্কৃতির প্রথম প্রজন্মের বর্ণচোরা।<br />
পাকিস্তান আমলে এই মুখোশধারীরা নতুন রূপ নিল।<br />
তখন অনেক সংস্কৃতিকর্মী সাহস করে মাতৃভাষার পক্ষে রাস্তায় নেমেছিলেন, কিন্তু কিছু তথাকথিত &#8216;শিল্পসেবী&#8217; রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত প্রচারক হয়ে গেলেন-যারা বেতার, মঞ্চ ও নাটকের মাধ্যমে শাসকের ভাষানীতি ও ধর্মভিত্তিক বিভাজনকে বৈধতা দিতেন।<br />
তারা ‘সংস্কৃতি’ নামের পতাকা বয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন রাষ্ট্রের দালানে, কিন্তু তাতে ছিল না কোনো জনগণের চিহ্ন।</p>
<p>৪. স্বাধীনতার পর: সংস্কৃতির রাজনীতি ও রাজনীতির সংস্কৃতিঃ<br />
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সংস্কৃতি হয়ে ওঠে রাষ্ট্রগঠনের এক অন্যতম স্তম্ভ।<br />
কিন্তু সেই মুক্তচেতনার মঞ্চ ধীরে ধীরে দখল করে নেয় সুবিধাবাদী গোষ্ঠী।<br />
যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় নীরব ছিলেন, তারাই পরবর্তীকালে সংস্কৃতি-রাজনীতির পুরোভাগে চলে আসেন।<br />
শিল্পচর্চা হয়ে ওঠে এক ধরনের &#8216;প্রতিষ্ঠার রাজনীতি&#8217;- যেখানে প্রতিভার চাইতে বেশি দামি হয়ে ওঠে যোগাযোগ, তোষামোদ আর ক্ষমতাসীন দলের নৈকট্য।<br />
আধুনিক কালে সংস্কৃতি উৎসব, সাহিত্য পুরস্কার, মঞ্চ, গ্যালারি- সব জায়গায় দেখা যায় এই প্রবণতার প্রতিফলন।<br />
যে শিল্পী প্রতিবাদের প্রতীক হওয়ার কথা, সে এখন সরকারের উন্নয়ন প্রচারণার মুখপাত্র;<br />
যে কবি স্বাধীনতার বেদনা নিয়ে লিখতেন, সে এখন আমলাতন্ত্রের করতালির অপেক্ষায়।</p>
<p>৫. মুখোশের অন্তরালে আদর্শহীনতাঃ<br />
বর্ণচোরা সংস্কৃতিকর্মীর সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো- তার আত্মবিস্মৃতি।<br />
সে জানেই না কেন শিল্পচর্চা করে।<br />
একদিন মানবতার পক্ষে গেয়ে এখন সে গায় রাজনৈতিক জিঙ্গেল;<br />
একদিন যে নাটকে ছিল প্রতিরোধ, এখন সেখানে আছে ‘স্পন্সরড’ হাস্যরস ও ফাঁপা দেশপ্রেম।<br />
এরা মুক্তচিন্তার স্থানে স্থাপন করেছে ‘সাংস্কৃতিক ভদ্রতা’- যেখানে প্রতিবাদ অশোভন এবং ক্ষমতার প্রতি প্রশ্ন অশালীন।<br />
এই ভদ্রতার আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়ের সংস্কৃতি।<br />
সংস্কৃতির মঞ্চ আজ অনেক সময় ক্ষমতার বর্ধিত শাখা হয়ে গেছে- যেখানে স্বাধীন শিল্পীর জায়গা সংকুচিত, কিন্তু মুখোশধারী সংস্কৃতিকর্মীর উত্থান নিরবচ্ছিন্ন।</p>
<p>৬. আজকের বাংলাদেশ: মিডিয়া, পৃষ্ঠপোষকতা ও সাংস্কৃতিক বিকৃতিঃ<br />
বর্তমান বাংলাদেশে সংস্কৃতি ও মিডিয়া পরস্পরের সঙ্গে জড়িত।<br />
যেখানে শিল্পী মানে ব্র্যান্ড, গান মানে ইউটিউব ভিউ, আর নাটক মানে স্পন্সরের কন্টেন্ট।<br />
এই বাস্তবতায় বর্ণচোরারা আরও প্রবল হয়ে উঠেছে।<br />
তারা জানে কাকে খুশি করতে হবে, কাকে প্রশংসা করতে হবে এবং কখন মুখ বন্ধ রাখতে হবে।<br />
তারা ‘নিরপেক্ষতা’র মুখোশ পরে থাকে, কিন্তু সেই নিরপেক্ষতা ক্ষমতার পাশে দাঁড়ানোর কৌশল মাত্র।<br />
তারা কোনো রাজনৈতিক শিবিরের বিরুদ্ধে কথা বলে না, আবার কোনো মানবিক অন্যায়ের বিরুদ্ধেও নয়- কারণ তাদের মুখে হাসি, হাতে সেলফি, বুকপকেটে পাস।<br />
এভাবে সংস্কৃতি হয়ে উঠেছে এক বাণিজ্যিক পণ্য, আর সংস্কৃতিকর্মী এক চতুর ব্যবসায়ী।</p>
<p>৭. ঐতিহাসিক ও নৈতিক উদাহরণ: সত্যিকারের সংস্কৃতিকর্মীদের বিপরীতেঃ<br />
যখন বর্ণচোরারা সুবিধার জন্য মুখোশ পরে ঘুরছে, তখন ইতিহাসে আমরা দেখি তাদের বিপরীতে দাঁড়ানো সত্যিকারের সংস্কৃতিকর্মীদের দল-<br />
নজরুল ইসলাম, যিনি ক্ষমতার প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, &#8216;আমি বিদ্রোহী রণক্লান্ত, আমি সেই দিন হব শান্ত, যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দনরোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না।&#8217;<br />
লালন ফকির, যিনি সমাজের ভণ্ড ধর্মবাজদের মুখোশ খুলে দেখিয়েছিলেন মানুষ নামের মহাসত্য।<br />
চিন্তাশীল নাট্যকার সেলিম আল দীন, কবি আল মাহমুদ, চলচ্চিত্রকার তানভীর মোকাম্মেল- তাঁরা প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গায় সত্য বলার দায় নিয়েছিলেন।<br />
তাদের শিল্প বাণিজ্যিক ছিল না,  ছিল মানবিক; তারা জনতার কণ্ঠস্বর ছিলেন, পৃষ্ঠপোষকের নয়।<br />
বর্ণচোরা সংস্কৃতিকর্মীরা এই সত্যিকারের শিল্পীর বিপরীতধর্মী সত্তা- তাদের মধ্যে নেই কোনো আত্মত্যাগ, কেবল আত্মপ্রচার।</p>
<p>৮. সংস্কৃতির নৈতিক সঙ্কট: মঞ্চে মুখোশ, অন্তরে শূন্যতাঃ<br />
আজকের সাংস্কৃতিক পরিসরে আমরা দেখি এক বিভ্রান্ত চিত্র-<br />
যেখানে উৎসব আছে, কিন্তু আত্মা নেই; গান আছে, কিন্তু কথা নেই; নাটক আছে, কিন্তু প্রতিবাদ নেই।<br />
সংস্কৃতি আজ অনেক সময় হয়ে উঠেছে ‘ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট&#8217;-<br />
যেখানে শিল্পী নয়, জনপ্রিয়তা মুখ্য;<br />
যেখানে কবিতা নয়, স্লোগান বিক্রি হয়;<br />
যেখানে দর্শকের চোখে জল নয়, সেলফির হাসি।<br />
এই হলো মুখোশধারী ভদ্রলোকের যুগ- যারা নিজেদের সভ্য, শিক্ষিত ও প্রগতিশীল বলেন, কিন্তু তাঁদের সংস্কৃতি মাটি ও মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন।</p>
<p>৯. পুনর্জাগরণের আহ্বানঃ<br />
তবু সব শেষ হয়ে যায়নি। বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে এখনো তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আছে কিছু আলোকিত মানুষ, যারা বর্ণচোরা পথকে প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজকে প্রশ্ন করছে।<br />
তাদের কণ্ঠে এখনো আছে প্রতিবাদ, ভালোবাসা ও নৈতিকতার উচ্চারণ।<br />
প্রয়োজন এক নতুন সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ-যেখানে শিল্পী আবার সত্য বলবে, ঝুঁকি নেবে, মানুষের পাশে দাঁড়াবে।<br />
সংস্কৃতি তখনই বেঁচে থাকবে, যখন তা হবে আত্মা ও সমাজের মেলবন্ধন, হবে না কোনো বিজ্ঞাপন বা মুখোশের প্রদর্শনী।</p>
<p>১০. মুখোশ খুলে দেখার সময়ঃ<br />
বর্ণচোরা সংস্কৃতিকর্মীরা সাময়িকভাবে সফল হতে পারে, কিন্তু ইতিহাসে টিকে থাকে না।<br />
ইতিহাস মনে রাখে সত্যিকারের শিল্পীদের, যারা নির্ভীকভাবে উচ্চারণ করেন মানুষের বেদনা ও মুক্তির স্বর।<br />
আজকের বাংলাদেশে সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো- মুখোশ নয়, মুখ দেখা।<br />
আমাদের সময়ে দরকার এমন শিল্পী, যিনি ভদ্রলোকের মুখোশ খুলে বলতে পারেন,<br />
&#8216;আমি মানুষের প্রতিনিধি, ক্ষমতার নই।&#8217;<br />
সংস্কৃতির পুনর্জন্ম শুরু হয় সেখানেই- যেখানে সত্য আবার কবিতার মতো উচ্চারিত হয়।<br />
বর্ণচোরা সংস্কৃতিকর্মীরা নেতিবাচক সামাজিক রূপান্তরের &#8216;ব্ল্যাক আইকন&#8217;। এরা নীতি হারানো স্বার্থের অন্ধকারে নিমজ্জিত ব্যক্তি,ব্যবসায়ী।<br />
ইতিহাস, সাহিত্য ও দর্শনের মাধ্যমে আমরা দেখেছি- &#8216;সংস্কৃতি টিকে থাকে সত্যে; মুখোশে নয়।&#8217; তাই আশাবাদিতার উত্তরণও এখান থেকেই; প্রয়োজন মুখোশের উন্মোচন, জবাবদিহিতা ও প্রার্থিত সংস্কার।</p>
<p>তথ্যসূত্রঃ<br />
১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সভ্যতার সংকট, (১৯৪১)-<br />
আধুনিক সভ্যতার ভণ্ডামি, নৈতিক অবক্ষয় ও আত্মবিস্মৃত সমাজ নিয়ে রবীন্দ্রনাথের দার্শনিক বিশ্লেষণ, যা আজকের &#8216;বর্ণচোরা&#8217; সংস্কৃতির সঙ্গে আশ্চর্যভাবে মিলে যায়।<br />
২. কাজী নজরুল ইসলাম, সাম্যবাদী, বিদ্রোহী, ও দারিদ্র্য কবিতা-<br />
সংস্কৃতি ও সাহিত্যে নৈতিক সাহসের প্রতীক। নজরুলের দৃষ্টান্ত দেখায় কিভাবে সত্যিকারের সংস্কৃতিকর্মী কোনো ক্ষমতার দাস নন।<br />
৩. আহমদ ছফা, বাংলাদেশে এলিট শ্রেণি ও সংস্কৃতি (প্রথম প্রকাশ: ১৯৮১)-<br />
এখানে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে স্বাধীনতার পর সংস্কৃতি একটি শ্রেণিগত অস্ত্র হয়ে ওঠে, এবং কীভাবে বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতিকর্মীরা ধীরে ধীরে ‘সুবিধাভোগী’ শ্রেণির অংশ হয়ে যায়।<br />
৪. সেলিম আল দীন, বাংলা নাট্য ও সমাজচেতনা (প্রবন্ধ সংকলন)-<br />
তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, &#8216;সংস্কৃতি হলো ক্ষমতার সমালোচনামূলক চেতনা&#8217;- যা আজ অনেকের কাছে পরিণত হয়েছে কেবল পৃষ্ঠপোষকতার কৌশলে।<br />
৫. আল মাহমুদ, কাব্য সংগ্রহ ও অদ্ভুত আঁধার এক-<br />
তার কবিতায় আমরা দেখি শিল্পের অন্তর্নিহিত সত্যনিষ্ঠা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্ন, যা বর্ণচোরা সংস্কৃতিকর্মীর বিপরীতে দাঁড় করায় এক স্বচ্ছ মানবিক দৃষ্টি।<br />
৬. তানভীর মোকাম্মেল, সাক্ষাৎকারসমূহ (প্রথম আলো, সংবাদ, সমকাল)-<br />
বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি তুলে ধরেছেন চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির বাজারীকরণ নিয়ে তার উদ্বেগ;<br />
তিনি বলেছেন, &#8216;সংস্কৃতি যখন প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির দাস হয়ে পড়ে, তখন তা মানুষের নয়, পৃষ্ঠপোষকের মুখপাত্র হয়ে ওঠে।&#8217;<br />
৭. হুমায়ুন আজাদ, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও প্রতিরোধের কৌশল (প্রবন্ধ)-<br />
যেখানে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন কীভাবে সংস্কৃতি রাজনৈতিক দখলদারিত্বের মাধ্যমে নিজস্ব ভাষা হারায় এবং মুখোশধারী ভদ্রলোকেরা হয়ে ওঠে সংস্কৃতির বিক্রেতা।<br />
8. মাও সেতুং On Contradiction (1937)-<br />
সমাজ ও সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত বৈপরীত্য বিশ্লেষণে এই গ্রন্থটি দেখায়, কিভাবে &#8216;আদর্শ ও স্বার্থের সংঘর্ষ&#8217; থেকেই বর্ণচোরার জন্ম।<br />
৯. লালন ফকিরের দোহা ও ভাবসংগীত-<br />
&#8216;মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি- এই দার্শনিক বাণী দেখায়, সত্যিকারের সংস্কৃতি মানে আত্মপরিশুদ্ধি, ভণ্ড মুখোশ নয়।<br />
১০. বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক সংবাদ ও গবেষণা প্রতিবেদনসমূহঃ<br />
&#8216;সংস্কৃতির বাজারীকরণ: শিল্পের আত্মা না বাণিজ্য?&#8217;, দৈনিক প্রথম আলো, ১৫ মার্চ ২০২৩।<br />
&#8216;সংস্কৃতির রাজনীতি ও রাজনীতির সংস্কৃতি&#8217;, দৈনিক সমকাল, ২০ আগস্ট ২০২৪।<br />
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রকাশনা (২০২২): &#8216;সংস্কৃতি ও সমাজ: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত।&#8217;</p>
<p>লেখকঃ কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a6%9a%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%80%e0%a6%83/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বাংলা সাহিত্যে শরৎকালঃ রূপ, রস ও প্রতীকের বহুমাত্রিকতা</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a6%b0%e0%a7%8e%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%83-%e0%a6%b0/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a6%b0%e0%a7%8e%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%83-%e0%a6%b0/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[স্বাধীন চৌধুরী]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 27 Sep 2025 15:55:28 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://shahittabazar.com/?p=5756</guid>

					<description><![CDATA[<p>বাংলা সাহিত্যে শরৎকালঃ<br /> রূপ, রস ও প্রতীকের বহুমাত্রিকতা</p> <p>স্বাধীন চৌধুরী</p> <p>ভূমিকাঃ বাংলার ঋতুচক্রে শরৎকাল এক বিশেষ আবহ বহন করে। বর্ষার ঘনঘোর মেঘ আর অবিরাম বৃষ্টির পর শরৎ আসে নির্মল</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a6%b0%e0%a7%8e%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%83-%e0%a6%b0/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>বাংলা সাহিত্যে শরৎকালঃ</strong><br />
<strong>রূপ, রস ও প্রতীকের বহুমাত্রিকতা</strong></p>
<p><strong>স্বাধীন চৌধুরী</strong></p>
<p><a href="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/09/FB_IMG_1551087450741.jpg"><img decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-5757" src="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/09/FB_IMG_1551087450741-222x300.jpg" alt="" width="222" height="300" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/09/FB_IMG_1551087450741-222x300.jpg 222w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2025/09/FB_IMG_1551087450741.jpg 300w" sizes="(max-width: 222px) 100vw, 222px" /></a>ভূমিকাঃ বাংলার ঋতুচক্রে শরৎকাল এক বিশেষ আবহ বহন করে। বর্ষার ঘনঘোর মেঘ আর অবিরাম বৃষ্টির পর শরৎ আসে নির্মল আকাশ, সাদা মেঘের ভেলা, কাশবন আর শিউলি ফুলের সুবাস নিয়ে। প্রকৃতির এই পরিবর্তন কেবল দৃশ্যমান নয়; এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক ও মানসিক অনুভূতিতে গভীরভাবে প্রোথিত। তাই আশ্চর্য নয় যে, বাংলা সাহিত্যে শরৎকাল বারবার ফিরে এসেছে- কখনো প্রেম ও বিরহের প্রতীক হয়ে, কখনো কৃষকের ফসল ও শ্রমের প্রতিফলন হয়ে, আবার কখনো স্মৃতি ও নিস্তব্ধতার রূপক হয়ে।<br />
আজকের দিনে, যখন শহুরে জীবন কংক্রিটের ভেতরে ঋতুর স্বাদ ম্লান করে দিচ্ছে, সাহিত্যের শরৎ আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কেবল নান্দনিক নয়, জীবনঘনিষ্ঠও।</p>
<p>প্রাচীন পদ থেকে বৈষ্ণব কবিতাঃ শরত আবহের সূচনাঃ<br />
বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদে সরাসরি শরতের উল্লেখ কম হলেও ঋতুচক্রের প্রতিফলন দেখা যায় নদী, পদ্মফুল ও আকাশের রূপে। মধ্যযুগে এসে বৈষ্ণব পদাবলীতে শরতের রূপ প্রকট। রাধাকৃষ্ণের মিলন-বিরহের আবহে শরৎচাঁদ, শরৎরাত্রি কিংবা শরৎপূর্ণিমা হয়ে ওঠে প্রেমের প্রতীক। উদাহরণস্বরূপ:<br />
&#8216;শরৎচাঁদে রাধার মন কাঁদে&#8217;<br />
এটি শুধু প্রকৃতির বর্ণনা নয়, প্রেমবেদনার প্রতীক হিসেবে বাংলার পাঠকের চেতনায় স্থায়ী হয়েছে।<br />
([সূত্রঃ মাইকেল মধুসূদন দত্ত, শর্মিষ্ঠা; বৈষ্ণব পদাবলী, ১৫-১৭শ শতাব্দী])</p>
<p>শরৎ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের দার্শনিক প্রকাশঃ<br />
রবীন্দ্রনাথের কাছে শরৎ কেবল প্রকৃতি নয়, মানবমনের আশ্বাস ও পুনর্জন্মের প্রতীক। তাঁর কালান্তর কাব্যে লেখা-<br />
&#8216;আকাশ ভরা সূর্যমুখী ফুলে,<br />
আকাশ ভরা কালো মেঘের দলে-<br />
শরৎ এসেছে, দাও শরৎ-আশ্বাস।&#8217;<br />
-এখানে বর্ষার বিষণ্নতার পরে শরৎ মানব জীবনে নতুন আশ্বাসের প্রতীক। শেষের কবিতা উপন্যাসে শরতের কাশফুল প্রেমের আবহ গড়ে তোলে, আর কালান্তর প্রবন্ধে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন-<br />
&#8216;বর্ষার বিষণ্নতা শেষে শরৎ হলো নতুন আশ্বাসের ভাষা।&#8217;<br />
রবীন্দ্রনাথ শরৎকে কেবল ঋতুচিত্রে আবদ্ধ করেননি; তিনি এটিকে সামাজিক-মানসিক পুনর্জাগরণের প্রতীক হিসেবে স্থাপন করেছেন।<br />
([সূত্রঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কালান্তর, বিশ্বভারতী, ১৯৩০; শেষের কবিতা, বিশ্বভারতী, ১৯৩৫])</p>
<p>জীবনানন্দ দাশের কবিতায় শরতের নিস্তব্ধতা ও স্মৃতিঃ<br />
জীবনানন্দ দাশের কবিতায় শরৎ পাওয়া যায় স্তিমিত স্মৃতি ও নিস্তব্ধতার রূপক হিসেবে। বনলতা সেন-এ তিনি লিখেছেন-<br />
&#8216;আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে-<br />
এই বাংলার কাশবনে ধূসর শরতের ভোরে।&#8217;<br />
-শরৎ এখানে মৃত্যু ও স্মৃতির মিলন, নিস্তব্ধতা এবং একাকিত্বের প্রতীক। ঝরা পালক, মাটির প্রতি চিরফেরার আকাঙ্ক্ষা—এগুলো শরতের নিস্তব্ধ দৃষ্টিকোণকে আরও গভীর করেছে।<br />
([সূত্রঃ জীবনানন্দ দাশ, বনলতা সেন, সিগনেট প্রেস, ১৯৪২; ঝরা পালক, ১৯২৭])</p>
<p>সুকান্ত ভট্টাচার্যের কলমে শ্রমমুখী শরৎঃ<br />
সুকান্ত ভট্টাচার্যের কাছে শরৎ মানে কৃষকের ঘামে ভেজা মাঠ, ধান পাকা, ফসলের গান। ছাড়পত্র কাব্যে তিনি লিখেছেন-<br />
&#8216;শরৎ মানে ধান পাকা, শরৎ মানে ফসলের গান।&#8217;<br />
-এখানে শরৎ শুধু সৌন্দর্যের নয়, বরং শ্রম ও সংগ্রামের প্রতীক। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে এই দৃষ্টিভঙ্গি বিশেষ প্রাসঙ্গিক।<br />
([সূত্রঃ সুকান্ত ভট্টাচার্য, ছাড়পত্র, নবযুগ প্রকাশনী, ১৯৪৭])</p>
<p>জসীমউদ্দীন ও আল মাহমুদের কবিতায় গ্রামীণ এবং প্রেমবেদনার শরৎঃ<br />
জসীমউদ্দীনের নকশী কাঁথার মাঠ-এ শরৎ গ্রামীণ জীবনের আনন্দ ও গানকে তুলে ধরে-<br />
&#8216;ধানের ক্ষেতে কাশফুল দোলে, শরৎ এল গ্রামবাংলায়।&#8217;<br />
-এখানে শরৎ গ্রামীণ সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ আনন্দের প্রতীক।<br />
([সূত্রঃ জসীমউদ্দীন, নকশী কাঁথার মাঠ, ১৯২৯])<br />
আল মাহমুদ সোনালি কাবিন-এ শরৎ এসেছে প্রেম ও বেদনার সংমিশ্রণে-<br />
&#8216;শরৎরাতে কাশফুলের পাশে দাঁড়িয়ে<br />
তোমার শাড়ির আঁচলে যে সাদা গন্ধ পেয়েছিলাম।&#8217;<br />
এখানে শরৎ ব্যক্তিগত আবেগ এবং অন্তরঙ্গ মুহূর্তের প্রতীক।<br />
([সূত্রঃ আল মাহমুদ, সোনালী কাবিন, ১৯৭৩])</p>
<p>উপন্যাস, নাটক ও গদ্যে শরতের উপস্থিতিঃ<br />
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় শ্রীকান্ত-এ নদীর ধারে সন্ধ্যা শরতের স্বপ্নময় আবহ গড়ে তোলে।<br />
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় পথের পাঁচালী ও আরণ্যক-এ শরতের প্রকৃতি গ্রামীণ বাস্তবতা ও একাকিত্বের সংমিশ্রণ।<br />
হুমায়ূন আহমেদ বৃষ্টি বিলাস, গোধূলি লগ্নে-তে শহুরে জীবনের নিঃসঙ্গ শরৎচিত্র ফুটে উঠেছে।<br />
নাটক ও প্রবন্ধেও শরৎ মানুষের অন্তর ও প্রকৃতির সম্পর্ককে ব্যাখ্যা করেছে, যেমন মাইকেল মধুসূদন দত্তের শর্মিষ্ঠা।<br />
([সূত্রঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত; বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, পথের পাঁচালী, ১৯২৯; মাইকেল মধুসূদন দত্ত, শর্মিষ্ঠা])</p>
<p>বিশ্বসাহিত্যে শরৎ ও তুলনাঃ<br />
জন কিটসের Ode to Autumn-এ শরৎ হলো ‘mellow fruitfulness’-এর ঋতু, অর্থাৎ ফসল ও পরিপক্বতার সময়। জাপানি হাইকুতে শরৎ চাঁদ, ঝরা পাতা ও একাকিত্বের প্রতীক।<br />
বাংলা সাহিত্যে শরৎ তুলনামূলকভাবে বহুমাত্রিক-সৌন্দর্যের পাশাপাশি শ্রম, সংগ্রাম, প্রেম-বিরহ ও স্মৃতির অন্তর্লোক যুক্ত।<br />
([সূত্র: John Keats, Ode to Autumn; Various Japanese Haiku Anthologies])</p>
<p>সমকালীন প্রেক্ষাপটঃ<br />
আজকের শহুরে জীবনে শরতের প্রকৃতিবর্ণনা সরাসরি ধরা পড়ে না। মেট্রোরেল, যানজট, কংক্রিটের জঙ্গল ঋতুর রূপকল্পকে ম্লান করছে। তবু কবি-লেখকরা শরৎকে নতুন ব্যাখ্যায় হাজির করছেন- কখনো অনিশ্চিত ভবিষ্যতের প্রতীক, কখনো ডিজিটাল জীবনের ভিড়ে হারানো নৈঃশব্দ্যের আকাঙ্ক্ষা হিসেবে। সাংবাদিকতার ভাষায় বলতে গেলে, শরৎ আমাদের সাংস্কৃতিক আর্কাইভে কেবল কবিতার বিষয় নয়, একটি সামাজিক চেতনার ক্ষেত্র।</p>
<p>অবলোকনঃ বাংলা সাহিত্যে শরৎকাল কখনো প্রেমের, কখনো বিরহের, কখনো কৃষিশ্রমের, কখনো আবার নিস্তব্ধ স্মৃতির প্রতীক। প্রাচীন পদ থেকে আধুনিক উপন্যাস পর্যন্ত শরতের যে বহুমাত্রিক উপস্থিতি আমরা দেখি, তা প্রমাণ করে-শরৎ কেবল ঋতু নয়, এটি এক সাংস্কৃতিক প্রতীক।<br />
পাঠকের কাছে প্রশ্ন জাগে- আমরা কি আবারও কাশবনের সেই ধূসর শরতের ভোরে ফিরে যেতে চাই, নাকি শহুরে ব্যস্ততায় ঋতুচক্রকে কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায় সীমাবদ্ধ রাখব? উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের ফিরতে হবে সাহিত্যেই &#8211; যেখানে<br />
শরৎ চিরকাল আশ্বাস, প্রেম ও জীবনের অমোঘ প্রতীক হয়ে থাকবে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a6%b0%e0%a7%8e%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%83-%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ: অন্তহীন প্রাণের পথচলায় অবিচল &#8211; স্বাধীন চৌধুরী</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ae%e0%a7%9f%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%82%e0%a6%b9-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%b8%e0%a6%a6-%e0%a6%85%e0%a6%a8/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ae%e0%a7%9f%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%82%e0%a6%b9-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%b8%e0%a6%a6-%e0%a6%85%e0%a6%a8/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[স্বাধীন চৌধুরী]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 16 Jun 2019 15:40:33 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জাতীয়]]></category>
		<category><![CDATA[জেলায় জেলায় সাহিত্য]]></category>
		<category><![CDATA[ঢাকা বিভাগ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=3783</guid>

					<description><![CDATA[<p>ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ: অন্তহীন প্রাণের পথচলায় অবিচল </p> <p>স্বাধীন চৌধুরী</p> <p>আশির দশক; সারা বাংলাদেশে কাব্য আন্দোলন, সাহিত্য সংগঠন, লিটলম্যাগ চর্চার উন্মুল সময়। এ দশকের গোঁড়ায়, ২১ মে ১৯৮০ ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%ae%e0%a7%9f%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%82%e0%a6%b9-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%b8%e0%a6%a6-%e0%a6%85%e0%a6%a8/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ: অন্তহীন প্রাণের পথচলায় অবিচল <a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2019/06/FB_IMG_1560698634590.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-3784" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2019/06/FB_IMG_1560698634590-300x300.jpg" alt="" width="300" height="300" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2019/06/FB_IMG_1560698634590-300x300.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2019/06/FB_IMG_1560698634590-150x150.jpg 150w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2019/06/FB_IMG_1560698634590.jpg 320w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a></p>
<p>স্বাধীন চৌধুরী</p>
<p>আশির দশক; সারা বাংলাদেশে কাব্য আন্দোলন, সাহিত্য সংগঠন, লিটলম্যাগ চর্চার উন্মুল সময়। এ দশকের গোঁড়ায়, ২১ মে ১৯৮০ ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ এর পথচলা শুরু। এরপর দীর্ঘ ৩৯ বছরের পথচলায় এই সংগঠন তার নানামুখী কর্মকান্ড দিয়ে শুধু অত্র অঞ্চলের নয়, সমগ্র বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলের অন্যতম প্রধান সাহিত্যের আঙ্গিনা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। <a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2019/06/FB_IMG_1560698610243.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignright size-medium wp-image-3785" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2019/06/FB_IMG_1560698610243-300x225.jpg" alt="" width="300" height="225" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2019/06/FB_IMG_1560698610243-300x225.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2019/06/FB_IMG_1560698610243.jpg 720w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a></p>
<p>ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ এর স্লোগান: ‘সুন্দরের জন্য লড়াই’ এবং ব্রত হচ্ছে: লেখকদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, লেখকদের আশ্রয় ও সম্মিলনের সুযোগ তৈরী করা। এ লক্ষ্যে ‘স্বরচিত’ সাহিত্যপত্র ও ‘বীক্ষণ’ পাঠচক্র ছাড়াও সংগঠনের সাহিত্যানুষ্ঠান, সাহিত্য সম্মেলন, কবিতার কর্মশালা, গুণীজন সম্মাননা, আবুল মনসুর আহম্মদ সাহিত্য পুরস্কার এ কর্মকান্ডগুলো প্রায় নিয়মিত হয়ে আসছে। তবে সকল কর্মকান্ডকে ছাপিয়ে সংগঠনের প্রাণভোমরা হয়ে উঠে ১৯৮৩ সনে চালু হওয়া ‘বীক্ষণ পাঠচক্র’ প্রকল্পটি। যাত্রা শুরুর পর থেকে প্রতি সপ্তাহে বিরতিহীনভাবে আসর পরিচালনার ক্ষেত্রে যে কোন ভাষাভাষির মানুষের পাঠচক্রের ইতিহাসে এক বিষ্ময়কর রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে বীক্ষণ। গত শুক্রবার (১৪ জুন, ২০১৯) যথারীতি এর ১৮৪০ তম সাপ্তাহিক আসরটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।</p>
<div id="attachment_2206" style="width: 310px" class="wp-caption alignright"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/04/1441.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-2206" class="size-medium wp-image-2206" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/04/1441-300x225.jpg" alt="" width="300" height="225" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/04/1441-300x225.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/04/1441-1024x768.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/04/1441.jpg 1280w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-2206" class="wp-caption-text">সপ্তমবর্ষপূর্তী উৎসব ২০১৪, ময়মনসিংহ।</p></div>
<p>সংগঠন পরিচালনায় ১৯ সদস্যের একটি কার্যনিবাহী কমিটি গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একটি সাধারণ সভায় অধিক সংখ্যক সদস্যের উপস্থিতিতে ২ বছরের জন্য গঠিত হয়ে থাকে। সংগঠনের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৮১ জন। গত ৮ জুন ২০১৯ ঈদউত্তর ছুটির দিনে ৬২ জন সদস্যের উপস্থিতিতে সংগঠনের সাধারণ সভা ২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়।</p>
<p>স্থানীয় মুসলিম ইন্সটিটিউটে দুপুর সাড়ে বারোটায় সদস্যগণের তথ্য নবায়ন ফরম পূরণ, বকেয়া চাঁদা প্রদান এবং উপস্থিতি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে সাধারণ সভার কাজ আরম্ভ হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠন সভাপতি কবি ফরিদ আহমদ দুলাল। সভায় যথারীতি সংগঠন সাধারণ সম্পাদক কবি ইয়াজদানী কোরায়শী কমিটির কার্যকালের সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় সংগঠনের সাফল্য-ব্যর্থতার স্বরূপ তুলে ধরেন। তার বক্তব্যের একাংশে তিনি বিগত সময়ে সংগঠন সংশ্লিষ্ট যাঁরা প্রয়াত হয়েছেন তাঁদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে ১ মিনিট নিরবতা পালনের আহবান জানান। তিনি সংগঠনের আয়-ব্যয়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণী তুলে ধরেন। এরপর উপস্থিত সদস্যবৃন্দ সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের উপর আলোচনায় অংশ নেন। তারা নানা বিষয়ে পর্যালোচনা ও মতামত প্রদান করেন।</p>
<p><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2019/03/FB_IMG_1552836204113.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-3748" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2019/03/FB_IMG_1552836204113-298x300.jpg" alt="" width="298" height="300" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2019/03/FB_IMG_1552836204113-298x300.jpg 298w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2019/03/FB_IMG_1552836204113-150x150.jpg 150w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2019/03/FB_IMG_1552836204113.jpg 720w" sizes="auto, (max-width: 298px) 100vw, 298px" /></a>সভার দ্বিতীয় অংশে সভাপতি বর্তমান কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে জানিয়ে নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ১০ মিনিটের বিরতি দিয়ে উপস্থিত সদস্যবৃন্দের মাঝ থেকে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল আহবান করেন। বিরতির পর তার কাছে ৪টি প্যানেল ভিন্ন ভিন্ন ৪ জন সদস্য জমা দেন। সভাপতি সেগুলো গ্রহণ করে সকলের সামনে উন্মোচন করেন। সে সময় তিনি উলে­খ করেন, গৃহীত ৪টি প্যানেলের একটি প্যানেলে উলে­খিত প্রতিটি প্রার্থীর নামের পাশে সম্মতি স্বাক্ষর ও প্রস্তাবকের নাম-স্বাক্ষর যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ আছে। বাকী ৩ টি প্যানেলে ঘুরে-ফিরে একই নামের কয়েকজনের উলে­খসহ প্যানেলে কোন সম্মতি স্বাক্ষর বা প্রস্তাবকের নাম-স্বাক্ষর উলে­খ করা হয় নি। উপস্থাপিত প্যানেলগুলোর মধ্যে ১টি বাদে অন্য ৩টি প্যানেলকে তিনি অসম্পূর্ণ বিবেচনা করে বাতিল বলে ঘোষণা দেন। যে প্যানেলটিতে সকল প্রার্থীর সম্মতি স্বাক্ষর ও প্রস্তাবকের নাম ছিল-সেটিকে বিজয়ী ঘোষণা করা যায় বলে মত দেন।</p>
<p>এ পর্যায়ে তিনি পূর্ণাঙ্গ এবং গৃহীত প্যানেলটি যখন ঘোষণা দিতে যান ঠিক তখনই ৩/৪ জন সদস্য আকষ্মিক দাঁড়িয়ে উচ্চ শব্দে কথা বলা শুরু করেন। তারা বাতিলকৃত প্যানেলগুলোকে বিবেচনায় আনার জন্য চেঁচামেচি শুরু করে দিলে সভাপতি তাঁর বক্তব্য প্রদানে একটু থেমে যান। তিনি তাঁদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট করে বলেন, ‘অসম্পূর্ণ প্যানেলগুলো যারা দিয়েছেন তারা ভুল করেছেন এবং তাদের এই ভুলের জন্য অবশ্যই পরবর্তী ২ বছর অপেক্ষা করতে হবে’।</p>
<p>সাধারণ সভার সভাপতি আবারও তাদেরকে থামানোর চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে এক পর্যায়ে অসুস্থতা বোধ করে বাইরে চলে যান। পরবর্তীতে ফিরে এসে হৈ-চৈ এর মধ্যেই তিনি ৩ মাসের জন্য সভা স্থগিতের ঘোষনা দেওয়ার চেষ্টা করলে উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য তার কথার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেন। পরিস্থিতির প্রতিক‚লতা সাপেক্ষে তখন তিনি উপস্থিত সদস্যবৃন্দকে পূর্ণাঙ্গ প্যানেলটির পক্ষে কতজন আছেন তা হাত তুলে সমর্থন যাচাইয়ের ঘোষণা দেন।</p>
<p><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2019/06/FB_IMG_1560699502488.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-3786" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2019/06/FB_IMG_1560699502488-300x168.jpg" alt="" width="300" height="168" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2019/06/FB_IMG_1560699502488-300x168.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2019/06/FB_IMG_1560699502488-70x40.jpg 70w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2019/06/FB_IMG_1560699502488.jpg 552w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>সভাস্থলে উপস্থিত ৪৪ জন সদস্য হাত তুলে তখন উক্ত প্যানেলের পক্ষে রায় দিলে তিনি সাধারণ সম্পাদককে প্যানেলটি ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়ে সভা সমাপ্তির ঘোষণা না করেই বেরিয়ে যান। এ সময় গৃহীত প্যানেলটির প্রস্তাবক সেটি পাঠ করে হাউজকে শোনান। হাউজে এই প্যানেল সমর্থক সদস্যবৃন্দ সবাই তখন উপস্থিত ছিলেন এবং তারা করতালি দিয়ে প্যানেলটিকে স্বাগত জানান। অতঃপর আনন্দঘন পরিবেশে ফটোসেশন ও মধ্যাহ্নভোজের মধ্য দিয়ে নবগঠিত প্যানেলের সভাপতি আনোয়ারা সুলতানা আনু এবং সাধারণ সম্পাদক স্বাধীন চৌধুরীর ধন্যবাদসূচক বক্তব্যের পর সাধারণ সভার পরিসমাপ্তি ঘটে।</p>
<p>অন্যদিকে সভা শেষ হবার কিছুক্ষণ পর কবি ফরিদ আহমদ দুলাল কয়েকজন বিক্ষুব্ধ সদস্যকে নিয়ে প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি কবি মুশাররাফ করিমের বাসায় গিয়ে অযাচিতভাবে একটি ফেইসবুক লাইভে যুক্ত হন। যেখানে তিনি সভাপরবর্তী নবগঠিত প্যানেলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ছবি সম্বলিত একটি পোস্টের বিরোধিতা করে বলেন- ‘আমি কোন প্যানেলকে ঘোষনা করতে বলিনি এবং আমি ৩ মাসের স্থগিত আদেশ দিয়ে এসেছি’। তার এই বক্তব্য দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাতিলকৃত প্যানেলের কতিপয় সদস্য খুবই আক্রমণাত্বক ভাষায় এই প্যানেলের প্রতি এবং সংগঠনের কর্মকান্ড নিয়ে খারাপ ভাষায় বিষোদগার শুরু করেন। তাতে এক পর্যায়ে যুক্ত হন সাহিত্য সংসদের সদস্য নন এবং সংগঠন ধারণা বিরোধী কিছু মানুষজন। সভাপতি নিজেও এরপর অনেকের মন্তব্যে সায় প্রদান এবং নতুন করে উষ্কে দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যহত রাখেন। এখনো তিনি তার ফেইসবুক পোস্টে এই কমিটির বৈধতা নিয়ে একটি পক্ষাবলম্বন করছেন, যে পক্ষের বাতিল হওয়া প্যানেলে তিনি সভাপতি প্রার্থী ছিলেন।</p>
<p>আমরা সংগঠনের সম্মান ও মর্যাদার স্বার্থে এমন কুরুচিপূর্ণ ফেইসবুক বচসাকে এড়িয়ে গেছি। কিন্তু ফেইসবুক পরিস্থিতির এমন কুটচালের চূড়ান্ত অবস্থায় সকলকে সার্বিক পরিস্থিতি না জানালে ভুল বুঝবার অবকাশ তৈরী হতে পারে বিধায় অবশেষে বিস্তারিত তুলে ধরা হল।</p>
<p>কবি ফরিদ আহমদ দুলাল এতদিনকার প্রাচীন সমৃদ্ধ এই সংগঠনটিকে সকলের হাসির পাত্র এবং মন্তব্যের ইস্যু করে তুলেছেন বলে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একটি জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমেও এ বিষয়ে প্রশ্নবিদ্ধ নিউজ প্রকাশিত হয়েছে। সংগঠনের অন্তঃপ্রাণ সদস্যবৃন্দ ও বর্তমান নবগঠিত কমিটি এ পর্যায়ে সকলের উদ্দেশ্যে বলতে চান যে- অতীতেও ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের কমিটি গঠন নিয়ে বিতর্ক হয়েছে- ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে- কিন্তু কখনোই তা সদস্যের বাইরে কেউ জানতেন না।গত ৮ জুন তারিখে কবি ফরিদ আহমদ দুলাল সভাটি যথাযথভাবে পরিচালনা করলে এমন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হত না। পরবর্তিতে তিনি ফেইসবুকে লাইভ করে নিজেকে একটি পক্ষের হিসাবে ঘোষণা প্রদানের মাধ্যমে বিরোধ মিটানোর বদলে বিরোধকে উস্কে দিয়ে উস্কানী দাতাদের দল ভারী করে সংগঠনের ভাবমূর্তি বিনষ্টের প্রয়াস পেয়েছেন।</p>
<p>আমরা গণমাধ্যম ও সচেতন সামাজিক নেতৃত্বের প্রতি আমাদের বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন ঘোষিত নির্বাচিত কমিটিকে সহযোগিতা প্রদানের আহবান জানাচ্ছি। সেই সাথে ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের সকল সদস্য, বীক্ষণ অংশগ্রহণকারী, বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের সকলের প্রতি আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি। অবকাঠামো হারিয়ে ফেলা অস্বাভাবিক একটি পরিস্থিতির মধ্যে গত এক দশক ধরে কোন রকমে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এই সংগঠনটি নিশ্চয়ই সকল ভুল বোঝাবুঝিকে অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। কারো প্রতি বিরাগ নয়, অনুরাগ-ভালবাসা নিয়ে সকলে মিলে সংগঠনের ভাবমূর্তিকে সমুন্বত রেখে সাহিত্যের পক্ষে আসুন কাজ করে যাই।</p>
<p>ধন্যবাদ<br />
স্বাধীন চৌধুরী<br />
সাধারণ সম্পাদক<br />
ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ae%e0%a7%9f%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%82%e0%a6%b9-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%b8%e0%a6%a6-%e0%a6%85%e0%a6%a8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>রুপসী বাংলা সাহিত্য পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের ৮ জন</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%aa%e0%a6%b8%e0%a7%80-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%b8/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%aa%e0%a6%b8%e0%a7%80-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%b8/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[স্বাধীন চৌধুরী]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 12 Mar 2016 16:41:40 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কথামালা]]></category>
		<category><![CDATA[তারুন্যকথা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=3219</guid>

					<description><![CDATA[<p>সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় বাংলাদেশের আট বিশিষ্টজন পেলেন আন্তর্জাতিক রূপসী বাংলা সাহিত্য পুরস্কার। ১২ মার্চ ঢাকার শাহাবাগের পাবলিক রাইব্রেরীর সেমিনার কক্ষে কলকাতার সাংস্কৃতিক সংগঠন জীবনানন্দ উৎসব কমিটির আযোজিত এক</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%aa%e0%a6%b8%e0%a7%80-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%b8/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2016/03/02.jpg" rel="attachment wp-att-3220"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-3220" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2016/03/02-300x225.jpg" alt="02" width="300" height="225" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2016/03/02-300x225.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2016/03/02.jpg 640w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় বাংলাদেশের আট বিশিষ্টজন পেলেন আন্তর্জাতিক রূপসী বাংলা সাহিত্য পুরস্কার। ১২ মার্চ ঢাকার শাহাবাগের পাবলিক রাইব্রেরীর সেমিনার কক্ষে কলকাতার সাংস্কৃতিক সংগঠন জীবনানন্দ উৎসব কমিটির আযোজিত এক অনুষ্টানমালার মাধ্যমে এ পদক ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন কবি আসলাম সানী। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. শামসুজ্জামান খান, কবি মহাদেব সাহা, কবি নির্মলেন্দু গুণ, কবি হেলাল হাফিজ, কবি অসীম সাহা, কবি রবিউল হুসাইন, কবি তপংকর চক্রবর্তী ও কবি সহিদ রাহমান।</p>
<p><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2016/03/03.jpg" rel="attachment wp-att-3221"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignright size-medium wp-image-3221" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2016/03/03-300x225.jpg" alt="03" width="300" height="225" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2016/03/03-300x225.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2016/03/03.jpg 640w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>পুরস্কার প্রদান প্রসঙ্গে জীবনানন্দ উৎসব কমিটির সভাপতি কবি অমৃত মাইতি বলেন, ২০০৭ সাল থেকে আমরা এ পুরস্কার প্রবর্তন করে আসছি। জীবনানন্দ দাশ যেহেতু উভয় বাংলার তাই গত বছর থেকে বাংলাদেশের কবি-সাহিত্যিকদের নিজ নিজ অবদানের জন্য এ পুরস্কার দেয়ার চিন্তা করেছি। আমি পশ্চিমবঙ্গে থাকলেও প্রত্যেক বছর বাংলাদেশে আসি। বাংলাদেশের মানুষ ও কবি-সাহিত্যিকদের সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক। তাই বাংলাদেশের এই গুণীজনদের এ পুরস্কার দিতে পেরে আমি আনন্দিত।</p>
<p><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2016/03/04.jpg" rel="attachment wp-att-3222"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-3222" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2016/03/04-300x225.jpg" alt="04" width="300" height="225" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2016/03/04-300x225.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2016/03/04.jpg 640w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>সম্প্রতি আন্তর্জাতিক রূপসী বাংলা সাহিত্য পুরস্কার ২০১৫ ঘোষণা করা হলে এ উৎসব বা  আয়োজন বাংলা একাডেমিতে হওয়ার কথা ছিল, অজ্ঞাত কারণে তা পাবলিক লাইব্রেরীতে স্থানান্তর করা হয়েছে। কলকাতার সাংস্কৃতিক সংগঠন জীবনানন্দ উৎসব কমিটির উদ্যোগে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে কলকাতায় নন্দন সেন্টারে জীবনানন্দ সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুরস্কারপ্রাপ্তদের চূড়ান্ত নামের তালিকা ঘোষণা করেন জীবনানন্দ উৎসব কমিটির সভাপতি কবি অমৃত মাইতি।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%aa%e0%a6%b8%e0%a7%80-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%b8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
