<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>সদানন্দ সরকার &#8211; সাহিত্য বাজার</title>
	<atom:link href="https://shahittabazar.com/author/sadananda-sarkar/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://shahittabazar.com</link>
	<description>সাহিত্যের আয়নায় মানুষের মুখ</description>
	<lastBuildDate>Sun, 18 Aug 2024 13:38:36 +0000</lastBuildDate>
	<language>bn-BD</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.0.4</generator>
	<item>
		<title>বরিশালের মেয়র ও প্রতিমন্ত্রী সম্পর্কে সিদ্ধান্ত চায় সাধারণ মানুষ: ভালো মানুষের মূল্যায়ন জরুরী</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a7%9f%e0%a6%b0-%e0%a6%93-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%8d/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a7%9f%e0%a6%b0-%e0%a6%93-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%8d/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[সদানন্দ সরকার]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 18 Aug 2024 13:37:16 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জাতীয়]]></category>
		<category><![CDATA[বরিশাল বিভাগ]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলার চিঠি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=5367</guid>

					<description><![CDATA[<p style="text-align: left;">বরিশালের মেয়র ও প্রতিমন্ত্রী সম্পর্কে সিদ্ধান্ত চায় সাধারণ মানুষ: ভালো মানুষের মূল্যায়ন জরুরী</p> <p style="text-align: left;">বিশেষ প্রতিবেদক</p> <p style="text-align: left;">বরিশাল ৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a7%9f%e0%a6%b0-%e0%a6%93-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%8d/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: left;"><strong>বরিশালের মেয়র ও প্রতিমন্ত্রী সম্পর্কে সিদ্ধান্ত চায় সাধারণ মানুষ: ভালো মানুষের মূল্যায়ন জরুরী</strong></p>
<p style="text-align: left;">বিশেষ প্রতিবেদক</p>
<p style="text-align: left;"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/08/IMG_20240818_193353.jpg"><img decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-5368" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/08/IMG_20240818_193353-300x162.jpg" alt="" width="300" height="162" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/08/IMG_20240818_193353-300x162.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/08/IMG_20240818_193353-768x416.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/08/IMG_20240818_193353-1024x554.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2024/08/IMG_20240818_193353.jpg 1679w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>বরিশাল ৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল অবঃ জাহিদ ফারুক শামীম এবং বরিশালের নবনির্বাচিত মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত সম্পর্কে ছাত্র জনতার সিদ্ধান্ত চায় সাধারণ মানুষ। তারা দুজনেই বরিশালের উন্নয়নে বেশকিছু প্রকল্প হাতে নিয়ে জনমনে স্থান করে নিয়েছিলেন। যে সব প্রকল্পের কাজ শুরুও হয়েছিল। ছাত্র আন্দোলনের সময় ঐসব উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে যায় এবং এখন পর্যন্ত বন্ধ আছে বলে জানান চরকাউয়া, চাঁদপুরা, চরবাড়িয়াসহ বরিশালের ১০ ইউনিয়ন এবং বরিশাল সিটি করপোরেশন বসিকের ৩০টি ওয়ার্ডের সাধারণ বাসিন্দারা।<br />
ভালো মানুষের মূল্যায়ন জরুরী দাবী করে সাধারণ মানুষ বলেন, ২০১৮ সালে বরিশালের রাজনীতিতে প্রথম সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান জাহিদ ফারুক। সবসময় দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন তিনি। ২১ বছরের অবহেলিত এলাকায় গিয়ে উন্নয়ন কাজ ধরেছেন। তাছাড়া সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারও তাকে একজন ভালো মনের সৎ সংসদ সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।<br />
আবার বরিশাল সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতও নির্বাচিত হবার পর থেকে বসিকের উন্নয়নে কাজ করেছেন। চলমান ১৮টি প্রকল্পে তিনি বরিশাল সিটি করপোরেশন বসিক এর উন্নয়ন কাজ শুরু করেন। যা এই মুহূর্তেও চলমান আছে বলে জানিয়েছেন বসিকের প্রকৌশলী আবদুল মোতালেব।<br />
যে কারণে এই দুজন মানুষের প্রতি দলমত নির্বিশেষে মানুষের মনে সহানুভূতি রয়েছে বলে স্বীকার করেন বরিশালের সুশীল সমাজের অনেকেই। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি নেতৃবৃন্দও বললেন, তিনি কখনো কারও ক্ষতি করেননি। তার কারণে বিএনপির অনেক ঠিকাদারও কাজ পেয়েছে।<br />
ছাত্র জনতার আন্দোলন চলাকালীন গত ৪ আগস্ট নিজ দলীয় একদল দূর্বৃত্ত প্রথম পরপর দুইদফা তার বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দিন পুনরায় তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে দূর্বৃত্তরা। সেই থেকে জাহিদ ফারুক ও মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত আত্মগোপনে চলে যান।<br />
প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উপকারভোগী সাধারণ মানুষ মনে করেন, বরিশালের জাহিদ ফারুক এবং খোকন সেরনিয়াবাত সহ এরকম ভালো মনের মানুষদের ফিরিয়ে এনে নতুনভাবে কাজে লাগালে দেশের উপকার হবে।<br />
বিশেষ করে তাদের সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা মনে করেন, জাহিদ ফারুক বরিশালের ১০ ইউনিয়নেই ঘুরে বেড়িয়েছেন। মানুষের উপকার ছাড়া তিনি কখনো কারো ক্ষতি করেননি।<br />
আবার বসিকের ৫৮ বর্গকিলোমিটারের ৩০ ওয়ার্ডে মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত সম্পর্কে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মতামত। কেউ কেউ তাকে অহংকারী বললেও তার কাজের প্রশংসা করেছেন প্রায় সবাই।<br />
তবে এ বিষয়ে ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা ও ছাত্র জনতার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে জানান সাধারণ মানুষ। তারা বলেন, আন্দোলনকারী সমন্বয়করা এ বিষয়ে যা ভালো মনে করবেন তা-ই হবে। তারা বৈষম্য দূর করতে এখনো রাজপথে আসেন। তাদের সিদ্ধান্তের প্রতি আমাদের সমর্থন থাকবে বলে জানান এলাকাবাসী।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a7%9f%e0%a6%b0-%e0%a6%93-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%8d/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সাংবাদিক ও সাহিত্যিক অরূপ তালুকদারঃ নামটিই এখন প্রতিষ্ঠান </title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%85%e0%a6%b0%e0%a7%82/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%85%e0%a6%b0%e0%a7%82/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[সদানন্দ সরকার]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 20 Oct 2022 04:02:06 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কথামালা]]></category>
		<category><![CDATA[জীবন কথা]]></category>
		<category><![CDATA[অরূপ তালুকদার]]></category>
		<category><![CDATA[বই]]></category>
		<category><![CDATA[মুক্তিযুদ্ধ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=5131</guid>

					<description><![CDATA[সাংবাদিক ও সাহিত্যিক অরূপ তালুকদারঃ নামটিই এখন প্রতিষ্ঠান  বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিকে প্রায়শই মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, সমসাময়িক সংকট ইত্যাদি বিষয়ে নিয়মিত কলাম লেখক একজন সাংবাদিক অরূপ তালুকদার! নামটিই এখন একটি প্রতিষ্ঠান।<span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%85%e0%a6%b0%e0%a7%82/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div id="m#msg-a:r7197018296459162941" class="mail-message expanded">
<div class="mail-message-header spacer"><strong>সাংবাদিক ও সাহিত্যিক অরূপ তালুকদারঃ নামটিই এখন প্রতিষ্ঠান </strong></div>
<div class="mail-message-content collapsible zoom-normal mail-show-images ">
<div class="clear">
<div dir="auto">
<div class="gmail_quote" dir="auto">
<div dir="auto">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/09/IMG-20220924-WA0027.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="aligncenter size-medium wp-image-5086" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/09/IMG-20220924-WA0027-300x225.jpg" alt="" width="300" height="225" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/09/IMG-20220924-WA0027-300x225.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/09/IMG-20220924-WA0027-768x576.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/09/IMG-20220924-WA0027.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিকে প্রায়শই মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, সমসাময়িক সংকট ইত্যাদি বিষয়ে নিয়মিত কলাম লেখক একজন সাংবাদিক অরূপ তালুকদার! নামটিই এখন একটি প্রতিষ্ঠান। বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের জীবন্ত ইতিহাসও বলা যায় তাকে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রে বরিশালের যে চারজন সাংস্কৃতিক কর্মী কাজ করেছেন তাদেরই অন্যতম একজন অরূপ তালুকদার স্বীকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাও। যদিও অন্যদের মতো নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জাহির করার কোনো প্রবণতা তার মধ্যে নেই।  কেন নেই?  প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কেউ কেউ সম্মান জানিয়ে শব্দ সৈনিক বলেন বটে। এতেও আমি আসলে বিব্রত হই। মুক্তিযুদ্ধ করেছি স্বাধীন সুন্দর একটি রাষ্ট্র পেতে। মুক্তিযোদ্ধা নাম ভাঙিয়ে সেই রাষ্ট্র থেকে সুবিধা আদায় করতেতো আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি।</div>
<div dir="auto"><strong>আপনার বেশিরভাগ লেখনীতে মুক্তিযুদ্ধের কথা চলে আসে, মুক্তিযুদ্ধ নিয়েই আপনার গল্প প্রবন্ধ বেশি।  এটা কেন?</strong></div>
<div dir="auto">হেসে ওঠেন অরূপ তালুকদার, দরাজ কণ্ঠের হাসি থামিয়ে  বলেন, তোমাদের,  বিশেষ করে তোমাদের পরবর্তী প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের মনে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাগুলো গেঁথে দিতেই মূলত আমার এই চেষ্টা । একটা সময় এমন হবে যে, মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাগুলোকে সবাই গল্প ভাবতে শুরু করবে। তখন অন্তত আমার এই গল্পগুলো ওদের গল্পের ছলে সত্যকে জানতে সাহায্য করবে।</div>
<div dir="auto">এই হচ্ছেন অরূপ তালুকদার। সাহিত্য বাজার পত্রিকার সাহিত্য পদক ২০২২ এবছর তার হাতে তুলে দেয়া হয়েছে বরিশালে এসে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর বরিশাল সাহিত্য সংসদ সাহিত্য বাজার পত্রিকার ১৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই পদক প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বরিশালের সার্কিট হাউস মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার এর হাত দিয়ে তুলে দেয়া হয় এই সাহিত্য পদকটি। সাথে নামমাত্র কিছু সম্মানীও দেয়া হয়। যা সাহিত্যিক ও সাংবাদিক অরূপ তালুকদার তৎক্ষনাৎ দান করে দেন বরিশালের একটি বৃদ্ধাশ্রমকে।</div>
<div dir="auto">স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে তিনি বাংলা ও ইংরেজি কথিকা লিখতেন ও স্বরচিত কবিতা পাঠ করতেন। অন্য তিনজনের মধ্যে খ্যাতিমান চলচিত্রকার আলমগীর কবির ইংরেজি বিভাগের দায়িত্ব পালন করেছেন। কবি আসাদ চৌধুরী তার ভরাট কণ্ঠে আবৃত্তি করতেন স্ব রচিত কবিতা এবং গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠি গ্রামের অরুনা রাণী সাহা নিয়মিত গান করতেন। স্বাধীনবাংলা বেতারকেন্দ্রের এই চারজন শব্দ সৈনিক গেজেট ভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। অথচ এই চারজনের জীবীত দুজন অরূপ তালুকদার ও কবি আসাদ চৌধুরী নিজেদের কখনোই মুক্তিযোদ্ধা দাবী করে যত্রতত্র আলোচনা মঞ্চ মাতিয়ে তোলেননি। নিরব ভালোবাসায় আজো তাদের লেখনীতে তারা স্মরণ করেন তখনকার স্মৃতি।</div>
<div dir="auto">তাইতো অরূপ তালুকদারের লেখনীতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি মন্থন খুব বেশি চোখে পড়ে।</div>
<div dir="auto">যতদূর জানা যায়, বর্তমান বরিশাল বিভাগের বরগুনা জেলার পাথরঘাটা থানাধীন গোলবুনিয়া গ্রামে সন্তান অরূপ তালুকদার ছাত্র জীবনের শুরু থেকেই  স্কুল-কলেজের ম্যাগাজিনে লেখালেখি শুরু করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএএলএলবি সম্পন্ন করার পর জড়িয়ে যান সাংবাদিকতা পেশায়। তার প্রথম গল্প প্রকাশিত হয় দৈনিক পূর্বদেশ’ পত্রিকায় ১৯৬২ সালে I ১৯৬৩ সালে বরিশাল থেকে প্রকাশিত হয় প্রথম উপন্যাস &#8216;সারাদিন সারারাত’ I দ্বিতীয় উপন্যাস ‘নীলিমায় নীল’এবং  তৃতীয় উপন্যাস ‘আশার নাম মৃগতৃষ্ণীকা’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ সালে। ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম গল্পগ্রন্থ রংরাজ ফেরে না’ I প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সেই নির্বাচন চাই’  প্রকাশিত হয় স্বাধীনতার পরে ঢাকার মুক্তধারা থেকে ১৯৭৪ সালে I</div>
<div dir="auto"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/05/orup-da.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignright size-medium wp-image-2295" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/05/orup-da-182x300.jpg" alt="" width="182" height="300" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/05/orup-da-182x300.jpg 182w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/05/orup-da.jpg 400w" sizes="auto, (max-width: 182px) 100vw, 182px" /></a></div>
<div dir="auto">মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা নিয়ে লিখেছেন তিনি গল্প উপন্যাস শিশু সাহিত্য। তবে তার কবিতায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে মুক্তিযুদ্ধের বেদনা পাঠ। তিনি যখন লেখেন&#8230;</div>
<div dir="auto">আবার কোনোদিন ফিরে আসবো, ভাবিনি।</div>
<div dir="auto">ভাবিনি, আবার কোনোদিন দেখা হবে</div>
<div dir="auto">আপনাদের সঙ্গে, আমার যারা প্রিয়জন</div>
<div dir="auto">একান্ত আপন বন্ধুবান্ধব তাদেরকে</div>
<div dir="auto">কোনোদিন দেখবো, দেখতে পাবো আমার</div>
<div dir="auto">সেই প্রিয়তমার মুখ ম্লান নক্ষত্রবীথিতলে&#8230;।’ (যুদ্ধোত্তর প্রত্যাবর্তন/নির্বাচিত কবিতা)</div>
<div dir="auto">স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের এই শব্দসৈনিক</div>
<div dir="auto">নিবিড়ভাবে প্রত্যক্ষ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তীকালকে। যা তিনি অবলীলায় ধারণ করেছেন তার কবিতায়। ফলে দেশাত্মবোধ হয়ে উঠেছে তার কবিতার মৌল প্রেরণা। তাই নিজ বাসভূমি, স্বজনদের মধ্যে ফিরে আসার আকুতি তার প্রবল।</div>
<div dir="auto">মুক্তিযুদ্ধ অরূপ তালুকদারের কবিতার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ। তার কবিতার ব্যাপক আয়তন জুড়ে মুক্তিযুদ্ধের বিস্তার। মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ বিক্ষত সময় তার কবিতায় বিধৃত হয়েছে- ‘স্বাধীনতা আমার জীবন, আমার রক্ত, রক্তবীজের ঋণ</div>
<div dir="auto">স্বাধীনতা আমার চিরদুঃখিনী মায়ের দুফোঁটা অশ্রুজল</div>
<div dir="auto">স্বাধীনতা আমার প্রিয়তমার মুখ, দোয়েল পাখির গান</div>
<div dir="auto">স্বাধীনতা আমার স্বপ্নের ধন, এই দীপ্ত প্রাণের ফসল।’ (স্বাধীনতা/নির্বাচিত কবিতা)। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও তার কবিতার হৃৎস্পন্দন ও ধ্বনিত হয় উজ্জ্বল মহিমায়- ‘তুমি নেই, হে অমৃতের পুত্র, আমাদের মধ্য থেকে</div>
<div dir="auto">অকস্মাৎ একদিন তুমি চলে গেলে, যেন</div>
<div dir="auto">এক ঝংকৃত দুর্বার ঝড়ের মতো তোমার</div>
<div dir="auto">তোমার সেই আসা আর যাওয়া।’ (তুমি নেই, কাঁদে বাংলার মানুষ, নির্বাচিত কবিতা)</div>
<div dir="auto">এযাবৎ প্রকাশিত বেশকিছু কাব্যগ্রন্থের মাঝে উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ- সেই নির্বাসন চাই (১৯৭৪), দূরের হরিণী (১৯৮২), অন্ধকারে আলোর ম্যাজিক (১৯৮৬)। কবিতার সংকলন ‘নির্বাচিত কবিতা’। গ্লোব লাইব্রেরি (প্রা.) লিমিটেড থেকে প্রকাশিত এই নির্বাচিত কাব্য সমগ্রটিতে রয়েছে চৌষট্টিটি কবিতা। তবে বয়সের ভারে ন্যুব্জ-নত নয়, বরং ধাবমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরন্তর ছুটে চলেছেন কবি। জীবনের দেখা না দেখার অনেক জটিল সমীকরণকে লিপিবদ্ধ করছেন নানা মাত্রিকতায় কী গল্পে, কী উপন্যাসে, কী কবিতায়।</div>
<div dir="auto">তার মুক্তযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস আঁধারকাল বাজারে এসেছে ২০১৪ এর বইমেলায়। সাহিত্যমালা থেকে প্রকাশিত ১৩০ পৃষ্ঠার এ বইটিতে ফুটে উঠেছে লেখকের অভিজ্ঞতার চিত্র।</div>
<div dir="auto">মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে অগম্যপ্রায় গহীন বনাঞ্চল সুন্দরবনের অভ্যন্তরে চলে যাওয়া মানসিক যন্ত্রণাক্লিষ্ট এক সাধারণ ফেরারী যুবকের আত্ম অনুসন্ধানের অসাধারণ কাহিনী নিয়ে রচিত এই উপন্যাসের গভীরে খুঁজে পাওয়া যায় অন্যরকম স্বাদ। এ উপন্যাসের নায়ক যেন তিনি নিজেই। দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের শুরুতেই তার জীবনের এক অধ্যায়ের অকস্মাৎ সমাপ্তি ঘটে গেলে সূচনা হয় আরেক অধ্যায়ের। যখন তার জীবনের সাথে ঘটনাচক্রে জড়িয়ে গেছে এক নারী ও আরো কিছু মানুষ। যাদেরকে অবলম্বন করে সে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে। চারিদিকে তখন শুধু মৃত্যুর মিছিল। আগুনের লেলিহান শিখায় জ্বলেপুড়ে ছারখার সব। অনেকটা এভাবেই গাঁথা আছে গল্পের কাহিনী।</div>
<div dir="auto">আবার তার শিশুতোষ গল্পের স্বাদ কিন্তু পুরো পাল্টে দেয় কবি ও ঔপন্যাসিকের দর্শন। লেখক ও কবি অরূপ তালুকদার তখন হেসে ওঠেন শিশুদের মতো করেই। বলেন, চলো চা আড্ডা হয়ে যাক আজ কীর্তনখোলার পাড়ে। তেমনি শিশুদের উপজীব্য করে লিখে ফেলেন তুতুলের গল্প।</div>
<div dir="auto">&#8220;একদিনে ঘর থেকে হারিয়ে গেছে মিতুলের কলম, পেনসিল, ছোট দু-তিনটে খেলনা, প্লেট ইত্যাদি। সবার ধারণা, ফাতেমাই সরাচ্ছে এসব। কিন্তু তাকে বললে, সে শুধু কাঁদে। তা হলে কি ভুতের উপদ্রব হচ্ছে বাড়িতে? ভুতে বিশ্বাস করে মিতুল। ভয় পায়। তুতুল ভুতে ভয় পায় না। বলে, ভুত কোথায়? আমাকে দেখাতে পারো, আপু মণি?</div>
<div dir="auto">জানা যায় ভুতুড়ে এই কাণ্ড পুরোটাই তুতুলের সাজানো।</div>
<div dir="auto">
<div id="attachment_5132" style="width: 310px" class="wp-caption alignleft"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/10/IMG20220925124017.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-5132" class="size-medium wp-image-5132" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/10/IMG20220925124017-300x225.jpg" alt="" width="300" height="225" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/10/IMG20220925124017-300x225.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/10/IMG20220925124017-768x576.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/10/IMG20220925124017-1024x768.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-5132" class="wp-caption-text">আড্ডায় অরূপ তালুকদার</p></div>
<p><strong>একনজরে অরূপ তালুকদার  </strong></p>
</div>
<div dir="auto">১৯৪৪ সালের ৬ জানুয়ারি বরগুনা জেলার গোলবুনিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন সাহিত্যিক সাংবাদিক অরূপ তালুকদার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে সম্পন্ন করেন এমএ, এলএলবি। ষাটের দশকে যুক্ত ছিলেন চলচ্চিত্র, রেডিও, টেলিভিশন, সাংবাদিকতা ও পত্রপত্রিকা সম্পাদনার কাজে। ষাটের দশকে প্রকাশ হয় তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘সারাদিন সারারাত&#8217;, এরপর ‘আশার নাম মৃগতৃষ্ণিকা’, ‘নীলিমায় নীল&#8217; ও গল্পগ্রন্থ &#8216;রংরাজ ফেরে না&#8217;। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি যুক্ত ছিলেন &#8216;স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র&#8217;র সঙ্গে। তিনি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ‘শব্দসৈনিক&#8217;। &#8216;৭৪-এ মুক্তধারা থেকে প্রকাশ হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ &#8216;সেই নির্বাসন চাই&#8217;। &#8216;৭৮-এ কলকাতা হতে বের হয় কাব্যগ্রন্থ &#8216;দূরের হরিণী&#8217;, &#8216;৮২ সালে উপন্যাস &#8216;বন্ধদুয়ার&#8217; ও কাব্যগ্রন্থ ‘অন্ধকারে আলোর ম্যাজিক&#8217;। অরূপ তালুকদার দীর্ঘ সাংবাদিক জীবনে ছিলেন &#8216;কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস এ্যাসোসিয়েশন (সিজেএ), লন্ডন-এর সদস্য। বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন দৈনিক পূর্বদেশ, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক সংবাদ, দি ডেইলি স্টার, নিউজ টুডে, ইউএনবি ও আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা এএফপি এবং রয়টার্স-এ।</div>
<div dir="auto">প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা ৪০টিরও বেশি। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ বন্ধ দুয়ার ( উপন্যাস)</div>
<div dir="auto">দক্ষিণাঞ্চলের কথা</div>
<div dir="auto">অন্ধকারে একা ( উপন্যাস)</div>
<div dir="auto">আঁধারে আলোর ম্যাজিক ( কাব্যগ্রন্থ)</div>
<div dir="auto">নির্বাচিত গল্প</div>
<div dir="auto">নির্বাচিত কবিতা</div>
<div dir="auto">অদ্ভুত সব ভূতের গল্প</div>
<div dir="auto">আঁধারকাল ( মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস)</div>
<div dir="auto">Global Warming : Facing the Havoc</div>
<div dir="auto">দ্য স্পাই– পাওলো কোয়েলহো ( অনুবাদ) ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে এসেছে করোনাকালের কথা, আমাদের ভাষা আন্দোলন ও আমাদের বঙ্গবন্ধু। গ্রন্থগুলো প্রকাশিত হয়েছে বাউণ্ডুলে প্রকাশনী থেকে।</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%85%e0%a6%b0%e0%a7%82/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>রাজনীতির চাঁদপুরে ভাবতে হবে নতুন করে</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%a6%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a4%e0%a7%87/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%a6%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a4%e0%a7%87/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[সদানন্দ সরকার]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 23 May 2022 12:50:35 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[রাজখবর]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সম্পাদকীয়]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=4982</guid>

					<description><![CDATA[<p>রাজনীতির চাঁদপুরে ধরাশায়ী সব গভীর জলের মাছ</p> <p>পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থলে অবস্থিত ও ‘ইলশে বাড়ি বা ইলিশ মাছের ঘর হিসেবে পরিচিত’ ছোট সুন্দর একটি জেলা চাঁদপুরে এবার ইলিশের</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%a6%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a4%e0%a7%87/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><b>রাজনীতির চাঁদপুরে ধরাশায়ী সব গভীর জলের মাছ</b></p>
<div id="attachment_4976" style="width: 310px" class="wp-caption aligncenter"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/Screenshot_2022-05-22-15-17-19-22_99c04817c0de5652397fc8b56c3b3817.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-4976" class="size-medium wp-image-4976" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/Screenshot_2022-05-22-15-17-19-22_99c04817c0de5652397fc8b56c3b3817-300x250.jpg" alt="" width="300" height="250" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/Screenshot_2022-05-22-15-17-19-22_99c04817c0de5652397fc8b56c3b3817-300x250.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/Screenshot_2022-05-22-15-17-19-22_99c04817c0de5652397fc8b56c3b3817.jpg 471w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-4976" class="wp-caption-text">মেঘনা রক্ষা বাঁধ</p></div>
<p><span style="font-weight: 400;">পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থলে অবস্থিত ও ‘ইলশে বাড়ি বা ইলিশ মাছের ঘর হিসেবে পরিচিত’ ছোট সুন্দর একটি জেলা চাঁদপুরে এবার ইলিশের খুব আকাল চলছে। হতদরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষ ইলিশতো দূরের কথা তেলাপিয়া কেনারও সামর্থ্য নেই। তারউপর চাল, তেল, ডাল, পিঁয়াজ ছাড়াও নিত্য পণ্যের দামে অস্থির জনজীবন। নির্বাচন বা রাজনীতির কথা শুনলেই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন আর বলেন &#8211; রাখুনতো। পেট নীতির ফুরসৎ নেই আবার রাজনীতি। এদেশে আর সুষ্ঠু রাজনীতি আছে নাকি? থাকলে চাল আটার দাম এতো বাড়ায় কেমনে ব্যবসায়ীরা? </span><span style="font-weight: 400;">২২ ও ২৩ মে রবিবার ও সোমবার এভাবেই উল্টো প্রশ্ন বাণে সংবাদ কর্মীদের জর্জরিত করেন চাঁদপুর জেলার হাইমচর, ফরিদগঞ্জ ও মতলব উপজেলার বাসিন্দারা। তাদের চাওয়া পাওয়া সবটাই যেন বাজার দরে আটকে আছে। এর বাইরে কিছু বলা বা কওয়ার সময় কারোই নেই।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/IMG20220522124734.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-4983" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/IMG20220522124734-300x225.jpg" alt="" width="300" height="225" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/IMG20220522124734-300x225.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/IMG20220522124734-768x576.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/IMG20220522124734-1024x768.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>চট্টগ্রাম বিভাগের আওতাধীন চাঁদপুর জেলার রাজনৈতিক বিন্যাস ৫ টি আসনে। এখানকার আট উপজেলা ও থানা চাঁদপুর সদর, হাজীগঞ্জ, শাহরাস্তি,  হাইমচর,ফরিদগঞ্জ, কচুয়া, মতলব দক্ষিণ ও মতলবউত্তর নিয়ে ৫ টি সংসদীয় আসনে বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজত্ব চলছে। জেলার </span><span style="font-weight: 400;">মোট আয়তন ১,৭৪০.৬ বর্গ কিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ হলেও কাগজপত্রে এখনো ২৬,০০,২৬৩ জন উল্লেখ রয়েছে।  এর মধ্যে পুরুষ ১৩,৫৪,৭৩২ ও মহিলা ১২,৪৫,৫৩১ জন আর জেলার মোট ভোটার সংখ্যা ১৪,১১,৬০৬ জন বলে জানা গেছে। তবে হালনাগাদ তথ্য এখনো চলমান রয়েছে। </span></p>
<div id="attachment_4911" style="width: 300px" class="wp-caption alignright"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/04/IMG_20220428_004810.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-4911" class="size-medium wp-image-4911" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/04/IMG_20220428_004810-290x300.jpg" alt="" width="290" height="300" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/04/IMG_20220428_004810-290x300.jpg 290w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/04/IMG_20220428_004810.jpg 581w" sizes="auto, (max-width: 290px) 100vw, 290px" /></a><p id="caption-attachment-4911" class="wp-caption-text">সাংসদ ও শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি</p></div>
<p><span style="font-weight: 400;">জেলায় মোট ৭টি পৌরসভা রয়েছে এবং এই পৌর মেয়র বা চেয়ারম্যানের সমর্থকরাই মূলত সংসদীয় আসনের প্রভাব বিস্তার করে সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে চাঁদপুর পৌরসভা এ গ্রেডের মর্যাদা লাভ করায় আওয়ামী লীগের দলীয় মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল এখানে ক্রমশ প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। স্থানীয় বা চাঁদপুর তিন আসনের সাংসদ দীপু মনির ডান হাত হিসেবে চিহ্নিত মেয়র জুয়েলের প্রতি স্থানীয় জনগণেরও ব্যাপক সমর্থন লক্ষ্য করা যায়। যে কারণেই সাবেক মেয়র ও জেলা আ’লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারীর মতো সিনিয়রদের ডিঙিয়ে নৌকা প্রতীক জয়ী হয়ে দেখিয়েছেন তিনি। এসময় তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির আক্তার হোসেন মাঝি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের মামুনুর রশিদ বেলাল। চাঁদপুর-৩ (সদর ও হাইমচর উপজেলা) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. দীপু মনি নৌকা প্রতীকে পরপর চারবার নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন।</span></p>
<div id="attachment_4984" style="width: 310px" class="wp-caption alignleft"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/IMG_20220523_183020.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-4984" class="size-medium wp-image-4984" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/IMG_20220523_183020-300x271.jpg" alt="" width="300" height="271" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/IMG_20220523_183020-300x271.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/IMG_20220523_183020.jpg 419w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-4984" class="wp-caption-text">বিএনপির শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক</p></div>
<p><span style="font-weight: 400;">বিএনপির শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক এখানে দূর্বল প্রার্থী বলে ধারনা সাধারণ মানুষের। তবে তার সাথে কথা বলে তাকে বেশ আত্মনির্ভরশীল মনে হয়েছে। তিনি বলেন, এই সরকারের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনেই অংশ নেবেনা। তাই এ নিয়ে আমরা ভাবছিনা। আমরা দলের সাংগঠনিক দূর্বলতা কাটিয়ে বড় আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি এখন। এ সরকারকে গদি ছাড়তে বাধ্য করা হবে আমাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">হাজীগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র মাহবুব-উল আলম লিপন এবং  শাহরাস্তি পৌর মেয়র হাজি আব্দুল লতিফ  মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমকে ঘীরে শক্তিশালী দূর্গ গড়েছেন বলে এলাকাবাসীর দাবী। সাংসদ রফিকুল ইসলামের সততা ও এলাকার প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের কারণে চাঁদপুরে তার জনপ্রিয়তা বিরোধী পক্ষেও বলে দাবী স্থানীয় আওয়ামী লীগের। তবে জেলা বিএনপির সভাপতি বলেন, নির্বাচন যদি আদৌ হতে দেয়া হয়, তাহলে বিএনপির জয় নিশ্চিত চাঁদপুরের সবকটি আসনেই। ২০১৮ সালের নির্বাচনে চাঁদপুর-৫ (হাজিগঞ্জ- শাহরাস্তি উপজেলা) আসনে আওয়ামী লীগের মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম নৌকা প্রতীকে জয়ী হন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কচুয়া পৌরসভার মেয়র মো. নাজমুল আলম স্বপন সহ অনেকেই এখন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদের সাথে। এমনকি কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলী পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক সোহরাব উদ্দিন চৌধুরী সোহাগও রয়েছেন এই দলে। ফলে দূর্বল হয়ে পরেছে </span><span style="font-weight: 400;">চাঁদপুর-১ (কচুয়া উপজেলা) আসনে আওয়ামী লীগের সাংসদ ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সমর্থন।  এখন তিনি নিজ এলাকায় বিতর্কিত। কচুয়া আসনে এবার বিএনপির মো. মোশারফ হোসেন আওয়ামী লীগের তুলনায় শক্তিশালী হলেও দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে উপেক্ষিত।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ছেঙ্গারচরের পৌর মেয়র বর্তমানে আওয়ামী লীগের আব্দুল মান্নান বেপারী। মতলবউত্তর উপজেলার আওতাধীন এই পৌরসভাটির সাথে  মতলব পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আওলাদ হোসেন লিটনকে যুক্ত করে চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা) আসনে আওয়ামী লীগের সাংসদ মো. নুরুল আমিন এলাকার উন্নয়নে যথেষ্ট ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছেন। তবে অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখানেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়কেই খাচ্ছে। বিএনপির ড. জালাল উদ্দিন এখানে আলোচনায় আছেন। </span></p>
<div id="attachment_4985" style="width: 310px" class="wp-caption alignright"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/IMG_20220523_180519.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-4985" class="size-medium wp-image-4985" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/IMG_20220523_180519-300x233.jpg" alt="" width="300" height="233" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/IMG_20220523_180519-300x233.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/IMG_20220523_180519.jpg 527w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-4985" class="wp-caption-text">সাংসদ শফিকুর রহমান</p></div>
<p><span style="font-weight: 400;">চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ উপজেলা) আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংসদ মুহম্মদ শাফিকুর রহমানও এখন অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নাজেহাল প্রায়। এখানে এখন তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ফরিদগঞ্জের সাবেক সাংসদ শামসুল হক ভূইয়া ও পৌর মেয়র উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটোয়ারী। ২০১৮ এর নির্বাচনের পর শফির রহমানকে চোখেও দেখেননি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। তবে বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিবর্গের অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকেন বলে জানা যায়। এখানে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন মো. হারুনুর রশিদ। তবে বর্তমানে এখানে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে এম এ হান্নান। করোনাকালীন সংকটে এমএ হান্নানের ভূমিকা প্রশংসনীয় বলে দাবী নয়ারহাট এলাকার বাসিন্দাদের।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এছাড়াও রয়েছে ৮৯টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছাড়াও ৫টি আসনের   ১৩৬৫ জন মেম্বারদের প্রভাব। যা আগামীর হিসাবনিকাশে বিশাল প্রভাব বিস্তার করবে বলে ধারণা চাঁদপুরের স্থানীয় সাংবাদিক ও বিশ্লেষকদের। তবে সর্বত্রই </span><span style="font-weight: 300;">টিসিবি কার্ডে পণ্য না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে ।</span></p>
<p><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/IMG_20220523_184206.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignright size-medium wp-image-4987" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/IMG_20220523_184206-300x250.jpg" alt="" width="300" height="250" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/IMG_20220523_184206-300x250.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/IMG_20220523_184206-768x640.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/IMG_20220523_184206-1024x853.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/IMG_20220523_184206.jpg 1296w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>চাঁদপুর জেলার ৫টি আসনের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সভাপতি এনায়েতউল্লাহ খোকন বলেন,  গত তের বছরে অসংখ্য হামলা মামলার শিকার আমরা। কদিন আগেও মিথ্যা মামলায় আমাদের জেলা সভাপতি মানিক ভাইকে ধরে নিয়ে যায় এই সরকারের বাহিনী। ফরিদগঞ্জে কোনো নেতা রাস্তায় বের হতে পারেনা। মতলব উত্তর ও দক্ষিণ নিয়েও একই সমস্যা।  আমরা নির্বাচন নিয়ে ভাবছিনা। কারণ আমরা জানি এ সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন হতে দেবেনা। আমরা তাই দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ধরে রাখতে দলকে গোছানোর কাজ করছি।</p>
<p>এদিকে অভ্যন্তরীণ নানা ঘটনাবলি নিয়ে চাঁদপুরের আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক টিম গত ২ ও ৩ মার্চ ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনে মতবিনিময় সভা করে। <span style="font-weight: 300;">দুদিনের এ মতবিনিময় সভায় দলীয় কোন্দল নিরসনের চেষ্টাও করা হয় এবং</span><span style="font-weight: 300;"> জেলার পাঁচ সংসদ সদস্য (এমপি), জেলা ও আট উপজেলা, পৌর কমিটির নেতাদের সাথে এই মত বিনিময়ে আদতে কোনো সফলতা আনেনি।</span><span style="font-weight: 300;"> শুধু মাত্র চাঁদপুর-৩ আসনের অধীন সদর উপজেলা, চাঁদপুর পৌর ও হাইমচর উপজেলা আওয়ামী লীগেই যথেষ্ট পরিবর্তন এসেছে। এখানে কেউ আর সহজে মিডিয়ার সামনে কথা বলছেন না।</span></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%a6%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%a4%e0%a7%87/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ক্ষুদ্র নয়, মাঝারি ও বৃহৎ মালিকানার দখলে বরিশাল বিসিক</title>
		<link>https://shahittabazar.com/4944-2/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/4944-2/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[সদানন্দ সরকার]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 13 May 2022 03:34:36 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জাতীয়]]></category>
		<category><![CDATA[বরিশাল বিভাগ]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলার চিঠি]]></category>
		<category><![CDATA[ক্ষুদ্র]]></category>
		<category><![CDATA[বরিশাল]]></category>
		<category><![CDATA[বিসিক]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=4944</guid>

					<description><![CDATA[<p>ক্ষুদ্র নয়, মাঝারি ও বৃহৎ মালিকানার দখলে বরিশাল বিসিক </p> <p>মাটি ভরাট আর সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের মধ্যেই আটকে আছে বরিশালে বিসিককে দেশের বৃহৎ ক্ষুদ্র শিল্পনগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কাজ। এখানের বরাদ্দ প্রাপ্ত প্লটের</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/4944-2/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><b>ক্ষুদ্র নয়, মাঝারি ও বৃহৎ মালিকানার দখলে বরিশাল বিসিক </b></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/IMG20220512135939.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-4945" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/IMG20220512135939-300x225.jpg" alt="" width="300" height="225" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/IMG20220512135939-300x225.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/IMG20220512135939-768x576.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/IMG20220512135939-1024x768.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>মাটি ভরাট আর সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের মধ্যেই আটকে আছে </span><span style="font-weight: 400;">বরিশালে বিসিককে দেশের বৃহৎ ক্ষুদ্র শিল্পনগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কাজ। এখানের বরাদ্দ প্রাপ্ত প্লটের বেশিরভাগই দখল করেছে মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প মালিকরা। একই গ্রুপ অব কোম্পানি বিভিন্ন নামে প্লট বরাদ্দ নিয়ে বঞ্চিত করছে ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তাদের। আর এ কাজে সাহায্য করছে বিসিক প্রশাসন কর্তৃপক্ষ। এমনটাই অভিযোগ উদ্যোক্তা হতে আসা অনেক ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান মালিকদের। এমনকি বরিশালে </span><span style="font-weight: 400;">বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এর নিজস্ব ভবনটিও এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি বলে জানান স্থানীয় মরকখোলার বাসিন্দারা।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">যদিও জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন হায়দার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিসিককে শক্তিশালী করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এজন্য ক্ষুদ্র কুটির শিল্প উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসারও আহ্বান জানিয়েছেন বেশ কয়েকটি সভা সেমিনারে। কিন্তু কার্যত বিসিকে কোনো উন্নয়নই দৃশ্যমান হয়নি আজ পর্যন্ত। আর এজন্য বিসিক কর্মকর্তাদের উদাসীনতাকেই দায়ী করেন নাগরিকদের অনেকে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সরজমিন ১১ মে বৃহস্পতিবার বিসিক নগরীতে ঘুরে দেখা গেল,  ভিতরটা এখন গত বছরের তুলনায় অনেক পরিচ্ছন্ন ও সড়কগুলো পাকা হয়েছে। তবে বিসিক এর নিজস্ব দূর্বল ভবনটি এখনো অবহেলা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আগের জায়গাতেই। এটি ভেঙে ছয়তলা ভবন তৈরি হবার কথা প্রচলিত আছে গত একবছর ধরে। আর প্রায় ছয়মাস ধরে ভাড়া করা বাড়িতে বিসিক কর্মকর্তাদের অফিসিয়াল কার্যক্রম চলছে। যা সরকারের তথা জনগণের টাকার অপচয় ছাড়া আর কিছু নয় বলে মনে করেন নগর চিন্তাবিদ এনায়েত হোসেন শিবলু। শিবলু বলেন, শুধু নীচু জমি ভরাট করে সীমানা বাড়ালেই হবেনা। প্লট তৈরি করে সত্যিকারের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের হাতে দিয়ে প্রমাণ করতে হবে এটা। এখন পর্যন্ত যাদের দেয়া হয়েছে তাদের বড় একটা অংশ আগে থেকেই শিল্পপতি। বিসিকে তাদের প্লট বরাদ্দ দেওয়াটা অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ।</span><span style="font-weight: 400;">বিসিক নগরীতে আসা-যাওয়ার প্রধান আরেকটি সমস্যা যোগাযোগ ব্যবস্থা। এখানের প্রবেশের প্রধান ফটক সংলগ্ন সড়কটি বরিশাল সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের। আর বারবার অভিযোগ করার পরও আশেপাশের সড়ক সংস্কার করলেও অজ্ঞাত কারণে তারা এই সড়কের উন্নয়নে কোনো আগ্রহ দেখাননি। ভাঙাচুরো, খানাখন্দভরা  এ সড়কটির আরেকনাম মড়কখোলা রোড। তাই শ্মশান এলাকায় সন্ধ্যার পর আসা-যাওয়া সাধারণ কর্মী ও মালিকদের জন্য কিছুটা ভিতীকর বলেই মনে করেন ফরচুন সুজ এর কর্মী হাসিবুর রহমান। তিনি বলেন, সন্ধ্যা হলেই ভিতরে উঠতি মাস্তানদের ও বখাটেদের উৎপাত শুরু হয়। বিভিন্ন কোনায়, পুকুরের পাড়ে বসে নেশার আখড়া। তাই চলাচলে ভয় হয়। বিশেষ করে এখানে কর্মরত মেয়েদের তাই সন্ধ্যার আগেই চলে যাওয়ার তাড়া থাকে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">যতদূর জানা যায়,  বরিশালে বিসিক শিল্পনগর প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয় ১৯৬১ সালে। প্রায় ১৩১ একর জমির ওই শিল্পনগরে ঐ সময়ে প্লটের সংখ্যা ছিলো ৪৪৬টি। এর মধ্যে ৩৭৮টি প্লট বরাদ্দ দিতে পেরেছিলো বিসিক কর্তৃপক্ষ। বরাদ্দ করা প্লটে শিল্প ইউনিট সংখ্যা ছিলো ১৭৩টি ও যার মধ্যে ৭২টি উৎপাদনে ছিলো। বর্তমানে উৎপাদনে আছে হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। যার সংখ্যা ৩০টির বেশি নয় বলে জানান স্থানীয় নিরাপত্তারক্ষীদের একজন। </span><span style="font-weight: 400;">পরবর্তীতে জমির পরিমাণ বৃদ্ধি করে ২৩০ একর জমিতে দেশের সবচেয়ে বড় বিসিক শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা এখনো আটকে আছে বিভিন্ন প্রশাসনিক জনিত সংকটে। বর্তমানে এখানে ১৩৮টি ছোট-বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে দাবী বিসিক কর্মকর্তাদের। তবে আশেপাশের বাসিন্দারা বলছেন, এই ১৩৮টি প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই একই মালিকের চার থেকে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেমন প্রিমিয়ার এর তিনটি প্লটই কিন্তু ফরচুন গ্রুপের। কারণ ওটি আসলে ফরচুন গ্রুপেরই অংশ। এভাবে ইত্যাদি, বেঙ্গল বিস্কুট সহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠানেরই একাধিক প্লট রয়েছে যা আসলে একই মালিকের। তবে এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর সুষ্ঠু কাজের পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা,  বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে বলে জানান ক্ষুদ্র কুটির শিল্প উদ্যোক্তা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এগ্রো ফুডসের ব্যাবস্হাপক ইব্রাহিম খান। তিনি বলেন, নিজস্ব বিদ্যুৎ সুবিধা চালু হলে কাজের গতি বাড়বে। তবে গ্যাসের অভাবে আমাদের অনেক কাজ ব্যহত হচ্ছে। আমরা এখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছিনা ঐ গ্যাসের অভাবেই। ইব্রাহিম খান আরো বলেন, বরিশালে, ডক ইয়ার্ড, মটর পার্টস তৈরি, গার্মেন্টস শিল্পসহ বিভিন্ন বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব হবে গ্যাস সমস্যার সমাধান হলে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/IMG20220512140027.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignright size-medium wp-image-4946" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/IMG20220512140027-300x225.jpg" alt="" width="300" height="225" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/IMG20220512140027-300x225.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/IMG20220512140027-768x576.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/05/IMG20220512140027-1024x768.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>বিসিক উপমহাব্যবস্থাপক জালিস মাহমুদও</strong> বলেন, বরিশাল বিসিকের প্রধান সমস্যা হচ্ছে বহিরাগতরা এখানে আচমকা ঢুকে পড়ে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের ওপর হামলা করছে। এর প্রতিবাদে এখানের ব্যবসায়ীরা নগরীতে মানববন্ধনও করেছে। গ্যাস বা জ্বালানি সুবিধা পেলেই বরিশাল বিসিক সয়ংসম্পূর্ণ বলা যাবে।</span><span style="font-weight: 400;">জালিস মাহমুদ আরো জানান, বিসিকের উন্নয়নের জন্য ২০১৮ সালে ৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। ঐ টাকায় সড়ক, নালা ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণসহ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এখনো চলমান আছে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>সুজন বরিশালের সদস্য সচিব রফিকুল আলম</strong> বলেন,  আমি বেশ কয়েকজন ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তার সাথে কথা বলে জেনেছি, উদ্যোক্তা হতে এসে কাগজপত্র জটিলতা ও ঋণ সুবিধা বঞ্চিত হয়ে তারা আবার ফিরে গেছেন। এটা যাতে না হয়, কাগজপত্র সংক্রান্ত জটিলতা সহজ  করা ও সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার বিষয়টি প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে। সবাইতো সরাসরি জেলা প্রশাসকের কাছে যেতে পারেননা। তাই বিসিক কর্মকর্তাদের তা সহজ করতে হবে।</span><span style="font-weight: 400;">রফিকুল আলম আরো বলেন,  প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে আমাদের শীতলপাটি ও মৃৎশিল্পসহ নানা ধরনের উপকরণ নিয়ে বিসিক সাজানোর। যদিও বিসিক এলাকায় কেবল, কয়েল, প্যাকেজিং ও পলিথিন কারখানা পেলেও অলিগলি ঘুরে কোথাও দেখা যায়নি এধরণের কোনো শিল্প উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান।</span></p>
<div id="attachment_4850" style="width: 310px" class="wp-caption alignleft"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/03/IMG20220316123752.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-4850" class="size-medium wp-image-4850" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/03/IMG20220316123752-300x225.jpg" alt="" width="300" height="225" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/03/IMG20220316123752-300x225.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/03/IMG20220316123752-768x576.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/03/IMG20220316123752-1024x768.jpg 1024w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-4850" class="wp-caption-text">জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন হায়দার</p></div>
<p><span style="font-weight: 400;">বরিশালের জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন হায়দার বলেন, আমি বরিশালে আসার পর থেকে বিসিককে শক্তিশালী করতে যা যা করনীয় তা করার জন্য সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি।  নীচু এলাকা ও ডোবা ভরাট করে জমির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।  বিসিক কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তা মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ যখন যা চাচ্ছে  তা দেয়ার চেষ্টা করছি। বিদুৎ ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু চালু হবার অপেক্ষা। আর ভোলা থেকে গ্যাস আনার বিষয়টি যেহেতু আমার একক বিষয় নয়, তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথাবার্তা চলছে।  আমরা আশাবাদী হয়তো একটু দেরীতে হলে গ্যাস সমস্যার সমাধান হবে। </span><span style="font-weight: 400;">তিনি আরো বলেন,  আমি বরিশালকে একটি বাণিজ্যিক নগরীর হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। আর এজন্য রাজনৈতিক,  সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দসহ সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। বৃহৎ শিল্প উদ্যোক্তারাও এগিয়ে আসলে বরিশালে পৃথক একটি শিল্প নগরী বা ইপিজেড স্থাপন হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন হায়দার।</span></p>
<p>&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/4944-2/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>শুধু দৃষ্টিহীনদের নয়ঃ একজন মানবতার মা মঞ্জুু সমদ্দার</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%a7%e0%a7%81-%e0%a6%a6%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a7%9f%e0%a6%83-%e0%a6%8f%e0%a6%95/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%a7%e0%a7%81-%e0%a6%a6%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a7%9f%e0%a6%83-%e0%a6%8f%e0%a6%95/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[সদানন্দ সরকার]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 29 Apr 2022 15:59:08 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কথামালা]]></category>
		<category><![CDATA[জীবন কথা]]></category>
		<category><![CDATA[দৃষ্টি প্রতিবন্ধী]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=4926</guid>

					<description><![CDATA[<p>শুধু দৃষ্টিহীনদের নয়, একজন মানবতার মা মঞ্জুু সমদ্দার</p> <p>সন্তানের বড় হয়ে ওঠা ও প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠার প্রথম ও প্রধান কৃতিত্ব একজন মায়ের। মা যদি ভালো আর শিক্ষিত হন তাহলে</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%a7%e0%a7%81-%e0%a6%a6%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a7%9f%e0%a6%83-%e0%a6%8f%e0%a6%95/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>শুধু দৃষ্টিহীনদের নয়, একজন মানবতার মা মঞ্জুু সমদ্দার</strong></p>
<p><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/04/IMG_20200316_1611502.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignright size-medium wp-image-4927" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/04/IMG_20200316_1611502-297x300.jpg" alt="" width="297" height="300" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/04/IMG_20200316_1611502-297x300.jpg 297w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/04/IMG_20200316_1611502-768x776.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/04/IMG_20200316_1611502-1013x1024.jpg 1013w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/04/IMG_20200316_1611502.jpg 1281w" sizes="auto, (max-width: 297px) 100vw, 297px" /></a>সন্তানের বড় হয়ে ওঠা ও প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠার প্রথম ও প্রধান কৃতিত্ব একজন মায়ের। মা যদি ভালো আর শিক্ষিত হন তাহলে তার সন্তান সুসন্তান হতে বাধ্য। একজন আদর্শ মা সবসময় তার সন্তানকে পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে রেখে বড় করার চেষ্টা করেন। কারণ, এতে করে সন্তানের মানবিক গুণাবলী বিকশিত হয়। তা না হলে ওরা বখে যায় নয়তো আবেগ অনুভূতিহীন হয়ে ওঠে। আলাপের শুরুতেই কথাগুলো বলেন এ সময়ের একজন আদর্শ মা এবং দৃষ্টিহীনদের মা বলে খ্যাত অধ্যাপিকা ও সমাজ সেবক মঞ্জুু সমদ্দার। শুধু নিজ গর্ভের পাঁচ সন্তান নয়, শত শত দৃষ্টিহীন সন্তানের মা তিনি এখন। তার এই দৃষ্টিহীন সন্তানদের অনেকেই এখন সমাজে প্রতিষ্ঠিত। তাদের কেউ ব্যাংকার, কেউ সমাজসেবক বা এনজিও কর্মকর্তা, আবার কেউ কেউ সরকারী উচ্চপদস্থ অফিসার। তাদের দেখে গর্বিত হন এই মানবিক মা মঞ্জুু সমদ্দার।<br />
দৃষ্টিহীনদের বেইল পদ্ধতিতে শিক্ষা প্রদান, হাতে কলমে তাদের প্রশিক্ষিত ও স্বাবলম্বী করে তোলার পাশাপাশি তাদের এই মা সবসময় মানবিকতার আবেদনগুলোতে দৃষ্টি দিতেন সবার আগে। হোস্টেলে তাদের সুবিধা অসুবিধার বিষয়গুলো আগে সুরাহা করতেন। মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য তার ছিল আরো গভীর মনযোগ। তাই তিনি একজন মানবতার মা বলেও পরিচিত কারো কারো কাছে। তবে বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষের কাছে তাঁর পরিচয় তিনি দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের মা। সরকারী চাকুরী, বিদেশের হাতছানি আরো শত লোভনীয় আকর্ষণ ত্যাগ করে জীবনের প্রায় পুরো সময়টাই তিনি ব্যায় করে চলেছেন প্রতিবন্ধী আশ্রয়হীন মানুষদের মনে বিশ্বাসের আলো জ্বালাতে। বলা যায়, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এই সন্তানরা পৃথিবীকে দেখতেন তাদের এই মায়ের চোখ দিয়ে।<br />
এছাড়াও অবসর প্রাপ্ত ও বিধবা মায়েদের নিয়ে তিনি দাঁড় করিয়েছেন শুকতারা নামের একটি সংগঠন। এর সাথে সম্পৃক্ত মায়েরা তাদের একাকীত্বের যন্ত্রণা কাটিয়ে উঠে শুকতারা সংগঠনটিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। এ সংগঠনটি আর্তমানবতার সেবায় বিশেষ করে, বিধবাদের নিয়ে কাজ করছে।<br />
তার ঐকান্তিক চেষ্টায় তিনি গড়ে তুলেছিলেন দৃষ্টিহীন পুনর্বাসন কেন্দ্র বা রিহ্যাবিলিটেশন হোম ফর ব্লাইন্ড ওমেন। যদিও সম্প্রতি ফা- সংকট দেখিয়ে ঐ আশ্রয় প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের পথে ঘটে, আনাচে কানাচে এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে অনেক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নারী। তাদের একটু আশ্রয় বা আবাসন ব্যবস্থার জন্য মঞ্জুু সমদ্দার করুন আকুতী জানিয়েছেন মানবতার জননী খ্যাত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। তিনি বলেন, যাদের দৃষ্টি আছে তাদের জীবনই যেখানে সুরক্ষিত নয়, সেখানে দৃষ্টিহীনদের অবস্থা কি? তা সমাজের সকলেরই ভাবা উচিত। আমরা শুধু মুখেই মানবিকতার কথা বলি। অথচ বাস্তবতা ভিন্ন। সকলের উচিত মানবিকতার জন্যেই আশ্রয়হীন প্রতিবন্ধীদেও পাশে দাঁড়ানো।<br />
একজন মানবতার মা বা মানবিক মা কিম্বা দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের মা যে নামেই ডাকুন। তিনি মা। আর মায়ের বিকল্প কিছুই হয়না। তাইতো সয়ং ঈশ্বর বা আল্লাহ বলেছেন, “তোমার মায়ের প্রতি যতœশীল থাকো। মা কে সেইভাবে যতœ করো, যেভাবে মা শিশুবেলায় তোমার যতœ করেছেন”।<br />
<strong>আত্মপরিচয়ে মঞ্জুু সমদ্দার</strong><br />
মঞ্জুু সমদ্দার, পিতা রমজান আলি মুন্সী ও মাতা রত্মাময়ী মুন্সী এবং তাঁর স্বামী উইলিয়াম বিপ্লব সমদ্দার। সম্পর্কের এই মুন্সি ও সমদ্দার রহস্যের উত্তরে তিনি জানান, ধর্ম নয়, মানবিক বিবেচনায় ভালো মানুষটিই আমার প্রথম পছন্দের বিষয়। তাই মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা নিয়ে কাজ করি আমি, বিনিময়ে মানুষও আমাকে ভালোবাসেন অকৃত্রিমভাবে।<br />
বাবা মায়ের আদর্শিক চেতনায় পড়াশুনা চলাকালেই শিক্ষকতার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন তিনি। বিনামূল্যে পথশিশুদের শিক্ষা দান ছিল ছোট থেকেই নেশার মতো। তার এই গুনটির প্রতি আকৃষ্ট হয়েই হয়তো প্রেমে পরে যান উইলিয়াম বিপ্লব সমদ্দার।<br />
এসএসসি অধ্যায়ন সময়োই কলেজ পড়ুয়া বিপ্লব সমদ্দার এর সাথে প্রণয় ও বিয়ে। বিপ্লব সমদ্দার তখন তরুণ সংগঠক ও সমাজসেবক হিসেবে খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। এই ব্যক্তিত্ববান মানুষটিকে নিজ হাতেই গড়ে তোলেন তিনি। প্রচ- ধৈর্য ও পরিশ্রমে স্বামীকে একজন দক্ষ প্রকৌশলী হিসেবে পরিচিত করে তুলেন সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে।<br />
কলেজ জীবন শেষ হতে না হতেই মহাখালী সরকারী আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের সহ শিক্ষিকা ও স্পোর্টস টিচার হিসেবে সরকারী চাকুরিতে যোগদান করেন মঞ্জুু সমদ্দার। টানা ১৩ বছর এখানে শিক্ষকতা করার পর হঠাৎ তার আলাপ হয় মিশনারি মিস ক্যাম্পবেল এর সাথে। মিস ক্যাম্পবেল ব্যাপ্টিস্ট মিশন অন্ধ বালিকা বিদ্যালয় এর প্রতিষ্ঠাতা। তারই সহযোগিতার জন্যে মঞ্জুু সমদ্দার ১৯৮০ সালে সহ প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কাজ শুরু করেন ব্যাপ্টিস্ট মিশন অন্ধ বালিকা বিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালের ১৭ মে মিস ক্যাম্পবেল বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যান এবং মঞ্জুু সমদ্দার এই প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল নিযুক্ত হন। ঐ সময় মাত্র ১৭ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নিয়ে ২য় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল। পরবর্তীতে প ম শ্রেণিতে উন্নিত হয়। মঞ্জুু সমদ্দারের ঐকান্তিক চেষ্টা ও ভালোবাসায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মেয়েরা খুঁজে পান একজন বন্ধু ও একজন মা&#8217;কে। তারই তত্বাবধানে বর্তমান এই অত্যাধুনিক ভবনটি নির্মিত হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নিত হয়েছে এসএসসি পর্যন্ত এবং এইচএসসি বদরুন্নেসায় পড়াশুনার ব্যবস্থা করেন তিনি। ২০১২ সালে তিনি এ বিদ্যালয়ের কর্মজীবন থেকে অবসর গ্রহণ করলেও এখনো তিনি ছুটে যান যে কোনো প্রয়োজনে।</p>
<div id="attachment_4017" style="width: 310px" class="wp-caption alignleft"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2020/03/260320-01.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-4017" class="wp-image-4017 size-medium" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2020/03/260320-01-300x225.jpg" alt="" width="300" height="225" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2020/03/260320-01-300x225.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2020/03/260320-01-768x576.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2020/03/260320-01.jpg 816w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-4017" class="wp-caption-text">স্বামীর কবরের পাশে</p></div>
<p>রাজনীতির পারিবারিক ধারা অব্যাহত রাখতে তিনি সক্রিয় ছিলেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও। ১৯৮৫ সালের মার্চে মিরপুর ১৩ নং ওয়ার্ডের মহিলা সম্পাদিকা নিযুক্ত হন তিনি। এছাড়াও জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম এর প্রতিষ্ঠাতা ও কোযাধ্যক্ষ ছিলেন। এ পদে ছিলেন দীর্ঘ সময়। এ সময় তিনি বিভিন্ন প্রতিবন্ধী সংগঠনের কার্যকরী সদস্য হিসেবেও অবদান রাখেন। আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী সংস্থার( ওঈঊঠও) আইসিইভিআই এর দেশীয় দূত ছিলেন। এছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চ সংঘের চারশটি ম-লীর মহিলা মর্ডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘ দিন। আর এ সুবাধে ধর্মতত্ত্বের উপরও ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।<br />
তিনি বলেন, আমার বড়ছেলে প্রলয় সমদ্দার বাপ্পী রাজনীতিতে প্রবেশ করলে, আমি রাজনীতি থেকে অবসর নিলেও সেবার কোনো কাজ থেকে এখন পর্যন্ত অবসর নেই নাই।<br />
তিনছেলে ও দুই মেয়ে ও নয়জন নাতি নাতনি নিয়ে সাজানো সংসার তার। কিছুটা স্থবিরতা নেমে আসে উইলিয়াম বিপ্লব সমদ্দারের অকাল প্রয়াণে। ৬ ডিসেম্বর ১৯১৬ তে পরলোকে যান তিনি। দীর্ঘদিনের বন্ধুকে হারিয়ে নিঃসঙ্গ জীবনকে সামলাতে আরো বেশি কর্মব্যস্ত এই মানবিক মা ছুটে বেড়ান তার সন্তানদের সুশিক্ষা বিলাতে। আজ হাজারো শত সন্তান তার ছড়িয়ে আছে দেশ তথা বিশ্বের আনাচে কানাচে।<br />
তার বড়মেয়ে মেরী সূর্য্যানী যেন তারই ছায়া। মায়ের দেয়া শিক্ষা কাজে লাগাতেই যোগ দিয়েছিলেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্কুলটিতে। মেয়েকে নিজের মতোই একজন সেবিকা গড়ে তোলার চেষ্টা ছিল তার। এখানে তিনি কিছুটা সার্খকও বটে। কাবণ, মেয়ে তার অনেকটা সুনামের সাথেই সহ শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন তার পাশে পাশে। পরবর্তীতে দক্ষতা ও যোগ্যতা দিয়ে মেরী সূর্য্যানী বরিশাল ব্যাপ্টিস্ট মিশন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিযুক্ত হন। বর্তমানে তিনি সন্তান নিয়ে আমেরিকায় বসবাস করছেন।<br />
<a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2020/03/260320-03.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-4019" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2020/03/260320-03-300x225.jpg" alt="" width="300" height="225" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2020/03/260320-03-300x225.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2020/03/260320-03-768x576.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2020/03/260320-03.jpg 816w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>মঞ্জু সমদ্দার এর ছোটো ছেলে উইলিয়াম প্রবাল সমদ্দার আমেরিকায় ও সর্বকনিষ্ঠ এলিসা মৌসুমী শিক্ষকতা পোশায় ইংল্যান্ড বসবাস করেন।<br />
বড়ছেলে সমাজসেক ও রাজনীতিবিদ উইলিয়াম প্রলয় সমদ্দার বাপ্পী ও মেঝছেলে সুকণ্ঠ গায়ক উইলিয়াম পিয়াল সমাদ্দার জোয়েল এই বৃদ্ধ বয়সে তাঁর সহায়ক শক্তি। মেয়েরাও সবসময় তার কাজে উৎসাহ জুগিয়ে যাচ্ছেন সূদুর প্রবাস থেকে। আর তিনি তার শুকতারা সংগঠন নিয়ে এ বয়সেও আনন্দে মেতে আছেন ।। তিনি বলেন, মৃত্যুকে কে এড়াতে পারে বাবা? কেউ পারেনা, তবে মানুষ তার ভালোবাসা আর কর্ম দিয়ে মৃত্যুকে জয় করে নিতে পারে। নিজ কর্ম ও ভালবাসার বিনিময়ে তিনি অর্জন করে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক নারী দিবস পুরুষ্কার সহ অসংখ্য পুরুষ্কার ও সম্মাননা।</p>
<p>পরিশেষে তাঁর মেয়ে মেরী সূর্য্যানী এর লেখা ও সুরে প্রতিবন্ধী সংগীতটি দিয়েই শেষ করবো এ প্রতিবেদন।<br />
&#8216;প্রতিবন্ধকতা ছিন্ন করে,<br />
চলার পথ দেও সহজ করে,<br />
দেও অধিকার করুণা নয়..<br />
ভালবাসা দেও&#8230; তোমার আমার।&#8217;</p>
<p>সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্বের মানুষের কাছে এটাই মঞ্জুু সমদ্দারের একমাত্র চাওয়া। আর তাইতো এই বয়সেও ছুটে যান মানবিকতার ডাকে। যখনই কেনো প্রতিবন্ধীর কোন মানবিক সাহায্যের প্রয়োজন হয় ছুটে যান তাদের পাশে। হাতে হাত রেখে বলেন কি করতে পারি তোমাদের জন্য?</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%a7%e0%a7%81-%e0%a6%a6%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a7%9f%e0%a6%83-%e0%a6%8f%e0%a6%95/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>করোনায় সন্তানের মানসিকতাঃ প্রয়োজন বাবা মায়ের সচেতনতা</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%a4%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%a4%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[সদানন্দ সরকার]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 11 Jan 2022 09:11:21 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<category><![CDATA[করোনা]]></category>
		<category><![CDATA[শিশু]]></category>
		<category><![CDATA[সন্তান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=4809</guid>

					<description><![CDATA[<p dir="ltr">করোনায় সন্তানের মানসিকতা ঠিক রাখতেঃ প্রয়োজন বাব মায়ের সচেতনতা</p> <p dir="ltr">করোনা মহামারীর প্রভাব থেকে আপনার শিশুকে রক্ষা করতে হলে সবার আগে বাবা-মা এর সচেতনতা খুবই জরুরী। এসময় বাবা মাই</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%a4%e0%a6%be/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p dir="ltr"><strong>করোনায় সন্তানের মানসিকতা ঠিক রাখতেঃ প্রয়োজন বাব মায়ের সচেতনতা</strong></p>
<p dir="ltr"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/01/FB_IMG_1636965719175.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-4810" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/01/FB_IMG_1636965719175-300x225.jpg" alt="" width="300" height="225" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/01/FB_IMG_1636965719175-300x225.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/01/FB_IMG_1636965719175.jpg 720w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>করোনা মহামারীর প্রভাব থেকে আপনার শিশুকে রক্ষা করতে হলে সবার আগে বাবা-মা এর সচেতনতা খুবই জরুরী। এসময় বাবা মাই সন্তানের প্রধান শিক্ষক। বাবা-মা যা করেন তার প্রভাবই সন্তানের উপর সবচেয়ে বেশি পরবে। তাই বাবা-মা &#8211; আপনি নিয়মিত বই পড়ুন, সন্তানের সাথে খেলা করুন।</p>
<p dir="ltr">একটা উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করা যাবে হয়তো।</p>
<p dir="ltr">আবীর। মাত্রই ষষ্ঠ শ্রেনীতে উঠেছে। <span style="font-weight: 300;">গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে ঘরবন্দি সে। অনলাইন ক্লাস করতে হয় মাঝেমধ্যে। বাকী সময়টা তার কাটছে মোবাইল বা ল্যাপটপে গেইম খেলে ও কার্টুন দেখে। অবস্থা এমন হয়েছে যে তার খাওয়া গোসলও এখন মোবাইল দেখার শর্ত নির্ভর। গেম খেলতে না দিলে খাওয়া বন্ধ।  বন্ধ গোসল। করোনা শেষে স্কুল খোলার পরও মোবাইল আসক্তি থেকে সরানো যায়নি আবীরকে। একপা হাটাহাটিও করতে রাজী নয় সে। কারণ একটাই তার বাবা-মা দুজনেই চাকুরীজীবি। আবীরের সাথে তাদের সময় কাটে খুবই কম। </span></p>
<p dir="ltr">শুধু আবীর একা নয়, এমন সংকটে ঢাকাসহ সারাদেশের অসংখ্য বাবা-মা। গেম আর ভিডিও দেখে অনেক শিশুই হারিয়েছে চোখের জ্যোতি।  পাওয়ারফুল চশমা এখন তাদের সাথী।</p>
<p dir="ltr">গত বছরের পুরো সময়টা শিশু-কিশোর ও তরুণেরা বাসায় বসে অনলাইনে ক্লাস করেছে। এখনো করছে। অনলাইন ক্লাসে তেমনভাবে মন বসাতে না পারলেও বাবা-মায়ের চাপে এই শিশুরা জুম ক্লাসে বসে কাটিয়েছে দিন। বাকি সময় টিভি বা বাবার ল্যাপটপে অথবা মোবাইল ফোনে হয় বন্ধুদের সঙ্গে চ্যাটিং, নয়তো গেম অথবা ভিডিও দেখে সময় কাটায়। বইপড়া বলতে ক্লাসের বই উলটেপালটে দেখে শুধু। প্রথম শ্রেনী থেকে একাদশ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের প্রায় সবাই একধরনের মানসিক চাপে রয়েছে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। শহরের জীবনে এই চাপ খুব বেশি প্রভাব ফেললেও গ্রামের শিশুটি কিন্তু ছুটোছুটি করে দিন কাটাতে পেরেছে। করোনা গ্রামের জীবনে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি বটে। তবে স্কুল বন্ধ থাকার প্রভাবমুক্ত নয় শিশুটি।</p>
<p dir="ltr">ঢাকার রামপুরার বাসিন্দা সূচী রহমান জানান, স্কুল বাধ্যতামূলক বন্ধ হয়ে গেলে সাড়ে ১০ বছরের ছেলেকে নিয়ে বাসায়ই অবস্থান করেন। ছেলেকে নিয়ে আগে স্কুলে গেলে সেখানে সে দৌড়াদৌড়ি করত, হেঁটে বেড়াত, খেলত। কিন্তু ঘরবন্দি হওয়ার পর থেকে ছেলেটির জীবনযাপন পুরো বদলে যায়। আগে মায়ের সঙ্গে ভোরে ঘুম থেকে উঠত। এখন ঘুমায় দেরি করে। অনেক বেলা করে ওঠে। ওঠার পর কান্নাকাটি করে। খেতে চায় না। গল্পও শুনতে চায় না। প্রথম দিকে টেলিভিশন ছেড়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করে কিছুটা সফল হলেও পরে মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে পড়ে। কিছুতেই ফোন তার হাত থেকে নেওয়া যায় না। এমনকি কোনো কোনো সময় টিভি রিমোটও তার দখলে রাখে। সারাক্ষণ বিরক্ত করে। খেলাধুলাও আর আগের মতো করতে চায় না। মাঝে মধ্যে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। কাউকে দেখলে সে ছুটে এসে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। বাইরে খেলতে বা ঘুরে বেড়াতে চায়না আর। জোড় করে বাইরে নিয়ে গেলে কান্নাকাটি শুরু করে <a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/01/IMG_20210514_235359_964.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-4811" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/01/IMG_20210514_235359_964-218x300.jpg" alt="" width="218" height="300" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/01/IMG_20210514_235359_964-218x300.jpg 218w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/01/IMG_20210514_235359_964-768x1058.jpg 768w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/01/IMG_20210514_235359_964-744x1024.jpg 744w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2022/01/IMG_20210514_235359_964.jpg 1466w" sizes="auto, (max-width: 218px) 100vw, 218px" /></a>দেয়। এমন অভিযোগ আরো অনেক বাবা মায়ের। করোনা মহামারীর প্রভাবে লণ্ডভণ্ড তাদের শান্তির জীবন।</p>
<p dir="ltr">বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস এক আতঙ্কের নাম। তবে পৃথিবীব অন্যান্য দেশ ও অঞ্চল থেকে আমাদের দেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুহার কম হলেও এ ভাইরাসের ভয়াল থাবা থেকে আমরা এখনো পুরোপুরি কেউ ঝুঁকিমুক্ত নই। এমনকি শিশুরাও। তাই পরিবারকে বিশেষ করে শিশুদের অধিকতর নিরাপদে রাখতে ঘরবন্দি রাখতে হচ্ছে গত বছর থেকে এখন পর্যন্ত। আর এতে ব্যাহত হয়ে পড়ছে শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাপন; বেড়ে ওঠাও।</p>
<p dir="ltr">শহুরে জীবনের প্রতিটি ঘরে শিশুসন্তান নিয়ে সবার সমস্যা প্রায় একই। গ্রামাঞ্চলের শিশুরা বাড়ির আঙিনায় খেলাধুলার সুযোগ পেলেও শহুরে শিশুদের এই করোনাকালে স্কুলে বা বাইরে যাওয়ার তাড়না না থাকায় বদলে গেছে জীবনযাপনের ধরন। দিন-রাত মোবাইল ফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ কিংবা টেলিভিশন দেখে বেশি রাতে ঘুমানো এবং বেলা করে ঘুম থেকে ওঠা; সর্বোপরি ঢিমেতালে জীবনযাপন, অলসতা মানবজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব খুবই মারাত্মক। ঘুম থেকে ওঠার পর হাতে বই ধরিয়ে দেওয়া, জোর করে খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা, বকাঝকা অথবা কঠোর শাসনে রাখা; সর্বোপরি দীর্ঘদিন বন্ধু বা সঙ্গহীন থাকায় শিশুমনে ব্যাপক বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। অথচ শিশুর বড় হওয়ার জন্য সুস্থ পারিপার্শ্বিক পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ।</p>
<p dir="ltr">স্বভাবতই শিশুরা যে কোনো ধরনের মানসিক চাপে পড়লে তার প্রতিক্রিয়া দেখায় ভিন্নভাবে। তারা বাবা-মাকে আঁকড়ে ধরে, উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে, নিজেকে গুঁটিয়ে রাখে, রাগ করে, এমনকি অস্থিরও হয়ে ওঠে। শিশুর মানসিক চাপজনিত এ প্রতিক্রিয়াগুলোর প্রতি পরিবারের অন্যদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। পাশাপাশি শিশুর প্রতিটি কথা গভীর মনোযোগ দিয়ে, আন্তরিকতার সঙ্গে শুনতে হবে। একটু বেশি ভালোবাসা দিয়ে রাখতে হবে এ সময়। বিরূপ পরিস্থিতিতে শিশুরা বড়োদের ভালোবাসা ও মনোযোগ একটু বেশিই প্রত্যাশা করে। এ সময় শিশুদের যতটা সম্ভব চাপমুক্ত রাখতে হবে এবং খেলাধুলার সুযোগ দিতে হবে। ব্যায়ামের অভ্যাস করাতে পারলে খুবই ভালো হয় । তাদের আচার-আচরণের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। মোটকথা, শিশুর আবেগ, অনুভূতি এবং তাদের যে কোনো সমস্যা সমাধানে যথেষ্ট আন্তরিকতা দেখাতে হবে।</p>
<p dir="ltr">শিশুদের দীর্ঘদিন ধরে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা নেই। বিদ্যালয়ে পড়া দিতে হয় না, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা নেই, খেলাধুলা, ঘোরাঘুরির আনন্দ থেকে বঞ্চিত তারা। অর্থাৎ জীবনের হঠাৎ এই ছন্দপতন তাদের মনে ও শরীরে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। এ অবস্থায় প্রয়োজন তাদের জন্য আনন্দময় পরিবেশ। কারণ মনোবিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময় শৈশব ও কৈশোর। এ সময় সবকিছু নতুনভাবে, নতুন আলোকে তাদের কাছে হাজির হয়। তাই প্রত্যেক শিশুর কাছে এ সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বেশিরভাগ শিশু যান্ত্রিক হয়ে উঠেছে। হাঁপিয়ে উঠেছে ঘরবন্দি থেকে। এ থেকে উত্তরণের পথ আঁকতে হবে বাবা-মাকেই। মনোবিদ অধ্যাপক ডা. মোহিত কামালের মতে, ‘শিশুদের সঙ্গে যত বেশি সুন্দর সময় কাটানো যাবে, তাদের উদ্বেগ তত বেশি কমবে। পাশাপাশি তাদের জন্য বাসায়ই খেলাধুলার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের হাতে তুলে দিতে হবে শিশুতোষ সাহিত্যের বই।</p>
<p dir="ltr">শিশুসাহিত্যিক এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক শিশুর নির্বাহী সম্পাদক ফারুক নওয়াজ বলেন, ‘এই করোনাকালে শিশুকে হাসিখুশি ও আনন্দময় কাজের মধ্যে রাখা ছাড়া উপায় নেই। প্রথমত, শিশুর মন দিনভর চার দেয়ালের মধ্যে থাকতে চায় না। দ্বিতীয়ত, খেলাধুলায় কিছুটা সময় কাটাতে চায় তারা। চায় সঙ্গী। এ দুটি বিষয় বিবেচনায় এনে শিশুকে সম্ভব হলে ছাদে অথবা মুক্ত জায়গায় সকাল-বিকাল নিয়ে গিয়ে ঘোরা এবং তার খেলায় অংশী হতে হবে। শিশুর পড়াশোনা হতে হবে আনন্দের মধ্য দিয়ে। রঙিন ছবিওয়ালা ছড়া-গল্পের বই ওদের মন আকর্ষণ করে। যারা বর্ণ শেখেনি, পড়ে শোনাতে হবে তাদের। এতে তার ভালো সময় কাটবে, মেধারও বিকাশ ঘটবে। অবশ্য এ সময় শিশুর ব্যায়ামের প্রয়োজন। বড়রা খেলার ছলে শিশুদের ব্যায়াম শিখানো হবে খুবই উত্তম।</p>
<p dir="ltr">আর জনপ্রিয় উপন্যাস এবং অভিনয় ও জলপ্রেমিকের গল্প এর লেখক আরিফ আহমেদ বলেন, অনেকদিন পড়াশুনা থেকে দূরে থাকার কারণে শিশু- কিশোরদের মাঝে পড়াশুনার প্রতি অনিহা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। এটা বাবা মা কেই আগে দূর করতে হবে। তাদের স্যাটেলাইট নির্ভরতা, ভারতীয় টিভি চ্যানেল এর ধারাবাহিক নাটক দেখার মানসিকতা দূর করে বই তুলে নিতে হবে হাতে। এটা যদি বাবা-মা নিয়মিত করেন, বাবা-মাকে দেখে সন্তানও তা করবে। আপনি মোবাইল বা টিভিতে ব্যস্ত থাকলে সন্তানকে কি করে নিষেধ করবেন বলুন। মনে রাখবেন,  সন্তানের প্রথম ও প্রধান শিক্ষক আপনি। বাবা-মা এর অনুসরণ ও অনুকরণ সন্তান সবার আগে করবে।</p>
<p dir="ltr">আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের একদল মনোবিদের মতে, শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে খেলাধুলা অত্যন্ত কার্যকরী। এ ক্ষেত্রে ইনডোর গেম (লুডু, দাবা, ক্যারম, ভারসাম্য দৌড়, বল নিক্ষেপ ইত্যাদি), জ্ঞানানুশীলনমূলক খেলা (শব্দজট, কোনো বিষয় নির্ধারণ করে বলা, কুইজ, রাইমিং শব্দ তৈরি, যোগ-বিয়োগের খেলা ইত্যাদি)। ৩ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের নিয়ে এসো নিজে করি এর আওতায় খেলার ছলে নানা শিক্ষণীয় বিষয় শেখানো। এ ক্ষেত্রে শিক্ষামূলক অনলাইনভিত্তিক টিউটরিয়াল থেকে পেতে পারেন বয়স উপযোগী ইনোভেটিভ আইডিয়া।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p dir="ltr">এই মহামারী বা অতিমারি প্রতিরোধে বিভিন্ন দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কারণে বিশ্বের ১৬ কোটি শিশু স্কুলজীবন শুরু করতে পারেনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খেলাধুলার মাঠ, পার্ক, বিনোদন কেন্দ্র, পারিবারিক অনুষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে ছেলেমেয়েরা মানসিক চাপের ঝুঁকিতে পড়েছে। তরুণ শিশু-কিশোরদের মধ্যে মানসিক ভারসাম্যহীনতা, শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া, শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহের মতো ঘটনা দেখা দিচ্ছে সারা বিশ্বে; বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশসমূহে বেড়েছে বাল্যবিবাহ। পত্রিকার পাতায় যার প্রমাণ অহরহ।</p>
<p dir="ltr">করোনাকালে জার্মানির এক গবেষণায় মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত শিশুদের ৬০ ভাগ মানসিক চাপ, একাকিত্ব ও চরম বিরক্তিতে ভুগছে বলে তথ্য উঠে আসে। তারা বলেছে বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে না পারা, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে না থাকা, পছন্দের খেলাধুলা ও শখের কোনো কাজে অংশ নিতে না পারা, পারিবারিক কলহে জড়িয়ে পড়া, মা-বাবার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে দ্বন্দ্ব, ঘরের বাইরে বের হতে না পারা, প্রাত্যহিক রুটিন অনুসরণ ও স্কুলের হোমওয়ার্ক না করা, করোনা আক্রান্তের ভয়, স্ক্রিন টাইম বাড়াতে বকাবকির স্বীকার হওয়া ইত্যাদি কারণে সব সময় শিশুরা মানসিক চাপে থাকছে। আর অপেক্ষাকৃত তরুণ ছেলেমেয়েদের মধ্যে রুক্ষ ব্যবহার, নিদ্রাহীনতা, মানসিক চাপ, হতাশা, দুঃখবোধ, নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণহীনতা, করোনা আক্রান্ত পরিবারের সদস্যদের থেকে পৃথক থাকার কষ্ট বা মানসিক দুঃখবোধ ইত্যাদি উপসর্গ দেখা যায়। উঠতি বয়সি তরুণদের মধ্যে মূলত হতাশা, সহজে নার্ভাস হয়ে পড়া, স্মৃতিকাতরতা লক্ষ করা যায়। আগে থেকে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ছেলেমেয়েদের মধ্যে করোনাকালে বিভিন্ন কারণে পারিবারিক অবহেলার জন্য হতাশা, দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ আরো ঝেঁকে বসে। কোভিড-১৯ সন্দেহে কোয়ারেন্টাইন বা আইসোলেশনে থাকা ছেলেমেয়েদের মধ্যে দুশ্চিন্তা, অহেতুক ভীতি, সামাজিক কুসংস্কার ও হতাশা প্রভৃতি মানসিক বৈকল্য দেখা দেয়।</p>
<p dir="ltr">যুক্তরাষ্ট্রের এক জরিপে তরুণদের অর্ধেক করোনাকালে শারীরিক নির্যাতন এবং আটজনে একজন মানসিক অত্যাচারের স্বীকার হয়েছে। বাংলাদেশে এক গবেষণায় প্রায় ৩০ শতাংশ ছেলেমেয়ে হতাশা, দুশ্চিন্তা কিংবা মানসিক চাপে ভোগার তথ্য পাওয়া গেছে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%a4%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>প্রেসক্লাব নির্বাচনঃ হুমকীর মুখে সাংবাদিকতা</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b8%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ac-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%a8%e0%a6%83-%e0%a6%b9%e0%a7%81%e0%a6%ae/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b8%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ac-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%a8%e0%a6%83-%e0%a6%b9%e0%a7%81%e0%a6%ae/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[সদানন্দ সরকার]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 28 Dec 2021 15:21:01 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=4773</guid>

					<description><![CDATA[<p>নির্বাচন মানেই কি টাকার খেলা? ভোট কেনাবেচার প্রতিযোগিতা? জাতীয় বা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে এ প্রশ্ন করলে প্রশ্নকারীকেই লোকে পাগল বলবে। কিন্তু সামান্য জেলা বা উপজেলার প্রেসক্লাব বা সাংবাদিক সংগঠনের নির্বাচনেও</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b8%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ac-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%a8%e0%a6%83-%e0%a6%b9%e0%a7%81%e0%a6%ae/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><span style="font-weight: 400;"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/08/B-pressclub.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="aligncenter size-medium wp-image-4456" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/08/B-pressclub-300x168.jpg" alt="" width="300" height="168" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/08/B-pressclub.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/08/B-pressclub-70x40.jpg 70w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>নির্বাচন মানেই কি টাকার খেলা? ভোট কেনাবেচার প্রতিযোগিতা? জাতীয় বা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে এ প্রশ্ন করলে প্রশ্নকারীকেই লোকে পাগল বলবে। কিন্তু সামান্য জেলা বা উপজেলার প্রেসক্লাব বা সাংবাদিক সংগঠনের নির্বাচনেও যদি টাকার খেলা চলে? তখন প্রশ্ন করলে কি অবস্থা হবে? অবশ্য তখন প্রশ্নকারীকে মিথ্যাবাদী আখ্যা দিয়ে তাড়িয়ে দেবে সকলে। বলবে প্রমাণ দেখাও! প্রমাণ দেখাতে না পারায় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় বিষয়টি। আর অসাংবাদিক বা হলুদ সাংবাদিকডা ক্রমশ ডালপালার বিস্তার ঘটায় সারাদেশে। কেননা, </span><span style="font-weight: 400;">টাকার বিনিময়ে নির্বাচিত সাংবাদিক নেতার সহযোগী বা সহকর্মীরা কেমন সাংবাদিক হবেন? এদের কাছে বস্তুনিষ্ঠ সৎ সাংবাদিকতা কতটুকু আশা করা যাবে? এ প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন। এমনকি চা দোকানী ও রিক্সাচালক পর্যন্ত অভিযোগ তুলে বলেন, বেশিরভাগ উকিল, পুলিশ আর সাংবাদিকের চরিত্র একরকম। এদের বিশ্বাস করা যায়না।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সম্প্রতি বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জেলা ও উপজেলার প্রেসক্লাবের নির্বাচন পদ্ধতি ও প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ খুব কাছ থেকে  দেখে হতবাক বিবেক।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/resize-350x300x1x0image-169532-1628226352bdjournal.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-4776" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/resize-350x300x1x0image-169532-1628226352bdjournal-300x171.jpg" alt="" width="300" height="171" /></a>গত ৬ সেপ্টেম্বর যশোর প্রেসক্লাব, </span><span style="font-weight: 400;">১ ডিসেম্বর গাজীপুরের শ্রীপুর প্রেসক্লাবের নির্বাচন, ২৪ ডিসেম্বর বরিশাল আব্দুর রব সেরনিয়াবাত প্রেসক্লাব এবং ২৫ ডিসেম্বর জয়পুরহাট প্রেসক্লাব সহ আরো বেশকিছু প্রেসক্লাবের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন সর্বত্র। নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ নেই কোথাও। সবখানে চমৎকার উৎসবমুখর পরিবেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটা শতভাগ সত্য। তবে নির্বাচন পূর্ব প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ ও ব্যস্ততা প্রশ্নের জন্ম দেয় মনে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">একজন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হবার সুবাদে বুঝতে পারলাম মাত্র ৭৪ ও ৮৭ সদস্যের একটি নির্বাচন কতটা ভয়ংকর হতে পারে। দিন নেই রাত নেই ছুটোছুটি ও উপঢৌকন বা নগদ টাকার বিতরণ ব্যবস্থা জাতীয় সংসদ নির্বাচনকেও হার মানালো এই জেলা উপজেলার প্রেসক্লাব নির্বাচন।  সদস্যদের বেশিরভাগ অংশই কিন্তু সাংবাদিক। অর্থাৎ জাতির বিবেক তারা। কিছু লোক আছেন যারা অপেশাদার গণ্যমান্য নাগরিক। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">জাতীয় সংসদ ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে টাকার খেলা প্রতিবেদন তৈরি এবং নিন্দা জানানোর দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিক যখন তার ঘরের নির্বাচনে টাকা দিয়ে ভোট কেনার প্রতিযোগিতায় নামেন তখন কিছু বলার ভাষা আদৌ থাকে কি?</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">যদিও এ অভিযোগ প্রমাণের কোনো উপায়ই নেই। তবে একদম যে নেই তা কিন্তু নয়। কোন্ প্রার্থী প্রেসক্লাবের কোন্ কোন্ সদস্যদের কাছে গেছেন। সেই সদস্যের পকেটে আগে কত টাকা ছিলো, আর প্রার্থী চলে আসার পর কত টাকা হয়েছে? একটু নজরদারি করলেই বের হয়ে আসবে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে এর একটি প্রেসক্লাবে মাথাপিছু সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকার লেনদেন হওয়ার গল্প শুধু সাংবাদিক নয়, চা দোকানেরও আলোচনার বিষয় হয়েছে বরিশালে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/Farida_Yasmin_3.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-4774" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/Farida_Yasmin_3-225x300.jpg" alt="" width="225" height="300" /></a>জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন অবশ্য সাবধান করে বলেছেন,  প্রমাণ না থাকলে এ নিয়ে কথা বলা ঠিক হবেনা। ঢালাওভাবে এমন অভিযোগ আমার কানেও প্রায়শই আসে। কিন্তু প্রমাণ দিতেতো কেউই পারেনা। জেলা বা উপজেলার প্রেসক্লাবের নির্বাচন,  সেখানের নির্বাচন কমিশনারের এক্তিয়ারে। তবে সাংবাদিকতার মাঠে এ জাতীয় অভিযোগ অবশ্যই নিন্দনীয়। এর প্রভাব পড়ে সৎ সাংবাদিকতার উপর। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">গত ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বরিশাল প্রেসক্লাবের নির্বাচন নিয়েও সাধারণ সম্পাদক ও  সভাপতি পদের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে এমন ঢালাও অভিযোগ মাঠেঘাটে। এখানের নির্বাচনে সভাপতি পদে ৩ প্রতিদ্বন্দ্বী মানবেন্দ্র বটব্যাল, কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল ও মুরাদ আহমেদ সমান সংখ্যক ২৪ ভোট পেয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন যোগ্যপ্রার্থী আজকের পরিবর্তন পত্রিকার সম্পাদক কাজী মিরাজ মাহমুদ দুইভোটে পরাজিত হয়েছেন। নির্বাচনে এসএম জাকির হোসেন ৩৭ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী কাজী মিরাজ মাহমুদ ৩৫ ভোট পেয়েছেন।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/image-34258-1640414723.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignright size-medium wp-image-4775" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2021/12/image-34258-1640414723-300x180.jpg" alt="" width="300" height="180" /></a>এখানেও নির্বাচন কিন্তু সুষ্ঠু সুন্দর ও আনন্দঘন পরিবেশে হয়েছে। নির্বাচনে কোনো অনিয়ম অবশ্য কোনো প্রেসক্লাবেই কখনো হয়না। যেটা হয়, লোকচক্ষুর আড়ালে ভোট বেচাকেনা।  যার প্রমাণ করা কঠিন। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">বরিশালে সভাপতি পদে ৩ প্রতিদ্বন্দ্বীর সমসংখ্যক ভোট পাওয়ার বিষয়ে প্রেসক্লাব নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাইফুর রহমান মিরন বলেন, প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্রে সভাপতি পদে দুইজন প্রার্থী সমসংখ্যক ভোট পেলে টর্চের মাধ্যমে চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারনের বিধান রয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী ৩ জন হলে পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে ফের ওই পদে ভোট গ্রহণের বিষয়টি গঠনতন্ত্রে উল্লেখ রয়েছে। নিয়মানুযায়ী পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে সভাপতি পদে পুনরায় ভোট গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই নির্বাচনে প্রচুর টাকার বিনিময়ে ভোটকেনা বেচা হয়েছে। কিন্তু </span><span style="font-weight: 400;">আমরা হয়তো তা কখনোই প্রমাণ করতে পারবোনা। কিন্তু প্রেসক্লাবের নির্বাচনে অংশ নেয়া বন্ধুরা? আপনার বিবেকতো আপনাকে সবসময় দোষী প্রমাণ করবে। আপনার জন্য নষ্ট হবে সৎ সাংবাদিকতা।  জাতীয় বা ইউপি নির্বাচনে কিম্বা কোনো প্রশাসনিক দূর্নীতিতে আপনি কি করে প্রশ্ন তুলবেন? তিনটি আঙ্গুল আপনার দিকেই ইঙ্গিত করে বলবে- আগে নিজে ভালো হও তারপর&#8230;.।</span></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b8%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ac-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%a8%e0%a6%83-%e0%a6%b9%e0%a7%81%e0%a6%ae/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ভয়ংকর অভিজ্ঞতার আরেক নাম : পিজি হাসপাপাতাল</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ad%e0%a7%9f%e0%a6%82%e0%a6%95%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9e%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%95-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ad%e0%a7%9f%e0%a6%82%e0%a6%95%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9e%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%95-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[সদানন্দ সরকার]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 14 Nov 2014 10:48:47 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ধর্ম]]></category>
		<category><![CDATA[রাজখবর]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=2679</guid>

					<description><![CDATA[<p>দরজার গায়ে লেখা আছে বিপদজনক। পাশেই সাদা কাগজে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা রয়েছে এই কক্ষে প্রবেশকারীকে কি কি নিয়ম পালন করতে হবে। কিন্তু কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করেই সাধারণ মানুষ অনায়াসে</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%ad%e0%a7%9f%e0%a6%82%e0%a6%95%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9e%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%95-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/11/02.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft size-medium wp-image-2681" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/11/02-266x300.jpg" alt="02" width="266" height="300" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/11/02-266x300.jpg 266w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/11/02.jpg 500w" sizes="auto, (max-width: 266px) 100vw, 266px" /></a>দরজার গায়ে লেখা আছে বিপদজনক। পাশেই সাদা কাগজে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা রয়েছে এই কক্ষে প্রবেশকারীকে কি কি নিয়ম পালন করতে হবে। কিন্তু কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করেই সাধারণ মানুষ অনায়াসে ভিতরে আসা-যাওয়া করছেন। বিষয়টা লক্ষ্য করে এখানে অবস্থানরত ও কর্মরত একজন চিকিৎসক বা টেকনিশিয়ান মামুন সাহেব এর কাছে দরজার বিপদসংকেত শব্দটি দেখিয়ে &#8211; এটি কেন? জানতে চাইলে তিনি যা বললেন- তা আরো ভয়ংকর।</p>
<div id="attachment_2682" style="width: 178px" class="wp-caption alignright"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/11/04.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-2682" class="wp-image-2682 size-medium" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/11/04-168x300.jpg" alt="04" width="168" height="300" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/11/04-168x300.jpg 168w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/11/04.jpg 400w" sizes="auto, (max-width: 168px) 100vw, 168px" /></a><p id="caption-attachment-2682" class="wp-caption-text">এই করিডোর পার হয়ে রোগী যাচ্ছেন ৯০৭ নম্বর কক্ষে</p></div>
<p>তার ভাষায় &#8211; এখানের তিনটি কক্ষে গামা ক্যামেরা রয়েছে। আর এই ৯১৬ নং কক্ষটি হট চেম্বার, এখানে রয়েছে এমন একটি রেডিয়েশন যা সাধারণের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এখানে যারা প্রবেশ অনুমতি পাচ্ছেন, তারা সবাই প্রটেকশন নিয়ে আছেন।<br />
কিন্তু এই যে সাধারণ মানুষ এখানে প্রবেশ করছেন, ভিতর থেকে তাড়া খেয়ে বের হযে আসছেন, এটা কেন বন্ধ করছেন না? কেন এই দরজায় কোনো দারোয়ান নেই।<br />
উত্তরে ব্যাথাতুর হাসলেন মামুন সাহেব। পাশে এসে দাঁড়ালেন দীর্ঘ ৬ বছরেও চাকুরী স্থায়ীত্ব না পাওযা নার্স ফাতেমাসহ আরো তিনজন। ফাতেমা বললেন – এই কক্ষে যে সব রোগীরা আসেন তাদের এমন একটি ইনজেকশন পুশ করা হয়, যেটি পুশ করার পর তিনদিন তাদের থেকে দূরে থাকতে হয়। আর প্রথম তিন &#8211; চার ঘণ্টাতো তার ধারে কাছে ডাক্তার নার্স কেউ-ই যেতে পারেন না।<br />
ফাতেমার কথা শেষ হতে না হতেই ৯১৬ নং কক্ষ থেকে হাত চেপে ধরে বের হয়ে এলেন একজন রোগী। মূহুর্তের মধ্যে মামুন সাহেব ও নার্সরা সবাই হাওয়া হয়ে গেলেন। হতভম্ব আমি, কিছু না বুঝে রোগীর সাথে চললাম – আপনি কোথায় যাবেন এখন?<br />
রোগীটি জানালেন, ৯০৭ নম্বর কক্ষে যাব, কক্ষটি কোনদিকে বলতে পারেন?</p>
<div id="attachment_2683" style="width: 178px" class="wp-caption alignleft"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/11/05.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-2683" class="size-medium wp-image-2683" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/11/05-168x300.jpg" alt="৯০৭ নং থেকে বের হয়ে সোজা টয়লেটে যেতে পার হতে হয় অনেকটা পথ।" width="168" height="300" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/11/05-168x300.jpg 168w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/11/05.jpg 500w" sizes="auto, (max-width: 168px) 100vw, 168px" /></a><p id="caption-attachment-2683" class="wp-caption-text">৯০৭ নং থেকে বের হয়ে সোজা টয়লেটে যেতে পার হতে হয় অনেকটা পথ।</p></div>
<p>রোগিটির উল্টো প্রশ্নে আমি আরো অবাক, আপনি জানেন না ৯০৭ নম্বও কক্ষ কোনদিকে, তাহলে নার্সদেও কাউকে সাথে নিতেন।<br />
এ কথায় হাসলেন রোগীটি, বললেন, তারা কেউতো এলো না, ভিতর থেকে ইশারায় যেদিকে যেতে বলেছে আমি সেদিকেই যাচ্ছি। খুঁজে পেলে ওখানে চারঘণ্টা বসে থাকতে হবে আমাকে। আর পানি খেতে হবে কম হলেও চারলিটার । বারবার প্রশ্রাব করতে হবে। এটাই এই পরীক্ষার নিয়ম।<br />
কি পরীক্ষা এটি?<br />
রোগী জানালেন, তার হোল বোডি বন্ স্কান করতে হবে। এই স্কান করতে যে ইনজেকশন দেয়া হয়েছে, সেটি এতোই ভয়ংকর যে আশেপাশে যে আসবে তারও ক্ষতি হবে। তাই অস্থায়ী বা ইন্টার্নি নার্সরা কেউ ধাওে কাছে আসছেন না।<br />
কথা বলতে বলতেই আমরা বিভিন্নজনকে প্রশ্ন কওে ৯০৭ নম্বর কক্ষ খুঁজে পেলাম। রোগীটি দ্রুত কক্ষের ভিতরে প্রবেশ করে আশেপাশের মানুষদের বিপদ থেকে রক্ষা করলেন যেন।<br />
অথচ ৯০৭ নং কক্ষটি খুঁজে এখানে আসতে পার হতে হয়েছে কয়েকশ মানুষকে। যদি এই ইনজেকশন সত্যিই ক্ষতিকর তবে তার যা ক্ষতি করার তা ইতোমধ্যে করে ফেলেছে। বাকী যেটুকু তা এই কক্ষে একই ইনজেকশন সেবনকারী মোট ১১ জন রোগী যখন পালাক্রমে ২০ গজ দুরের বাথরুমে বা টয়লেটে যাবেন তখন বাকী ক্ষতিটুকু সাধন হয়ে যাবে। কারণ প্রতিবার টয়লেটে আসা-যাওয়ার পথেও অসংখ্য মানুষের মধ্যে দিয়ে রোগীদের চলতে হচ্ছে এবং ফিওে আসতে হচ্ছে ৯০৭ নং কক্ষে।</p>
<p>আমি যে ভয়ংকরের বর্ণনা দিচ্ছি তা দেশের প্রধান চিকিৎসাসেবাকেন্দ্র সাবেক পিজি ও বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালের চিত্র। ডি ব্লকের ৯ম তলার সিটি স্ক্যান বাব ন স্কান সহ প্যাথলজীক্যাল বিভাগের ঘটনা। এখানের তিনটি দরজায় লেখা আছে গামা ক্যামেরা। যারা বিজ্ঞানের সাথে কিছুটা সম্পর্ক রাখেন, তারা জানেন, গামা রশ্মি কি জিনিষ?</p>
<p><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/11/03.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="alignright size-medium wp-image-2687" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/11/03-300x229.jpg" alt="03" width="300" height="229" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/11/03-300x229.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/11/03.jpg 500w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>হট চেম্বারের সাবধানবাণী পড়ার পর এটা নিশ্চিন্ত যে এ ক্ষটি বিপদজনক। তাহলে এখানে কেন নিরাপত্তারক্ষী নেই। বিপদজনক রেডিয়েশন বহনকারী রোগীদেও ৯০৭ নং কক্সে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্তা কেন নেই। কেন ৯০৭ নং কক্ষে কোনো টয়লেট ব্যবস্থা রাখা হয়নি? এ প্রশ্নের উত্তর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলবেন কি?</p>
<p>এই কক্ষের সম্মুখে নেই কোনো নিরাপত্তারক্ষী। ছোট্ট তিনবছরের শিশুটি কিছু না বুঝেই প্রবেশ করছে বিপদজনক এই কক্ষে।  হোল বডি স্কান চলাকালে রোগীর ঘনিষ্টজনকে রোগীর মাথার কাছে বসিয়ে রাখছেন কোনো প্রটেকশান ছাড়াই। অথচ টেকনিশিয়ানরা নিজেরা তখন প্রটেকশান নিতে ব্যস্ত। কেউ চোখে ড্রপ দিচ্ছেন, কেউ এ্যাপ্রোন পড়ছেন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<div id="attachment_2684" style="width: 178px" class="wp-caption alignleft"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/11/06.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-2684" class="wp-image-2684 size-medium" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/11/06-168x300.jpg" alt="গামা ক্যামেরায় চলছে হোল বডি বন্ স্কান।" width="168" height="300" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/11/06-168x300.jpg 168w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/11/06.jpg 500w" sizes="auto, (max-width: 168px) 100vw, 168px" /></a><p id="caption-attachment-2684" class="wp-caption-text">গামা ক্যামেরায় চলছে হোল বডি বন্ স্কান।</p></div>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ad%e0%a7%9f%e0%a6%82%e0%a6%95%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9e%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%95-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>শীষ্</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b6%e0%a7%80%e0%a6%b7%e0%a7%8d/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b6%e0%a7%80%e0%a6%b7%e0%a7%8d/#comments</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[সদানন্দ সরকার]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 12 Aug 2014 10:16:57 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=2473</guid>

					<description><![CDATA[<p>শীষ্</p> <p>আজ নিয়ে তিন মাস অতিবাহিত হচ্ছে আমরা লোকটাকে অনুসরণ করছি।<br /> সরকারের উপর মহলের হুকুমে সকাল থেকে রাত্র বারটা পর্যন্ত ছায়ার মত লেগে আছি লোকটির পিছনে। লোকটির ছোটো খাট</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%b6%e0%a7%80%e0%a6%b7%e0%a7%8d/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>শীষ্</p>
<p><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/07/AZA_3509.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-2458 alignright" alt="AZA_3509" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/07/AZA_3509-300x198.jpg" width="300" height="198" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/07/AZA_3509-300x198.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/07/AZA_3509.jpg 400w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>আজ নিয়ে তিন মাস অতিবাহিত হচ্ছে আমরা লোকটাকে অনুসরণ করছি।<br />
সরকারের উপর মহলের হুকুমে সকাল থেকে রাত্র বারটা পর্যন্ত ছায়ার মত লেগে আছি লোকটির পিছনে। লোকটির ছোটো খাট সব দোষত্রুটি এখন আমাদের নখদর্পে। কোন সময় সে কি করবে, তাও প্রায় মুখস্থ। এই যেমন একটু অসস্তিতে পড়লেই লোকটি বৃড়ো আঙ্গুল মুখে দিয়ে শিশুদের মতো চুষতে থাকে। লুকিয়ে নামাজ পড়ার প্রতি আগ্রহ বেশি। সে সময় নামাজে দাঁড়িয়ে খুব কান্না করে। কখনো দাঁড়িয়ে প্রশাব করে না। খুবই সাদামাঠা আর ধার্মিক একটা লোক এই আরাফাত মন্ডল। অন্তত এখন পর্যন্ত আমাদের গবেষণায় তাই মনে হচ্ছে।<br />
তারপরও সরকারের উপর মহল বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নিজে এ লোকটি সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য চাচ্ছেন। কেন বা কি জন্যে তা জানার অধিকার আমাদের নেই। আমরা গোয়েন্দা বিভাগের দুই কর্মকর্তা আদাজল খেয়ে এই লোকটির পিছনে লেগে আছি। আমি কিরণ চৌধুরী ও আমার সহকর্মী মাহফুজা জেসমীন পালা করে লোকটিকে পাহাড়া দিচ্ছি। অথচ লোকটি এতই সাদামাঠা যে সে একবারের জন্যও তা টের পাচ্ছেন না। আসলে তার মতো এতটা সাধারণ একটা মানুষের পিছনে যে কোনো নজরদারী হতে পাওে, এটা যে শুনবে সে-ই হাসবে। তাকে নিয়ে আমাদের নিজেদের মধ্যেই এ নিয়ে কম হাসি ঠাট্টা হচ্ছে না।<br />
জেসমীন বলেন, এটা একটা ছাগল টাইপের লোক। আর ছাগল টাইপের লোকরা বোকা আর সৎ মানুষ হয়। এর পিছনে আমরা অযথা সময় নষ্ট করছি। প্রধানমন্ত্রীর আসলে বুদ্ধিলোপ পেয়েছে। যুদ্ধেও পওে জন্ম তাই এ লোকটাকে আর যা-ই হোক রাজাকার বানাতে পারবেনা, তবে জামায়াত শিবির বানানো যেতে পারে। কিন্তু সেক্ষেত্রে আবার আওয়ামী লীগের অনেক বড় নেতা ফেঁসে যাবেন এ লোকটির সাথে ভালো সম্পর্ক থাকার কারণে। অবশ্য যে প্রধানমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জের গডফাদার খ্যাত শামীম ওসমানের পক্ষে এভাবে ওপেন দাঁড়িয়ে সংসদে কথা বলেন, তার মতো মানুষের কাছে এর চেয়ে বেশি আর কি আশা করা যায়?<br />
জেসমীনের কথায় আমি ভড়কে গেলাম, দ্রুত তার মুখে হাত চাঁপা দিলাম। কী যাতা বলছেন, চাকুরীটা হারাতে চান নাকি? অযথা কোথায়? সরকার তো এ জন্য আমাদের বেতন দিচ্ছে ম্যাম। আমার কথা শুনে রাসভারী চেহারার জেসমীন গম্ভীর হলেন। হুম। কিন্তু একটা বিষয় লক্ষ্য করেছেন স্যার?<br />
কি বিষয়?<br />
এই যে লোকটার লাইফটা তো একটা ফুটো শিকের মতো। না নিজের উপকারে আসছে না অন্যের উপকারে আসছে। ছেলে মেয়ে নেই, আতকুরা। বংশের বাতি কে দেবে? বউয়ের কষ্ট উপার্জিত টাকায় খাচ্ছে, ঘুমাচ্ছে আর ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই বেচেঁ থাকায় কি লাভ? অথচ দেখেন, লোকটার এ নিয়ে কোনো টেনশনই নেই। দিব্বি শোয়া মাত্রই নাক টেনে ঘুম। এভাবে নিশ্চিন্ত ঘুম কত দিন ঘুমাইনা আমরা? এই একটা জায়গায় লোকটাকে খুব হিংসে হয় আমার।</p>
<p>কেন? আপনার এটা কেন মনে হচ্ছে, এটা একটা আন্ডার কভার বা খোলশও হতে পারে তাই না? তাছাড়া সে কারো ক্ষতিতো করছেনা। আর এই যে বললেন, বউয়ের উপার্জিত টাকায় সে খাচ্ছে আর ঘুমাচ্ছে এটাও তো ঠিক বলেননি। খাচ্ছে বটে, সে কিন্তু ঘুমাচ্ছে না। দেখছেন না, দেশের জন্য, মানুষের মঙ্গলের জন্য তার চিন্তা, তার চেষ্টা চলছে। নিজে কোনো অপরাধ করছেন না বরং অন্যায় দেখলেই প্রতিবাদ করছেন। এই প্রতিবাদ করাটা কি কোনো কাজ না? এটা ক’জনে করছে ম্যাডাম বলুন। আমার তো মনে হচ্ছে এই লোকটা সাধারণ কেউ নয়। তা না হলে প্রধানমন্ত্রী কেন তাঁর প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন?<br />
আমার কথা শুনে জেসমীন হাসিতে ফেটে পড়লেন। আপনার এখনো কি এটা মনে হচ্ছে যে, এই গবেটটা কোনো বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার গোপন এজেন্ট কিম্বা জামাত-শিবিরের ক্যাডার? আপনি মাসুদ রানা আর জেমস বন্ড পড়া বন্ধ করুন। আপনার মেয়েটাও কিন্তু মাসুদ রানার পোকা হচ্ছে।<br />
হাঁঃ আমার মেয়েটা মাসুদ রানার পোকা হচ্ছে এটা যেমন ঠিক, তমনি সে তার মায়ের মতই ভীষণ দুষ্ট আর কৌশলী হচ্ছে এটাও ঠিক।<br />
কী বললেন, তার মা বুঝি ভীষণ দুষ্ট? বলেই আমাকে মারার জন্য তেড়ে এলেন জেসমীন। আমি তার হাত চেপে ধরে বুকে জড়িয়ে নিলাম। জেসমীন আমার স্ত্রী। আমরা একসাথে কাজ করছি একই বিভাগে। তাই এ কাজটির দায়িত্বও আমরা পেয়েছি নজরদারীতে সুবিধা হবে বিবেচনায়। হচ্ছেও, আমরা নজরদারীর সময়টাকে তিনভাগে ভাগ করে নিয়েছি। সকাল থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত আমি লোকটিকে অনুসরণ করছি। অনুসরণ করতে খুব একটা কষ্টও হচ্ছে না। লোকটির ফোনে আগেই আড়িপাতা যন্ত্র লাগিয়ে রেখেছি। ঘরে মাত্র দুটি রুম, দুটি রুমেই রয়েছে লুকানো ভিডিও ক্যামেরা, বাথরুমেও রয়েছে একটি। রান্নাঘরে লাগাতে হয়নি, কারণ রুম থেকেই রান্নাঘর কভার হচ্ছে। লোকটির প্রতিটি কার্যক্রম আমরা ইচ্ছে করলেই দেখতে ও শুনতে পারি আর আমরা তা করিও, তবে রাত বারটার পর আর নজর রাখি না। দুপুর ১২টার পর জেসমীন নজর রাখে সন্ধ্যা পর্যন্ত। সন্ধ্যার পর রাত ১০টা পর্যন্ত আবার আমার পালা।<br />
এতে করে সুবিধা অনেক। আমাদের মেয়ে প্রান্ত এখন মাত্র ১১ বছর বয়স। বেশির ভাগ সময়টা সে তার নানীর কাছেই থাকে। তাই মেয়েকে নিয়ে আমাদের খুব একটা ভীত থাকতে হয় না। তারপরও মেয়েকে সময় দেয়ার একটা বিষয় থাকে, যা এই নজরদারীর ফাঁকে আমরা খুবই চমৎকার ভাবে দিতে পারছি। প্রথমদিকে রাত বারটা পর্যন্ত নজরদারী করতে হতে। অথচ মজার বিষয় হচ্ছে এই লোকটি আরাফাত মন্ডল রাত্র ৯টার পর কখনোই ঘরের বাইরে থাকে না। তার চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে হাতে গোনা মাত্র দুতিনজন বন্ধু তার। যাদের সাথে সে কিছুটা সময় কাটায়। তাও ফুটপাতের চা দোকানে। দুটো মাত্র বাঁজে অভ্যাস আবিস্কার করা গেছে এই তিনমাসে। এর একটা হচ্ছে ধুমপান করা। তবে খুব বেশি না দিনে ৭/৮টি সিগারেট ধ্বংস করে সে। কিন্তু অন্যটি খুবই স্পর্শকাতর আর এটা বলা একটু লজ্জাজনক। তবুও বলতেই হবে কারণ লোকটির খুটিনাটি সবই রিপোর্ট করতে হচ্ছে আমাদের, এমনকি তার এবং স্ত্রীটির মধ্যের সম্পর্কটুকুও। সব বাঁজে অভ্যাসগুলোও নোট করতে হবে। লোকটির এই ২য় বাজে অভ্যাসটি প্রথম লক্ষ করে জেসমীন। আমাকে দেখাতে যেয়ে ওর চোখ, কান, মুখ লজ্জায় লাল হয়েছিল। সে সাথে লোকটির উপর তীব্র ঘৃণা কাজ করছিল ওর মনে। বিবাহিত একটা লোক, যার ঘরে সুন্দরী স্ত্রী রয়েছে। স্ত্রীর সাথে যার সম্পর্ক খুবই চমৎকার এবং গভীর ভালবাসার বন্ধন স্পষ্ট, সেই লোকটি কেন বাথরুমে হস্তমৌথন করছিল? বিষয়টি প্রথম আমাদের কাছে খুবই রহস্যময় ছিল। বাথরুমে ভিডিও ক্যামেরা লাগানো থাকায় এ বাজে বিষয়টি আমাদের নজরে পরেছে। তানা হলে এ দিকটা জানাই হতো না। আমরা দেখলাম, সপ্তাহে একবার লোকটি এই জঘণ্য কাজটি করছে।</p>
<p>দুই<br />
জেসমীনের সমস্ত চিন্তা এখন এই গবেট আরাফাত মন্ডলকে নিয়ে। কেন লোকটি ঐ জঘণ্য কাজটি কওে তার উত্তর খুজে বের কওে আমরা আরো হতভম্ব হয়ে পড়লাম। তার জীবন সম্পর্কে জেনে এখন আর ঘৃণা নয়, মায়া হচ্ছে। সে সাথে একটা মমত্ব অনুভব করছি আমরা দুজনেই। বলতে দ্বিধা নেই যে, কিছু কিছু বিষয়ে এই গবেট লোকটি এখন আমাদের গুরু হয়ে উঠছেন। আমরা আঢ়ালে আরাফাতকে গবেট বলছি, রামছাগল বলছি বটে কিন্তু মনে মনে ক্রমশ শ্রদ্ধা আর সম্মান বেড়েই চলছে। আমার সাথে একটু কথা কাটাকাটি হলেই জেসমীনতো এখন রীতিমত লোকটিকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলে, দেখেছ ওই লোকটি তার বউকে কত ভালবাসে?<br />
আমি তখন জেসমীনকে ক্ষেপাতে বলি, ওরকম বউয়ের পয়সায় ঘরে বসে খাওয়ার সুযোগ পেলে আমিও বউকে খুব ভালবাসতাম। খাওয়াবে?<br />
জেসমীন তখন বলেই ফেলেলো, তার মত পারবে? বউয়ের কোনোরকম শারীরিক সম্পর্কের সক্ষমতা নেই, এটা জেনেও অন্য মেয়ের কাছে না যেয়ে শুধু বউকে ভালোবাসতে পারবে, তবে খাওয়াবো।<br />
হাঁ তাই। বিষয়টা জেসমীনই প্রথম আবিস্কার করে। বাথরুমে লাগানো ভিডিও ক্যামেরায় ধরা পরল বিষয়টি। লোকটির স্ত্রী গোসল করছিল। তখনই চিৎকার করে ওঠে জেসমীন। আমরা দুজনে কম্পিউটার স্ক্রীনে দেখতে পাই ব্রেস্টবিহীন একজন নারীকে। কৌতুহল থেকেই আমরা তার অতীত ঘাটার চেষ্টা করি ও জানতে পারি আরো কঠিন সত্যকে। আরাফাত মন্ডল এর স্ত্রী খুবই সুন্দরী, ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকুরীও করছেন বটে তবে তার শরীরে দুটি প্রধান আকর্ষণই অকেজো। ব্রেস্ট ক্যানসার এর ফলে তার দুটো ব্রেস্ট কেটে শরীর থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। জরায়ু পথও প্রায় বন্ধ। কেমোথেরাপি নষ্ট করে দিয়েছে বাচ্চাদানী। এই অবস্থায় স্ত্রী’র সেবা করতে যেয়ে ভালো পদের চাকুরী ছেড়ে ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন আরাফাত মন্ডল। মাঝে মধ্যে পত্রিকায় দু’চারটি কলাম লেখাই এখন তার একমাত্র কাজ। তার যে বয়স সে অনুপাতে এখন আর কাজের জন্য মানুষের কাছে ধর্ণা দেয়ার মতো ধৈর্য্য বা সাহস কোনোটাই তার নেই।<br />
সৎ মানুষ বলেই হয়ত অনেকটা ঘাঢ়তেড়া স্বভাব তার। গত তিনমাসে তার পিছনে ঘুরে এটা পরিস্কার বুঝতে পারছি যে এ লোকটি মুখে যা বলে, কাজে কর্মেও তার প্রকাশ থাকে। এলাকা বা আশেপাশের প্রতিবেশী তার কাছে কোনো পাওনা নেই। কোনো দোকানে সে বাকী করেনা। বন্ধুদের দুজন তার কাছে মোটা অংকের কিছু টাকা পায় বটে, তবে সে টাকার দাবিতে কোনো বন্ধু কখনো ঘরে আসবে না। এটা টাকাটা নেয়ার আগেই শর্ত দিয়ে রেখেছে। বন্ধুরাও তার প্রতি খুব উদার, তাই এই কঠিন শর্ত জেনে বুঝেই অনেকটা জোর করে টাকা ধার দিয়েছে তাকে।<br />
মাঝে মধ্যেই দেশের রাজনীতি লোকটিকে অস্থির করে তোলে। বিএনপি, আওয়ামীলীগ দুটো দলের কোনোটাকেই তার পছন্দ নয়। নতুন একটি রাজনৈতিক দল তৈরির জন্য বিশিষ্টজনদের কাছে চিঠি দিয়ে এখন কান্ত হয়ে নিজেই একটি দল তৈরি করবে বলে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে বেড়াচ্ছে।<br />
আসলে কাজ না থাকলে যা হয়। কয়েকদিন আগে সে একা একা বাজারে গিয়ে দোকানদারদের বুঝাতে চেষ্টা করেছে, কেউ ওজনে কম দেবেন না। খবরদার, সামনে রমজান মাস। রমজান মাস হচ্ছে ক্ষমা আর রহমতের মাস। এই মাসে ভুলেও কোনো ক্রেতাকে ঠকাবেন না। তাহলে কিন্তু আপনি আর মুসলমান থাকবেন না। কাফের হয়ে যাবেন। লোকটির এই আচারণ দেখেই জেসমীন লোকটিকে গবেট উপাধী দিয়েছে।<br />
ওর মতে, যেখানে তুমি পত্র পত্রিকায় লিখতে পারছো, সেখানে কেন এভাবে স্বশরীরে যেয়ে বুঝাতে চেষ্টা করছো। লোকেতো তোমাকে অপমান করছে। তোমাকে নিয়ে হাসছে।<br />
আমি বললাম, হাসছে, তবে দেখ দু’চারজনতো ভাবছেও। এটাতো সত্যি যে রোজা রেখে কেউ মিথ্যা বললে বা কোনো অন্যায় করলে তার রোজা রাখার কোনো দরকার নেই। এটা তো পবিত্র কোরআনেই লেখা আছে, তাই না?<br />
হাঁ লেখা আছে। মসজিদের ঈমাম সাহেবরাতো এ জন্য আছেন। তারা খুতবায় এ সব বলছেনও। এই পাগলটার কি দরকার এই ঝামেলায় যাওয়ার, জামাত শিবির বলে সন্দেহ করছে অনেকে। আমারতো মনে হচ্ছে এই জন্য ই আমরা লোকটার উপর নজর রাখছি। তাঁর লেখাগুলো পড়েছেন? ব্লগ ও পত্রিকায় তার সব লেখাই তো সরকার আর বিরোধী দলের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। তারউপর নতুন রাজনৈতিক দলের প্রস্তাব। ঠিক যখন জামাত শিবির নিষিদ্ধ নাটক চলছে তখন তার এ সব লেখনী ও দল গঠনের চেষ্টাটা তাকে সন্দেহের তালিকায় ফেলতে পারে।<br />
জেসমীনের রাগাম্বিত বক্তব্য অনেকটা আমাকে আহত করলো। ও এমনভাবে কথাগুলো বলছে যেন, আমি নই, ওই লোকটি ওর স্বামী। আসলে লোকটার অনুসরণ করতে করতে আমরা তাকে ভালবাসতে শুরু করেছি। বিশেষ করে শবেবরাতের রাতে সে যখন তার পাড়ার মসজিদের ঈমাম সাহেবকে ডেকে কথা বলছিলেন, তখন আমি তার পাশেই দাঁড়ানো। আরাফাত সাহেব ঈমাম সাহেবকে সালাম জানিয়ে, খুবই বিনয়ের সাথে বললেন, মাপ করবেন হুজুর, আমার কথায় অপরাধ নেবেন না, যদি ভুল বলি ক্ষমা করবেন। আজ দয়া করে দান করার ফজিলত নিয়ে খুব বেশি কথা বলবেন না। বরং মসজিদের দানের টাকাটা যেন অসৎ আয়ের না হয়, এই দানের টাকায় কীভাবে মানুষের উপকার করা যায়, এই নিয়ে কিছু বলবেন। আর যদি পারেন, রমজানের জন্য মসজিদে একটা যুবকমিটি করে ফেলুন, যারা রমজান মাসে সেবার কাজ করবে, বাজারে ক্রেতা যেন না ঠকে তা নজরদারী করবে, ইফতার বিলি করবে। এ জন্য আলাদা একটা দান বাক্স করুন। মানুষ তার নিজের ভালোর জন্য দান করবে। জোর করে চেয়ে, লজ্জা দিয়ে নেয়া টাকা কখনো দান হয় না। এটা আমার চেয়ে আপনি ভালো জানেন।<br />
সব শুনে ঈমাম সাহেব বললেন, আমি সব জানি আরাফাত সাহেব, কিন্তু মসজিদ কমিটির হুকুম যে আমাকে মানতে হয়। তবুও আমি চেষ্টা করবো।<br />
এ ঘটনার কয়েকদিন পরেই রমজানের শুরু হল। পরিপক্ক রোজদার আরাফাত সাহেবকে দেখে আমিও এই প্রথম রোজা রাখার চেষ্টা করছি। ধর্ম বিষয়ে জেসমীনের জ্ঞান আমার তুলনায় অনেক বেশি। রোজা আর নামাজ সে কখনো কাঁজা করে না। জেসমীনের মতে, আরাফাত সাহেব একজন সত্যিকারের রোজদার। রোজার সব চেয়ে বড় যে বিষয় নিজের ইচ্ছের নিয়ন্ত্রণ, তা এই আরাফাত সাহেবই করছেন। লোকটির মধ্যে কোনো লোভ, লালসা, অন্য কোনো অন্যায় প্রবণতা আজ পর্যন্ত ধরা পরেনি।<br />
আমিও বিষয়টি খেয়াল করলাম যে, চার রোজা গত হয়েছে, লোকটি এখন কথা বলা অনেক কমিয়ে দিয়েছে। একটা মিথ্যে কথা বা অন্যায় কোনো কাজ সে করেনি। তবে তারাবির নামাজে সে ফাঁকি দিচ্ছে দেখলাম। প্রথম দুইদিন পুরো তারাবির নামাজই সে পরেছে জামাতে। তৃতীয়দিন সে অর্ধেক পরে বের হয়ে এল। চতুর্থদিন তারাবী না পরেই চলে গেল ঘরে। বিষয়টা জেসমীনকে জানাতে সে যা ব্যাখ্যা দিল তাতে আর অভিযোগ করার কিছু পেলাম না। জেসমীন আমাক বুখারী শরীফ থেকে নবীজীর তারাবী আদায়ের বিষয়টি পড়ে শোনালেন, নবীজী প্রথম দুদিন জামাতে পরেছেন। পরবর্তীতে তিনি আর জামাতে না পরিয়ে একা একা পরেছেন বলে উল্লেখ আছে বুখারী শরীফে। তখন এ নিয়ে একজন সাহাবী প্রশ্ন করায় নবীজী তাকে বলেছেন, এটা যেন তোমাদেও উপর ফরজ না হয়ে যায়, তাই আমি জামাতে আর তারাবি পড়ছিনা।<br />
আরাফাত সাহেবের ঘরে ইফতারের সময়টা খুবই আনন্দের সময় যেন। মিসেস আরাফাত অফিস থেকে ফেরেন ৫টার দিকে। এসেই শুরু হয় ইফতার তৈরির তোড়জোড়। না খুব ব্যয়বহুল কিছু নয়, তাদেও ইফতারের আইটেম ছোলাবুট, পিয়াজু ও আলুরচপের সাথে খেজুর আর শরবত। কখনো পিয়জু ও ছোলা বুটের বদলে চিড়াদই ও ফল। তাদের স্বামী স্ত্রীর এতো মধুর সম্পর্ক যে, তারা এখনো এক পেলেটে খাবার খাচ্ছে। এক গ্লাসে শরবত খাচ্ছে ও একে অপরকে খাইয়ে দিচ্ছে। যা দেখে জেসমীনও আমার কাছে সেটাই আশা করছে। এতে আমি একটু ক্ষুব্দও হচ্ছি। তবে জেসমীনের আমার ভালবাসার বন্ধনও কম নয়। মাত্র একহাজার এক টাকা কাবিনে আমাদের বিয়ে হয়েছে। আমাদের পরস্পরের প্রতি গভীর বিশ্বাসই আমাদের ভালবাসা।</p>
<p>তিন<br />
রোজার অষ্টমদিন দুপুরে হঠাৎ জেসমীনের ফোন। এই যে স্যার আপনার মহামানব আরাফাত একটা ঘটিয়া আর ভন্ড লোক, দেখবেন যদি তাড়াতাড়ি আসেন। জেসমীনের কণ্ঠ বলে দিচ্ছে মারাত্মক কোনো অপরাধ এবার ধরা পড়েছে। রোজার কারণে লোকটির গুষ্টি উদ্ধার করা বাঁজে গালি শোনা থেকে বেচে গেলাম বটে তবে গালিগুলো যে এই মূহুর্তে জেসমীনের পেটে ঘুরপাক খাচ্ছে তাও স্পষ্ট টের পেলাম।<br />
কেন কি হয়েছে? কি করেছে সে? বলতে বলতে আমি বাইক চালিয়ে ছুটে এলাম জেসমীনের কাছে। মাত্র দু’ঘণ্টা আগে জেসমীন ডিউটিতে এসেছে। আরাফাত তখন ঘরেই অনলাইনের পত্রিকা নিয়ে ব্যস্ত ছিল। আরাফাতের ঘরটি ঢাকার শেষ সীমানায়ও বলা যায়। মীরপুরের কালশী রোডের একটি বাড়িতে দুইরুম নিয়ে স্বামী স্ত্রীর থাকা। সাদামাঠা জীবন যাপন যাকে বলা যায় আর কি।<br />
কিন্তু এই মূহুর্তে আমি এসে থামলাম নয়াপল্টনের একটি হোটেলের নীচে। এখানের একটা পত্রিকার দোকানে দাঁড়িয়ে পত্রিকা পড়ার ভান করছে জেসমীন। পাশে দাঁড়াতেই সে আমার হাত ধরে নিয়ে চলল আরো দূরে যেখানে আমাদের কথা কেউ শুনতে পাবে না। জেসমীনের শরীর রাগে কাঁপছে। যেন আরাফাত সাহেব নয়, আমিই মস্ত অপরাধী। কী হয়েছে আরাফাত সাহেব কোথায়?<br />
ইশারায় পাশেই ধানসিড়ি নামের হোটেলটি দেখালো, বলল সে আজ রোজা নেই। গোগ্রাসে তুন্দল আর গুরুর মাংস খাচ্ছে। পরপর তিনবার ঐ হোটেলটায় ঢোকার চেষ্টা করেছে। আবার ঘুরে চলে এসেছে। এখন খাচ্ছে। ইশারায় জেসমীন যে হোটেলটা দেখালো, সেটাকে আমরা গোয়েন্দা বিভাগের সবাই চিনি। এ হোটেলে দেহজীবীদের বসবাস আছে। আরাফাত সাহেব সেখানে যাবার চেষ্টা করছেন শুনে আমি মৃদু হাসলাম।<br />
আমার হাসি দেখে জেসমীনের পিত্তি বুঝি আরো জ্বলে উঠলো, খুবই ক্ষীপ্ত স্বরে বলল, হাসছো কেন? তুমিও কি তবে&#8230;?<br />
জেসমীনের কথা শেষ হয়নি, এর মধ্যেই খাবার হোটেল থেকে আরাফাত বের হয়ে এসেছেন। সোজা হাটা ধরেছেন নির্দিষ্ট ঐ হোটেলের দিকে। ইশারায় জেসমীনকে দাঁড়াতে বলে আমি চললাম পিছনে পিছনে। আরাফাত সোজা ঢুকে গেলেন ভিতরে, হোটেল বয়কে ডেকে বাথরুম কোথায় জানতে চাইলেন, তারপর সোজা ঢুকে গেলেন বাথরুমে। বয়টা আমাকে দেখে এগিয়ে আসতে চাইল, ওকে চোখ পাকালাম, তারপর বসে পড়ে একটা পেপার হাতে নিয়ে পড়ার ভান করছি। এখানে রিসিপশনে বসে এই হোটেলের কিছুই বোঝা যাবে না। মেয়েরা থাকে ৩য় ও চতুর্থ তলায়। বাথরুম থেকে অনেকটা সময় পর বের হলেন আরাফাত। সোজা উঠে গেলেন তৃতীয় তলায়, আমিও অনুসরণ করলাম। তারপরই থমকে গেলাম। কারণ থমকে গেছেন আরাফাত নিজেও। তার সামনেই একসাথে কাতার বদ্ধ হয়ে চারজন দেহজীবী মেয়ে নামাজ আদায় করছেন। আর এটা দেখেই থমকে গেছেন আরাফাত। তার মুখ কালো হলো, পরক্ষণে ইয়া আল্লাহ, ক্ষমা করুন বলেই আমাকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে নীচে নামতে গেলেন, আমার হাত ধরে বললেন, দোহাই দাদা, এই রোজার মাসে ওদের কাছে আসবেন না। ওরাও তো আল্লাহর বান্দা। কথা শেষ না করেই ছুটে বের হয়ে গেলেন তিনি। যেন মহা কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এমন একটা লজ্জা নিয়ে, নিজের গালে নিজেই মৃদু চড় দিতে দিতে একটি সিএনজি চালিত আটো রিকশায় চেপে বসলেন ভদ্রলোক।<br />
আমি আর জেসমীন আজ আর তাকে অনুসরণ না করে দুজনে চলে এলাম রমনা পার্কে। উপরে কি ঘটেছে তা সবটাই জেসমীনকে বললাম। আগের চেয়ে কিছুটা শান্ত জেসমীনের তাও একটাই প্রশ্ন আরাফাত কেন এখানে এলেন? কেন আসবেন? যেন আরাফাত নয়, এটা আমি করেছি। ওর প্রশ্ন গুলো যেন আমার জন্য।<br />
আমি ব্যাখ্যা দিলাম। গত ক’দিন থেকে তার শরীরে কিছু সমস্য তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত হস্তমৈথনের ফলে এটা হচ্ছে বলে তার এক ডাক্তার বন্ধু তাকে সাবধান করে দিয়েছেন। আমার সামনেই ঐ বন্ধু তাকে এই হোটেলের ঠিকানা দিয়েছিল। তাদের সব কথাবার্তা আমি শুনেছি, কেন কি ঘটছে তা আমি আগেই বুঝতে পেরেছিলাম বলে তখন হেসেছিলাম। জীবনে কখনো এসব হোটেলে আসেনি লোকটা, তাই আজ এসে সে প্রথমে সাহস সঞ্চয় করতে পারেনি। পরে ভরপেট খেয়ে সত্যি সত্যি তার বাথরুমের বেগ পেয়েছিল। তাই টয়লেটের খোঁজে খুব সহজেই সে ভিতরে প্রবেশ করতে পেরেছে।<br />
কিন্তু জেসমীনের তবুও একটাই প্রশ্ন সে কেনো আজ রোজা ছিল না? রাতেতো তাকে সিহরীভাত খেতে ও ফজরের নামাজ পড়তে দেখলাম।<br />
এবারও আমি হেসে ফেললাম, ওহ্ তোমার রাগের মূল কারণ তাহলে এই যে, সে কেন রোজা ভাঙ্গলো। চল বাসায় চল, তোমাকে দেখাচ্ছি।<br />
রমনা থেকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে আমাদের বাসায় আসতে খুব সময় লাগেনি। জেসমীনকে সকাল নটার পরের ভিডিও ফুটেজ দেখতে দিয়ে আমি গোসলের জন্য গেলাম। জানি বিষয়টা দেখে জেসমীন আবার লজ্জাপাবে। সেসময় আমি সামনে না থাকাই উত্তম।<br />
আরাফাত সাহেব ফজরের নামাজের পর ঘুমিয়ে পড়েন। ঠিক নটায় তার স্ত্রী অফিসে যাবার জন্য তৈরি হচ্ছিলেন হঠাৎ তার চোখ আটকে যায় বিছানায় ঘুমে বিভোর স্বামীর শরীরে। লুঙ্গি ঠেলে সটান দাঁড়িয়ে থাকা অঙ্গটা তার দৃষ্টি কাড়ে। অনেকখন তাকিয়ে সেটা দেখেন তার চোখে জল। ঝুঁকে কাপড়ের উপর দিয়েই অঙ্গটিতে চুমু খান তিনি। মূহুর্তে ঘুম ভেঙ্গে যায় আরাফাত সাহেবের। স্ত্রীকে জড়িয়ে তুলে নেন বুকের উপর। কি ব্যাপার কাঁদছো কেন? স্ত্রীর চোখের জল মুছে দিতে দিতে হাত দিয়ে কাপড় ঠিক করেন তিনি।<br />
তোমার ওটার যে খাবার দরকার। আমি দিতে পারছিনা, তুমি বাইরে কোথাও ব্যবস্থা নিতে পার না?<br />
দূর পাগলী, ওটার জন্য বাথরুম আছে। বেশি খাবার দরকার হলে হাত দিয়ে চালিয়ে দেব। যাও সোনা, অফিসে যাও, এ নিয়ে ভেব না।<br />
স্ত্রীটি উঠে অফিসে চলে যায়, দরজা বন্ধ করে দিয়ে আবার ঘুমিয়ে পরেন আরাফাত। কিছুক্ষণ পরই ধরমড়িয়ে লাফিয়ে ওঠেন। লুঙ্গিটা টেনে দেখেন নির্দিষ্ট জায়গাটা ভিজে গেছে। অর্থাৎ ধাতু নির্গত হয়েছে। দ্রুত বাথরুমে যান তিনি। আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন, দিলেতো আমার রোজাটা ভেঙ্গে। আজ এটাকে কিছু একটা খাবার দিতেই হবে। দেখি কি করা যায়।</p>
<p><strong>চার (শেষ পর্ব)</strong><br />
এই ঘটনার অল্পদিনের মধ্যেই আরাফাত সাহেবের সাথে আমার খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেল। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর সে যেই চা দোকানটায় আড্ডা দেয়, সেখানে চা খেতে যেতেই আরাফাত সাহেব আমাকে দেখে এগিয়ে আসেন ও পল্টনের সেই হোটেলে আমাকে বাধা দেবার কথা স্মরণ করিয়ে নিজেই তার পরিচয় দেন। আমরা একসাথে চা খাই। আলাপের শুরুটা এভাবে হলেও মাঝখানে খুব খারাপ হয়েছিল। কারণ, শবে কদরের রাতে একটা সাদা মাইক্রোতে করে আমরা ঘুরতে যাবার নাম করে আরাফাত সাহেবকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলাম। তাকে সোজা নিয়ে যাই প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব বাংলোয়। ইতিপূর্বেই তার সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই পড়েছেন সব। পড়ে খুব কেঁদেছেন আবার লজ্জাও পেয়েছেন। স্পেশাল ব্রাঞ্চের চীফ অব কমিশনার এসপি মান্নান সাহেব প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব লোক। সম্পর্কে তিনি আমারও মামা শ্বশুর। অর্থাৎ জেসমীনের মামা। তাই আমি আর জেসমীন এ সময় উপস্থিত ছিলাম। আমাদের সম্মুখেই প্রধানমন্ত্রী তাকে ধরে আনার আদেশ দিলেন। তার আদেশের ধরণটা আমরা উত্তেজনায় লক্ষ করিনি। করলে সতর্ক হতাম। তিনি বলেছিলেন, বাদর টাকে ধরে আন এক্ষুনি। আমরা ধরে আনলাম অনেকটা আসামীর মত করে। কেন কি জন্যে তা বুঝতে না পেরেই আমাদের এই আচারণটি পরবর্তীতে আমাকে খুব লজ্জায় ফেলেছিল। আর এ জন্য বারবার ক্ষমা চাইতে গিয়ে আরাফাতের উল্টো ধমক খেতে হয়েছে।<br />
কেননা, আরাফাত সাহেবকে দেখেই প্রধানমন্ত্রী তাকে জড়িয়ে ধরে প্রচন্ড ভৎসনা ও গালাগাল দিতে শুরু করলেন যেন নিজের ছেলেকে বকছেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনেকটা এমন যে, কত লোক কতভাবে আমার থেকে সুবিধা নিচ্ছে, সাত-পাঁচ বুঝিয়ে দেশের অর্থ লুটে নিতে আসছে। আর আমার ছেলে হয়ে তুমি একটা বস্তিতে পরে আছ? একবার আমার কাছে আসলে কি মহাভারত অশুদ্ধ হত? ভাগ্যিস তোমার বাংলাদেশ আমজনতা পার্টির দাবিগুলো আমার আমার ফেসবুক আইডিতে লিংক দিয়েছিলে, তাইতো খুঁজে পেলাম। এই সব বন্ধ কর, আমার প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ কর আজ থেকেই।<br />
শুনেতো আমাদের পিলে চমকে উঠলো। একী বলছেন প্রধানমন্ত্রী, এই আরাফাত তার ছেলে কি কওর হয়? পরে জানলাম, প্রধানমন্ত্রীর স্কুল জীবনের বান্ধবীর ছেলে এই আরাফাত সাহেব। যেই বান্ধবীকে তিনি নিজের আপন বোন বলে দাবী করেন। শিশুবেলা আরাফাত সাহেব প্রধাননমন্ত্রীর কোলে শিস্ও করেছেন। প্রধানমন্ত্রী দেশে এসেই আরাফাতের পরিবারের লোকদের সন্ধানে লোক লাগান। কিন্তু কেউ কোনো খোজ দিতে না পারায়, পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেই তিনি গোয়েন্দা সংস্থাকে নিযুক্ত করেন তাদের খুঁজে বের করতে। কিন্তু গোয়েন্দাদের কাছে পরিপূর্ণ তথ্য না থাকায়, তারাও ব্যর্থ হন। এমন সময় বাংলাদেশ আমজনতা পার্টি ও আরাফাত মণ্ডলের নামে অভিযোগ আসে গণজাগরণ মঞ্চ থেকে।  কে এই আরাফাত জানতে স্পেশাল ব্রাঞ্চকে দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। সরাসরি তার কাছেই রিপোর্ট করতে বললেন।<br />
সে যাক, কিন্তু আমাদের তাজ্জব করে দিয়ে আরাফাত সাহেব যা বললেন তা শুনে সকলেই থ’ বনে গেলাম, সেজন্য না প্রধানমন্ত্রী প্রস্তুত ছিলেন, না আমরা কেউ। আরাফাত সাহেব বললেন, খালামনি, আমি তোমার প্রধান উপদেষ্টা হতে পারবো যদি তুমি এই মূহুর্তে দেশের শাসন ব্যবস্থায় কিছু জরুরী সংশোধনী এনে নিজে আগে পদত্যাগ কর।<br />
প্রথম পরিবর্তন আনো তোমার রাষ্ট্রীয় যাবতীয় আইন শৃঙ্খলাতে। পবিত্র কোরআন অনুসারে আদালত ও পুলিশী আইন কার্যকর কর। চুরি করলে হাত কেটে দেবে, ঘুষ, দুর্নীতি, খুন, ধর্ষণ ইত্যাদি প্রমাণ হলেই মৃত্যুদ্বন্ড।<br />
দ্বীতিয়ত, পরপর দুইবারের বেশি কেউ একই পদে কখনো থাকতে পারবে না। তুমিও না। দলের চেয়ে দেশ বড় এ মন্ত্রে চলতে হবে প্রতিটি নাগরিককে। তাই এই মূহুর্তে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন করে, আগামি তিনমাসের মধ্যে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে তুমি পদত্যাগ কর। তবেই আমি তোমার উপদেষ্টা হতে পারবো। যদিও তখন আর তোমার কোনো উপদেষ্টারই প্রয়োজন হবে না। কারণ নিয়ম অনুযায়ি তুমি আর কোনোদিনই প্রধানমন্ত্রী বা দলীয় প্রধান হতে পারবে না। আমি বরং তোমার ছেলের উপদেষ্টা হব তখন। কথাগুলো বলেই আরাফাত সাহেব প্রধানমন্ত্রীর কক্ষ থেকে বের হয়ে গেলেন। ইশারা পেয়ে আমরাও তার পিছু নিলাম। মাইক্রোতে করে তাকে পৌঁছে দিলাম তার ঘরে। ঘরের সব আড়িপাতা যন্ত্র ছড়িয়ে নিলাম। সহকর্মীরা সবাই বিদায় নিলে আমি আনন্দে আরাফাত সাহেবকে জড়িয়ে ধরলাম।<br />
দু ‘দিন পরে চীফ অব কমিশনার থেকে জানলাম, আরাফাত সাহেবের কথাগুলো প্রধানমন্ত্রীকে খুব ভাবনায় ফেলেছে, তিনি এ বিষয়ে জরুরী পরামর্শ সভা করেছেন বিশ্বস্ত কয়েকজনের সাথে। এতে সেনাপ্রধান, পুলিশ প্রধান ও দলীয় মাত্র দুইজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। তারা সকলেই সুন্দর একটি দেশ তৈরি করতে হলে আরাফাত যা বলেছেন তা করার পক্ষে একমত দিয়েছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার ছেলের ভবিষ্যত প্রসঙ্গ তুলে ১৫ই আগস্ট এর মত কোনো ঘটনা যেন আর না ঘটে সেই বিষয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ ক্ষেত্রেও সবাই পবিত্র কোরআনের আইনকে অনুসরণ করার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। বলেন, এতে করে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রীস্টান সম্প্রদায়ের মানুষেরাও শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। সবশেষে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনে করনীয় বিষয়ে আলোচনা হয়, এতে আরাফাত সাহেব-এর মতো আরো চারজন মানুষকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। যাদের হাতে নির্বাচন কমিশনকে ছেড়ে দিতে পারবেন তিনি।</p>
<p>স্বাধীন নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েই পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। বন্ধু আরাফাতকে জড়িয়ে ধরে এ তথ্য জানাতেই তিনি বললেন, আলাহ প্রদানমন্ত্রীর হায়াৎ বাড়িয়ে দিন, তিনি যেন আগামী সুন্দর দিনগুলো আমাদের সাথে আনন্দে কাটাতে পারেন।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%b6%e0%a7%80%e0%a6%b7%e0%a7%8d/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>3</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১২ : সাহিত্য বাজার ময়মনসিংহ ঘোষণার প্রতিফলণ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%9a%e0%a6%b2%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a7%e0%a7%a8/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%9a%e0%a6%b2%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a7%e0%a7%a8/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[সদানন্দ সরকার]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 13 May 2014 10:35:21 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[জাতীয়]]></category>
		<category><![CDATA[ঢাকা বিভাগ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=2304</guid>

					<description><![CDATA[<p>বিশিষ্ট অভিনেতা খলিল উল্লাহ খানের আজীবন চিকিত্সার ব্যয়ভার নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।শুধু তাই নয়, তার বক্তব্যে এ সময় সাহিত্য বাজার এর ৭ম প্রতিষ্টাবার্ষিকীতে প্রদত্ত ময়মনসিংহ ঘোষণারই প্রতিফলণ ঘটল। প্রধানমন্ত্রী এ</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%9a%e0%a6%b2%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a7%e0%a7%a8/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/05/Khalil-PM.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-2305 alignleft" alt="Khalil-PM" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/05/Khalil-PM.jpg" width="300" height="185" /></a>বিশিষ্ট অভিনেতা খলিল উল্লাহ খানের আজীবন চিকিত্সার ব্যয়ভার নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।শুধু তাই নয়, তার বক্তব্যে এ সময় সাহিত্য বাজার এর ৭ম প্রতিষ্টাবার্ষিকীতে প্রদত্ত ময়মনসিংহ ঘোষণারই প্রতিফলণ ঘটল। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেছেন, ‘চলচ্চিত্রশিল্পীরা আমাদের সারা জীবন আনন্দ দেন। অথচ শেষ বয়সে অনেকে অভাবের কারণে চিকিত্সা নিতে পারেন না। এ জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছে। অবশ্য এ জন্য আরও করণীয় আছে।’</p>
<p>তিনি বলেন, ‘পত্রিকায় কোনো শিল্পীর অসুস্থতার খবর এলে আমি নিজে খোঁজ নিই। লোক পাঠাই। খলিল সাহেব দীর্ঘদিন আমাদের বিনোদন দিয়েছেন। চলচ্চিত্রের জন্য কাজ করেছেন। কিন্তু তিনি এখন অসুস্থ। আমি আজীবন তাঁর চিকিত্সার দায়িত্ব নিলাম।’ প্রবীণরা পথ দেখাবেন, নবীনরা এগিয়ে আসবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। গত ১০ মে শনিবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১২ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন। খলিল উল্লাহ খানকে এ বছর আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।</p>
<p>সাহিত্য বাজার ময়মনসিংহ ঘোষণার অন্যতম একটি প্রস্তাবণা ছিল সাহিত্য সংস্কৃতির সাথে সম্পৃক্ত প্রবীণ ও অসুস্থদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য সংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় ও সরকারের সহযোগিতার বিষয়টি।</p>
<p><strong>এছাড়াও ময়মনসিংহ ঘোষণার উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব ছিল</strong></p>
<div id="attachment_2204" style="width: 310px" class="wp-caption alignleft"><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/04/alochona-3.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" aria-describedby="caption-attachment-2204" class="size-medium wp-image-2204 " alt="alochona-3" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/04/alochona-3-300x208.jpg" width="300" height="208" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/04/alochona-3-300x208.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/04/alochona-3.jpg 600w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a><p id="caption-attachment-2204" class="wp-caption-text">ময়মনসিংহ ঘোষণা পাঠের মাধ্যমে শেষ হয় সাহিত্য বাজার উৎসব।</p></div>
<p><strong>জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালকে দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় কলা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ের তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।</strong><br />
<strong> বাংলা সাহিত্যের অমর আধুনিক কবি জীবনানন্দ দাশ এর স্মৃতির প্রতি  শ্রদ্ধা জানিয়ে বরিশালে শিল্প-সংস্কৃতি কেন্দ্রিক একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রতি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা আবশ্যক।</strong><br />
<strong> রাষ্ট্রীয়ভাবে ময়মনসিংহকে শিল্প-সংস্কৃতির রাজধানী ঘোষণা করে ময়মনসিংহ কেন্দ্রিক শিল্প-সংস্কৃতির চর্চার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এই জনপদে জন্মগ্রহণকারী বাংলাকাব্যের প্রথম নারী কবি চন্দ্রাবতীসহ সাহিত্যের কালজয়ীদের স্মৃতি সংরণের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।</strong><br />
<strong> ময়মনসিংহ শহরের কাজী নজরুল ইসলাম সড়কটিকে সংস্কৃতিপল্লী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে; এই সড়কে অবস্থিত ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ ভবন ও জায়গার সংকট সমাধান করতে হবে।</strong><br />
<strong> ময়মনসিংহে রবীন্দ্র জাদুঘর, লোককৃষ্টি গবেষণা ও ফোকলোর একাডেমী করতে হবে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে শিল্প-সাহিত্যের জন্য স্বকীয় অধিদপ্তর খুলতে হবে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বাজেটে শিল্প সাহিত্যের জন্য সুস্পষ্ট অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে।</strong><br />
<strong> দেশের শিল্প-সাহিত্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার ক্ষেত্রে উপেক্ষিত। এই মাধ্যমে সম্পৃক্তদের জন্য প্রণোদনা নিশ্চিত করতে হবে এবং শিল্প-সাহিত্যের উন্নয়ন ও বিকাশে যথাযথ কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।</strong><br />
<strong> দেশব্যাপী সাহিত্য ও শিল্পকলা চর্চায় সরকারী উদ্যোগকে সম্প্রসারিত করতে হবে। সাহিত্য ও জাতীয় ইতিহাস চর্চার উপর রাষ্ট্রীয় গুরুত্বারোপ নিশ্চিত করতে হবে।</strong><br />
<strong> প্রত্যেক উপজেলায় একজন করে সংস্কৃতি কর্মী/সংগঠক পর্যায়ের ব্যক্তিত্বকে উপজেলা সংস্কৃতি কর্মকর্তা পদ সৃষ্টি করে নিয়োগ প্রদান করতে হবে।</strong><br />
<strong> প্রত্যেক উপজেলায় গণগ্রন্থাগার স্থাপন করে সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে – বইপড়া ও লাইব্রেরি বিকাশকে সামাজিক আন্দোলনে ছড়িয়ে দিতে হবে। তথ্য-প্রযুক্তির সাথে লাইব্রেরী আন্দোলন ও শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির সমন্বয় ও যোগসূত্র স্থাপন করা জরুরি। নতুন প্রজন্মের সৃজনশীলতা ও জ্ঞানবিকাশে শিল্প-সাহিত্য চর্চা ও বইপড়াকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। গ্রন্থালোকিত জীবন, আলোকিত মানুষ গড়ার পূর্বশর্ত। শহর ছাড়াও গ্রামপর্যন্ত বইপড়া আন্দোলনের ব্যাপ্তিকে ছড়িয়ে দিতে হবে এবং স্কুল-কলেজের শিার্থীদের প্রত্যেকের দেশ ও মানবিক চেতনার ১০টি গান, কবিতা, ৩টি উপন্যাস, ৩টি গল্প গ্রন্থ ও ৫টি প্রবন্ধ পাঠের অভিজ্ঞতা ও দতাকে মূল্যায়ন করতে হবে। একে একটি আন্দোলনে রূপ দিতে হবে &#8211; দেশব্যাপী তা মডেল হিসাবে ছড়িয়ে দিতে হবে।</strong><br />
<strong> সংস্কৃতির মৌল-মানবিক ও প্রগতির চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে সারাদেশে গ্রামভিত্তিক সাংস্কৃতিক গণসংগঠন তৈরিতে সহায়ক উদ্যোগ ও ভূমিকা পালন প্রয়োজন।</strong><br />
<strong> ঐতিহ্যিক, ঐতিহাসিক শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির উল্লেখ্যযোগ্য অর্জনকে স্বীকৃতি প্রদান, সংরণ, ধারণ করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ আবশ্যক।</strong><br />
<strong> সারাদেশের জাতীয় আলোচনা অনুষ্ঠান বা মঞ্চে কবি-সাহিত্যিক-সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতামত প্রকাশের অবকাশ প্রয়োজন। জাতীয় পর্যায় থেকে উপজেলা পর্যন্ত/তৃণমুল পর্যন্ত এই অন্তর্ভূক্তিকে বাধ্যতামূলক করা। বিভিন্ন কমিটিতে কবি-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।</strong><br />
<strong> প্রত্যেক জেলায় রাইটার্স বিল্ডিং নির্মাণ  করে কবি-সাহিত্যিক-সংস্কৃতিকর্মীদের মিলনস্থল হিসেবে গড়ে তোলা।</strong><br />
<strong> তৃণমূলে সাহিত্যের ও গবেষণার সংকলন, বা অন্যান্য প্রকাশনায় সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা এবং প্রকাশনা শিল্পের জন্য উৎসাহ প্রদান প্রয়োজন।</strong><br />
<strong> দুস্থ-বঞ্চিত লেখক-শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মীদের প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা প্রদান এবং সরকারী উদ্যোগে তাদের গ্রন্থ প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।</strong><br />
<strong>সাহিত্যের সাথে জীবনধারা সম্পৃক্ত, জীবনের সাথে প্রকৃতি। ময়মনসিংহের প্রকৃতিকে বাঁচাতে আশু পদপেক্ষ গ্রহণ করতে হবে ‘ব্রহ্মপুত্র বাঁচাবার’।</strong> (উল্লেখ্য ২৬ মে শনিবার এ সাহিত্য বাজার উৎসবের শেষদিনে ময়মনসিংহ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ ঘোষণা পাঠ করেন উৎসব আহ্বায়ক স্বাধীন চৌধুরী। ২৭ মে এ ঘোষণা সংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সচিব ড. রণজিৎ কুমার বিশ্বাসকে ই-মেইল করা হয়।)</p>
<p>২০১২ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ীদের হাতে পদক তুলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, “সমাজের দুঃখ-বেদনা জানাতে পারে- সেই ধরনের চলচ্চিত্র আমাদের একান্তভাবে প্রয়োজন। এই চলচ্চিত্র যেন আমাদের যুব সমাজকে বিপথে ঠেলে নিয়ে না যায়, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। চলচ্চিত্র নির্মাণ এমন হবে, যেন মানুষের মহৎ গুণগুলো বিকশিত হতে পারে। মানুষের খারাপ দিকগুলোর পরিণতি যেন খারাপ হয়, তারও প্রতিফলণ ঘটাতে হবে।” সুস্থধারার চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারে পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন সরকার প্রধান।</p>
<p><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/05/11.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-full wp-image-2306 alignright" alt="11" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/05/11.jpg" width="300" height="208" /></a>প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দর্শকরা যাতে ভালো পরিবেশে সিনেমা দেখতে পারে, সে পরিবেশ আমরা তৈরি করতে চাই। নির্মাতারাও এই পথে এগিয়ে আসবেন, যা সমাজ সংস্কারমূলক হবে।”</p>
<p>তথ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে <strong><a href="http://bangla.bdnews24.com/media_bn/image/2014/05/10/---1">কলাকুশলীদের পুরস্কার</a></strong> দেয়ার পাশাপাশি আজীবন সম্মাননা পুরস্কার দেয়া হয় অভিনেতা খলিলউল্লাহ খানকে।</p>
<p>এবার ঘেঁটুপুত্র কমলার জন্য শ্রেষ্ঠ পরিচালক ও শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যের পুরস্কার পান প্রয়াত হুমায়ুন আহমেদ। পুরস্কার নিতে দুই সন্তানকে নিয়ে আসেন তার স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন।  খোদার পরে মা চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার শাকিব খান, চোরাবালিতে অভিনয়ের জন্য জয়া আহসান সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার নেন। উত্তরের সুরের জন্য শ্রেষ্ঠ কাহিনীকারের পুরস্কার পেয়েছেন শাহনেওয়াজ কাকলী। এই চলচ্চিত্র প্রযোজনার জন্য শ্রেষ্ঠ প্রযোজকের পুরস্কার পেয়েছেন ফরিদুর রেজা সাগর।</p>
<p><strong>পুরস্কার পাওয়া অন্যরা হলেন </strong></p>
<p><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/05/120.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-2307 alignright" alt="120" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/05/120-300x186.jpg" width="300" height="186" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/05/120-300x186.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/05/120.jpg 500w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>শ্রেষ্ঠ পার্শ্বঅভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান (উত্তরের সুর), শ্রেষ্ঠ পার্শ্বঅভিনেত্রী লুসি তৃপ্তি গোমেজ (উত্তরের সুর), খলচরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা শহিদুজ্জামান সেলিম, শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পী মামুন (ঘেঁটুপুত্র কমলা), বিশেষ শাখায় শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পী মেঘলা (উত্তরের সুর), শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা রেদওয়ান রনি (চোরাবালি), শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক ইমন খান (ঘেঁটু পুত্র কমলা), শ্রেষ্ঠ গায়ক পলাশ (খোদার পরে মা), শ্রেষ্ঠ গায়িকা রুনা লায়লা (তুমি আসবে বলে), শ্রেষ্ঠ সুরকার ইমন সাহা (পিতা), শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক মাহফুজুর রহমান খান (ঘেঁটুপুত্র কমলা), শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক রিপন সাহা (চোরাবালি), শ্রেষ্ঠ সম্পাদক সলিমুল্লাহ সেলিম (ঘেঁটুপুত্র কমলা), শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক কালান্তর ও উত্তম সেন (রাজা সূর্য সেন), শ্রেষ্ঠ মেকআপম্যান খলিলুর রহমান (ঘেঁটুপুত্র কমলা) এবং শ্রেষ্ঠ সাজসজ্জা এস এম মইনুদ্দিন ফুয়াদ।</p>
<div></div>
<p>চলচ্চিত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বতন্ত্র স্থায়ী ভবনে ফিল্ম আর্কাইভ প্রতিষ্ঠার কাজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট আইন’ প্রণয়ন করা হয়েছে। ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে। নতুন সিনেপ্লেক্স নির্মাণের ক্ষেত্রে কর অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সম্পূরক কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। আধুনিক ডিজিটাল সার্টিফিকেশন প্রথা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলচ্চিত্র এগিয়ে যাক, সেটাই আমরা চাই।”</p>
<p>প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুস্থধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের লক্ষ্যে পাঁচটি স্বল্প ও পাঁচটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য অনুদান প্রথা চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে কমপক্ষে একটি শিশুতোষ স্বল্পদৈর্ঘ্য এবং একটি শিশুতোষ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য ১০ লাখ টাকা অনুদান এবং দুই লাখ টাকার সার্ভিস এফডিসি থেকে দেয়া হচ্ছে। প্রতিটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য ৩৫ লাখ টাকা অনুদান এবং ১০ লাখ টাকার সার্ভিস এফডিসি থেকে দেয়া হচ্ছে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%9a%e0%a6%b2%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a7%e0%a7%a8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
