<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>মাজহারুল হক পিন্টু &#8211; সাহিত্য বাজার</title>
	<atom:link href="https://shahittabazar.com/author/pintu/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://shahittabazar.com</link>
	<description>সাহিত্যের আয়নায় মানুষের মুখ</description>
	<lastBuildDate>Sat, 03 May 2014 09:57:51 +0000</lastBuildDate>
	<language>bn-BD</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.4</generator>
	<item>
		<title>ধারাবাহিক নাটক তিন গোয়েন্দা</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a6%95-%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a7%9f%e0%a7%87%e0%a6%a8/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a6%95-%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a7%9f%e0%a7%87%e0%a6%a8/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[মাজহারুল হক পিন্টু]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 03 May 2014 09:57:05 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[টেলিভিশন]]></category>
		<category><![CDATA[বিনোদন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=2238</guid>

					<description><![CDATA[<p>রকিব হাসানের কিশোর থ্রিলার অবলম্বণে ধারাবাহিক নাটক <br /> তিন গোয়েন্দা</p> <p><br /> তিনজন মেধাবী কিশোর। মুসা, রবিন. কিশোর। একজন আমেরিকান বাঙ্গালী একজন আফ্রো বাঙ্গালী একজন স্কটিশ বাঙ্গালী। একই সঙ্গে</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a6%95-%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a7%9f%e0%a7%87%e0%a6%a8/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>রকিব হাসানের কিশোর থ্রিলার অবলম্বণে ধারাবাহিক নাটক </strong><br />
<strong>তিন গোয়েন্দা</strong></p>
<p><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/05/100.jpg"><img decoding="async" class="size-medium wp-image-2239 alignleft" alt="100" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/05/100-207x300.jpg" width="207" height="300" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/05/100-207x300.jpg 207w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2014/05/100.jpg 417w" sizes="(max-width: 207px) 100vw, 207px" /></a><br />
তিনজন মেধাবী কিশোর। মুসা, রবিন. কিশোর। একজন আমেরিকান বাঙ্গালী একজন আফ্রো বাঙ্গালী একজন স্কটিশ বাঙ্গালী। একই সঙ্গে বড় হয়েছে ওরা আমেরিকায়। বাঙ্গালী কিশোর দলনেতা অর্থাৎ গোয়েন্দা প্রধান। প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন। গোয়েন্দা সহকারি মুসা আমান আফ্রো বাঙ্গালী। মার্শাল আর্ট ও কম্পিউটার এক্সপার্ট। খাদ্যরসিক। আর ইউরো বাঙ্গালী রবিন মিলফোর্ড বইপোকা। হিসাবকিতাবে পাকা। পাহাড়ে চড়া তার সখ। কিশোর বয়সে বাপ মা হারা। চাচাই তার সব। চাচা একজন ব্যবসায়ী। মুসার বাবা সাংবাদিক আর রবিনের বাবা একজন চলচ্চিত্র প্রযোজক। তারা আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে এসেছে স্ব-পরিবারে। তিন পরিবারেরই পারিবারিক সম্পর্কটা খুব আন্তরিক। ওদের বসবাস এখন ঢাকা শহরে। তিন বন্ধুই অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়। এবং সেই সূত্র ধরেই তারা ঘটনার সমাধান খুঁজতে গিয়ে একসময় হয়ে উঠেছে গোয়েন্দা। তিন গোয়েন্দা। আমেরিকাতে থাকতেই রহস্যময় কর্মকান্ডের সমাধানে দক্ষ এই তিন বন্ধু গোয়েন্দা হিসাবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। ঢাকায় এসে প্রথম দিকে পড়াশোনা ছাড়া কাজ না থাকায় খারাপ লাগলেও জটিল সব রহস্যের সমাধানে ওরা ফিরে আসে তাদের স্বরূপে। শুরু হয় দূর্দান্ত অ্যাডভেঞ্চার। একের পর এক শ্বাসরুদ্ধকর ঘটনার মুখোমুখি তিন গোয়েন্দা।<br />
রকিব হাসানের এই জনপ্রিয় কিশোর থ্রিলার সিরিজটির নাট্যরূপ ও কাহিনী বিন্যাস করেছেন বিশিষ্ট নাট্যকার মাজহারুল হক পিন্টু পরিচালনা আবুল হোসেন খোকন। তিন গোয়েন্দার প্রধান তিনটি চরিত্রের জন্য সম্প্রতি অডিশন হয়ে গেল মাছরাঙা টেলিভিশনে। প্রায় পাঁচ<br />
হাজার আগ্রহী কিশোরের ভেতর থেকে মাসব্যাপি আয়োজিত অডিশনের ভেতর দিয়ে বেছে নেয়া হয়েছে তিন প্রধান চরিত্র কিশোর, মুসা আর রবিনকে। এতে বিচারক হিসেবে অংশ নেন কচি খন্দকার, অশোক বেপারী, ম.আ সালাম, ড. খন্দকার তাজমি নূর, নাজনীন হাসান চুমকি, মাজহারুল হক পিন্টু, আবুল হোসেন খোকন।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a6%95-%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a7%9f%e0%a7%87%e0%a6%a8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>পথনাটক : পথে নামার সময় অসময়</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%aa%e0%a6%a5%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a6%95-%e0%a6%aa%e0%a6%a5%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%9f-%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%9f/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%aa%e0%a6%a5%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a6%95-%e0%a6%aa%e0%a6%a5%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%9f-%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%9f/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[মাজহারুল হক পিন্টু]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 20 Sep 2013 10:46:26 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[বিনোদন]]></category>
		<category><![CDATA[মঞ্চকথা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=263</guid>

					<description><![CDATA[<p></p> <p>পথনাটক শুধুমাত্র বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে উদ্ভূত এক ধরনের নাট্যশৈলী তা নয়। নাটকে কি বলতে চাইছি, কেন বলতে চাইছি, কাকে বলতে চাইছি এগুলি পথনাটকের উৎস এবং ভিত্তি। সেই কারণেই</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%aa%e0%a6%a5%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a6%95-%e0%a6%aa%e0%a6%a5%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%9f-%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%9f/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2013/09/0342013182955poth-1.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="aligncenter size-medium wp-image-264" alt="0342013182955poth-1" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2013/09/0342013182955poth-1-300x163.jpg" width="300" height="163" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2013/09/0342013182955poth-1-300x163.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2013/09/0342013182955poth-1.jpg 620w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a></p>
<p>পথনাটক শুধুমাত্র বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে উদ্ভূত এক ধরনের নাট্যশৈলী তা নয়। নাটকে কি বলতে চাইছি, কেন বলতে চাইছি, কাকে বলতে চাইছি এগুলি পথনাটকের উৎস এবং ভিত্তি। সেই কারণেই পথনাটক শুধুমাত্র গবেষণাগারপ্রসূত একটা অভিনব নাট্যশৈলী নয় এটা পথে মাঠে ঘাটে পরীক্ষিত যুগের ও সমাজের প্রয়োজনে গড়ে ওঠা এক আন্দোলন।</p>
<p>প্রসেনিয়াম থিয়েটার প্রগতিশীল মূল্যবোধ প্রচার করলেও তার উপস্থাপনার কারণে সে সীমাবদ্ধ থাকছে চার দেয়ালে। অর্থাৎ কৃষক মজুর শ্রমজীবি খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের কাছে সেটা পৌঁছে না। এরকম অবস্থার প্রেক্ষিতে আমাদের আন্দোলনের চেষ্টা হয় নাট্যের মারফত আমাদের কাঙ্খিত বক্তব্য প্রকাশ করবার, যাতে সাধারণ শ্রমজীবি মানুষের কাছে নাটকের বক্তব্য পৌঁছায়। এই আদর্শ এবং লক্ষ নিয়ে এগিয়ে চলে বাংলাদেশের ‘পথনাটক’। বাংলার সমাজ রাজনীতি শ্রেণী সংগ্রাম এ বিষয়গুলি তাই নাট্য বিষয় হয়ে আসে বারবার পথনাটকে। যদিও পৃথিবীর থিয়েটারের ইতিহাস, উৎস রিচ্যুয়াল থেকে। আমাদের দেশের লোক আঙ্গিকের নাট্যক্রিয়াগুলি আজও জনপ্রিয়তার শীর্ষে। সেক্সপিয়ারের প্রসেনিয়াম নাট্যায়ণ, ব্রেশ্ট এর ক্লাসিক এপিক বা ইবনেসেন এর আধুুনিক প্রয়োগ নাট্যরীতি বিভিন্ন ভাবে পূর্ণ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত এবং আমাদের দেশের থিয়েটার আন্দোলনেও যার বিশাল ভূমিকা রয়েছে। তবুও এগিয়ে চলে সময় এগিয়ে চলে মানুষ। সময় পাল্টায় তার সাথে পাল্টায় মানুষের প্রয়োজন। এই প্রয়োজনকে সামনে রেখেই বাংলাদেশের পথনাটক সরাসরি রাজনৈতিক ভূমিকা বা দায়বদ্ধতা হাতে তুলে নিয়ে নেমে যায় মাঠে। ‘ক্ষ্যাপা পাগলার প্যাচাল’, ‘ফেরারী নিশান’, ‘জাগে লক্ষ নূরহোসেন’ পথনাটক গুলির মত আরোও কিছু পথনাটকের কথা যখন এ দেশের মানুষ সারাজীবন মনে রাখে তখন থিয়েটার শুধু আর বিনোদন থাকেনা থিয়েটার হয়ে ওঠে সচেতন মানুষের প্রতিবাদী শিল্প মাধ্যম।</p>
<p>‘থিয়েটার’ কথাটা আমাদের মতো নাট্যর্কমীদের মনে যে এক বিশেষ ধরণের ছবি তৈরী করে সেটা হচ্ছে ইট-পাথর-কংক্রীটের একটি আধুনিক স্থাপত্য যার ভিতরে অভিনীত হবে নাটক সাহিত্যের ক্রিয়ারূপ উপস্থাপনা যাকে আমরা বলি নাট্য। আয়োজনের পশরা থেকেই বুঝে নিতে পারি যে এটি সর্বসাধারণের জন্য কি না। একটি প্রবেশপত্র যা আমাকে দেয়া হয়েছে একটি নিদৃষ্ট মূল্যের বিনিময়ে এবং কতোটা দিয়েছি, তার উপর নির্ভর করবে কোথায় আমার আসন। বেশী দিলে সামনে, যতো কম দেবো ততো পেছনে। আসনটি আমার একার একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। বেল বাজলো, হল অন্ধকার হলো, পর্দা সরে যেতে অন্ধকার আর নৈঃশব্দের আড়ালে দ্যাখা গেলো কাঙ্খিত অভিনয়। এই অন্ধকার হল, মঞ্চ, অভিনয়, সেখানকার মানুষগুলি, কারোও সঙ্গে আসলে আমার কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। তারা যেমন সব ‘অন্য’ মানুষের রূপ ধরেছে অভিনয়ের সার্থে, আমিও সেইরকমই একজন অন্য মানুষ অন্ধকারে লুকিয়ে, নিঃশব্দে, বসা একা ! এ সকল নাট্য ক্রিয়া বা চর্চা সবই ঐ একটি নির্দিষ্ট মঞ্চের মধ্যে, ঘটনা আর বিষয় উপস্থাপনার মধ্যে গ-িবদ্ধ ! কিন্তু যখন প্রশ্ন ওঠে গণচেতনার, যখন বিষয় হয় শ্রেণী শোষনের মুক্তি, নিজস্ব ঐতিহ্যের অনুসন্ধান, তখন একজন প্রগতিশীল নাট্যশিল্পীর ভাবনায় স্থান পায় নতুন সৃষ্টির। একজন সচেতন নাট্যকর্মী বা নাট্যকার অথবা নির্দেশক চিন্তা করে গণমানুষের জীবন সংগ্রাম নিয়ে, তার ভাবনায় স্থান পায় তার দেশ-জাতি, শিল্প-সংস্কৃতি, রাষ্ট্র-রাজনীতি। তখন সে প্রকাশ ভঙ্গিটাও হতে হয় গ্রহনযোগ্য কোন আদলে ? আর বিষয়টি যাদের মুক্তির জন্য তাদের নিয়ে তাদের মাঝে উপস্থাপন করাটা যদি উদ্দেশ্য হয় তবে দায়িত্বটা তখন বড় আকার ধারণ করে। শিল্পের স্বভাব অনুযায়ী তাগিদটা তখন একটা কেবল নির্দিষ্ট গ-িতে সীমাবদ্ধ থাকে না, এক নতুন সৃষ্টির উদ্দিপনা নিয়ে সে এক নতুন পথের সন্ধানে অনুপ্রেরণা যোগায়। এদেশের অধিকার বঞ্চিত লাখো মানুষের মুক্তির লক্ষে আমরা তাই সন্ধানে ফিরি মুক্তমানুষের মুক্তনাটক এর। আর তখনই বাংলাদেশের থিয়েটার আন্দোলনের বড় হাতিয়ার হয়ে ওঠে এই পথনাটক।</p>
<p>মানুষ এবং মানুষের জীবন তার শরীর, মন বাক্য ক্রিয়া প্রতিফলিত হয়ে তার সাহিত্যে ও শিল্পের বর্ণনায়। শিল্পের অন্যান্য মাধ্যম গুলির তুলনায় নাটক জনপ্রিয় বেশী এজন্যই যে সেটি অভিনয় প্রধান। এখানে মানব জীবনের বিভিন্ন রূপ অভিনয়ের অর্থাৎ নাট্য ক্রিয়ার মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়। নাটক এবং সমাজজীবনের এই ঘনিষ্ট সম্পর্ক সমাজের উপর নাটকের প্রভাব বিস্তৃত। সমষ্টি চেতনাকে উদ্দিপিত করতে চিরকাল এই নাটক এবং নাট্যক্রিয়া প্রধান হাতিয়ার হিসাবেই ব্যবহৃত হয়েছে। আর যদি সে নাট্য ক্রিয়াটি হয়ে থকে সাধারণের জন্য, তাদের নিয়ে তাদেরই মাঝে?</p>
<p>সময়ের চাহিদায় আজ মানুষ যখন তার রাজনৈতিক সামাজিক বা অর্থনৈতিক চেতনার সম্পর্কে আরোও বেশি দায়বদ্ধ তখন নাটক শুধু শিল্প নৈপুণ্যের মধ্যে নিজেকে ধরে রাখবেনা এটাই স্বাভাবিক এবং তাই ঘটেছে বাংলাদেশের পথনাট্যচর্চার ক্ষেত্রেও। নাট্যশিল্পকে শুধু মাত্রই বিনোদন যারা ভাববেন তাদের জন্য নয় এই নাট্যক্রিয়া কারণ এই ক্রিয়া বা থিয়েটার জনগনের থিয়েটার, গণমানুষের মুক্তির সাথে সম্পৃক্ত তার প্রয়োগ চিন্তা, গল্পের বিষয়বস্তু। যে নাট্যক্রিয়া থেকে রাষ্ট্রের বড় অংশ গণমানুষ পায় মুক্তির বানী। কারণ এটি পথনাটক।</p>
<p>পথনাটক বিষয় বিবেচনায় বিশ্বের অন্যান্য দেশে বিনোদন কিংবা শিল্প নৈপুণ্যে প্রদর্শিত হয় বা হয়েছে এবং হচ্ছে, বাংলাদেশেও যে হয়নি তা নয়। কিন্তু আমাদের দেশে গণআন্দোলনের ধারায় মুক্ত বা পথনাট্য প্রেক্ষাপটটা একটু ভিন্নতর। যদিও পৃথিবীর থিয়েটারের ইতিহাস প্রতিটি দেশেই শুরু হয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে নানা দেবদেবীর অর্চনা আরাধনার মধ্য দিয়ে। কি গ্রীস অথবা মিশর কিংবা জাপান অথবা চিন সব দেশে একই ধারা পরিলক্ষিত হয়। বাংলাদেশের নাট্যকলার ইতিহাসেও যার ব্যতিক্রম ঘটেনি। লোকনাটক পালা কীর্তন-এর বিষয়গুলিতো তারই সাক্ষ্য বহন করে ? কিন্তু আজকের আধুনিক নাট্যধারার স্রোতটি বাংলাদেশে শুরু হয়েছিলো মূলত ১৯৭১ এর স্বাধীনতা আন্দোলনের সূত্র ধরে। অর্থাৎ মুক্তিসংগ্রামের চেতনা শক্তিকে ধারণ করে সংস্কৃতির ক্ষেত্রে রাজনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের থিয়েটার এনেছিলো এক বিরাট পরিবর্তন। কৃষক শ্রমিক ছাত্র জনতা এক ঐক্যে শুরু করেছিলো এই স্বাধীনতা সংগ্রাম। যার হাত ধরেই আজকের বাংলাদেশের থিয়েটার আন্দোলন।</p>
<p>হাতের কাস্তেটাকে শান দিয়ে যে কিষাণ ঝাঁপিয়ে পড়তো ফসল কাটার উৎসবে, একদিন তাকে সেই ধারালো কাস্তেটাকেই বাগিয়ে ধরতে হয়েছে প্রভুদের বিরুদ্ধে জীবন সংগ্রামের হাতিয়ার হিসেবে। কারণ এ শতকের শুরুই হয়েছিলো সামন্ততান্ত্রিক শোষণের মধ্য দিয়ে। ফলে বিদেশী সামন্ততান্ত্রিক প্রভূ এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ আর দুর্গতি  দেশের মানুষকে তাই সচেতন করে তুলেছিলো। ফলে এ সময় ঘনিয়ে ওঠে বৃটিশ শাসক শোষকদের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শক্তির উত্থান।<br />
-কামাল লোহানী</p>
<p>‘আলোর পথযাত্রী’ রাস্তায়, মাঠে এবং সিলেটে ধানের ক্ষেত্রে পর্যন্ত অভিনীত হয়েছিলো গণমানুষের চেতনার হাতিয়ার হিসাবে। ইতিহাস এটাই বলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে পথনাট্য বা মুক্তনাট্য একটি শক্তিশালী এবং অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিন অঙ্কের নাটক কে এক অঙ্কে পরিণত করা হয়েছিলো বৃটিশ সরকারের প্রচলিত অভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইনকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য এমন কি নাট্যকারের নামটিও সেদিন গোপন করা হয়েছিলো কারণ তিনি ভারতীয় ছিলেন বলে। মুখ্য ছিলো নাটকটি নাট্যকার বা আঙ্গীক নয়।</p>
<p>তাহলে দেখা যাচ্ছে যে স্বাধীনতা সংগ্রাম, জাতীয় চেতনা, রাজনৈতিক আন্দোলন যাই বলি না কেন পথনাটকগুলিতে শোষণ আর শাসক শ্রেণীর ভেতরের চেহারা তাদের অত্যাচারের রূপটাই প্রকাশ পেয়েছে বিভিন্ন সময়ে। একদিকে জোতদার, মজুতদার, ব্যবসায়ী মালিক অর্থাৎ শাসক শ্রেনী অন্যদিকে চাষী মজুর সর্বহারা শোষিত শ্রেনী। যার কারণে পথনাটকের নামকরণ থেকেও প্রকাশ পায় শ্রেনী আন্দোলনের চিত্র।</p>
<p>অভিনয় পদ্ধতি, নাট্য আঙ্গিক সৃষ্টি, মঞ্চায়ণ কৌশল এই বিষয়গুলি ৮০-এর দশক থেকেই বাংলাদেশের নাট্যকর্মীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসাবে বিবেচ্য হয়ে আসছিলো। কিন্তু আবার ৯০’র দশকে যার প্রয়োগ ঘটেছে বেশী। এই দশকটি বাংলাদেশের নাট্যকর্মীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় কেননা বৃহত্তর জনজীবনের স্বার্থে সত্যিকারের বিকল্প ধারার নাট্যচর্চার পথনাট্য বা মুক্তনাট্যের মহান প্রয়োগ ঘটেছিলো এই সময়ে। সামরিক ও স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে পথনাটক ও মুক্তনাটক সাফল্যের এক নব দিগন্ত দেখিয়েছিলো এদেশের সাধারণ মানুষকে। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে শুধু নয় এদেশের সামাজিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক কর্মকা-েও পথনাট্য তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।</p>
<p>১৯৯০ সালের গণঅভ্যূত্থানে সারা দেশব্যাপী ঐক্যবদ্ধ নাট্যকর্মীরা স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পক্ষে ব্যাপক গণসচেতনতা তৈরীর লক্ষ্যে পথনাটককে ছড়িয়ে দেয় দেশের আনাচেকানাচে। আন্দোলনকে সুসংবদ্ধ করতে এ সময় তৈরী হয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক জোট। এ কথা অনস্বীকার্য যে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নাটক সব সময়ই গণমানুষের কথা বলে এসেছে আর পথনাটক প্রসঙ্গে ‘গণমানুষ’ কথাটি যুক্ত হয়েছে তার কারণ ‘পথনাটক’ বিষয়টিই বলে দেয় তার অবস্থানটি কোথায়।</p>
<p>এই যে মুক্ত বা পথনাটক এবং গণমানুষ তার অধিকার অর্থাৎ শোষণমুক্ত একটি সমাজ বা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের যে সংগ্রাম তার একটা বড় অংশ জুড়েই নাট্য বিষয়টি সম্পৃক্ত আর এই নাট্য আন্দোলনেরই আরো একটি শক্তিশালী অংশ বাংলাদেশের মুক্ত ও পথনাট্যচর্চা। বিভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে গণমানুষের চেতনাকে আরো সংঘবদ্ধ, শক্তিশালী এবং আন্দোলনমুখর করতে পথনাট্যচর্চা হয়ে উঠে একটি অপরিহার্য শক্তিশালী বিষয় যা এখনো প্রবাহমান। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে স্বৈর সরকারের শাসন আমলটি তাই খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং তার সূত্র ধরে ৯০-এর গণ অভ্যূত্থান বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনে একটি বড় বিষয়।</p>
<p>১৯৯০ এর সারা বাংলাদেশ ব্যাপি স্বৈরাচারী সরকার পতনের সংগ্রামে নাট্য আন্দোলনটি হয়েছিলো একটু ভিন্ন। পথনাটক এই সময়টাতে নাট্যকর্মীদের যতটুকু সংগ্রামের হাতিয়ার হিসাবে গড়ে উঠেছিলো, মঞ্চনাটকে দু-একটি উল্লেখযোগ্য নাটক ছাড়া সেরকম কোন বিষয় তখন প্রতিবাদে গর্জে উঠেনি। রাজপথে বুকে পিঠে শ্লোগান লিখে নেমেছিলো ৯০-এর সবচাইতে বড় প্রতিবাদী একটি মানুষ। সবচেয়ে জীবন্ত হয়ে উঠেছিলো একটি কন্ঠস্বর সে নূর হোসেন। স্বৈরাচার সরকারের একটি গুলি হয়তো সাময়ীক ভাবে তখন স্তব্ধ করে দিয়েছিলো সেই প্রতিবাদ কিন্তু থামাতে পারেনি আন্দোলন। ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে এটা হয়তো নতুন কোন বিষয় হিসাবে উঠে আসবে না। তবুও এটাই ৯০-এর গণঅভ্যূত্থানের মূল কেন্দ্রবিন্দু। নূর হোসেনের মতো ডাঃ মিলনকেও গুলি করে হত্যা করা হয়েছিলো সেদিন সেই সময় যখন আন্দোলন হয়ে উঠেছিলো আরো প্রতিবাদ মুখর। গণমানুষকে সেদিনের আন্দোলনে আরো প্রতিবাদী হতে তাদের মাঝে সেদিন কারক নাট্য সম্প্রদায় উপস্থাপন করেছিলো পথনাটক “জাগে লক্ষ নূর হোসেন”। রাস্তায় শহীদ মিনারে মুক্তাঙ্গনে গ্রুপ থিয়েটারের দল থেকে শুরু করে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীগণ সে সময় পথনাট্য রচনা এবং উপস্থাপনা করেছিলো। বাংলাদেশের নাট্যচর্চার ইতিহাসে তা স্মরণীয় ঘটনা হিসেবেই যুগ যুগ থেকে যাবে। একটি দেশের রাজনীতি সে দেশের নাট্যকর্মীদের প্রভাবিত করে ফলে তৈরী হয় ৯০ এর মত একটি ইতিহাস যা ঘটেছিলো বাংলাদেশের ইতিহাসেও।</p>
<p>নাটকের সংজ্ঞা নিরুপণ নয়, নয় বিশেষ কোন দর্শন, শুধূ গণমানুষের বক্তব্য তাদের অধিকারটাই তখন বিষয় উপস্থাপনার মূল উদ্দেশ্যে হয়ে উঠে। বিচার হয় না যে নাটকের উপস্থাপনাটি শৈল্পিক নয়, নাট্যপ্রয়োগ রীতির কৌশলগুলি ঐ উপস্থাপনায় অবর্তমান কিংবা, সেটি একটি নির্দিষ্ট রীতির অন্তর্গত নয়। সংগ্রামটাই তখন প্রধান লক্ষ্য হিসেবে সবার সামনে ধরা পড়ে, দলমত নির্বিশেষে হাত মেলায় স্বৈরাচারের পতনে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বাঙালি দর্শককে রাজনৈতিক বিষয়ে সচেতন করতে পথনাট্যের ভূমিকাকে তাই আজ অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। গণনাট্য চর্চার মূল লক্ষ্য, বিষয় নির্বাচন এবং পথনাট্য রীতির এই সহজ মাধ্যমটি উপস্থাপনার সহজতর রূপের কারনে নাট্যকর্মীদের কাছে তার গ্রহনযোগ্যতা গড়ে তুলেছে।</p>
<p>বাংলাদেশে গণমানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সংগঠিত যত রাজনৈতিক আন্দোলন তার প্রত্যেকটির প্রধান ভূমিকায় সাংস্কৃতিক আন্দোলন লক্ষণীয় এবং নাট্য বিষয়টি রয়েছে যার প্রধান ভূমিকায়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের যে সচেতন নাট্যকর্মীরা একত্রিত হয়েছিলো তাদের নায্য দাবীতে সেদিন এদেশ থেকে তাড়িত হয়েছিলো পাকিস্তানি অপশক্তি শেষ হয়েছিলো পাক-শাসকের আগ্রাসন। ১৯৯০ এর গণ অভ্যূত্থানে সেই নাট্যকর্মীরাই প্রগতিশীল রাজনৈতিক আন্দোলনের সাথে হাতে হাত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পতন ঘটিয়েছে স্বৈরাচার সরকারের। ১৯৭১ থেকে শুরু করে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যূত্থান পর্যন্ত এবং আজও তাই গণমানুষের সংগ্রামী হাতিয়ার এই পথনাটক।</p>
<p>আজ বলছি পথ হারিয়েছে বাংলাদেশের পথনাটক। অর্থাৎ পরিবারের যে সন্তানটির উপর র্নিভর করে আমার পথচলা সেই সন্তানটিই হারিয়েছে তার গতিপথ ! সত্যি, ভাবলে শিউরে উঠতে হয়। সমাজ যেহেতু কতগুলি জীবন নির্ভর একটি গোষ্ঠীর সমষ্টিগত রূপ তাই সমাজটিই এখানে জীবন, আর এ জীবনের অর্থই সংগ্রাম প্রকৃতির সাথে জীবনের, জীবনের সাথে জীবনের অস্তিত্বের টিকে থাকার এই নিয়মিত সংগ্রামে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জীবনের অন্যায় অবিচার কে প্রতিহত করতেই জন্ম নেয় প্রতিরোধ। শিল্পরূপ মাধ্যমটি প্রতিরোধের রূপে সংগ্রামের হাতিয়ার হয়ে গণমনের বিক্ষোভকে জাগাতে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে, পুজিবাদী ব্যবস্থার প্রতিবাদ করে নেমে আসে রাস্তায় পথ নাট্যক্রিয়ার রূপে নাট্যক্রিয়ায় যেহেতু অভিনেতা আর দর্শকদের মাঝে ঘটে সরাসরি যোগাযোগ যেহেতু ক্রিয়া এবং প্রতিক্রিয়াটি ঘটে প্রত্যক্ষ ভাবে সেহেতু এখানে অশুভের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বা প্রতিরোধের সূচনাটিও ঘটে সরাসরি। তাই বুকে সাহশ মনে বল কণ্ঠে শক্তি নিয়ে চিৎকার করে বার বার বলতে চাই -আমার যে মন্ত্রটিতে রয়েছে রাক্ষস দমনের অস্ত্র কোন কিছুর বিনিময়েই আমি তাকে র্দুবল হতে দিতে পারি না !</p>
<p>লেখক : মাজহারুল হক পিন্টু</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%aa%e0%a6%a5%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a6%95-%e0%a6%aa%e0%a6%a5%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%9f-%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%9f/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মঞ্চনাটক কোন পথে?</title>
		<link>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ae%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a6%95-%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%a5%e0%a7%87/</link>
					<comments>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ae%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a6%95-%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%a5%e0%a7%87/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[মাজহারুল হক পিন্টু]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 10 Sep 2013 01:49:44 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[বিনোদন]]></category>
		<category><![CDATA[মঞ্চকথা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">http://shahittabazar.com/?p=91</guid>

					<description><![CDATA[<p>সংকট তৈরী হলেই আসে উত্তরণের প্রশ্ন। সংকট মানেই স্থবিরতা। বাংলাদেশের মঞ্চ নাটকের সফলতা সবাই জানেন। জানেন নাট্য শিল্পের জনপ্রিয় হয়ে ওঠার ইতিহাসও। আজ আমরা সেদিকে যাবো না। কারণ, শিল্প সতত</p><span><div class="readmore"><a href="https://shahittabazar.com/%e0%a6%ae%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a6%95-%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%a5%e0%a7%87/">...বিস্তারিত &#8594;</a></div>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2013/09/image2.jpg"><img loading="lazy" decoding="async" class="size-medium wp-image-92 alignright" alt="image2" src="http://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2013/09/image2-300x184.jpg" width="300" height="184" srcset="https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2013/09/image2-300x184.jpg 300w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2013/09/image2-1024x630.jpg 1024w, https://shahittabazar.com/wp-content/uploads/2013/09/image2.jpg 1111w" sizes="auto, (max-width: 300px) 100vw, 300px" /></a>সংকট তৈরী হলেই আসে উত্তরণের প্রশ্ন। সংকট মানেই স্থবিরতা। বাংলাদেশের মঞ্চ নাটকের সফলতা সবাই জানেন। জানেন নাট্য শিল্পের জনপ্রিয় হয়ে ওঠার ইতিহাসও। আজ আমরা সেদিকে যাবো না। কারণ, শিল্প সতত সঞ্চারণশীল, নতুন কিছু সৃজনে তার চলা। যখনই তা সংকটের আবর্তে পড়ে ঘুরপাক খায়, তখন তা হয়ে ওঠে এক ঘেঁয়ে বিরক্তিকর। আমাদের নাট্যজগতে গত এক দশকে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি নেই যা ব্যাপক আলোচনায় আসতে পারে। অথচ বর্তমান সময়ে নাট্যদল, নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনয় শিল্পীর অভাব নেই। প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও প্রতিবছর বেরিয়ে আসছে প্রচুর ছেলে মেয়ে।  তারপরও তালিকায় যোগ হয় না সেলিম আল দীন, সৈয়দ শাসসুল হক, আবদুল্লাহ আল মামুন, মামুনুর রশীদ বা মান্নান হীরার মত নাট্যকার। মঞ্চ মাতায় না কীর্তনখোলা, কেরামত মঙ্গল, নুরলদীনের সারাজীবন, ওরা কদম আলীর মত কোনো নাট্য প্রযোজনা। অথচ এখন শুধু মহিলা সমিতিই সব নয়, তৈরী হয়েছে আধুনিক মঞ্চ ও স্টুডিও থিয়েটার, নাট্যদলগুলোও পাচ্ছে বিভিন্ন রকম সুযোগ সুবিধা। তারপরও কেন এই শূন্যতা, কেন এই সংকট। আসলেই কোন পথে হাঁটছে আমাদের মঞ্চনাটক ? সে কি আলোকিত কোন স্বর্ণ শহরের দিকে যাত্রা না কি মরীচিকার পেছনে ধাবমান?</p>
<p>তার-ই অনুসন্ধানে আমাদের দীর্ঘ এক বছরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>চায়ের দোকানদার থেকে শুরু করে দর্শক ও নির্দেশক পর্যন্ত সকলের কাছে আমাদের প্রতিদিনের জিজ্ঞাসা ছিলো বাংলাদেশের মঞ্চ নাটক কোন পথে।</p>
<p>এ প্রতিবেদনে আমরা সারাদেশের মঞ্চকর্মীদের কাছে আরো জানতে চেয়েছিলাম- কোন উদ্দেশ্য নিয়ে মঞ্চনাটক বা গ্র“প থিয়েটার করতে এসেছেন?  সেই উদ্দেশ্য কতটা সফল হয়েছে। বর্তমান সময়ের মঞ্চনাটকের অবস্থা ও অবস্থান সম্পর্কে আপনার ভাবনা বা মতামত কি? কেমন দেখতে চান মঞ্চনাটকের ভবিষ্যত?</p>
<p>এক একজন নাট্যকর্মী এক একরকম উত্তর দিয়েছেন, কেউ কেউ এড়িয়ে গেছেন মূল বিষয়টি, কেউ কোনোরকম সাড়া দেননি। যা আমরা পাঠকের কাছে কোনোরূপ পরিবর্তন বা পরিমার্জন ছাড়াই তুলে ধরেছি। এই প্রতিবেদনের সাক্ষাতকারগুলো গ্রহণ করেছেন পত্রিকার সম্পাদক আরিফ আহমেদ।</p>
<p>মঞ্চনাটক কোন পথে। এটা বলা মুশকিল কারণ আমাদের সবক্ষেত্রেই একটা অস্বচ্ছ ভাব থাকে। মনে হয়, কোনো লক্ষ্য নির্ধারিত নেই, করতে হবে তাই যেন করা, আসলে বিষয়টা বোঝানো খুব শক্ত। জাতীয় নাট্যশালার সামনে এক সন্ধ্যায় নাট্যকর্মীদের আড্ডায় কথাগুলো বলছিলেন তরুণ নাট্যকর্মী ও নির্দেশক জাহিদ রিপন।</p>
<p>মহিলা সমিতির সামনের পান সিগারেট বিক্রি করেন শাজাহান। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো আপনি নাটক দেখেন কিনা? উত্তরে তিনি বললেন- হ্যাঁ মাঝে মাঝে দেখি তো। আমি এইখানে মানুষের আনাগোনা দেখলে বুঝি কোন দলটা ভালো কোনটা খারাপ। তবে আগে এইখানে নাটকের দলের ছেলেমেয়েরা আড্ডা দিত এখন আসে প্যাকেজ নাটকওয়ালারা।</p>
<p>রেজা সাহেব প্রায়ই নাটক দেখতে আসেন স্বপরিবারে। তাঁর অভিযোগ গুরুতর- ‘নাটক দেখি প্রায় দশ পনের বছর যাবত, তবে এটুকু বলতে পারি আন্তরিকতার অভাবেই হোক, অথবা জীবীকার তাগিদ পূরণ করার কারণেই হোক নাটকগুলো দেখে এখন আর শান্তি পাওয়া যায় না, কেমন যেন এক ধরনের গা ছাড়া ভাব লক্ষ্য করা যায়। সুস্থ বিনোদন চাই বলেই পয়সা খরচ করে নাটক দেখতে আসি ভালো কিছু দেখবো এই আশায়, কিন্ত বেশির ভাগ সময় হতাশ হতে হয়। প্রযোজনার মান ভালো না, হাস্যকর অভিনয়। আমার মনে হয় নাট্যদলগুলোর ভাবনা চিন্তা করে নাটক করা উচিত। তাঁর স্ত্রী শাহিদা খানম একই কথা বললেন, আসলে আমাদের দেশে যে কোনো কাজেই দেখেছি যে শুরুটা খুব সুন্দর হয় কিন্ত এরপর যেন সবাই খেই হারিয়ে ফেলে।</p>
<p>অন্য ধরণের হতাশা ব্যক্ত করে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের একজন তরুণ অভিনেতা- ‘ভাই টিভি-চলচ্চিত্রে অ্যাকটিং করি। দ’ুদিন লাগুক আর তিনদিন লাগুক সর্বনিম্ন দু হাজার টাকার একটা খাম হাতে আসে কিন্তু মঞ্চনাটক করলে?</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>রাখতে হবে। অভিনয় শেখার জন্য মঞ্চনাটক করবো? তাহলে ইনষ্টিটিউটের দোষ কি? এগুলো আসলে আমাদের নাট্যজনদের ভাবা উচিত। শুধু আবেগ দিয়ে এখন আর দুনিয়া চলে না।</p>
<p>শিল্পকলা একাডেমীর এক্সপেরিমেন্টাল হলে একটি নাট্য সংগঠন কমেডি নাটক করছিলো কোনো এক শুক্রবার। মাঝপথেই বেরিয়ে এলেন এই প্রতিবেদকেরই এক বন্ধু আমার একসময়ের নাট্যসাথী (আলম)। তাকে জিজ্ঞেস করলাম, কিরে নাটক দেখলি? ‘দেখিনি তবে চেষ্টা করেছি দেখার শেষপর্যন্ত টিকতে না পেরে বেরিয়ে এলাম। কমেডির নামে যেভাবে সুড়সুড়ি দিয়ে হাসানোর চেষ্টা চলছে তাতে না হেসে বরং রাগে গালাগালি দিতে ইচ্ছে হয়েছে।</p>
<p>কে বলেছে মঞ্চনাটক খারাপ, আমি তো বেশ কয়েকটা মঞ্চনাটক দেখেছি, প্রোডাকশনের মানতো খুবই চমৎকার। যাঁরা বলে তারা আসলে চায় না বাংলাদেশে মঞ্চনাটক হোক। পরিষ্কার জবাব দিলেন প্রথম শ্রেণীর একটি নাট্যদলের একজন কর্মী রাকিব। অবশ্য গ্র“প থিয়েটার ফেডারেশান কর্তাদেরও অনেকে বলেছেন এ কথা।</p>
<p>‘এটা তো কুয়ার ব্যাঙের সমুদ্র দর্শনের মত। এতো এতো নাট্য সংগঠন, এতো এতো নাটক, তার মধ্যে দু‘চারটা যদি ভালো না থাকে তাহলে তো কিছুই থাকল না। কিন্ত এটা দিয়ে কি সামগ্রিক বিষয়টা বিবেচনা করা সম্ভব? বলছিলেন রাকিবেরই সহযাত্রী আরেক নাট্যকর্মী।</p>
<p>একটা নাটকের মানদন্ড কিভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব? আসলে মানদন্ডের বিষয়টা নির্ভর করে ব্যক্তির ওপর। একজন মানুষের মেধা, মননশীলতা তার বেড়ে ওঠার পরিবেশ, সামাজিকতা সবকিছু মিলিয়েই তৈরি হয় একজন মানুষের রুচিবোধ। তাই বলে কি অন্যেরা নাটকে আসবে না? অবশ্যই আসবে। কারণ, নাটক এখন প্রাতিষ্ঠানিক ভাবেই শেখানো হচ্ছে। যার ভেতর শিল্পবোধ আছে সেই পারবে।</p>
<p>নাট্যজন মাসুদ আহমেদ চৌধুরীর ব্যাখ্যাটা একটু অন্যরকম। গ্র“প থিয়েটার হচ্ছে আদর্শভিত্তিক নাট্য সংগঠন। প্রতিটা গ্র“প থিয়েটার এর রয়েছে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি, আদর্শ, উদ্দেশ্য। জনগনের রাজনৈতিক চেতনাকে জাগ্রত এবং উৎসাহিত করাই তাদের লক্ষ্য।</p>
<p>গ্র“প থিয়েটারগুলো যখন তৈরি হয় তখন শিল্পবোধ, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বদেশ প্রেমের তাড়নায় ছেলেমেয়েরা কাজ করতে আসে। এর সাথে অর্থের কোন যোগ ছিল না। এখন কি তা হচ্ছে? সম্ভব নয় কারণ, জীবিকার প্রয়োজনেই জীবন অনেক জটিল হয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে আমার মতে, পেশাদার থিয়েটারের বিকাশটা খুব বেশি প্রয়োজন কিন্ত এ ব্যাপারে তেমন কোন উদ্যোগ চোখে পড়ে না।</p>
<p>পেশাদার থিয়েটার বিকাশে যে কাঠামো দরকার তাইতো আমাদের দেশে নেই। আর পেশাদার থিয়েটার বিকাশে গ্র“প থিয়েটার ফেডারেশান-এর উচিত সবচে’ বড় ভূমিকা রাখার। পেশাদারিত্ব তৈরি না হলে নাটকের বিকাশও আটকে থাকবে। কিন্ত পেশাদার থিয়েটার যে করবেন,</p>
<p>আপনার মঞ্চ কোথায় ? একটি নাট্য সংগঠনকে নাটক করতে হলে মঞ্চের জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়। সেখানে পেশাদার থিয়েটার কিভাবে সম্ভব। আপনার তো আগে ঘর ঠিক করতে হবে। সবাইকেই বিষয়টা বুঝতে হবে। আর আমি বর্তমান প্রজন্মকে দায়ী করবো না। ওরা যথেষ্ট আন্তরিক। যে কোন কাজেই। মুশকিল হচ্ছে, ওদের সঠিক পথে চালনা করা। ওদের সামনে কোন উদাহরন নেই যা আছে তা ভন্ডামি। আর প্রতিষ্ঠানগুলোর নাট্যবিভাগ থেকে যারা পাশ করে বেরিয়ে আসছে তারা অধিকাংশই খোঁজে টেলিভিশনের চাকরি আর বাকীরা প্লাটফরমের অভাবে কেরানীগিরি করতে বাধ্য হয়।&#8217; কথাগুলো বললেন নাট্যকর্মি পুলক রাহা।</p>
<p>এতো গেল রাজধানীর কথা। ঢাকার বাইরের চিত্রটা আরো করুণ। মঞ্চনাটকের দর্শক নেই বললেই চলে কারণ একটি নাটকের বড়জোর কয়েকটি প্রদর্শনী হয়। আর রাজধানীতে আসার সুযোগ মেলে খুব কম দলেরই। তাহলে আমরা কিভাবে বলি নাট্যশিল্পের বিরাট সফলতার কথা?</p>
<p>দেখতে বেলা তো কম গড়ায়নি। তবে হ্যা, এটুকু বলা যায় যে, নাট্যচর্চা বিস্তৃত হয়েছে। একসময় হয়তো আমরা যে স্বপ্ন দেখছি তা পূরণ হবে। এই আশা ব্যক্ত করলেন, প্রবীণ নাট্যশিল্পী জহিরুজ্জামান। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে সরকারের ভূমিকা রাখা উচিত আরও আন্তরিকভাবে, অন্যান্য দেশে নাটকের ক্ষেত্রে সরকার পৃষ্ঠপোষকতা করে কিন্তু আমরা হতভাগা, এক শিল্পকলার মঞ্চ নির্মাণ করে দেয়া ছাড়া আর কোন ভূমিকা নেই সরকারের। সংস্কৃতিমনা সরকার ক্ষমতায় এসে উল্টো সংস্কৃতি খাতেই বাজেট কমিয়ে দিলেন। কি মজা।’</p>
<p>নাট্যতত্ত্ব থেকে পাশ করে বেরিয়ে আসা আলীম আল রাজী বললেন, ‘থিয়েটারের ব্যাপক দর্শক সমাগম কোন কালে কোন দেশেই ছিল না। তারপরও অন্যান্য দেশে দর্শকের যে পরিমাণ তার এক অংশও আমাদের এখানে হয় না। আসলে মঞ্চনাটক দেখার মানসিকতা তৈরির দরকার আছে। আর সেটা হতে হলে শিক্ষার প্রয়োজন আছে। শিক্ষার হার যখন সারাদেশব্যাপী বাড়বে তার সাথে মঞ্চনাটকের দর্শক এবং দর্শক প্রিয়তাও বাড়বে।</p>
<hr align="left" size="1" width="33%" />
<p>কিন্তু সরকারের সদিচ্ছার অভাব আছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কোন বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়ণ সম্ভব নয়। আমি অবশ্য এই সাথে যারা নাট্যজগতের হর্তাকর্তা তাদের সদিচ্ছার অভাবের কথাও বলবো কারণ একটা প্রবাদ তো আমাদের সকলেরই জানা আছে। ‘ যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ। আমাদের দাবী থাকবে যে, নাটককে স্কুল পর্যায় থেকে পাঠ্য করা হোক। তাতে দেশের বেকারত্ব কিছুটা হলেও কমবে কারণ যারা নাট্যতত্ব থেকে পাশ করে বের হচ্ছে তারা কাজ করতে পারবে এবং তাতে থিয়েটারেরও লাভ হবে।’</p>
<p>একই দাবী তুলেছেন বাংলাদেশ গ্র“প থিয়েটার ফেডারেশান-এর বর্তমান সেক্রেটারী জেনারেল ঝুনা চৌধুরীও। তাহলে আমাদের কি করা উচিত বা কোন পথে হাঁটা উচিত?</p>
<p>এতসব মতামতের ভিত্তিতে প্রশ্ন করা হয়েছিল রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত ও নাট্যতত্ত্ব থেকে পাস করে আসা নাট্য গবেষক ড. খন্দকার তাজমী নুরকে। তাঁর বক্তব্য হচ্ছে ‘সমস্যা বহুমুখী। একসঙ্গে এত সমস্যার সমাধান করতে গেলে কোনোটাই হবে না, এক এক করে করতে হবে। তবে তারও ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। একটি একটি করে সমস্যার সমাধান করতে হবে। তবেই হয়তো সঠিক পথ পাওয়া যাবে। কে কোন ধারায় নাটক করলো সেটা পরের বিষয়। প্রথমেই নাটকের দেখার বিষয়</p>
<p>টমওয়ার্ক, অভিনয়ের মান, তারপর অন্যান্য সব। এসব করতে হলে এর জন্য সময় দিতে হবে, চর্চা করতে হবে। আন্তরিক চেষ্টা থাকতে হবে। থিয়েটারের জন্য কেউ কি পারবে অঢেল সময় দিতে ? আমরা আসলে সময়ের হাতে বন্দী। সময় বলে দেবে কি হবে।’</p>
<p>‘এটা আসলে গাছাড়া কথা। অনেকটা দায় এড়ানোর মত। আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে সকলেরই ভাবতে হবে বিষয়টা নিয়ে। বিশেষ করে ভাবা উচিত নাট্যজনদের। যারা বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের দিকপাল, তাদের কাছে সবারই অনেক প্রত্যাশা। তারাই তো দিক নির্দেশনা দেবেন কি করা উচিত।’ আর নাটকে নিরীক্ষার নামে যা করা হচ্ছে সেটাও ভাববার বিষয়।’ ‘ কিন্তু যে দেশের নব্বই ভাগ মানুষই জানে না মঞ্চনাটক যারা করে এটা তাদের পেশা না সখ সে দেশে নিরীক্ষা করার আগে বেশী করে মঞ্চনাটক দেখার দর্শক তৈরী করা উচিত আগে’। কথাগুলো হচ্ছিল আজিজ মার্কেটে নাট্যকর্মীদের এক আড্ডায়। আড্ডা অবশেষে একমতে পৌঁছাল যে, আপনি যে ভাবেই করেন এটা গণমাধ্যম, সুতরাং দর্শককে আপনার নাটক দেখাতে হবে। দর্শক যেহেতু নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে টিকিট কেটে আপনার নাটক দেখবে। অতএব, তার সাথে প্রতারণা চলে না, নাটকের নামে যা মনে হলো তাই করে ফেলবেন এটা গ্রহণযোগ্য নয়। আরো কিছু ব্যাপারে বলতে হয় যে, বাইরের দেশের ভালো নাট্যদলগুলোকে মাঝে মাঝে নিয়ে আসা উচিত, তাতে করে যেমন আমাদের জানার পরিধিটা বাড়বে তেমনি তুলনা করাও সম্ভব হবে যে বিশ্ব প্রেক্ষাপটে নাটকে আমাদের অবস্থান কোথায় ? বলছিলেন এক সময়ের নাট্যকর্মী স্থপতি শামীম আমিনুর রহমান। তিনি আরো বলেন, এখন যেভাবে নানারকম প্রতিযোগিতা চলছে মঞ্চনাটকেরও এমন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যায়, তাতেও নাটকের মান কিছুটা বাড়তে পারে। তাছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যে নাট্যদলগুলো আছে তাদের নিয়েও নাট্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে পারে ফেডারেশন। এতে করে মঞ্চে যারা কাজ করে তাদের ভেতর একটা আগ্রহ তৈরী হবে।</p>
<p>একসময় একদল সাহসী তরুন স্বপ্ন দেখেছিলো বাংলাদেশে নিয়মিত নাট্যচর্চা হবে, দর্শনীর বিনিময়ে মানুষ মঞ্চনাটক দেখবে। নাট্যশিল্প বিকশিত হবে। সেই তরুনদের স্বপ্ন কিছুটা হলেও সফল হয়েছে কিন্তু সেই তরুনরা কি এটা ভেবেছিলো তাদের পরবর্তী প্রজন্ম কি করবে? কিভাবে এগোবে?</p>
<p>এই প্রতিবেদন শেষ করছি আলীম আল রাজীরই একটা দুঃখবোধ দিয়ে‘ আমাদের এখানে সবই সম্ভব কিন্তু হয় না একটা কারণে, সেটা হচ্ছে সমন্বয়ের অভাব। সবই আছে কিন্তু কোনো কিছুর সমন্বয় নেই। নেই আত্মসমালোচনা, নেই ভালোকে ভালো বলবার খারাপকে খারাপ বলবার মত উদার মানসিকতা। সমালোচনা আছে, নেই সহযোগিতার মনোভাব। সব কিছুকেই আগলে রাখতে চাই নিজের পকেটে, আমিই সেরা আর সব&#8230;।</p>
<p>এতসব আলোচনা থেকে এটাই বেরিয়ে এসেছে, মঞ্চনাটককে জনপ্রিয় করতে হলে যারা সত্যিকারেরই নাট্যপ্রেমিক তাদের এক প্লাটফরমে আসতে হবে, নাটকে পেশাদারিত্ব আনতে হবে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অবশ্যই দরকার, প্রাথমিক শিক্ষায় নাটককে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। তবেই হবে প্রত্যাশিত পথে আমাদের যাত্রা।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>ম ঞ্চ  হ চ্ছে  সু &#8211; না ট্যে র  সু তি কা গা র</p>
<p>আলী যাকের</p>
<p>&nbsp;</p>
<hr align="left" size="1" width="33%" />
<p>নাটকের প্রতি আমার ভালবাসা আর সৃজনশীল শিল্পকর্মের দ্বারা একটা অভিব্যক্তি খুঁজে পাবার জন্যই নাট্যচর্চার প্রতি আগ্রহ আমার।</p>
<p>আমি যে দর্শন নিয়ে মঞ্চনাটকে এসেছি তা অনেকটা পূরণ হয়েছে। তবে দুনিয়ার কোথাও কোনো শিল্পীর আশা সবটা পূরণ হয়না বলেই আমার ধারণা।</p>
<p>আমি মঞ্চনাটককে একটি সর্বব্যাপী, সৃজনশীল, নিয়মিত চর্চিত শিল্প মাধ্যম হিসেবে দেখতে চাই। আমাদের বর্তমান প্রযোজনা কাঁঠাল বাগান, নুরলদীনের সারাজীবন, রক্তকরবী। এগুলোর একটির বক্তব্যের সঙ্গে অন্যটির কোনো মিল নেই।</p>
<p>নিদের্শনায় আমি বিশেষ কোন কৌশল অবলম্বন করায় বিশ্বাসী নই। আমি সবসময় আশা করি, যে মঞ্চায়নের জন্য নির্বাচিত অভিনেতা অভিনেত্রীরা অভিনেয় ভূমিকার অন্তর্নিহিত সত্য আবিস্কার করে তাদের নিজস্ব মেধা অনুযায়ী চরিত্রটিকে তৈরী করবে। এ বিষয়ে আমি নিদের্শক হিসেবে তাদেরকে আমার ব্যাখ্যা বিশদভাবে যুক্তিসহযোগে বুঝিয়ে দিই। আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আমি আবিস্কার করেছি যে কুশীলবদের যুক্তি, প্রভিতা এবং ক্ষমতার উপরে নির্ভর করলে নাটকের প্রতি সুবিচার করা যেতে পারে।</p>
<p>আমাদের মঞ্চ নাটকে হলের সমস্যা সর্বব্যাপী এবং সর্বগ্রাহী। বর্তমানে শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে স্টুডিও থিয়েটার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ বিষয়ে কিছুটা লাভবান হয়েছি আমরা সবাই।</p>
<p>মঞ্চ হচ্ছে সু-নাট্যের সুতিকাগার। মঞ্চ থেকেই ভাল অভিনয় এবং নিদের্শনা ভালভাবে আয়ত্ব করা সম্ভ^ব। মঞ্চকে সম্পুর্ণভাবে না জেনে অন্যকোন মাধ্যমে  আগ্রহী হলে শিক্ষা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।</p>
<p>আমি নিশ্চিত যে বাংলাদেশে মঞ্চ নাটক আরো উন্নত হবে, আরো বেগবান হবে এবং আরো অর্থবহ হবে । আমাদের তরুণ নাট্যজনদের মধ্যে সেই লক্ষণ স্পষ্ট প্রতিভাত।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>দলগুলোর উপর অবজারভেশন রাখতে হবে</p>
<p>নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু</p>
<p>&nbsp;</p>
<hr align="left" size="1" width="33%" />
<p>দীর্ঘদিনের ঔপনিবেশিক শিল্পরীতি এবং সংস্কৃতির শাসনে থাকা বাংলা মঞ্চ মুক্ত হয়ে নিজের মত করে ভাবতে ভুলে গেছে। সে কারণে এটি দীর্ঘ চর্চার প্রয়োজন আছে। আমাদেরকে অনুসরণ করাটাও একধরণের ঔপনিবেশিক মানসিকতা। আমরা বার বার বলছি যে জাতীয় নাট্যআঙ্গীকগুলোর বিবেচনা এক একজন পরিচালক এক একভাবে করবেন।</p>
<p>কিন্তু আমাদের ঘরানার বাইরে যে থিয়েটার হচ্ছে সেটা তো পশ্চিমাজাত থিয়েটার। সেই পশ্চিমাজাতো, পশ্চিমের অনুপ্রীতির যে থিয়েটার সেটাতো সারা দেশে একইরকম হচ্ছে। শুধু অভিনয়ের তারতম্য ঘটছে, কারো অভিনয় ভালো, কারো খারাপ। যে দোষে আমাদের ঐতিহ্যবাহী নাট্যআঙ্গীকের ব্যবহারে ঢাকার দলগুলোকে দুষ্ট বলছেন, সেভাবেতো ঢাকায় যারা পশ্চিমাজাতো ভালো নাটক করছেন তাদের যারা অনুকরণ করছে, তাদের কথা বলছেন না। তারাও তো একই দোষে দুষ্ট। আসল কথা হচ্ছে, কোন আঙ্গীকে করল, সেটা বড় কথা না। বড় কথা হচ্ছে-  নাটকের শিল্প মান হারাচ্ছে কিনা। যদি শিল্প মান হারিয়ে থাকে তাহলে দুই ধারাতেই হারাচ্ছে। সেখানে এক ধারাকে দোষী করবেন কেন?</p>
<p>এটা চিন্তা, চেতনা ও মননশীলতার উপর নির্ভর করে। বলতে পারেন এটা দলীয় ব্যর্থতা। একটি সংগঠনকে সবার আগে তার দলীয় মান বৃদ্ধির জন্য চেষ্টা করতে হবে। বিভিন্ন কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে কর্মীদের উপযুক্ত করে তুলতে হবে। এজন্য তারা গ্র“প থিয়েটার ফেডারেশান-এর সহযোগিতা নিতে পারে। ফেডারেশান আছে কেন?</p>
<p>ঢাকার ভিতরও কিন্তু অত্যন্ত খারাপ খারাপ নাটক হচ্ছে, সেটা আমরা বলছি না, ঢাকার বাইরে কী হচ্ছে তা দেখি। ঢাকার বাইরে যেমন খারাপ হচ্ছে, তেমনি ভালোও হচ্ছে, আবার ঢাকার ভিতরও যেমন ভালো নাটক হচ্ছে তেমনি খারাপ নাটকও হচ্ছে। যে কারণেই আমি বলবো গ্র“প থিয়েটার ফেডারেশানের দায় ও দায়িত্ব অনেক বেশি। আমি মনে করি তারা তাদের দায়িত্বের প্রতি রীতিমত অমনোযোগী। আজকে চট্টগ্রামে তীর্যক-এর আহমেদ ইকবাল হায়দার একক চেষ্টায় কী একটা মিলনায়তন করে ফেলেছে না। সেখানে এখন নিয়মিত নাটক হচ্ছে। তীর্যক অত্যন্ত ভালো নাটক করে।</p>
<p>আমরা গ্রাম থিয়েটার থেকে আগামী ৬ মাসের মধ্যে মহিলা নাট্যকর্মী সম্মেলন, নির্দেশক কর্মশালা করবো। নাট্যকার করে ফেলেছি। এদের আবার প্রতি ৬ মাস পরপর ঢাকায় ডেকে এনে কার কতটা উন্নতি হয়েছে তা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে। কর্মশালা করিয়ে থেমে থাকা যাবে না। এ দলগুলোর উপর অবজারভেশন রাখতে হবে। ফেডারেশান চাইলে এটাই আরও ভালোভাবে করতে পারবে। তাদের তো নিজস্ব স্পন্সর সুবিধা আছে।</p>
<p>১৯৭৩ সালে আমরা ঢাকা থিয়েটার করলাম। এরপর তো আর থেমে থাকা নেই, সেলিম আর আমি একসাথে, ও লিখেছে, আমি নির্দেশনা দিয়েছি।</p>
<p>কেরামত মঙ্গল-এ আমি ছোট একটা চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম, কিন্তু অভিনয় আমাকে কখনো টানেনি। আমার মনে হয়েছে এ কাজ আমার নয়, আমার কাজ নির্দেশনা দেয়া। কারণ আমার মনে হয়েছে এ কাজটায় চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি, ডিজাইনিং-এর কাজটা অনেক গভীরভাবে করতে হয়। একটা প্রযোজনা কেমন করে দাঁড়াবে, তার রংটা কেমন হবে, চরিত্র, কস্টিউম, সেট- লাইট কেমন হবে? স্পীচটা কেমন হবে, কোরিওগ্রাফটা, সঙ্গীতটা কেমন হবে, এই সব কিছু মিলিয়ে এই যে ডিজাইনিংটা এটা আমাকে খুব টানে। এটা খুব জটিল একটা প্রক্রিয়া, চ্যালেঞ্জিং এবং খুব কষ্টদায়ক আবার একই সাথে আনন্দের একটা কাজ বলেই আমার মনে হয়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এ খ ন  ক মি ট মে ন্টে র  খু ব ই  অ ভা ব</p>
<p>মামুনুর রশীদ</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>মঞ্চনাটক করতে কেন এলেন? এ প্রশ্নের উত্তর অনেকবার দিয়েছি, প্রচণ্ড একটা ভাললাগা, একটা কমিটমেন্ট থেকে আমি মঞ্চনাটক করতে এসেছি। আমার কমিটমেন্ট ছিল প্রথেম শিল্পের প্রতি, যে শিল্প সম্মত নাটক করবো, মানুষের জন্য কাজ করবো। এই দু’টি কমিটমেন্ট থেকেই এ পর্যন্ত নাটক হয়েছে।</p>
<p>এক অর্থে সফল হয়েছি অনেক, একটা হচ্ছে, পাকিস্তান আমলেতো নিয়মিত নাট্যচর্চা ছিল না, ১৯৭২ সাল থেকে এই ২০০৯ এ এসে নানাদিকে প্রসারিত হয়েছে নাটকের কাজ। সুতরাং সফলতা বিশাল। আজকে বিশ্বব্যাপী বাংলা নাটকের পদচারণা।</p>
<p>এখন কমিটমেন্টের খুবই অভাব। এর  জন্য আমরাই দায়ী। রাজনীতি দায়ী। ষাটের দশকে আমাদের ছিল মাও সেতুং, চে গুয়েভারা। সোভিয়েত ইউনিয়ন তখন জীবন্ত। এক ধরনের আদর্শিক লক্ষ আমাদের সামনে ছিল তখন। মুক্তিযুদ্ধ সবে শেষ হয়েছে। আমাদের সামনে মডেল ছিল। তাদের দেখে আমরা এগিয়েছি, এখনো এগুচ্ছি। এখন তো কোন মডেল নেই, কোন লক্ষ আমরা তো তৈরি করতে পারিনি। কমিটমেন্ট চেতনারই রং বহন করে। কিন্তু এখন তা ফিকে হয়ে গেছে।</p>
<p>গ্র“প থিয়েটার ফেডারেশান এর কাছে প্রত্যাশা করবো তারা যেন বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় যে নতুন মঞ্চ নির্মাণের কাজ চলছে, সেগুলোর যেন নির্মাণ ত্র“টি না থাকে। নিজেরাই যেন ত্র“টি ধরিয়ে দিয়ে একটি উপযুক্ত মঞ্চ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। যে সব মঞ্চ সংস্কারের প্রয়োজন তা যেন অচিরেই সংস্কার করে ফেলেন। আর বাংলাদেশের নাট্যচর্চাকে বেগবান করার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, এখন একটি সংস্কৃতিমনা সরকার (যদিও সংস্কৃতিখাতেই বাজেট কমিয়ে দিয়েছেন তারা) তাদের থেকে অনুদান নিয়ে দেয়া। যদিও চলমান রাজনীতিতে এটা দূরহ কাজ তবে একটু আশাও আছে- আমাদের সাংসদের এখন ৮০ ভাগই যে ব্যবসায়ী।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>দর্শক যেন নাটকটা দেখে বিষয়টা বোঝেন</p>
<p>সারা যাকের</p>
<p>মঞ্চনাটক নিয়মিত মাধ্যম হিসেবে থাকবে। এখানে সব ধরনের কাজ হবে। ট্রেডিশনাল এবং এক্সপেরিমেন্টাল। তবে মঞ্চে আমরা যাই করি তা যেন, মানুষকে স্পর্শ করে। দর্শক যেন নাটকটা দেখে বিষয়টা বোঝে। তা না হলে ভালো নাটক হবে না।</p>
<p>বাংলাদেশ গ্র“প থিয়েটার ফেডারেশানের ভূমিকা হওয়া উচিত দেশের সব নাট্যদলের জন্য সুস্পস্ট কার্যক্রম হাতে নেয়া। নাট্যকর্মীদের জন্য মঞ্চনাটক করার প্রক্রিয়াকে সহজতর করে তোলা। সরকারের সাথে এই বিষয়ে দেন দরবার করা।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আমার উপর অভিনেতাদের অভিনয়শৈলী নির্ভর করছে</p>
<p>নাসিরুল হক খোকন</p>
<p>বর্তমান সময়ের মঞ্চনাটক মানেই আলো আর অভিনয় একই সুতোয় গাঁথা। নাটকের নির্দেশনাও এখন নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে আলোক নির্দেশকের সাথে সমন্বয় করে। আধুনিক রক্তকরবী, প্রাচ্য, রাঢ়াঙ এসব নাটকের প্রকাশভঙ্গী, আবেগ, অনুভুতি এবং নিখূঁত আবহচিত্র ফুটিয়ে তুলতে আলোর ব্যবহার এতোটাই দর্শক প্রশংসিত হয়েছে যে, আলোক নির্দেশকের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে উপলব্ধি করতে শিখেছে মফস্বলের ছোট্ট থিয়েটার দলটিও। শুধু অভিনয় নয়, মঞ্চের পিছনে কাজ করেও যে অভিনেতার চেয়ে বেশি সম্মান অর্জন করা যায় এ ভাবনা এখনকার তরুণদের মঞ্চের পিছনে কাজের জন্য উৎসাহিত করে তুলছে।</p>
<p>আমি আসলে সরাসরি আলোক নির্দেশনায় আসিনি, প্রথম এসেছিলাম মঞ্চে কাজ করার জন্য। ১৯৮৬-৮৭ এর দিকে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত হলাম। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন তখন সবে দানা বেঁধে উঠছে, এমন একটা সময় আমি নাটকে এলাম। নাটকে এসে প্রথমদিকে অভিনয়ের জন্যই কাজ করছিলাম। সবাই তাই করছিল। তখন একটা কর্মশালা শুরু হল। এ কর্মশালার কর্মীদের দিয়ে যে নাটক তৈরি হবে, সে নাটকের মেকআপ, লাইট, কস্টিউম সব নিজেদেরই করতে হবে। দেখা গেল সবাই অভিনয় করতে চায়, কেউই পিছনের কাজগুলো করতে চায় না। বিশেষ করে লাইটিং-এ কাউকেই পাওয়া গেল না। তখন একটা পর্যায়ে আমি বললাম যে, আমি লাইটের কাজটা করবো। এই লাইটের কাজটা করতে গিয়ে, আমার মনে হল, বাঃ এটা তো বেশ কষ্টসাধ্য এবং বেশ মজাদার একটি কাজ। আমার উপর অভিনেতাদের অভিনয় শৈলী নির্ভর করছে। সবচেয়ে বড় কথা এ মাধ্যমটি এতোটা শক্তিশালী যে এর মাধ্যমে আমি আমার ভাবনাকে পৃথকভাবে উপস্থাপন করতে পারছি। এখন যেমন বাইরের কোন নাট্য দলের নাটকে লাইটের ডিজাইন করতে গেলে আমি শেষের দিকে যাই। গিয়ে কাজটা করে দিয়ে আসি। তখন এটা পারতাম না। তবে নিজের দলের লাইটিংটা আমি এখনও প্রথম থেকেই নাটকটির পর্যবেক্ষণে থাকি। কারণ একটা নাটকের গভীরে যেতে হলে নাটকটির পিছনে সময় দিতে হয়, নিজেকে নাটকটির প্রতিটি চরিত্রের গভীরে নিয়ে যেতে হয়। সেটা সম্ভব হয় না বলেই আমরা সফল হতে পারি না। আমার ক্ষেত্রে নিজের দলে এটা সম্ভব হয়, কিন্তু বাইরের দলে সময়টা পুরো দিতে পারি না। এখন যারা আমার অনুজ, লাইটের ডিজাইন করছে, তাদের প্রতি একটা বিষয় বলব যে, যে নাটকটির ডিজাইন করবো, প্রতিদিন সেই নাটকটির রিহার্সেল দেখতে পারলে, প্রতিদিনই কিছু না কিছু নতুন চিন্তার খোরাক তৈরি হবে, কিছু নতুন মাত্রা যোগ হবে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>তৌফিক হাসান ময়না</p>
<p>বগুড়া থিয়েটার</p>
<p>ময়না বলেন- আমার অন্যতম ইচ্ছে হচ্ছে গ্রাম থিয়েটারকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিষ্ঠিত রূপে গড়ে তোলা। নাট্যপূরোধা সেলিম আল দীনের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে চাই। নাটককে নিয়ে যেতে হবে গ্রামের মানুষের কাছাকাছি। তৃণমূল পর্যায়ে নাটককে নিয়ে গেলে তবেই নাটক হবে স্বয়ং সম্পূর্ণ।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আহমেদ ইকবাল হায়দার</p>
<p>দলীয় প্রধান, তীর্যক নাট্যদল, চট্টগ্রাম</p>
<p>প্রতিনিয়ত ভেতরে ভেতরে তৈরী হওয়া নিজের ভাবনাগুলো প্রকাশের জন্যতো একটি মাধ্যম চাই। মনে হয়েছিল এ মাধ্যমেই আমি সচ্ছন্দে কিছু প্রকাশ করতে পারি। আরেকটি ব্যাপার ছিল তা হোল Ñ সকল শিল্প মাধ্যমের সমন্বিত রূপ হল অভিনয়। সুতরাং এর ভিতর দিয়ে আরো অনেক নতুন জগতে প্রবেশাধিকার, সেতো মঞ্চেই সম্ভব।</p>
<p>যেভাবে যেটুকু করতে চাই সবটা কি পারছি? তাই বলে নিজেকে ব্যর্থ ভাবি না। আবার আত্মতুষ্টিতে মজে থাকার মানুষও আমি নই। আরো ভালো করে ভালো কিছু করে যেতে চাই। সবসময়।</p>
<p>অনেক বেশি দর্শক নাটক দেখছেন, পৃষ্ঠপোষকতা করছেন সমাজের সকল স্তরের মানুষ, সত্যিকারের অভিনেতা আর কলাকুশলীতে সমৃদ্ধ হচ্ছে নাট্যাঙ্গন, এ রকম স্বপ্নই দেখি। কিন্তু বাস্তবতা কি এর বিপরীত নয়?</p>
<p>গত কয়েক বছর ধরেই পুরোনো কয়েকটি প্রযোজনার নিয়মিত প্রদর্শনী চলছে। রবীন্দ্রনাথের রক্তকরবী, বিসর্জন, রথযাত্রা এবং নজরুলের মধুমালা।</p>
<p>সমগ্র দেশের নাট্যদলগুলোর কর্মকাণ্ডে গ্র“প থিয়েটার ফেডারেশনের প্রতক্ষ্য ভূমিকা আরো কার্যকরী হওয়া খুব জরুরি বলে মনে করি। আশাকরি ফেডারেশনের নতুন কার্যকরী পরিষদ অবশ্যই নতুন করে এ সব নিয়ে ভাববেন। সেই সঙ্গে দরকার সরকারী, বেসরকারী, বহুজাতিক সংস্থা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা পাবার ক্ষেত্রে তাঁদের সঙ্গে ফেডারেশনের কার্যকর যোগাযোগ। কারণ অর্থাভাবে অনেক দলের নাট্য প্রযোজনা কিংবা এই সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে যাচ্ছে।</p>
<p>দর্শক কমছে না বাড়ছে এটা বলা মুশকিল। কারণ এক হিসাবে বাড়ছে। কারণ নাটকের দল এখন অনেক বেড়েছে। দর্শক ভাগ হয়ে গেছে। আগে মহিলা সমিতিতে ২৫০ আসনে নাটক দেখতো, এখন ৭০০ আসনের মঞ্চে এসে তারা নাটক দেখছেন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>অধ্যাপক নিখিল সেন</p>
<p>প্রতিষ্ঠাতা, বরিশাল থিয়েটার</p>
<p>এখানে বরিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এখন একটা ঝিমানো সাদা ভাব চলছে। একমাত্র নাট্যাঙ্গনে তাও শুধুমাত্র শব্দাবলী গ্র“প থিয়েটার নিয়মিত প্রদর্শনী করছে ওদের স্টুডিও থিয়েটারের প্রতি সপ্তাহে প্রদর্শনী হচ্ছে এটা অসাধ্য কাজ ওরা করছে। প্রতি শুক্রবার একটা নাটক করা সহজ ব্যাপার না। এজন্য সৈয়দ দুলাল কে আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। নতুন নতুন নাটক সে দেখাচ্ছে, উন্নত স্ক্রিপ্ট নিয়ে নিয়মিত এক্সপেরিমেন্ট করছে। বলা যায় নাট্যদলটাকেই শুধু নয় এটা পুরো সংশিষ্ট সাংস্কৃতিক অঙ্গনটাকেই ওরা চাঙ্গা করে রেখেছে। তবে দুঃখ যে, বরিশালের একমাত্র মঞ্চটি বহুদিন হরো মেরামতের নামে অকেজো হয়ে আছে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>মিন্টু বসু</p>
<p>পরিচালক, খেয়ালী গ্র“প থিয়েটার, বরিশাল</p>
<p>বরিশালে মঞ্চনাটক বলতে এখন দুটি সংগঠনের মধ্যেই সীমিত। একটা শব্দাবলী, যারা নিয়মিত নাটক করছে। অন্যটি খেয়ালী, নিয়মিত না হলেও মাসে একটি প্রদর্শনী করছে। উদীচী বা বরিশাল থিযেটার মাঝেমধ্যে এসে আমাদের একটি নিজস্ব ১৫০ আসনের মঞ্চ আছে, এখানে নাটক করছে। এখানে তো মঞ্চনাটক যেটা সেটা করা যাবে না। বরিশালের একমাত্র মঞ্চটিতো অকেজো হয়ে পড়ে আছে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>শাহাদাত হোসেন খান হীলু</p>
<p>বহুরূপী থিয়েটার, ময়মনসিংহ</p>
<p>নাটক একটি চলমান প্রক্রিয়া, যদিও জেলা শহরে নাটক মঞ্চায়ন করা কোন কোন সময় খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায় নানাবিধ কারনে তবুও আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি একদিন এর সফলতা আসবেই এই প্রত্যাশায়।</p>
<p>আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো নাটককে বিনোদনের একটি অংশ হিসাবেই দেখতে অভ্যস্ত। মঞ্চনাটকের রীতিনীতি নিয়ে অনেক পরিক্ষা নিরিক্ষা হয়েছে এবং চলছে অনেক ক্ষেত্রে সফল হয়েছে। বাংলাদেশের পটভূমিকায় আমাদের মঞ্চনাটককে আরও এগিয়ে নিতে হবে- নাট্যদলগুলোকে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে প্রতিটি জেলাতে নাটকের জন্য আধূনিক মঞ্চ তৈরী করতে হবে এবং সেই সাথে নাটক মঞ্চায়নের জন্য সকল প্রকার বাধা দুর করতে হবে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>ইদানিংকার যে নাটক, তা মূলত কোরিওগ্রাফ ও সংগীত নির্ভর হয়ে মূল নাটক থেকে সরে গেছে। সাধারণ দর্শকদের জন্য এখন আর মঞ্চনাটক তৈরি হচ্ছে না। ঢাকা থিয়েটার বা নাগরিক বা এই শব্দাবলীরই কিছু নাটক আছে যা সাধারণ দর্শকের জন্য না। তবে কী নাটক দেখতে হলে নাটক নিয়ে পড়াশুনা করে তবেই নাটক দেখবে? এটা আমার একটা প্রশ্ন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আফজাল হোসেন</p>
<p>সাধারণ সম্পাদক , নাট্যলোক, সিলেট</p>
<p>সিলেটের বর্তমান যে নাটকের অবস্থা তা হচ্ছে ২/৩টা শো করার পরে আর দর্শক খুঁজে পাওয়া যায় না। যে কারণে একটি নাটকের অনেকগুলো প্রদর্শনী এখানে সম্ভব নয়। অথচ একটা নাটক তৈরি করতে যে খরচ, এ টাকাতো উঠে আসে না। আমাদের এখানে যে মঞ্চটি আছে, সেটি দর্শকঅনুপাতে অনেক বড়। আবার ভাড়াও বেশি। আমাদের যে দর্শক তাতে এখানে প্রয়োজন একটি স্টুডিও থিয়েটার। এখানে মোট ৬টি নাট্য সংগঠন আছে যারা বাংলাদেশ গ্র“প থিয়েটারের ফেডারেশানের সদস্য। তারা প্রত্যেকে তখন নিয়মিত নাটকের প্রদর্শনী করতে পারবে। সরকারী বা বেসরকারী উদ্যোগে সিলেটে যদি একটা স্টুডিও থিয়েটার নির্মাণ করা হয় তাহলে আমাদের নাট্যাঙ্গন অনেক সমৃদ্ধ হত।</p>
<p>ফয়জুল ইসলাম মানিক</p>
<p>সভাপতি ও  নাট্যকার, ফেঞ্চুগঞ্জ যুব নাট্য সংঘ, সিলেট</p>
<p>আমাদের এখানে শিল্প সাহিত্যচর্চার পুরোটাই সারকারখানা কেন্দ্রিক। সাধারণের জীবীকাও এই কারখানাকে ঘিরে। দীর্ঘদিন ধরে সারকারখানা এলাকায় শিল্পের চর্চা বন্ধ হয়ে আছে। যে কারণে এখানের নাটকের অবস্থাও ভালো নয়। পথনাটকের চর্চা ছাড়া এখানে আর কোনো নাট্যচর্চা নেই। তাও বিভিন্ন দিবসকে কেন্দ্র করে।  আনন্দ পেয়েছি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আধুনিক নাটক কিছু আমার মাথায় ঢোকেনি। কিছুদিন আগে বগুড়া থিয়েটারের নুরলদীনের সারাজীবন দেখলাম, এটা ভালো লেগেছে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>কামার উল্লাহ সরকার কামাল</p>
<p>সভাপতি, রাজশাহী থিয়েটার</p>
<p>স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্যকর্মীরা মঞ্চে যে কমিটমেন্ট নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন রাজশাহীর ক্ষেত্রে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠনগুলো ছাড়া আর নগরীতে ২/১ টি সংগঠন বাদে তেমন চেতনা সমৃদ্ধ দল নেই বললেই চলে। ফলে সংঘবদ্ধ নাট্যান্দোলন দানা বেঁধে উঠছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রটি শহরের ঠিক বিপরীত। বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যচর্চার সমপর্যায়ে আসে না। এখানে প্রায় ১০/১২টি থিয়েটার সংগঠন নিয়মিত কাজ করে চলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠনগুলো রাজশাহীর দলগুলোকে চাঙা করতে বরাবরই কর্মশালা, নাট্যপ্রদর্শনী ও বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে আসছে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>পার্থ প্রতীম সেন</p>
<p>প্রধান সমন্বয়কারী, পথিকজন হবিগঞ্জ</p>
<p>বিশ্বদর্শনে একীভূত হবার ভাবনা থেকেই মঞ্চ নাটকে আসা। ভাবনা কতটা সফল সেটা বলার সময় এখনও আসেনি। সম্ভাবনা অপরিসীম বলা যায়।</p>
<p>গ্র“প থিয়েটার ফেডারেশান  বা গ্রাম থিয়েটারে’র অর্জন কোন অবস্থাতেই খাটো করে দেখার জো নেই। যে, একটা স্বতপ্রণোদিত  এবং স্বেচ্ছাশ্রম এবং নিজের পকেটের টাকার আদর্শ ব্যবস্থায় সারা দেশে যে বি¯তৃতি ঘটেছে এর মাধ্যমে আমাদের সাহসী কন্ঠে দৃপ্ত উচ্চারণ আমরা শখের দল হলেও পেশাদার মনোভাব নিয়ে থিয়েটার করি। এই অর্জনটা দরিদ্রদেশের দরিদ্র থিয়েটারকর্মী হিসেবে প্রেরনা দেয়। কিন্তু এই প্রেরনা কতটুক সময় পর্যন্ত  ঠিকে থাকবে। একটি সুস্থ এবং আগামী সুন্দরের প্রত্যাশায় গ্র“প থিয়েটারের সৃষ্টি। এটি অনস্বীকার্য যে  সময়ের সাথে সাথে অভ্যাস রুচি চিন্তা চেতনার পরিবর্তন ঘটে। চিন্তা চেতনা এবং আগামীর প্রয়োজনে সঠিক রূপরেখা প্রনয়ন দরকার। নতুন করে ভাবতে হবে কয়েকটা দাবী’র মধ্যেই সীমারেখা টানলে হবে</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>রাজ্জাক মুরাদ</p>
<p>সাধারাণ সম্পাদক , রংপুর নাট্যকেন্দ্র</p>
<p>মানুষ হয়ে যখন জন্ম নিয়েছি তখন সমাজের প্রতি আমার একটা দায়বদ্ধতা আছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকে আমি নাটক করি। অন্য যে কোন মাধ্যমের চেয়ে মঞ্চকেই আমি নাটকের জন্য শ্রেয় বলে মনে করি। তাই মঞ্চনাটক করি।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://shahittabazar.com/%e0%a6%ae%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a6%95-%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%a5%e0%a7%87/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
