আহা এ বসন্তে : আঁড়ে আঁড়ে বারে বারে

সদানন্দ সরকার

22

ছবি ও লেখাটি বাংলাদেশ প্রতিদিনের থেকে গৃহিত ও সম্পাদিত ।

‘তার কথা মনে পড়ে/আঁড়ে আঁড়ে বারে বারে/যত ভুলিবারে চাই তত মনে জ্বালা ধরে।’ কবির এই পঙতি কেন কার জন্য জানা না তাকলেও এ যে বসন্তেরই আগমন বার্তা বহন করে তা নিশ্চিত বলা যায়। ফুল ফুটুক আর না ফুটুক, বসন্ত এসেছে, আসবে প্রতিবছর এমনি সময়। ফাল্গুনের হাওয়া দোল লেগেছে প্রকৃতিতে। নতুনরূপে সেজেছে ঋতুরাজ। দখিনা হাওয়া, মৌমাছিদের গুঞ্জণ, কচি-কিশলয় আর কোকিলের কুহুতানে জেগে ওঠার দিন এই বসন্তবেলায়।

‘আহা আজি এ বসন্তে এত ফুল ফোটে, এত বাঁশি বাজে, এত পাখি গায়’। লাল আর বাসন্তী রঙে প্রকৃতির সঙ্গে নিজেদের সাজিয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি পহেলা ফাগুন বৃহস্পতিবার বসন্তের উচ্ছলতা ও উন্মাদনায় ভাসলো বাঙালি। বাসন্তি কিম্বা গাঁদা ফুলের রংকেই এদিনে তাদের পোশাকে ধারণ করে তরুণ-তরুণীরা। বেশিরভাগ খোঁপায় শোভা পায় গাঁদা ফুলের মালা। বসন্তের আনন্দযুজ্ঞ থেকে বাদ যায় না গ্রামীণ জীবনও। বসন্তকে তারা আরও নিবিড়ভাবে বরণ করে শর্ষে ফুলের ঘ্রাণে, শর্ষে রং মেখে।

বসন্তের বন্দনা আছে কবিতা, গান, নৃত্য আর চিত্রকলায়। সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শনেও বসন্ত ঠাঁই করে নিয়েছে তার আপন মহিমায়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে আধুনিককালের বাউল-কবির মনকেও বার বার দুলিয়েছে ঋতুরাজ বসন্ত। বাংলা পঞ্জিকা বর্ষের শেষ ঋতু বসন্তের প্রথম দিনকে বাঙালি পালন করে ‘পহেলা ফাল্গুন-বসন্ত উৎসব’ হিসেবে। বাঙালির নিজস্ব সার্বজনীন প্রাণের উৎসবে এ উৎসব এখন গোটা বাঙালির কাছে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ প্রতিবছরের মতো এবারও বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছে। দিনভর চলবে তরুণ-তরুণীদের বসন্ত বরণের উচ্ছ্বাস।

বসন্তের নাচ, গান ও কবিতার পাশাপাশি প্রতিবাদী নাচ, গান ও আবৃত্তিরও আয়োজন করেছে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ। সকাল ৭টায় চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় শিল্পী আকরাম হোসেনের ‘এস রাজ’-এর সুর মূর্ছনা দিয়ে শুরু হবে বসন্ত আবাহনের দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথম ভাগের কর্মসূচি। এরপর ছিল বসন্ত শোভাযাত্রা, আবীর ও ফুলের প্রীতি বন্ধনীর পাশাপাশি থাকবে নাচ ও গানের আয়োজন। বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত একযোগে এ অনুষ্ঠান চলে চারুকলা অনুষদের বকুলতলা, পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক, লক্ষ্মীবাজার এবং ধানমন্ডি ৮ নম্বর রোড সংলগ্ন রবীন্দ্রসরোবর উন্মুক্ত মঞ্চে।

পুরান ঢাকায় বসন্তের দোলা পৌঁছে দেওয়ার জন্য দ্বিতীয় বারের মতো বাহাদুর শাহ পার্কে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

উৎসবে শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা আদিবাসী পরিবেশনা, বসন্ত কথন পর্ব, রংতুলিতে বসন্ত, একক ও দলীয় সংগীত, একক ও দলীয় আবৃত্তি, নৃত্যনাট্য প্রভৃতি পরিবেশিত হয়। প্রতিবারের মতো এবারও বকুলতলায় সকালের অনুষ্ঠানটি চ্যানেল আই, রবীন্দ্র সরোবরের বিকালের অনুষ্ঠানটি এনটিভি এবং বাহাদুর শাহ পার্কের অনুষ্ঠানটি ৭১-টিভি সরাসরি সম্প্রচার করে। পহেলা ফাল্গুন ও বসন্ত উৎসব উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে সন্ধ্যা ৬টায় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

Print Friendly