প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াত কবুল মানেই সরকারের বৈধতা ?

আরিফ আহমেদ

Sharing is caring!

index

হায় বাংলাদেশ

অবশেষে কথা হল দুই নেত্রীর। বহুদিন, বহুবছর পর তারা টেলিফোনে একে অপরের সাথে কথা বললেন। এটা খুবই আশার কথা। সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে তাদের এ কথপকোথন সারাদেশের মানুষ জানতে পারল। প্রধানমন্ত্রী ২৮ াক্টোবর সোমবার রাতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে দলীয় নেতাদের নিয়ে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানালেন গণভবনে । এর আগে দুপুর পৌনে একটা থেকে পৌনে দুইটা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলীয় নেত্রীর লালফোনে কল করে তাকে পাননি বলে জানিয়েছেন তার পিএস আবুল কালাম আজাদ।
দুইনেত্রীর এই ফোনালাপের অপেক্ষায় ছিল গোটা জাতি। তাদের মধ্যে কথা হবে, হরতাল তুলে নেয়া হবে, বন্ধ হবে সব ধরনের সহিংশতা এটাই ছিল সকলের প্রত্যাশা। কিন্তু জনগণের প্রত্যাশাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দুইনেত্রী খেলছেন অপ-রাজনীতির খেলা। একজন ফোন করলেন, কিন্তু আলোচনার মূল বিষয়ের ধারেকাছে গেলেন না। তিনি ২৮ অক্টোবর বিরোধী নেতাকে দাওয়াত করলেন গণভবনে। তিনি জানেন, যদি এ দাওয়াত বিরোধী নেতা গ্রহণ করেন ও গণভবনে আসেন, তাহলে তার প্রদানমন্ত্রীত্ব বৈধ হয়ে যাবে। ২৭ অক্টোবরের পর সংসদ ভেঙ্গে দেয়া নিয়ে বিএনপি আর কোনো কথা বলতে পারবে না। কারণ গণভবনে আসা মানেই প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াতে আসা। যে প্রধানমন্ত্রীকে শুক্রবার বিকেলে ২৭ অক্টোবরের পর অবৈধ বলেছেন বেগম জিয়া।
অন্যদিকে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার ভাষণে স্পষ্ট বলেছেন – ‘আজ (শুক্রবার) ও আগামীকার শনিবারের মধ্যে আলোচনার উদ্যোগ না নিলে রবিবার ২৭ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রাথমিক কর্মসূচি হিসেবে হরতাল ঘোষণা করা হল।’
বিরোধীনেত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তার আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন। হাঃ প্রধানমন্ত্রী এখানেও কৌশল করেছেন। তা হলেও এতটা বছরের পরে আপনাদের মধ্যে যে বাক্যালাপ হয়েছে। শুধু এই জন্যই কি আপনি হরতাল তুলে না দিন, সিথিলতো করতে পারেন? শনিবার বিকেল থেকেই দেশজুড়ে যে অশান্তি মুরু হয়েছে, জ্বালাও পোড়াও, বোমাবাজী এসব কি আপনাদের দেশপ্রেম?তাহলে কেন এতো নাটক? আগেই বলে দিতেন যে শনিবার থেকেই হরতাল…।
আপনাদের মুখেই শুনেছি – ‘জনগণ নাকি সকল ক্ষমতার উৎস’। সংবিধানের শুরুতেই এ কথা নাকি লেখা আছে। থাকলেও কোনোদিন জনগণ সে ক্ষমতা চোখে দেখলোনা, কানেও শুনলো না। অন্তত এই দেশের রাজনৈতিক নেতারা তা কখনো জনগণকে ভোগ করতে দেন নাই। সবাই বলছেন জনগণ চায়, জনগনের ইচ্ছে… ইত্যাদি। আসলে জনগণ কি চায়, মাঠে নেমে পায়ে হেটে মাইলের পর মাইল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মত কখনো কি গরীব রিক্সচালকের বা শ্রমিকের ঘরে উঁকি দিয়ে দেখেছেন?
ছলচাতুরী করে মানুষকে আর কত বোকা বানাবেন আপনারা? কসম সৃষ্টিকর্তার, বিশ্বষ করুন এ দেশের মানুষ এখন আপনাদের হাত থেকে মুক্তি চায়। আপনারা যদি আলোচনায় না বসে এভাবে ছল করতে থাকেন, তাহলে জাতি আপনাদের দুজনকেই বয়কট করবে এটা নিশ্চিন্ত জেনে রাখুন। ইতোমধ্যেই সারাদেশে আপনাদের প্রতি অনাস্থার পরিমাণ বেড়েছে। হয় আপনাদের মধ্যে একতা, বন্ধুত্ব ও সহনশীলতা দেখতে চায় দেশবাসী, তা না হলে দুজনকেই দলীয় প্রধান থেকে পদত্যাগ করে রাজনীতি থেকে অবসর নিতে আহ্বান জানাবে এবার বাংলাদেশের মানুষ।
হরতাল, মৃত্যু আর হানাহানি আমরা চাইনা। কোনো রকম সংলাপ নামের নাটকও আমরা আর দেখতে রাজী নই। এবার হয় এসপার নয়তো ওসপার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী বিষয়টা ভালোভাবে বুঝে তবেই সংলাপে বসুন ও আমাদের শান্তি দিন।

Print Friendly, PDF & Email

Sharing is caring!

About the author

ডিসেম্বর ৭১! কৃত্তনখোলার জলে সাঁতার কেটে বেড়ে ওঠা জীবন। ইছামতির তীরঘেষা ভালবাসা ছুঁয়ে যায় গঙ্গার আহ্বানে। সেই টানে কলকাতার বিরাটিতে তিনটি বছর। এদিকে পিতা প্রয়াত আলাউদ্দিন আহমেদ-এর উৎকণ্ঠা আর মা জিন্নাত আরা বেগম-এর চোখের জল, গঙ্গার সম্মোহনী কাটিয়ে তাই ফিরে আসা ঘরে। কিন্তু কৈশরী প্রেম আবার তাড়া করে, তের বছর বয়সে তের বার হারিয়ে যাওয়ার রেকর্ডে যেন বিদ্রোহী কবি নজরুলের অনুসরণ। জীবনানন্দ আর সুকান্তে প্রভাবিত যৌবন আটকে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পদার্পন মাত্রই। এখানে আধুনিক হবার চেষ্টায় বড় তারাতারি বদলে যায় জীবন। প্রতিবাদে দেবী আর নিগার নামের দুটি কাব্য সংকলন প্রশ্ন তোলে বিবেকবানের মনে। তার কবিতায়, উচ্চারণ শুদ্ধতা আর কবিত্বের আধুনিকায়নের দাবী তুলে তুলে নেন দীক্ষার ভার প্রয়াত নরেণ বিশ্বাস স্যার। স্যারের পরামর্শে প্রথম আলাপ কবি আসাদ চৌধুরী, মুহাম্মদ নুরুল হুদা এবং তৎকালিন ভাষাতত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজীব হুমায়ুন ডেকে পাঠান তাকে। অভিনেতা রাজনীতিবিদ আসাদুজ্জামান নূর, সাংকৃতজন আলী যাকের আর সারা যাকের-এর উৎসাহ উদ্দিপনায় শুরু হয় নতুন পথ চলা। ঢাকা সুবচন, থিয়েটার ইউনিট হয়ে মাযহারুল হক পিন্টুর সাথে নাট্যাভিনয় ইউনিভার্সেল থিয়েটারে। শংকর শাওজাল হাত ধরে শিখান মঞ্চনাটবের রিপোটিংটা। তারই সূত্র ধরে তৈরি হয় দৈনিক ভোরের কাগজের প্রথম মঞ্চপাতা। একইসমেয় দর্শন চাষা সরদার ফজলুল করিম- হাত ধরে নিযে চলেন জীবনদত্তের পাঠশালায়। বলেন- মানুষ হও দাদু ভাই, প্রকৃত মানুষ। সরদার ফজলুল করিমের এ উক্তি ছুঁয়ে যায় হৃদয়। সত্যিকারের মানুষ হবার চেষ্টায় তাই জাতীয় দৈনিক রুপালী, বাংলার বাণী, জনকণ্ঠ, ইত্তেফাক, মুক্তকণ্ঠের প্রদায়ক হয়ে এবং অবশেষে ভোরেরকাগজের প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়ান ৬৫টি জেলায়। ছুটে বেড়ান গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। ২০০২ সালে প্রথম চ্যানেল আই-্র সংবাদ বিভাগে স্থির হন বটে, তবে অস্থির চিত্ত এরপর ঘনবদল বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, আমাদের সময়, মানবজমিন ও দৈনিক যায়যায়দিন হয়ে এখন আবার বেকার। প্রথম আলো ও চ্যানেল আই আর অভিনেত্রী, নির্দেশক সারা যাকের এর প্রশ্রয়ে ও স্নেহ ছায়ায় আজও বিচরণ তার। একইসাথে চলছে সাহিত্য বাজার নামের পত্রিকা সম্পাদনার কাজ।