সরকারি হরতালে অবরুদ্ধ ঢাকা : জেগে উঠুন সুশীল সমাজ

আরিফ আহমেদ

Khaleda-1

বাসভবনেই বেগম জিয়ার গাড়ি আটকে দিল পুলিশ।

বিরোধী দল বিএনপি ও ১৮ দলীয় জোটের অবরোধ হরতাল শেষে তারা যখন শান্তির পথে গণতন্ত্রের অভিযাত্রা নামের সমাবেশের ডাক দিল ঠিক তখনই সরকারের অঘোষিত হরতাল অবরোধে অবরুদ্ধ হল ঢাকাবাসী। সারাদেশের সাথে সব ধরনের পরিবহন যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়ে স্বেচ্ছায় ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করে দিল সরকার নিজেই। শুধু তাই নয় জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি সমর্থিত সাংবাদিকদের সমাবেশে বিনা উস্কানীতেই হামলা চালালো আওযামী লীগ কর্মীরা। যা দেখে আরেক সাংবাদিক নেতা  ও প্রধানমন্ত্র িশেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা বললেন, জাতীয় প্রেসক্লাব কোনো রাজনৈতিক সমর্থনপুষ্টদের সমাবেশ করার জায়গা না।

একইসময় আমরা বিভিন্ন টেলিবভশন চ্যানেলের মাধ্যমে দেখতে পেলাম সুপ্রিমকোর্টের দৃশ্য। সেখানে নয়াপল্টনের সমাবেশে যেতে আগ্রহী আইনজীবীদের গেট আটকে রেখে বাধা দিচ্ছিল পুলিশ। অথচ যেই আওয়ামী লীগের মিশিল এল ওমনি গেট খুলে দিলেন তারা যাতে আন্দোলনরত আইনজীবীদের উপর হামলা করতে পারে আওয়ামী সমর্থকরা।

44

সুপ্রিমকোর্টে আইনজীবীদের সমাবেশে জলকামান ব্যবহার।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্রের অভিযাত্রাকে কেন্দ্র করে তা প্রতিহত করতে সরকার ও আওয়ামী লীগসহ মহাজোট দেশ জুড়ে যে পরিস্থিতি ও তাণ্ডব সৃষ্টি করেছে তা থেকে এটা নিশ্চিত বলা যায় যে এতোদিন বিরোধীদলের ঘাড়ে যে সব ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের দোষ চাপানো হয়েছে তা আসলে তাদেরই সৃষ্টি ছিল। তাদের আজকের এই কর্মকাণ্ডে ভোগান্তির চরম পরিণতির শিকার দেশের সাধারণ মানুষ।

গণতান্ত্রিক একটা রাষ্ট্রে সে দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের চেয়ারপারসনকে আটকে রাখা হচ্ছে তারই বাসভবেন। যা কিছুতেই কাম্য হতে পারে না। বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যেকোনো মূহুর্তে পুনরায় এই সমাবেশের ডাক দিতে যাচ্ছেন। তাহলে কি সরকার অনির্দিষ্টকাল এই সরকারী অবরোধ অব্যাহত রাখবেন? এ সব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে সাহিত্য বাজার পত্রিকা  ও বাংলাদেশ আমজনতা পরিষদ (বাপ)।

এমতাবস্থায় একটাই শুধু আশার প্রদীপ মৃদু জ্বলে উঠেছে যে, গত ২৮ ডিসেম্বর সিপিবি, সুজন ও টিআইবির উদ্যোগে সংকটে বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনায় বসেছেন দেশের নাগরিক সমাজ। সেখানে বিভিন্ন পথ নির্দেশ এসেছে। যার মধ্যে সাহিত্য বাজার প্রস্তাবিত গণ অনশন ও সংসদভবন বা প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান বিষয়টিও উঠে এসেছে। এতে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

যদিও মাননীয় প্রদানমন্ত্রী এটাকে এক/এগারোর কুশীলবদের সক্রিয় হয়ে ওঠা বলে আখ্যা দিয়েছেন।

বলাবাহুল্য যে, এই কুশীলবদের কারণেই কিন্তু তিনি আজ এতোটা বিশাল জনসমর্থন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হতে পরেছেন এবং ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও এই কুশীলবদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি বিগত ৫ বছরে।

11

জাতীয় প্রেসক্লাবে বিনা উস্কানীতে আওয়ামী লীগ কর্মীদের হামলা। পুলিশ হাত তুলে বাধা দেয়ার ভান করলেও কাউকে আটক বা লাঠিপেটা করেনি।

আমরাও ক্ষমা প্রর্থনা করছি আপনাদের প্রতি বিরুপ মনোভাব পোষণ করার জন্য। কিন্তু সেই সাথে অনুরোধ জানাবো দয়া করে ভাবনা চিন্তায় আর সময় নষ্ট করবেন না। নাগরিক সমাজের দায়িত্বে এই দুইনেত্রীকে এক টেবিলে বসিয়ে সমস্যার সমাধান টানতেই হবে। তানা হলে এদের বয়কট করে বিকল্প রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আমজনতা পরিষদের (বাপ)গড়ে তুলুন। বাপ-এর প্রস্তাবণা গত ৫ বছর ধরে ঝুলিয়ে রাখা আছে (বিস্তারিত রয়েছে সাহিত্য বাজার, প্রথম আলো ব্লগে)।

সরকারী দল বা মহাজোটের আচারণে এটা স্পষ্ট যে, তারা এখন স্বৈরাচরী কায়দায় দেশের শাসনভার গ্রহণ করতে বদ্ধ পরিকর। গণতন্ত্রের মানসকন্যা এখন গণতন্ত্রের খুনী হতে নির্লজ্জ হয়েছেন। বিরোধী নেতার বাসার সামনে বালুভর্তি ট্রাক এ প্রমাণই দিচ্ছে। তাই নাগরিক সমাজের প্রতি অনুরোধ আর চুপ করে থাকবেন না। পথে নামুন, আমাদের ডাকুন। ৭১ প্রজন্ম আপনাদের পাশে থাকবে ইনশাহআল্লাহ।

Print Friendly

About the author

ডিসেম্বর ৭১! কৃত্তনখোলার জলে সাঁতার কেটে বেড়ে ওঠা জীবন। ইছামতির তীরঘেষা ভালবাসা ছুঁয়ে যায় গঙ্গার আহ্বানে। সেই টানে কলকাতার বিরাটিতে তিনটি বছর। এদিকে পিতা প্রয়াত আলাউদ্দিন আহমেদ-এর উৎকণ্ঠা আর মা জিন্নাত আরা বেগম-এর চোখের জল, গঙ্গার সম্মোহনী কাটিয়ে তাই ফিরে আসা ঘরে। কিন্তু কৈশরী প্রেম আবার তাড়া করে, তের বছর বয়সে তের বার হারিয়ে যাওয়ার রেকর্ডে যেন বিদ্রোহী কবি নজরুলের অনুসরণ। জীবনানন্দ আর সুকান্তে প্রভাবিত যৌবন আটকে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পদার্পন মাত্রই। এখানে আধুনিক হবার চেষ্টায় বড় তারাতারি বদলে যায় জীবন। প্রতিবাদে দেবী আর নিগার নামের দুটি কাব্য সংকলন প্রশ্ন তোলে বিবেকবানের মনে। তার কবিতায়, উচ্চারণ শুদ্ধতা আর কবিত্বের আধুনিকায়নের দাবী তুলে তুলে নেন দীক্ষার ভার প্রয়াত নরেণ বিশ্বাস স্যার। স্যারের পরামর্শে প্রথম আলাপ কবি আসাদ চৌধুরী, মুহাম্মদ নুরুল হুদা এবং তৎকালিন ভাষাতত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজীব হুমায়ুন ডেকে পাঠান তাকে। অভিনেতা রাজনীতিবিদ আসাদুজ্জামান নূর, সাংকৃতজন আলী যাকের আর সারা যাকের-এর উৎসাহ উদ্দিপনায় শুরু হয় নতুন পথ চলা। ঢাকা সুবচন, থিয়েটার ইউনিট হয়ে মাযহারুল হক পিন্টুর সাথে নাট্যাভিনয় ইউনিভার্সেল থিয়েটারে। শংকর শাওজাল হাত ধরে শিখান মঞ্চনাটবের রিপোটিংটা। তারই সূত্র ধরে তৈরি হয় দৈনিক ভোরের কাগজের প্রথম মঞ্চপাতা। একইসমেয় দর্শন চাষা সরদার ফজলুল করিম- হাত ধরে নিযে চলেন জীবনদত্তের পাঠশালায়। বলেন- মানুষ হও দাদু ভাই, প্রকৃত মানুষ। সরদার ফজলুল করিমের এ উক্তি ছুঁয়ে যায় হৃদয়। সত্যিকারের মানুষ হবার চেষ্টায় তাই জাতীয় দৈনিক রুপালী, বাংলার বাণী, জনকণ্ঠ, ইত্তেফাক, মুক্তকণ্ঠের প্রদায়ক হয়ে এবং অবশেষে ভোরেরকাগজের প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়ান ৬৫টি জেলায়। ছুটে বেড়ান গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। ২০০২ সালে প্রথম চ্যানেল আই-্র সংবাদ বিভাগে স্থির হন বটে, তবে অস্থির চিত্ত এরপর ঘনবদল বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, আমাদের সময়, মানবজমিন ও দৈনিক যায়যায়দিন হয়ে এখন আবার বেকার। প্রথম আলো ও চ্যানেল আই আর অভিনেত্রী, নির্দেশক সারা যাকের এর প্রশ্রয়ে ও স্নেহ ছায়ায় আজও বিচরণ তার। একইসাথে চলছে সাহিত্য বাজার নামের পত্রিকা সম্পাদনার কাজ।