সপ্তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা

আরিফ আহমেদ

22

তমাল তলার আড্ডায় সাংবাদিক নজরুল কবির, আবৃত্তিকার সজল কোরায়শী, সাহিত্য বাজরের যুগ্ম সম্পাদক স্বাধীন চৌধুরী এবং সম্পাদক আরিফ আহমেদ।
ছবি : আলপনা বগম

011

সাহিত্য বাজার উৎসবে ময়মনসিংহ শিল্পকলা একাডেমির বাইরেও কবি আড্ডা ছিল জমজমাট। তমাল তলার আড্ডায় কবি রওশন ঝুনু ও আলপনা বেগমসহ আরো অনেকে।

055

সাহিত্য বাজার সাহিত্য উৎসব ও সম্মেলনে বিরতীর সময় মঞ্চের বাইরে অতিথিরা।
ছবি ; আলপনা বেগম

সম্মানীত সূধীজন, প্রিয় পাঠক, লেখক ও শুভানুধ্যায়ীগণ, আপনাদের সকলের প্রতি মহান সৃষ্টিকর্তার অসীম দয়া, রহমত ও শান্তি অব্যহত থাকুক। সবাইকে বাংলা নববর্ষের অভিনন্দন। একইসাথে সাহিত্য বাজারের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা।

সাহিত্যের আয়নায় জেগে উঠুক মানুষের মুখ
সত্য আর সুন্দরের সন্ধানে এসো হই উন্মুখ।
ধর্ম-কর্ম বল কিম্বা আল্লাহ-ইশ্বর-ভগবান
বিশ্বজুড়ে যা কিছু সুন্দর সব সাহিত্যের অবদান।

এ কবিতাটি লেখা শেষ করে ফেসবুকে পোস্ট দেয়া মাত্রই আমার এক পীরজাদা বন্ধু ফোন করে বললেন, আরিফ তুমি সাহিত্য আর ধর্মকে এক করে ফেললে? আমি হেসে বললাম, হাঃ বন্ধু, করলাম, তা না হলে যে ধর্ম আর সাহিত্যের দন্দ্ব কিছুতেই যাচ্ছে না।
উত্তরে বন্ধুটি বললেন, ব্যাখ্যা দাও।
ক্ষমা করবেন সাহিত্যজনেরা। আমি সাহিত্য নিয়ে খুব একটা জ্ঞান রাখিনা। স্মরণশক্তির খুব ঘাটতি থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছি, তারপরও আমার মনে হয়েছে সাহিত্য দুই প্রকারের। একটা ঈশ্বর বা আল্লাহ প্রদত্ত সাহিত্য, অন্যটি মানুষের রচিত সাহিত্য। যুগ যুগ ধরে মানুষের মঙ্গলের জন্য যেসব পবিত্র গ্রন্থ এসেছে যেমন বেদ, বাইবেল ও কোরআন, এসব পবিত্র গ্রন্থ সবসময় মানুষে মানুষে ভালবাসা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখার চেষ্টা করেছে। তাই ইউরোপীয় ও আমেরিকান গবেষকগণ এক বাক্যে স্বীকার করেছেন যে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞান ও সাহিত্য হচ্ছে বাইবেল ও  কোরআন।
ঈশ্বর প্রদত্ত এ সাহিত্যকে অনুসরণ করেই মানুষেরা রচনা করেছেন তাদের সাহিত্যকর্ম। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্ম গুলোকে যদি মিলিয়ে দেখেন তাহলে দেখা যাবে লক্ষ্য উদ্দেশ্য প্রায় একই। আলাওল, আল্লামা ইকবাল, শেখ সাদী, ওমর খৈয়াম, ম্যাক্সিম গোর্কি, ভলতেয়ার বা সেক্সপিয়রকে যারা পড়েছেন, তারা লক্ষ্য করবেন যে, এদের প্রত্যেকেই মানবতার দাবীতে রচনাশৈলীকে পুঞ্জিভূত করেছেন।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুর ইসলাম ও মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাদের ছেলেবেলায় রীতিমত মক্তবে যেয়ে আরবী ও ফারসী ভাষা আয়ত্ব করেছেন। তারা সংস্কৃত জানতেন বলেই অনায়াসে বেদ, মনুসংহিতা পড়তে পেরেছেন। পবিত্র কোরআন ও বাইবেল অর্থ বুঝে পড়তে পেরেছেন বলেই তারা আজ বিশ্বকবি ও মহাকবি হতে পেরেছেন।
মাপ করবেন সুধীজন, আমাদের বিজ্ঞজনদের অনেকে বলেন -‘রবীন্দ্রনাথ পড় ও বোঝ তাহলে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পড়তে হবেনা।’ কিন্তু সাথে সাথে কেউ এই কথাটি কেন বলেন না যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ গুলো অর্থ বুঝে পড়েছেন বলেই তিনি আজ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হয়েছেন। পবিত্র গ্রন্থ বেদ, বাইবেল ও কোরআন ছিল তাঁর নখদর্পে। তাহলেই কিন্তু সব দন্দ্ব দ্বিধা দূর হয়ে যেত। এতে রবীঠাকুর কখনো ছোটো হবেন না।
আমার এ ব্যাখ্যা শুনে বন্ধু পীরজাদা সেলফোনেই আমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও আলিঙ্গন করার ইচ্ছা ব্যক্ত করে বললেন, ঠিক এভাবে যদি আমাদের সাহিত্য বোদ্ধাগণ তাদের চিন্তাকে প্রকাশ করতেন, তবে সাহিত্য সংস্কৃতির সাথে ধর্মের দন্দ্ব অনেক কমে যেত।
এখনকার সাহিত্য নিজের অস্তিত্ব প্রকাশে দ্বিধাম্বিত। তাই রবীঠাকুর ও নজরুলের পর আর কেউ এখ নপর্যন্ত স্থায়ীত্ব লাভ করতে পারেনন্ িএ সত্য অস্বীকার করার তি কোনো উপায় আছে? সত্য আর সুন্দরের ধারক বাহকরাই এখানে স্থায়ীত্ব পাবেন, বাকীরা ঝড়ে যাবেন সময়ের চাপে এটাই স্বাভাবিক। তাই আসুন, মিথ্যার বেশাতী নয়, সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহিত্যচর্চায় উম্মুখ হই।

033

সাহিত্য বাজার সাহিত্য উৎসবে বইমেলার আয়োজনটি ছিল প্রায় ফাঁকা। দশটি স্টল ছিল বটে তবে সেখানে কোনো ক্রেতা ছিল না।

 

Print Friendly

About the author

ডিসেম্বর ৭১! কৃত্তনখোলার জলে সাঁতার কেটে বেড়ে ওঠা জীবন। ইছামতির তীরঘেষা ভালবাসা ছুঁয়ে যায় গঙ্গার আহ্বানে। সেই টানে কলকাতার বিরাটিতে তিনটি বছর। এদিকে পিতা প্রয়াত আলাউদ্দিন আহমেদ-এর উৎকণ্ঠা আর মা জিন্নাত আরা বেগম-এর চোখের জল, গঙ্গার সম্মোহনী কাটিয়ে তাই ফিরে আসা ঘরে। কিন্তু কৈশরী প্রেম আবার তাড়া করে, তের বছর বয়সে তের বার হারিয়ে যাওয়ার রেকর্ডে যেন বিদ্রোহী কবি নজরুলের অনুসরণ। জীবনানন্দ আর সুকান্তে প্রভাবিত যৌবন আটকে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পদার্পন মাত্রই। এখানে আধুনিক হবার চেষ্টায় বড় তারাতারি বদলে যায় জীবন। প্রতিবাদে দেবী আর নিগার নামের দুটি কাব্য সংকলন প্রশ্ন তোলে বিবেকবানের মনে। তার কবিতায়, উচ্চারণ শুদ্ধতা আর কবিত্বের আধুনিকায়নের দাবী তুলে তুলে নেন দীক্ষার ভার প্রয়াত নরেণ বিশ্বাস স্যার। স্যারের পরামর্শে প্রথম আলাপ কবি আসাদ চৌধুরী, মুহাম্মদ নুরুল হুদা এবং তৎকালিন ভাষাতত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজীব হুমায়ুন ডেকে পাঠান তাকে। অভিনেতা রাজনীতিবিদ আসাদুজ্জামান নূর, সাংকৃতজন আলী যাকের আর সারা যাকের-এর উৎসাহ উদ্দিপনায় শুরু হয় নতুন পথ চলা। ঢাকা সুবচন, থিয়েটার ইউনিট হয়ে মাযহারুল হক পিন্টুর সাথে নাট্যাভিনয় ইউনিভার্সেল থিয়েটারে। শংকর শাওজাল হাত ধরে শিখান মঞ্চনাটবের রিপোটিংটা। তারই সূত্র ধরে তৈরি হয় দৈনিক ভোরের কাগজের প্রথম মঞ্চপাতা। একইসমেয় দর্শন চাষা সরদার ফজলুল করিম- হাত ধরে নিযে চলেন জীবনদত্তের পাঠশালায়। বলেন- মানুষ হও দাদু ভাই, প্রকৃত মানুষ। সরদার ফজলুল করিমের এ উক্তি ছুঁয়ে যায় হৃদয়। সত্যিকারের মানুষ হবার চেষ্টায় তাই জাতীয় দৈনিক রুপালী, বাংলার বাণী, জনকণ্ঠ, ইত্তেফাক, মুক্তকণ্ঠের প্রদায়ক হয়ে এবং অবশেষে ভোরেরকাগজের প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়ান ৬৫টি জেলায়। ছুটে বেড়ান গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। ২০০২ সালে প্রথম চ্যানেল আই-্র সংবাদ বিভাগে স্থির হন বটে, তবে অস্থির চিত্ত এরপর ঘনবদল বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, আমাদের সময়, মানবজমিন ও দৈনিক যায়যায়দিন হয়ে এখন আবার বেকার। প্রথম আলো ও চ্যানেল আই আর অভিনেত্রী, নির্দেশক সারা যাকের এর প্রশ্রয়ে ও স্নেহ ছায়ায় আজও বিচরণ তার। একইসাথে চলছে সাহিত্য বাজার নামের পত্রিকা সম্পাদনার কাজ।