শিল্পী রফিকুন নবীর সত্তরতম জন্মবার্ষিকী ও একক প্রদর্শনী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাহিত্য বাজার

23বেঙ্গল শিল্পারয়ে শুরু হয়েছে শিল্পী রফিকুন নবীর একক চিত্রকলা প্রদর্শনী । শিল্পীর সত্তরতম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস্ তাঁর পূর্বাপর নির্বাচিত কাজের ‘বাস্তবতার অনুষঙ্গ’ (ছঁবংঃ ভড়ৎ জবধষরঃু) শীর্ষক এই প্রদর্শনরি আয়োজন করেছে।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৫ টায় বেঙ্গল শিল্পালয়ে (বাড়ী # ২৭৫/এফ, রোড # ২৭ পুরাতন, ধানমন্ডি, ঢাকা) প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তেরো দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের সহধর্মিনী বেগম জাহানারা আবেদিন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী, দৈনিক প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান এবং শিল্পকর্ম সংগ্রাহক দুর্জয় রহমান জয়। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিত, শিল্পী রফিকুন নবী এবং বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস্ এর পরিচালক সুবীর চৌধুরী।  এ সময় শিল্পীর বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে সম্মেলক গান পরিবেশন করেন ‘ছায়ানট’ সংগীত বিদ্যায়তনের শিল্পীবৃন্দ। সত্তরতম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শিল্পী রফিকুন নবীর হাতে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের ‘সম্মাননা ক্রেস্ট’ তুলে দেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জনাব আবুল খায়ের। অনুষ্ঠানে বেঙ্গল গ্যাালারি প্রকাশিত ‘রফিকুন নবী’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

শিল্পী রফিকুন নবীর এবারের প্রদর্শনীতে মোট চিত্রকর্মের সংখ্যা ১২০টি। প্রদর্শনী চলবে আগামী ১৯ ডিসেম্বর প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত  ৮টা পর্যন্ত।

শিল্পী রফিকুন নবীর জন্ম ১৯৪৩ সালে চাঁপাইনওয়াবগঞ্জে। ১৯৬৪ সালে তৎকালীন চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়, ঢাকা থেকে বি এফ এ ডিগ্রী লাভ এবং ১৯৭৩ – ৭৬ পর্যন্ত গ্রীস সরকারের ¯œাতকোত্তর বৃত্তির অধীনে গ্রীসের এথেন্স স্কুল অব ফাইন আর্টস থেকে ছাপচিত্রে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। এ পর্যন্ত ৯ টি একক প্রদর্শনী করেছেন এবং বহু দলবদ্ধ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। তিনি ১৯৮৯ সালে ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী পুরস্কার’, ১৯৯৩ সালে ‘একুশে পদক’, ১৯৯৫ সালে ‘অগ্রনী ব্যাংক পদক’এবং ২০০২ সালে ‘এস এম সুলতান পদক’সহ আরো অনেক পুরষ্কার লাভ করেছেন। এছাড়াও শিশুদের বই এর কভার ডিজাইনের জন্য রফিকুন নবী ১৩বার ‘ন্যাশনাল বুক সেন্টার প্রাইজ’ লাভ করেন। তিনি ১৯৬৪ সালে চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগদান করেন। ১৯৮৮-৯১ পর্যন্ত তিনি চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক এবং ২০০৮-১০ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন এর দায়িত্ব পালন এবং ২০১০ সালে শিক্ষকতা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি ফ্রিল্যান্স শিল্পী হিসেবে কর্মরত আছেন।

Print Friendly