শিনকানসেন : মুহাম্মদ সামাদ

সাহিত্য বাজার

অগ্রিম টিকিট কিনে

টোকিও স্টেশনে বসে আছি।

যেনো রঙবেরঙের ট্রেনের

মেলা বসেছে এখানে;

পোষমানা অজগরের ভঙ্গিতে

তারা এঁকেবেঁকে এসে জড়ো হচ্ছে

আর, কিলবিল করে ছড়িয়ে পড়ছে

নিক্কনে-ক্যাননে তোলা

রঙিন ছবির মতো জাপানের

মনোরম দ্বীপ থেকে দ্বীপান্তরে।

 

আমি হিরোশিমা যাবো। আমাদের রঙ ওঠা

প্রভাতী সুরমা বা তিস্তার মতো

কোনো ঝাঁকুনি না-দিয়ে, আমাকে অবাক করে

ঘড়ির কাঁটায় ঠিক সকাল ন’টায়

স্টেশন ছাড়লো শিনকানসেন।

 

অন্তরাল থেকে কোনো এক রূপসী সুরেলা কণ্ঠে

জানাতে লাগলো একটার পর একটা স্টপেজ:

নাগোয়া ওসাকা কিয়োটো কুবে নজুমি ইত্যাদি…

একটি শিশুর মিষ্টি চিৎকার ছাড়া কোন হইচই নেই;

ট্রলিতে আপেল নাশপাতি কলা কেক,

কুংফু-সুমোর ছবিঅলা রঙচঙে ম্যাগাজিন

আর ঝকঝকে জাপানি অক্ষর-আঁকা

বাহারি পসরা নিয়ে

বারবিডলের মতো শুভ্র তরুণীরা

বারবার মাথা নিচু করে।

 

শিনকানসেন এক প্রেমের কানন;

আলোছায়াময় কোমল নিরবতায়

দোলনচাঁপার মতো জোড়ায় জোড়ায়

প্রেমিক যুগল কব্জিতে আদর করে;

ঘনচুলে আঙুল বোলায়, চুমু খায়;

গোপনে চোখের জল ফেলে;

কেউ বা অচেনা বেদনায়

রাতের তারার মতো খসে পড়ে।

শিনকানসেন খুব দ্রুত ছোটে;

তবু, পদ্মাবোট আর জাপান-যাত্রী’র

তোসামারু জাহাজের মতোই

তেমন নড়াচড়া নেই তার;

ভেতরে সে শান্ত, স্থির।

এমন সুন্দর স্নিগ্ধ যাত্রাপথে

রবীন্দ্রনাথকে না-দেখে

এই নগণ্য কবিকে সে লিখতে দিল

এক নতুন কবিতার মহার্ঘ খসড়া।

জয়তু কবিতা ধন্য কবি

জয় শিনকানসেন।

 

Print Friendly