কয়েকজন কবির কবিতা

সাহিত্য বাজার

Untitled-1

সাভারের দরেন্ডায় সেন্ট জোসেফ স্কুলের মাঠে আয়োজিত শিশুদের কবিতা ও গল্প বলা প্রতিযোগিতার বিচারক বামে আশরাফুজ্জামান, সুলতানা নাজ, আরিফ আহমেদ ও সায়েম বিশ্বাস।

ও কি গাড়িয়াল ভাই
তোমার পন্থের দিকে চেয়ে চেয়ে
ফিরে এলাম চিলমারীর বন্দর হয়ে;
নাই, কোথাও আব্বাসীয়া
ভাওয়াইয়া নাই।

অগত্যা বাবার তরুণ বয়সের গ্রামোফোনটাই সম্বল।
রেকর্ড বেজে চরছে, নদীতে বেড়ে চরছে পাহাড়িয়া ঢল।

এইচএমভির কুত্তাটা পাহারা দিচ্ছিল যন্ত্রটা।
আমারও জানতে ইচ্ছে হচ্ছিল খুলে দেখার মন্ত্রটা।

ছেলেবেলার গল্পশোনার দিনগুলো …
ডালে বসে কলা চিবুচ্ছে এক নুনু দেখানো হুলো,
তারপর চকিতে লাফিয়ে পড়লো গ্রামোফোনটার ওপর,
র্ধ র্ধ র্ধ র্ধ …
ষাটোত্তর
এখনো আমি তাড়া করছি সেই হুলো বাঁদর।

মেঘ বৃত্তান্ত : রনজু রাইম

আমার উঠোন ও শোবার ঘরে এতো মেঘ
শান্ত সৌম্য আর গোখরো মেঘের ফণা দেখে
পালিয়ে গেছে এই পাড়ার মানুষ সকল
বসত গড়েছে দূর অরণ্যে, আমিও বলি
যে মেঘেরা জন্মান্ধ; মেঘেরা হয় বোবা কালা
পথ ভুলে এসেছে আমার ঘরে, এ পাড়ায়
তারা, এমেঘই তো দেবে প্রার্থিত সূর্যালোক
মেঘ দেখে কেউ ভয় করো না আর, ঐ দেখ
মেঘের শরীর গলে পড়ছে রৌদ্রের সোনা

অস্তিত্ব
-মৌসুমী রায়(ঘোষ)

পৃথিবীর মাঝে আমার অস্তিত্ব
ক্ষুদ্র এক বিন্দুসম|
এই আছে, এই নেই
জলের বুকে বুদবুদ|

আমার বিকেল আমার শাহবাগ : মানস বিশ্বাস

প্রতিদিন শাহবাগ যাই
বাসে-লোকাল, সিটিং কখনো পায়ে হেঁটে
যেন এক অনন্ত তৃষ্ণার আধার।
এখানে আমার চেনা-জানা খুব বেশী নেই
তবু যাই, যেতে হয়।
স্বপ্নবাজ ঘূর্নায়মান কবিদেও সাথে দেখা হয়
দৃষ্টির দু’প্রান্তে জ্বলে উঠে পোশাকে আঁটা বেদনা ভরা মানুষ।
কথা নেই মাপা সময়ের আবর্তেই অতীত হতে থাকে এই বর্তমান কোলাহল।
অবশিষ্ট থাকে বন্ধুদের প্রিয় নাম বাবুলের চায়ের দোকান।
ভালো লাগে চেনা কাপের উষ্ণতা
চলমান পায়ের ছায়ায় বাবুলের ব্যস্ত চোখ
টুং টাং শব্দ, জীবনের কত আয়োজন।
আঙ্গুলের ফাঁকে সিগারেট ধরিয়ে চলে আসি পিজির ভিতর বটতলায়
ধোঁয়ার ঊঠোন ছাড়িয়ে ভেসে ওঠে ছায়াভরা পাতা
কত স্বপ্ন, কত আয়োজন, দৈর্ঘ্য প্রস্থে এই বিস্তর ব্যবধান।
গৌধূলী ফিরে যেতে থাকে, সন্ধ্যা নামে।
বন্ধুদের ফোন বেজে ওঠে
বলি, আসবিতো ?
আমি বসে থাকি পাথর সময়ে গোলাপের গন্ধ মেখে
কখনো প্রণয়, স্বীকৃতি কখনোবা সেলিম আরিফের অপেক্ষায়
জানি দূর-নক্ষত্রকে ভালোবেসে রাতের চাঁদ জেগে উঠেছে
মানুষের যাত্রায়।
আমার বিকেল ভরা শাহবাগের কাছে।

আত্মপ্রসঙ্গ : সেলিমবালা

নির্দ্বিধায় এবং নিঃসঙ্কোচে নিজেকে ছেড়ে দিয়েছি উম্মুক্ত মাঠে, যেখানে
মাটি নয়, পাথরের বুকে লাঙল ঠেলে ফলাতে হবে সোনালী শস্য। চারদিক
ঘিরে নির্দিষ্ট দূরত্বে ড্রাকুলার দল, যেন পরাজয়েই ছুটে এসে ছিঁড়ে খাবে,
ছিন্ন-ভিন্ন হবে ক্লান্ত বিধ্বস্ত শরীর এবং অন্ধকারের অন্তহীন গহ্বরে
অনিচ্ছায় সমর্পিত হবে একটি অধ্যায়।
নিয়তি-লব্দ নির্মম পরিস্থিতির মোকাবেলায় উজ্জীবিত চৈতন্য আমার।
গর্বের সর্বস্বতায় আলোকসুন্দর বর্ণে উদ্ভাসিত হৃদয়ের আকুতি। দুস্বপ্ন-
অবরুদ্ধ লক্ষ কোটি চোখ তাকিয়ে আছে একাত্ম অনুভবে। আমিও
আমাকে দেখি বিস্ময় বিমুগ্ধ চোখে। শ্বাসরুদ্ধকর এই মর্মান্তিক দৃশ্যে
নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় নয়, সদর্থক সম্ভাবনায় আলোড়িত হই।
পলায়নপরতা নয়, আজন্ম ঘাত-সংঘাতে স্পন্দিত, নিবেদিত আত্মসন্ধানে।

Print Friendly