জোট-মহাজোটের মহার‌্যালী : আতঙ্কিত বাংলাদেশ

আরিফ আহমেদ

mayaimages 2আরিফ আহমেদ : কি হবে ২৫ অক্টোবর? কি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে? এ পশ্ন এখন দেশজুড়ে প্রায় সকলের। শুধু দেশেই নয় বিদেশে বসে বন্ধু-আত্মিয়রা জানতে চান কি হচ্ছে ওখানে? মালয়েশিয়া থেকে ফোন করে বন্ধু বেলায়েত জানতে চায়- ২৫ অক্টোবর দুই জোটই নাকি ঢাকায় সমাবেশ করছে? তবে কি ঢাকায় ঐ দিন ১৪৪ ধারা জারি হবে?

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নীলখেতে সংলগ্ন গাউসুল আজম সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীদের এই নিয়েই আলোচনায় মগ্ন থাকতে দেখা যায়। ঈদের পর তারা দোকান খুলবেন কি খুলবেন না। ব্যবসা বাণিজ্য চলবে কি চরবে না? এ নিয়ে আতঙ্কিত এখানের ব্যবসায়ীরা। একই চিত্র রোডজ্যামে আটকে পড়া বাসের ভিতর। উপচেপরা ভিড়েও যাত্রীদের আলোচনার বিষয় ছিল ২৫ অক্টোবর। আওয়ামীমনা যাত্রীদের কেউ কেউ বলছেন, আরে ভাই কি আর হবে? বিএনপি কি কখনো কোনো আন্দোলনে ভালো করেছে। এত এত সুযোগ পেয়েও হাতছাড়া করেছে।

অন্যজন বলছে- এটা ঠিক, আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দেখে বিএনপিকর্মীরা ভয়ে পালাবে দেখবেন। এভাবেই ২৫ অক্টোবর নিয়ে উত্তপ্ত বাসযাত্রীরাও।

একদিকে ১৮ দলিয় জোটের সমাবেশ অন্যদিকে একই দিনে মহাজোটের ক্ষমতাপূর্তির মহার‌্যালীর ঘোষণা হয়েছে ২৫ অক্টোবর। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, ২৫ অক্টোবর ঢাকা সমাবেশ করা নিয়ে দলে আলোচনা চলছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

অন্যদিকে যুবদলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল জানিয়েছেন, ঢাকার সমাবেশে সারা দেশের নেতাকর্মীরা যোগ দেবেন। দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এতে বক্তব্য রাখবেন। তবে ২২ অক্টোবর বরিশালের জনসভা শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্বান্ত দেবেন দেশনেত্রী।

১০ অক্টোবরের বর্ধিত সভা শেষে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, বিএনপি-জামাত যে কর্মসূচি দেবে, আমরা তার পাল্টা কর্মসূচি দেব। ঈদের পর ধারাবাহিকভাবেেআরো কর্মসূচি আসছে।

জোট-মহাজোটের এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সাধারণ মানুষের মনে আরো বেশি আতঙ্ক তৈরি করছে। যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ঈদ বাজারে। ইতোমধ্যেই পুনরায় চালের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি .৫০ থেকে ১/২ টাকা। গরুরহাট ও ট্রাকভর্তি গরুতো এখন প্রতিদিন পত্রিকার সংবাদ। মাছ-মাংসের কাছে ঘেঁসতে পারেনা আমজনতা। ওটা এখন শুধু বিত্তবাণদের খোড়াক।

ড. পিয়াস করিম, ড.শাহদিন মালিক, ইফতেখারুজ্জামানসহ বিশেষজ্ঞদের মতে, এমনাবস্থা চলতে থাকলে অকল্পনীয় কিছুই ঘটবে বাংলাদেশে। আমহনতার বিস্ফোরণ সবসময় ভয়ঙ্কর হয়। ইতিহাস যার সাক্ষ্য বহন করছে। পাল রাজবংশের সূচনা, ৯০-এর গণ আন্দোলন যার অন্যতম দৃষ্টান্ত।

Print Friendly

About the author

ডিসেম্বর ৭১! কৃত্তনখোলার জলে সাঁতার কেটে বেড়ে ওঠা জীবন। ইছামতির তীরঘেষা ভালবাসা ছুঁয়ে যায় গঙ্গার আহ্বানে। সেই টানে কলকাতার বিরাটিতে তিনটি বছর। এদিকে পিতা প্রয়াত আলাউদ্দিন আহমেদ-এর উৎকণ্ঠা আর মা জিন্নাত আরা বেগম-এর চোখের জল, গঙ্গার সম্মোহনী কাটিয়ে তাই ফিরে আসা ঘরে। কিন্তু কৈশরী প্রেম আবার তাড়া করে, তের বছর বয়সে তের বার হারিয়ে যাওয়ার রেকর্ডে যেন বিদ্রোহী কবি নজরুলের অনুসরণ। জীবনানন্দ আর সুকান্তে প্রভাবিত যৌবন আটকে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পদার্পন মাত্রই। এখানে আধুনিক হবার চেষ্টায় বড় তারাতারি বদলে যায় জীবন। প্রতিবাদে দেবী আর নিগার নামের দুটি কাব্য সংকলন প্রশ্ন তোলে বিবেকবানের মনে। তার কবিতায়, উচ্চারণ শুদ্ধতা আর কবিত্বের আধুনিকায়নের দাবী তুলে তুলে নেন দীক্ষার ভার প্রয়াত নরেণ বিশ্বাস স্যার। স্যারের পরামর্শে প্রথম আলাপ কবি আসাদ চৌধুরী, মুহাম্মদ নুরুল হুদা এবং তৎকালিন ভাষাতত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজীব হুমায়ুন ডেকে পাঠান তাকে। অভিনেতা রাজনীতিবিদ আসাদুজ্জামান নূর, সাংকৃতজন আলী যাকের আর সারা যাকের-এর উৎসাহ উদ্দিপনায় শুরু হয় নতুন পথ চলা। ঢাকা সুবচন, থিয়েটার ইউনিট হয়ে মাযহারুল হক পিন্টুর সাথে নাট্যাভিনয় ইউনিভার্সেল থিয়েটারে। শংকর শাওজাল হাত ধরে শিখান মঞ্চনাটবের রিপোটিংটা। তারই সূত্র ধরে তৈরি হয় দৈনিক ভোরের কাগজের প্রথম মঞ্চপাতা। একইসমেয় দর্শন চাষা সরদার ফজলুল করিম- হাত ধরে নিযে চলেন জীবনদত্তের পাঠশালায়। বলেন- মানুষ হও দাদু ভাই, প্রকৃত মানুষ। সরদার ফজলুল করিমের এ উক্তি ছুঁয়ে যায় হৃদয়। সত্যিকারের মানুষ হবার চেষ্টায় তাই জাতীয় দৈনিক রুপালী, বাংলার বাণী, জনকণ্ঠ, ইত্তেফাক, মুক্তকণ্ঠের প্রদায়ক হয়ে এবং অবশেষে ভোরেরকাগজের প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়ান ৬৫টি জেলায়। ছুটে বেড়ান গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। ২০০২ সালে প্রথম চ্যানেল আই-্র সংবাদ বিভাগে স্থির হন বটে, তবে অস্থির চিত্ত এরপর ঘনবদল বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, আমাদের সময়, মানবজমিন ও দৈনিক যায়যায়দিন হয়ে এখন আবার বেকার। প্রথম আলো ও চ্যানেল আই আর অভিনেত্রী, নির্দেশক সারা যাকের এর প্রশ্রয়ে ও স্নেহ ছায়ায় আজও বিচরণ তার। একইসাথে চলছে সাহিত্য বাজার নামের পত্রিকা সম্পাদনার কাজ।