ভালোবাসা দিবসের পঙতিমালা : আরিফ আহমেদ ও স্বাধীন চৌধুরী

সাহিত্য বাজার

Shadhinস্বাধীন চৌধুরী এর পঙতিমালা

বাতিঘর
বহুদূর যেতে এগিয়েছে সামান্য
অধ্যবসায় বলে এ-ও অপরিসীম।
আলোকোজ্জ্বল গ্রহ-নত্রের গন্তব্য-স্পর্শ
কাঙ্খিত বাতিঘর মেলে
যোজন-যোজন আলোকবর্ষ পর
পরম-এর পথ চৌদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে লীন
পরিব্রাজক বয়ে চলেছে সময়ের সাঁকো
ল্েয স্থির-অবিচল একদিন হবে- বাতিঘর।


প্রতিমা
তোমাকে বানিয়েছি আমারই মতো
কিংবা আমার প্রার্থনার মতো কেউ
যেন দিয়েছি দিব্যপ্রাণ তাহাতে
যতটুকু অনুভব চাই – দিয়েছি তার সবটুকু
আর কিছু বাকি নেই আমার গড়ার
আজ পহেলা তারিখ তোমার উদ্ধোধন।


কবি
কবি এখন কোন পথে, কী করে অহর্নিশ
এই নিয়ে গবেষণা যতো চারপাশ
কবি বলেন: অনিবার্য পথ তার ভালোবাসা-প্রেম
দুঃখেরও ভারী বোঝা তার সহনীয় জেনো
কবির কবিতাময় পথ কঠিন হলেও সরল
জীবনের বোধে মানুষের বোধই বড় বলে
আর কোন জটিলতা নেই তার কোনোদিন…।


পেট্রোলবোমা
পেট্রোল গতির সূচক… জ্বলে-পোড়ে দাও গতি
পেট্রোল বোমা হয়ে টানলে গতির যতি
গ্রেনেডের ইতিহাসকথা জানো বলেই
মানুষের নাম দিয়েছো তুমি অমানুষ-জীব।


পরিণতি
তোমার ফেরার কোন পথ নেই
না আসার পথও ছিল না জানা।
অনিবার্য পরিণতির সুফল-কুফল বোঝে গেছ- এইটুকু
‘এইটুকু’ দিয়ে পার করে দাও আয়ুর সীমানা…

আরিফ আহমেদ -এর পদাবলী

IMG0028Aতোমার একটু ছোঁয়া চেয়ে
প্রাণ মন কেঁদে যায়
কী ভীষণ যন্ত্রণায়
বুকের ভিতর মুচড়ে যায়
অদৃশ্য বাতাস,
নির্ঘুম চোখে অন্ধকারে চেযে চেয়ে
আঁকা স্বপ্নের বুনন ভেঙ্গে যায়
মূহূর্মুহ দীর্ঘশ্বাস।
আগামী সুন্দরের প্রত্যাশায়
এভাবেই স্বপ্ন এঁকে যাব
অনাদিকাল।।


অতীতের সব স্মৃতি গাঁথা, শোক গাঁথা
বন্ধুদের অসংখ্য ফোন; প্রেম নিবেদন,
যদি পার আজ থেকে ভুলে যাও সব।
নতুন জীবনে,
এসো দু’জনে,
করি পদার্পন হাতে রেখে হাত।
অতীত শুধু সাথী হোক দুঃসময়ের
তানা হলে আমাকেও ভুলে যাও।


দেহ তাঁর শ্যামলিমার মনমুগ্ধ হাসি
চোখে দাঁড় বেয়ে যায় পদ্মার মাঝি
চুল ছুয়ে উড়ে যায় পাখীরা নিড়ে
সোম্য মুখে তাঁর বেদনা ঘোরে।
আমার পায়ে চলা প্রতিটা বাঁকে
তারই হাতছানি দেখি, সে-ই আমায় ডাকে।


আর কোন কথা নয় মেয়ে
নিশ্চুপ দর্শন ছেড়ে চলে এসো
বাহুবন্ধে আমার,
এখনো স্বপ্নজুড়ে; তোমার চুলের বাধন
ছুঁয়ে নেমে যাওয়া নীল শাড়ীটির মতন,
আমার চোখে জড়িয়ে আছে
তোমার সুন্দরম।
সুন্দরের সানিধ্যে এসে
আমিও না হয়, হয়ে উঠব
সুন্দরম একজন—
তোমার উজালা চোখের ছোঁয়ায়।

আর কোন কথা নয় মেয়ে
নিশ্চুপ দর্শন ছেড়ে এসো চলে
বাহুবন্ধে আমার,
তানা হলে এই যে রোদ্র ঝরা
প্রকৃতির কান্না দেখছো
ও কিন্তু থামবে না আর।


হরেক রকম কষ্ট সইতে সইতে এখন আমি
পাথর হয়ে গেছি, ছোট-খাট কষ্টরা
তবু প্রতিদিন চিমটি কাটে, কিন্তু ওরা জানে না,
পাথরের গায়ে চিমটি কাটা যায় না।
তবে হ্যা পাথরে পাথর ঘষে
জ্বলে ওঠা আগুনে কষ্ট পোড়ানো যায়।
তুমিও কষ্টের পাথর, হঠাৎ আছড়ে পরলে
আমার উপর, পাথরে পাথর খেয়েছে বারি,
চাও আর না চাও, আগুনতো এখন জ্বলবেই।


দেশ আছে, মানুষ আছে
যুদ্ধ যুদ্ধ খেলাও আছে
আগের মতন।
শুধু নেই বিবেক বোধে জাগ্রত জীবন
মানবতা আর
ফসলের উৎপাদন।
ধর্মীয় ভক্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে
একই হারে বাড়ছে
চরদখল, খাল দখল আর তেল দখল
বদলেছে শুধু দখলের কৌশল
লোলুপতার কড়াল গ্রাসে
ডুবে আছে বিশ্ব বিবেক
আর একবার শুদ্ধতার যুদ্ধ
আজ খুব খুব প্রয়োজন।

Print Friendly