ভারতের দুই কবিবন্ধু : রিঙ্কু ব্যানার্জী ও বর্ণা অধিকারী’র কবিতা

অতিথি লেখক

20হারিয়ে যাওয়া মেয়েবেলা
বর্ণা অধিকারী

গন্ধের ধাক্কাধাক্কি তে পেরিয়ে গ্যাছে রোদ্দুর
মাখা শৈশব,
ইতিহাসের পাতায় নাবালক রূপকথারা
লুটোপুটি খায়, বিষাদের ঢেউ এ ডুবে যায়
আবেগে ভরা চোখের জল…
অস্ফুট শব্দেরা অভিমান করে বসে থাকে
দাঁতে দাঁত চেপে, গোধূলীরঙ্গা মেয়েবেলাটা আজ
ঝাপসা অতীত।

আমরা একদল প্রজাপতি
দল্ বাউলের উদার গানে মিশে,
লাল মাটির নিমগ্নতায় বিভোর থাকতাম।
ইট বালির নিচে চাপা পড়া মেয়ে বেলাটা আজ
মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে ।

আমার এখন অনাথ দুপুরের নিসঙ্গ চোখের
জলবিন্দু সৃষ্টির সুখে লিখে যায় ঝাপসা অসমাপ্ত গল্পটা…
অর্ধঘুমের পাশে আজ শুধু পরে থাকে
যান্ত্রিক দীর্ঘশ্বাস …

(3.12.2016)

শহুরে জীবন
বর্ণা অধিকারী

শহুরের ব্যস্ততা ঢেকে দিচ্ছে,সমস্ত কল্প জগত কে.
উঁচু উঁচু ফ্ল্যাট গুলোর ফাঁকে এখন আর
দেখতে পাওয়া যায় না নির্বাক এক ফালি চাঁদ…
এক সময় সর্বস্ব লুটিয়ে বসে থাকতাম
জোছনার বিষন্ন আঙ্গিনায়…
অনিদ্র নিশীথে অবলীলায় নিজেকে ডুবিয়ে রাখতাম
অস্তিত্ব ঢালা চাঁদের সাথে হয়ে উঠতাম রূপসী তিলোত্তমা
আজ সমস্ত আকাশ টাকেও ঢেকে ফেলেছে উঁচু উঁচু ফ্ল্যাট,
আভিজাত্য বাড়িগুলো এখন প্রাচীর ভাঙ্গা
সেই ক্লান্তিহীম ছাদটাও হারিয়ে গেছে সহস্র অন্ধকারে…
এখন আর চাঁদের সাথে বসে প্রহর গোনা হয় না,
ভগ্ন জোছনায় নিজেকে আর ভাসানো হয় না,
ব্যস্ত শহরের আলোকসজ্জার ঝাঁ-চক চকের
তীব্র ভ্রু-কুটিতে সব বাষ্প হয়ে গেছে
কল্পনার সর্বগ্রাসী চিতায়..।

উত্তর জানলা
23———–
রিঙ্কু ব্যানার্জী
(রাঁচি)

বহুদিন খুলিনি উত্তরের ওই জানলাটাকে
জানলার ওপাশেই শিউলির গাছ
বছরের কয়েকটা মাস বড় জ্বালাতন করে
ফুল ফোটে
টুপটাপ ঝরেও পরে
না চাইলেও মৃদু অথচ আবেশ আনা ওই গন্ধটা
বেশ অনুভব করা যায় !!

ছিঁড়ে ফেলতে চেয়েছি মৃত পিছুটান
বিশ্বাসের পর্দাকে দুহাতে সরিয়ে নিয়ে
জোরালো অবিশ্বাসের শিউলি গন্ধ
ক্ষত-বিক্ষত করে আমার প্রেমিক সত্ত্বা কে !

ক্লান্ত, বিধ্বস্ত নিঃস্বাস শান্ত হয়ে আসে
স্বপ্নগুলো বড় ভয় দেখায় আজকাল
গাছটা কি কেটে ফেলবো ?
কিন্তু যে শুঁয়োপোকাগুলো ওকে অষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে
আদুরী ঘুম ঘুমোয়….
তাদের ঘুম ভাঙাতে মন চায়না !

তাই, প্রেম চলে যাওয়ার পর
আর খুলিনা উত্তরের ওই জানলাটা… !!

আমার খেরোখাতা
—————-
রিঙ্কু ব্যানার্জী
(রাঁচি )

আমার খেরোখাতা জুড়ে
সাজানো আছে শিশিরবিন্দু, রৌদ্রবাস্প,
আর মেঘে ঢাকা তারা
তাকে ছিঁড়ে ফেলোনা তোমরা !!

লেখা বেঁচে থাকে কার পরিচয়ে ?
সে কি রক্তমাখা শর, সভ্যতার
না কি গচ্ছিত ভালোবাসা ?
না কি শব্দ-বর্ণের আকণ্ঠ পিপাসা ?

নীলকণ্ঠ পাখির মতো ওড়ে
উন্মাদ…আবেগী… কামনার রাত
ঝিরঝিরে বৃষ্টিপাতে জমেনা বরফ
ধৈবত-নিষাদে ঘোরে প্রেমের হরফ !!

প্রতি পাতায় উড়েছে হৃদয়-পোড়া ছাই
প্রতি ছত্রে জেগেছে স্বপ্নের অভিসার
বিষপাত্র হাতে নিয়ে শব্দেরা এসেছে বারবার !
পারিনি ফেরাতে. তাই বিষে নীল কণ্ঠ আমার !!

তবু, রাত জাগি আর লিখি খেরোখাতা
চাঁদ এসে চুমু দিয়ে যায় আঙুলে…..

Print Friendly