বিশ্বের সর্ববৃহৎ সাহিত্য দেয়ালিকা রাবি’র ‘চন্দ্রবিন্দু’!

সাহিত্য বাজার

সালাহউদ্দীন মুহম্মদ সুমন, রাজশাহী থেকে :

Chandrabindu

বাংলা ভাষার চন্দ্রবিন্দু বর্ণটির অস্তিত্ব এখন বিলুপ্তপ্রায়। তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের শিার্থী এই বর্ণটির নাম সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দেয়ার প্রয়াস চালিয়ে আসছে কয়েক বছর ধরে। এই প্রচেষ্টার ফসল হিসেবে তারা ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের দেয়ালে তৈরী করেছে বিশাল আকৃতির সুদৃশ্য ও সুখপাঠ্য একটি সাহিত্যনির্ভর দেয়াল পত্রিকা। আর এই চন্দ্রবিন্দুকেই বর্তমান বিশ্বের সর্ববৃহৎ দেয়াল পত্রিকা হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। হারিয়ে যাওয়া চন্দ্রবিন্দুকে ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় নিয়েই এই দেয়ালিকার উদ্ভাবন করা হয়েছে বলে ফোকলোর বিভাগের শিার্থীরা জানিয়েছে।
চন্দ্রবিন্দু’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় ২০০৫ সালের ১৪ এপ্রিল। ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের ৩১ ফুট লম্বা আর ১২ দেয়ালের পুরোটাজুড়েই তৈরি হয়েছে চন্দ্রবিন্দুর আবহ। প্রথম সংখ্যায় স্থান পায় ৭০টি ছড়া ও  কবিতায় ব্যবহার করা হয় ১৭০টি চন্দ্রবিন্দু। দ্বিতীয় সংখ্যার প্রকাশনা উৎসব হয় ২০০৬ সালের ১৪ এপ্রিল, বাংলা ১৪১৩ বঙ্গাব্দের ১ লা বৈশাখে। আর তৃতীয় সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে এ বছরের পয়লা বৈশাখে। প্রথম সংখ্যায় রঙিন রশিতে ‘চন্দ্রবিন্দু’ শিরোনামে দেয়ালের সাদা জমিনের ভেতর কবিতা লাগানো হয়েছিল। আর দ্বিতীয় সংখ্যার আধেয় সাজানো হয়েছিল ককশিট কেটে ‘চন্দ্রবিন্দু’র আদলে। এবারে সংখ্যার চেহারায় একটু বৈচিত্র আনা হয়েছে। এবারের চন্দ্রবিন্দুকে সাজানো হয়েছে আকাশের ওড়া ঘুড়ির ডানায় ভর করে। ঘুড়ি আদলের রঙিন কাগজে সাজানো হয়েছে এ সংখ্যার ৫৩টি ছড়া কবিতা। আর এসব ঘুড়ির সূতা রয়েছে দেয়ালিকার সম্পাদক ‘রাখালের’ লাটাইয়ে। দেয়ালিকার এই অংশেই রাখা হয়েছে সম্পাদকীয়।

এই দেয়ালিকার পেছনের ইতিহাসটার সঙ্গে কিছু বিষয় জড়িত। এই ভবন তৈরির পর ফোকলোর বিভাগের স্থান হয় এখানে। ভবন তৈরির পর থেকে সমস্যা শুরু হয় ভবনের দেয়াল নিয়ে। নানা সংগঠনের নানা ধরণের পোস্টারে ভরে উঠেছিল ভবনের দেয়াল। নতুন এ ভবনটি তৈরির পর থেকেই সৌন্দর্য হারাতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ফোকলোর বিভাগের তৃতীয়, চতুর্থ ও সপ্তম ব্যাচের শিার্থীরা এগিয়ে আসে এই সমস্যার সমাধানে। সবাই মিলে বসে তৈরি করেন এই দেয়ালিকা। পৃষ্ঠপোষকতা দেন বিভাগের সকল শিক। আর তারপর থেকেই প্রতি বছরের পয়লা বৈশাখের নানা আয়োজনের সাথে চন্দ্রবিন্দু’র মোড়ক উন্মোচন এখন রীতিতেই দাঁড়িয়ে গেছে ফোকলোর বিভাগের শিক-শিার্থীদের কাছে।

কেবল দেয়ালিকা তৈরিই নয়, এর রণাবেণের দায়িত্বটাও শিার্থীরাই পালন করে থাকে। এই বিভাগের সকল শিক-শিার্থী চাঁদা তুলে খরচ মেটায় চন্দ্রবিন্দুর রং আর উপকরণের। তৃতীয় বর্ষের শিার্থী আলী আজগড় খোকন বললেন, হারিয়ে যাওয়া চন্দ্রবিন্দুর স্রষ্টা ‘চন্দ্রবিন্দু পরিবার’ই এখন  আমাদের বিভাগের শিক-শিার্থীদের সম্পর্কের সেতু বন্ধন।

এই দেয়ালিকাটিই বিশ্বের সর্ববৃহৎ দেয়ালিকা বলে দাবি করেছেন বিভাগের শিক-শিার্থীরা। ফোকলোর বিশেষজ্ঞ ও বিভাগীয় অধ্যাপক ড. আবুল হাসান চৌধুরী বললেন, দেয়ালিকা সচরাচর কাঠের কাঠামোতে তৈরি হয়। চন্দ্রবিন্দুর মত এত বিশাল আকৃতির দেয়ালিকা সাধারণত হয় না। সেই দৃষ্টিকোন থেকে বিচার করলে আমার মনে হয় এটিই সর্ববৃহৎ দেয়ালিকা।

ফোকলোর বিভাগের সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. সাইফুদ্দিন চৌধুরী জানান, আমার সহকর্মী ও শিার্থীরা ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করে এ ধরণের আর কোন দেয়ালিকার সন্ধান পাননি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশাল আকৃতির দেয়ালচিত্র বা চিত্রকর্মের কথা শোনা গেলেও ‘চন্দ্রবিন্দু’র মত এমন বিশাল আকৃতির দেয়ালিকার কথা আমার জানা নেই। এ কারণেই আমরা এটিকে বিশ্বের সর্ব বৃহৎ দেয়ালিকা বলে দাবি করছি। এর চেয়ে বড় দেয়ালিকার যদি থাকে তবে তা সময়ই প্রমাণ করবে।

সালাহউদ্দীন মুহম্মদ সুমন, রাজশাহী থেকে

 

Print Friendly