অসৎ উপার্জনের টাকায় কোরবাণী হয় না : মাওলানা সাঈদ আহমাদ

সাহিত্য বাজার

ggবনের পশু মুক্ত করে
মনের পশুরে কর জবাই
সবচেয়ে প্রিয় ধন,
যদি কর কোরবান
পশুদের সাথে সমাজটাও বাঁচে,
বাঁচুক বিশ্ববাসী সবাই।
পবিত্র ঈদুল আয্হা সন্নিকটে। ইতোমধ্যেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে গরুর হাট ইজারা দেয়া নেয়ার জোড় প্রতিযোগিতা। আর এ নিয়ে চলছে দ্বন্ধ-সংঘাত। রাস্তায় রাস্তায় চাঁদাবাজীর অভিযোগ গরু ব্যবসায়ীদের। পশু কোরবাণী হবে। সামর্থবান মুসলমান মাত্রই এই দিনটির অপেক্ষায় আছেন। লাখ-কোটি টাকার বিনিময়ে গরু-ছাগল ক্রয়ের প্রতিযোগিতায় নামবেন অনেকে। আর তাদের এই প্রতিযোগিতায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে কবির বহু ব্যবহৃত কবিতাটিকে একটু ঘুরিয়ে দিয়ে যদি এভাবে বলি সেটা কি অপরাধ হবে।
শুনেছি ‘প্রতিবেশি যদি অভুক্ত বা বিপদে থাকে তাহলে হজ্ব বা কোরবাণী কোনোটাই আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না।’ এটা কতটা সত্য বা কতটা কে পালন করেন জানিনা। তবে এটা সত্যি যে, মানবতার শ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলাম কখনো কোনো অন্যায়কে সমর্থন করেনা। তাই তো প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) বারবার বলেছেন, ‘কসম আল্লাহর, ঐ ব্যক্তি মুসলমান নয়, যার প্রতিবেশী অভূক্ত বা কষ্টে রয়েছে।’
কোরবাণীর প্রথম ও প্রধান শর্তই হচ্ছে- নিজের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু বা জিনিষটা উৎসর্গ করা। যে কারণে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) প্রিয় সন্তান ইসমাইল (আঃ)কে কোরবাণী করতে গিয়েছিলেন। আল্লাহ এখানে পরিস্কার বুঝিয়েছেন মনের ভিতরের প্রিয় যে ধন, সেটাকে উৎসর্গ করার জন্য।
এই যুগের আধুনিক মানুষের বা মুসলমানের প্রিয় ধন কি? তার মনের চাওয়া পাওয়াকেই সে কি উপেক্ষা করতে পারে। বলা যায, খারাপ চিন্তা, খারাপ কাজ বা অন্যায়ভাবে উপার্জন করাই এ যুগের মানুষের সবচেয়ে প্রিয় সম্পদে পরিণত হয়েছে। ঐ অন্যায় উপার্জনের টাকায় সে গরু কেনার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে যে কোরবাণী দিচ্ছে তা কতটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে?
এ বিষয়ে দুধল আলিয়া মাদ্রাসার পীরজাদা ও অধ্যক্ষ মুফতি মোহম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, কোরবাণীর পশু অবশ্যই হালাল উপার্জনের টাকায় হতে হবে। সবচেয়ে ভাল হয় যদি গৃহপালিত পশু, যেটার উপর মায়া জন্মেছে, সেটা কোরবাণী করা হয়। মনের ভিতর কোনরকম কুচিন্তা রেখে বা অপরের ক্ষতি করে কখনো কোরবাণী হয় না। আবার কোনো প্রতিবেশীর ঘরে খাবার কেনার টাকা নেই, তাকে সাহায্য না করে যদি কেউ আগে কোরবানীর দিতে ব্যস্ত হয়, সে কোরবাণীও আল্লাহ গ্রহণ করবেন না। তিনি মহাজ্ঞানী, অন্তর্যামী ও সর্বদ্রষ্টা।
মিরপুর ৬ নং সেকশন মসজিদ ই বায়তুল ফালাহ এর ঈমাম মাওলানা সাঈদ আহমাদ বলেন, ঐ ব্যক্তির উপর কোরবাণী ফরয করা হয়েছে যার হালাল উপার্জনের অর্থে নিয়মিত জাকাত প্রদান করা হয়েছে এবং জাকাত প্রদান করার মত সমপরিমান টাকা তার সঞ্চয়ে আছে। অর্থাৎ সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা ৫২ ভরি রোপ্য পরিমাণ টাকা উদ্বৃত্ত থাকলে তার জন্য কোরবাণী ফরয।
১১ অক্টোবর, শুক্রবারের জুম্মার খুতবায় তিনি এ বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান করে বলেন,  হালাল উপার্জন নয় এমন কেউ যদি কোরবাণী ও জন্য শরিকও হয়, তবে সে নিজের সাথে সাথে অন্যের কোরবাণীকেও নষ্ট করছে।

Print Friendly