নির্মলেন্দু গুণ ও মৃত্তিকা গুণ এর কবিতা

অতিথি লেখক

নির্মলেন্দু গুণ

144আবার যখনই দেখা হবে

আবার যখনই দেখা হবে, আমি প্রথম সুযোগেই
বলে দেব স্ট্রেটকাটঃ ‘ভালোবাসি’।
এরকম সত্য-ভাষণে যদি কেঁপে ওঠে,
অথবা ঠোঁটের কাছে উচ্চারিত শব্দ থেমে যায়,
আমি নখাগ্রে দেখাবো প্রেম, ভালোবাসা, বক্ষ চিরে
তোমার প্রতিমা। দেয়ালে টাঙ্গানো কোন প্রথাসিদ্ধ
দেবীচিত্র নয়, রক্তের ফ্রেমে বাঁধা হৃদয়ের কাচে
দেখবে নিজের মুখে ভালোবাসা ছায়া ফেলিয়াছে।

এরকম উন্মোচনে যদি তুমি আনুরাগে মুর্ছা যেতে চাও
মূর্ছা যাবে,জাগাবো না,নিজের শরীর দিয়ে কফিন বানাবো।

‘ভালোবাসি’ বলে দেব স্ট্রেটকাট, আবার যখনই দেখা হবে।

একটি খোলা কবিতা

03আসুন আমরা আগুন সম্পর্কে বৃথা বাক্য
ব্যয় না করে একটি দিয়াশলাইয়ের কাঠি
জ্বালিয়ে দিয়ে বলিঃ ‘এই হচ্ছে প্রকৃত আগুন ।
মীটসেফ খোলা রেখে, বিড়ালকে উপদেশ দিয়ে
অযথা সময় নষ্ট ক’রে লাভ নেই, আসুন
আমরা মীটসেফের দরোজাটা বন্ধ করে দেই ।’

পুঁজিবাদী শোষণের পথ খোলা রেখে
সম্ভব নয় প্রকৃত মুক্তির স্বপ্ন দেখানো ।
ফুঁটো চৌবাচ্চায় জল থাকবার কথা নয়,
সে বেরিয়ে যাবেই; ওটাই জলের ধর্ম ।
আমাদের ধর্ম ভিন্ন হলেও টাকার ধর্ম একই ।

বুদ্ধিমান কৃষক তাই আগাছা উপড়ে ফেলে সময়মত,
নইলে তার কষ্ট-কর্ষিত জমিতে কি ফলতো ফসল?
পরগাছার আক্রমণ থেকে ফলবান বৃক্ষকে
রক্ষা করতে হয় পরগাছার গোড়া কেটে দিয়ে ।
রক্তচোষা জোঁকের মুখে দিতে হয় থুথু, অথবা চুন,
প্রচন্ড আঘাত ছাড়া
পৃথিবীতে কবে কোন দেয়ার ভেঙেছে?
পরশ্রমভোগী ধনিক শ্রেণীর সর্বনাশ ছাড়া দরিদ্রের
পুষ্টিসাধনের সংকল্প হচ্ছে চমৎকার অলীক কল্পনা ।

সুফল লাভ কি সম্ভব সুকর্ম ব্যতিরেকে?
কিংবা শস্য ভূমিকর্ষণ ছাড়া?
হাতুড়ে বৈদ্য গাংরিন সারাতে চান
ক্ষতস্থানে পুরনো ঘি মালিশ করে,
শিক্ষিত ডাক্তার পরামর্শ দেন অপারেশনের ।
তাতে কিছু রক্তপাত হয় বটে,
হয়তো কেটে ফেলতে হয় কোন প্রিয় অঙ্গ–
কিন্তু ব্যাধি থেকে মুক্তির জন্য ওটা এমন কিছু নয় ।
এর কোনো সহজ বিকল্প নেই । এটাই নিয়ম ।

কথার ফুলঝুড়িতে চিড়ে ভিজানোর ব্যর্থ চেষ্টায়
সময় নষ্ট না করে আসুন আমরা জলের কথাই বলি ।

মৃত্তিকা গুণ এর কবিতা

01

দেখ
সব ছুঁয়ে পড়ে থাকে কষ্ট ।
নীল থেকে নীলে যে তার আকাশ।
বিষাদ আচল এ ঢেউ স্পষ্ট
ঝড় জলে সকলেই নষ্ট
দেখ
চোখে জমে জল নাকি কষ্ট।
প্রেমিকের ভাষা অস্পষ্ট
কালো থেকে কালোয় করে যে বাস।

 

 

 

 

অবাধ্য বুদবুদ

মৃত্তিকা গুণ এর কাব্যগ্রন্থ 'নক্ষত্র ঘাস'

মৃত্তিকা গুণ এর কাব্যগ্রন্থ ‘নক্ষত্র ঘাস’

আমার বোধগুলো তোমাকে দেখলেই
অবাধ্য বুদবুদের মত উপরে উঠতে থাকে।
সূর্যের আলো পড়ে লাল হয় নীল হয় বেগুনী, সবুজ হয়
অবাধ্য বুদবুদের মত …

কাঁচ ভাসা জলের মত তোমার দিকে তাকাতে পারি না।
তোমার চোখে আমার ভুলগুলো এতো স্পষ্ট হয়!

তোমার চোখ কাঁচ ভাসা জলের মত …
আমার লোমগুলো ঘাসের মত, মাটির এই শরীরে
তুমিই সূর্য তাই আলোর উদ্দেশ্যে কাঁটা দিয়ে ওঠে।
তোমার আলোয় আমার শরীর আজ ঘাস হয়ে ওঠে …

Print Friendly