তবুও নির্বাচন : বেশির ভাগ নৌকা প্রার্থীর চরম অপমান

আরিফ আহমেদ

Photo0316

ফাকা ভোটকেন্দ্র প্রহরায় পুলিশ।

তবুও চলছে গণতন্ত্র হত্যার নির্বাচন। দেশের ৯০ ভাগ মানুষের এমনকি খোদ আওয়ামী লীগের সমর্থক স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন-এর মতো শত শত সমর্থকদের বাধা-নিষেধ উপেক্ষা করে ৫ জানুয়ারি সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন ও শেখ হাসিনা সরকার। সারাদেশে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিপক্ষে মহাজোট বা ছাত্রলীগ হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী। কোনো কোনো আসনেতো নিজ প্রার্থীর বিপক্ষে এমন সব প্রার্থী দাঁড় করিয়েছেন আ.লীগ নেতারা যে এতে করে নৌকা প্রার্থীর জন্য চরম অপমানের নির্বাচন হচ্ছে এটি। রানিং একজন সাংসদের বিপক্ষে যে প্রার্থীকে দাঁড় করানো হয়েছে, সে প্রার্থীর আদতে নির্বাচনে দাঁড়ানোর মতো কোনো যোগ্যতাই নেই বলে অভিযোগ রয়েছে একাধিক আসনে।

এমনই একটি আসন মিরপুর ১৬। এখানে ১৪ দলের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার বিপরীত প্রার্থী হয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা সরদার মোহাম্মদ মান্নান কচি। নৌকার পাশে আনারস নিয়ে কচির এই প্রতিযোগিতায় তিনি জেতেন বা হারেন ক্ষতি নেই কোনো, তবে এটা যে নৌকা প্রার্থীর চরম অপমানে এতে কোনো সন্দেহ নেই বলে দাবি করছেন সয়ং আওয়ামী লীগ নেতারাই।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফকির মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার বিপরীত এখানে বিএনপির ব্যরিষ্টার রফিকুল ইসলামই টেকবে না। সেখানে কচি’র প্রার্থী হওয়াটা সাধারণ মানুষ ভালো চোখে দেখছে না।

তার কি ৫০০ ভোটের সমর্থন আছে? প্রশ্ন তুলে একই কথা বলেন রুপনগর এলাকার বাসিন্দা ও থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাত্তার মোল্লা । তিনি জানান, এখানে মোল্লা পরিবারের ভোট ব্যাংক হিসেবে প্রায় ৪০ হাজার ভোট রয়েছে। হারুনাবাদের হারুন মোল্লা বস্তি, আলোকদি গ্রাম এবং লালমাটিয়া বেরিবাঁধ এলাকায় এসব ভোট রয়েছে। বিএনপির তেমন কেউ না থাকায় সুষ্ঠধারার নির্বাচনেও ইলিয়াম মোল্লার বিপরীতে কেউ টিকবে না।

সাত্তার মোল্লা আরো বলেন, ‘আনারস প্রতীকের এসএম মান্নান কচি ঢাকার বাইরে থেকে ভাড়াটে গুণ্ডা এনে এলাকার সাধারণ ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এতে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে মিরপুর এলাকার ৩১টি কেন্দ্র। ফরিদপুর ও এর আশপাশের এলাকাগুলো থেকে ওই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম মান্নান কচি ওইসব ভাড়াটেদের আনছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। উল্লেখ্য যে, আনারস প্রতীকের এই কচি মিরপুরের বহুল আলোচিত সাবেক কমিশনার নান্নুর ছোট ভাই।

12

আলহাজ্ব ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা

ঢাকা ১৬ আসনের একটি ভোট কেন্দ্র শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়। সেনাবাহিনীর গাড়ির টহল, রাস্তার উপর প্যান্ডেলে আওয়ামী কর্মীদের তৎপরতা আর সাংবাদিকদের আনাগোনা ছাড়া শান্ত পরিবেশ। এখানে মিরপুর ১৬ আসনের প্রার্থীদের জন্য ভোট গ্রহণ চলছে। ভোটার উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে।

ঢাকা ১৬ তে ২,৩,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ড অর্থাৎ আলোকদি, দুয়ারীপাড়া, রুপনগর, এভিনিউ ফাইভ ৬নং সেকশন ও ৭ নং সেকশনের কিছু অংশ নিয়ে আলহাজ্ব ইলিয়াস মোল্লা এমপি বিগত নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। এ আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৩ লাখ ৪২ হাজার ৭৪০ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৬১ ও নারী ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৭৯ জন। এসব ভোটারদের ভোট প্রদানের জন্য মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৩৭টি।

11

সরদার মোহাম্মদ মান্নান কচি

এখানে বেলা ২টার দিকে সরদার এম মান্নান কচি নির্বাচনে কারচুপি হচ্ছে বলে অভিযোগ এনেছেন নৌকা প্রার্থীর বিরুদ্ধে।

প্রায় একই চিত্র রয়েছে ১৪ ও ১৫ নং আসনে। বিগত ১/১১ সরকারের আমলে এই আসনকে ভেঙ্গে ৩টি আসন করা হলে ঢাকা ১৪ মিরপুর-কাফরুল ও ক্যান্টনমেন্ট এর কিছু অংশ নিয়ে কামল মুজুমদার, ঢাকা ১৫ গাবতলি, বাগবাড়ি, হরিরামপুর, লালকুঠি, ১ম ও ২য় কলোনী, মিরপুর ১ পরোটা ও ২ এর পূর্বমনিপুর, বড়বাগসহ ৭নং ওয়ার্ড এর কিছু অংশ নিয়ে আসলামুল হক এবং ঢাকা ১৬ তে ২,৩,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ড অর্থাৎ আলোকদি, দুয়ারীপাড়া, রুপনগর, এভিনিউ ফাইভ ৬নং শেকশন ও ৭ নং সেকশনের কিছু অংশ নিয়ে আলহাজ্ব ইলিয়াস মোল্লা নির্বাচিত হয়েছেন।

১৫ নং আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের আরেক নেতা এখলাস উদ্দিন মোল্লা নৌকা প্রতীকের কামাল আহমেদ-এর বিরুদ্ধে কারচুপীর অভিযোগ এনে বেলা ২টায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়ার বাসিন্দারা জানান, এই আসনে এখলাস মোল্লার ৩০০ ভোটও পাওয়ার সমর্থ নেই। এখানের কেউ তাকে চেনেনা। এমন প্রার্থী না দিয়ে সরাসরি জয়ী ঘোষণা করলেই ভালো হত। অনেক টাকা অপচয় থেকে রক্ষা পেত।

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হলেও কতটা লাভবান হবেন? নাকি আগামী ২১ সালের পথ পরিস্কার করতে সত্যিকার অর্থেই গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরতে যাচ্ছেন তারা, এটাই এখন দেকার অপেক্ষা। সেই সাথে এটাও বলা প্রয়োজন যে , এই নির্বাচন করে আ.লীগ বা মহাজোট সরকার তার প্রার্থীদের চরম অপমান করলেন, ছোট করলেন। যে কারণে আগামী নির্বাচনে (যদি হয়) এরা কেউ আর প্রার্থী হিসেবে ভোটারদের কাছে গ্রহণ যোগ্য হবেন না। এটা এথন চোখ বুঝে বলে দেয়া যায়।

Print Friendly

About the author

ডিসেম্বর ৭১! কৃত্তনখোলার জলে সাঁতার কেটে বেড়ে ওঠা জীবন। ইছামতির তীরঘেষা ভালবাসা ছুঁয়ে যায় গঙ্গার আহ্বানে। সেই টানে কলকাতার বিরাটিতে তিনটি বছর। এদিকে পিতা প্রয়াত আলাউদ্দিন আহমেদ-এর উৎকণ্ঠা আর মা জিন্নাত আরা বেগম-এর চোখের জল, গঙ্গার সম্মোহনী কাটিয়ে তাই ফিরে আসা ঘরে। কিন্তু কৈশরী প্রেম আবার তাড়া করে, তের বছর বয়সে তের বার হারিয়ে যাওয়ার রেকর্ডে যেন বিদ্রোহী কবি নজরুলের অনুসরণ। জীবনানন্দ আর সুকান্তে প্রভাবিত যৌবন আটকে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পদার্পন মাত্রই। এখানে আধুনিক হবার চেষ্টায় বড় তারাতারি বদলে যায় জীবন। প্রতিবাদে দেবী আর নিগার নামের দুটি কাব্য সংকলন প্রশ্ন তোলে বিবেকবানের মনে। তার কবিতায়, উচ্চারণ শুদ্ধতা আর কবিত্বের আধুনিকায়নের দাবী তুলে তুলে নেন দীক্ষার ভার প্রয়াত নরেণ বিশ্বাস স্যার। স্যারের পরামর্শে প্রথম আলাপ কবি আসাদ চৌধুরী, মুহাম্মদ নুরুল হুদা এবং তৎকালিন ভাষাতত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজীব হুমায়ুন ডেকে পাঠান তাকে। অভিনেতা রাজনীতিবিদ আসাদুজ্জামান নূর, সাংকৃতজন আলী যাকের আর সারা যাকের-এর উৎসাহ উদ্দিপনায় শুরু হয় নতুন পথ চলা। ঢাকা সুবচন, থিয়েটার ইউনিট হয়ে মাযহারুল হক পিন্টুর সাথে নাট্যাভিনয় ইউনিভার্সেল থিয়েটারে। শংকর শাওজাল হাত ধরে শিখান মঞ্চনাটবের রিপোটিংটা। তারই সূত্র ধরে তৈরি হয় দৈনিক ভোরের কাগজের প্রথম মঞ্চপাতা। একইসমেয় দর্শন চাষা সরদার ফজলুল করিম- হাত ধরে নিযে চলেন জীবনদত্তের পাঠশালায়। বলেন- মানুষ হও দাদু ভাই, প্রকৃত মানুষ। সরদার ফজলুল করিমের এ উক্তি ছুঁয়ে যায় হৃদয়। সত্যিকারের মানুষ হবার চেষ্টায় তাই জাতীয় দৈনিক রুপালী, বাংলার বাণী, জনকণ্ঠ, ইত্তেফাক, মুক্তকণ্ঠের প্রদায়ক হয়ে এবং অবশেষে ভোরেরকাগজের প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়ান ৬৫টি জেলায়। ছুটে বেড়ান গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। ২০০২ সালে প্রথম চ্যানেল আই-্র সংবাদ বিভাগে স্থির হন বটে, তবে অস্থির চিত্ত এরপর ঘনবদল বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, আমাদের সময়, মানবজমিন ও দৈনিক যায়যায়দিন হয়ে এখন আবার বেকার। প্রথম আলো ও চ্যানেল আই আর অভিনেত্রী, নির্দেশক সারা যাকের এর প্রশ্রয়ে ও স্নেহ ছায়ায় আজও বিচরণ তার। একইসাথে চলছে সাহিত্য বাজার নামের পত্রিকা সম্পাদনার কাজ।