টানাপোড়েন : নীল নির্জন

সাহিত্য বাজার

Sharing is caring!

22টানাপোড়েন।
নীল নির্জন
মেয়ের সাথে রমার সম্পর্কটা দিনে দিনে জটিল হয়ে উঠছে। মিলির ব্যাবহারের মধ্যে একটা চাপা অসন্তোষ লক্ষ্য করছেন রমা বেশ কিছুদিন হল। অথচ দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য মতবিরোধ কিছুই ঘটেনি। আর এটাই চিন্তায় ফেলেছে রমাকে। মিলি এমনিতেই চাপা স্বভাবের মেয়ে। কিন্তু নিজের পছন্দ অপছন্দের ব্যাপারে খুব দৃঢ়। সেই জন্যেই মেয়েকে সমীহ করেন রমা।

রমেনের ব্যবসার কাজের বাইরে আর বিশেষ কিছুতে আগ্রহ নেই সেরকম। সংসার সামলানো মেয়েকে বড়ো করা সবটাই রমা এক হাতে করে এসেছেন। সবকিছুই ঠিকমত চলছিল। গন্ডোগোলটা লক্ষ করলেন মৌয়ের বিয়ের রিসেপশান থেকে ফিরে অাসার পরের দিন থেকেই। মিলি চাপা স্বভাবের হলেও, চুপচাপ থাকার পাত্রী নয়। তাই মিলির এই হঠাৎ পরিবর্তন রমার কপালে বেশ ভাঁজ ফেলে দিল।:

মৌয়ের রিসেপশানের অনুষ্ঠানে কি এমন ঘটল যে মিলির মধ্যে রমার প্রতি এমন চাপা একটা অসন্তোষ জন্ম নিল। সেই কথাটাই ভাবছিলেন বাথরুমে ঢুকে শাওয়ারের তলায় দাঁড়িয়ে। তখনই বিমানের কলটা এল। শাওয়ার বন্ধ করে টাওয়েলে কোনক্রমে হাতটা মুছে নিয়ে ফোনটা ধরলেন রমা

-হ্যালো। শোন, অামি শাওয়ারের তলায়। তোমায় একটু পরে রিং ব্যাক করছি।
– ওকে, ঠিক অাছে। আমি ততক্ষণে তোমায় মনোশ্চক্ষে দেখে নিই এই অবসরে।

– ধ্যাৎ, অসভ্য। আজবাদে কাল বাড়িতে ছেলের বৌ নিয়ে আসবে, তবু স্বভাব বদলাল না।

বিমানের হাসির শব্দে রমাও হেসে ফেললেন ফোন রাখতে রাখতে।

বিমানের সাথে প্রথম আলাপের দিনটা আজও মনে পরে। বিখ্যাত’ গাইনোকলজিস্ট বিমান সেনের নামটা রমেনকে ওরই কোনো এক বন্ধু দিয়েছিল। তখনই যথেষ্ট পসার বিমানের। সহজে ডেট পাওয়া যেত না। সেই বন্ধুর সোর্সেই যাওয়া হয়েছিল।

মেইনল্যান্ড চায়নায় পৌঁছাতে একটু দেরিই হল রমার। গড়িয়াহাটে কি: একটা ছোটখাটো মিছিলের জন্য রাস্তা বন্ধ ছিল কিছুক্ষণ। রমার জন্য বিমান একটু অস্থির হয়ে পড়ছিলেন। বারে বারে ফোন করছিলেন, আর কতক্ষণ।

বিমানের সাথে প্রথম দেখার দিনেই রমার মনে হয়েছিল ডাক্তার না হয়ে সিনেমার হিরো হলেই বিমানকে মানাতো ভালো।

-শোন রমা, বিমান যেন একটু সিরিয়াস হয়েই কথা শুরু করেন।
মনে হচ্ছে আমাদের আর একটু সাবধান হতে হবে।

হঠাৎই বুক কেঁপে ওঠে রমার।
-তোমার মুখে এই কথা? অবাক। হয়েই বিস্ময় প্রকাশ করেন রমা।

-মনে হচ্ছে মিলি অার মৌ কিছু একটা আঁচ করেছে।

ঠিক এই ভয়টা মনের মধ্যে গোপন করার চেষ্টা করছিলেন রমা এই কটা দিন।

– কিন্তু তা কি করে সম্ভব বিমান? তুমি আর আমি ছাড়া আর তো। কেউ……
রমাকে মাঝ পথে থামিয়ে দেন বিমান,- সে কথা নয়।

-তবে?

-মনে হচ্ছে তোমার অামার এই ঘনিষ্ঠতাটা মিলি আর মৌ হয়তো ঠিক পছন্দ করছে না।

– মৌ তোমাকে কিছু বলেছে?

না, সেরকম কিছু নয়, তবে পলার মৃত্যুর পর আর কেন বিয়ে করলাম না সেটা জানতে চায় আজকাল।

-মিলির মধ্যেও একটা চাপা অসন্তোষ দেখছি মৌয়ের রিসেপশান থেকে ফেরার পর থেকেই।

– কিছু বলেছে তোমায় রমা?

– না, জানোই তো কেমন চাপা স্বভাবের। কিন্তু একেবারে খিটখিটে হয়ে উঠছে আজকাল।

-মিলি খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে! মিলি?

ভীষণ অবাক হন বিমান।
-আর রমেন? মেয়ের পরিবর্তন দেখে কিছু বলছে তোমায়?

– রমেনের চোখে পড়লে তো। ব্যাবসার বাইরে কোনো কিছু নজরে পড়ে ওর কনোদিন? নয়তো অত বছর পর বাবা হল কি করে কনোদিন ভেবে দেখেছিল কোনোদিন!

– ভাগ্যিস দেখেনি। তবে রমা সেদিন সন্তানের জন্যে তোমার থেকেও উতলা ছিল বেশি, তোমাদের সাথে প্রথমদেখার দিনটা আমার আজও স্পষ্ট মনে পড়ে রমা।

– আমারও বিমান

Print Friendly, PDF & Email

Sharing is caring!