জুম্মার খুতবা : যদি শন্তি চাও, নবীজীর সুন্নতকে আকঁড়ে ধর

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাহিত্য বাজার

২ জানুয়ারি শুক্রবার, ২০১৪। ইংরাজী নববর্ষের ২য় দিন এবং আরবী বর্ষের ১ম রবিউল আউয়াল। এই মাসেই নবী করিম হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) জন্মগ্রহণ করেন। তাই এ দিনটিকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন দাবি করে মিরপুর ৬ নং শেকসন বাইতুল ফালাহ মসজিদের ইমাম মাওলানা সাঈদ আহমggদ বলেন, নবী করিম হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ)-এর ;দেখানো পথ থেকে তাঁর মুসলিম উম্মাহ অনেক দূরে সরে এসেছে। তাই বিশ্বজুড়ে আজ মুসলমানরা নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছেন। পবিত্র কোরআনে আর রসুলের অনুসরণই মুসলমানের জন্য একমাত্র সংবিধান। যা সকল মানবজাতির শান্তির নিশ্চয়তা প্রদান করতে পারে।

জুম্মার খুতবায় তিনি হযরত ওমর (রাঃ)-এর দুটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন,েএকজন মুসলমানের প্রথম দায়িত্ব আরেকজন মুসলমানের মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলা। যে হাসি দেখার জন্য হযরত ওমর (রাঃ) নিজের পিঠে বোঝা বয়ে নিয়ে গরিব প্রজাকে রান্না করে খাওয়ালেন। যে হাসি দেখার জন্য নবীজী হযরত বছির (রাঃ)কে নিজের সন্তান বানালেন।

অন্যদিকে বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানাধীন দুধল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জুম্মার নামাজের খুতবায় মুফতি মাওলানা সাইফুল ইসলাম বলেন, শপথ আল্লাহর, শপথ পবিত্র কোরআনের। ঐ ব্যক্তি মুসলমান নয়, যার দ্বারা প্রতিবেশীর অনিষ্ট হয়। শান্তির ধর্ম ইসলামকে যারা অশান্তি সৃষ্টির জন্য ব্যবহার করছে তারা মুনাফিক। বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফের উদ্বৃতি দিয়ে মাওরানা সাইফুল আরো বরেন, অসহায় মানুষের হেফাজত করা আর অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই মুসলামানের প্রধান দায়িত্ব। আপনার আমার প্রতিবেশী যদি সে অন্য ধর্মের মানুষও হয়, তার পাশে দাঁড়ানোই ইসলামের আদেশ। ইসলাম এমন এক ধর্ম যার জন্য সারাবিশ্বকে নতজানু করে দিয়েছেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। মুসলমানের দৈর্য, আচারণ, ত্যাগ আর অপরসীম মহত্ব দেখে মুগ্ধ হয়ে অন্য ধর্মের লোকেরা মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করবে। এটাই নবীজী তার বিদায় হজ্জেও বারবার ইঙ্গিত করে গেছেন। কিন্তু আজ আমরা পরিবত্র কোরআন ও রসুলের দেখানো পথ থেকে দূরে সরে এসে বিশ্বজুড়ে অশান্তির স্বীকার হচ্ছি। কেন? কেন আমরা লোভ লালসায় মত্ত হয়ে কাফের মোনাফেকদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবো? এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ধ্বংস অনিবার্য।

বাংলাদেশ আমজনতা পরিষদ (বাপ)

এদিকে বিকাল তিনটায় রাজধানীর সহোরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরান্তনের পাশে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট ও অবিরাম ককটেল বোমা হামলায় চলন্ত গাড়ির যাত্রীদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান বাংলাদেশ আমজনতা পরিষদ (বাপ) এর সদস্যরা।

নতুন রাজনৈতিক দল বাপ – প্রস্তাবক আরিফ আহমেদ এ জন্য সবার আগে পুলিশ প্রশাসনের শাস্তি দাবি করেন। তিনি বলেন, সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যখন বলছে- দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সরকারের ও পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে, তখন কিভাবে প্রধান সড়কে চলন্ত বাসে পেট্টোল বোমা হামলা হচ্ছে? বাংলামটরের পুলিশ বাসে হামলার পর ২ জানুয়ারি শুক্রবার কি করে পরীবাগে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলো। এ জন্য সবার আগে পুলিশের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বিচার দাবি করেন বাপ প্রস্তাবক।েএ সময় তিনি সব দ্বিধা ভয় উপেক্ষা করে সুশীল সমাজ বা নাগরিক সমাজকে শান্তরে লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ আfন্দোন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

দোয়া মাহফিলে বাপ-এর নতুন সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের পুলিশ বাহিনী ইচ্ছে করলেই একদিনে সব বোমাবাজদের আটক ও শাস্তি প্রদান করতে পারে। আমাদের গোয়েন্দা বিভাগ এতোটাই শক্তিশালী যে স্বাধীনভাবে কাজ করতে সুযোগ দিলে দেশ থেকে সব অনাচার দূর হয়ে যাবে।

কিন্তু এ জন্যে তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরী। দোয়া মাহফিলে বাপ সদস্যরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে র‌্যাব ও পুলিশের গত ১০ বছরের আটক ও  জব্দকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমা তৈরি সরঞ্জাম গুলোর হিসেব গ্রহণ করার দাবি জানানো হয়। কারণ, তাদের ধারণা এসব আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম পুনরায় বিক্রি করে দেশে সন্ত্রাস বৃদ্ধি করা হচ্ছে, তানা হলে দেশে কিভাবে এতো বোমা ও  অস্ত্র প্রবেশ করছে। এসব পেট্রোল বোমা কোথা থেকে আসছে?

Print Friendly