জামালপুর জেলার সংখ্যার কিছু কবিতা

সাহিত্য বাজার

001অন্ধজন
মাহবুব বারী

অন্ধের মতো হাত বাড়িয়েই আছি,
আমি অন্ধজন আমাকে কী দেবে? দাও।
দিতে পার হারানো দিনের গান,
সমুদ্রের স্বপ্ন, খররৌদ্র থেকে বৃষ্টির অমল ধারা,
কামিনীর গন্ধমাখা চাঁদের আলো,
অরণ্যের দিনরাত্রি দিতে পার
দক্ষিণ দিক থেকে ভেসে-আসা মৃদুমন্দ বাতাস
বেদনার লাল সালু, এক টুকরো নীল আকাশ,
ধূলিমাখা মলিন স্মৃতিকথা।
সব! সব আর ভালোবাসা।
এমনকি দিতে পার ঝকঝকে নতুন টাকাও।

সারবন্দি দুঃখ
বাকী বিলাহ্

06এই নিয়মিত জন্ম-মৃত্যু ব্যবধান সামাজিক নিয়ম-কানুন
হয়তো নিষ্ফল হবে, হয়তো বৃথাই বেদনা
মানুষে-মানুষেযদি কেউ খুব ভোরবেলা
এসে বলে ‘ভাইসব কী লাভ শোকাতুর হয়ে’- তাহলে কেমন হবে?
মানুষের শয্যায় নিভৃত গুহার মতো অস্থিরতা
যেন ঘড়ির পেণ্ডুলাম নড়ে-চড়ে ওঠে, কেঁপে যায় ক্রোধে কেন?
যদি মানুষের বুকের গভীরে আদিমতাময় বনভূমি
জেগে ওঠে শ্যাওলার মতো তা হলে কি প্রেম, নারী কিছু বলবে
না কিছু বলবে না বিপরীত মৌসুমে।
যদি ধ্বংসের মতো জেগে ওঠে তৃতীয় পুরুষ
আমি সুখহীন ব্যথিত কুমার
এই যে বাগান, সবুজ কটেজ, বোতলের দুধ সবকিছু ফেলে
তোমাদের হাত ধরে দেখাব চুলের কালো,
নীলরঙা চোখরাজ পথে চুমু খাব প্রেমিকার ঠোঁটে,
ভূমিহীন চাষি হব চলে যাব শব্দের সংসারে ফিরে আসব না।
পাতা উল্টে যাই
আহমদ আজিজ
05পাতা উল্টে যাই-সভ্যতার, পৃথিবীর,
এ-গ্রহের;অস্পষ্ট পঙ্ক্তির মতো
সময়ের মাঝে বসে দূরতর আলোকের মতো
বিষাদ সন্ধ্যায় পাতা উল্টে যাই আমি নির্জন দ্বীপের মতো মনে।

একদিন মানব আত্মার কোন অতীত প্রত্যুষে
মঙ্গলের গান গেয়ে উঠেছিল সংগ্রামী মানুষ
আগামীর আহ্বানে- সম্পর্কের বন্ধনের মতো
এই গ্রহে, পৃথিবীতে- পুরনো সে-ইতিহাস আজ।

তারপর অতিক্রান্ত হলো কত শতাব্দবছর…
কত দূর এগোলো মানুষ? আমি পাতা উল্টে যাই,
আমি পাতা উল্টে যাই নির্জন দ্বীপের মতো মনে
দূরতর আলোকের মতো ম্লান বিষাদ সন্ধ্যায়।

অন্তিম প্রার্থনা
মীর আনিসুল হাসান
কেশকাটা স্যামসনের মতো তুমি চলে গেলে
চলে যাবে মেঘ, বেদনার ভার।

যদি তুমি চলে যাও ইউলিসিসের মতো ধূসর ইথাকা ছেড়ে,
উদাসীন জনতা ছেড়ে-দেলাইলার প্রতারিত
প্রেম থেকে রক্ষা পাবে তুমি
জারকরসের মতো বেড়ে যাবে তোমার খাদ্যরুচি।

পাখি, পতঙ্গ, ঘাসফড়িং, মাটির পৃথিবী, আকাশ
তোমাকে সাদরে চুমু খাবে,
বইয়ের প্রেমময় পাতায় গ্রন্থিত কালো অক্ষরগুলো
কাতর ভঙ্গিতে তোমাকে বলবে-আমাদের বুকে চেপে ধরো
আমাদের বুকে চেঁপে ধরে আনন্দে কাঁদো এইবার!

প্রমিথিয়ুস, সিসিফাস, ফস্টাস, লীয়ার ম্যাকবেথ,
বিশ্বামিত্র আর অস্থির হ্যামলেট
ডাকছে তোমাকে- তুমি যাও, তুমি যাও…

আমার জন্য ভেবো না বন্ধু-যুদ্ধে-যজ্ঞে
চলে গেছে আমার পা, আমার হাতচোখ থেকে চলে গেছে
আলোবুক থেকে দ্রোহের আগুন;এখন আমি
গুলি খেয়ে মুখ থুবড়ে-পড়া এক অশ্ব চলৎশক্তিহীন,
অচল, মৃতবৎ-আমাকে দিয়ে আর কিছুই হবে না বন্ধু!

তাই হে বন্ধু যাবার প্রাক্কালে তোমার বন্দুক থেকে
একটি গুলিছুড়ে দাও আমার বক্ষে, শুধু একটি গুলি…

বেসাতি
সামসাদ জাহান

ঝুপঝাপ সন্ধ্যা নামলেই চোখের ক্লান্তি খুঁজে খুঁজে
একটি মানুষ কেমন নিঃশেষ হয়ে যায়
সুখের স্থায়িত্বে বিরক্ত ভীষণ
অথবা একাকিত্বই এমন কোনো এক দুঃসহ দুঃখে দুঃখিত
ভালোবাসার কাছ থেকে পালানো

চোর চোর খেলায় সুখের সংজ্ঞা
অন্যরকমভাবে পেয়েছে আদল কখনো হাসি
কখনো কান্না কখনো মুষ্টিবদ্ধ হাত আক্রোশে উদ্ধত
কখনো আবেগে মধুর স্নিগ্ধ বুঝতে গেলে মিলবে না কিছুই!‍

তবু অদ্ভুত তার বুকের পাঁজরে লুকানো কৌটোয় একটি হৃদয়
হীরের মতো দ্যুতিময়-বাঁচিয়ে রাখে তাকে, মানুষটিকে
জীবনের কাছে বিশ্বস্ত হতে শেখায়।

খেলনা আমার খেলনা
সাযযাদ আনসারী

তুমি আমার এমন সর্বনাশা
তোমার শরীর ছোঁয়া মানে
স্বর্গ ছুঁয়ে আসা।

কালো রাতের কষ্ট নিয়ে আসি
তোমার কথায় বেজে ওঠে
পান্নালালের বাঁশি
তুমি আমার এমন অগ্নিখেলা
তুমি ছাড়া এই জীবনের
কাটে না একবেলা।

তুমি আমার এমন বিষের বাটি
তোমায় চুমু দেয়া মানে
জ্যোৎস্না পরিপাটি।

জীবন মানে রৌদ্রছায়ার ছবি
জীবন তো এক টুকরো সময়
সোনার পাথর বাটি
তুমি আমার এমন সর্বনাশা
তোমায় ভালোবাসা মানে
আমায় ভালোবাসা।
শেখ সাইফুল্লাহ রুমী’র গুচ্ছ কবিতা
অবিনশ্বর প্রেমময়ূর
18268496_1428721907202717_6134101838249677718_n

পুচ্ছধারী কাকেরা ঠুকরে ঠুকরে খাচ্ছে মৃত্তিকা মাখা প্রেম।
মাতৃ-অস্তিত্বে বারবার এঁকে দিচ্ছে কলঙ্কের প্রচ্ছদ।
সুশ্রী পোষাকের আড়ালে বিশ্রী অবয়ব।
মাতৃ-মৃত্তিকার প্রচ্ছদে ছবি এঁকে; আমি প্রতিবাদী কবিতার কবি…।

ভালোবাসার স্কেচ

অনাবিল জ্যোস্না প্লাবনে আলোকিত সন্ধ্যা
চারদিকে জোনাক মিছিল ;সম্ভাবনার কাব্যিক শহর
মুখোমুখি দাড়িয়ে তুমি আমি
এ যেন ভালোবাসার রসায়ন।
জ্যোস্নানুরাগে খুঁজি;চাঁদ জ্যোস্নার অন্ত্যমিল।

Print Friendly