জলপ্রেমিকের গল্প ও শিল্পৈষী প্রকাশিত নতুন বই

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাহিত্য বাজার

মোড়ক উম্মোচন শেষে রহিম বাধাই ঘরের স্বত্ত্বাধিকারী আঃ রহিম মিয়ার সাথে আমরা।

মোড়ক উম্মোচন শেষে রহিম বাধাই ঘরের স্বত্ত্বাধিকারী আঃ রহিম মিয়ার সাথে আমরা।

০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ বৃহস্পতিবার বিকালে নীলক্ষেত, কাটাবন ঢাকার রহিম বাধাই ঘরে চলছিল উৎসব আমেজ। একইসাথে ৬টি বইয়ের বাধাইকর্ম শেষ করে রহিম মিয়া যেন স্বস্তির নিঃশ্বাষ নিলেন। তার ক্লান্তি ও কষ্টে আনন্দ জোগাতেই যেন সাহিত্য বাজার সম্পাদক আরিফ আহমেদ এসে ঘোষণা দিলেন, কোনো মন্ত্রী মিনিস্টার বা এমপি সাংসদরা নয়, এখন থেকে আমার বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করবেন এই বইয়ের সাথে সংশ্লিষ্টজনরাই।

যে কথা সেই কাজ, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তেই ছোট্ট ঐ ঘরটিতে শিল্পৈষীর প্রকাশক সালাম খোকনকে নিয়ে জলপ্রেমিকের গল্প বইটির মোড়ক উম্মোচন করলেন আব্দুর রহিম। তারপর বিস্ময়ে কেদে ফেললেন তিনি। বললেন, জীবনে প্রথম তাকে দিয়ে কেউ এভাবে বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করালেন। এ সম্মান, এ ভালবাসা তার জন্য সৃষ্টিকর্তার রহমত বলে কাঁদলেন তিনি।

055অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭ মহাসমারহে শুরু হয়েছে। পুরো বছর ধরে অল্পবিস্তর বই প্রকাশিত হলেও মেলা উপলক্ষে প্রকাশকদের দম ফেলার  সময় নেই। অধিকাংশ বই মেলার সময়ই প্রকাশ হয়। সেই ধারাবাহিকতায় শিল্পৈষী প্রকাশনী থেকে নতুন ৭টি বই প্রকাশ হলো। চারটি কবিতার বইয়ের পাশাপাশি দুইটি গল্পের বই এবং একটি ভ্রমণ কাহিনী প্রকাশিত হয়েছে।

মো. সাখাওয়াত হোসেন সুজনের ‘যদি কখনো ভালোবাসো’ গ্রন্থে দশটি গল্প স্থান পেয়েছে। চলতে ফিরতে, এখানে সেখানে কত কিছুইতো আমাদের জীবনে ঘটে। সেখান থেকে নির্যাস বের করে লেখা হয়েছে গল্পগুলো। পড়ে যেনো মনে হয়- আরে সেদিনতো এমন একটা ঘটনা দেখলাম। কিংবা ওমুকের সঙ্গেতো এমন ঘটনা ঘটেছিলো। জীবন বাস্তবতা নিয়ে লেখা এ গল্পগুলো হয়তোবা পাঠকের নিজের সঙ্গেও মিলে যেতে পারে। আশা করি ভিন্নধর্মী এই গল্পগুলো সবার ভালো লাগবে।

আরিফ আহমেদ পেশায় সাংবাদিক। সাহিত্য সংস্কৃতি নিয়েই তার অবিরাম পথচলা। সাহিত্য বাজার পত্রিকার সম্পাদনার সুবাধে যেমন কবিতা, গল্প, উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি নিয়ে বসবাস তেমনি সংবাদ নিয়ে কাঁটাছেঁড়া। এরই মাঝে প্রতিনিয়ত লিখে চলেছেন কবিতা, গল্প, উপন্যাস।  “জলপ্রেমিকের গল্প” গ্রন্থে নয়টি গল্প স্থান পেয়েছে। জীবন বাস্তবতা, চারপাশের পরিবেশ পরিস্থিতির সঙ্গে চিত্তাকর্ষক গল্পও স্থান পেয়েছে এই গ্রন্থে। শিশু-কিশোর, যুবাদের সবার জন্য একই সুতোয় গাঁথা গল্পগুলো ভালো লাগবে আশা করি।
কবিতার রাজ্যে নিজের উপস্থিতিকে খুব বেশি লোক সম্মুখে উপস্থাপন না করে কবিতার সাধনায় নিজেকে  ব্রত রেখেছেন কবি ফাতেমা হক মুক্তা। কোন ধরনের দুর্বোধ্যতা নেই তার কবিতায়। অতন্ত সহজ সরল ভাষা, সহজ চিন্তা, সহজ স্বপ্নে সাজানো কবিতা। পাঠক যেন কখনওই না বলেন, ‘কবিতা বুঝি না’। ‘মুখের আড়ালে মুখোশ”, “রাতে ফোঁটা ফুল” ও “ফেলে আসার পথ”  বইগুলোর বেশির ভাগ কবিতায় জীবনের ভাঙা-গড়া, প্রেম-বিরহ, দেশপ্রেম, বিচ্ছেদ-বিরহ নিয়ে সাজানো।

কাজী মোহাম্মদ শাহজাহান একজন তরুণ কবি। ছোটবেলা থেকে লেখালেখির অভ্যাস থাকলেও বই আকারে তার লেখা প্রকাশিত হচ্ছে কয়েক বছর হলো। সমসাময়িক ঘটনা নিয়েই তার অধিকাংশ লেখা। ‘যেন তেন বাঁচবো কেন’ বইটিতে তেমনি আমাদের চারপাশের ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনাকে ছড়া, কবিতার মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। সমাজের বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরেছেন। শুধু তাই নয় বিভিন্ন ছড়া, কবিতার মধ্যে কবি তার বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশও ঘটিয়েছেন। যারা কবিতা পড়েন বা ভালোবাসেন তাদের ভালো লাগবে এই ছড়া ও কবিতাগুলো।

রবিশঙ্কর মৈত্রীর ভ্রমণকাহিনী “ফাদার মারিনো রিগনের গ্রাম ভিল্লাভেরলা”। ১৯২৫ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি সকালে ইতালির ভিচেঞ্জায় আমন্ত্রিত হয়ে আসেন রবীন্দ্রনাথ। ভিচেঞ্চার অদূরে পাহাড়ঘেরা নিসর্গ গ্রাম ভিল্লাভেরলায় সেদিনই জন্মগ্রহণ করেন রবীন্দ্রভক্ত মারিনো রিগন। ভিল্লাভেরলার মানুষ নিসর্গ শিক্ষা সংস্কৃতি এবং রিগন পরিবারকে ঘিরে অফুরান ভালোবাসা আবেগ সহজ সরল ভাষায় লেখা এই ভ্রমণকথায়।

বইগুলো পাওয়া যাবে : পূর্বা প্রকাশনী (স্টল নম্বর ২৭৫) ও প্রকৃতি প্রকাশনী ( স্টল নম্বর ৪৯০)

Print Friendly