গাউসুর রহমান-এর কবিতা

সাহিত্য বাজার

02এই বসন্তে প্রেম বিরোধিতা
গাউসুর রহমান

ঘরে আছে বিষ
একটুও মধু নেই,
শূন্যের সাথে শূন্যের যোগ বিয়োগ হারিয়ে ফেলেছি খেই।

আমি কোথাও নেই
আমি কোথাও নেই
মাথার মধ্যে জ্বলে চিতা
এই বসন্তে প্রেম বিরোধিতা।

বৈষ্ণবের গুপীযন্ত্র

এই শহরে লোকটি লন্ঠন হাতে ঘুরে বেড়ায়
এর ফলে দিনের কপাট খুলে,রাতের কপাট বন্ধ হয়ে যায়;
ইতিহাসের কলরবে তাই লোকটির কন্ঠ শোনা যায়
লোকটির জন্যে অপেক্ষায় জেগে থাকে না কেউ।

লোকটি জীবন বিরহী কি না-
সে খবর কেউ রাখে না,
বিমনা কি না-
তাও কেউ জানে না।
লোকটির বুকে তবু কতো কতো সভ্যতার স্মৃতি।
তার বুকের বেদনা কুহকের সুরে সুরে বেজে ওঠে।

মথুরার বৃন্দাবনে কোনোদিন-
এই লোকটি প্রাণবিন্দু ঢেলেছিল কি নাঃ
তাওবা কে জানে?
লোকটি তবু কাজরীর শ্লোক বেজে ওঠে।
বৈষ্ণবের গুপীযন্ত্র মাঝে-
রোমাঞ্চিত বেদনার ধ্বনি হয়ে বেজে ওঠে লোকটি।

ইন্দ্রপ্রস্হ ভাঙতে ভাঙতে
লোকটি আর্যাবর্ত ভাঙবে কি না
তা ও বা কে জানে?
অতীতের হিমগর্ভ থেকে ওঠে এসে
লোকটি যায় দেখি সর্বনাশের দিকে।

হৃদয়ের প্রতিভা

আমাদের দিনগুলি রাতগুলি সবকিছু থেকে বিচ্ছন্ন হয়ে আছে
এখানে সব কিছুই থেমে থাকে,জীবনের মহান আত্নীয়তা খুঁজি তবু আমরা।

কবিতার মতো অরন্যের রচনা করে যে ঘর সেখানে কী সুন্দর ছায়া রৌদ্রের বুননি।

প্রেমের প্রার্থনা কখনোই অসামাজিক নয়
সুন্দর দ্বীপে রয়েছে যে ঘুম
প্রেমতো তারই প্রার্থনা।
প্রতিঙ্গা হারিয়ে ফেলা নদী
কিছুতেই নয় প্রেম।

পাখিহীন,নীলিমাবিহীন এই সময়ে কিভাবে দেখবেন নিজের ছায়া
সাগরের দীপ্তির ভিতরে?
জ্যোৎস্নাশীর্ষ এই বসন্তেও
ভালোবেসে কেউ যদি না থাকে পাশে
হৃদয়ের প্রতিভা কিভাবে অভ্যস্ত তাহলে বসবাসে?
Print Friendly