কেন চেয়ে আছ, গো মা, মুখপানে

আরিফ আহমেদ

Bd-Rajniti-1024x822‘কেন চেয়ে আছ, গো মা, মুখপানে।
এরা চাহে না তোমারে চাহে না যে, আপন মায়েরে নাহি জানে।’
কবিগুরু রবী ঠাকুরের এ লাইনটি দিয়েই আজ এ প্রবন্ধের সূচনা করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ নামের মায়ের আজকের এই পরিস্থিতির কথা চিন্তা করেই হয়ত কবি এ কথাগুলো লিখেছিলেন।
বাংলাদেশের দুটি রাজনৈতিক দলের আচারণ এবং তাদের মধ্যকার হিংসা বিদ্বেষ আমাদের আজ বারবার মনে করিয়ে দেয় কবিগুরুর এ লাইন। তারা ‘আপন মায়েরে নেহি জানে’।
সবাই তারা (দুটি দলই) দাবি করছে, তারা মানুষের জন্য দেশের জন্য জান-পরাণ। কিন্তু কখনোই তারা রাস্তায় নেমে, গ্রামের মাটিতে হেটে দেখেনি, জানেনি এ দেশের মানুষ কি চায়।
একদল তাদের ৪৫ ভাগ সমর্থক কর্মীর ইচ্ছা স্বপ্ন বাস্তবায়নে ব্যস্ত। অন্যদল তাদের ৩৫ ভাগ সমর্থক কর্মীকে ইচ্ছে মৃত্যুর ফাঁদে বন্দি করছে অহরহ। মাঝখানে বন্দি ২০ ভাগ মানুষের কোন অস্তিত্ব নেই এ দল দুটির কাছে। অথচ এই ২০ ভাগ মানুষের হাতেই কিন্তু তাদের ভবিষ্যত নির্ভর।
২০১৪-এর নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির এই মুখোমুখি মারমুখী অবস্থান নিয়ে যারাই একটু জোর গলায় প্রতিবাদ করছে, তাদেরই হুমকী-হামলা-মামলায় জড়িয়ে নাস্তানাবুদ করছে নেতা নেত্রীরা। রক্ষা পায়নি আসিফ নজরুল বা ড. পিয়াস করিমের মতো নিরীহ তর্কবাগিশরাও। যারা শুধু টেলিভিশন টকশো’তে সরকার ও বিরোধী দলের ভুলগুলো ধরিয়ে দিতেন।
টকশো’র এসব ব্যক্তিবর্গ কখনো সমস্যার সমাধান দিতেন না। বা দিতে চাইতেন না। কারণ, তাদের মতে রাজনৈতিক বিষয় রাজনৈতিক দলগুলোকেই সমাধান বের করতে হবে। যদিও তারা জানেন যে, রাজনৈতিক প্রতিটি বিষয়ই শেষ পর্যন্ত আর রাজনৈতিক থাকে না। এর প্রভাব এসে পরে জনজীবনে। বাজার থেকে শুরু করে পরিবহন ও কৃষি উৎপাদনেও। পরবর্তী সময়ে এ সমস্যা প্রকট হয়ে ব্যক্তিজীবনেও প্রভাব বিস্তার করে। যার ফল এখন তারা দেখতে পাচ্ছেন।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নামের এ রাজনৈতিক দলদুটির মূল ভিত্তি কি? জনগণ- সকরেই এক বাক্যে এ কথা বলে দেবেন। কিন্তু এই জনগণ কি আদৌ তাদের প্রতি আস্থাশীল?
এ প্রশ্নে অনেকেই মাথা চুলকাচ্ছেন?
অন্যদিকে জাতীয় পার্টি নামের তৃতীয় ভাগে বিভক্ত দলটি মেরুদ-হীন তাদের নেতৃত্বের সিদ্ধান্তহীনতায়। হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের এবার অনেক সুযোগ ছিল। জনগণের কাছে যাওয়ার ও ভুল স্বীকার করে নিজেকে পুনঃপ্রতিষ্টা করার। কিন্তু নিজের বক্তব্য থেকে পিছলে যাওয়ার স্বভাব তার। তাই তাকে আর কেউ বিশ্বাস করতে পারছে না।
এমতাবস্থায় জাতির বিবেক বলে খ্যাত আমাদের সাংবাদিক, কলামিষ্ট ও বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর কাছে কিছুটা প্রত্যাশার স্বপ্ন ছিল সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ যারা আছেন তাদের কাছে একটা সমাধান আশা করেছে গোটা জাতি।
কিন্তু দূর্ভাগা মায়ের হতভাগা সন্তান আমরা সবাই। এই সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও শেষপর্যন্ত চোখে কালো চশমা পড়ে ঘরে ছেদিয়ে গেছেন। কারণ তারাও যে এ দুটি দলেরই অনুরাগি, অনুগামী। সাংবাদিকরাতো অনেক আগেই নিজের সত্বাকে বিলিয়ে দিয়েছেন। দুই ধারার দুইনেতা ইকবাল সোবাহান ও শওকত মাহমুদ দুইনেত্রীর উপদেষ্টা হয়ে বিবেককে কলঙ্কিত করতে পিছপা হননি। সাংবাদিক সংগঠনগুলো তাই চলছে এই দুই নেতার ছত্রছায়ায়। বহুধা বিভক্তিতে এদের উপর আর আস্থা নেই সাধারণ মানুষের। তাহলে উপায় কি?
এখন উপায় একটাই। ২০ ভাগ ঐ দলনিরপেক্ষ মানুষের প্রতি অনুরোধ, রাস্তায় নামুন। কোনো হামলা, মিছিল, ভাংচুর নয়। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে গণঅনশন কর্মসূচি পালন করি। ততদিন পর্যন্ত এই অনশন চলবে… প্রয়োজনে ক্ষুধায় কাতর হয়ে আমরা মৃত্যুবরণ করতে প্রস্তুত থাকবো। তবুও শান্তি প্রতিষ্ঠা করে আগামী প্রজন্মের হাতে একটা সুন্দর দেশ তুলে দেব। কিছু পাই বা না পাই সারা বিশ্ব আমাদের এই কর্মসূচিকে সম্মান জানাবে। আমাদের সন্তানরা এটা স্মরণ রাখবে। ইতিহাস কথা বলবে। আসুন  যতদিন না এই দুইনেত্রী নিজ নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করবেন অথবা দু’জন সুসম্পর্কের মাধ্যমে প্রথমে দলীয় গণতন্ত্র, পরে দেশের সাংবিধানিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় না হবেন, ততদিন এই অনশন কর্মসূচির বাস্তবায়ন করুন।

@ আরিফ আহমেদ

Print Friendly

About the author

ডিসেম্বর ৭১! কৃত্তনখোলার জলে সাঁতার কেটে বেড়ে ওঠা জীবন। ইছামতির তীরঘেষা ভালবাসা ছুঁয়ে যায় গঙ্গার আহ্বানে। সেই টানে কলকাতার বিরাটিতে তিনটি বছর। এদিকে পিতা প্রয়াত আলাউদ্দিন আহমেদ-এর উৎকণ্ঠা আর মা জিন্নাত আরা বেগম-এর চোখের জল, গঙ্গার সম্মোহনী কাটিয়ে তাই ফিরে আসা ঘরে। কিন্তু কৈশরী প্রেম আবার তাড়া করে, তের বছর বয়সে তের বার হারিয়ে যাওয়ার রেকর্ডে যেন বিদ্রোহী কবি নজরুলের অনুসরণ। জীবনানন্দ আর সুকান্তে প্রভাবিত যৌবন আটকে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পদার্পন মাত্রই। এখানে আধুনিক হবার চেষ্টায় বড় তারাতারি বদলে যায় জীবন। প্রতিবাদে দেবী আর নিগার নামের দুটি কাব্য সংকলন প্রশ্ন তোলে বিবেকবানের মনে। তার কবিতায়, উচ্চারণ শুদ্ধতা আর কবিত্বের আধুনিকায়নের দাবী তুলে তুলে নেন দীক্ষার ভার প্রয়াত নরেণ বিশ্বাস স্যার। স্যারের পরামর্শে প্রথম আলাপ কবি আসাদ চৌধুরী, মুহাম্মদ নুরুল হুদা এবং তৎকালিন ভাষাতত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজীব হুমায়ুন ডেকে পাঠান তাকে। অভিনেতা রাজনীতিবিদ আসাদুজ্জামান নূর, সাংকৃতজন আলী যাকের আর সারা যাকের-এর উৎসাহ উদ্দিপনায় শুরু হয় নতুন পথ চলা। ঢাকা সুবচন, থিয়েটার ইউনিট হয়ে মাযহারুল হক পিন্টুর সাথে নাট্যাভিনয় ইউনিভার্সেল থিয়েটারে। শংকর শাওজাল হাত ধরে শিখান মঞ্চনাটবের রিপোটিংটা। তারই সূত্র ধরে তৈরি হয় দৈনিক ভোরের কাগজের প্রথম মঞ্চপাতা। একইসমেয় দর্শন চাষা সরদার ফজলুল করিম- হাত ধরে নিযে চলেন জীবনদত্তের পাঠশালায়। বলেন- মানুষ হও দাদু ভাই, প্রকৃত মানুষ। সরদার ফজলুল করিমের এ উক্তি ছুঁয়ে যায় হৃদয়। সত্যিকারের মানুষ হবার চেষ্টায় তাই জাতীয় দৈনিক রুপালী, বাংলার বাণী, জনকণ্ঠ, ইত্তেফাক, মুক্তকণ্ঠের প্রদায়ক হয়ে এবং অবশেষে ভোরেরকাগজের প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়ান ৬৫টি জেলায়। ছুটে বেড়ান গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। ২০০২ সালে প্রথম চ্যানেল আই-্র সংবাদ বিভাগে স্থির হন বটে, তবে অস্থির চিত্ত এরপর ঘনবদল বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, আমাদের সময়, মানবজমিন ও দৈনিক যায়যায়দিন হয়ে এখন আবার বেকার। প্রথম আলো ও চ্যানেল আই আর অভিনেত্রী, নির্দেশক সারা যাকের এর প্রশ্রয়ে ও স্নেহ ছায়ায় আজও বিচরণ তার। একইসাথে চলছে সাহিত্য বাজার নামের পত্রিকা সম্পাদনার কাজ।